
বাবার বয়েস হয়েছে; কিন্তু তার চেয়ে বেশী বয়েসীরাও তো হেসে-খেলে, ঘুরে-ফিরে জীবন যাপন করছে, সমাজ-সেবা, ওরশ-মাহফিলে মশগুল থাকছে। কিন্তু বাবা আরো বছর পাঁচেক আগে থেকেই যেন কবর দেখতে পাচ্ছেন সামনে! তার কোথায় কি আছে, আর কিভাবে সেগুলো ভাগ হবে, তা নিয়ে আমাদের ভাইবোনদের সাথে বেশ কয়েকবার বসা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। গেল বছর, যত দেনাপাওনা আছে, তাও চুকিয়ে ফেললেন। শুধু এক পাওনাদারকে নিয়েই ঘটে গিয়েছিল বিপত্তি। প্রায় তিরিশ বছর আগে বিপদে পড়ে সামান্য ক’টা টাকা হাওলাৎ করেছিলেন; কিন্তু দিনের পর দিন খুঁজেও পাওয়া গেল না লোকটিকে। পরে যখন জানা গেল, তিনি মারা গেছেন, আর তার কোন ওয়ারিশও নেই, তখন কিছু অভাবী মানুষ খুঁজে নিয়ে তাকে দান করে দিতে হল সেই টাকাটা! ... ...

আওয়ামীলীগকে দোষ দেওয়া হয় তারা বঙ্গবন্ধুকে, মুক্তিযুদ্ধকে নিজের করে রেখেছে। তো? আজকেই তো সুবর্ণ সুযোগ ছিল আওয়ামীলীগের কবল থেকে মুক্তিযুদ্ধকে, বঙ্গবন্ধুকে বের করে নিয়ে আসার। বঙ্গবন্ধু সর্ব সাধারণের, জয় বাংলা সবার স্লোগান ছিল। এখনই তো সুযোগ ছিল এগুলা ছিনিয়ে নেওয়ার। কিন্তু আজব এক দেশ বাংলাদেশ। এমন কাজ করা হল যে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধ আরও আওয়ামীলীগের কব্জায় ভালো করেই গেল। আওয়ামীলীগ বলবে আমরা না দেখলে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধারা সবাই শেষ হয়ে যাবে! মহিউদ্দিন মোহাম্মদ বলছেন বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে জিলাপির ভিতরে চিনি গুড়ের মতো। আলাদা করার উপায় নাই। তো আপনারা করলেন কী? বঙ্গবন্ধুকে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। আচ্ছা, আজকে ১৫ আগস্ট না হয় ফেলে দিলেন। ডিসেম্বরে বিজয় দিবসেও কেউ শেখ মুজিবের নাম নিবে না? কেউ জানতে চাইবে না বিজয়টা কীভাবে হল? ইতিহাসটা কী? কালকে লিখছিলাম রাম ছাড়া রামায়ণ, হাস্যকর মনে হলেও এইটাই সত্য। অস্তিত্ব থাকবে না অথচ এই দেশেই রাজনীতি করে যাবে, রাষ্ট্র শাসন করবে। ... ...


মধ্যরাতে ইতিহাস লিখল মেয়েরা। আরজি করের ঘটনায় বাংলার বুকে ‘মেয়েরা রাত দখল করো’ ডাকের জেরে যে প্রতিবাদ, অধিকার আদায়ের আন্দোলনের জন্ম নিল তা এককথায় অভূতপূর্ব, ঐতিহাসিক। এমনটা বাংলার বুকে আর কখনও ঘটে নি। ... ...

