
কিন্তু রোজ বিকেলে পাড়ার ওই বাঁদরের দল খেলত এসে গলিটাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও মাতিয়ে রাখে। বাঁদরের দল নামটা রায়দাদুই ওদের দিয়েছেন। বাঁদরের দল অর্থাৎ পাঁচটি ছেলেমেয়ের দল। রায়দাদু ছাড়া সকলে ডাক নাম ধরেই ডাকে ওদের ... রাজু, বিল্টু, রিয়া, রিম্পা এবং রনি। ওদের চেঁচামেচিতে রায়দাদু সর্বদাই বিরক্ত থাকতেন। কিন্তু আবার কোনোদিন ওরা খেলতে না এলে ওনার কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগতো। ... ...

বাড়িটার প্রতি যেন আমরা একটি টান অনুভব করছি। অমলেরও একই অবস্থা। কী মনে হল আমরা আবার একদিন রাতে সেই বাড়িতে গেলাম। এবার মনে হল কিছু একটা ঘটছে। সেই বাড়িতে ওই দুটি ঘর ছাড়া অন্য একটি ঘরে ঢুকলাম এবং সেখানে প্রচুর ভৌতিক কান্ড ও আওয়াজ পাচ্ছিলাম। আমরা ভয় পাই নি, কারণ বুঝতে পেরে গিয়েছিলাম ভয় পেয়ে গেলেই আমাদের মৃত্যু অবধারিত। আজ অমলকেও একটা মাদুলি পড়িয়ে এনেছিলাম – তাই ওর ভয়ও অনেকটা কমেছে। আমরা দেখি একটি উড়ন্ত চৌকি ও তাতে দেখলাম অস্পষ্ট একটি ধুঁয়া দিয়ে তৈরী একটি লোক – তার জামায় লেখা – কার্তিক পাল। ... ...

শান্তিনিকতেনে পৌছেই সবাই আগে বিশ্বভারতী-টা ঘুরে নিল। পরেরদিন সকালে ওরা বাকি জায়গাগুলো ঘুরে নিল। শান্তিনিকেতনকে বিদায় জানিয়ে কলকাতার দিকে ফেরার পথে সন্ধেবেলায় শুরু হল মারাত্মক দুর্যোগ। গাড়ির কাঁচ ঝাপসা হয়ে আসছিলো, সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না, তাই গাড়িটাকে রাস্তার এক ধারে দাঁড় করানো হল। বড়রা ঠিক করলো যে এই দুর্যোগ- গাড়ি চালানো ঠিক হবে না। তাই তারা কাছাকাছির মধ্যে কোনো হোটেল খুঁজতে লাগলো। কিন্তু অনেক খোঁজাখুজির পর ও তারা কোন হোটেল পেলনা। ইতিমধ্যে ঝড় ও বৃষ্টি বাড়তে থাকলো। তবে অদিতি লক্ষ্য করল যে সামনে ছোট্ট হোটেল তার পাশে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক বসে ছিলেন। ... ...

এমনভাবে কয়েক গ্রীষ্ম শরৎ শীত কেটে গেল। টিনা বড় হয়েছে, তার বইয়ের বােঝাও বেড়েছে | কয়েক দিন আগে তার এগারােতম জন্মদিন সে উদযাপন করেছে। ছানাটি ও এখন খুব বড় হয়ে গেছে। তার অসাধারণ সুন্দর নীল পালকের কারণে টিনা তাকে আহ্বাদে নীলু বলে ডাকে। বাবার থেকে একটি বড় খাঁচা চেয়ে নীলুকে সেখানে রাখে | নীলু এবং টিনা কয়েক ঘন্টা একসাথে খেলা করতাে। মনে হতাে তাদের মধ্যে যেন অনেক কথা হচ্ছে। টিনার প্রশ্নে নীলু তাকে মৃদুস্বরে কিচিরমিচির করে উত্তর দিত। ... ...
এই রোবটের জন্য যে কত অসুবিধায় পড়তে হয়েছে! যেমন এখানে আসার পর কিছুদিন হোটেলে ছিলাম। হোটেলে স্নান করার জন্য সাবান ছিল না রুমে – সাবান চাইতে গেছি, তখন ম্যানেজার জিজ্ঞেস করল, কে সাবান মাখিয়ে দিচ্ছে আপনাকে? আমি অবাক হয়ে বললাম – সাবান আবার কে মাখিয়ে দেবে? নিজেই মাখবো! ম্যানেজার অমনি হাঁ হাঁ করে বলল, – “আরে দাদা, বলেন কী? এসব দামী সাবান, আপনি নিজে মাখবেন না – রোবট মাখিয়ে দেবে আপনাকে। নইলে আপনি অনেকটা ক্ষইয়ে ফেলবেন”। আমি কত করে বললাম বেশী খোয়াবো না – কিন্তু ম্যানেজার কিছুতেই শুনবে না! অতএব রোবটেই চান করালো! ... ...

