
অনেক ভারি-ভারি জিনিস লেখা হল, এবার অন্য কথা শুনুন। এটা জীবনস্মৃতির গল্প। রবীন্দ্রনাথ তখন সদর স্ট্রিটের বাড়িতে থাকতেন। কলকাতার রাস্তা সে সময় একদম ফাঁকা-ফাঁকা। ভোরবেলা বারান্দা থেকে এদিকে ফ্রিস্কুল স্ট্রিট, ওদিকে ভিক্টোরিয়া আর ওপাশে ভবানীপুর অবধি দেখা যায়। রবীন্দ্রনাথের তখন রাইটার্স ব্লক চলছে, তাই ভোরে উঠে বারান্দায় বসে থাকতেন, যদি কোনো অনুপ্রেরণা আসে। ভিক্টোরিয়ায় দেখতেন বুট-পরা সায়েব মেম, প্রাতঃভ্রমণে। ফ্রিস্কুল স্ট্রিট শুনশান। অন্যদিকে কিছু বাঙালি লোকজন, চটি পরে চলেছে। এক মহিলাকে প্রায়ই দেখতেন উচ্চকিত স্বরে কথা বলতে বলতে চলেছেন। যেমন জোরালো কণ্ঠ, তেমনই দাপট। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ আবার একটু বিষণ্ণ ধরণের লোক, এইসব দেখে কবিতা আসেনা। কিন্তু জেদ তো কম না, তাই বসেই থাকতেন। কাদম্বরী প্রায়ই এসে তাঁর পিছনে লাগতেন, তবু বসে থাকতেন। ... ...


কিছু মনে করবেননা, আপনাদের গোয়েন্দা-গল্পগুলো অত্যন্ত খাজা হচ্ছে। লালমোহনবাবুর রহস্যরোমাঞ্চের চেয়েও। কেউ কেউ অবশ্য এগুলোকে সাংবাদিকতাও বলছেন, কিন্তু এর নাম ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম হলে, আমার নামও মারাদোনা। একটা অডিও ক্লিপ নিয়ে আকাশ-থেকে-পড়া শুনে মনে হচ্ছে সত্যিই মঙ্গলগ্রহ থেকে আপনারা এইমাত্র ল্যান্ড করেছেন। সেই জন্যই আপনারা জানেনা, ক্লিপটা সত্যি হোক মিথ্যে হোক, পশ্চিমবঙ্গে ওইরকম করেই মৃত্যুসংবাদ দেওয়া হয়। শুরুতে ভাঙা হয়না। কাজটা ভাল না মন্দ সে অন্য কথা, কিন্তু ওইরকমই হয়। ওতে রহস্যের কিচ্ছু নেই। আত্মহত্যা বলার মধ্যেও কিস্যু রহস্য নেই। ... ...

ছোটবেলায় আমি খুব একা একা বড় হয়েছি। আর পাঁচটা সাধারণ বাচ্চা যেমন একসাথে খেলে, হৈচৈ করে, তেমনটা আমি করিনি। করিনিটা বলা ভুল হল আসলে বাবার অহং, স্ট্যাটাস সচেতনতা, পারিবারিক আভিজাত্য, আমার শৈশবটাকে সাধারণের থেকে বিচ্ছিন্ন করে আমাকে গড়ে তুলেছিল এক নিঃসঙ্গ রাজকুমারের মত। ... ...

সারা জীবনে এই প্রথম কোনো প্রশাসনিক প্রধানকে ফাঁসির দাবী করতে দেখলাম। অভিষেক আরও এক ধাপ এগিয়ে এনকাউন্টার বলেছিলেন, এখন বলেছেন, কই সন্দীপকে গ্রেপ্তার কর। পাবলিক এনিমি যখন হয়েই গেছে, ওই ব্যাটাকেই বলি দেওয়া যাক, এরকম ব্যাপার। পুরোটাই উন্মাদনা তৈরির চক্কর। এমনিতেই সন্দীপ ঘোষকে পারলে লোকে ধরে ফাঁসি দিয়েই দেয়। আরও ছজন ডাক্তারের নাম বাজারে ঘুরছে দেখলাম, "আমাদের হাতে ছেড়ে দিন" দাবী সহ। কে তালিকা বানায়, কে ছেড়ে দেবে, কার হাতে দেবে, কে জানে। এবার অবশ্য খুব কেয়ারফুলি মুসলমান নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মোট কথা, সবাই সব জানে, শুধু সিবিআই ছাড়া। যেটা বাকি আছে, সেটা হল জাস্টিস ফর সঞ্জয় রাই পোস্টার বেরোনো। ... ...

