
[এই লেখাটি আরও পরে এখানে দেব ভেবেছিলাম। কিন্তু, এক, আমি তথা আমরা সকলের মতামত চাই, নিজেদের বুঝে নিতে; দুই, এই লেখাটি অন্য নামে, কিছুটা অন্য রূপে ‘শ্রমজীবী স্বাস্থ্য’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে, কাজেই এখানে তা দিয়ে দেওয়া যায়। তাছাড়া, শুধু বিবরণ পড়তে আপনাদের সারাক্ষণ ভালো লাগবে না, সেটা স্বাভাবিক। আপনাদের অনুরোধ, এই লেখাটি এবং অন্য যা লিখব পড়ে, খোলাখুলি মতামত জানাবেন। সোজা আমাকে লিখুন এই ঠিকানায় – [email protected] . আপনাদের অকৃপণ উপদেশ আমাদের সঠিকতর হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।]শ্রমজীবী বিদ্ ... ...

না:, মানতেই হবে ভাগ্য বলে কিছু একটা আছে; নইলে এই বাজারে পাশ করতেই চাকরি! কয়জনের জোটে? আমি রায়পুরের বড়ইপাড়ার মনবোধি দেবাংগন, মাত্তর তিনমাস আগে আইটিআই থেকে ড্রাফটসম্যানের পরীক্ষা পাশ করেছি আর গতকাল পিয়ন এসে টেলিগ্রামটা দিয়ে গেল! কোরবা জেলার আদিবাসী এলাকায় কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে। বিশাল ভান্ডার। সেইখানে একটি আধা সরকারী সংস্থায় চাকরি। সার্ভে চলছে, ফিল্ড অফিসে কাজ। মাইনে আহামরি কিছু নয়।তবু মন্দ কি! খবরটা পরিচিত মহলে ... ...

ওরা দুজন(একটি অত্যন্ত ছোটগল্প)ওদের দুজনের যেমন ঝগড়া, তেমনি ভাব। সারাক্ষন খুনসুটি লেগেই আছে। তার ওপর যখন মারামারি লাগে, তখন প্রায় পুলিশ ডাকতে হয় থামানোর জন্য। অথচ একজনকে ছাড়া অন্যজনের দিন চলে না। মনে হয় যেন এক জনের জন্যই অন্যকে বানানো হয়েছে। দুজনের মধ্যে যে বড়, তার বয়স নব্বই ছুঁই ছুঁই, যে ছোট সে প্রায় কিশোর, প্রথমজনের নাতির বয়সি। বড়র দিন কাটে ছবি এঁকে, লেখালেখি করে, দাবা খেলে আর রাজা-উজির মেরে, ছোটজন বনে বাদাড়েই বেশি স্বচ্ছন্দ। বড়জন ভাবেন, আহা আমার এক দিন ছিল, য ... ...

আমার ভাই,অর্ক রোজ সকালে তানপুরা নিয়ে গলা সাধে। আমি সেসময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘুমোই।কিন্তু সকলেই তো এত ভাগ্যবান হয় না। অনেকেরই সকালে কাজ থাকে,তাদের অর্কের গানের গুঁতো সহ্য করতে হয়।আজ সকালে অর্ক দেখছি মুখটা মমতা ব্যানার্জি’র মত করে বসে আছে।পাশের বাড়ির কাকীমাই নাকি মূল কারণ।তা এই কাঁচা বয়সে কাকীমার বয়সী কেউ যদি চিত্তবিকারের কারণ হয় তাহলে তা চিন্তার বিষয় বৈকি।ভ্লাদিমির নবোকভ কে বই এর তাকে সামনের দিকে রাখাটাই কাল হল কিনা ভাবতে যাচ্ছিলুম।এমন সময় জানতে পারলুম ব্যাপারটা নেহাতই সাঙ্গীতিক। ... ...

