

বীরদের মিছিল আসছে। তাদের যে গপ্পোটা প্রথম থেকেই বিপুলভাবে ছড়ানো হচ্ছে হোয়াটস্যাপ এবং অন্যান্য সমাজমাধ্যমে, নিশ্চয়ই প্রায় সবাই পড়েছেন। হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটির বয়ান অনুযায়ী, ঘটনাটা কোনো একজন একা ঘটায়নি। ঘটানো সম্ভব না। খুনের আগে নিঃসন্দেহে হয়েছে গণধর্ষণ।যারা করেছে, তাদের মধ্যে আরজিকরের অধ্যক্ষ ছিলেন। তা ছাড়া, যারা সঙ্গে ছিল সবাই সংখ্যালঘু। একজন ছাড়া, যাকে তৃণমূল-নেতার ছেলে ভাবা হয়েছিল। এবং গল্পে আছে একটি মেয়েও, সেও সংখ্যালঘু, যে নাকি নির্যাতিতার বেস্ট ফ্রেন্ড, এবং পুরোটা চলার সময়, সে নির্যাতিতার হাত চেপে ধরে ছিল। ... ...

গতকালের সেরা চমক পেয়েছি টুইটারে! আমাকে একজন একটা স্ক্রিনশট দেখাল। ইউএস নেভাল ইনিস্টিটিউট নামের একটা একাউন্ট থেকে গত ২২ আগস্ট একটা টুইট করা হয়েছে। তাতে লেখা "Bangladesh could be an important security partner for the United States, with desirable facilities on the Bay of Bengal and an interest in a free and open Indo-Pacific." এর পরে তাদের ওয়েবসাইটের একটা প্রতিবেদনের লিংক দিয়েছে। আমি এইটা সত্য না মিথ্যা তা দেখার জন্য টুইটারে ঢুকলাম। ঢুকে নিশ্চিত হলাম যে না এইটা যা দেখছি তা সত্যই দেখছি। প্রতিবেদনটাও পড়লাম। নানা বিষয় আলোচনা করেছে সেখানে। কেন আমেরিকার একটা নৌ বাহিনীর ঘাটি বঙ্গোপসাগরে দরকার! এখানে একটা জাহাজ তৈরির শিল্প তৈরি হয়েছে, এইটাও তাদের কাজে লাগবে! জাহাজ মেরামত করা কাজে লাগবে। বাংলাদেশ নৌ বাহিনী আর ইউএস নৌ বাহিনী মিলে এই অঞ্চলে কত দারুণ সব কাজ করা সম্ভব তাও লিখেছে! দারুণ না? এইটা দেখেই মনে হল “এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে! ... ...

১৯৭৭ সাল। সকাল সকাল ইন্দোরের মহারানী ঊষারাজে ট্রাস্ট ক্রিকেট গ্রাউন্ড( অধুনা হোলকার স্টেডিয়াম)-এ ইন্ডিয়া ট্যুরে আসা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব( এম.সি.সি) আর বম্বে দলের মধ্যে শুরু হয়েছে ক্রিকেট ম্যাচ। রেডিওয় খেলার ধারাবিবরনী শোনার জন্য শত ব্যস্ততার মধ্যেও কান পেয়েছেন শহরের জনতা। কিন্তু এ কী! চেনা সব পুরুষ কন্ঠের পাশাপাশি খেলার প্রতিটি বল- প্রতিটি ব্যাটিং স্ট্রোক আর ফিল্ডিংয়ের প্রতিটি মুভমেন্টের ধারাভাষ্য দিচ্ছেন এক মহিলা কন্ঠ! শ্রোতারা অবাক হয়ে জানলেন কখনও হিন্দি আর কখনও বা চোস্ত ইংরেজিতে খেলার এমন অনায়াস ধারাবিবরণী দিয়ে চলা এই মহিলা ধারাভাষ্যকারের নাম চন্দ্রা নাইডু। ... ...


