
উড়ে যায় উড়ে যায় সময়ের পাখা বেয়ে একদা মূর্ত যত দৃশ্যপট, আকৃতি --- রয়ে যায়, কি মায়ায় তাদের জড়িয়ে রাখা সেই ঈশা পার্বতী! অনাদি অনন্ত সে শক্তি বুঝি বলে দেয় ঃ কিছু ছাড়ো তবে পাবে পূর্ণতার স্বাদ--- অন্যথায় জীবন বিস্বাদ। ... ...




যদুবাবু একটি চমৎকার লেখা লিখেছেন গুরুচন্ডালির বুলবুলভাজা বিভাগে। না পড়ে থাকলে অবশ্যই পড়ে দেখুন। লিঙ্ক এইখানেঃ, লেখাটি পড়ে ভাবলাম লেখাতে অনুল্লেখিত দু-একটি বিষয়ের ওপর আলো ফেলার চেষ্টা করা যেতে পারে। ... ...


হেমিস ফেস্টিভাল ২০২৫ ... ...


নেই নেই কিছু নেই--- যা দিয়ে "আশ্চর্য" কিছু তুলে ধরা যায় --- নেই কোনো আদি অন্ত --- নাটকীয় কোমল গান্ধার ; এই গল্পে কোনো নাও ভিড়বেনা কোনো কিনারায়--- (শুধু )চুপকথাগুলি যদি বেখেয়ালে উড়ে এসে পড়ে --- কোল পেতে থাকে দিলদার। ... ...

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এইটা নিয়ে বেশ সরব। তীব্র ভাষায় শুধু মাত্র বাংলায় কথা বলে দেখে ধরে ধরে বাংলাদেশে পাঠায় দেওয়ার সমালোচনা করেছেন তিনি। এইটা শুধু মমতা কেন করছে আর বাকিরা কেন চুপ করে রয়েছে তা আমার জানা নাই। এইটা নিয়ে তো রাজনীতি অন্তত পশ্চিমবঙ্গে থাকার কথা না। কিন্তু অবাক হয়ে দেখতে হচ্ছে যে তাই হচ্ছে। শাসক দলের কর্মকাণ্ড চোখ বন্ধ করে সমর্থন দেওয়ার যে রীতি প্রচলিত আছে তা এখানেও কাজ করে চলছে। অথচ এই বিষয় নিয়ে দলমত নির্বিশেষে এক থাকলে চেহারাটা অন্য রকম হতে পারত। গুজরাটে হাসান শাহর কথা লিখেছি ওপরে, তাঁকে সম্ভবত ধর্মের কারণে ধরে ফেরত পাঠিয়েছে, বাংলাদেশের মিডিয়া তেমনই প্রচার করেছে। যদিও তার পরিবার পশ্চিমবঙ্গের বলে সে জানিয়েছে। কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে? বীরভূমের বাসিন্দা আর্জিলা বিবি সুইটি বিবি ও দুই নাতি– ১৬ বছর বয়সী কুরবান শেখ ও ছয় বছরের ইমাম শেখকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে জানা যায় দিল্লীতে বাংলাদেশী বলে আটক হয়েছে তাঁরা। একই রকমের গল্প হচ্ছে সোনালি খাতুন, তার স্বামী দানেশ শেখ ও তাদের ছেলে সাবির শেখের। বীরভূমে বাড়ি তাদের। বাংলাদেশী বলে আটক! এই দুই পরিবারকে ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইন করা হয়েছে! এমন আরও কত কত নাম আছে। মুর্শিদাবাদের লোক আছে, পুরুলিয়ার লোক আছে। ভাষার কারণে বাংলাদেশে বিপদে পড়ছে। এমন একটা সময় যখন এই দেশে ভারতীয় নাগরিক এইটা খুব স্বাচ্ছন্দ্যকর তথ্য না। তাই তারা কেমন আছে, সুস্থ আছে না বিপদে আছে তা জানাও এখন সহজ না। বাংলাদেশের মিডিয়া পুশ ইন নিয়ে যতটা আগ্রহী, পুশ ইন হয়ে যারা আসল তাদের অবস্থা কেমন, কই আছে তা নিয়ে তাদের আগ্রহ কম। ... ...


মিঠুদিদি হাসল, বলল, “তুই না ডাকলেও আসব, পুরুষরাই বুঝি আজীবন ডাকাতি করে যাবে মেয়েদের ওপর, আমিই বা কম কিসে, শুনি”? ... ...




কলকেতা, ডায়মন্ড হারবার, রানাঘাট, তিব্বত - সাকুল্যে সওয়া ঘন্টার পথ। পশ্চিম বঙ্গ, দিল্লি-বম্বে-মাদ্রাজ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, আর তারপর সিধে বিলেত-আমেরিকা, সেও সওয়া ঘন্টারই পথ। মাঝে আবার আরব দেশগুলিও আছে, মধ্য-প্রাচ্যের দুবাই-আবুধাবি-সৌদি। ... ...

এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কনভোকেশন উপলক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এক মাননীয় অতিথি। দীক্ষান্ত ভাষণে তিনি এই সময়ের শিক্ষা নিয়ে এমন কিছু বৈপ্লবিক কথা বলেছেন যা রীতিমতো শিহরিত করে। যে কথা বলার চেষ্টা করছি বলে রক্ষণশীল বলে গাল শুনতে হয়, সেই সব কথাই বাঁধভাঙা জলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সকলের মাঝে। এই নিবন্ধ সেই বক্তব্য নিয়েই। ... ...

এখানে মৃত্যুর দেবতা যম ও নচিকেতার আলোচনার বিষয় - ব্রহ্মের স্বরূপ কেমন? ... ...

বাংলা তিনবার ভেঙেছে। প্রথম বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫ সালে। প্রতিবাদে সারা বাংলা জুড়ে রাখিবন্ধন হয়েছিল সেবার। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ রাস্তায় নেমেছিলেন। অবনীন্দ্রনাথ লিখেছেন, "রবিকাকা বললেন, সবাই হেঁটে যাব, গাড়িঘোড়া নয়।—রওনা হলুম সবাই গঙ্গাস্নানের উদ্দেশ্যে। রাস্তার দুধারে বাড়ির ছাদ থেকে আরম্ভ করে ফুটপাত অবধি লোক দাঁড়িয়ে আছে—মেয়েরা খই ছড়াচ্ছে, শাঁখ বাজাচ্ছে, মহা ধুমধাম—যেন একটা শোভাযাত্রা, দিনুও সঙ্গে ছিল, গান গাইতে গাইতে রাস্তা দিয়ে মিছিল চলল—বাংলার মাটি, বাংলার জল বাংলার বায়ু, বাংলার ফল পুণ্য হউক পুণ্য হউক পুণ্য হউক হে ভগবান।" তারপর সেটাই একটা মিছিল হয়ে গেল। যাকেই সামনে পাওয়া যাচ্ছে, তার হাতেই বেঁধে দেওয়া হচ্ছে রাখি। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে। প্রায় অনাবৃত ঊর্ধাঙ্গে কলকাতার রাজপথে হাঁটছেন রবীন্দ্রনাথ। পাথুরেঘাটা গিয়ে মিছিল যাচ্ছে, বীরু মল্লিকের আস্তাবলে গিয়ে মুসলমান সহিসদের হাতে রাখি পরিয়ে দিলেন রবীন্দ্রনাথ। তারপর চললেন চিৎপুরের বড়ো মসজিদের দিকে। মসজিদে যাঁদের পাওয়া গেল, সবাইকে পরানো হল রাখি। তাঁরাও খুশি মনে হেসে রাখি পরেছিলেন সেদিন। এই ঐক্যের তাপে ইংরেজ বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব রদ করতে বাধ্য হয় একটা সময়। ... ...

ভাইরাল হওয়ার জন্য বুদ্ধি দরকার? কত বুদ্ধি আছে ভাই। এমন এমন সব কাজ করবেন যা কোনদিন কেউ করে নাই। মায়ের দাফনের সময় ডিজে পার্টির আয়োজন করলেন, ভালো ক্যামেরায় সব ধারণ করে ছোট ছোট রিলে মুক্তি দিলেন অনলাইনে! কিংবা আবহ সংগীত সহ বাপের লাশ দাফন! মিউজিক ভিডিওর মত করে বাপের লাশ নামানো দেখাইলেন, কোটি কোটি ভিউ! বা ধরেন কেউ আপনার বোনের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করছে, আপনি বাধা দিবেন? না। আপনি ভিডিও করুন। ভিডিওতেই রাগ করুন প্রচণ্ড, ওকে পাইলে ছিঁড়ে ফেলবেন, মাথা ভেঙ্গে দিবেন ইত্যাদি বলতে থাকুন। ভিউ নিশ্চিত। টাকা কামাই করা হচ্ছে মূল কথা, বাকি সব গৌণ। তার জন্য যদি আগুনে পোড়া শিশুকে দিশেহারা হয়ে দৌড়াতে দেখেন তখন দ্রুত ক্যামেরা চালু করুন, ভিডিও করুন। এই ভিডিও ক্লিপই আপনার ভাগ্য বদলে দিবে। কয়জনের কাছে আছে এমন ভিডিও? ভাগ্য দেবতা আপনাকে আজকে এখানে মোবাইল সহ উপস্থিত করেছে, আপনি তো ঘুমায় থাকতে পারতেন, বা আপনার মোবাইলে সময় মত চার্জ নাও থাকতে পারত, পারত না? সব মিলিয়েই তো মোক্ষম সুযোগটা পেয়েছেন আপনি, ভিডিও করবেন না? ছবি তুলবেন না? আশ্চর্য! ... ...