
আজ দশ বছর পর সেই ঘরে দাঁড়িয়ে তিন ভাই-বোন। বহুদিন পর সবাই মিলে এক জায়গায় হওয়া গেছে। দিদিভাইয়ের বাচ্চা দুটো সারা ঘর জুড়ে ছোটাছুটি করে বেড়াচ্ছে। আলমারি ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ ছোট মেয়েটা একটা পুরনো শিশি বার করে এনে পিউকে দেখিয়ে বলল, "এটাতে কী আছে মিমি? তোমরা এরকম ধুলোবালি জমিয়ে রাখো কেন বোতলে করে?' উত্তরে অবাক হয়ে দেখল তিন জনের মুখে হাসি, চোখে জল। ... ...

উপরের ঘটনাটি থেকে কিছু অসঙ্গতি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, আর তা হল- (১) জনাব তরিকুল ইসলাম, যিনি নিজেই এসএসএফের সহকারী পুলিশ সুপার, তিনি পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, মিনা মানসিক রোগী ছিলেন। কিন্তু কোন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ কি কোন মানসিক রোগীকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে রাখবে? তাহলে কি আইনের ধ্বজাধারী তরিকুল নিজেও বিকারগ্রস্ত? আর কোন মানসিক রোগীকে দিয়ে কাজ করানোটাও বেআইনী, তা তো এসএসএফের সহকারী পুলিশ সুপারের জ্ঞাত না থাকার কথা নয়। এখানে উল্লেখ্য যে, তরিকুলের প্রতিবেশীদের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিনা আদতে কখনোই মানসিক রোগী ছিল না। তবে তার উপর চলত ঐ ফ্ল্যাটের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর অমানুষিক নির্যাতন। ... ...

কেন একজন খুনি, খুন হওয়া মানুষটির মানুষগুলির পরিবারের সেবাতে নিযুক্ত হবে না? কেন একজন চোর কায়িক বা মানসিক শ্রম দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষটির ক্ষতিপূরণ করবে না? ঠিক ঠিক এমনটিই হতে হবে তার কোন মাথার দিব্যি নেই, অন্য অনেক কিছুই হতে পারে যার মূলে থাকবে অপরাধী মানুষটির অপরাধবোধকে জাগিয়ে তোলা। কোন বিচার-আইন-শাস্তি ব্যবস্থা যতক্ষণ না অপরাধীকে মানসিকভাবে তার অপরাধের গুরুত্ব, সমাজে (বৃহত্তর এবং সংকীর্ণ সব অর্থেই) তার কুপ্রভাব সম্পর্কে সচেতন না করতে পারছে ততক্ষণ সে ব্যবস্থা অর্থহীন। অপরাধ লাঘব বা নির্মূল করার লড়াইয়ে তা চূড়ান্ত ব্যর্থ। ... ...

হেই লাইগ্যা তাইন, মানে ফকিরচন্দ্র একটা উঁচা টিলা দেইখ্যা তার উপর বাড়ি বানাইলেন। আটচালা বাড়ি। মাঝখানে ঊঠান। চাইরদিগে টানাবারান্দা আর তার গায়ে গায়ে ঘর। হেইডা করতে গিয়া বাঘ-সাপ-খাটাশ কিছু মাইর্যা কিছু তাড়াইয়া জঙ্গল সাফ করলেন। এইডা ছিল তাঁর প্রথম বছর। পরের বছর বাড়ির সামনে বিশাল পুষ্কুনি কাটাইলেন। লোকে কইতো দীঘি। সেই দীঘি পারাপার করা কঠিন ছিল। সারা বছ্ছর গভীর কালোজল। মাইয়ামাইনষে বুকে কলস লইয়া চেষ্টা করতো, কিন্তু পারাপার হইতো মা। সেই দীঘি আজও আছে। খালি তার মইধ্যে আইজ বাবর আলি মুন্সীর হাঁসেরা সাঁতার কাটে। যাউকগিয়া, তিনি উদ্যোগীপুরুষ ছিলেন। কয় বছরের মইধ্যে পাটের চাষ আর অন্য কৃষিকার্য কইর্যা সম্পত্তি বাড়াইলেন। আঠরবাড়িয়া-বাজিতপুর-ময়মনসিংহ সদরে বাড়ি করলেন। ... ...