হ্যাঁ, আমার এরকম একটা ঘটনা আছে, এবং এখন পর্যন্ত আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারোরই তা জানা নেই। তবে এই অবিশ্বাসী ও অর্বাচীন ডাক্তারটিকে সে কথা জানানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই আমার। শৈশবের দিনগুলিতে বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই নানুবাড়ি যাওয়া ছিল আমাদের জন্য রুটিন ওয়ার্কের মত। নানুবাড়ির পেছনে একটা জংগলের মত ছিল - সেখানে আমরা কাজিনরা সবাই দল বেঁধে আউটিং করতাম, বিভিন্ন রকম এডভেঞ্চারে মেতে উঠতাম। এমনি এক আউটিংয়ে দলের লোকজন একটু বেশীই ছিল, আর জংগলটাও খুব ভরতি হয়ে ছিল গাছে-লতায়-পাতায় যাদের বাঁধন টুটে সামনে এগোনো কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল! কিছুটা এগুনোর পর হঠাৎ একটা অদ্ভুত দেখতে অচেনা বুনো ফুল আমার চোখে আটকে দেয়; এতটাই বিভোর হয়ে যাই যে খেয়ালই করিনি কখন দলছুট হয়ে গিয়েছি। ... ...

একটা সকাল কখনও কখনও একই সঙ্গে রোদ ঝলমলে আর মেঘলা গুমোট হতে পারে। বাইরে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়েছে শীতের সকালে, মানুষজন নানান কাজে বেরিয়েছে, রবিবার বলে তবু হয়তো রাস্তায় লোক একটু কম। আর অরুণিমার মনের মধ্যে মেঘলা আকাশ। দাদা আর কিছুক্ষণের মধ্যে অফিস বেরিয়ে যাবে। তার পর আর কি কখনও দেখা হবে? হলেও কী অবস্থায় হবে। অরুণাভ ব্রেকফাস্ট খেতে এলে টেবিলে বসল অরুণিমা। দাদার হাতে বই ছিল, সেটা নামিয়ে রাখল সে। তবে সেভাবে কেউ কথা বলতে পারল না। বরং বিনীতাই একটা দুটো কথা বলে পরিস্থিতিটা স্বাভাবিক রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছিল। সময় এসে গেল। ড্রাইভার বিকাশ এসে নিয়ম মতো তার স্যারের অফিস ব্যাগ আর খাবার নিয়ে গাড়ির দিকে চলে গেল। ... ...

মা আমার বন্ধুর মত। এইসব ক্ষেত্রে সব মায়েরা মেয়েদের যে ধরণের স্ট্যাটিউটরি ওয়ার্নিং দেয় আমার মাও সেটা হাল্কা করে দিয়েছে, তবে সব শুনেটুনে গ্রিন সিগনালও দিয়েছে। মাকে মজা করে বলেছি, “মা তোমার কত ভাগ্য বলত, না খুঁজতে হল বৌমা না খুঁজতে হল জামাই। এত বড় গুরু দায়িত্ব তোমার ছেলে মেয়েরা নিজের কাঁধে নিয়ে নিয়েছে।” শুনে মা বলল, “একদিক দিয়ে ভালই হয়েছে। কোন সমস্যা হলে আমার দিকে আঙুল তুলতে পারবি না, নিজেদের হ্যাপা নিজেদেরই সামলাতে হবে।” অমিতকে দেখার পর ওর আচার আচরণে মা খুব খুশি। অমিত মার রান্না খেয়ে একেবারে ফিদা হয়ে গেছে। আর অমিতের মুখে বারে বারে রান্নার প্রশংসা শুনে মাও আপ্লুত হয়ে বা একটু অন্যভাবে বললে গ্যাস খেয়ে মাঝে মাঝেই নেমন্তন্ন করে খাওয়াচ্ছে। চালু ছেলে, শুধু রান্নার প্রশংসা করেই নয় সাথে গৃহ চিকিৎসক এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বাড়িতে যে কোন সময় অবাধ যাতায়াতটা নিশ্চিত করে নিয়েছে। ... ...

