
"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ৩৩. “মোবাইল দে দু উসকি হাত মে? শায়দ চুপ হো যায়েগি” আর এক পুরুষ কন্ঠে বর্তমান সময়ের প্যানাসিয়া বা সর্বরোগহর দাওয়াইয়ের পরামর্শ আসে। তা তো বটেই! আজকাল স্মার্টফোন তো কত কাজেই ব্যবহার হয়। রিমোট না পাওয়া গেলে মোবাইল দিয়ে এসি চালু করা যায়। বোধহয় ছিঁচকাঁদুনে শিশুর কান্না থামানোর এ্যাপও বেরিয়ে গেছে ... ...

সাতটি স্বাদের - সাতটি বর্ণের - সাতটি বই ... ...


"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব-৩২. গুলজারের “লেকিন” সিনেমার দৃশ্যটি মনে পড়ে গেল। সেই সিনেমায় ডিম্পল ছিল প্রেতাত্মা, শিরশিরে অশরীরী চাহনিতে চলন্ত ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর কামরায় প্যাসেজের জানলা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে ছিল সে বিনোদ খান্নার দিকে। এখানে মহিলাটি দাঁড়িয়ে ছিলেন রিটায়ারিং রুমের বারান্দায়। তেমনি ধারালো মুখ। তবে চাহনি নিষ্প্রাণ নয় - বরং বেশ প্রাণবন্ত। সোজাসুজি আমার দিকে তাকিয়ে জড়তাহীন স্বচ্ছতায় মৃদু লাজুক হেসে কথা বলছিলেন ... ...

রাতে খেতে বসেছে অরুণাভ, বিনয়, রঙিন। বিনীতা রান্নাঘর থেকে একটা পাত্র নিয়ে এসে টেবিলে রাখে। তারপর নিজে টেবিলে বসতে বসতে বিসপাতিয়াকে রুটি নিয়ে আসতে বলে। অরুণাভ বিনয়কে জিজ্ঞাসা করে, “আপনি আছেন তো কয়েক দিন?” “সাত দিন, এক হপ্তা,” জানায় বিনয়। “গুড,” বলে অরুণাভ। বিসপাতিয়া ইতিমধ্যে ক্যাসেরোলে করে রুটি দিয়ে গেছে টেবিলে। সেখান থেকে সবাইকে রুটি দিতে দিতে বিনীতা বলে, “আর গুড ! সাত দিন ধরে ঘরেই তো বসে থাকবে। বললাম চল দু-দিন ঘুরে আসি, তাও তো…” অরুণাভ একটু জোরের সঙ্গে বলে, “বললাম তো কাজটা শেষ হলে যাব.....” বিনয় বলে, “নেহি নেহি, ইয়ে ঠিক নেহি হ্যায়। ঘুরতে যানা শরীরকে লিয়ে আচ্ছা হোতা হ্যায়।” বিনীতা বলল, “সে আর ওকে কে বলবে? কাজে না গেলেই বরং ওর শরীর খারাপ হয়।” রঙিনের এই সব কথা ভাল লাগছে না। সে মসুর ডালের বাটিতে চুমুক দিয়ে খানিকটা খেয়ে নিল। তারপর বলল, “আমায় আর একটু ডাল দাও।” বিনীতা রঙিনকে ডাল দেয়। অরুণাভ কিছু একটা ভাবছিল। এবার বলল, “এক দিনের জন্য কোথাও যাওয়া যেতে পারে। সকালে বেরিয়ে সন্ধ্যায় ফেরা।” “হাঁ হাঁ, ইয়ে প্রস্তাব আচ্ছা যায়। চারদিকে তো বহুত সুন্দর সুন্দর জায়গা হ্যায়।… হামারা ভি এক প্রস্তাব হ্যায়।” সবাই বিনয়ের দিকে তাকাল, সেও সবার মুখের দিকে দেখে নিয়ে বলল, “পিকনিক মে গেলে কেমন হোগা?” ... ...

কলকাতায় আসার পরে অনেকেই জিজ্ঞেস করছে বাংলাদেশের অবস্থা কী? এই প্রশ্নটা শুনলেই আমার মান্টোর উত্তরের কথা মনে হয়। তাঁকেও একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, মান্টো, আপনার দেশের খবর কি? মান্টো বলেছিল 'কারাগারে জুমার নামাজ যেমন হয়, অবস্থা ঠিক তেমনি।' এইটা আবার কেমন? আবার প্রশ্ন! মান্টোর উত্তর- 'আজান দেয় বাটপার, ইমামতি করে খুনি, পেছনে নামাজ পড়ে সব চোরের দল। ... ...