ঢ্যামকুড়কুড় ঢ্যামকুড়কুড় ঢ্যামকুড়কুড়...ক্যাথারিনের ল্যাপটপ বেজে চলেছিল। ঘরের আলোটা দিনের বলে কৌণিক দেখতে হচ্ছে স্ক্রীন। কৌণিক কত কিছুই দেখার! স্ক্রীণের দেওয়াল পেরিয়েই ক্যাথারিনের ঝুলকো বুকগুলো। সাদা মেয়ের বুকের উপরের অংশটা বাদামী, নিচের ব্রা খিল দেওয়া অংশটা সাদা, যেটা এখন দেখা যাচ্ছে। ঢাক বাজছে থেকে বুক বাজছে থেকে ক্যাথির বুক বাজাবে অনিন্দ্য অব্দি গিয়ে বাক্যটা তুরীয় দশা প্রাপ্ত হয়। তখন বাক্যটাকে ভেঙে নিতে হয় ছাতের মতোন। ছোট ছোট হাতুড়ির ঘায়ে বারান্দার উপরের ছাতটা না ভাঙলে ফ্ল্যাটের ... ...

আমি গণিতবিদ নই – কিন্তু গণিত ভালোবাসি। গণিতজ্ঞদের দিকে তাকাই সম্ভ্রমের চোখে – আর ঠিক এই কারণেই পাশের গ্রামে ফিরোজ, বন্ধু সুমন এরা ছিল আমার ঈর্ষা মিশ্রিত বিষ্ময়ের পাত্র। তাই এই লেখা শুরু করার আগেই সাফাইটা গেয়ে দিই – বলে রাখি যে এই প্রবন্ধ কোন নতুন তথ্য দেবার জন্য নয়, নয় কোন গালভরা গবেষণার গল্প বলার জন্য। এটা নিছকই সেই সব তথ্য, ঘটনা আর নাম সমৃদ্ধ, যা অনেক সময় আমরা খেয়াল করি না। অর্থাৎ ধরুন আপনি নিজের জামাটি রোজ পড়েন, কিন্তু সেই জামায় কয়টা বোতাম আছে তা কখনো খেয়াল করেছেন কি? এই লেখাও তেমন হবে আর কি! ... ...

জুলিয়াস ওলুওকুন কদিন ধরে বলছে, রায়, তুমি কি কালোঞ্জি চেনো?আমি চিনিনা। শুনে জুলিয়াস অবাক হয়। বলে, পাকিস্তানীরা চেনে। ইন্ডিয়ানরাও চেনে। তুমিই চেনো না। এটা কোনো কথা হল?কথা যাতে হয় সেকারণে কদিন বাঙালী, ইন্ডিয়ান আর পাকিস্তানী গ্রোসারীতে ঘুরে ঘুরে কালোঞ্জি খুঁজলাম। সবজি মাণ্ডিতে বোন বেনকে জিজ্ঞেস করতেই সে একটা বোতল বের করে দিল। বলল, এই নেও তোমার কালোঞ্জি।বোতলের চেহারাটা ভালই। মুখটা ভালো করে আটকানো। বাইরে লেবেল আটো। পরিস্কার ইংরেজীতে লেখা কালোঞ্জি। এই জিনিসটি জুলিয়াস খেতে চায়। হাসি পেল। ... ...

১। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমজীবী হাসপাতাল প্যারামেডিক্যাল শিক্ষাদানে সফল ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু ডক্টরস অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্স নিয়ে চিন্তাভাবনা থাকলেও তা প্রয়োগে নিজেদেরই দ্বন্দ্ব ছিল, যা কাটিয়ে উঠতে আমাদের দীর্ঘ সময় লেগেছে।২। এই বিষয়ে প্রথম মিটিং হয় ২০১২ সালে নভেম্বর মাসে। মিটিঙে অংশগ্রহণ করেন ডাক্তার গৌরীপদ দত্ত, দীপাঞ্জন রায়চৌধুরী, ডাক্তার তাপস ভট্টাচার্য, শুভাশীষ মুখার্জি ও বিশিষ্ট আরো কিছু ব্যক্তিবর্গ। মিটিং হয় শ্রমজীবী বেলুড় হাসপাতালে।৩। কেজি টু পিজি ভাবনার কথা আমরা আগেই ঘোষণা করেছিলাম, কি ... ...

