

দেশ জুড়ে নানা জায়গায় অস্থিরতা। কে যে কী চালাচ্ছে তার কোন হিসাব নিকাশ নাই। এমন কি সরকার যে কে চালাচ্ছে তারও কোন সঠিক উত্তর নাই। গার্মেন্টস জুড়ে চলছে নানা আন্দোলন। রাস্তাঘাটে আন্দোলন। লুটপাট, চাঁদাবাজি সব চলছে এক যোগে। একটা বোতলে বেশ কিছু দৈত্য দানো, ভূতকে বন্দি করে রেখেছিলেন শেখ হাসিনা, বন্দি করেই দেশ চালিয়েছেন। একে অনেকেই অনেক নাম দিয়েছিল। এখন তিনি নাই, সব ভূত এখন মুক্ত, আর চারদিকে চলছে ভূতের নৃত্য! আমরা সবাই পিশাচ নৃত্য দেখে চলছি। ... ...

বিদেশে যাওয়ার পর তন্ময় অনেকবার এসেছে গেছে কিন্তু বেশ কয়েক বছর কাটানর পরেও কোম্পানি পাকাপাকিভাবে ওকে দেশে ফিরতে দিচ্ছিল না। দায়িত্বপূর্ণ পদে কাজ করে, মোটা মাইনে দিয়ে ওকে আটকে রেখেছিল। দেশে এলে আর ওর ফিরতে মন চাইত না। ছেলের যেমন বাবার জন্যে মন খারাপ হত, বাবাও তেমনি বাইরে গিয়ে ছেলেকে খুব মিস করত। দুজনে কেউ কারো কাছে থাকে না ঠিকই তবু এখানে থাকলে একটু দেখা তো হয়। ওইটুকু সম্বল করেই গড়ে উঠেছে ওদের ভালবাসার সাঁকো। দেশে এলে তন্ময়ের সাথে আমার মাঝে মাঝে গল্প গুজব হত। নিজের চাওয়া পাওয়া আর না পাওয়া গুলো আমার সাথে শেয়ার করত। এগুলো শোনার মত তেমন আপনজন তো ওর কেউ ছিল না তাই আমাকে বলে মন হাল্কা করত। ... ...

"কিছুটা পুড়েছি আমি মাঝপথে ডোম গেছে চা খেতে ফিরে এসে হাঁটু আর খুলিটা ফাটালে বাকিটা সহজ হবে। ভয় করে, এই ফাঁকে বৃষ্টি এসে যায় যদি? সন্ধ্যের মুখে এই আধপোড়া দেহ ফের ভিজে গেলে আবার প্রথম থেকে শুরু হবে সব! এত দীর্ঘ দহন তামসিক নয়?" ... ...

অনুব্রত মণ্ডল ছিলেন বীরভূমের বেতাজ বাদশা। বিখ্যাত উক্তি চড়াম-চড়াম। নরমে গরমে বীরভূমকে কার্যত বিরোধীশূন্য করে ছেড়েছিলেন। রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে বলেছিলেন। খুব হইচই হয়েছিল সে সময়। খুনের চেষ্টার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। শঙ্খ ঘোষ লিখেছিলেন, "খড়্গ হাতে দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন।" অনুব্রত আবার বলেছিলেন, কে এই কবি? সেই নিয়ে প্রচুর লেখালিখি। এই অধমও লিখেছিল কিছু। তারপর এলো ইডি-সিবিআই যুগ। গরু পাচারের দায়ে গ্রেপ্তার করা হল অনুব্রতকে। নতুন আইনের বলে। যাতে কোনো প্রমাণ লাগেনা। মিডিয়া হইচই করে লাফালেও আমি বলেছিলাম, সারা ভারতের মতো এটাও সম্পূর্ণ 'ফাঁসানো'র কেস। তার উপর গরু পাচার, সাম্প্রদায়িকতার তকমা লাগানো একদম। গুন্ডামি-জবরদখল, সবকটা ঠিক, তার বিরুদ্ধে জনসমাজে হইচই ফেলাও উচিত, কিন্তু এটা একেবারেই সেই কেস না। এর বিরোধিতা করা প্রয়োজন। তাতে অনেকেই খুব রেগে গিয়েছিলেন। মনীশ, কেজরি, প্রবীর সব কেসেই এজেন্সি ক্ষমতার অপব্যবহার করে খালি অনুব্রতর কেসে নয়, এই ছিল বক্তব্য। ... ...