সেসময় কলকাতা থেকে নদীপথে কাশী যেতে লাগত ~৭৫ দিন। ঢাকা ৩৭ দিন। মুর্শিদাবাদ প্রায় এক মাস। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরে ক্লাইভ তখন ক্যালক্যাটা ঘুরে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে। যুবক রবার্ট ক্লাইভ বাবাকে চিঠিতে অভিযোগ করছেন, কোম্পানির মাসিক ৩ পাউন্ড স্টাইপেন্ডে টানাটানির সংসার। সেজন্য ক্লাইভ দুবার পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করারও চেষ্টা করেছিলেন। ক্যালকাটা পুনরুদ্ধারে তাকেই ফের মাদ্রাজ থেকে পাঠানো হল। কোম্পানীর আরেক নতুন কর্মচারী ওয়ারেন হেস্টিংস, তিনিও মাসে ৫ পাউন্ড বেতনে মহাকরণে টানাটানির সংসার। সিরাজের পতন এবং ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের দু বছর বাদে হেস্টিংসেরও বাংলায় ফেরা। চাঁদপাল ঘাটের দক্ষিণে তখন ঘন জঙ্গল। উইলিয়াম দুর্গর কড়ি বর্গা খসে পড়ছে। সেখানে কামানের গোলার দাগ। ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব-৩১. কথায় বলে - It is not the destination that always matters, some journeys may be quite interesting too. এই লেখায় তাই থাকবে না দ্রষ্টব্যস্থানের বিশদ কথা। শুধু বুড়ি ছুঁয়ে যাবো। এটা মূলত এক ২৪৩০ কিমি দীর্ঘ মনে থেকে যাওয়া ট্রেনযাত্রার অভিজ্ঞতা ... ...


ইন্দ্রনীলের কোয়ার্টার প্রায় অন্ধকার। কেবল ছোট ঘরটায় একটা টেবিল ল্যাম্প জ্বলছে। সেই আলোয় দেখা যাচ্ছে ‘ক্যাথেড্রাল' সিরিজের বাঁধানো ছবিটা। রকিং চেয়ারটায় চোখ বুজে বসে আছে ইন্দ্রনীল, হাতে হুইস্কির গ্লাস। রবীন্দ্র সঙ্গীত বাজছে প্রায় অন্ধকার ঘরে - "তুমি কোন ভাঙনের পথে এলে…” ছাদে একা বসে থাকা বিনীতার চোখে জল টলটল করছে, পাতা ফেলতেই এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে। জলটা মুছে নিল সে, জীবনের সমস্যাগুলোও যদি এমন সহজে মুছে ফেলা যেত! বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলল সে। ... ...


দর্শনের মতো বিজ্ঞানও, পরিবর্তনের মধ্যে এক স্থির ধাত্রস্বরূপ কল্পনা করে এই নিয়ত-পরিবর্তনশীল জগতের ধারণার থেকে নিস্তার চেয়েছে। রসায়নে সম্ভবত এই চাহিদার উত্তর পাওয়া যায়। দেখা গেল, যে আগুন ধ্বংস করে বলে ভাবা হত, তা আসলে কেবল পুনর্গঠন করে: মৌলগুলি নতুন করে যুক্ত হয় ঠিকই, কিন্তু অগ্নিসংযোগের আগে যে পরমাণুটি ছিল, অগিনির্বাপনের পরেও সেটিই থাকে। স্বভাবতই, প্রস্তাব এল, যে পরমাণু অবিনশ্বর, ভৌত জগতে সব পরিবর্তনই আসলে স্থায়ী পরমাণুগুলির পুনর্বিন্যাস। তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার হওয়া অবধি—যখন কিনা দেখা গেল যে পরমাণুও ভাঙা যায়—এই ধারণাটি টিকে ছিল। ... ...

একটি বাংলা কবিতার প্রায় প্রবাদে পরিণত হওয়া কিছু পংক্তি, একটি হোয়াটস্যাপ স্ট্যাটাস এবং সেই সূত্রে শিল্পে সমকালীনতা এবং চিরন্তনতার টানাপোড়েন নিয়ে কিছু ভাবনা। ... ...