এই পরিস্থিতির মতো গল্প শুনলাম আজকে আরেকটা। কয়েকদিন আগের ঘটনা। সেই কুৎসিত রাতের গল্প। যখন সমস্ত বাংলাদেশ এক সাথে কালি গোলা অন্ধকারে ডুবে গেছিল। তিনি নিজের মা বোনকে অন্য বাড়িতে পাঠিয়ে নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। এলাকার বিএনপির নেতারা এসে অভয় দিচ্ছেন, কে কইছে আগুন দিব তোমাদের বাড়িতে? ডরাইতেছ কেন? যত এগুলা বলে তত ভয় আরও বাড়ে! কী অদ্ভুত সময়! এদিকে উনাদের নিচ তালায় ভাড়াটিয়া থাকে, তারা এসে জিজ্ঞাস করছে, এখন কী করব? আমরা বের হয়ে যাব? কই যাব? কী উত্তর দিবেন তিনি? উনি আমাকে বললেন, একটা শব্দও মুখ দিয়ে বের হল না। আমি হেঁটে হেঁটে চলে গেলাম ওইখান থেকে। ঘরে ঢুকলেন। আমার মতোই তিনিও ভাবলেন বই গুলার কথা। একটা একটা করে বই স্পর্শ করছেন আর ভাবছেন এইটা সরায় রাখব? এইটা নিয়ে রাখব? বইয়ের মাঝে টাকা রাখছেন কি মনে করে কে জানে। ওগুলা হাতে নিলেন। টাকা পকেটে রাখব? বই পুড়লে, বাড়ি পুড়লে এই টাকার কথা ভেবে লাভ আছে? অল্প কিছু টাকা, ওইটা আবার রেখে দিলেন বইয়ের মধ্যেই। জিনিসপত্র দেখলেন, হাতালেন। কী করবেন তখন? অথচ একটা হিড়িক উঠলেই এই বাড়ি যে পুড়া হবে তা নিশ্চিত! কী করার আছে একজনের এই সময়ে? উনার পরিচিত যে কয়জন আছে তারা সাথে আসলেন। কিন্তু তাদের চোখ মুখও শুকিয়ে গেছে। সাহস দেওয়ার সাহসও নাই কারও। এর মধ্যে উনার বাবা বাসায় আসলেন। তিনি তার বাবাকে বললেন, তুমি ওদের সাথে চলে যাইতা? উনার বাবা বললেন, না, আমি বাড়িতেই থাকব, যদি আগুন দেয় তাইলে এইখানেই মরমু! বলে কোরান শরিফ নিয়ে পড়তে লাগলেন! টানা ছয় সাতদিন তাদের এমন করেই গেছে। ঘুম নাই, রাতের পর রাত জেগে জেগে পাহারা দিয়ে পার করেছেন তারা। অথচ এরা রাজনৈতিক পরিবারের কেউ না। শহরের মধ্যে অর্থ সম্পদ আছে, সচ্ছল একটা পরিবার। এবং এইটাই বড় অপরাধ! ... ...

চির চেনা প্যারিসের অন্য রূপ মনে রেখে দেবো। ভোরের আলোয় আইফেল টাওয়ারের সাময়িক স্টেডিয়াম ঘিরে ৩৫ কিলো মিটার পথ চলার প্রতিযোগিতা – রেলিঙের পাশে সারা পৃথিবীর মানুষের মুখ! এতো রকমের এতো রঙের যে পতাকা আছে ! মায়ের কোলে বসে স্প্যানিশ পতাকা হাতে শিশু, জানলা দিয়ে বিশাল ফরাসি পতাকা দোলাচ্ছেন এক মহিলা, সবার শেষে যে স্লোভাক চলা শেষ করলেন তাঁকে সম্বর্ধনা জানালেন হাজার মানুষ। স্টেডিয়ামের ভেতরে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে গলা মিলিয়ে সমবেত জনতা গাইছেন- লা মারসেইস, অকস্মাৎ অজস্র আইরিশ কণ্ঠে বাজে ওরান না ভিঅন – সৈনিকের গান, ও কানাডা, আইনিগকাইট উনড রেখট উনড ফ্রাইহাইট, অ্যাডভানস অস্ট্রেলিয়া ফেয়ার ! হার বা জিত যাই হোক না কেন, আপন পতাকা গায়ে জড়িয়ে চলে নানান দেশের মানুষের মিছিল। পথে শুনি সারা ইউরোপের, বাকি পৃথিবীর চেনা অচেনা ভাষা। এই প্যারিস আজ আমাদের। ... ...