কলকাতায় রাত গভীর হচ্ছিল, আর আমি ফাঁকে ফাঁকে আপডেট দেখে যাচ্ছিলাম। প্রচুর সাধারণ মেয়ে রাস্তায়। দেখে, কোনো খবরাখবর না নিয়েই, ফুর্তি পেয়ে একটা পোস্ট করি, যে, শাঁখ-টাখ নিয়ে অনেক চুলোচুলি হয়েছে, কিন্তু তর্কটাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। শাঁখ কেউ বাজাচ্ছেনই না। রাস্তায় নেমে পড়ছেন। আর প্রতিবাদ ছাড়াও রাত্তিরের জমায়েতের আরেকটা ভালো ব্যাপার হল, দলে দলে হিন্দু রমনী মধ্যরাতে হ্যাটাং হ্যাটাং করে রাস্তায় ঘুরবে, বীরদের পক্ষে এটা হজম করা কঠিন। ... ...

আমাদের শেরপুরে হিন্দুরা মানব বন্ধন করবে বলে ঠিক করল। দুপুরে আমি শুনছি, সেই দুপুরেই আবার শুনলাম মানব বন্ধন করা যাবে না! কেন? জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়েকজনকে ডেকে বলেছে এগুলা করা যাবে না। শেরপুরে কী হইছে? কিছু হইছে? এরপরেও যদি কেউ নামে তাহলে তারপরে যদি কিছু হয় তাহলে সেই দায় কেউ নিবে না! এই কথা শোনার পরে কে যাবে প্রতিবাদ করতে? এমন চলছে সব জায়গায়। শাহবাগে, চট্টগ্রামে যে মানুষের ঢল নেমেছিল সব আওয়ামীলীগের চাল বলে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামীলীগ দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়! ওই যে বললাম প্রথমেই, কথা শুধু আমার পছন্দেরটাই থাকবে, ওইটাই বাক স্বাধীনতা। ... ...

গল্পটি লিখেছিলাম বেশ কবছর আগে - আজকের দিনের মতো সেদিনও কোন এক কন্যার চরম অপমানিত হত্যার প্রতিবাদে দেশ এবং রাজ্য উত্তাল হয়েছিল। দোষীদের চরম শাস্তির আশায় তদন্ত চলেছিল, বিচার চলছিল - কিন্তু সব আশ্বাস সব সান্ত্বনা শুকিয়ে গিয়েছিল রাজনীতির মরু প্রান্তরে। আমাদের সকলের হাতে রয়ে গেল শুধু "মোমবাতির আলো" - সেদিনও - আজও একই ভাবে ... বাকি সব মরীচিকা... ... ...

মানুষের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধর্মের অছিলায় বিনোদনের এই আসরের ঔচিত্য, কোন ধর্ম, সংস্কৃতি, শিক্ষা দিয়ে প্রতিপাদন করা যায় না। তবুও এই মোচ্ছব আজ ঘরে ঘরে। ... ...

আরজিকর হত্যা নিয়ে সত্যি বলতে কি, আমি কিচ্ছু জানিনা, এবং খুবই দিশাহারা। বাকিদের মতই নানা জিনিস পড়ছি, দেখছি। 'ভিতরের খবর' কিছু জানা নেই। প্রথম দিন খবরটা পেয়ে বাকিদের মতোই শিহরিত হয়েছিলাম। পড়েছিলাম, অধ্যক্ষ প্রথমে মেয়েটির বাড়িতে খবর দিয়েছিলেন, আত্মহত্যা। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ। পড়লাম প্রথমে ঠিকঠাক ময়নাতদন্ত হচ্ছিলনা। ওদিকে অধ্যক্ষকে কিছুতেই সরানো হচ্ছিলনা। তারপর পুলিশ ঝপাঝপ একজনকে গ্রেপ্তার করে ফেলল। গরীব লোক, সিভিক ভলান্টিয়ার। শুনে সন্দেহ করেছিলাম, ধনঞ্জয়-২ হতে চলেছে। কাউকে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে। নানা জায়গায় নানারকম চক্র থাকে, শাসকদলের সঙ্গে যোগসাযোগও থাকে, তাদের পক্ষে নানারকম ষড়যন্ত্র অসম্ভব কিছু না। বিশেষ করে অধ্যক্ষটিকে না সরিয়ে যেভাবে অন্যত্র পাঠান হল, সে তো খুবই সন্দেহজনক। এখন যদিও ফাঁসানো অত সোজা না, সিসিটিভি আছে, ফরেনসিক উন্নত। তবুও। ... ...


