
এই অসুখের পোশাকি নাম মানডে ব্লুজ। কাজে যাবার অনীহা। বিশেষ করে রবিবার সন্ধ্যায় এই মহামারীর প্রকোপ বাড়ে। আর লোকে ভিড় জমায় এই ক্যাফেতে। বিয়ার আর বাংলা খেয়ে নিজেদের চাঙ্গা করার জন্য। টেবিলে-টেবিলে ধোঁয়া ওঠে। গজল্লায় গমগম করে চারদিক। ফুর্তির ফোয়ারা ছোটে। মেয়েরা প্রেমিকের কোলে উঠে বসে। ছেলেরা হেঁড়ে গলায় গান গায়। ... ...

দৃশ্য কবিতা ... ...

র্যাগিং নিয়ে অল্পবিস্তর চেঁচামেচি সব সময়েই হয়ে এসেছে, তবে সেই ১৯৯৫ সালে ব্যাপারটা খুব একটা উচ্চগ্রামে হত না। ফলে সিনিয়ররা, যারা মূলত র্যাগিং করত, তারা ব্যাপারটা বেশ খুল্লমখুল্লাই করত। প্রফেসররাও তাকিয়ে দেখতেন না, নাম-কা-ওয়াস্তে একটা অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি বানিয়ে তাঁরা দায় সারতেন। সেই অ্যান্টি র্যাগিং কমিটিতে থাকত কলেজের জি এস এবং আরও কিছু টপার গোত্রের ছেলে। ... ...

ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্ত ডিভাইড মুছে ফেলতে তৎ্পর.. তার জন্য তাঁরা বহুবার লোক হাসিয়েছেন। তবে আমরা হাসব না.. এতদিনে আমরা জেনে গেছি .. মা মাটি মানুষের জন্য কাজ করতে গেলে কিছু ভুলত্রুটি হয়ই.. আর তাতে নিন্দুকে হেসেই থাকে.. কিন্তু তার জন্য ভোট কিছু কম পড়ে না..তাই না হেসে আমরা ভারত সরকারের সমস্ত ডিভাইড মুছে দেবার অস্ত্র ঞ্ছআমজনতার কম্পিউটারঞ্জ এর ওপর এই লেখায় কিছু আলোকপাত করব। ভারত সরকারের নানা বিভাগ নানা সময় মা মাটির মেশিন বা আম আদমি কা কম্পিউটার বানাতে জান প্রাণ লড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বেরিয়েছে নানা অদ্ভুত যন্ত্র। নিচে গত দশ বছরের হিসেব দেখুন... ... ...

অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার সোমপেটা। এখানে নাগার্জুন কনস্ট্রাকশন কোম্পানীর প্রস্তাবিত তাপবিদ্যুত কেন্দ্রের বিরোধীতা করছেন স্থানীয় মানুষ। এলাকাটি `ইকোলজিক্যালি ফ্রেজাইল' বলে চিহ্নিত এবং প্রকল্পটি রূপায়িত হলে নিকটবর্তী এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যয়ের সন্মুখীন হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেতে যাতে কোন অসুবিধে না হয় সেজন্য বিভিন্ন সরকারি এজেন্সি গুলি দৃশ্যতই মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে জমা দিয়েছে। ১৪ ই জুলাই পুলিশি প্রহরায় প্রকল্পের কাজ শুরু হলে, জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতার উপর পুলিশ গুলি চালালে দুজন মারা যান। ... ...

খুব মেপেজুখে হিসেব করলেও অন্তত দেড়লাখ অদক্ষ শ্রমিক কাজ করছে দিল্লীতে (একসময় সংখ্যাটা চার লাখের ওপরে ছিল) ন্যূনতম মজুরীর থেকে গড়পড়তা পঞ্চাশটাকা কমে। দেড়লাখকে পঞ্চাশ দিয়ে গুণ করুন। দিল্লী শহরের সুসভ্য সমাজ-হিতৈষী মালিক-ঠিকাদার-ক¾ট্রাকটারদের দৈনিক আয়ের একটা ধারণা পাওয়া যাবে। তাও তো কমিশন, কনসাল্টেশন ফি - এইসব ধরা হয় নি এই হিসেবে! ... ...