তো এহেন লাদাখ আমার স্বপ্নের গন্তব্য হয়ে আছে সেই ১৯৯৮ সাল থেকেই। সেই সময় ম্যাকলিয়ডগঞ্জে বেড়াতে গিয়ে দালাই লামার বক্তব্যে লাদাখের কথা প্রথম শুনি। তারপরে তো নানা বইপত্র ইত্যাদি। কার্গিলযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে কার্গিল ওয়্যার মেমোরিয়াল ইত্যাদিও হয়ে দাঁড়ায় পর্যটনস্থল। শ্রীনগর থেকে সড়কপথে লেহ গিয়ে লাদাখের অন্যান্য অংশ ঘুরে পরে মানালি হয়ে ফিরলে প্রায় পুরো সার্কিট ঘোরা যায়। তাছাড়া অ্যাক্লিমেটাইজেশানও বেশ ভালভাবে হয়। আকাশপথে সরাসরি লেহ গিয়ে নামলে সেটা হয় না। সেক্ষেত্রে লেহতে অন্তত দুইদিন থেকে ফুসফুসকে কম অক্সিজেনে কাজ চালাতে শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে হয় আর কি। লাদাখ এমনিতে বেশ ব্যায়বহুল জায়গা, গাড়িভাড়া যথেষ্ট বেশী। আর গণপরিবহন প্রায় নেইই বলতে গেলে। ফলে সোলো ট্রিপ খুবই খরচসাপেক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। খুব বড় গ্রুপের সাথে যাওয়াও খুব একটা সুবিধেজনক হবে না। বিশেষ করে আমার যে সব ব্যপারে আগ্রহ, সেরকম গ্রুপ ট্যুরে পাওয়া সহজ নয়। তো অরুণাচল ট্রিপে আলাপ হওয়া সমরেশ হালদার-দাদার সাথে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল কীভাবে টেম্পো ট্রাভেলার কাটিয়ে ইনোভা বা জাইলো্ জাতীয় ছোট গাড়িতে ভ্রমণটা করা যায়। সেই সূত্রেই রূপম মুখার্জিকে বলা (ইনিই অরূণাচল ট্রিপ অ্যারেঞ্জ করেছিলেন), এবং উনি একটা ট্যুর প্ল্যান দিলেনও। আমি তাতে হানলে যোগ করতে বলায় রাজীও হলেন। সমরেশদা বৌদির যাওয়ার উপযুক্ত সময় ধরে ঠিক হল আগস্টের শেষে রওনা হব, শ্রীনগর পৌঁছে সেখান থেকে যাত্রা শুরু। আমরা তো যাওয়া আসার টিকিট কেটে তৈরী। একটা ছোট সমস্যা যা দেখলাম হানলে ঢোকানোর পরে ১২ রাত ১৩ দিনের বিস্তারিত প্ল্যানটা আর পাওয়াই গেল না। প্রচুর ফলোয়াপের পরে খুবই স্কেচি একটা আউটলাইন পাওয়া গিয়েছিল যাত্রার দুই তিনদিন আগে, তো সেটা তখন তেমন সমস্যাজনক মনে হয় নি। পরে গিয়ে বুঝেছিলাম মুশকিলটা কোথায় হয়েছে। তো যাক সে কথা আপাতত, যথাস্থানে বলবো। পরিকল্পনামাফিক ২৮শে আগস্ট দুপুরে কলকাতা থেকে শ্রীনগরগামী বিমানে চেপে বসা গেল। বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ শ্রীনগর পৌঁছে দেখি ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছে। পছন্দ করে ডানদিকের জানলায় সিট নিয়েছিলাম, কিন্তু হায় পুরো হিমালয়ান রেঞ্জই পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘের আড়ালে লুকিয়ে রইলো। হোটেল যাওয়ার পথে সারথি জানালেন গতকাল অর্থাৎ ২৭ অবধি তীব্র গরম ছিল, আজই সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আমরা মনোরম আবহাওয়া পাবো। আমাদের গন্তব্য হোটেল বেলমন্ট। এমনিতে ভালই, খাওয়াদাওয়াও মন্দ নয়। ... ...