লেকি চলে যাওয়ার পর, আমি দরজি’র দিকে ফিরলাম, “এটা কি বেশ অদ্ভুত একটা ব্যাপার না? লেকি’র পক্ষে এটা কি করে না জেনে থাকা সম্ভব? তার বন্ধুটি কোথায় আছে, কি করছে – সে কিছুই জানবে না? লেকির কথাটা, মানে, স্যানগে যে লেকির সাথে কোন সাথে যোগাযোগই করছে না – সত্যি হলে কিন্তু ভয়ের যথেষ্ট কারণ রয়েছে … এই এত বড় শহরে যেকোন কিছু ঘটতে পারে স্যানগে’র সাথে, ” আমি বললাম টিভি সংবাদে আসা নিখোঁজ মহিলাদের দুর্ভাগ্যজনক কাহিনীগুলোকে মাথায় রেখে। দরজিকে খুব একটা বিচলিত মনে হল না, বরং সে মনে হয় আমার এই উদ্বেগে এক প্রকার আমোদই অনুভব করল। “তুমি খুব বেশী টিভি দেখছো ইদানিং” সে বলল। ... ...


অরুণিমা বলে চলে, “দেখ দাদা, আমার ইমোশন টিমোশন নেই। ডিভোর্সের পর থেকে বোধ হয় আরও কাঠখোট্টা হয়ে গেছি। তাই যা বলছি, সেটা শুনতে খারাপ লাগতে পারে। বৌদিকে জন্মদিনে সারপ্রাইজ দেওয়াটা ভাল। আগে কোনও দিন দিয়েছিস বলে তো মনে হয় না। তবে তার চেয়ে অনেক ভাল গিফট হবে ওর আর রঙিনের ভবিষ্যতের জন্য কিছু একটা করে যাওয়া। তোর তো যে কোন দিনই কিছু হয়ে যেতে পারে।” অরুণাভ গম্ভীর ভাবে শুনতে থাকে, চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে এক টুকরো কেক তুলে নেয়। বিনীতা বলে, “সকাল সকাল এসব আলোচনা না করলেই নয়?” ... ...

আদালতে ঠিক কী হয়েছে, এই নিয়ে নানা মাধ্যমে নানা জল্পনা চলছে। পুরোটা নিজেই পড়ে নিন। ট্রানস্ক্রিপ্টের অনুবাদ করা হয়েছে এআই দিয়ে। অনুবাদ আড়ষ্ট হতে পারে, ছোটোখাটো ভুলভ্রান্তিও থাকতে পারে, কিন্তু ব্যাপারটা মোটামুটি এই রকমই। একটু কষ্ট হলেও পড়ে নিয়ে মতামত তৈরি করুন। ... ...

সুমন দে বলেছেন ২০২২ স্বাস্থ্যরত্ন তাঁরা দিয়েছেন আরজিকর প্রতিষ্ঠানকে, ব্যক্তি সন্দীপ ঘোষকে না। ঠিক কথা। ব্যক্তি আর প্রতিষ্ঠানের তফাত আমরা জানি। প্রতিবার এক্সিট পোলে এবিপি যে গোল্লা পায়, সেটা প্রতিষ্ঠানটা অপদার্থ বলে। ব্যক্তি সুমন দে নিশ্চয়ই হাতে বাক্স ধরে এক্সিট পোল করতে বেরোননা। তা, মানতে কোনো অসুবিধে নেই, প্রতিষ্ঠান হিসেবেই আরজিকর ২০২২ সালে ছিল একটি রত্ন, এশিয়ায় কত নম্বর একটা যেন। ... ...

