
তা হলে এর শেষ কোথায়? সমাধানের প্রথম ধাপ অবশ্যই অন্যায় স্বীকার করা। এবং তার পরের ধাপে সেই অন্যায় আর যাতে না-হয়, তা নিশ্চিত করা। আহমদী, হিন্দু, ক্রিশ্চান, শিখ, অন্য সমস্ত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে ঘৃণার চাষ হয়ে চলেছে আমাদের জনতার চৌহদ্দিতে, তাকে বন্ধ করতে হবে। একদিনে এই ঘৃণা নিশ্চিহ্ন হবে না, ঘরে বসে শুধু "নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক!' ভাবলেও তা নিশ্চিহ্ন হবে না। মুখ খুলতে হবে। আলোচনা চালাতে হবে। ... ...

সম্পর্কস্থাপন কার কার মধ্যে? মানুষ/না-মানুষের মধ্যে সম্পর্কস্থাপন? আমরা এই সম্পর্কস্থাপনের এক বয়ান দেখি পশ্চিম/উত্তরের তূলনামূলক নৃতত্ত্বে। সেখানে আমরা প্রাচ্য/দক্ষিণের নির্মাণ হতে দেখি - প্রাচ্য/দক্ষিণের মানুষ (সংস্কৃতি) যেন প্রকৃতির সাথে এক সঙ্গতিতে, হারমনিতে অবস্থান করছেন। প্রাচ্য/দক্ষিণের মানুষ যেন প্রকৃতির সন্তান - প্রকৃতির কোন এক কুলুঙ্গিতে তাদের ঠাঁই। এই ভাষ্যে প্রকৃতি/সংস্কৃতির বিভাজন স্বত:সিদ্ধ কারণ, এই বিভাজনের বাস্তবতা ব্যাতিরেকে দুটি ক্যাটিগরীর সঙ্গতির গল্প বলাই যায় না। ... ...

কর্পোরেটাইজড পুলিস স্টেটের চেহারা বাস্তবে কিরকম হতে পারে কলিঙ্গনগরের দিকে তাকালেই তা বেশ মালুম হবে। উড়িষ্যা হাইকোর্টে দাখিল করা দুটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিসের ভূমিকা যখন স্ক্যানারের তলায়, কার্যসিদ্ধি করবার জন্য পুলিস চমৎকার স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে। বাইরে থেকে আদিবাসীদের নিয়ে এসে প্রথমে স্থানীয় প্রতিবাদীদের সাথে লড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তারপর "আইনশৃঙ্খলা' রক্ষার জন্য পুলিস হস্তক্ষেপ করছে। ... ...

এই সংস্থার এক্তিয়ারভুক্ত কোন বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যাবে না বা কোন আদালত সংস্থার এক্তিয়ারভুক্ত কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে যার দেওয়ানি আদালতের সমতুল্য ক্ষমতা থাকবে। অভিযোগ সংক্রান্ত ঘটনা ঘটার দু বছরের মধ্যে আবেদন করতে হবে নতুবা আবেদন গ্রাহ্য হবে না। ফৌজদারি অভিযোগ থাকলে ঈশ্বর না ট্রাইবুনাল কার শরণাপন্ন হতে হবে সে সম্পর্কে কিছু বলা হয নি। ... ...

আবার পরিবেশ আন্দোলনের অংশ হিসেবে পরিবেশবাদ স্বদেশী/সংরক্ষণবাদের সাথে ধারণাগতভাবে জীববৈচিত্র রক্ষার কর্মকাণ্ডে মিশে যায়। এই ধারণাতেও এক অপরিবর্তনশীল প্রকৃতির কল্পনা করা হয় যেখানে বহুবিচিত্র জীবজগতের অস্তিত্ত্ব যেন শুধুমাত্র মানুষের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমিত। এই ধারণায় স্বাভাবিকভাবেই বাদ পড়ে যায় ইকলজির বিবর্তনের সম্ভাব্যতার কথা, ইকলজির চলমান গতিশীলতার কথা। বাদ পড়ে যায় সেই সব জীবাশ্মের কথা যারা আমাদের অন্তত কিছুটা দুর্বলভাবে হলেও জানিয়েছে যে বিবর্তনের ইতিহাসে পৃথিবীতে মানুষ আসার আগেই ৯৯.৯ শতাংশের বেশী জীবকূল লুপ্ত হয়ে গেছে। ... ...