--আবার আসিস মা, আমাদের একেবারে বাতিল করে দিস না। আর পারলে তনুটাকেও ওর মা বাবার কথাটা একটু মনে করিয়ে দিস।... চোখের জলে ভাসতে ভাসতে মামি অতি কষ্টে কথাগুলো বলল। পাশেই মামা দাঁড়িয়ে, তারও চোখের কোনায় জল। বাইরে বেরিয়ে অমিত বলল, “এই মানুষগুলো সম্পর্কে তুমি কত খারাপ খারাপ কথা বলছিলে!” --মানুষগুলো নয়, আমি যা খারাপ কথা বলেছি তা সবই আমার মামাকে উদ্দেশ্য করে। তুমি বাল্মীকি কে দেখলে, আমি দেখেছি রত্নাকরকে। মানসিকভাবে রিক্ত হয়েই ওনার আজ এই পরিবর্তন। ... ...

অভিজিৎ মণ্ডল এবং সন্দীপ ঘোষকে কাল আবার তোলা হয় আদালতে। তাঁরা জামিন পাননি। শুনানির বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়নি। যা পাওয় গেছে সেটা খুবই কৌতুহলোদ্দীপক। মোটামুটি এইঃ আদালতঃ এই মামলায় দু’টি দিক আছে। ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় সহ-যড়যন্ত্রকারী? না কি সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাটের সহ-ষড়যন্ত্রকারী? এমন কোনও প্রমাণ আছে? অভিযুক্তেরা কোনও অ্যালিবাই দিচ্ছেন? সিবিআইঃ হ্যাঁ, দিচ্ছেন। সিবিআইঃ টালা থানার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, উনি (অভিজিৎ মণ্ডল) ঘটনার দিন, অর্থাৎ ৯ অগস্ট সকাল ১০টার সময় থানায় ছিলেন না। কোথায় ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আদালতঃ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার আগাম খবর কি সন্দীপ ঘোষদের কাছে ছিল? সিবিআইঃ এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে ব্যাপারটা উড়িয়ে দেওয়া যায়না। ... ...

আসলে, কোহেন-কে নিয়ে কোনো লেখার-ই শেষ, শুরু কিছুই থাকার কথা নয়, এই লেখাটাও সেই অর্থে শুরু বা শেষ কোনোটাই হয় নি। ধরে নিন একটা লম্বা রোড-ট্রিপ, পুরোনো ক্যাসেট-প্লেয়ারে কোহেন ভেসে আসছেন আর বাঁক ঘুরলেই বাড়ি। আপনাকে এবার থামতেই হবে, কিন্তু গানটুকু শেষ না হওয়া অব্দি ইঞ্জিন বন্ধ করতে ইচ্ছে করছে না। এই লেখাটুকু সেই পৌঁছনো আর না-পৌঁছনোর মাঝে চুরি করে নেওয়া একটা মিনিট। আর কিছু নয়। ... ...

কলতান দাশগুপ্ত দীর্ঘ শুনানির পর হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন। বিচারক রায়ে বেশ কটি কারণ দেখিয়েছেন। মোটামুটি ভাবে এই, যে, গ্রেপ্তারটি পদ্ধতিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। সর্বোচ্চ সাত বছরের কম সাজা হতে পারে, এরকম মামলায় জামিন দেওয়াই বৈধ। এছাড়াও অভিযুক্তের কোনো অপরাধমূলক অতীত নেই। কাউকে হুমকি দেবার আশঙ্কা নেই, কারণ অভিযোগকারী পুলিশ। পালিয়ে যাবার আশঙ্কা নেই, কারণ তিনি একটি পত্রিকার সম্পাদক। এরকম অনেকগুলি কারণ দেখানো হয়েছে। শেষে বলা হয়েছে, "বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এবং পুনরুদ্ধার করতে এফআইআরে নাম উল্লেখিত অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দেওয়া উচিত।" কৌতুহলোদ্দীপক ব্যাপার হল, সঞ্জীব ওই একই অভিযোগে জামিন পাননি। কেউ তাঁর হয়ে বোধহয় সওয়ালও করেননি, বিচারকও মাথায় রাখেননি। আরও কৌতুহলোদ্দীপক ব্যাপার হল, কলতানের উকিলরা অডিওটেপ যে বানানো, বলেননি। শুধু বলেছেন, ওটা কলতান বা সঞ্জীবের রেকর্ড করা নয়। সরকারপক্ষের উকিল বলেছেন, কলতান স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন এবং তাঁর কল লিস্ট যাচাই করেই এগোনো হয়েছে। এটারও কেউ বিরুদ্ধতা করেননি। ... ...