আরজিকরও রাজনীতিই নয় তো? ... ...

তদন্তে নতুন ক্লু এসেছে। বাইরে কয়েকটা ফচকে ছোঁড়াছুড়ি স্লোগান দিচ্ছে, এজেন্সির বড়বাবু ওসবে কান না দিয়ে ক্লাস সেভেনের ব্যাকরণ বই খুলে বাগধারা চ্যাপ্টারটা পড়ছিলেন, চুড়ি-পরা বিষয়ে তদন্তের জন্য, এমন সময় ধড়মড়িয়ে ছোটোবাবু এসে বললেন, স্যার ওদের মনে হয় ভিতরে চর আছে। শুনুন কী বলছে। বড়বাবু কান খাড়া করে শুনলেন, বাইরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে স্লোগান হচ্ছেঃ পরব চুড়ি মারব চড় / জাস্টিস ফর আরজিকর। ... ...

শুরুতে আন্সারুল্লাহ দলের নেতা মুক্তি পেয়েছে বলছি। এখন আরেক নিষিদ্ধ সংগঠনের কথা বলি যারা বুক ফুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সব জায়গায়। সেটা হচ্ছে হিজবুত তাহরীর! এই নিষিদ্ধ সংগঠন হোলি আর্টিজেনের ঘটনায় যে দুইজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছিল তাদের স্মরণে যে ভাস্কর্য বানানো হয়েছিল সেই ভাস্কর্য ভেঙ্গে দিয়েছে! দীপ্ত শপথ নামের এই ভাস্কর্য ভেঙ্গে সেখানে খেলাফতের আহবান জানানো পোস্টার লাগিয়ে দিয়েছে। এইটা কবের ঘটনা? গতকালের ঘটনা মানে সরকার গঠন করার প্রায় বিশ দিন পরে যখন দাবি করা হচ্ছে আইন কানুন ফিরে আসছে দেশে। কোথায় এই ভাস্কর্য? ঢাকার গুলশান এভিনিউয়ে ! ঢাকার প্রাণ কেন্দ্রে কেউ ভাস্কর্য ভেঙ্গে চলে গেছে খেলাফতের পোস্টার টাঙ্গিয়ে। কেউ কিছু জানে না। গুলশান থানার পুলিশ এইটা নিয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি! দায়িত্বশীল কেউ কোন বক্তব্য দেয় নাই। হিজবুত তাহরীর নিষিদ্ধ ২০০৯ সাল থেকে। এরা উগ্র ইসলামিক দল। যারা খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য কট্টর অবস্থান নিয়ে চলে। ৫ তারিখ আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পরেই এরা প্রকাশ্যে চলে আসে। কোন রাখঢাক না করে ব্যানার নিয়ে, পোস্টার নিয়ে তারা মিছিল করে চলছে। ত্রাণের জন্য ক্যাম্প বসিয়েছে! সব চলছে চোখের সামনে। কেউ একটা শব্দ পর্যন্ত করছে না। ... ...


এই ডামাডোলে, মূল দাবীটা কিন্তু ভুলতে দেওয়া যাবেনা, যে তদন্ত এবং বিচার চাই। আরেকটা জিনিসও কিন্তু নজর এড়াচ্ছে, যে, এই লম্বা সময়ে সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা কার্যত খোঁড়া। এমনি এমনি না, একজন ডাক্তার খুন হয়েছেন এবং জুনিয়ার ডাক্তারদের যথাযথ কিছু দাবীও আছে। দাবীগুলো সুসংহত ভাবে আসেনি, এক এক করে এসেছে। আদালতে আইনজীবী সুবিচারের জন্য সিবিআই তদন্তের দাবী করেছিলেন। তারপর আসে অধ্যক্ষ সহ কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণের দাবী। এবং নিরাপত্তার দাবী। এই কটা একসঙ্গে না এলেও, মোটের উপর যথাযথ। এবং সবই মোটামুটি নানা পক্ষ মেনে নিয়েছে। ... ...

