
সেলিমকে কড়া ধমক লাগিয়ে ভেবেছিলাম, এতেই কাজ হবে। তাছাড়া, চাইলেই কি আর ম্যানেজ করতে পারবে! বিশেষত কোম্পানির হিসেবনিকেশ এসব ক্ষেত্রে যখন খুবই কড়া! কিন্তু সপ্তাহখানেকের মধ্যেই বিশাল পলিপ্যাকে করে একটি সদ্যোজাত হাতি হাজির হল আমার টেবিলে। সারাদিন ছুঁয়ে না দেখলেও দিনশেষে বাসায় নিয়ে গিয়েছিলাম জিনিসটা, সেলিমের কাঁদো কাঁদো মুখের দিকে আর তাকানো যাচ্ছিল না! ... ...

আমেরিকা নির্বাচনে একটা জিনিস সবাই জানে, কিন্তু কক্ষনো গভীরে ঢোকেনা, সেটা হল গ্রাম-শহরের বিভাজন। বস্তুত ভারতের থেকে বিভাজনটা অনেক বেশি। যদি কাউন্টি ধরে লাল আর নীল ম্যাপ দেখেন তো পিলে চমকে যাবে। প্রায় পুরোটাই লাল, অর্থাৎ রিপাবলিকান। খুচরো-খুচরো কিছু জায়গায় নীলের ছিটে। অঙ্কের হিসেবে মোটামুটি ২৫০০ রিপাবলিকানদের দখলে। আর ডেমোক্রাটরা তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ। ২০%। তাহলে নির্বাচনে কমবেশি ৫০-৫০ হয় কীকরে? কারণ, রিপাবলিকানরা যে কাউন্টিগুলো পায়, তার প্রায় সবটাই গ্রামে এবং কিছুটা শহরতলীতে। সেখানে লোক কম। আর বড় শহরে থাকে একটা বিপুল জনসংখ্যা। সেটা ডেমোক্রাটদের ঘাঁটি। এই দুই এলাকার বিভাজনটা কিন্তু বিপুল। এবার বড় শহরে, এক্সিট পোল অনুযায়ী ডেমোক্রাটরা জিতেছেন মোটামুটি ৬০-৪০ ব্যবধানে। আর গ্রামে ঠিক উল্টো। ট্রাম্প জিতেছেন মোটামুটি ৬৫-৩৫ ব্যবধানে। বিশ্বের আর কোথাও এত প্রকট ব্যবধান দেখা যায় কিনা সন্দেহ। শহরতলীতে একটু মিশ্র। ট্রাম্পই একটু এগিয়ে (৫১-৪৭)। এই বিভাজনটা তিরিশ বছর আগেও এত প্রকট ছিলনা। ক্রমশ প্রকট হচ্ছে, এবং গত তিনটে নির্বাচনে একদম লাইন কেটে দেখিয়ে দেওয়া যায়। ... ...



ঢাকা শহরে হাঁটলেই নানান তামশা দেখা যায়। আজকে এজতেমা নিয়ে তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের যে ঝগড়া তার অন্য একটা রূপ দেখছে ঢাকাবাসী। সাদ পন্থিদেরকে কঠোর বার্তা দেওয়ার জন্য হাজার হাজার মোল্লারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত হয়েছিল। কড়া হুশিয়ারি দিয়েছে এরা। বলেছে মাওলানা সাদ যদি দেশে আসে তাহলে সরকার পতন আন্দোলন শুরু করবে তারা! এগুলা তো হচ্ছে আজকের এই সভার একটা দিক। দ্বিতীয় দিকটা হচ্ছে কুৎসিত। সারাদেশ থেকে এই যে হুজুরেরা আসল। এরা এসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আর কতক্ষণ? ঢুকে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গিজগিজ করছে টুপিওয়ালাদের দিয়ে। বুঝে না বুঝে কে জানে, কেউ কেউ রোকেয়া হলেও ঢুকে গেছে, সামসুন্নাহার হলেও ঢুকেছে শুনছি। কলা বিভাগের কোন এক মেয়েদের বাথরুমে ঢুকে বসে আছে! মূত্র বিসর্জন নিয়ে বেকায়দায় পরা হুজুরেরা লাইন দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির দেওয়াল ভিজাচ্ছে এমন ছবি সামনে আসছে! হুজুর মানুষ, ঢাকায় আসছে, ঢাকা সম্পর্কে কী শুনে আসছে কে জানে, ছাত্রী যাদের পাইছে তাদেরই নানান জ্ঞান বিতরণ করেছে! এক বোরকা পরা নারীকে প্রশ্ন করেছে আপনের এইখানে কী কাজ? একজন নারীর পোস্ট দেখছি গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টাও করছে আল্লার এই বান্দারা! ... ...


