
ধরা যাক দুজন লোক - রামবাবু আর শ্যামবাবু ফরেন ট্যুর সেরে দেশে ফিরছেন। দুজনের লাগেজে দুটি আইডেন্টিকাল অ্যান্টিক দ্রব্য। ফিরে দেখছেন এয়ারলাইন্সের বদান্যতায় ওদের দুজনের-ই অ্যান্টিক চোট পেয়েছে। এয়ারলাইনের ম্যানেজার ক্ষতিপূরণ দিতে চান, কিন্তু তাঁর আবার ঐ বস্তুটির দাম কত সেই নিয়ে কোনো ধারণা-ই নেই আর দুজনকে দাম জিজ্ঞেস করতে মোট্টে চান না, কারণ জিজ্ঞেস করলে নির্ঘাত বাড়িয়ে-চাড়িয়েই বলবে দুজন। এই অবস্থায় ম্যানেজার বাবু একটা জটিল স্কিম বা খেলা মাথা থেকে বের করলেন। খেলাটা এই রকম : রাম আর শ্যাম দুজনকেই একটা চিরকুটে ২ থেকে ১০০-র মধ্যে একটা পূর্ণসংখ্যা লিখতে হবে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা বারণ। যদি দুজনেই এক-ই সংখ্যা লেখেন, ম্যানেজার ধরে নেবেন ঐটিই সঠিক দাম, আর সেটাই হাতে ধরে দেবেন। যদি দুজনে আলাদা আলাদা সংখ্যা লেখেন, তাহলে, ম্যানেজার ধরে নেবেন যে কম লিখেছে সে-ই সত্যি বলেছে, অর্থাৎ সে যেটা লিখেছে সেটাই, মানে সেই লোয়ার ভ্যালুটাই আসল দাম, আর অন্যজন ঠকানোর চেষ্টা করছে। এবার ঐ ম্যানেজার রাম-শ্যাম দুজনকেই ঐ দামটা (লোয়ার ভ্যালু) তো দেবেন-ই, কিন্তু একজনকে অল্প পুরস্কার আর অন্যজনকে শাস্তি। যিনি কম লিখেছেন তাকে দেবেন ঐ লোয়ার ভ্যালুর থেকে ২টাকা বেশি, আর যে বেশি লিখেছেন তাকে দেবেন ঐ লোয়ার ভ্যালুর থেকে দুটাকা কম। অর্থাৎ, যদি রাম চিরকুটে লেখে ৪৬, আর শ্যাম লেখে ১০০। তাহলে ম্যানেজার রামকে দেবেন.৪৬ + ২ = ৪৮, আর শ্যামকে দেবেন ৪৬ - ২ = ৪৪। এবার গপ্পো হচ্ছে যে সত্যিকারের খেলা-টা খেলা হলে রাম আর শ্যাম কী লিখতো? আপনি-ই যদি এইরকম সিচুয়েশনে পড়েন, আপনি-ই বা চিরকুটে কী লিখবেন? ১৯৯৪ সালের পেপারে কৌশিক বাবু দেখিয়েছিলেন যে এইরকম গেমের "লজিক্যাল" সলিউশন দুজনের-ই ২ লেখা। গেম থিওরির ভাষায় বললে এই গেমের ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়াম একটাই, এবং সেটা ঐ (২,২)। মানে রাম-ও দুই, শ্যাম-ও দুই। ... ...

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কেমন হবে বুঝা যায়? এই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ সবার বিচার করা হবে। যে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কসুলি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এই ট্রাইব্যুনালেই যিনি জামাত নেতাদের পক্ষে আইনই লড়াই করেছে, যিনি যুদ্ধাপরাধীদেরকে এই ট্রাইব্যুনালেই বাঁচানোর জন্য আইনই লড়াই চালিয়ে গেছেন, এই নিয়োগ পাওয়ার সময়ও যার কাছে জামাত নেতাদের কেস ছিল তিনি এখন রাষ্ট্র পক্ষের প্রধান আইনজীবী! শুধু তিনিই না, টবি ক্যাডম্যানকে এই ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হইছে। টবি ক্যাডম্যান কে? ওই, একই রসুনের… তিনিও এর আগে জামাতের পক্ষে কাজ করে গেছেন এই আদালতেই! এই জন্যই বলছি যে আশা করাটাই ভুল এখানে। এরা বসেই আছে এমন কাজ করার জন্য। কিচ্ছু করার নাই! আমি-যে দেখেছি প্রতিকারহীন শক্তের অপরাধে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে! বিচারের বানী আরও কতদিন নিভৃতে কাঁদবে এইটাই এখন এখন দেখার বিষয়। এরা এখন আইন নিয়ে ফুটবল খেলবে, ইতিহাস নিয়ে ফুটবল খেলবে। সলিল চৌধুরীর একটা গান আছে, বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা… না আজ জাগে নাই সেই জনতা। জনতা নিরেট মাথা নিয়ে বসে ভাবছে কী চাইলাম কী হইল এইটা! মাথা চুলকাচ্ছে আর ভাবছে এমন হইল কেন! ... ...