সুতরাং, হে বীর, সাহস অবলম্বন কর। সংসার সমরাঙ্গণে যুদ্ধ কর প্রাণপণ। ¢কন্তু দোহাই তোমার, ¢নর্দলত্বের ঢ্যামনা¢ম ছেড়ে পরে নাও কোন এক দলীয় বর্ম। ব্যস, তারপরে, হে বীর, কোন শালা তোমায় ঠেকাবে? এখন হইতে তোমার সকল কর্ম পা¢র্ট অনুমো¢দত। যাও, চ¢রয়া খাও। জ¢ম লও, কারখানা বানাও, ফÔÉ¡ট বানাইয়া প্রমোটা¢র কর, রাع¡ অবরোধ কর, বন্ধ কর - যাহা ইচ্ছা কর, খা¢ল ¢নর্দলী ক¢রয়ো না। স্বাধীন ¢চন্তা ক¢রয়ো না। পা¢র্টকে অনুসরণ ক¢রও। মনে রা¢খয়ো পা¢র্ট ভুল করে না। নেত«ব«ন্দ ঈশ্বরের দূত। প্রভু তাহাদের ভুল ক¢রবার ক্ষমতা ¢দয়া প্রেরণ করেন নাই। ... ...

৩০ জুন, ভোর ৫টা। গ্রামটি ঘিরে ছিলো যৌথ বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের ৩০০ জনের একটি দল। জঙ্গলে ঝোপে লুকিয়ে ছিলো লাঠি আর বন্দুক। শেষ পর্যন্ত ওরা এলো। মাথায় কলো কাপড়, জংলা ঊর্দি গায়ে ওরা এলো অসংখ্য জিপ আর কালো ভ্যান নিয়ে। সাথে এলো ওখানকারই বীরচন্দ্রী গ্রামের বীর চাঁদেরা, সিপিএম কর্মীরা। প্রশান্ত দাস আর জিতু সাউ, স্থানীয় সিপিএম নেতা। এরা অবশ্য এর কিছুদিন আগে থাকতেই সোনামুখীতে আসছে আর শাসিয়ে যাচ্ছে মহিলাদের - ইজ্জত থাকবে না। ৩০ জুন, যখন যৌথ বাহিনী এলো তখন গ্রামের পুরুষরা সবাই গ্রাম ছেড়ে গেছে। সেটা বড়ো কিছু নয়। এ তো নিত্যনৈমিত্যিক। পুলিশ বা যৌথ বাহিনী আসছে খবর পেলেই পুরুষদের গ্রাম ছেড়ে যেতে হয়। এটাই নিয়ম। অন্যথায় মার-ধোর, জেল-হাজত, মিথ্যা মামলা-হয়রানি। সোনামুখী ও তার আশেপাশের গ্রাম বীরহান্ডি, শিমলি, বাঁকশোল, ঘৃতখাম, দিদিধা, জারুদিয়ায়ও এসব নিত্যিকার ব্যাপার স্যাপার। সরকারী খবর, সোনামুখীতে মাওবাদীরা ছিলো। অথচ সেদিন যারা আহত, লঞ্ছিত হয়েছেন দুজন বয়স্ক মানুষ বদে সকলেই মহিলা। ... ...

বিষভাবে-পীড়িত একদল ভগবতী-অন্বেষী সম্প্রতি দূরদর্শনে-সম্প্রসারিত-ফুটবল-ম্যাচ ও সাস-বহু-ধারাবাহিক সম্বন্ধে একটি দীর্ঘ তুলনামূলক গবেষণা প্রকাশ করিয়াছেন এই আখ্যানে তাঁহাদের সিদ্ধান্তেরই একটি ব্যাখ্যান পেশ করা হইল| লিখিবার সুবিধার্থে এই রচনায় ফুটবল ম্যাচকে 'ফু:' ও সাস-বহু-ধারাবাহিককে 'সাবধা' রূপে সংক্ষেপিত করা হইবে। ... ...

কথা। শব্দ। একটা শব্দ বহুদিন থেকেই আমাকে খুব ধাঁধায় ফেলে। শব্দটা হলো 'রেভোল্যুশন'। ছোটবেলা থেকেই 'বিপ্লব' কিম্বা 'রেভোল্যুশন' ব্যপারটা ঠিকমতো বুঝতে পারতামনা। মনে হতো খুব গ্রামভারী কথা। ভাবলাম রাজনীতি সম্পর্কে জানলে পরে হয়তো বোঝা যাবে এই 'রেভোল্যুশন' জিনিষটা কী। কিন্তু আমাদের ড্রাইভার কাকু তখনই আমায় RPM এর কথা বলেছিলো। আমার মনের মধ্যে আবার সব ঘেঁটে গেছিলো। বোকা ছিলাম তো ছোটবেলায়? অবশ্য বড় হবার পরেও আমার মধ্যে সেই বোকা ছোট ছেলেটা কোথাও একটা রয়ে গেছে। তাই এসব কথা শুনলে সত্যি লাগে মনে ধাঁধা। গত সপ্তাহেই দু দু'বার এই 'রেভোল্যুশন' এর সামনাসামনি পড়লাম। দুখানা ফিল্মে। ... ...