কেউ কেউ বলছেন ফাঁসি দিলে কাসভ শহীদের মর্যাদা পেয়ে যাবে। তাতে আরও অনেকে ফিদায়েঁ জঙ্গী হওয়ার অনুপ্রেরণা পাবে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না ২৬/১১-র হামলায় এমনিতেই ৯ জন "শহীদ' হয়ে গেছে। কাসভের মৃত্যু নতুন করে তাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে এমন সম্ভবনা কম। বরং কাসভ এই অবস্থা থেকে যদি জীবিত থেকে যায় বা কোনক্রমে মুক্তি পেয়ে যায় সেটাকেই তারা জেহাদের সাফল্য ভেবে উৎসাহিত হবার সম্ভবনা প্রবল। হয়তো জেহাদিরা দল ভারি করার জন্য তাদের নিজেদের কায়দায় প্রচার চালাবে, জেহাদে আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন তাই কাফেররা হাতের মুঠোয় পেয়েও সাজা দিতে পারল না। সব থেকে যেটা খারাপ হবে, শতসহস্র নিষ্পাপ মুসলিম কিশোরকিশোরী বা তরুণতরুণীর সামনে কাসভের উদাহরণ রেখে তাদের মগজ ধোলাই করে সন্ত্রাসবাদী হামলায় টেনে আনার চেষ্টা করা হবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে,একজন জেহাদিকে মানুষের তৈরি আদালতে মানুষের তৈরি আইনে মানুষ কর্তৃক বিচার এবং মৃত্যুদন্ডদান, ধর্মের নামে জেহাদ এবং হত্যালীলা চালানোতে কোন ধর্মের কোন ঈশ্বরেরই সমর্থন নেই সেটা বুঝতে খানিকটা সাহায্য করতে পারে বৈকি। ... ...

থাই রান্নার মূল মন্ত্র হলো টক-মিষ্টি-নোনতা-তেতো এই চার স্বাদের ব্যালান্স। এখানের যেকোনো খাবারেই দেখবেন এই ব্যালান্স এতটুকু টসকায়না। এর ওপরে আছে ঝালের কারুকার্য্য। এদেশের টিপিক্যাল মিল যদি ধরেন তাতে থাকবেই থাকবে একটা কোন স্যুপ, একটা ঝাল স্যালাড, একটা সব্জির ও মাছ বা মাংসের পদ, ভাত ও শেষপাতে কোনো মিষ্টি। আবার থাইদেশের নিয়ম হলো অনেকে মিলে একসাথে বসে খাবার ভাগ করে খাওয়া। এঁরা মনে করেন একা খাওয়া দুর্ভাগ্য ডেকে আনে। খাবার নিয়ে আরো ধর্মবিশ্বাস আছে এদেশে। থাইরা এও মনে করেন যে একদানা খাবারও নষ্ট হতে দেওয়া পাপ। "ধান্যদেবী' এতে রুষ্ট হন, অভিশাপও দিতে পারেন। ... ...

আজকে বিশ্ব ভুত দিবস। রাস্তাঘাটে শত সহস্র ভুত নেমে পড়েছে। হু হু করে ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে। এর মধ্যে হা হা হি হি করে ভুতের নৃত্য চলছে। কোনো কোনো ভুত অনেকদিন পরে ধরাধামে নেমে প্রকাশ্যে আসায় বুক টান টান করে হাঁটছে। কেউ কেউ শরম পাচ্ছে। একজন বেঞ্জু বাজিয়ে গান গাইছে, হলে হলে। হলে হলে। কুইনসের পথে দুই ভুতের সঙ্গে দেখা। বাঘ ছাল পরে আছে। খাড়া খাড়া দুটো শিং। হাতে একজনের ডম্বরু--আরেকজনের ত্রিশুল। ফুস ফুস করে ওরা সিগারেট টানছে। বললাম, তোমগো বাড়ি কুথায় গো ভুত। ... ...