আর এই দৃষ্টিকোন থেকেই সম্ভবত ইসলাম-পূর্ববর্তী আরব উপদ্বীপের ভাষাগত পরিস্থিতির উপর পশ্চিমা আরব-তাত্ত্বিকদের মতামতে বড় ধরণের গরমিল দেখা যায়। অধিকাংশ পশ্চিমা আরব-তাত্ত্বিকদের মতে, জাহিলিয়ার অন্ধকার যুগে গোত্রগুলোর দৈনন্দিন কথ্যভাষার সাথে কোরান ও কাব্যসাহিত্যের ভাষার একটি প্রণিধানযোগ্য পার্থক্য ছিল। পরবর্তী ধরণটিকে সাধারণত আখ্যায়িত করা হত ইসলাম-পরবর্তী উপভাষা বা ‘পোয়েটিকো-কোরানিক কোইন’ হিসেবে। আর আরব সম্প্রদায়গুলোর মুখের কথ্যভাষাকে ফেলা হত ‘ইসলাম পূর্ববর্তী’ উপভাষার শ্রেণীতে। আর উপরোক্ত তাত্ত্বিকদের ভাষ্য অনুসারে, এই কণ্ঠ নিঃসৃত উপভাষাগুলো ইতিমধ্যেই হারাতে শুরু করেছিল ধ্রুপদী আরবীর অল্পস্বল্প বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে, কারক সমাপ্তির মত বিষয়গুলোতে। ... ...

"মানুষের গায়ে কি ম্যাচিওরিটির গন্ধ থাকে ডাক্তার?” নাহ, লোকটার নেশা হয়ে গেছে। ম্যাডাম যে কখন আসবেন, ভাবল ইন্দ্রনীল। বলল, “গায়ে গন্ধ না থাকলেও কাজে কর্মে অভিজ্ঞতার ছাপ তো পড়েই।” অরুণাভ একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলল। “আমার কাজে পড়ে না ডাক্তার, ১২ বছর পরেও। আমি শুধু অফিস বুঝি, আর বই বুঝি। আমার বউ বলে আমি নাকি বই-এর পাতায় মুখ গুঁজে থাকি, সংসার দেখি না, সংসারের কিছু ভাবি না।” “অভিযোগটা সত্যি?” এইবার উল্টো জেরা করার সুযোগ পেল ইন্দ্রনীল। ইন্দ্রর অরুণাভ কথা খেয়াল করল বলে মনে হয় না। বলে চলল সে, “বই আর বউ-এর মধ্যে সাধারনত বনে না। তবে তাদের মিলও আছে। হাত ছাড়া হলে কোনটাকেই আর পাওয়া যায় না।” ইন্দ্রনীল জিজ্ঞাসা করল, “বই হাত ছাড়া হয়েছে কখনও আপনার?” অরুণাভ বলল, “হ্যাঁ... হয়েছে তো... আমার বই, তোমার বউ…। হা হা করে হেসে উঠল অরুণাভ, তারপর হঠাৎ থেমে গিয়ে বলল, “সরি, ভেরি সরি।” ... ...

যেন অমিত, সত্তর দশকে আমার সমসাময়িক পরিচিত দুজন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রকে সেই সময়ের উত্তাল বামপন্থী আন্দোলনের শরিক হয়ে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতায় শামিল হতে দেখেছিলাম। তাদেরকে অনুসরণ করে আরো অনেক সাধারণ ছাত্র ছাত্রী যোগ দিয়েছিল সেই আন্দোলনে। আজ তাদের একজন বুর্জোয়া শিক্ষা ব্যবস্থার একটি নামি প্রতিষ্ঠানে প্রথিতযশা অধ্যাপক। ঘরণীও এসেছে এক উচ্চবিত্ত ঘর থেকে। আর অপরজন এক নামি তথাকথিত বুর্জোয়া সংবাদপত্রের উচ্চপদ অলংকৃত করে রয়েছে। এঁরা এখনও বক্তব্য রাখেন, ওজনদার লেখালিখি করেন। যে ব্যবস্থা নির্মূল করতে একসময় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন আজ আয়েশ করে বসে আছেন তারই সিংহাসনে। ... ...