আপনার, আমার - আমাদের সক্কলের জীবনে যা একক ও স্বতন্ত্র - আমাদের সেই ডি এন এ সিকোয়েন্সকে সুরে বাঁধার এক আশ্চর্য প্রয়াস নিয়েছেন অ্যান্ড্রু মর্লে নামে এক গান পাগল মানুষ। ... ...

জম্বুদ্বীপের ঘটনাকে ""মানুষকে বাদ দিয়ে সংরক্ষণের"" এক নেতিবাচক উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয় - ""জম্বুদ্বীপের মৎস্যজীবিকা ছিলো প্রকৃতির অনুযোগী অভ্যাস - তাঁদের জাল হাতে বোনা হতো। জালের এমন ব্যবস্থা ছিলো যাতে শুধু বয়স্ক মাছ ধরা পড়তো, শিশু মাছ ধরা হতো না। তাঁরা সূর্যের আলোয় মাছ শুকোতেন। তাঁরা প্রকৃতির থেকে ঠিক ততটুকুই নিতেন, যতটুকু তাঁদের প্রয়োজন ছিলো""। এই কথাটাই তাঁদের পাশে থাকা পরিবেশবাদীরা বলতে চেয়েছিলেন। জম্বুদ্বীপের বাদা বন সমুদ্রের লবণাক্ত ঝড় থেকে মৎস্যজীবীদের পেশাকে রক্ষা করত বলেই মৎস্যজীবীরা এই বাদাবনের রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। এ তাঁদের বই পড়ে বক্তৃতা শুনে প্রকৃতি রক্ষা করার প্রয়াস নয়। একেবারে জীবিকার প্রয়োজন থেকে পরিবেশ রক্ষার চেতনা। দু:খের কথা "বিশুদ্ধ পরিবেশবাদীরা" একথা বুঝলেন না। মৎস্যজীবীদের উৎখাত করার অতি উৎসাহে তারা এমনকি বাংলাদেশ থেকে আসা দুষ্কৃতীদের চোরাচালান ইত্যাদির অভিযোগ তুললেন। অথচ জম্বুদ্বীপের অবস্থান বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে সুন্দরবনের যেকোন অঞ্চল বা দ্বীপের তুলনায় সবথেকে দূরে, পশ্চিম প্রান্তে। আর সীমান্ত থেকে ৯৬ কি.মি. দূরে এই দ্বীপে কোন চোরাচালান বা সাধারণ অপরাধের একটি অভিযোগও কখনও কোনোদিন পুলিশের খাতায় ওঠেনি। অথচ শুধু অনুমানের ভিত্তিতে এরকম অভিযোগ মৎস্যজীবীদের উচ্ছেদের যুক্তিকে সবল করেছিলো। কিন্তু আসলে উচ্ছেদের যুক্তি কি ছিলো? ... ...

জগৎ পারাবারের তীরে বিক্রম জগৎ পারাবারের তীরে লেগেছে কী ঝামেলা জুনের শেষ, জুলাই মাস ঝিলিক মরে স্বল্পবাস বাজিল বুঝি শীতের রাতে নিবিড় ভুভুজেলা ... ...

তাহলে কেটেকুটে হাতে বাঁচল কি? একদিকে খোলা হাওয়ায় সমাজ স্বীকৃতি দিতে তৈরি হচ্ছে মত ও পথের বিভিন্নতাকে, যারা এতদিন প্রান্তে অবস্থান করতেন তাদের মূলস্রোতে মিলিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন কট্টর নৈতিক জ্যঠামশাই বা মরাল মাসিমারা। এই দুই ভিন্ন মেরুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি আমরা সবাই, কেউ চোখ খুলে বা কেউ বুজে। আর উদারতা এবং গোঁড়ামির এই বিচিত্র নকশি কাঁথার দিকে তাকিয়ে দিন গুনছি আমরা অসংখ্য গে এবং লেসবিয়ানরা ... ...