কেন্দ্রীয় সংস্থায় স্বজনপোষণ বা দুর্নীতির অভিযোগ করলে কী হয়? একটা হাতে-গরম উদাহরণ হল খড়গপুর আইআইটি। এর প্রথম অংশটা মিডিয়ায় বেরিয়েছে, যে, আইআইটির বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইআইটির শিক্ষক সংগঠন "অভূতপূর্ব স্বজনপোষণ"এর অভিযোগ এনেছিল। তাঁরা ধর্ণায় বসেননি, কোনো রাজনৈতিক বা অদলীয় জমায়েতও করেননি, খুবই নিয়মতান্ত্রিকভাবে চিঠি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ মন্ত্রককে। নতুন ডিরেক্টর নিয়োগ হবে সামনের জানুয়ারিতে, তিনি যেন যোগ্য হন, এই ছিল আবেদন। ... ...

•আব্রাহাম থেকে মোজেস অবধি ইহুদি একাধিক দেবতার পুজো করেছে। দশ আদেশের পয়লা নম্বর - “তোমার সামনে আমি বাদে কোন ঈশ্বরের স্থান নেই”। এই প্রথম একেশ্বরবাদের পাঠ। বাইবেলকে মাথায় রেখে ফ্রয়েড বলছেন, “ বিশ্বাসী মানুষেরা দুঃখ পাবেন এই ভাবনার বশে ধর্ম পুরাণ আখ্যান রচয়িতারা তার্কিক যৌক্তিকতা থেকে অনেক দূর দিয়ে হেঁটেছেন : উদাহরণ – পারস্পরিক আচার আচরণ ও দায়িত্ব বেঁধে দিয়ে উর গ্রামে পাত্রিয়ারক আব্রাহামের সঙ্গে ঈশ্বরের যে মৌখিক চুক্তি (কভেনানট ) হয়েছিল তার কয়েকশ বছর বাদে কেন সিনাই পাহাড়ে তাঁকে আবার আত্মপ্রকাশ করে নতুন বিধান দিতে হলো ? সেটি তো বহুদিন আগেই আব্রাহামকে দিয়েছিলেন! সোনার বাছুর পুজো দেখে কেন মোজেসকে ঈশ্বরের আদেশের ট্যাবলেট ভেঙ্গে দিয়ে বলতে হলো, তোমরা ঈশ্বরের আইন ভেঙ্গেছ! ... ...

সেই দিন কাজ শেষে রনি এসে দাঁড়ালো আমার সামনে, এক সাথে যাবে বলে। ওর সেই নখগুলো সাঁড়াশির মত খামচে ধরেছিল আমার ডেস্কের উপরের স্টেইনলেস পাতটা! নখগুলো ভীষণ রকমের কাঁটা দিয়ে গেল আমার গায়ে, যেকোন দিনের থেকে ধারালো দেখাচ্ছিল সেগুলোকে, মনে হচ্ছিল মরুভূমির বালিতে শান দিয়ে আনা হয়েছে!। আমি একবারই তাকিয়েছিলাম ওর দিকে, আর টেবিলের উপর গাদা গাদা ফাইলের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাথা নেড়ে সাংকেতিক বিদায় জানিয়েছিলাম। এরপর বাক্য ব্যয় না করে সে যখন সিড়ি দিয়ে নেমে যেতে শুরু করল, আমি এক লাফে পশ্চিম দিকের উইন্ডো ওয়ালের ধারে চলে গেলাম। যেদিকটা দিয়ে রনি বেরুবে, তার সাথের রাস্তার ডান ও বাম বাহু বেশ কিছুটা ধরতে পারে এই উইন্ডো। এমনকি গতকাল যেখানে রনির সাথে দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎ হয়েছিল, সে জায়গাটাও ছোট করে হলেও মিস্ হওয়ার কথা না! আমি প্রবল উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম লাগলাম। ... ...

