
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে ঝাড়গ্রাম থেকে ফেরার সময় ভাবছিলাম, এই প্রান্তিক জেলার সব মানুষের সমস্যা বা চাহিদাই কি আজ স্রেফ ব্যক্তিগত? যৌথ চাহিদা কিছু নেই? আমাদের সমস্যা বলে কি আর কিছুই নেই? যদি সত্যিই তাই হয়, তবে কিষেণজির মৃত্যুতেই কি শেষ এ রাজ্যে মাওয়িস্ট আন্দোলন? জানি না এই প্রশ্নের উত্তর মাওয়িস্ট শীর্ষ নেতৃত্ব জানেন কিনা। তবে নিশ্চিত জানি, এই প্রশ্নের উত্তর জানে একজন। সে ময়ূরঝর্ণা গ্রামের ধর্মাল মান্ডি। ... ...

রমেশ চন্দ্র দত্ত, সখারাম গনেশ দেউস্কর এর মত তখনকার অনেক বিশিষ্ট মানুষেরা নানান কারণে রেলকে স্বাগত জানাননি। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮৪২ সালে বিলেতে গিয়ে রেলে চড়ে মুগ্ধ হয়ে যান। রেলকে তাঁর মনে হয়েছিল—The greatest wonder of England। দেশে ফিরে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে তৈরি করলেন ‘The great western Bengal railway’ (GWBR)। কোলকাতা থেকে রাজমহল পর্যন্ত গঙ্গার ধার দিয়ে রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করলেন। ম্যাকডোনাল্ড স্টিফেনসনের ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি ছিল তাঁর প্রতিযোগী। ব্রিটেনের থেকে কোন সবুজ সংকেত না পাওয়ায় এবং ইউনিয়ান ব্যাঙ্ক(যার অধিকাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন দ্বারকানাথ) ফেল করে যাওয়ায় তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি জীবদ্দশায় নিজের দেশে রেল দেখে যেতে পারেননি কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূল হলে তাঁর সৌজন্যেই শুরু হত দেশের প্রথম রেল পরিষেবা। ... ...

সিঁড়ি দিয়ে উঠে ছাদের দরজা খুলল সে, বাইরে এল। ঠান্ডা রয়েছে ভাল, চাদরটা ভাল করে জড়িয়ে নিল। আকাশ ঘন নীল, পূর্ব দিকে আলো ফুটছে, আশেপাশের গাছগুলোকে দেখে মনে হচ্ছে তারাও বিনীতার চাদর গায়ে দিয়েছে, তবে তাদের চাদরগুলো কুয়াশা দিয়ে তৈরি। সেই চাদরের আড়াল থেকে পাখি ডাকছে নানা রকম, শহর থেকে দূরে হওয়ায় অনেক পাখির ডাক শোনা যায় এখানে - বুলবুল, ছাতারে, সাতভাই, মাঝে মাঝে কাঠঠোকরাও আসে দু-একটা। দরজার পাশে একটা লাল সিমেন্টের বেঞ্চ আছে দেওয়ালের গায়ে। কয়েকটা উড়ে আসা শুকনো শিরিষ আর শাল পাতা পড়ে আছে তার ওপর, ছাদেও। কয়েক পা হেঁটে প্যারাপেটের কাছে গিয়ে নিচে বাগানটা দেখল। টেবিল-চেয়ার রাখার জায়গা তৈরি হয়েছে, নতুন কিছু গাছও লেগেছে। ছাদের ধার থেকে ফিরে শুকনো শাল পাতার পাশে বেঞ্চের ওপর বসে পড়ল বিনীতা, পাতাটা হাতে তুলে ধরল, শিশির লেগে আছে তার গায়ে। রোদ উঠে গেলে শিশির আর থাকবে না। শিশির ভেজা শুকনো পাতাটাকে পাশে রেখে দিল সে। আকাশের দিকে তাকিয়ে বড় একটা শ্বাস নিল। ... ...

নতুন করে বাংলাদেশের ইতিহাস লিখছে শিক্ষার্থীরা। রাজপথে শিক্ষক পাঠ করছেন নবারুণ ভট্টাচার্য। সাংবাদিক, আইনজীবী, অভিভাবক, শিল্পী সমাজ জানাচ্ছেন সংহতি। পশ্চিম বংগ থেকে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়েছে শ্রাবণের মেঘ। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ফেটে পড়ছে শ্লোগানের স্প্লিন্টার 'আমাদের ধমনিতে শহীদের রক্ত, এই রক্ত কোনোদিন পরাভব মানে না!' ... ...