সমস্যা হ'ল, "ভাল' কী, অথবা "ভাল'-র সংজ্ঞা কী ক'রে নির্ণয় করতে হবে, কোন বিষয়েই যদি দুজনের মত না মেলে, তাহলে তর্ক একটুও এগোতে পারবে না, বরং পেছোতে থাকবে। কাজেই তর্ক শুরুর আগে দেখে নিতে হবে, কোথাও যেন একটু জমি থাকে, যেখান দুজনে একসাথে দাঁড়াতে পারেন, সেখান থেকেই তর্কটা শুরু হতে পারে। একবার সেই জমিটুকু থেকে কথা শুরু হ'লে শচীন-সৌরভের তুলনামূলক বিচার না হোক, ভাল খেলোয়াড় বা খেলার সংজ্ঞা, কিংবা দল বড় না ব্যক্তি, এই নিয়ে কিছু সার্থক আলোচনা হতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ সেই জায়গাটুকু না খুঁজে পাওয়া যায়, ততক্ষণ একজন তামিলে আর অন্যজন ভোজপুরীতে কথা বলছেন - আলোচনা অসম্ভব। ... ...

উন্নয়নের নামে উড়িষ্যার আদিবাসীদের এর আগেও নিজেদের বাস্তু, গ্রাম, জীবন জীবিকা থেকে উচ্ছেদ হতে চেয়েছে, যদিও তখন এই উচ্ছেদ হয়েছে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের নামে। হিরাকুঁদ বাঁধ বা রাউরকেলা ইস্পাত কারখানা স্থাপনের জন্য যে কয়েক লক্ষ আদিবাসী মানুষ তাঁদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়েছিলেন, তারা কিন্তু সেই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উদ্ভুত বিদ্যুৎ বা সেই শিল্পায়নের কোন সুফল লাভ করতে পারেননি। বরঞ্চ, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য তাঁরা আজ নি:স্ব। ... ...

নাইন লাইভস এ সাধারণ মানুষের এই ধুলোকাদা মাখা গল্পগুলোর মধ্যেই ফুটে ওঠে লেখকের এক প্রচ্ছন্ন হতাশা। সেই কিশোরী বারাঙ্গনার দুই মেয়েই আজ এইডস রোগে আক্রান্ত। আজকের এই শহুরে বাজার-সর্বস্ব জমানায় যে হাজার হাজার গ্রামের মানুষ এসে ভিড় করছেন শহরে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানির ব্যবসার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বহু মানুষ, যা একদিকে করুণ আবার হয়ত অন্যদিকে অবশ্যম্ভাবী, তাতে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে এই সনাতন, প্রাচীন, উপমহাদেশ। ... ...

যুদ্ধ থামানোর গানের কথা মনে পড়ে। কি অদ্ভুৎ কাকতালীয় এই প্রস্থান। নাকি ইঙ্গিতবাহী বলবো? সরকারী প্রযোজনায় যাঁরা আগে যুদ্ধ থামাতে গান গেয়ে ফিরতো, আজ সরকারী যুদ্ধের দামামার মধ্যেই তাদের একজনের প্রস্থান। হীরক রাজ্যে বড়ো সুখের সময় ছিলো সেটা। আমলা আর মন্ত্রীদের বাড়বাড়ন্ত, বাকিদের নিত্য অনশন। রাজ্য জুড়ে অবিশ্বাসের বিষবাষ্প, স্বয়ং রাজারও নিস্তার নেই। নিজেদের চারপাশে তাকালেই এই অবিশ্বাসের হাওয়া টের পাই। খুব দ্রুত একটা আশচর্য্য প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থায় আমরা এসে পড়েছি, এখানে শুধু কাজ আর টাকা, লালচোখ আর চাবুক। এখন কেউ কেউ যুদ্ধ করেই চলবে। এই যুদ্ধ ও আগামী অনেক যুদ্ধই চলবে বহুদিন ধরে। যতক্ষণ না শেষ মানুষটা মারা যাচ্ছে ততদিন। এখন যন্ত্রের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়িয়ে কথা বলারও নেই কেউ। আমাদের চারপাশে অযুত যন্ত্রমানবেরা ঘুরে ফিরবে। তাদের অর্থলিপ্সা, সাফল্য আর বিকৃতকাম পর্বতপ্রমাণ হয়ে উঠলেও গদি টলাতে কেউ এগিয়ে আসার নেই। ... ...