স্বাধীনতা দিবস আসন্ন। সেই উপলক্ষে প্রথাগত কিছু লেখালিখি, আলাপ-আলোচনা প্রতি বছরের রীতি। তবু মহাবিদ্রোহের বেশ কিছু বিষয় বহু যুগ পরেও অনালোকিত রয়ে যায়। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের কাহিনী সবার জানা। কিন্তু চট্টগ্রাম কালেক্টরেটের কোষাগার লুট করে জেল ভেঙে কয়েদিদের মুক্ত করে পার্বত্য রাজ্য জয়ন্তিয়ার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এবং মাঝপথে অসমের করিমগঞ্জ জেলার লাতুতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ -- আজ ক'জন মনে রেখেছে? অথচ এই ঘটনার অভিঘাতে রচিত হয়েছে 'জঙ্গিয়ার গীত'। যে পল্লীগীতির পটভূমি চট্টগ্রাম থেকে সুরমা-বরাক উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত। ... ...

'আমার বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রাবস্তী বন্দোপাধ্যায় এক এক জনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন 'দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ'র পরে। নিরাপত্তার জন্য। যারা তাকে দুর্দিনে সাহায্য করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েও তিনি এক সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন : "আমার বাড়ি কেনো পাহারা দিতে হবে?" এই প্রশ্ন আমারো।' সদ্য ফেসবুক নোটে বাংলাদেশের কাছে এই প্রশ্ন রেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন। ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ৩০… দেখা হোলো দুটি আকর্ষণীয় সেতু। আলাপ হোলো দুটি আকর্ষণীয় মানুষের সাথে। একাকী ভ্রমণ তো করেই থাকি তবে ঐ ভ্রমণের সূত্রে পরবর্তীতে হয়েছে কয়েকটি দলগত ভ্রমণ। তার আনন্দ আবার অন্যরকম ... ...

সরকারহিন অবস্থার সময়ের একটা ঘটনা শুনলাম আজকে। দোকানে আগুন দেওয়া হয়েছে। দোকানের পাশেই দোকান মালিক পরিবার নিয়ে থাকে। আগুন বাড়ছে, সবাই তাদেরকে ডাকছে, নাম ধরে চিৎকার করে ডাকছে। কেউ গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে। আর যারা ভিতরে আছে তারা ভাবছে তাদেরকে মারার জন্য ডাকছে। কেউ বের হয় না, সাড়াশব্দও করে না। কি ভয়ানক অবস্থা একবার ভাবুন! বাঁচাতে চাচ্ছে তাদেরকে কিন্তু কোন উপায় নাই। কারণ তারা এমন ভয় পেয়েছে যে মরে গেলেও দরজা খুলবে না! শেষে দোকানের এক কর্মচারি গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিছে, বলছে যে খুলেন আমি অমুক। নিচে আগুন লাগছে, এখন বের না হলে সবাই এক সাথে মরবেন! এইটা শোনার পরে তারা নামছে। দোকানদারের স্ত্রী একজন গাইনি ডাক্তার, আমাদের সম বয়সই, আমরা এসএসসি একই ব্যাচের। আমার সাথে সরসরি পরিচয় নাই। কিন্তু ও এত ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রী ছিল যে ওকে সবাই চিনত। চোখের সামনে এমন একজন নারী বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে জাস্ট পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছিল! ও প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে, কবুতরের বাচ্চার মতো থরথর করে কাঁপছিল। না, ওর স্বামী আওয়ামীলীগ করত না, সংখ্যালঘুও না যে রাস্তার পাশের বাড়ির কলিং বেলের মতো যার যখন ইচ্ছা গুঁতা মেরে যাবে কেউ! দুইজনে ভালো কামাই করত এইটা যা দোষ! ... ...