বাজার নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনে গতি ফেরানো, মিডিয়ায় শৃঙ্খলা ও আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত -- এই গুরুতর পদক্ষেপের পরেই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন আসে। অন্যথায় অজানাতন্ত্রের উলটো গাধায় চেপে বাংলাস্তানের দিকে যাত্রা বোধহয় অনিবার্য! ... ...

এটা ২০২৪ এর নভেম্বর। গত আট বছরে ট্রাম্প তাঁর কিছু অবস্থানে মূলত অনড় থেকেছেন। তার মধ্যে কিছু আমেরিকান রক্ষণশীল পুঁজির পুরোনো অবস্থান। এক, তিনি আমেরিকায় জনতার হাতে বন্দুক থাকার পক্ষে। দুই, গর্ভপাতের সার্বজনীন অধিকারের বিরুদ্ধে, ওটা তিনি রাজ্যগুলোর হাতে ছেড়ে দিতে চান। তিন, শিক্ষা-স্বাস্থ্যতে যে কোনো রকম 'সমাজতান্ত্রিক' ভরতুকির বিরুদ্ধে। চার, করব্যবস্থা একদম সোজা-সাপ্টা করে দিতে চান। অর্থাৎ প্রগ্রেসিভ ট্যাক্সেশন চলবেনা। এই চারটেই বিশেষ নতুন কিছু না। দুটো ব্যক্তিপুঁজির চূড়ান্ত অধিকারের পক্ষে এবং বাকিদুটো রিপাবলিকানদের পুরোনো অ্যাজেন্ডা। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন কিছুও দাবী আছে, যা ঠিক চিরপুরাতন রিপাবলিকানদের সঙ্গে মেলেনা। সেগুলো কী? এক, তিনি বড় আকারে অভিবাসনের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে। দুই, আমেরিকার বাজার বাইরের পুঁজিকে খুলে দেবার বিরুদ্ধে। অর্থাৎ একরকম করে খোলা অর্থনীতি আর নয়, অবাধ ভুবনীকরণ আর নয়। তিন, যুদ্ধের একদম বিপক্ষে। আমেরিকা বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করবেনা, এ কথা শুধু ঘোষণা করেননি, রাশিয়ার সঙ্গে ভাবসাব করে ফেলেছিলেন। ন্যাটো প্রায় তুলে দেবেন বলেছিলেন। রাশিয়া, উত্তর কোরিয়ার নেতাদের প্রশংসাও করেছেন একাধিকবার। কেবল চিনের খুবই নিন্দে করেছেন। চার, সন্ত্রাসবাদ বিরোধিতা, যেটা অন্যদের থেকে একদম আলাদা। একদিকে সেটা মুসলিম বিদ্বেষে পৌঁছে যায়, অন্যদিকে আরব দেশগুলোকে তোল্লাই দেবার বিপক্ষেও, যেটা আমেরিকার এতদিনকার নীতির পুরো উল্টোদিকে। ... ...