নিজের ঘরেই পাওয়া গেলো রামচন্দ্র সিরাসের মৃতদেহ। সিরাসের এই মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু, হত্যা না আত্মহত্যা, তা এখনো জানা যায়নি, ঠিক যেমন আজ অব্দি নিশ্চিতভাবে জানা যায় নি টুরিং-এর মৃত্যুর কারন। চলছে এবং চলবে নিয়মমাফিক পুলিশি তদন্ত। সত্য কি জানা যাবে? শাস্তি কি পাবেন এ এম ইউ-র সেই কর্তৃপক্ষ যারা সিরাসকে সাস্পেন্ড করেছিলেন, প্রাইভেসির অধিকার এবং সমানাধিকারকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে? কি শাস্তি হবে তাদের যারা শ্রী সিরাসের ব্যাক্তিগত জীবনকে টেনে এনেছিল মিডিয়ার হাটবাজারে? প্রসংগত, মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে, ১ই এপ্রিল, সিরাসের পক্ষেই রায় দিয়েছিলো এলাহাবাদ হাইকোর্ট, তার সাসপেনশনের উপরে স্টে অর্ডার জারি করে। কিন্তু আইনের লড়াইতে জিতে গেলেও শেষরক্ষা হলো না। কোনও এক অজ্ঞাত কারনে কোর্টের অর্ডার অনেক আগেই হাতে পাওয়া সত্তেও কর্তৃপক্ষ তা কার্যকরী করার নির্দেশ জারি করলো ৮ই এপ্রিল, সিরাসের মৃত্যুর ঠিক এক দিন পরে! ... ...

এটাই শম্ভু মিত্রর আর্টের মূল কথা। চর্বিতচর্বন নয়। নতুন করে ভেবে কিছু করা। নতুন হতে হবে, ভাবনাও থাকতে হবে। বিভিন্ন প্রসঙ্গে, নানা ফর্মে এই কথা বারবার উঠে এসেছে - "(যেমন ফিল্মে করা হয়।) আমি জানি যে দেখলে পরে একটা ইমোশন জাগাতে হবে। যেগুলো স্বীকৃত। একটা মেয়ে একদম শাদা শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছে, হাওয়ায় চুলগুলো উড়ছে, মুখটা শুকনো। দেখালে, বেশ তাকে কেমন দু:খের প্রতীক বলে মনে হবে। এই-যে জানা ছবি, এইটেকে দেখালে আমি ভালো ছবিকার হব। এই তো? কিন্তু এতে ভাঙাটা কোথায়? ছাঁচ ভেঙে ফেলাটা কী করে আসবে? ছাঁচ ভেঙে ফেলতে গেলে পরে আমার চিন্তাটা না প্রকাশ করলে তো হবে না?' ... ...

পুলিশের বক্তব্য অনুসারে লক্ষ্মণবাবুর দেহ পোস্টমর্টেমের পর বুধবার রাতেই তাঁর আত্মীয়দের হাতে তুলে দেওয়া হয়, আর সেদিনই পুরীতে দাহ করা হয় দেহ। লালমোহন জামুদা, লক্ষ্মণ জামুদার ভাইপো সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে তাঁদেরকে মৃতদেহ দেখানো পর্যন্ত হয় নি। বারো তারিখ রাতেই তাঁকে কলিঙ্গনগরে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তাঁর বোন শম্ভরি কুরলি ও তাঁর স্বামীকেও ডেকে পাঠানো হয়। তারপর ত্রিজঙ্গা গ্রামে তাঁদেরকে একটা ঘরে আটকে রাখা হয়েছিলো। সেখানে তাঁদের মারধোরও করা হয়, বলা হয় যে "বিস্থাপন বিরোধী জনম্ঞ্চ' এর সমর্থনের জন্য এই শাস্তি। পুলিশ তাঁদেরকে বন্দুকের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখে সাদা কাগজে সই করিয়ে নিয়েছে। ... ...