পা চাটা শব্দটা দিয়ে একটা সর্বজনীন নিকৃষ্ট মানের চাটুকারদের চিহ্নিত করা যেত। একটা হীনমানের মনোবৃত্তিকে চিহ্নিত করা যেত। তার ভেতরে পৃথক কোন দল গোষ্ঠী সম্প্রদায় বোঝাতো না। ধরুন পা চাটা বললে সিদ্ধার্থ শংকরের পা চাটা হতে পারে, আবার জ্যোতি বসুর পা চাটা হতে পারে, দুইই। ধরুন না, দেবকান্ত বড়ুয়া যখন বলেন "ইন্ডিয়া ইজ ইন্দিরা এন্ড ইন্দিরা ইজ ইন্ডিয়া" এটা পা চাটার একটা নমুনা বলা যায়। কিন্তু পা চাটা শব্দটা নিজে দেবকান্ত বড়ুয়া বা ইন্দিরা গান্ধী এদের নির্দিষ্ট করে না। আবার যখন সম্বিত পাত্র বলেন "জগন্নাথ দেব নিজেই নরেন্দ্র মোদির ভক্ত" কেউতো পা চাটলো। কিন্তু পা চাটা শব্দটা নিজে এখানে সম্বিত বা মোদি কে নির্দিষ্ট করে না। সেই বিচারে চটি চাটা শব্দটা অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট। আপনি বলতেই পারেন তর্কের খাতিরে বুদ্ধদেব বাবুও চটি পড়তেন। তবে কি চটি চাটা বলতে অন্ধ সিপিএম ভক্তকে বোঝায়? নিশ্চয়ই না, বোঝায় না। ... ...

সুপ্রিম কোর্ট এবং শিয়ালদা কোর্ট, সব মিলিয়ে দেখলে নানারকম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এখনও একজনই অভিযুক্ত, তিনি যে নন কেউ বলছেনা। প্রমাণ লোপাটে জড়িত যাঁরা, তাঁদের সংগ্রহ করা প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার সেই অভিযুক্ত। তাহলে লোপাট হল কী? এই নিয়ে নানা জল্পনা বাজারে চলছে। সেসব এখানে উল্লেখ করা হলনা, তবে আন্দাজ করা যায়, হয় ভয়াবহতম কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা একেবারেই প্রকাশ করা যাচ্ছেনা, তেমন হলে সেটা প্রশাসনের ভিত নাড়িয়ে দেবে। অথবা এজেন্সি পরস্পরবিরোধী কথা বলছে, যেটা হলে এজেন্সির বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে ঠেকবে। কোনটা জানার কোনো উপায় নেই। কারণ কোনো আপডেট নেই। ... ...

বিদিশাকে হারিয়ে আমার প্রায় উন্মাদের অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। কোন কিছুই ভাল লাগত না। এই সমস্ত কিছুর জন্য আমি দায়ী, শুধুমাত্র আমি, আর কেউ নয়। পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ বিদিশা আমায় দিয়েছিল কিন্তু সাহস করে এগোতে পারিনি। বিদিশা ঠিকই বলেছে, আমি একটা মেরুদণ্ডহীন কাপুরুষ। তা না হলে যে মেয়েটাকে অন্তর দিয়ে ভালবাসি তার বিপদের সময় ওভাবে কেউ গুটিয়ে থাকতে পারে না। আর সব থেকে বড় কথা তাকে সেই বিপদে ফেলেছি আমি। বাবা ওর সাথে যে ব্যবহার করেছে বাবার মত মানুষের কাছে ওই পরিস্থিতিতে সেটাই প্রত্যাশিত। বাবার কাছে ওর থেকে ভাল কিছু আশা করা যায় না। মাও বাবার সিদ্ধান্তের কাছে চিরকালের মত অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছিল। ... ...