বুদ্ধবাবুর সংস্কৃতিবোধ, সাহিত্য ও সিনেমা প্রেম নিয়ে আমি কিছু লিখব না। অনেকে লিখেছেন।আমি ওঁর রাজনীতি নিয়ে কিছু কথা বলব। সেখানে কিছু সমালোচনা যেমন থাকবে তেমনি ওঁর বিরুদ্ধে অতি বামদের কিছু সমালোচনার জবাবও থাকবে। ... ...

কতক্ষণ এভাবে পড়েছিল মনে পড়ে না। হঠাৎ ক্ষুদে জানালাটা দিয়ে ভেসে আসে আযানের সুর, আর সঙ্গে সঙ্গেই তার হুঁশ ফেরে। বাথরুমটা থেকে বেরিয়ে মিতু সোজা নামাযে বসে পড়ে আর দু'হাত তুলে খোদাকে ডাকতে থাকে, ‘হে পরওয়ারদিগার, এই বিপদ থেকে আমায় পরিত্রাণ দাও! ষড়যন্ত্রকারীদের ধ্বংস করে দাও! আমি তোমার অসহায় বান্দী! তুমি ছাড়া আমাকে বাঁচানোর আর কেউ নাই!’ ... ...

পাঁচ ঘর এক উঠোন অবারিত অবশ্যই কিন্তু ওপাড়ার যদু মধুদের জন্যে নয়। তারা থাকুক দূরে। শেঙ্গেন চুক্তি ইউরোপীয় সাধারণ বাজারের সর্ব সম্মতি ক্রমে স্বাক্ষরিত হয় নি – এটি ছিল বেলজিয়াম নেদারল্যান্ড লুকসেমবুরগ ফ্রান্স ও জার্মানির পারস্পরিক বোঝাপড়া ; এই পাঁচটি দেশের সীমানা আছে একে অপরের সঙ্গে। অন্য সদস্যরা যেমন ইতালি, গ্রিস, ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড, ব্রিটেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ... ...

নির্বাচিত সরকার হয় ৫ বছরের। নেট খুলে দেখি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারই নাকি ৬ বছরের। প্রথমে ভাবলাম, গুল। তারপর মনে হল, হতেও পারে। কতকিছুই তো নতুন হচ্ছে। সেনাবাহিনী সমর্থিত, এনজিও পরিচালিত, বিপ্লবী সরকার - এরকম ভুতুড়ে জিনিস তো আগে দেখিনি। পড়িওনি। সিলেবাসের বাইরে। সবই সম্ভব। তারপর ইউনুসের একটা বক্তৃতা দেখলাম, কে জানে কবেকার। সেখানে তিনি আবেগ দিয়ে বলছেন চাকরি হল গোলামি, গোলামি থেকে মুক্ত হন। শুনে ভেবেছিলাম অ্যামওয়ের বিজ্ঞাপন। সেখানেও সবাই মুক্তি-মুক্তি করে চিল্লায়। তারপর ভেবে দেখলাম, সরকারেও সম্ভব। চাকরিই না করলে আর কীসের কোটা। সবই মায়া। পড়লাম, স্বাধীনতার চূড়ান্ত হয়েছে, ওদেশে কর্ণধাররা টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিচ্ছেন ঝপাঝপ, 'স্বেচ্ছায়', ছাত্ররা রাজনীতির অধিকার ছেড়ে দিচ্ছেন, 'স্বেচ্ছায়', সংবাদমাধ্যমে 'দুর্বৃত্ত' না বলে 'জনতা' বলা হচ্ছে, 'স্বেচ্ছায়', সংখ্যালঘুরা শাহবাগে প্রতিবাদ করছেন, সেটা না দেখিয়ে বাতাবীলেবুর ফলন নিয়ে বিপ্লবী প্রতিবেদন আসছে টিভিতে। সবাই স্বাধীন, সবই অনিত্য। ... ...