প্রশ্নটি প্রথম তোলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাবেরী গায়েন। গুমট গরমের পর বিকেলে এক ঝলক স্বস্তির বৃষ্টির সময় কাবেরী আপা মনে করিয়ে দেন শৈশবের সেই মায়াময় শিশুপাঠ:"বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান,শিব ঠাকুরের বিয়ে হল তিন কন্যা দান।এক কন্যা রাঁধেন বাড়েন এক কন্যা খান,এক কন্যা রাগ করে বাপের বাড়ি যান।"এই শিশুপাঠে শিব ঠাকুরকে তিনটি কন্যা দান করার কথা বলা হচ্ছে, অর্থাৎ কি না তিন-তিনটি স্ত্রী! এর উপস্থাপনাটি এতোই নিরীহ যে, যেন এটি ঠাকুর মশাইয়ের প্রাপ্য এবং এটি ... ...

বাসুকির ব্যথা-------------------তখন সবে সন্ধে দশটা বাজছে। সারাদিন সূর্যের চুয়াল্লিশ ডিগ্রি উষ্ণতার স্নেহে আমরা গদগদ হয়ে গলেই পড়েছি। শুধু নারদের কমন্ডলুটি নেই। শরীরটা যে এখনও পুরোপুরি ত্যাগ করা যায়নি তার কিছু লক্ষণ অবশ্য টের পাওয়া যাচ্ছে। আমার লেখালিখি এমনিতে ডেস্কটপেই। কিন্তু যে ঘরটিতে ঐ বস্তুটি রয়েছে‚ সেখানে শীতযন্ত্র নেই। এমতাবস্থায় যতোটুকু দম বেঁচে থাকে তার সদ্ব্যবহার ল্যাপটপের পঞ্চমুন্ডিতে বসেই সারার চেষ্টা করি‚ শোবার ঘরে‚ গদিতে আধশোয়া হয়ে। সদ্য সদ্য ভ ... ...

একটা পুরোনো ঘটনা দিয়ে শুরু করি,এক শুক্রবার ওমরপুর থেকে ফিরছি।বেশ গরম।এফইউসি মাঠে সেদিন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনী ভাষণ দিচ্ছেন।বাস থেকে এফইউসি মাঠটা বেশ স্পষ্ট দেখা যায়।তা সেদিন দেখলাম মাঠ অর্ধেকের বেশি ফাঁকা।সাকুল্যে আড়াই হাজার লোক হয়েছে কিনা সন্দেহ।মুখ্যমন্ত্রীর সভায় এত কম লোক???ফিচেল শাহনওয়াজটা পাশেই বসেছিল।বলল,‘দাদা,এটা কিন্তু কেন্দ্রের চক্রান্ত।কায়দা করে সূর্যের ভোল্টেজ বাড়িয়ে দিয়েছে যাতে লোক বেশি না আসতে পারে’।ফিচেল নাম্বার টু,অণির্বাণ যাকে ফেসবুক চেনে অণির্বাণ এক্স ... ...

অতঃপর অন্তঃপুরে – সামরান হুদাগাঙ্গচিল, কলকাতা ২০১৪। তিনশো টাকা।আমার মায়ের সোনার নোলকহারিয়ে গেলো শেষেহেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে(আল মাহমুদ – সোনালী কাবিন, নোলক। ১৯৭০)বহু তত্ত্বতালাশের পর নোলকটি পাওয়া গেলো অতঃপর অন্তঃপুরে। নদীর কাছে, বনের কাছে, পাহাড়ের কাছে, পাখপাখালীর কাছে খুঁজে খুঁজে হয়রান কবি ফিরে গেছেন। আর এই দুইশতচৌষট্টি ঋতু পার করে সিলেটের কোন এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাড়ির অন্তঃপুরে অতঃপর পাওয়া গেলো তারে। বর্ষার জল এলে বাড়িটা একট ... ...

