
শোভাময়ী সান্যালের রহস্যভেদ - না, রক্তারক্তি নেই - সাঁ সাঁ দৌড় আর কিঁইইইইচ আওয়াজে কার চেজ্ নেই। ... ...

“প্রায় সব দেশের দেবতারাই দাবি করেন যে তাঁরা জগৎ সৃষ্টি করেছেন। অলিম্পিয়ানদের কিন্তু তেমন কোনো দাবি নেই। তারা যদি কিছু করে থাকে, তবে তারা সেই জগৎ জয় করেছে... এইসব দেশ জয়ের পরে তারা করলো কী? সরকার গঠন করলো? কৃষির প্রসার করলো? শিল্প-বাণিজ্য – এসবের বিস্তার করলো? মোটেই না। গায়ে গতরে তারা কেন খাটতে যাবে? খাজনার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা আর বেয়াদব প্রজার মাথায় আক্ষরিক বজ্রাঘাত করা বরং অনেক সহজ। এরা সব যুদ্ধজয়ী সর্দার, রাজানুগ্রহে পুষ্ট দস্যু। এরা লড়াই করে, ভোজ দেয়, এরা ক্রীড়ামোদী, সঙ্গীতপ্রেমী; এরা আকণ্ঠ পান করে, ফরমায়েশি ভৃত্যকে নিয়ে তামাশা করে অট্টহাস্যে ফেটে পড়ে। নিজেদের রাজা ছাড়া তারা আর কাউকে ভয় পায় না। এরা প্রেম আর যুদ্ধ ছাড়া কখনো মিথ্যাচার করে না।” ... ...

আশির দশকে যাদবপুরের কয়েকটি ছাত্রছাত্রী শুশুনিয়া পাহাড়ে গেছে শৈলারোহণ অভ্যাস করতে - সেই ভিত্তিতে এই আখ্যান …ওর দিকে না তাকিয়ে আত্মমগ্ন হয়ে কথাগুলো বলছিল ঈশু। সুমন ভাবে, হোলো কী মেয়েটার! এমন ভাবালুতা তো আগে কখনো দেখেনি ওর মধ্যে? দুরে তাকিয়ে আছে ঈশু। কিছুই সেভাবে দেখছে না হয়তো। জোৎস্নায় চরাচরের অস্পষ্টতা কিছুটা স্পষ্ট হয় মাত্র। বিশেষ কিছু বোঝা যায় না। ঈশুর দৃষ্টিতেও তেমনি বিহ্বল শুন্যতা। মুখের ধারালো আভিজাত্য মৃদু বিষন্নতায় মোলায়েম দেখায়। একটু আগে আগুনের পাশে নৃত্যরতা উচ্ছল মেয়েটাকে খুঁজে পায় না সুমন। ওকে দেখে আগেও সুমনের মনে হয়েছে হয়তো ওর কোনো বিষাদময় অতীত আছে। যা ও লুকিয়ে রাখতে চায়। তাই আপাত কাঠিন্য দিয়ে ঢেকে রাখে নিজেকে। কিছু অসতর্ক মূহুর্তে তা সামান্য প্রকাশ হয়ে পড়ে ... ...


ওদিকে শামুক বারবার দৌড়ে বাবার কাঁধে উঠে পড়তে চাইছে, কিন্তু নাগাল পাচ্ছে না। আজ দুপুর থেকেই তার মাথায় একটা ঝোঁক চেপেছে, ফলের খালি সাজিটা বাবার মাথায় পরিয়ে দেবে। এক সময় হতাশা জেগে উঠে তার অন্তরে, “কবে যে ছোট হবে নানাটা!” ... ...

ধ্যান এবং সাধারণ অবস্থা ... ...