সরকার নড়বড়ে, ক্ষেত্র প্রস্তুত, কেউ কেন আসল না এখনও? সময়, পরিস্থিতিই বলে নেতা তৈরি করে। এরচেয়ে দুর্বল অবস্থায় সরকারকে আর কবে কে পাইছে? কেন আসছে না? সেই ঘুরেফিরে জামাতের ভূত ঘাড়ে নিয়ে সেই বিএনপি! পুলাপান বিএনপিকে নিয়ে ট্রল করছে, খালেদা জিয়াকে নিয়ে মজা নিচ্ছে। এর জবাবে দুই একটা পোস্ট দেখলাম। কেউ একজন বেশ গুছায়াই লিখছে যে তোমরা যে মজা নিচ্ছ তাহলে কে আসবে বল? আমাদের নিয়ে মজা নিয়ে তো সেই বিকল্প নাই তত্ত্বকেই সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করছ! ভালো একটা উদাহরণ দিয়েছে ওই লেখায়, লিখেছে সবাই বৃষ্টির জন্য দোয়া করছ অথচ আশা করছ বৃষ্টি হলে তা বিএনপি জামাতের গায়ে যেন না পড়ে! আমি ভেবে দেখলাম সঠিক কথাই বলেছে। দুইদিকেই মজা নিয়ে কই গিয়ে দাঁড়াতে চাচ্ছে? আকাশ থেকে নেমে আসবে কেউ এমন আশা করছে? জেন জি কি জানে এই দেশে আর্মি শাসন আর আসবে না? এইটা বৃষ্টির মতোই অবধারিত, বিকল্প হচ্ছে বিএনপি! তোমরা ট্রল কর আর যাই কর, এইটাই সত্য। ... ...

লেখক বুদ্ধদেব গুহ। কিছু স্মৃতি। কিছু উচ্চারণ ... ...

অষ্টমশ্রেণীতে সবচেয়ে বড় সমস্যা শুরু হল অঙ্ক নিয়ে। সপ্তম পর্যন্ত পাটীগণিত নিজে নিজেই পারতাম। পঞ্চম আর ষষ্ঠশ্রেণীতে দাদু যা শিখিয়েছিল তাতেই হয়ে যেত। খুব সামান্য কিছু কখনও হয়ত দাদুকে জিগ্যেস করতাম, সেও নিজে তো জানিই একবার দাদুকে বলে নেওয়া। বীজগণিত শুরু হয়েছিল সপ্তম শ্রেণীতে, সে শুরুর দিকে অসুবিধে হলেও মোটামুটি পেরে গেছি। দাদু বীজগণিত দেখাতে চাইত না, আর হাফ ইয়ার্লির আগেই ছোটমামার বিয়ের দিনে দাদু সেই যে পড়ে গেল, আর তো কোন অঙ্কই দেখাতে পারল না। কিন্তু এখন তো বীজগণিত বেশ কঠিন লাগে, এমনকি পাটীগণিতেও মাঝে মাঝেই আটকে যাই। অঞ্জলীদি কতগুলো বাড়ীর কাজ দিয়ে রাখেন, না করে নিয়ে গেলে খুব বকেন তো বটেই, মা'কে বলেও দেন। মা ভাবে আমি মন দিয়ে করার চেষ্টা করি না, কখনও ঠাঁই ঠাঁই করে দুটো থাপ্পড় দেয়, কখনও আমার দ্বারা যে কিস্যু হবে না সেটুকু বলে নিজের কপালের দোষ দেয়। একদিন ভয়ে ভয়ে বড়মামার কাছে নিয়ে গেলাম অঙ্কের বই আর খাতা। বড়মামা খানিকক্ষণ দেখে করেও দিল অঙ্কটা, খানিকটা বুঝিয়েও দিল। তাতে বাকী অধ্যায়টা নিজে নিজেই করে ফেলতে পারলাম। সেই থেকে মাঝে মাঝেই অঙ্ক নিয়ে যেতে লাগলাম বড়মামার কাছে। বড়মামাকে এমনিতে আমার একটু ভয় ভয় লাগে, খুব একটা বেশী কথা বলে না। কোনোকারণে বড়মামার ভুরুদুটো প্রায় সবসময়ই অল্প কুঁচকে থাকে। বড়্মামা ওঠে খুব ভোরে, প্রায় দিদার সঙ্গে সঙ্গেই। সাড়ে ছটা থেকে সাতটার মধ্যে বেরিয়ে যায়, হেঁটে হেঁটে আটটার আগেই পৌঁছে যায় রিষড়ার অ্যালকালি। অ্যালকালির ভোঁ আমাদের বাড়ী থেকে শোনা যায় না, বেশ অনেকটা দূর। বেলা দশটা নাগাদ টিফিনওলা, একটা রোগা ছেলে সাইকেলের দুইদিকে অনেকগুলো টিফিন ক্যারিয়ার ঝুলিয়ে এসে দাঁড়ায়। বড়মাইমা কিম্বা দিদা গিয়ে একটা ভাত, ডাল, মাছের ঝোল ভরা হিন্ডালিয়ামের তিনথাক টিফিন ক্যারিয়ার দেয় তাকে, সে শোঁও করে সাইকেল বেঁকিয়ে চলে যায়। একটা দেড়টা নাগাদ এসে খালি টিফিনকারিটা ফেরত দিয়ে যায়। কোনও একটা বাড়ীর টিফিনকারি থাকে ওর কাছে, যার মাঝখানের আর ওপরের বাটিদুটো টোল খাওয়া, ওপরের বাটিটার টোলের পাশে কালো কালো দানা দানা মত, দেখে কেমন বিশ্রী লাগে। আরেকটা টিফিনকারি আছে তামার তৈরী বোধহয়, টাট, কোশাকুশির মত ঝলমল করে। বাটিগুলো একটু ছোট, ফলে পুরো টিফিনকারিটাই অন্যগুলোর থেকে কম লম্বা। আমার খুব পছন্দ ওটা, যতক্ষণ টিফিনওলা অপেক্ষা করে, আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি। ... ...