মোজেসের যে কাহিনি আমাদের শোনানো হয় সেখানে তিনি জন্মেছিলেন দরিদ্র ইহুদি লেভাইট সংসারে, তারা শিশুটির কল্যাণের বাসনায় তাকে ভেলায় তুলে দেন, যদি কোন সহৃদয় পরিবার তাঁর দেখাশোনা করে – সেই ভেলা পৌঁছুল মিশরের রাজ পরিবারে, সে পেল ঘর সম্মান আদর যত্ন। রাজ পরিবার জানতেন না সে ইহুদি। ফ্রয়েড বলছেন এই শিশু কোন হিব্রু বংশজাত নয়। প্রচলিত পৌরাণিক গল্পটি মানতে তিনি নারাজ। এখানে তিনি জার্মান ঐতিহাসিক এডুয়ার্ড মায়ারের দ্বারস্থ হয়েছেন – মায়ার লিখেছেন ফারাও একদিন স্বপ্ন দেখেন তাঁর নাতি ( কন্যার সন্তান ) বড় হয়ে ফারাওয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, সাম্রাজ্যের পতন ঘটাবে ; তাই সে শিশু জন্মালে তাকে পাপিরাসের ভেলা বেঁধে নীল নদের জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। কোন হিব্রু মহিলা তাকে জল থেকে উদ্ধার করেন আরও এক ধাপ এগিয়ে ফ্রয়েড বলেন এ যে নীল নদ তাও মেনে নেওয়া শক্ত। এটা হিব্রু বাইবেলের গ্রহণযোগ্য নয় – তোরা বলে এক ইহুদি মহিলা মোজেসকে জলে ভাসিয়েছিলেন, জল থেকে তুলে আনেন নি। তর্জনী তুলে তাই বলা হয়-খামোশ। ... ...

নিজের জ্যোতির্বিদ্যার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কোনো এক শীতকালে তিনি নাকি বুঝতে পেরেছিলেন যে পরের বছর অলিভের ফলন খুব ভালো হবে। অতএব, নিজের সামান্য জমা টাকাপয়সা অগ্রিম জমা দিয়ে তিনি খিওস ও মাইলেটাস-এর সমস্ত অলিভ-ঘানি ভাড়া নিয়ে রাখলেন। শীতের অসময়ে তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবে কেউ তেমন নিলামেও দাঁড়ালো না, তাই বেশ কম দামেই ভাড়া পেলেন থেলিজ়। পরবর্তী ফলনের সময় যখন এল, একসঙ্গে সব ঘানির চাহিদা তৈরি হল, থেলিজ় নিজের ইচ্ছেমতো দামে সেগুলি অন্যদের ব্যবহার করতে দিলেন, আর এভাবে বেশ অনেক অর্থই উপার্জন করলেন। এইভাবে দুনিয়াকে দেখালেন, যে দার্শনিকরা চাইলেই ধনবান হতে পারেন, নেহাত তাঁদের উচ্চাশার বিষয় একেবারেই অন্য গোত্রের। ... ...

দুদিন আগে অবশেষে জুনিয়ার-ডাক্তাররা সিবিআইকে কিছু প্রশ্ন করতে পেরেছেন। আশি দিন পেরিয়ে যাবার পর। সেটা অভিনন্দনযোগ্য। সাংবাদিকে বৈঠক করে জানিয়েছেন। সিবিআইয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন, তাঁদের বলেননি কেন, নিয়মিত আপডেটের দাবী করেননি কেন, বা বললে কী উত্তর পেয়েছেন, জানা নেই। মিডিয়াতেও যা করেছেন, তাতেও হোমওয়ার্কের এত অভাব কেন বোঝা দুষ্কর। তাহলেও পুরো প্রশ্নগুলো এক এক করে দেখা জরুরি। পুরো সাংবাদিক সম্মেলনের অডিও ভিশুয়াল পাইনি। জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে দেবাশিস হালদারের উদ্ধৃতি দেওয়া পুরো বক্তব্যটা পেয়েছি এবিপি আনন্দে। সেগুলো টুকরো করে নিয়ে দেখা যাক। উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে দেবাশিসের বক্তব্য, নিচে আমার মন্তব্য। ... ...