বাড়ি ফিরে সুমি তার মাকে বলল, 'মা, তুমি আমায় কাল তাড়াতাড়ি স্কুলে পাঠিও।' মা একটু অবাক হল কিন্তু কিছু বলল না। শুধু মাথা নাড়ল। সেই রাতে সুমি এক স্বপ্ন দেখল। সে দেখল সে একজন জাদুকর। আর জাদুকাঠি ঘোরালে সে জলকে বিভিন্ন রঙে বদলে দিতে পারে। নীল জলকে কমলা করে দিতে পারে। আবার জাদুকাঠি ঘুরিয়ে কমলা জলকে কালো করে দিতে পারে। সে আরও দেখল যে দর্শকরা সব অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকছে আর খালি হাততালি দিচ্ছে। কেউ কেউ ফুল ছুঁড়ছে। জাদু শেষে সব দর্শকরা যখন চলে গেল সুমির ঘুমটাও তখন ভেঙে গেল। ... ...

একদিন গোলু জানালা দিয়ে দেখলো কালো মেঘে পুরো আকাশ ভর্তি হয় গেছে।মন খারাপ হল।কোনও আলো নেই।গোলু তখন দেখল যে বৃষ্টি কমেছে।কিন্তু একটাই সাদা মেঘ।হঠাৎ গোলু দেখল ওই সাদা মেঘটা নেমে আসছে।হঠাৎ সত্যি মেঘটা জানালার কাছে এসে বলল,"কি গোলু?কেমন আছো?" গোলু বলল "হ্যাঁ!একি! মেঘ আবার কোথাও বলে!" মেঘ বলল,"হ্যাঁ গো,আমি বুন্টি মেঘ।আমার নাম বুন্টি।তুমি আমাকে মেঘ দিদি বোলো।" ... ...

মিনি কিছুদিন ধরেই দেখছিলো যে স্কুলের প্রীতি দিদিমণি কিরকম একটা চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু এটা শুধু মিনির চিন্তার মধ্যে একটা। ওর বন্ধু বৃওমি বম্বে চলে যাচ্ছে। ওর দিদি, হিয়া, কেমন একটা করছে, কথা বলে না, ভালো করে খায় না, মনে হয় না ভালো ঘুম হয়। মিনি গোয়ায় থাকতো, সমুদ্রের ঠিক পাশে। ওর মা আর দিদির সঙ্গে। বাবা নাকি মাসে দুই দিন বাড়ি থাকে। মিনি সাঁতার কাটতে এত ভালোবাসে যে ওর স্কুলের ইউনিফর্মের নিচে একটা সুইম স্যুট পড়ে থাকে, স্কুল শেষ হলেই জলে নামবে। ... ...