স্টাডিতে গিয়ে তন্ময়ের বাবার সাথে দেখা হল। দেখেই মনে হল রাশভারী মানুষ। কাকিমা পরিচয় করিয়ে দিতে ঢিপ করে একটা পেন্নাম করলাম। আশীর্বাদের বাহুল্য বর্জন করে গম্ভীর গলায় ভাববাচ্যে প্রশ্ন করলেন—কি করা হয়? বললাম—এম এ পাশ করেছি। --সে তো হয়ে গেছে, এখন কি করা হয়? কাকিমাই আমার হয়ে উত্তর দিলেন—কি আবার করবে? এই তো কিছুদিন আগে রেজাল্ট বেরিয়েছে। ক’দিন একটু আনন্দ করুক তারপর ভাববে কি করা যায়। দু এক কথার পর কাকিমার সাথে চলে এলাম বা বলা ভাল পালিয়ে এলাম। অনেকটা ছোটবেলায় দেখা বাংলা সিনেমার কমল মিত্র। কাকিমাকে দেখে যতটা ভরসা পেলাম ওনাকে দেখে ততটাই ভয়। ... ...

বাংলার সাম্প্রতিক হাল হকিকত। ... ...


জীবন পথের প্রতিটি বাঁক উন্মোচিত করে এক একটা অচেনা নতুন দিগন্ত। উত্থান-পতন, হর্ষ-বিষাদ, ভাল-মন্দের আস্বাদ নিতে নিতে কিছুটা যাওয়ার পর পথটার সাথে যখন একটু সড়গড় হয়ে যাই তখনই দেখি আর একটা বাঁকের মুখে দাঁড়িয়ে আছি। ঘুরেই মুখোমুখি হতে হবে আবার একটা অনিশ্চয়তায় ভরা সমস্যা সঙ্কুল নতুন পথের। একটু ভুল পদক্ষেপ হলেই বিপদ। ... ...

এ সমস্ত ঐতিহাসিক মতাদর্শগত নৈতিক অবস্থানের জায়গা থেকেই বিজেপি দলটি দেশের ঘটে চলা ক্রমবর্ধমান ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্বপূর্ণ জাতি হিংসা এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী-পিতৃতান্ত্রিক নারী হিংসা ও ধর্ষণের পক্ষ নেয়। এমন অবস্থান তারা নিজেদের দলের ভেতরেও অনুশীলনের ক্ষেত্রে যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করে। এর ফলে রাজ্য বিজেপি দলটির ভেতরেও নারী নেত্রী, কর্মীর আত্মহত্যা খবর সমাজের বুকে উঠে এসেছে। এখন এরাই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অসহায়তার সুযোগে, ফাঁক তালে এ রাজ্যে ক্ষমতা দখলে আর.জি.করের মর্মান্তিক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার রাজনৈতিক সৎকার করতে চাইছে। এ কী রাজ্যের নারী সমাজের অপমান বলে গণ্য হবে, নাকি বিজেপির ঐতিহাসিক মতাদর্শগত নৈতিকতার সন্মানের পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে? ... ...


বীরদের মিছিল আসছে। তাদের যে গপ্পোটা প্রথম থেকেই বিপুলভাবে ছড়ানো হচ্ছে হোয়াটস্যাপ এবং অন্যান্য সমাজমাধ্যমে, নিশ্চয়ই প্রায় সবাই পড়েছেন। হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটির বয়ান অনুযায়ী, ঘটনাটা কোনো একজন একা ঘটায়নি। ঘটানো সম্ভব না। খুনের আগে নিঃসন্দেহে হয়েছে গণধর্ষণ।যারা করেছে, তাদের মধ্যে আরজিকরের অধ্যক্ষ ছিলেন। তা ছাড়া, যারা সঙ্গে ছিল সবাই সংখ্যালঘু। একজন ছাড়া, যাকে তৃণমূল-নেতার ছেলে ভাবা হয়েছিল। এবং গল্পে আছে একটি মেয়েও, সেও সংখ্যালঘু, যে নাকি নির্যাতিতার বেস্ট ফ্রেন্ড, এবং পুরোটা চলার সময়, সে নির্যাতিতার হাত চেপে ধরে ছিল। ... ...