আমেরিকার নির্বাচনে সবসময়েই একটু বেশি নাটক হয়। বিশ্বের উপর দাদাগিরি বজায় রাখার ব্যাপার, ইয়ার্কি না। কিন্তু এবার একটু বেশিই হচ্ছে। বিশ্বের কোনো নির্বাচনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কানের লতিতে গুলি খেয়েছেন বলে জানিনা, কিন্তু এবার আমেরিকায় খেলেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝখানেই প্রার্থী কাম প্রেসিডেন্ট অবসর নিয়ে নিলেন বলে সাম্প্রতিক কালে শুনিনি। এবার নিলেন। তাতে অবশ্য নিজের দলের লোকেরাই হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। বাইডেন থাকলে ট্রাম্প এমনি এমনিই জিততেন, গুলি টুলি লাগতনা। তাঁর জায়গায় এলেন কমলা। গত চার বছরে তামিলনাড়ুতে গিয়ে নারকেল গাছ লাগালো ছাড়া আর কী করেছেন, সেটা অবশ্য এর আগে কেউ জানতনা। কিন্তু প্রচুর হইচই হবার পর জানা গেল, উনি আরও নানা জায়গায় ছাপ রেখেছেন। সেটা ভালো না মন্দ বলা অবশ্য কঠিন। বাইডেন আমলে দ্রব্যমূল্য, যাকে বলে, আকাশ ছোঁয়া। নতুন দুখানা যুদ্ধ শুরু হয়েছে, আমেরিকা সেখানে যথারীতি যথাযথ ভূমিকা পালন করেছে। ভালর মধ্যে বেকারিত্বের হার খুব কমে এসেছে। কিন্তু সেটাও একটা রহস্যজনক ব্যাপার। কোভিডের সময় হঠাৎ বেকারিত্ব প্রচণ্ড বেড়ে গিয়েছিল, তারপরই হুহু করে কমে গেল। দোকান-বাজারে কাজ করার লোক নেই। সংস্থাগুলো নাকি লোক পাচ্ছেনা। সেটা এখনও চলছে। অনেক রকম স্পেকুলেশন পড়েছি, কিন্তু এত লোকে একসঙ্গে হুট করে উবে গেল কীকরে জানা যায়নি। ... ...

গতকাল ( ৩০/১০/২০২৪) রাতে ঢাকা আসছি। মহান (!) বিপ্লব ( না গণ অভ্যুত্থান?) সংগঠিত হওয়ার পরে প্রথম আসলাম। রাতে তেমন আলামত না পেলে সকাল থেকে বেশ ভালো ভাবেই বুঝলাম আমি ঢাকা আসছি! রাতে যখন গন্তব্যের দিকে যাচ্ছি তখন দেখলাম নানান দেওয়াল লিখন। ইউনুস সাহেব এই সব দেওয়াল লিখনকে বাধাই করে নিয়ে গিয়েছিলেন জাতিসংঘে। আমি যেগুলা দেখছি সেগুলাও নিয়ে গেছে কি? আমি দেখলাম বাঁচার পথ খেলাফত খেলাফত লেখা। মূর্খ আমি দেখলাম আরবিতে কী জানি লেখা! তো এগুলা নিয়ে গেছেন তিনি? ... ...