টেন্টকে টার্গেট করে ফোর্স মাটিতে শুয়ে আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল। ঠিক সাড়ে তিনটের সময় টেন্টকে টার্গেট করে শুরু হল ফায়ারিং। সঙ্গে সঙ্গে গুলি চালিয়ে রিপ্লাই দিল সেন্ট্রিও। কিন্তু তা খুব সময়ের জন্য। সেন্ট্রিও তখন ফোর্সের নাইট ভিশন ডিভাইসের নাগালের মধ্যে এসে গেছে। সে দাঁড়াতেই পারল না বেশিক্ষণ। সেন্ট্রি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর ফোর্স তখন পুরো রেঞ্জের মধ্যে পেয়ে গেছে টেন্টটাকে। মিনিট দশেকের টানা ফায়ারিং চলল টেন্টকে টার্গেট করে। টেন্ট থেকে কেউ কাউন্টারই করতে পারল না। ... ...


শোবার ঘরে এসে দেখে ল্যাম্পের আলো তখনও জ্বলছে, বিছানার পাশে বই খোলা, অরুণাভ ঘুমিয়ে পড়েছে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে রাখা বোতল থেকে জল খায় বিনীতা, তারপর আস্তে আস্তে বইটা সরিয়ে রাখে, আলোটা নিভিয়ে দিতে গিয়েও দেয় না। স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে কয়েক মুহূর্ত। গোল, দাড়ি গোঁফ কামানো মুখ, ডান দিকের গালের উঁচু অংশে একটা কালো জরুল। নাকের এক পাশে ল্যাম্পের আলো পড়ায় অন্য দিকে ঢালু হয়ে আবছা অন্ধকার নেমে এসেছে। অপারেশনের ধকল সামলাতে বা অন্য কোনও কারণে চোখের নিচে কালি পড়েছে তার। বিয়ের একেবারে প্রথম দিকে ছাড়া আর কখনও ঘুমন্ত স্বামীকে লুকিয়ে দেখেছে কি সে? ... ...

আশির দশকে যাদবপুরের কয়েকটি ছাত্রছাত্রী শুশুনিয়া পাহাড়ে গেছে শৈলারোহণ অভ্যাস করতে - সেই ভিত্তিতে এই আখ্যান … অমিয়দা সুমনকে বুকে জড়িয়ে ধরেন, "আরে ঠিক আছে, ঠিক আছে।" হয়তো উনি পাহাড়ে দেখেছেন এর চেয়েও অনেক জটিল পরিস্থিতি, এতো কিছুই নয়। তাই বোঝেন একটু সময় দিলে অনেক ভুল বোঝাবুঝি ঠিক হয়ে যায়, গভীর অভিমানও গলে যায়। তখন নৈঃশব্দও বাঙময় হয়ে ওঠে। আলতো করে বাঁ হাত দিয়ে সুমনের পিঠে হাত বোলান। সেই হাত, যার মধ্যমার কিছুটা নেই। তবে তাতে উষ্ণতায় কোনো ফারাক বোঝা যায় না ... ...

পান্থজনের সখা নামেন ধুলায়? এলোমেলো দুঃখগুলি জমাতে জমাতে --- কেউ কেউ কবে যেন আলো হয়ে যায়। ... ...

বামপন্থীদের এই রাজ্যে সাফল্য পেতে গেলে আগে কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের পতনের জন্য সচেষ্ট হতে হবে। তার জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। তাই বলে সঙ্গত কারণে রাজ্য সরকারের বিরোধিতার পরিসরটি ছাড়লে চলবে না। যদিও একটা স্ববিরোধিতা আছে সিপি আই এমের। দেখা গেছে, সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তার যে ঘোষিত নীতি তাতে স্পষ্ট বামপন্থী অভিমুখ থাকে। কিন্তু ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যে শাসনক্ষমতায় দীর্ঘদিন থাকলে সেই অভিমুখ থাকে না।সবার আগে কর্মসূচীকে শ্রেণীরাজনীতির ভিত্তিতে, প্রান্তিক মানুষের স্বার্থে পুনর্নিমাণ করা দরকার। ... ...

নানা প্রকারের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখানো যায় যে সূর্য এবং পৃথিবী দুই-ই অত্যন্ত বিশিষ্ট, মহাজগতের সাপেক্ষে। ... ...