হইচইয়ে আমি শেষ সিনেমা, খুব সম্ভবত, দেখেছিলাম, কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তন। তাতে বেশ কটা গান ছিল। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছিল "কেনিয়ার জঙ্গলে বিপদের তাঁবু / অপরাজিতের নাম আজও কাকাবাবু"। সত্যি, এটাই লিরিক ছিল। সিনেমায় অনেক দৃশ্যও ছিল(না হলে সিনেমা হবে কীকরে)। আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছিল যেটা, সেটা হল, কেনিয়ার জঙ্গলে সন্তুকে সাপে কামড়াল। সঙ্গে সঙ্গে সন্তু মাথা ঘুরে উল্টে পড়ে প্রায়। এত বিষ। কাকাবাবু ঝাঁপ দিয়ে পড়ে রক্ত চুষে থুথু করে ফেলতে লাগলেন। একটু পরে দেখা গেল, সন্তু, কাকাবাবু দুজনেই হাল্কা করে কেলিয়ে পড়েছেন, কিন্তু মোটের উপর সুস্থ। কীকরে হল? কাকাবাবু বললেন “বিষ টা আমরা শেয়ার করে নিয়েছি।” ... ...

দূরদর্শিতা ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ। সভ্যতা কেবল ব্যক্তির আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই প্রবৃত্তিকে লাগাম পরায়নি, সে কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল আইন, আচার আর ধর্ম। এগুলি বর্বর জীবনেরই উত্তরাধিকার, তবে প্রবৃত্তির প্রভাব এখানে কম, প্রকরণের বেশি। কিছু কার্যকলাপকে অপরাধ বলে দাগানো হল, আর যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থাও হল; অন্য কিছু কাজ—যদিও আইনের চোখে অপরাধ নয়—সমাজের চোখে ন্যক্কারজনক বলে চিহ্নিত হল। জমির ব্যক্তিগত মালিকানা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার ফলে তার পিছু নিয়ে এল নারীর বশ্যতা স্বীকার, আর প্রায়শই, একটি দাস-শ্রেণীর নির্মাণ। একদিকে যেমন গোষ্ঠীর ভালোমন্দের ভার ব্যক্তির ওপর চাপানো হল, অন্যদিকে তেমনই—নিজের গোটা জীবনকে নিয়ে ভাবার অভ্যেস তৈরি হওয়ার ফলে—ব্যক্তি আরো বেশি করে ভবিষ্যতের কথা ভেবে বর্তমানকে বিসর্জন দিতে শুরু করল। ... ...

সৈয়দ হাসান ইমাম। এক উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। দুই বাংলার মিলনের দূত। ... ...