গঙ্গা এই কুসুমবনী কোলিয়ারিতেই কাজ করে। সে পছন্দ করে রিমিল নামের একটি মেয়েকে। গঙ্গার বন্ধু মঙ্গলও রিমিলকে চায়। রিমিলের সঙ্গে এদের দুজনেরই সম্পর্ক ভাল, সে বোঝে এরা দু-জনেই তাকে ভালবাসে। কিন্তু সে নিজে যে কাকে বেশি চায় সেটা বুঝতে পারে না। গঙ্গা কাজের ছেলে, ভাল বাঁশি বাজায়, তবে মদ খেলে তার আর কোন কিছুই খেয়াল থাকে না। মঙ্গলের দায়িত্ববোধ আছে, একটা ছোট দোকান চালায়। তবে সে বড্ড বেশি আবেপ্রবণ যেটা মাঝে মাঝেই সমস্যা তৈরি করে। গঙ্গা আর মঙ্গলের মধ্যে এক দিন জোর ঝগড়া হয় তাদের মধ্যে কে রিমিলকে কে বিয়ে করবে তাই নিয়ে। শেষে তারা ঠিক করে রিমিল নিজেই জানাক কাকে সে বিয়ে করবে, তার সিদ্ধান্ত দুজনেই মেনে নেবে। রিমিল দুই দিন সময় চায়। তার পর এক সন্ধ্যায় তাদের দু’জনকেই ডেকে জানায় ওদের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া তার পক্ষে খুবই কঠিন ছিল, তবু একটা সিদ্ধান্তে সে পৌঁছেছে। এটাও জানায় সে আশা করে এর ফলে গঙ্গা আর মঙ্গলের সম্পর্কে কোন চিড় ধরবে না। দুই বন্ধু এই কথা মেনে নিলে রিমিল বলে সে ঠিক করেছে গঙ্গাকে বিয়ে করবে। ... ...

এবার আর ভুল হয়নি, গেল শীতেই তো ডেকে এনেছিলেন, আর হ্যান্ডশেক করতে করতে বলেছিলেন, “কঠিন রাজনৈতিক কলাম বাদ দিয়ে ভূতের গল্পও তো লিখতে পার!“ ... ...

কাল ছিল সেই বহুপ্রতীক্ষিত সিজিও কমপ্লেক্স অভিযান। খুবই ভালো ব্যাপার, ডাক্তাররা অবশেষে সিবিআইকে পাকড়েছেন। কিন্তু দাবীটা কী, সেটা পরিষ্কার করে জানা গেলনা। জুনিয়ার ডাক্তারদের পেজে একটা ভিডিও আছে, যেখানে খুব ভালো স্টুডিও রেকর্ডিং এবং মিক্সিং করা একটা গান পাওয়া গেল, সঙ্গে নানা দৃশ্যের কোলাজ। কিন্তু কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলনা। লাইভ স্ট্রিমিং হয়নি, তেমন দাবীও ছিলনা। টিভিতেও কভারেজ অল্প হয়েছে। বিশদ কিছু নেই। এছাড়াও স্মারকলিপির কোনো প্রতিলিপি নেই, আদৌ কিছু দেওয়া হয়েছে কিনা তাও বোঝা যায়নি। ডাক্তারবাবুরা এবং অধুনা এই অভয়া মঞ্চ, রাজ্য সরকারের সঙ্গে যা করেন, তা খুবই খোলাখুলি, যেটা দাবী করেন, সেটা হল সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, দুটোই খুবই প্রশংসনীয়। কিন্তু রাজ্যপাল বা সিবিআই দপ্তরে গিয়ে কী করেন, সে ব্যাপারে তাঁদেরই ন্যূনতম স্বচ্ছতা না রাখার একটা ধারাবাহিকতা আছে। ছোটোরা এবং বড়োরা মিলে তিনবার সিজিও কমপ্লেক্স গেছেন। কিন্তু সেখানে কী হল, দাবীগুলো কী, তাঁরা ধমক খেয়ে ফিরে এলেন, নাকি সিবিআই সব দাবী মেনে নিল, জানার উপায়। রাজ্যপালের কাছেও সেই একই ব্যাপার। সেখানে অবশ্য স্মারকলিপিটা 'ফাঁস' হয়েছে। কিন্তু সে নিয়ে তাঁদের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখিনি। ... ...