আর, এইখানেই সমস্যাটা, উল্টোদিকের পক্ষটা বেছে নিতে গেলেও দেখছি সেই কোল্যাটারাল ড্যামেজ, ভিন্ন রাজনৈতিক মত প্রকাশে মৃত্যু, পুলিশের চর সন্দেহে হত্যা, পুলিশের সঙ্গে এক বাসে যাতায়াতেও; আর, পুলিশের উর্দিপড়া যে মানুষগুলোকে যুদ্ধের নামে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে হত্যা করা হচ্ছে, তাদের মৃত্যুও কি খুব কম পীড়াদায়ক? খুব কম পীড়াদায়ক কি সংগ্রামের নামে গ্রামের পর গ্রাম ধরে আবালবৃদ্ধবণিতার মিলিটারাইজ?এশন, ইস্কুলের পথ ভুলিয়ে শিশুর হাতে ইন্স্যাস তুলে দেওয়া, বিনষ্ট শৈশব, সদাসন্ত্রস্ত গ্রামজীবন, সন্দেহের চোখে নিজের প্রতিবেশীকে দেখা, পাশের বাড়ির পাশের পাড়ার লোককে খুন করে মৃতদেহ স্ৎকারহীন অবস্থায় দিনের পর দিন ফেলে রাখা, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানানোর নামে যুদ্ধটা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া? আর, এগুলোর বিরুদ্ধে যাঁরা কথা বলছেন তাঁদেরও কি দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছেনা অপর পক্ষের লোক বলে? সশস্ত্র লড়াইয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল, শ্রেণীশত্রু (পুলিশ/ অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মী, একটু ভালোভাবে বাঁচার জন্যে পুলিশের খাতায় নাম লেখানো আদিবাসী যুবক) হত্যার রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সামান্যতম দ্বিধার অর্থ গ্রীণহান্টের বিরুদ্ধে ভয়েস অফ ডিসেন্ট না জানানোর সমতুল্যই কারণ যেকোনও একটা পক্ষ বেছে নিলেই যুদ্ধটাকে বৈধতা দেওয়া হয়ে যায়, মেনে নিতে হয় অপরপক্ষের যুদ্ধে সামিল হওয়ার স্বাভাবিকতাকেও। ... ...

স্পেশাল সেক্রেটারীর অফিস জানালো তিনি লাঞ্চে গেছেন। যেন পরে ফোন করা হয়। (যখন আমি বললাম "যতক্ষণ উনি লাঞ্চ করছেন ততক্ষণে কিছু মানুষ মারা যেতে পারে" তখন যিনি ফোন ধরেছিলেন তিনি বললেন" " হ্যাঁ, সেটা হওয়ার সম্ভাবনা আছে বটে!) ...... সন্ধ্যা ৭-১৪ : এইমাত্র খবর পাওয়া গেল অন্তত দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন নুয়াগানের নাথা সোয়েন এবং ধিনকিয়ার রমেশ দাস। এঁদের অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন। POSCO বিরোধী গ্রামগুলোতে যাওয়ার সব রাস্তা পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে। একশোরও বেশি মানুষ আহত যাদের মধ্যে অনেক শিশু আর নারীও আছেন। অথচ চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার কোন ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না, কারণ রাস্তা বন্ধ। ... ...

এই মুহূর্তে ওখানে অন্তত ৭০০ আন্দোলনকারী রয়েছেন এবং এই বিরাট পুলিশপবাহিনীর সামনে তাঁদের জীবন বিপন্ন। আসন্ন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে থামানোর জন্যে সমস্ত সচেতন নাগরিকের উদ্যোগ অপরিহার্য। এই আবেদনটিতে পস্কো-বিরোধী আন্দোলনের প্রতি সহমর্মিতে দেখিয়ে পৃথিবীর সমস্ত মানবাধিকার সংগঠনকে এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে। ... ...

আপনারা জানেন যে, দিল্লীর মনমোহন সিংহ সরকার, ভুবনেশ্বরের নবীন সরকার, ও দক্ষিন কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির মিলিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে, আমরা, ধিনকিয়া চারিদেশের মানুষরা, গত ২৬শে জানুয়ারী ২০১০ থেকে বালিতুথাতে ১০৭ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ ধর্ণা চালিয়ে আসছি। প্রতিদিন, কৃষক, মৎসজীবি, ভুমিহীন মজুর ও দলিত পরিবারগুলি থেকে হাজার হাজার নারী, পুরুষ, শিশু এই ধর্ণায় যোগ দিচ্ছেন। দু:খের বিষয় হল, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির আবেদন "জনগনের প্রতিনিধি' এই সরকারগুলির মধ্যে কোনো দায়িত্বজ্ঞান তৈরী করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ওপর, ঐ সরকারগুলি বরং পস্কো, বেদান্ত, টাটার মতো কর্পোরেটদের প্রতি অভূতপূর্ব পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছে। ... ...