পোয়েটস কর্ণারটা একটু অন্যরকমের। এখানেও কবি ও কবিতা নিয়ে আলোচনা হত। তবে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হত অংশগ্রহণকারী কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠের উপর। এরকম আসরে আমি প্রায়ই যেতাম এবং মাঝে মাঝে অংশ নিতাম। একবার এমনই এক আসরে গিয়ে একটা নতুন কিছু পেলাম যা আমাকে চমক দিয়েছিল। এখানে কয়েকজন তরুণ তরুণী কবির সঙ্গে আলাপ হল। তাদের এক অভিনব কর্মকান্ড দেখে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। এদের নাম (মোবাইল পোয়েটস) ‘চলমান কবিচক্র’। এরা লন্ডনের হ্যামস্টেড অঞ্চলের এক রেস্টুরেন্টের সঙ্গে যুক্ত। এ রেস্টুরেন্টটা একটু আলাদা; এখানে যাঁরা আসেন তাঁরাও, বোধ করি, একটু আলাদা ধরণের মানুষ। চলমান কবিচক্র এই রেস্টুরেন্টে কফি বা ভোজ্যবস্তুর সঙ্গে কবিতা পরিবেশন করে। রেস্টুরেন্টের নাম ‘কাফে রুজ’। জরুরী চব্বিশ ঘণ্টার এই চলমান কবিচক্র আপনাকে নিয়ে যাবে এক আবেগময় ভ্রমণে, জাদুকরী আসরে, মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতায়, আশ্চর্য ইন্দ্রজালে ঘেরা কল্পনার রাজ্যে; যুগপথ স্তম্ভিত ও অনুপ্রাণিত করবে। ... ...

কানাইএর মত একজন অপরিচিত মানুষের নিজেকে উজাড় করে দেওয়া ভালবাসা, সান্নিধ্য ও অসীম নির্ভরতা পাওয়া কজন মানুষের কপালে জোটে। আর আপনার মেয়ে আশা। বিয়ের আগের কথা বাদই দিলাম, বিয়ের এতকাল পরেও বাবার জন্য এত ভাবে, এটা কি কম বড় পাওয়া। সন্তানের এই ভালবাসা আর উৎকণ্ঠায় ভরা শাসন, নাতি নাতনির সঙ্গ, আজকের এই বৃদ্ধাশ্রমের যুগে এক বৃদ্ধের কাছে এর থেকে বড় পাওয়া আর কি থাকতে পারে! জীবনে আপনি যতবার সমস্যায় পড়েছেন তা থেকে বেরিয়ে আসার পথও কিন্তু কোন না কোন ভাবে পেয়ে গেছেন। জীবনের অঙ্কটা বড় জটিল। কোথায় কি চিহ্ন বসাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করবে এর উত্তর। ... ...

বিনীতার শান্ত স্বরে গায়ত্রীর উত্তেজনা কমে আসে। “ডাক্তার কি ব্যাচেলর?” “ডিভোর্সি।” “সেটার কারণ জানিস?” “ওয়াইফের দিল্লি পছন্দ, ওনার নয়। এই নিয়ে টানাপোড়েনের ফলেই ডিভোর্স।” “এটা একটা কারণ হল?” অবিশ্বাসের সুরে জানতে চাইল গায়ত্রী। “এটাই বলেছে। ভেরিফাই করার জন্য স্ত্রীর ফোন নম্বরও দিয়েছে।” কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে গায়ত্রী। তারপর জিজ্ঞাসা করে, “রঙিনের কথা ভেবেছিস?” বিনীতা বলে, “ওর জন্যই।” “মানে?” জানতে চায় গায়ত্রী। “রঙিনের বাবা অফিস আর কাজ আর বই ছাড়া কিছু বোঝে না। এত বছরের ম্যারেড লাইফে আমরা এক বার মাত্র বেড়াতে গেছি, কালিম্পং-এ। সেটাও বিয়ের পরপরই। আমার কথা ছেড়ে দে, মেয়েকেও তেমন সময় দেয়নি কখনও। আমার বা মেয়ের শরীর খারাপ হলেও সময় মতো ঠিক অফিস চলে গেছে। ফোন করে খবরও নেয়নি কেমন আছি আমরা। অসম্মান যেমন করেনি, তেমনি সম্মানও দেয়নি।…” ... ...


