

একটি গল্প, যা লিখেছিলাম প্রায় আট বছর আগে এবং প্রকাশিতও হয়ে গেছে চিন্তা পত্রিকা্য় বেশ কিছু বছর আগে, আমার ব্লগে রাখলাম গুরুর পাঠকদের জন্য। ... ...






পারুল বৌদিকে এ পাড়ার সকলেই মান্য গণ্য করে। তিনি জানেনও অনেক কিছু। নয়তো সমীহ করবে কেন লোকে? পারুল বৌদি পরোপকারী চিরদিন ই ---এ পাড়ায় আসা ইস্তক। ... ...

‘জানেন, পৃথিবীতে দুই দল লোক আছে, এক দল কবিতা বোঝে, আর এক দল পৃথিবীর বাকি সব কিছু‘ – আলফাজ সাহেব যখন কথাটা বলছিল, মাথাটা স্বাভাবিকের থেকে অতিরিক্ত ঝাঁকিয়ে তাকে পূর্ণ সমর্থন করলো মোরসালিন, ‘হ্যা, সেই-ই। জীবনানন্দ তো বেঁচে থাকতে সমাদর পেলেন না…।‘ স্থান ও সময় জ্ঞান হারিয়ে ভদ্রলোক এবার চেচিয়ে উঠলেন প্রায়, ‘আপনি জীবনানন্দ ভালবাসেন? সে আমারও প্রিয়। এই যে আসছে শুক্রবার তাকে নিয়ে এক সম্মেলন হচ্ছে, সেখানে এই অধমকেও ডেকেছে দু চার কথা বলতে, আসবেন নাকি?‘ ... ...


রম্যরচনা। পুজোর কদিনের জন্য। ... ...

বাঙলার ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরছে। উদ্বেলিত সকলে। এই আয়োজনকে উপলক্ষ্য করেই দিকে দিকে চলছে চরম ব্যস্ততা। মেয়ের যে আপোষহীন রূপ আমরা দেবীর মধ্যে প্রত্যক্ষ করি তেমন লড়াই করতে হয় আমাদের ঘরের মেয়েদের -- নানান প্রতিকুলতার মাঝেও তাঁরা অবিচল। অটুট তাঁদের বিশ্বাস আর আস্থা নিজেদের প্রতি। আমাদের চারপাশে থাকা এমন তিন কন্যার কথা নিয়েই আজ আমার তৃতীয়ার নিবেদন। ... ...


একটা সময় অবশ্য দীপ প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যান্ডিডেইটের ভাষণটার অর্ধেকটা পর্যন্ত চলে এল হাইলাইট আর নোট করতে করতে। তবে সে ড্রইয়িং রুমের শব্দতরঙ্গের তেজ কমে আসার জন্য, না কি তার মস্তিষ্কের শব্দ-শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে, তা নিয়ে দীপ হয়ত কিছুক্ষণ ভাবতে পারত; কিন্তু তার আগেই ... ... ...



“‘স্যার, আপনে মালডা ভাল পান নাই। মটরডা ঠিক হইয়া গ্যালে মোটামুটি চলবো। তয় পুরাপুরি ভাল হইব না! লোড এট্রু কম আছে মেইন লাইনে… যখন ইলেকট্রিসিটি আপ ডাউন করে, একটু জিরাইতে দিবেন মেশিনগুলারে! মেশিন হইলে কি হইব, এইগুলোরও জান আছে! আর একটা কতা স্যার, সমস্যা হইলে নিজেরা হাত না নিয়া দিয়া আমাগো ডাকবেন … সার্ভিসিংডা যদি নিয়মিত করাইতে পারেন… এই ধরেন, দুই মাস পর পর …. আশা করি আরো অনেকদিন চালাইতে ….’ লোকটি নিজের পরিচয় দিয়েছিল কিশোর মেকানিকের ওস্তাদ হিসেবে। তাও তাকে কথাটা শেষ করতে দেন না রসিদ সাহেব; কপার পাইপের মধ্য দিয়ে আসা নিয়ন্ত্রিত বায়ুর মত ভাঁজা ভাঁজা একটা স্বর বের হয় তার মধ্যে থেকে, ‘আর কষ্ট করার দরকার নেই। মেশিনই বদলে ফেলব আমি!‘ ... ...

ভাঙন, ভাঙন সব খায়। ঘরবাড়ি, গাছপালা, স্কুল কলেজ, মন্দির মসজিদ, শ্মশানঘাট কবরস্থান, মানুষজন, গরুছাগল, রাস্তাঘাট, সংসার। নদী হল আগুনের মত, কিছুই রাখে না। ভুল হল, আগুন ছাই ফেলে রাখে, নদী আরও নির্মম -- সে রাখে শুধু স্মৃতি। কত স্মৃতি। তিন চার জন বন্ধুর সাথে আলপথে ছুটে যাচ্ছে যে বাচ্চাটা, সে দাদু নয়, কারো নাতি। ইস্কুল থেকে ফেরার পথে গাছ থেকে ঢিল ছুঁড়ে কুল পাড়ছে... নদীর ধারে ডাঙ্গুলি খেলছে, ক্লাস টেনে ফেল করে পড়াশোনা ছেড়ে দিল, বটতলায় পুঁটি (ভাল নাম পার্বতী)-কে দেখে শরীরে একটা কাঁপুনি তৈরি হল, বাবার কথায় একটু একটু করে চাষের কাজ শিখতে শুরু করল, জমিজমা ছিল কিছু, একদিন পুঁটি অন্য কারও বৌ হয়ে গেল, তারপর একদিন... ... ...