সেইরকমই তিনটে চরিত্র- দামিনী গান গায়, সরকারী চাকরি করে- সর্বজিত সুপুরুষ, অভিনেতা- শান্তনু দামিনীর সঙ্গী, অন্যরকম, অন্য মনের l সর্বজিত উভয়ের বন্ধু l আরবান ডিক্শনারিতে মিউচুয়াল ফ্রেন্ড এখন খুব পরিচিত শব্দ l সর্বজিত অনেকটা তাই l তবে সে যে প্রাথমিকভাবে দামিনীর বন্ধু সেকথা শান্তনু জানে না এমনটা নয় l আমরা সবাই সব জানি l ব্রেনের হেমিস্ফিয়ারগুলো, লোবগুলো, থ্যালামাস, হাইপোথ্যালামাস l জানি এসব l জেনে গেছি প্রথম ক্রেনিয়াল নার্ভ অলফ্যাক্টরি আমাদের গন্ধ চেনায় l ঘ্রাণের বোধ ব্রেনের সেনসরি ক্রিয়া l পরিচিত ... ...

লোকসভা নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই নরেন্দ্র মোদী সকলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভোটের ফল বেরনোর পরে সেই আলোচনা রীতিমতো একটা বিষ্ফোরণে পরিনত হয়েছে। মোদী, হিটলার, ফ্যাসিজম, বিজেপি, আরএসএস, হিন্দুত্ব, সাম্প্রদায়িকতা, গুজরাত মডেল এই শব্দগুলো প্রতি মুহূর্তে আছড়ে পড়েছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট থেকে আমাদের রোজকার আড্ডায়। আর এ রাজ্যের ক্ষেত্রে সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বামেদের বিপুল ভরাডুবি। এই নিয়ে নানা মুনি প্রতিনিয়ত নানা মত জানিয়ে চলেছে। এক দল প্রতি মুহূর্তে মোদীর প্রতি তাদের ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ ... ...

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র তার রায় দিল দ্ব্যর্থহীন ভাষায়। হ্যাঁ, ৮০ কোটি ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৫০ কোটির মত, তার এক-তৃতীয়াংশের, মানে প্রায় ১৬-১৭ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধি হয়ে দিল্লীর মসনদে বসল 'লৌহমানব' মোদীর ভাজপা সরকার। প্রথমেই বলে রাখা ভাল যারা মনে করছেন যে ১৬-১৭ কোটি ৮০ কোটির গরিষ্ঠ অংশ নয় ( যে কথাটার সাথে যে কেউই একমত ) আর তাই এই রায়কে মানুষের রায় ভাবার মানে হয় না বা এর কাছাকাছি কিছু একটা... আমি তাদের সাথে একমত নই। যারা ভাবছেন যে শুধু কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা ও চালানো ... ...

আমাদের বন্ধু ব্যাচে হাবাই সর্বপ্রথম অবৈধ সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয়েছিল ক্লাস ইলেভেনে পড়ার সময়। ক্ষ্যাপা মাষ্টারের কাছে প্রাইভেট টিউশনি শেষ করা এবং ইস্কুলের গণ্ডী পেরোবার সীমারেখা থেকেই হাবা-র কাছে তার নিজেরই ‘রঞ্জিত’ নামটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছিল। ক্ষ্যাপা মাষ্টার আজ আর নেই – আমাদের গ্রাম থেকেই টিউশনি পড়িয়ে ফেরবার পথে জি টি রোডে লরির ধাক্কায় প্রাণ হারাণ। এই ঘটনা আমাদের বিষাদগ্রস্ত করেছিল কিছুদিন কারণ খ্যাপা মাষ্টার আমাদের নিমো গ্রামের অনেক ছেলেরই কৈশোরের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। আমরা তাই ক্ষ্যাপা ... ...