গুরুচণ্ডালীতে ধারাবাহিক ভাবে আমার ইহুদি রসিকতা যখন প্রকাশিত হচ্ছিল, সেটি পড়ে আমেরিকার একটি শহরের রামকৃষ্ণ মিশন আমাকে এক অনুরোধ জানান – ইহুদি রসিকতা বইতে যেমন কথাচ্ছলে ইহুদি জীবন, ধর্ম, রীতি নীতির সঙ্গে পরিচয় করানোর কাজ করে চলেছিলাম, ঠিক তেমন ভাবে কি ইহুদি ধর্ম শিক্ষার কয়েকটি মডিউল বানিয়ে দিতে পারি ? তাঁরা মিশনে নানান ধর্মের সঙ্গে আপামর জনতার, যাকে বলে লে ম্যান, তাদের পরিচয় করিয়ে থাকেন, ক্লাসরুম স্টাইলে। বিশ্বের প্রধান ধর্মগুলির মূল বাণীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ব্রিটেনের স্কুলে আবশ্যিক ধর্মশিক্ষার ক্লাস হয় ( রিলিজিয়াস এডুকেশন )। বরানগরের স্কুলে হতো না। ইহুদি রসিকতা লেখা সময়ে এবং পরে জুডাইজমের মডিউল তৈরি করার সময়ে যেমন জেনেছি, শিখেছি অনেক, তেমনি আমার মনে কিছু প্রশ্ন জেগেছিল : আব্রাহাম ইহুদির আদি পিতা, ঈশ্বরের আদেশে নতুন বাসস্থান হেবরন অবধি পৌঁছুলেন, ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার জন্য টেম্পল মাউনটে আপন পুত্র আইসাককে বলি দিতে প্রস্তুত হলেন ( হিব্রু পেশাত, বিশ্বাসের পরীক্ষা )। কিন্তু তাঁর ধর্মাচরণের বিধি কি ছিল ? আব্রাহামের অনেক বছর বাদে, মোজেসের দশ আদেশ পাওয়ার আগে পর্যন্ত ইহুদির ধর্ম আচরণের রেওয়াজ কি ছিল? হিব্রু বাইবেলে যার উল্লেখ আছে, টেন কমান্ডমেনটস ছবিতে সিনাই পাহাড়ের নিচে যাদের সোনার বাছুর পুজো করতে দেখেছি, তাঁরাও তো আব্রাহামের বংশধর ! জানতাম এক দল মানুষ সিনাই পাহাড়ের নিচে মোজেসের বাণী শুনে ইহুদি হলো, পৃথিবীতে এমন ঘটনা নাকি আগে বা পরে কখনো ঘটেনি। এর সত্যতা মেনে নেওয়া শক্ত। আমরা জানি তাঁদের লম্বা নাক নিয়ে যতোই ঠাট্টা চালু থাকুক না কেন, ইহুদি কোন বিশেষ জাতি নয়, তাঁদের নানা বর্ণ, চেহারা। ইসরায়েলে ইথিওপিয়ান, ভারতীয় ইহুদির সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। এঁদের পূর্ব পুরুষ কি সিনাই পাহাড়ের পাদদেশে ছিলেন যেদিন মোজেস দশ আদেশ পাঠ করছিলেন ? তা নিশ্চয় নয়, কালে কালে এই ধর্ম প্রসারিত প্রচারিত হয়েছে, সেটা কি ধর্মান্তকরণের বলে ? রোড টু দামাস্কাস, সলের (পরে পল) ধর্মান্তকরণের ফেবল আমাদের জানা, কিন্তু জুডাইজমে কনভার্শনের গল্প কোথায়? মোজেসকে ইহুদিরা হত্যা করেছিলেন কিনা সেটি তর্ক সাপেক্ষ কিন্তু হিব্রু বাইবেল এটা তো মানে যে নিতান্ত সুস্থ দেহের একজন বলশালী নেতা কানানের দুয়োর অবধি এসে অকস্মাৎ মারা গেলেন – কেস অফ রিজনেবল ডাউট ? অনুতাপ থেকেই কি সেই গুরুর শিক্ষা মাথায় তুলে নেওয়া হলো ? শিলারের ভাষায়, কোন চিরন্তন সঙ্গীত প্রথমে গভীর জলে ডুবে যায়, তাকে আমরা হারিয়ে ফেলি, পরে খুঁজে পেয়ে মাথায় করে রাখি ? কেন ক্রিস্টিয়ান হোলি কমিউনিয়নে রুটি ও লাল মদ, প্রভুর দেহ ও রক্ত – কীসের প্রতীক ? গুরুহত্যার? নিরাকার একেশ্বরবাদের উত্তরসূরি ক্রিস্টিয়ান ধর্মে কেন এতো মূর্তি, ছবি, আচার আচরণ, প্রতীকের ছড়াছড়ি ? অথচ পরবর্তী আব্রাহামিক ধর্ম, ইসলাম সে সব এমন ভাবে বর্জন করেছে যে ফ্রয়েড তাকে জুডাইজমের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বলেছেন। মনে হয় আমার কৌতূহলের কিছু উত্তর এবং তাঁর সঙ্গে ভাবনার খোরাক মোজেস ও একেশ্বরবাদ এই বইতে পেয়েছি। ... ...

রবীন্দ্রনাথের 'ওগো নদী আপনবেগে পাগলপারা' গানটি নিয়ে একটি নিবিড় আলোচনা। ... ...

জীবন ... ...



ফ্যাসিস্ট সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও নিপীড়নের ফলে ‘বেগম পাড়া’, ‘আয়না ঘর’ কথাগুলো গণমাধ্যম ও সমাজ মাধ্যমে পরিচিতি পায়। মূলত, দুবাই-কানাডাসহ প্রবাসে লুটপাটের অর্থে গড়ে তোলা দুর্নীতিবাজদের সাম্রাজ্যকে ‘বেগম পাড়া’ অভিধায় চিহ্নিত করা হয়। আর সামরিক-বেসামরিক গোয়েন্দা বিভাগের গোপন বন্দিশালাকে বলা হয় ‘আয়না ঘর’। ... ...