অরাজকতা সীমা অতিক্রম করে ফেলছে। শুরুতে আমিও লিখেছিলাম সরকার গঠন করে ফেলল ছাত্রদের তো ডাকও দিল না! এইটা সম্ভবত এরা খুব করে খেয়াল করেছে। ফলাফল এখন ওরাই দেশ চালাবে বলে ঠিক করেছে। ছাত্ররা রাজু ভাস্কর্যের সামনে আগুন ঝরা বক্তব্য দিয়ে উপদেষ্টাদের মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করে ফেলছে, মানে তাদের কথায় পরিবর্তন হচ্ছে! ইতিহাস, সংস্কৃতি নিয়ে যা ইচ্ছা তা তো বলছেই, কেউ তো চ্যালেঞ্জ করছে না তাদের বক্তব্যকে! সর্বশেষ যা হল, ইন্টারমিডিয়েট পরিক্ষার্থীদের এক দল ছাত্র সচিবালয় মিছিল করে গেল। হুড়মুড় করে ঢুকে গেল সচিবালয়ে, সোজা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এক প্রকার গান পয়েন্টের মতো করে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে আসল! মানে একবার ভাবুন, ছাত্ররা চাচ্ছে পরীক্ষা দিব না, দিবেই না! এইটাই মানতে হবে। মব কালচার রীতিমত! টিভিতে একটা মেয়ে প্রায় কান্না করে দিচ্ছে পরীক্ষা হবে না শুনে। ও বলছে ওর মতো অনেকেরই স্বপ্ন ছিল মাধ্যমিকের পরে বাহিরের কোন ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার। এই ফলাফল তো কোন দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই মানবে না। তাদের স্বপ্ন তো শেষ। সামনেও তাদেরকে এই ফলাফলের জন্য ভুগতে হবে। এই যে তার অত্যন্ত যৌক্তিক একটা কথা, এইটা কেউ শোনার নাই। মহামান্যরা ছাত্রদের ভয়ে তারা যা বলছে তাই করছে। কেউ যুক্তি দেখাচ্ছে অনেক পরীক্ষার্থী হাসপাতালে আছে এখনও, তাদের কথা ভেবে হলেও এইটা নিয়ে আর তর্ক করার দরকার নাই! সব হাস্যকর কথা না? আরে কয়জন ছাত্র হাসপাতালে? কয় হাজার? তাদের জন্য আলাদা করে একটা ব্যবস্থা করা গেল না? লক্ষ লক্ষ ছাত্রদের এই বিপদে ফেলার মানে কী? ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ লাখ ২৮ হাজার ২৮১, এদের সবাইকে কেন আমি গড়ের বিপদে ফেলব? সারা জীবনের কান্না হয়ে থাকবে না এই ফলাফল? কে বলবে এই কথা? ... ...

দেশের জনগণের কিন্তু যথারীতি এগুলা নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা নাই। তারা বরাবরের মতোই আজগুবি সব গাল গপ্প নিয়ে ব্যস্ত আছে। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফাঁসির আদেশ থাকার পরেও ফাঁসি দিয়ে মারেন নাই, তিনি নিজেই জেলে ঢুকে বুকে উপরে পা দিয়ে গলায় কুরবানির চাকু দিয়ে জবাই করছে! এইটাও খাচ্ছে মানুষ! বিডিআর বিদ্রোহের সব দোষ শেখ হাসিনাকে দিয়ে শাস্তি চাচ্ছে কেউ কেউ। কেউ ব্যস্ত জাফর ইকবালের বই পুড়ানর কর্মসূচি নিয়ে। সারজিস নামের এক সমন্বয়ক সাংবাদিকদের সামনে বলেছে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে শুধু মাত্র অল্প কয়েকজন সেনা অফিসারের বিদ্রোহের কারণে এমন ঘটনা ঘটেনি। জনগণও এই হত্যাকাণ্ডের সমর্থক ছিল। সেদিনও স্বৈরাচারের পতন হয়েছিল। এদিকে গতকাল ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের অফিসে হামলা হয়েছে। এদের পত্রিকা হচ্ছে কালের কন্ঠ, বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর। কেন হামলা হচ্ছে? কে হামলা করছে? জবাব নাই। ... ...