মোদীকে আমি চিনি না। চেনার দরকারও নাই। পৃথিবীতে সকল মানুষকে চেনা যায় না। আর আমি বরিশালের মনু। যেখানে বরিশালের সবারেই চিনি না—সেখানে ভারত নামের একটা রাষ্ট্রের গুজরাতের নরেন্দ্র মোদিকে চিনতে যাব কোন দূঃখে।তবে আমার পাড়ার নরেন মুদিকে চিনতাম। বেচারা নরেন মুদি। তার মুদি খানায় বিস্তর কেনাবেচা হত। হিন্দুদের চেয়ে মুসলমান খদ্দের ছিল বেশি। তারা বিশ্বাস করেন নরেন মোদি নামের এই হিন্দু লোকটা মালে ভেজাল দেবে না। আর দাম লাগাম ছাড়া নেবে না। আমাদের পাড়ার সৈয়াদুল হক চাচা এই ব্যাপারে বড় করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ... ...

ছোটবেলায় একটা কথা শুনতাম, মর্ণিং শোজ দ্য ডে। এক্কেবারে বাজে কথা। সকালে রোদ্দুর উঠেছে দেখে একদিন ছাতাটা বাড়িতে রেখে বেরিয়েছিলাম, আর সেদিনই কী বিষ্টি কী বিষ্টি! ভিজে জাব হয়ে ফিরতে হোল। ওসব মর্ণিং ফর্ণিং নয়, সোজাসুজি আকাশই দেখে দিনকাল যা বোঝার বুঝতে হয়। আর দিনকালের বোঝার আছে টা কী! সারা সপ্তা অফিস-টিভি-ঘুম, আর ছুটির দিন শপিং-টিভি-ঘুম, এই তো জীবন। পুরো টাকাটাই মাটি, নয়তো পুরো মাটিটাই টাকা। এর মধ্যে দিনকাল বোঝাবুঝি আসেই বা কোথা থেকে? আসে। আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে যে জগত, সেটাই আকাশ। ওইজন্যেই বিখ্য ... ...

একদিন একটি শৃগাল কুকুরদের তাড়া খাইয়া পলাইতে গিয়া একটি চৌবাচ্চার ভিতর পড়িয়া গেল। সেই চৌবাচ্চায় কেহ লাল রঙ গুলিয়াছিল। তাহাতে পড়িয়া শৃগালটি লালবর্ণ হইয়া গেল। তাহার লালবর্ণ দেখিয়া অরণ্যের অন্য জীবজন্তু ভয় পাইয়া গেল। স্বয়ং পশুরাজকেও ভয় পাইতে দেখিয়া ধূর্ত শৃগাল বুঝিল যে এ হেন রক্তিম বর্ণের সাহায্যে সে সমস্ত অরণ্যবাসীদের নিয়ন্ত্রণ করিতে সক্ষম হইবে। সে অবিলম্বে নিজেকে তাহাদিগের নেতা ঘোষণা করিল এবং নূতন নিয়ম কায়েম করিল। সেটি হইল, কোনও প্রাণী কোনও শিকার ধরিলে তাহা হইতে সকলকে ভাগ না দিয়া খাইতে পারিবে ... ...

পত্রিকার সম্পাদকেরা সচরাচর আধাপাগল হন। আমার সম্পাদক বদ্ধ পাগল। নাহলে আজ সকালবেলা ফোন করে আগামীকালের মধ্যে মহাভারত নিয়ে একটা লেখা লিখতে বলেন!আরে আমি কি নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি, নাকি অর্ণব গোস্বামী, যে সবকিছু নখের ডগায় থাকবে, কাগজ কলম নিয়ে বসলেই লেখা বেরোবে ফরফর, ফরফর! কে কাকে বোঝায়! ফোনটা আসবার পর থেকে সারাদিন অফিসে চিন্তা করেছি, কিস্যু আসেনি মাথায়। কয়েকজনকে জিগ্যেসও করলাম। পাশের টেবিলের বিকাশদা রেসের মাঠ থেকে সানি লিওন অনেককিছুর খবর রাখেন। আমার প্রশ্ন শুনে কাগজ পাকিয়ে কান চুলকোতে চুলকো ... ...