আমি দার্জিলিংএ গিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় দেখছিলাম। হঠাৎ চারদিকে কিসের একটা ছায়া পড়লো। আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি, গরুড়, পাখিদের রাজা ও বিষ্ণুদেবের বাহন আমার দিকে উড়ে আসছেন। তিনি আমার পাশে নেমে আমাকে ওনার পিঠে উঠে বসতে বললেন। আমি বসলাম। উনি আমাকে বৈকুণ্ঠে নিয়ে গেলেন। হঠাৎ আমার খুব খিদে পেল, আমি দুধের সাগরটাকে খেতে লাগলাম। তখন বিষ্ণু ইন্দ্রের সাথে কথা বলছিলেন, তাই ওনার কোন অসুবিধা হচ্ছিল না। ... ...

সি-বিচে জলের ধার দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে, সর্ষে দানার মত থেকে শুরু করে, ছোট মটর-কড়াই এর মত আকারের বালির গোল গোল ঢেলা প্রচুর পড়ে থাকতে দেখলাম; প্রথমে এগুলি কি তা না বুঝলেও, পরে আবিষ্কার করেছিলাম যে লাল কাঁকড়ারা তাদের গর্ত খুঁড়ে বাসা তৈরি করার জন্য দাঁড়া দিয়ে বালির ঢেলা তৈরি করে – যেগুলি বাড়ির উপর ছড়িয়ে রেখেছে। এদের বাসার গর্তগুলি বেশ গভীর ছিল। উপর থেকে গর্তের ভিতর বসে থাকা কাঁকড়াকে দেখতে পাওয়ার কোনো উপায় নেই। সমুদ্রের জলের ধারে এরা এমন দল বেঁধে বসেছিল, যে একটু দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন জলের ধারে বালির উপর কেউ লাল চাদর পেতে রেখেছে। সমুদ্রের জলের ঢেউ কখনও অল্প, আবার কখনও বালির অনেকটা উঁচু পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছিল। লাল কাঁকড়ারাও দল বেঁধে সেই ঢেউয়ের তালে উপরে নিচে ওঠানামা করছিল। দূর থেকে মনে হচ্ছিল যেন লাল চাদরটা জলের দামে একবার নিচে নেমে যাচ্ছে ও আবার ঢেউয়ের ঠেলায় উপরে উঠে যাচ্ছে। ... ...

এক ছিল শান্ত, নিরিবিলি পাড়া। সেই পাড়াতে একটা বাড়িতে থাকতাে একটি পরিবার। পরিবারে ছিল দাদু, দিদা, বাবা, মা আর দুই বিচ্ছু ছেলে মেয়ে – টগর আর রবি। বিছুদুটোর খেলার সাথী ছিল একটা কুকুর টম আর একটা বেড়াল মিনি। ওরা সারাদিন টম আর মিনির সাথে খেলে বেড়াত। একদিন ওরা ঠিক করল টম আর মিনিকে ঘােরাতে নিয়ে যাবে। বড়রা বারবার ওদের মানা করল। দাদু বলল, “তােরা ওদের সামলাতে পারবি না।” মা বলল, “রাস্তার কুকুরেরা ওদের তাড়া করবে।” কিন্তু ওরা শুনলে তাে! ... ...

হঠাৎ নিনি বলল আমি আমার নাম পাল্টে 'যাবো' করে দেব। ফ্লিসি বলল তুই নাম পাল্টা, কিন্তু তার আগে বল কেন নাম পাল্টাবি। যাবো বলল আমি যখন তোদের দেখছিলাম তখন দেখলাম টেবিলের উপর একটা ছেঁড়া কাগজ। সেটায় গ্লোবট্রটার বিমল মুখার্জীর নতুন বই এবং তাঁর ছবি দেখলাম। তাই আমার ইচ্ছে হল আমিও গ্লোবট্রটার হবো। ফ্লিসি বলল ভালো,তুই গ্লোবট্রটার হ, আমি মাঝে মাঝে চিঠি পাঠাবো। যাবো বলল থ্যাংকিউ। আমি আজকেই যাবো ... ...