কোথা থেকে শুরু করা যায় বলা মুশকিল। ময়নাতদন্ত নিয়ে এত জলঘোলা হয়েছে, সেখান থেকেই শুরু করা যাক। ১১ই সেপ্টেম্বর আনন্দবাজারে নীলোৎপল বিশ্বাস লিখেছিলেন "মৃতার 'পোশাক রহস্য'"। প্রথম পাতার নিচে বড় হেডলাইন ছিল, যার মোদ্দা কথা হচ্ছে, ময়নাতদন্তে মৃতার নিম্নাঙ্গের অন্তর্বাস গায়েব। মাসদুই পরে ১৯শে নভেম্বর আদালত জানাচ্ছেন, যে, ডাক্তার অন্তরা বর্মনের সাক্ষ্যে প্রমাণিত, যে, নিম্নাঙ্গের পোশাক বিলক্ষণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। ফলে ওগুলো গায়েব-টায়েব হয়নি। সহজেই আন্দাজ করা করা যায়, আলাদা করে জমা করার জন্য ময়নাতদন্তে ওটার উল্লেখ নেই। যেকোনো অপরাধ-সাংবাদিকেরই এইটুকু জানা উচিত। নইলে বলতে হবে তিনি সাংবাদিকতা নয়, স্বপনকুমারের মতো রহস্য-রোমাঞ্চ লিখছেন। ... ...

"বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে, কারাগারে গেছে, নির্যাতিত হয়েছে। সেই মানুষগুলো ২০২৪-এর ৫ আগস্ট আরেকটি বিজয় অর্জন করেছে। সেই বিজয় অর্জন হয়েছে রাজপথে অনেক রক্তের মধ্য দিয়ে, অনেক প্রাণের ভেতর দিয়ে। কিন্তু তার ফল কি এই বাংলাদেশ? তিন মাস হয়নি, এখনই রাস্তায় রাস্তায় লড়াই শুরু হয়েছে। একজন আরেকজনের বুকের রক্ত ঝরাচ্ছি। এখন পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, আক্রমণ করছে।’ এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এই কয়টা দিনে আমরা খুব চিন্তিত, উদ্বিগ্ন, ভয়াবহভাবে উদ্বিগ্ন। আপনি চিন্তা করতে পারেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে কী উন্মাদনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে! আপনি চিন্তা করতে পারেন, যে মুক্ত স্বাধীন মিডিয়ার জন্য আমরা এত দিন লড়াই করলাম, তার অফিস পুড়িয়ে দিচ্ছে! এই বাংলাদেশ তো আমরা দেখতে চাই না, আমি অন্তত চাই না।’' মির্জা ফখরুল ইসলামের ভদ্রলোক বলে সুনাম আছে। তিনি তার মতো করেই বলেছেন। বাকিদের হুশ হবে? হুশ ফিরবে এইটা আশা করাও দুরাশা না? রন্ধ্রে রন্ধ্রে জামাতের বিষ ঢুকিয়ে যদি কেউ আশা করে এইখান থেকে ভালো কিছু বের হবে তাহলে গালি দিয়ে চুপ করে যাওয়া ছাড়া আর কিছু করার নাই। ... ...


ইতিহাসের এক অন্যতম আকর্ষণীয় আর গোলমেলে চরিত্র এই পিথাগোরাস। তাঁকে ঘিরে গড়ে ওঠা ঐতিহ্য যে শুধু সত্যি-মিথ্যের এক অবিচ্ছেদ্য মিশেল তা-ই নয়, সেই সব গল্পের একেবারে সরল, সবচেয়ে কম বিভ্রান্তিকর সংস্করণের থেকেও এক অদ্ভুত মনোবৃত্তির পরিচয় ভেসে ওঠে। খুব সংক্ষেপে বলতে হলে, পিথাগোরাস যেন আইনস্টাইন আর শ্রীমতি এডি-র (অনুবাদক: বর্তমানের প্রাসঙ্গিক উদাহরণে বুঝতে চাইলে ‘সদগুরু’ ভেবে নিন) এক মিশ্রণ। তিনি এক ধর্ম প্রচার করতেন, যার মূল দুটি বক্তব্য হল – আত্মার পুনর্জন্ম হয় আর বরবটি (beans, অর্থাৎ রাজমা, শিম – সবই) খাওয়া পাপ। এই ধর্মমতটি অবশেষে এক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের রূপ নেয়, যারা খাপছাড়াভাবে বিভিন্ন জায়গায় সরকারের দখল নিয়ে ‘পণ্ডিতদের শাসন’-এর পত্তন করেছিল, কিন্তু ‘অসংস্কৃত জনগড্ডল’ বরবটি খাওয়ার লোভ ত্যাগ করতে না পেরে অচিরেই বিদ্রোহ করে। ... ...