আজকের মানে শুক্রবারের ঘটনা। আমরা বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছি। একজন খুব খুব বাজে লোক, বিএনপির আমলে একবার আর্মি নামিয়েছিল সন্ত্রাস দমনের জন্য। নাম দিছিল অপারেশন ক্লিন হার্ট। সেই সময় এই লোক আর্মির হাতে মারাই গেছিল প্রায়, কারণ সে করত হিরোইনের ব্যবসা! এই লোক সবার সামনে খুব হম্বিতম্বি করছে। এরে এই করা উচিত, ওরে স্কুল থেকে তারিয়ে দেওয়া উচিত, অমুকের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া উচিত এমন নানা কথা বলছেন। এখন এই সময়ে কিছু বলার উপায় নাই। আমরা চুপ করে শুনছি। একজন খুব ভালো প্রধান শিক্ষক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, সামাজিক নানা কাজ করেন। প্রাসঙ্গিক ভাবেই আওয়ামীলীগ ঘেঁষা। একে ওই এলাকার একটা স্কুল আছে ওইটা থেকে তারাতে হবে। কেউই পছন্দ করছে না তার এই কথা কিন্তু কিছু বলারও নাই। কে বলে বিপদ টেনে আনবে? তাই আমরা সবাই চুপ করে শুনছি। এই সময় ওই এলাকারই একজন মুক্তিযোদ্ধা আসলেন সেখানে। আমরা দাঁড়িয়ে কথা বলছি দেখে তিনিও দাঁড়ালেন। কী নিয়ে আলাপ বুঝতে চাচ্ছেন। যদিও এখন সবাই দেশ নিয়েই কথা বলে, রাজনীতিই এখন প্রথম ও শেষ কথা। তিনি দাঁড়িয়ে বুঝার চেষ্টা করলেন। এর মধ্যে ওই লোক আবার উনাকেও বলা শুরু করল। কাকে ধরবে, কাকে মারবে ইত্যাদি। মুক্তিযোদ্ধা একটু দেখলেন উনাকে। বললেন, যখন যুদ্ধ হয় এই দেশে তখন ওই যে বাড়ি দেখতেছ, অমুকের বাড়ি ওইটা, ওইটা পুড়ায় দিছিল, এরপরে আরও কয়েজনের নাম বললেন যে গুলা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপরে উনাকে ধরলেন, বললেন, তোমার বাপ ছিল রাজাকার, আমরা কিন্তু তোমাদের বাড়ি পুড়ায় দেই নাই! ওই লোকের বাবা রাজাকার ছিল এইটা আমরাও জানতাম। কিন্তু ওইটা আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব ছিল না। আমাদের এইটা মাথাতেই নাই। কিন্তু এমন একজন বললেন যাকে জবাব দেওয়ার কোন সুযোগ নাই! আসলে কোন উত্তরই হয় না আর! জোঁকের মুখে নুন! একটা শব্দ না করে তিনি চলে গেলেন সেখান থেকে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম মুক্তিযোদ্ধার দিকে। কতখানি নির্ভীক হলে এমন করে বলা সম্ভব। এখনও এমন সাহস! ... ...

শেরপুরের কথা শেষ করার আগে এবার আমার একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। শহরেই ছিলাম আজকে রাতে। দশটা সাড়ে দশটা বাজে। আমি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি। ১৫/২০টা মোটরসাইকেল, ধীর গতিতে টহল দিয়ে আসছে দেখলাম। প্রতি মোটরসাইকেলে দুই তিনজন করে। আস্তে আস্তে যাচ্ছে। আমি বুঝতেছি না এরা কারা। সর্বশেষ মোটরসাইকেল থেকে একজন আমার দিকে তাকিয়ে সালাম দিল, স্লামাইকুম, আমরা জামাত শিবির ভাই, আমরা আছি! এখন হাসি আসছে আমার ওর কথা বলার ধরন দেখে। কিন্তু তখন আমি স্ট্যাচু হয়ে গেছিলাম। আমি ভাবছি এইটা কী হয়ে গেল! এমন কাণ্ড এই জীবনে কোনদিন ঘটে নাই। আমরা জামাত শিবির ভাই, আমরা আছি ভাই! ... ...