এতদিন মল প্রাঙ্গণে গিয়ে যাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়তেন, কী কিনবেন, আদৌ কি কিছু কিনবেন, নাকি কাঁধখোলা সুন্দরীদের দেখে-টেখেই বাড়ি চলে আসবেন, এই নিয়ে কনফিউশনে জর্জরিত হতেন, কফির দাম কেন দেড়শো টাকা আর চুল কাটতে ছশো টাকা দেবার কোনো মানে আছে কিনা এই নিয়ে মানসিক অন্তর্দ্বন্দ জীর্ণ হতেন, তাঁদের জন্য সুখবর। আর চিন্তা নেই। মুদ্রণের বাজারে এসে গেছে সুবিখ্যাত পত্রিকা গোষ্ঠীর নবতম অবদান - "কী কিনি"। নাম দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। "বিকিনি"র সঙ্গে ধ্বনিগত মিল থাকলেও আসলে এটি কোনো হেঁজিপেঁজি বস্তু নয়, যে কিনলেন, পরে ফেললেন আর কিস্তিমাত। এটি একটি সিরিয়াস অ্যাফেয়ার। "বিকিনি", নয়, "কী কিনি"। পরা নয় পড়তে হয়। রীতিমতো মাসিক পত্রিকা। লম্বা-চওড়া। আকারে মোটামুটি চোদ্দ ইঞ্চি বাই দশ ইঞ্চি। আর প্রকারে কেনাকাটার এনসাইক্লোপিডিয়া বিশেষ। ... ...

খুবই অদ্ভূত সেই যন্ত্র। তিনটে আলাদা অংশ। আলাদা তাদের কাজ। আলাদা তাদের নাম। কিন্তু উদ্দেশ্য একই। "জাজমেন্ট' কার্যকর করে এই যন্ত্র। 'জাজমেন্ট' জানান হয় না দন্ডিতকে। ছ'ঘন্টা ধ'রে একটা অংশ অসংখ্য ছুঁচ দিয়ে অনেকটা উল্কির মত 'জাজমেন্ট' খোদাই করে দেয় দণ্ডিতের চামড়ায়। ততক্ষণে দন্ডিত তার শরীর জোড়া রক্তাক্ত ক্ষত থেকে জেনে যায় কী সেই 'জাজমেন্ট'। ... ...

বাঙালির ঐতিহ্য বুঝতে হলে দশমীতে টিভি চালান। আজ একান্নবর্তী পরিবারের দিন। সংসার স্টেশনে ঢুকছে চন্ডীমন্ডপ লোকাল। সিঁদুর খেলা স্পেশাল। ননদ-বৌদি শাশুড়ি-বৌমার আর কোনো ভুল-বোঝাবুঝি নেই। বড়োরা ছোটোদের প্রণাম করছে। ছোটোরা বড়দের আশীর্বাদ ;-)। সম সেক্সে কোলাকুলি হচ্ছে। বিষম সেক্সে ঢলাঢলি। সমকামে নিষেধাজ্ঞা আছে। সবাই সবার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। আকাশ আমায় ভরল আলোয়, আকাশ আমি ভরব গানে। ... ...

থিমের নাকি আকাল। নতুন-নতুন থিম পাওয়া ক্রমশ দুষ্কর হয়ে উঠছে, এই নিয়ে টিভিতে উদ্যোক্তাদের স্লাইট হাহুতাশ শোনা গেল। কারো-কারো কপালে ভাঁজ। কারো মাথায় হাত, কারো বা টাকে। পড়ারই কথা। পুজো শেষ হবার সাতদিন পরেই তাঁরা নাকি পরের বারের প্রস্তুতি শুরু করেন (কি পরিশ্রমী, বাপরে)। ... ...