পুরুষ কর্মীদের প্রাথমিক মাইনে তার মহিলা সহকর্মীর থেকে গড়ে ৪,৬০০ ডলার বেশি। প্রথমেই যে মহিলারা পিছিয়ে পরে মাইনে বা পদাধিকার কোনটাতেই তারা আর পুরুষ সহকর্মীর সাথে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারে না। ক্যাটালিস্টের গণনা অনুযায়ী ছেলেদের সিইও হবার সম্ভাবনা তার মহিলা সহকর্মীর প্রায় দ্বিগুন। অনেকেই ভাবেন মহিলাদের কত কাজ, একদিকে বাড়ি, ছেলেমেয়ে সামলে অফিসের কাজ করতে হয়। কাজের দিকে মন দেবার সময় পায় না। মায়ের জাত বলে কথা। কিন্তু সার্ভের রেজাল্ট বলছে প্রথম চাকরি বদলানোর ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে উন্নতিই লক্ষ্য। ছেলেমেয়ে প্রতিপালনের জন্য ৩% মেয়ে ও ২% ছেলে চাকরি বদলায়। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কারণ হল ভালো চাকরি, ভালো মাইনে ইত্যাদি। ... ...

চান্ডিয়াতে পুলিশের গুলি চালনায় একজন নিহত হলেন একজন, অন্তত:পক্ষে দুজন গুরুতর আহত। নিহতের নাম লক্ষ্মণ জামুদ, বয়স আনুমানিক ৫০-৫৫; আহতদের মধ্যে দুজন মহিলা- জেমার (বয়স ৩২) শরীরে ৬টি বুলেট লেগেছে এবং বাসন্তী বংকিরির (বয়স ৩০, ৪ সন্তানের জননী) পায়ের আঘাত গুরুতর। পুলিশ এবং মিডিয়া ঘটনাটিকে আড়াল করতে চাইছে, স্থানীয় সূত্রের খবর এলাকার মিডিয়াকর্মীদের পুরী নিয়ে গিয়ে টাটা কোম্পানী তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে যে পুলিশি বর্বরতার খবর প্রকাশ করা হবেনা। ... ...

সে এও ভাবে যে তাদের ছেলেবেলার এক গোপন ও স্বাদু স্মৃতির কথা - যখন সে এবং ইমলিকোবা জঙ্গলের রাস্তায় নগ্ন নারীকে হেঁটে যেতে দেখেছিল, হাঁটার ছন্দে যার স্তনদুটি দুলছে এবং দুই পায়ের ফাঁকে অন্ধকার - যা তার নাতিকে বলাই পৌরুষসুলভ হত, কিন্তু সেই কথা না বলে তাকে তার জীবনের অন্ধকার দিনগুলির কথাই বলে যেতে হয়। কারণ সে বাধ্য। ... ...

এখন আমরা জানি, শুধু রাজনীতি দর্শন নয়, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি বায়োলজিতেও দাদুর পরোক্ষ অবদান প্রচুর। ঘ্যাম নেবার জন্য অনেকেই রবীন্দ্রনাথ আর আইনস্টাইনের ছবি দেয়ালে, অর্কূট অ্যালবামে টাঙ্গিয়ে রাখে, কিন্তু জিগেস করে দেখ কী কথা হয়েছিল দুজনের বলতে পারবে না। কেউ জানে কি কী কথা হয়েছিল?? না "পদার্থবিদ্যার বিশ্ববীক্ষা ও ঊপনিষদ দর্শন এর মিলন ক্ষেত্র' টাইপ ভেগ-ভাগ উত্তর শোনার সময় নেই। এখন আমরা সকলেই জানি দাদু "আলোর ঢেউএ উঠল নেচে মল্লিকা মালতী ' গেয়ে ওয়েভ থিওরির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। ... ...