নির্বাচন না সার্কাস বোঝা মুশকিল। বাংলা আর নিজের মেয়েকেই চায় কিনা, তার অগ্নিপরীক্ষা হবার কথা ছিল, কিন্তু কোনো এক হরেরাম সিং হাজির করছিলেন পবন সিং কে, যাঁর স্লোগানই হল ভোজপুর বাংলার মেয়েদের চায়। গরগরে কামনা এবং কোনো লুকোছাপা নেই। বাঙালি বুদ্ধিজীবী হিন্দি বা ভোজপুরি গানে অবশ্য সেক্সিজম খুঁজে পায়না, "আমি তন্দুরি মুর্গি, আমায় অ্যালকোহলে চুবিয়ে গিলে ফেল" জাতীয় জিনিস জিভ বার করে দেখে, যেমন গাঁয়ের অপু-দুগ্গা দেখতো রেলগাড়ি। ফলে তারা আপত্তি করে উঠতে পারেনি। কিন্তু যা হোক, সেই আপদ বিদেয় হয়েছে। কিন্তু দেখিয়ে দিয়ে গেছে, জাস্টিস, আরজিকর ওসব ততটা জরুরি জিনিস না, আসল কথা হল ভোজপুরি নৃত্য। ... ...



রাতে বাড়ী ফিরে দেখে যোগমায়ার শরীর খারাপ। গায়ে জ্বর, চুপচাপ শুয়ে আছে। মুখঝামটা যতই দিক বৌকে নন্দ যথেষ্ট ভালবাসে। ডাক্তার ডাকা মানেই এখনি কয়েকশ টাকা খসবে, তা সত্ত্বেও জিজ্ঞেস করল—হ্যাঁগো, বিপিন ডাক্তারকে একটা খবর দিই? যোগমায়া স্বামীকে মানা করল—অত ব্যস্ত হতে হবে না। সামান্য জ্বর, একটু শুয়ে বসে থাকলেই ঠিক হয়ে যাবে। ভাল হওয়া দূরে থাক পরদিন বেলা বাড়ার সাথে সাথে অবস্থা আরও খারাপ হতে শুরু হল। নন্দ আর দেরী না করে বিপিন ডাক্তারকে নিয়ে এল। ডাক্তার যখন এসেছে তখন যোগমায়া প্রায় সংজ্ঞাহীন। ডাক্তার যত শীঘ্র সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলল। একা কিভাবে কি ব্যবস্থা করবে ভাবতে ভাবতে দিশেহারা হয়ে সাহায্যের আশায় নন্দ পাগলের মত ছুটে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এল। প্রথমেই নজর গেল বাড়ির থেকে কয়েক পা দূরে চায়ের দোকানের আড্ডাটায়। অনেক গুলো ছেলে ছোকরা গুলতানি করছে। এই চায়ের দোকানের আড্ডাটাকে ও কোন কালেই সহ্য করতে পারে না। কিন্তু এখন ওসব ভাবার সময় নেই। দোকানে গিয়ে কাতর ভাবে বলল—আমার বাড়িতে বড় বিপদ, একটু আসবে ভাই! ঘটনা শুনে নন্দকে আশ্বস্ত করে ছেলেগুলো বলল--কাকু আপনি শান্ত হোন। আমরা সকলে আছি, কোন চিন্তা করতে হবে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কয়েকজন নন্দর বাড়িতে পৌঁছে গেল। আর তাদের অধিকাংশই নন্দর অপছন্দের ওই জানোয়ারের দলের। সত্যিই নন্দকে কিছু করতে হয়নি। ওরাই অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মুমূর্ষু যোগমায়াকে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করল। ভর্তির সময় প্রয়োজনীয় টাকাটাও নিজেরাই যোগাড় করে জমা দিয়েছে। যোগমায়া যে কদিন হাসপাতালে ছিল সে কদিন রাতজাগা থেকে আরম্ভ করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ, সব ওরাই পালা করে করেছে। ডিসচার্জের দিন স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছে নন্দ দেখে যে ছেলেগুলো আগেই সব ব্যবস্থা করে রেখেছে। নন্দর দুচোখ জলে ভরে গেল। মানুষকে বোঝা, তার ভালমন্দের বিচার করা খুবই কঠিন। এতবড় একটা বিপদের আঁচও ওরা গায়ে লাগতে দেয়নি। ... ...