মা আর শুনতে দিলেন না, “আজ অমাবস্যার রাত, বড্ড ভয় পাবে, ভূতের গল্প বলা বন্ধ করো”। কাজেই আর শোনা গেল না। রাত্তিরে শোয়ার সময় আমার বিছানাটা দুলছিল। নিচে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। পাশ ফিরে শুই, দেখি রতনের ওপর একটা ইভিল স্পিরিট ভর করে আছে। কম্বলে আমি মুখ ঢেকে ঘুমিয়ে পড়লাম। ... ...

এ কি! এটা আবার কার ঘর! তার বেড়াল এঞ্জেলের বদলে মোটা, কালো, মস্ত একটা ল্যাব্রাডর কী করছে? ওরে বাবা!! কামড়ে দেবে না তো! আর ওর সুন্দর ফুল ফুল আঁকা ঘরটা? ওটা তো পুরোটাই গ্রে হয়ে গেছে! মা বাবার ঘরে যাবে বলে যেই না দরজাটা খুলেছে, অমনি ঊর্মি সোজা রান্নাঘরে! রান্নাঘরের দরজাটা খুলে দ্যাখে, রাস্তা!!আর একটা পোস্টারের ওপর কী যেন হাবিজাবি লেখা আছে। একটু তলার দিকে ইংলিশে লেখা আছে, “প্যারিস – ওয়ান কিলোমিটার ইস্ট”। আর তার তলায় লেখা, “লোরেইন – ওয়ান কিলোমিটার ওয়েস্ট।“ ... ...

সন্ধেবেলা এই তেলেভাজার ভ্যানটা নিয়ে আসে মা-মেয়েতে মিলে। দুটো সাতমহলার মাঝের গলিতে দাঁড় করিয়ে দেয়। সন্ধেবেলা তুষ্টিকে ফ্ল্যাট থেকে বার করে, বুটিকে নিয়ে আসে আজকাল নীলু। কুসুমের তেলেভাজার ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকে উল্টো দিকে। সন্ধের পর মিন্টিকে ছেড়ে আর কোথাও বেরোতে চায় না শ্রেয়সী। মিন্টি অভিমান করে আজকাল। তবু আজ বেরোতেই হত। অনেকদিন বাদে উদয়ন এসেছে কলকাতায়.... ... ...

বলাই বাহুল্য, আমাদের নবতিপর ঠাকুমার ভালো নাম সুষমা হলেও শাকপাল্হার নামেই ডাক নাম ছিল ‘শুশনি’। বয়সে ছোট ছিল বলেই আমরা ‘ন্যাঙটা ভুটুঙ সাধের কুটুম’ তার ছোট বোনকে ‘ছুটকী ঠাকুমা’ বলেই হাঁকাহাঁকি করতাম। আমাদের দলে ভিড়ে বড়ঠাকুমাও সময় সময় তার ছোটবোনকে ‘ছুটকী' নামেই সম্বোধন করত। তা, ঘাসের ডগায় ‘কাঁকর-পড়া’ শুরু হলে, ‘বিরি বাইগন’ গাছে মাকড়শার জালের উপর হিলঝিল করে ‘কাঁকর’ পড়লে – সুবর্ণরেখা নদীধারে কারিকুরি পাখিরা এসে মেলা বসালে, হি-হি ঠান্ডা হাওয়া চালালে – আমাদের নবতিপর ঠাকুমাও কেমন যেন আনচান করে – - এই বুঝি সে আসে – আসে – - কে? কে ঠাকুমা? - কে আবার! তোদের ছুটকী ঠাকুমা। অ্যাই! অ্যাই ললিন! অ্যাই অ্যাই ছিমন্ত! যা না রে! টিক্কে আগেই যা, দেখবু ‘ধঁচা-বঁধা’ গাড়ি করি ছুটকি আসেটে। ... ...

'নীল আর সাইদা' - খুব বেশি বিশেষ বন্ধু। অনেক অনেকদিনের আলোচনা শেষে আজ হয়ত একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে ওদের সম্পর্কের নামকরণে। সাত সমুদ্দুর পেরিয়ে বন্ধু নীল এসেছে- আটপৌরে একটি রেস্টুরেন্টের কাপল টেবিলে বসে নীলের অপেক্ষাই করছে সাইদা… ... ...