বর্তমান এই পরিস্থিতি আরও তীব্র করে তুলল এই ঘৃণা। সরকার নতুন প্রজন্মের কাছে আর যেতে পারবে কি না আমার সন্দেহ আছে। মহা পরাক্রমশালি আওয়ামীলীগ সরকারকে এই যন্ত্রণা নিয়েই চলতে হবে। ২০৪১ সাল পর্যন্ত যে ভিশন দেখানো হচ্ছিল তাতে এই আন্দোলন বড় ধাক্কা হয়ে লাগবে। এবার কোনমতে উত্তরে গেলেও কতদিন টিকে থাকতে পারবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।আমাদের হচ্ছে মহা বিপদ। আমরা যারা আওয়ামীলীগের কেউ না, কিন্তু নৈতিক সমর্থন দিয়ে গেছি সব সময়। এই আন্দোলনে জাতির পিতা ইব্রাহিম, বঙ্গবন্ধু ঘোড়ার ডিম স্লোগান দেওয়া হয়েছে, এই আন্দোলনে আমি রাজাকার বলে স্লোগান দেওয়া হয়েছে, এখন দেখছি বর্তমান সংঘর্ষের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বলা হচ্ছে দেখুন, এতদিন আমাদেরকে কী মিথ্যা পড়ানো হয়েছে, ত্রিশ লক্ষ শহীদ মুখের কথা? মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে! এই সবই অসমর্থন যোগ্য কিন্তু তাই বলে ২০৭টা লাশ! ( গতকালের প্রথম আলো অনুযায়ী) এতগুলা মৃত্যু সব ম্লান করে দেয়, এগুলার কোনটাই একটা লাশের সমানও না! ... ...

ঢাকা এয়ারপোর্টে প্রতীক্ষা কক্ষের সোফায় আধো ঘুমে আচ্ছন্ন ছেলে মেয়ে জেগে উঠে যখন দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল মনে হল সমস্ত দিনের শেষে সেটাই আমার সেরা পাওনা ! প্রায় পাঁচ দশকের নিরন্তর ভ্রমণে আমার পাসপোর্টগুলি ভরে গেছে নানান দূতাবাসের অজস্র ভিসার ছাপে। আজ মনে হয় ৩৪ বছর আগে অন্য কোথা নয়, অন্য কোনো দেশে নয়, এই কলকাতায়, আলিপুরে শীতের স্তব্ধ দুপুরে সুপ্রাচীন হর্ম্য মণ্ডিত অট্টালিকায় নির্জন বিদেশি কনসুলেট অফিসে দয়াময়ী এক জার্মান মহিলার স্বাক্ষরিত বিনামূল্যের এই ট্রানজিট ভিসাটি আমার সবচেয়ে মহার্ঘ্য সঞ্চয়। ... ...


এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কেন সফট টার্গেট হিসেবে বারবার এনকাউণ্টারের পর স্কোয়াডে থাকা মহিলাদের চরিত্র মূল্যায়নে এত সময় ব্যয় করেছে, তা নিয়ে কিন্তু মাথাব্যথা ছিল না মাওয়িস্ট শীর্ষ নেতৃত্বের। তাঁদের কাছে শশধর এবং কিষেণজি, দুই মৃত্যুই ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেন এনকাউণ্টার হল, কীভাবে হল, কে খবর দিল পুলিশকে, সবই পরে তদন্ত করে দেখে মাওয়িস্ট নেতৃত্ব এবং তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে দু’বারই ক্লিনচিট পেয়েছেন সুচিত্রা মাহাতো। ... ...

গায়ক ছেলেটা ইতিমধ্যে একটা ইংরেজি গান ধরেছে, আর অনেকেই হাততালি দিয়ে তাল দিচ্ছে। বিনীতা বুঝল নিশ্চয় জনপ্রিয় গান, তবে তার জানা নেই। “বিলিভার” আর “পেইন” এই দুটো শব্দ ঘুরে ঘুরে আসছিল গানটায়। ইংরেজি গানে অবশ্য তার আগ্রহ নেই। যাতে আগ্রহ আছে সেই রবীন্দ্র সঙ্গীত নিশ্চয় এই ছেলেটা গাইবে না। ... ...

হঠাৎই সভাকক্ষে হাসির মৃদু ঢেউ বয়ে গেল! কিন্তু সেই হাসি থামতে না থামতেই এক কম বয়সী লোক, বোধ করি, সভার তরুণতম আলোচক, উঠে দাঁড়ালেন। মুহূর্তেই সব চোখ তার দিকে ঘুরে গেল। লোকটির চোখে-মুখে খেলে যাচ্ছিল অলৌকিক এক আভা, বিজ্ঞানীরা একে ভাল করেই চেনেন; তাদের ভাষায় এ হচ্ছে ইউরেকা লাইট। আস্তে আস্তে বোমাটা বের করতে শুরু করলেন সেই তরুণ তার শ্মশুমন্ডিত মুখের গোপন দুয়ার থেকে, "একটা চিন্তা এসেছে আমার মাথায়! জানি না আপনাদের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে, তবে আমার মনে হচ্ছে, কাজে দেবে। ওদেরকে আবার এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিতে হবে আমাদের। আবার আগের মত স্থবির, আনত করে দিতে হবে। “ ... ...