অথচ আমাদের ভিতরে যদি একটু শ্রদ্ধাবোধ থাকত ভিন্ন ধর্মের প্রতি তাহলে ঈদের এই উৎসবে সহজেই সবাই অংশ নিতে পারত। কিন্তু দিনদিন যেন কঠিন থেকে কঠিন হয়ে যাচ্ছে সব কিছু। কুরবানির ঈদ যেন নগ্ন হয়ে আক্রমণ করা হয় ভিন্ন ধর্মালম্বিদের। রাস্তাঘাট রক্তে সয়লাব! একটু বিচক্ষণ হলে এগুলা থেকে সবাইকেই রক্ষা করে চলা সম্ভব। কিন্তু ওই যে বললাম, সংখ্যাগুরুর দম্ভ! নগ্ন প্রদর্শনী চলে! বকরি ঈদে ফিরে যেতে পারলে অনেক কিছুই অনেক সহজ হয়ে জেত, কিন্তু আমরা তো জেদ করে বসে আছি যে কোনমতেই এক বিন্দু ছাড় দিব না। ... ...

১৯৬৩ সালের কথা – “স্টেট মিউচ্যুয়াল লাইফ ইনসিওরেন্স অব আমেরিকা” কোম্পানী তখন সবে অন্য একটা ইনসিওরেন্স কোম্পানীকে অধিগ্রহণ করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই সেই অধিগ্রীহিত কোম্পানীর কর্মচারীদের মানসিক অবস্থা বা ‘মরাল’ তেমন যুতের নয়। তখন সেই বড় কোম্পানীর কর্তারা ভাবতে বসলেন যে কিছু করে কি এই নতুন কর্মচারীদের মরাল এর উন্নতি করা যায়? ডাকা হল তখনকার দিনের বিখ্যাত অ্যাডভার্টাইজ এবং পাবলিক রিলেশন বিশেষজ্ঞ হার্ভে বল-কে। হার্ভের তখন নিজের ফার্ম ছিল ম্যাসাচুয়েটস-এ। তিনি প্রথমে ওই ইন্সিওরেন্স কোম্পানীর প্রস্তাব শুনে ভাবলেন, এ আবার কেমন কাজের অনুরোধ! কিন্তু তবুও বললেন, তিনি ভেবে দেখবেন। হার্ভে-কে খুব বেশী দিন এই নিয়ে ভাবতে হয় নি। ইনফ্যাক্ট যেদিন তিনি এই অ্যাসাইনমেন্টের প্রস্তাব পান, সেই দিনই বিকেলে তিনি ড্রয়িং বোর্ডের সামনে ভাবতে শুরু করে একসময় এঁকে ফেললেন একটা হলুদ বৃত্ত, এবং তার ভিতরে দুটো ছোট বৃত্ত এবং একটি অর্ধবৃত্ত! ... ...

স্মৃতির সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে চলে গেলাম সেই শৈশবের কোন এক ঈদে, আব্বা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, মামারা ইতোমধ্যে ঈদের শার্ট, প্যান্ট কিনে দিয়েছেন, খালা কিনে দিয়েছেন জুতো, কিন্তু এরপরও আমি কাঁদো কাঁদো, আমার যে অন্য সবার মত দুই সেট জামা চাই, সকাল ও বিকালে বদলে পরার জন্য। ... ...

বাবার কথা ... ...

প্রথম পর্বে আমরা ধ্যান কি ও অনপণসতী নিয়ে লিখেছিলাম। এবারের পর্বে আমরা দেখবো এই ধ্যানের উৎস, মানব মনের প্রবাহ, প্রথম দিকের ব্যবহারিক প্রয়োগ, ধ্যান ও মানব মনের বিচিত্রতা নিয়ে ক্লিনিক্যাল গবেষণা কি বলে ও স্নায়ুবিজ্ঞানের অতি প্রাথমিক কিছু ধ্যান ধারণার অবতারণা। আরো পাঁচটি বিষয় নিয়ে কিঞ্চিৎ ধারণার সূত্রপাত। ... ...