যোনি কাকে বলে জানিস ? জানি-জানি, বললো অমিত, রোজ একঘেয়ে লেকচার শুনে-শুনে ওসব আংরেজি তাকিয়া-কালাম মুখস্হ হয়ে গেছে, ইসকুলে যদি রোজ কেউ অমন লেকচার দিতো তাহলে দেখতে, সব সাবজেক্টে চৌয়া-ছক্কা পেটাতুম। বল তাহলে, কাকে যোনি বলে ? ... ...

খোয়াবে তারা দেখতে পেয়েছে শওকত আলীর পরীর মতো মেয়েটিকে। শুনতে পেয়েছে পায়ে নূপুরেরও ঝুমঝুম শব্দ। সেই শব্দ করে মেয়েটি হাওয়ায় ভেসে ভেসে কোনো ফটো স্টুডিওতে ঢুকতে গিয়েছে। ঘরে ঢুকতে গিয়ে তার হোঁচট খাওয়ার শব্দ শুনতে শুনতে তার করুণ শঙ্খের মতো মুখটিও দেখে ফেলেছিল। সেই মুখ দেখে তারা অজান্তে গেয়ে উঠেছিল -- রূপনগরের রাজকন্যা রূপের জাদু এনেছি…। এই গানটি গাইতে গাইতে তাদের গলা ধরে এসেছিল। সেটা মনে করে আজ এই ক্ষণে পাপবোধ ঘিরে ধরে। সেই পাপবোধ থেকেই তারা নিজ নিজ স্ত্রীদের পায়ের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আর প্রবল নদীর মতো কান্নার স্রোতধারা তাদের চোখ থেকে নেমে এসে ধুলোমাখা পায়ের পাতা ভিজিয়ে দিতে লেগেছে। আর এই স্ত্রীগণ সহসা হাওয়া থেকে পদ্মঘ্রাণ পেতে শুরু করেছে। সেই গন্ধে তাদের মনে হয় তারা আজ আর বহুগর্ভধারী শিথিল স্ত্রীগণ নয়। তারা সবাই অনাঘ্রাতা কিশোরীরত্নে পরিণত হয়ে গিয়েছে। আর তাদের পদতলে নত হওয়া লজ্জিত কিশোরটির প্রতি স্নেহ মমতা এবং ভালোবাসা বোধ করতে করতে ছায়ার মতো নরম করে নিজেকে মেলে দেয়। কয়েকটি শিশুর জন্মসূচনাধ্বনি সব কিছু ভেদ করে চারিদিক প্লাবিত করেছে। ... ...

কুফরি থেকে ফাগু দুই বা সওয়া দুই কিলোমিটার রাস্তা ঘোড়া চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট। বোধহয় পৃথিবীর নিকৃষ্টতম রাস্তা এটা! পুরো রাস্তা এক – দু বিঘৎ পরিমাণ পাথরে ভরা। উঁচু-নিচু আঁকা-বাঁকা ছয় সাড়ে ছয় ফুট চওড়া রাস্তার দুধারে কোথাও কোথাও পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। কিছুটা রাস্তা গেলে দেখা গেল পাঁচিল আর নেই, তবে সে জায়গায় রাস্তা বলেও কিছু নেই। পাথরের চাঙর ভর্তি ঢালু ভূমি,আর পাইনের জঙ্গল। রাস্তা কর্দমময়। বেশ খানিকটায় ঘোড়ার পুরীষ আর কাদা মেশানো ঢলঢলে একটা স্তরে প্রায় হাঁটু ডুবে যায়। সীতারামের হাঁটু তক গামবুট থাকলেও সওয়ারিদের পায়ে সেই কাদা ছিটকে আসে। প্রতি মুহূর্তে ভয়। একটি ঘোড়া পড়লে সওয়ারীসহ বাকিগুলোও সেই কাদার নালায় পপাত ধরণীতল হবার সমূহ সম্ভাবনা ষোলো আনা। ... ...