এইতো দিকে দিকে লোকেরা ওঁৎ পেতে দেখছে চোখ ফেঁড়ে বিশ্বকাপ পূর্ব আভাসে ও বিশেষ মতামতে বসছে নড়েচড়ে রক্তচাপ নিরীহ কবিবর থাকেনা সাতে পাঁচে ঘোরে না মাঠে ঘাটে দিন বেবাক ... ...

একটা নতুন বই। এমন মারাত্মক, আশ্চর্য, আর গোপন - যে কেউ সেই বই পড়ছে তার জীবনটাই বদলে যাচ্ছে চিরকালের মত। প্রথম পাতাটা খুলতেই আলোর ঝলকানিতে চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে, সেই বই তার পাঠককে এক নতুন জগতে নিয়ে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে যারা এই বইটা পড়ে নি, তারা কী হতভাগ্য, তারা কী বোকা! ওসমান নিজে এই বইটা পড়েছে, সে এখনও ইস্তাম্বুলে কলেজের ছাত্র, মনে মনে জানানকে পছন্দ করে, জানান এই বইটা পড়েছে, জানানের প্রেমিক এই বইটা পড়েছে। জীবন আর ভালোবাসার বিষয়ে যা যা জানা সম্ভব, আর ভবিষ্যতে যা যা জানা যাবে, সব ওতে লেখা আছে। ... ...

মাথা নিচু হয়ে আসে। দেশের রাজধানীর সবচেয়ে হাই প্রোফাইল জায়গা, সাউথ ব্লকে চাকরি করা একজন সরকারি কর্মচারির মুখে এই কথা। কথা কিছু আলাদা হয় না যখন স্টার নিউজ বা এনডিটিভির ক্যামেরা বুম করে দিল্লির অশোক বিহারের সেই মহল্লায়, যেখানে গুজ্জর হয়ে রাজপুতকে বিয়ে করার অপরাধে মরতে হয়েছে মোনিকা আর কুলদীপকে, আর অন্য গোত্রে শুধু প্রেম করার অপরাধে মরতে হয়েছে মোনিকার বোনকেও, একই দিনে। মহল্লারই একজন জুগিয়েছে অস্ত্র, মারবার জন্য, একজন জুগিয়েছে গাড়ি, মারার পরে মৃতদেহ ডাম্প করে আসার জন্য। ... ...

যাই হোক, কাজের কথায় আসি। পঞ্জিকা থেকে পেস্টের বিজ্ঞাপন সর্বত্র বিশ্বকাপ নিয়ে কথা চালাচালি হচ্ছে। অতএব, বুলবুলভাজার কলামেও, অনিবার্য্যভাবে, এসে গেল বিশ্বকাপ। বা অন্তত উপলক্ষ্য। সবাই না হলেও, অনেকেই জানি জুন মাসের এগারো তারিখ দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ ফুটবল। ঝাঁ চকচকে নতুন স্টেডিয়ামে একের পর এক প্রিয় তারকারা ঝলমলাচ্ছে। ... ...

পুলিশের তরফ থেকে যে অভিযোগনামা দায়ের করা হয়, তাতে প্রথমে দায়ের করা অভিযোগগুলো (১৭০ ধারা - নিজেকে সরকারী পদস্থ কর্মচারী হিসাবে দেখানো। ১৭৯ ধারা - তদন্তের অধিকারী সরকারী কর্মচারীকে প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করা। ২২৯ ধারা - নিজেকে জুরি হিসবে দেখানো, ১২০(বি) ধারা - রাষ্টের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র) ... ...

"আমরা তো আর একা নই, আর একা নই' - একথা বলার সময় কী এসে গেলো! ঠিক অতটা আশাবাদী না হলেও ইউরোপিয়ান সাদার্ন অবজারভেটরির বৈজ্ঞানিকেরা দাবী করছেন তাঁরা সৌরজগতের বাইরে একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন যা ঠিক আমাদের পৃথিবীরই মত ঘুরপাক খাচ্ছে আরেকটি সূর্যের চারপাশে। এর আগে যদিও সৌর জগতের বাইরে প্রায় সাড়ে চারশো গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বৈজ্ঞানিকেরা। কিন্তু একটি গ্রহকে তার সূর্যসহ আবিষ্কার করার তাৎপর্য্যই আলাদা। আর এই পুরো শনাক্তকরণটাই হয়েছে ডায়রেক্ট ইমেজিং-এর মাধ্যমে। ... ...