এতদিনে সব্বাই নিশ্চয়ই সুবিধাজনকভাবে ভুলে গেছেন, যে, পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগদুর্নীতি নামক একটি বস্তু নিয়ে একদা সিবিআই তদন্ত করছিল। তার একমাত্র ফলাফল ছিল, না, দুর্নীতির পান্ডাদের শাস্তিদান নয়, কিছু শিক্ষকের চাকরি যাওয়া। সেটা এখনও সুপ্রিম কোর্টে ঝুলেই আছে। তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি, অনেক গরম-গরম কথা চালাচালি হয়ে গেছে। "গোপন সূত্র" থেকে অনেক কিছু বেরিয়েছে মিডিয়ায়। তাতেই শান্তি। দুর্নীতিগ্রস্তরা, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, যাদের আগাপাস্তালা শাস্তির প্রয়োজন ছিল, সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু তাতে কী। ... ...

একখানা কথা বললে আবার অনেকেই রেগে যাবেন, কিন্তু বলতেই হবে, যে, বাংলাদেশ নিয়ে খোয়াব দেখবেননা। পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপারটাই আলাদা। ওখানে প্রচুর রক্ত ঝরেছে, অন্তত ৬০০ মানুষ মারা গেছেন ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে, পরে কত কেউ জানেনা। ওটার পুনরাবৃত্তি হওয়া কাম্যও না। এছাড়া, এপারের অ্যাকটিভিস্টরা আন্দোলন বলতে কার্নিভাল বোঝেন, লাঠিতেই কাতর হয়ে পড়েন, দোষের কিছু নেই আমিও পড়তাম। কিন্তু রাষ্ট্রবিপ্লব করতে হলে গুলি-টুলি চলার কথা। তার চেয়েও বড় কথা হল, দখল করবেন টা কী। পশ্চিমবঙ্গ কোনো রাষ্ট্র না। দখল করতে হলে দিল্লি দখল করতে হবে। কলকাতা দখল করলে খুব বেশি হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে। আনন্দবাবুর শাসন হবে। ওই অবধিই। ... ...

১৯শে আগস্ট, ১৯৩৬, ভোরের আলো ফুটতে তখনো দেরী খানিকটা। গ্রানাদার ঠিক বাইরে যে মেঠো রাস্তাটা জুড়েছে ভিজনার আর আলফাকার শহর-কে, সেইখানে থামলো একটি গাড়ি – দরজা খুলে একে একে নেমে এলেন চারজন বন্দী আর পাঁচজন বন্দুকধারী সৈন্য। বন্দীদের দুজন নৈরাজ্যবাদী বুলফাইটার, একজন পক্ককেশ স্কুলশিক্ষক যাঁর একটি পা কাঠের, আর চতুর্থ ব্যক্তিটির পরণে একটি ব্লেজার আর শাদা পাজামা, অন্ধকার আন্দালুশিয়ান আকাশের নীচে উদ্যত মাউজার রাইফেল আর অ্যাস্ট্রা-৯০০ পিস্তলের নিশানার তাঁরা হেঁটে যাচ্ছেন আল পেরিয়ে একটি জমিতে, জলপাই গাছের সারি উজ্জ্বল ভাসমান হয়ে আছে ঘাতকদের গাড়ির তীব্র হেডলাইটের আলোয়। ওঁরা জানেন সেই রাত্রিটির শেষ নেই। ... ...