পুজোয় চাই নতুন জামা আর নতুন গান। ও ও ও ও পুজোর গন্ধ এসেছে। এফএম খুললেই তাই ঝমঝম করে বাজছে "অটোগ্রাফ' ছবির নতুন গান -- আমাকে আমার মতো থাকতে দাও। আমি নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নিয়েছি। অবশ্য চাইলেই বা কে আর কাকে নিজের মতো থাকতে দিচ্ছে কে জানে। ... ...

]এমনিতেই বাঙালির বুদ্ধির ঠেলায় জগৎ উদ্ধার। তার উপরে পুজোর বাজারে লোকে নাকি হঠাৎই সদলবলে অধিক বুদ্ধিমান হয়ে পড়েছে। সক্কলে বুঝে গেছে যে এই মোচ্ছব-ঋতুতে সন্ধ্যেবেলায় রাস্তাঘাটে ভিড়-ভাট্টা হবেই। ফালতু অচেনা লোকের সঙ্গে গা-ঘষাঘষি করে ঘাম ঝরিয়ে মাঝরাত্তিরে ঠাকুর দেখার বদলে বাঙালি নতুন জামা নতুন জুতো ও নতুন বান্ধবী নিয়ে সক্কাল সক্কাল বেরিয়ে পড়েছে রাস্তায়। দলে দলে লোক আজ পথে নেমেছে। ফলে জ্যাম এখন দুপুর থেকেই। আজ হরতাল, আজ চাক্কা বন্ধ। উত্তরে শ্যামবাজার থেকে দক্ষিণে গড়িয়া অব্দি, এয়ারপোর্ট থেকে হাওড়া স্টেশন অব্দি জ্যাম। আজ শুধু হাঁটার দিন। ... ...

প্যাঁচা বলতে বুঝি লক্ষীর বাহন, ম্যালেরিয়ার যেমন মশা। তাই পরীক্ষার হলে মারি মাছি, শপিং মলে ফালতু ঘুরি অ্যাজ ইফ ধোবি কা কুত্তা। পাখি সলিড দেখলে এস এম এসে ফ্ল্যার্ট করি, হাতের মধ্যে পেলে আরশোলা দেখিয়ে ফ্ল্যাট করে ফ্ল্যাটে আনি। প্যান্ডেলে স্পার্ক পেলে হই তীর্থের কাক। ক্যালানি হাওয়া বুঝলেই ডাক। কাজেই ইহ দুনিয়ার কোনটা যে কার বাহন বলাটা চাপের। ধর্ম টু জিরাফ সব মালই ট্রান্সফারেবেল। আমাদের ভোকাবুল্যরি চিড়িয়াখানা অবধি। তবে সবই চান্স পেলে। বাসর রাতের বিড়ালই হোক আর উটকো মালের ঘড়ে চাপাই হোক। আদতে, কথার পিঠে কথা সাজাই, আমরা এখন একলা থাকি। ... ...

"সব সত্যি। মহিষাসুর সত্যি, হনুমান সত্যি, ক্যাপ্টেন স্পার্ক সত্যি, টারজান সত্যি, অরণ্যদেব সত্যি, ..." এমনকি ধরো মা দুগগার শাড়ীতে অসংখ্য চুমকি, বিসর্জনের পর সেগুলৈ যে কোজাগরীর আকাশে তারা হয়ে ফোটে - তাও তো সত্যিই। ভারী ইচ্ছে হয় একবার হাতে ছুঁয়ে দেখি কতটা সত্যি। ভাসানের আগে ছুঁলে দোষ নেই - সেটা আমি জানি। অনেকেই সে সময় টুকটাক পকেটে পোরে মহিষাসুরের বাজুবন্ধ কিংবা গণেশের উত্তরীয় থেকে খসে পড়া একফালি জরির পাড়। ... ...