পুরান ঢাকায় একটা কলেজ আছে নাম ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ (ডিএমআরসি)। এই প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্র ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে। ভুল শুদ্ধ কে জানে, এইটা ছাত্ররা দাবি করছে। তো এর জন্য কী করতে হবে? বাহ! এইটাও বলে দিতে হবে? এই বাংলাদেশে? ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে আক্রমণ করতে হবে! ডিএমআরসি একা একা আক্রমণ করবে? এতদিনের আন্দোলনের সাথিরা কই? আশেপাশের আরও কলেজের ছাত্ররা মিলে হাসপাতালে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্ররা। মুশকিল হচ্ছে এই আক্রমণ পরিচালনায় সম্ভবত কোন গলদ ছিল, হাসপাতালের কাছাকাছি দুই কলেজ কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্রদের সাথে ডিএমআরসির মারামারি লেগে যায়। পরেরদিন ডিএমআরসির সোনার টুকরো ছেলেরা সবাই মিলে সোহরাওয়ার্দী কলেজে ঢুকে গণভবন লুটের সময় যে প্রশিক্ষণ নিয়ে ছিল তারা তেমন করে জাস্ট লুটপাট চালায়। ছাত্রদের ধরে পিটুনি তো আছে। অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। ছাত্রছাত্রীরা কাঁদতে কাঁদতে জীবন নিয়ে কোনমতে পালিয়ে বেঁচেছে। দুপুরে সোহরাওয়ার্দী কলেজে ভাংচুরের পড়ে কে জানে কেন, বিকাল বা সন্ধ্যার দিকে সেন্ট গ্রেগরিতে ভাংচুর চালায়। আগুনও দেয় এখানে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সেন্ট গ্রেগ্ররি ... ...


দেখুন, ঢেকে-চেপে লাভ নেই, কলাগাছকে কলাগাছ, আর বেগুনকে বেগুন বলেই ডাকা যাক। পশ্চিমবঙ্গে বহু মানুষ আছেন, আমিও তাঁদের একজন, যাঁরা মনে করেন, তৃণমূল-বিজেপি বাইনারিটা খুবই অকাজের। তৃতীয় কোনো শক্তি বিজেপির জায়গাটা নিলে ভালো হত। সেই পরিসরটা এমনিই ক্ষীণ ছিল, কিন্তু এই আরজিকর পর্বে চূড়ান্ত ভাবে ধ্বসে গেছে। সারা বাংলায় সার্ভে করে দেখিনি, আমি আমার কথা বলতে পারি, যে, হোক-কলরব থেকে কামদুনি যাই হোক, বাম ঘরানার আন্দোলনের একটা নৈতিক জোর ছিল এতদিন। সরকারি একটা হাসপাতালে একজন ডাক্তার মর্মান্তিক ভাবে খুন হয়ে গেলেন, অধ্যক্ষ তার নৈতিক দায়িত্ব নিতে চাইলেও মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে প্রাইজ পোস্টিং দিলেন, এই যখন ঘটনাবলী, তখন এই আন্দোলনেরও একটা তীব্র নৈতিক জোর ছিল। গুজব শুরু থেকেই রটছিল, কিন্তু নৈতিক জোরটাও ছিল। কিন্তু তারপর যেটা শুরু হল, স্রেফ গুজব আর মিথ্যের চাষবাস। দেড়শো গ্রাম, ভাঙা পেলভিক, গণধর্ষণ, জোর করে দেহ পোড়ানো, ময়নাতদন্তে গাফিলতি, বাথরুম ভেঙে ফেলা, সবকটা ডাহা মিথ্যে, এবং এগুলোই হয়ে দাঁড়াল কেন্দ্রবিন্দু। এগুলো কেউ রটালেন, মিডিয়া নিজেও রটাল, দায়িত্ব নিয়ে আন্দোলনের দিশা দেখানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিল। ওখানেই আন্দোলন গতি হারাল, নীতি ফিতি ভোগে চলে গেল। ... ...


হেলেনা নর্বার্গ-হজ, সোনম ওয়াংচুক এবং লাদাখের পরিবেশ ... ...

রূপটি ছাপিয়ে সে যে অরূপিণী আলো! অন্ধজন তাই বুঝি দেখে তারে কালো ... ...