সরকারের সতেরো দফা দেখে আমি হুব্বা। পুরোটা না, দুখানা পয়েন্ট দেখে। ১। কোনোভাবেই মহিলাদের ১২ ঘন্টার বেশি শিফটে কাজ করানো যাবেনা। ২। যথাসম্ভব কম নাইট শিফট দেওয়া হবে। তার মানে পুংদের ১২ ঘন্টার বেশি এবং নাইট শিফট দেওয়া হবে, মহিলারা দুবলা বা আক্রমনের টার্গেট বলে দেওয়া হবেনা। আমার যদ্দূর ধারনা কোত্থাও মহিলারা এরকম তুতুপুতু দুধেভাতে ট্রিটমেন্ট চাননি। ei জন্য রাত দখল করতে চাননি। কর্মক্ষেত্রে সমানাধিকার এবং নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। আপনি কাজ করতে গেছেন একটা জায়গায়, হঠাৎ জানলেন পাশের কনফারেন্স রুমে একজনকে চুপচাপ বা সশব্দে খুন-ধর্ষণ করা হয়েছে, এর থেকে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়, শিরদাঁড়া দিয়ে যে ভয়ের স্রোত নেমে আসে, তার থেকে মুক্তি চেয়েছেন। একটা জনাকীর্ণ সরকারি হাসপাতালে যদি এ জিনিস ঘটতে পারে, তো আরও সর্বত্রই ঘটতে পারে, এই তো ভয়ের কারণ। এটা নির্জন পোড়ো ডক-ইয়ার্ড নয়, যে, চুপচাপ কেউ ছুরি চালিয়ে দিয়ে চলে গেল। এটা একটা সরকারি হাসপাতাল। কর্মক্ষেত্র। এবং তারপর যেটা ঘটেছে, সেটা তো আরও অকল্পনীয়। কোনো অফিসে কোনো দুর্ঘটনাতেই কোনো কর্মী মারা গেলে, কী হয় আমরা জানি। সবাই শঙ্কিত হয়ে থাকেন, বড়কর্তারা দৌড়ে আসেন। বাড়ির লোককে খবর দেওয়া হয়। সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হয়। এখানে তার কিছুই হয়নি। মরেছে তো মরেছে, রেপ হয়েছে তো হয়েছে, এবার জিনিসটা মিটলে বাঁচি, এরকম একটা ব্যাপার। তারপর সেই ব্যক্তিকে জামাই-আদর করা হয়েছে। এটা একটা সংগঠিত দুষ্টচক্রের ইঙ্গিত দেয়, যা ভয়ের অনুভূতিকে বাড়িয়েছে। অপরাধীর ফাঁসি হল না দ্বীপান্তর, সেটা অবান্তর। কিন্তু এই সর্বগ্রাসী আতঙ্কটাকে অ্যাড্রেস করা দরকার ছিল সরকারের। সেটা না করে, যেটা হল, সেটা নিরাপত্তার গ্যারান্টি না, "রাত্তিরে আসবেননা" এরকম একটা প্রেসক্রিপশন। নিরাপত্তার গ্যারান্টি না থাকলে এ তো দিনের বেলায়ও হতে পারে। তখন কী বলা হবে? বাড়ি থেকে চিকিৎসা করুন? ... ...

চাঁদাবাজি চলছে রমরমা অবস্থায়। সাধারণ দোকানপাটে ব্যবসা করতে এতদিন কাওকে চাঁদা দেওয়ার দরকার পড়ে নাই। এখন প্রায় সবাই চাঁদা দিচ্ছে। না করার সাহস নাই। শেরপুরের হিন্দুরা ভয়েই হোক, বিএনপি নেতাদের খুশি করার জন্যই হোক, সবাই মিলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের কাছে যাওয়ার জন্য এক হয়েছেন, বিষয়? এবার কি পূজা করবে তারা? এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য যাবেন নেতার কাছে! মেজাজ এত খারাপ হইছিল শুনে যে একবার মনে হল ইচ্ছামত গালি দেই, পরে মনে হল আসলে আমি কোনদিনই তাদের মনের অবস্থা বুঝতে পারব না। ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখলাম এবার দুর্গা পূজা হবে কি না তার সিদ্ধান্ত বিএনপির নেতার কাছ থেকেই নিয়ে আসা বেশ যুক্তিপূর্ণ! শেয়াল যদি মুরগি পাহারার দায়িত্ব নেয় তাহলে হয়ত একটু নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। তা আসলে কতখানি কার্যকর পন্থা তা নিয়ে প্রশ্ন অবশ্য তোলা যায়। কিন্তু এখন মনে হয় এইটাই সেরা পন্থা। ... ...