এই পর্যায়ে এইরকম অদ্ভুত শুনানি আমি শুনিনি। স্ট্রিমিং শুরু হয় দেরিতে, বিভিন্ন জায়গায় নানা টুকরো। শুনে, জুড়ে টুড়ে হয়তো করা যেত, কিন্তু অতটা চাপ নিলে অনেকদিন লাগবে, তাই লাইভ-ল এর উপরেই ভরসা করতে হল। তারা যদি এক আধটা কথা বাদ দিয়ে থাকে, তো সেটা অনুবাদেও নেই। দ্বিতীয় আরেকটা কথা না বললেই নয়, যে, এটা শুনতে, পড়তে এবং অনুবাদ করতে গিয়ে কীকরকম নেটফ্লিক্সের ওয়েব-সিরিজের কথা মনে হচ্ছিল। নির্যাতিতার বাবার চিঠি, তদন্তের কিছু গভীর ব্যাপার, যা কিছুতেই প্রকাশ করা যাবেনা, কিন্তু তার অদ্ভুত সব ইঙ্গিত দেওয়া হবে, যা থেকে সবরকম মানে করা যায়। জল্পনা, সূত্র কোনোকিছুরই কোনো আদি বা অন্ত নেই, সেটাকেই বস্তুত ধোঁয়া দেওয়া হল, এবং নানা জল্পনা আবার ছড়িয়েও পড়েছে। সিবিআই আজ অবধি কোনো আপডেট দেয়নি। কোর্টেও তদন্ত নিয়ে স্রেফ অদ্ভুত সব ইঙ্গিত, ঠিক যেন পরের এপিসোড পর্যন্ত আগ্রহ জিইয়ে রাখার জন্য। ... ...


আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ভু রাজনীতি এগুলা নিয়ে নানা সময় নানা মন্তব্য করে ফেলি। আসলে তো এর বিন্দু বিসর্গও বুঝি না আমি। কী থেক কী হচ্ছে আল্লা মালুম। ডক্টর ইউনুসকে এক দাগে খারাপ মানুষ বলে দেওয়া সম্ভব না। আমিও বলতে চাই না। কিন্তু তিনি এমন সব কাজ করছেন যার হিসাব ভালো মানুষের খাতায় নাই। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। কে এই তাইজুল ইসলাম? আর এইটা কোন ট্রাইব্যুনাল? একটু চিন্তা করেন! এইটা হচ্ছে সেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেখানে সমস্ত রাজাকারদের বিচার করা হয়েছে। এখন এই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ বাকি যাদের নামে মামলা হয়েছে, হয়ত জাফর ইকবাল, শাহরিয়ার কবিরদেরও এই ট্রাইব্যুনালেই বিচার হবে। মজাটা হচ্ছে কেই তাজুল ইসলাম প্রশ্নে! এই একই ট্রাইব্যুনালে রাজাকারদের বিচার চলার সময় এই উকিল জামাতের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন! মনে হচ্ছে না এইটা একটা প্রতিশোধের মঞ্চ বানানো হচ্ছে? মনে হচ্ছে না নোবেল জয়ই মানুষটার অন্তর তীব্র ঘৃণায় পূর্ণ? তিনি পিষে মারতে চাচ্ছেন প্রতিপক্ষকে? এতে যদি দেশ, জাতি, মুক্তিযুদ্ধের সাথেও আপোষ করতে হয় তার সেই আপোষে কোন দ্বিধা নেই! আর এইটা বুঝার পরেও তার মহানুবতা নিয়ে কথা বলতে হবে? বলতে হবে আরে তিনি জ্ঞানী মানুষ, ঠিক সব লাইনে এনে ফেলবে! লাইন চ্যুত করার সমস্ত ব্যবস্থা করে সব লাইনে চলবে আশা করা কে কী বলব? আম গাছ লাগিয়ে আনারস পাওয়ার আশা? ... ...

সকাল থেকেই কুনাল ঘোষ এবং দেবাংশু ভট্টাচার্যের একটি অবমাননাকর আলাপ নিয়ে ইন্টারনেট তোলপাড়। এক অভিনেত্রী এবং আন্দোলনকারীর ছবি বা ভিডিও দিয়ে ( জানা মুশকিল, কারণ পোস্ট মুছে দেওয়া হয়েছে) কুনাল দেবাংশুকে জিজ্ঞাসা করেন, পাত্রী হিসেবে কেমন? দেবাংশু লেখেন, দজ্জাল, কাজ নেই, বদন বিগড়ে গেছে, ইত্যাদি। কী কারণে এই রসালাপ? কুনাল দাবী করেন, পরে মিলিয়েও দেখা গেছে, ওই অভিনেত্রী একটি চ্যানেলে অন ক্যামেরা এই দুজনকে গালিগালাজ করেন। দেবাংশুকে বলেন 'কালিঘাটের কুলি'। কুনাল এবং দেবাংশুকে গণধোলাই দিলে কে বাঁচায় তিনি দেখবেন। এবং ডাক্তারদেরও চিকিৎসা করতে বারণ করেন। এই বক্তব্যটা নিয়ে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ... ...