এই সহিংসতার শুরু অবশ্য পুলিশ-ছাত্রলীগ সখ্যতায়। রঘু ডাকাতের দল হেলমেট লীগ ঢাকা, জাহাঙ্গীর নগর, রাজশাহীসহ আরো সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী-পুরুষ শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠুর লাঠিপেটায়, প্রকাশ্যে গুলিতে ও ইটপাথরের আঘাতে দমন করতে চায় আন্দোলন স্রোত। যা ক্রমেই সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার থেকে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক রূপ নিতে থাকে। শ্লোগান উঠে, তুই রাজাকার, তুই রাজাকার! স্বৈরাচার! স্বৈরাচার! . ... ...

নেট পুরোপুরি বন্ধ আর কারফিউ চালুর পরে দৈনিক রাতে যা জানতাম আর যা বুঝতাম তা লেখার চেষ্টা করে গেছি। সব সময় মাথা ঠিক ভাবে কাজ করেছে এমনও না। পুরোটা আবার বসে বসে পড়লে হয়ত অনেক কিছুই বাদ দিতাম আমি। কিন্তু নেট পেয়েছি, আবার কখন নেটের বাহিরে চলে যাই ঠিক নাই। তাই পুরো লেখাটাই একবারে দিয়ে দিলাম। ইচ্ছা ছিল ভাগ ভাগ করে দেওয়ার। সরকার ফেসবুককে ভয় পাচ্ছে। এইটাই হচ্ছে সত্য। নেট দিতে আমার মনে হয় না আর অন্য কোন সমস্যা আছে। ফেসবুকে মানুষ এতদিন যা হয়েছে তার ভিডিও চিত্র, স্থির চিত্র দেখবে, দেখে আবার যদি রাগের বিস্ফোরণ ঘটে? সরকার তা চাচ্ছে না। সহজ একটা বিষয়কে কতখানি জটিল করা যায় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে এই আন্দোলনটা। নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা এখন প্রায় শূন্যের কাছে। অথচ জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারত এখান থেকে। আজকের প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৭! আমার এই লেখায় এক জায়গায় লেখছি ধার্মিকেরা বলে ঈশ্বর যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন, সেই মহান মঙ্গলের অপেক্ষায় বসে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার নাই। এখনই ওইটাই বলছি! অদ্ভুত কালো অধ্যায় পার করল বাংলদেশ। ... ...

ভাস্কর লিখেছিলেন ‘শেষ নেই এমন এক পাহাড়ে অনবরত চড়তে থাকার সঙ্গে কবিতা লেখার তুলনা করা যায় কিছুটা’... সেই বোবাপাহাড়ের ঠিক তলায় দাঁড়িয়ে আমি, সিসিফাসের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছি যেন, তবু বিশ্বাস করি এরপরের স্টপেই আলো-ভরা উপত্যকা আসছে একটা, আর অনেক চিঠি হাতে সেখানে আমার জন্য নিশ্চয়ই একটা আস্ত ডাকবাক্স বানিয়ে রেখেছেন একজন রুপোলি চুলের নিঃসঙ্গ মানুষ। ... ...

কয়েক দিন ধরে মনে হচ্ছে যে বাড়ি গুলোতে জীবনের দিন সব কাটিয়ে এলাম শেষ বেলায় তাদের কথা একটু লিখে যাই। যাই বলছি বটে যাওয়ার নাম গন্ধ নেই। জাঁকিয়ে বসেছি মাটি মায়ের কোল আঁকড়ে। লিখতে অসুবিধা হয়। আস্তে আস্তে লিখবো খণ্ড খণ্ড। সেভ করতে গিয়ে লেখা হারিয়ে ফেলি। অনেকের জীবন এক বাড়িতে কেটে যায়। আমাদের তা হয়নি। ছোটবেলা থেকে কতো বাড়িতে থাকলাম। যেটুকু মনে আছে লিখতে থাকি। সুখে জড়ানো না হোক স্বস্তি শান্তি তো ছিল। মা বাবা ভাইবোন, দুএকজন সহায়ক, গৃহপালিত নিয়ে মধবিত্ত পরিবার। হাসি খুশি মোটামুটি খেয়ে মেখে মন্দ কাটেনি বলতে পারি। যাঁরা পড়বেন জেনে বুঝেই অপ্রয়োজনের আনন্দে পড়বেন। ... ...