শূয়োরের মাংসের নাম শুনলে আমার দেশের বাড়ির কথা মনে পড়ে যায়। ছোটবেলাটা প্রায় শুধু শূয়োর খেয়ে বড় হয়েছি। মাসির হাতের রান্না, মামীর হাতের রান্না এবং দিদিমার হাতের রান্না, তবে বেশিরভাগটাই দিদিমার হাতের রান্না খেয়েছি ছোটবেলায় এবং ওনার কাছেই বড় হয়েছি। ছোটবেলায় অবশ্য আমার মা কে জানতাম না। কারণ আমার মা আমায় ছোটবেলাতেই দেশে রেখে কলকাতায় চলে এসেছিলেন, তারপর দিদিমা এবং মাসিদের কাছে মানুষ হয়েছি। ... ...

আমার নানাবাড়ি আমাদের বাসার কাছেই। পুরনো দিনের বাড়ি, সামনে পেছনে অনেক জায়গা, পাশে নারকেল সুপারিগাছের সারি ঘেরা পুকুর। বাড়িতে হাঁস-মুরগী গরু-ছাগল। এক খালার হাঁপানির ধাত। তাই বাড়িতে ছাগলের দুধের বেশ কদর। ... ...

এ কাহিনি আমার নয়, আমার পিতৃদেব মাতৃদেবীর। ঘটনা আমার জন্মের কিছুমাস আগেকার। তথ্যগত কিছু ভুলত্রুটি তাই কিছু থেকে যেতে পারে, কারণ গল্পের পুরোটাই পরস্মৈপদী। পিতৃদেব ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পিডব্লুডির ইঞ্জিনীয়ার। দু-তিন বছর অন্তর অন্তর পোস্টিং বদলাত। চাকরিজীবনের তখন শুরুর দিক, আঞ্চলিক রাজনীতির নিয়ম মেনেই তখন "ভালো' জায়গায় পোস্টিং পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা ছিল না। এজন্য পিতৃদেবের মনে কোনও বিশেষ ক্ষোভও ছিল না, কারণ তখনও দোষ দেবার জন্য সিপিএমের ঐতিহাসিক জমানা শুরু হয় নি। ... ...

দুর্জনে বলে থাকে আমাদের পরিবারে মানুষের থেকে পশুদের বেশি কদর। আমরা নাকি মানুষের সুখ দু:খ মান অপমান কিছুই বুঝি না। পশুদেরটা বুঝি। অবশ্য এই দুর্জনরা সকলেই মানুষ। পশুদের বক্তব্য আমার কখনো শোনা হয়নি। ... ...

হে গাছ, তোমাকে বলছি শোনো, শুনতে পাচ্ছো কি, কীভাবে কুরে কুরে খেয়ে চলেছে শরীর, মধ্যরাতের কীট? কুকুরের চিৎকার শুনে, আমি বড়জোর কল্পনা করতে পারি মানুষের হাসি, যারা শেষরাতে ঘরে ফেরে, মাতাল। এর বেশি হলেই এসে যায় শ্মশান, যেখানে তুমিও পুড়তে থাকো নির্বিকার। আমাকে প্রশ্ন করো না এখন, একটা অদ্ভুত স্বপ্ন শেষে এই মাত্র জেগেছি! অগোছালো আমি তাকিয়ে আছি দূরে। জানি, প্রশান্তির কোন সংজ্ঞাই দিতে পারে না কেউ। তবুও বিশ্বাসী মানুষ, প্রিয় ঘুম। এতসব হট্টগোল শেষে পড়ে থাকে হাড়, আর সেদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে লালা ঝরায় পোষা কুকুর। তারপরও আমি ভালবাসি জাদুঘর, ভালবাসি সাপের খেলা, বোমারু বিমান, কসাইয়ের দোকান। বর্ণিল মোড়কে এভাবেই ফিরে আসে বাধ্যবাধকতা, আর টিভির পর্দায় সারাদিন ভেসে থাকে সুখ। ... ...