“Nothing endures, but nothing is meaningless either. We rise, we fall, we rise again, and again we fall. We go on. I too have succeeded and I have also failed. Death is close now. In death do triumph and failure humbly meet. We learn far less from victory than from defeat.” রুশদী-র লেখা উপন্যাসের একদম শেষ পর্যায়ের লাইনগুলো আমি যখন পড়ছি, মনের মধ্যে তখন বড়ো উথাল ... ...
“রাত কত হল?উত্তর মেলে না।কেননা, অন্ধ কাল যুগ-যুগান্তরের গোলকধাঁধায় ঘোরে, পথ অজানা,পথের শেষ কোথায় খেয়াল নেই।”অনেক রাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমার চারপাশ রহস্যময়ী তামসী তপস্বিনী রাত্রি ঘিরে রেখেছে। নিশীথিনীর রঙ কালো। এই কালরাত্রির কোন রূপ নেই। রাত্রিনাম্নী এই কালভৈরবিনী নীরব, নিস্তব্ধ। আস্তে আস্তে আমার চেতনায় দ্যুতি ... ...
এক জীবনে একটা মানুষ কটা জেনারেশান দেখতে পারে? পাঁচটা, কপাল ভালো থাকলে। ঠাকুর্দার, বাবার, তার নিজের, সন্তানের, এবং সন্তানের সন্তানের... এর বেশি হলে কপাল ভালো বলতে হবে। আমি দেখেছি, একটা সময় পরে মানুষ তার সুখস্মৃতির কাছে ফিরে যেতে চায়, সেই স্মৃতিকে বাস্তবে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাখে, বিশেষত বাঙালী হলে তো কথাই ... ...
“ভগবান হতে-হতে, ভগবান হতে-হতে, ভগবান হতে-হতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাথরের মুর্তি হয়ে গেছেন। তাঁর রক্তমাংস, বাসনা-কামনা, সুখ-দুঃখ, শোক-ভোগের সমস্ত চিহ্ন ঠাকুরপুজোর ফুলচন্দনের তলায় লুপ্ত। সমস্ত বাংলা জুড়ে এক প্রাণহীণ, প্রবৃত্তিহীন, ইন্দ্রিয়রুদ্ধ রবীন্দ্রনাথের পুজো করেন তাঁর ভক্তের দল বছরে দু-দিন। ... এই রবীন্দ্রস্মরণ ও উদ্যাপনের একটি বহুনির্জিত চেনা ছক ... ...
আজি এ প্রভাতে সহসা কেন রে পথহারা রবিকর আলয় না পেয়ে পড়েছে আসিয়ে আমার প্রাণের 'পর! এই কবিতা সম্পর্কে তাবৎ বাঙালীকূল অবগত। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই কবিতাংশ ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’-তে পাওয়া যায়। এর ইতিহাসও অনেকেই জানেন, তবুও প্রসঙ্গ হেতু, তার সারাংশটি হল --- রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন মাত্র একুশ। অধুনা ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের ... ...
১ --- আমি যখন এই লেখাটা শেষ করেছি, খবর পেলাম, সমরেশ মজুমদার আর আমাদের মধ্যে নেই। তার চলে যাওয়া যতটা না ক্ষতি, তার থেকেও বেশি ক্ষতি সাহিত্যের আঙ্গিনায় এক শূন্যতার সৃষ্টি হওয়া। অনিমেষ-মাধবীলতার লেখা যায় না। একমাত্র সরস্বতীর বরপুত্রই এমন নির্মাণ করতে সক্ষম। তিনি ছিলেন সেই বরপুত্র। ‘অনিমেষ-মাধবীলতা’ সিরিজ নিয়ে অনেকেই কথা বলবেন। কারণ, তা কালবিজয়ী। আমি ব্যক্তিগতভাবে বলব ‘গর্ভধারিণী’-র কথা। তার লেখা এই একটা মাত্র বই ... ...
“এক উপন্যাসের সঙ্গে তো তেলেনাপোতা আবিস্কার গল্পের সাদৃশ্য দেখলাম। ... বহুদূরদেশবাসী দুই লেখক একই ফর্মে ভেবেছিলেন প্রায় একই কাহিনি।” লিখছেন বন্দিত লেখক অমর মিত্র, তার টাইম লাইনে। পাঠকের পড়া আর লেখকের পাঠ তো এক নয়। ফলে লেখক কোন বই পড়ে যখন তার সম্পর্কে দু-চার কথা লেখেন তা অন্য পর্যায়ে চলে যায়। আর তাই বাক্যদুটো পড়ে বিস্মিত হয়েছিলাম। কৌতুহলী হয়েছিলাম, কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর উল্টোটাই দেখা যায়। ১৯৪২ সালে ‘যুগান্তর’ পত্রিকার শারদ সংখ্যায় লেখা প্রেমেন্দ্র মিত্রের গল্প ‘তেলেনাপোতা আবিস্কার’ ... ...
আর্থার সি ক্লার্ক --- বইপ্রেমী মাত্রেই নাম শুনেছেন, এমন দাবী করাটা একটু বাড়াবাড়ি হলেও বেশিরভাগ পড়ুয়া নাম শুনেছেন, এ আমি নিশ্চিত। আর যারা কল্পবিজ্ঞান প্রেমিক/প্রেমিকা তাদের বেশিরভাগ নিশ্চই তাকে পড়েও ফেলেছেন। যারা সিনেমা দেখেন, তারা জানেন, স্পেস ওডিসি-র লেখক উদ্দিষ্ট সিনেমাটিরও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। আর্থার সি ক্লার্ক আমাদের সময়কার লেখক (১৯১৭ ~ ২০০৮)। মানে তার লেখা এক অর্থে বলতে গেলে হাল আমলের লেখা। ফলে তার কল্পবিজ্ঞানে একদম যাকে বলে মডার্নিসমের ছোঁয়া ... ...
আমার বেশ কয়েকজন বন্ধু বলেছিলেন, এখনকার ম্যাগাজিনগুলো পড়া মানে সময় নষ্ট করা। আমিও তাদের সাথে নব্বই শতাংশ সহমত। আমার মনে হয়, কিছু কিছু সংখ্যায়, এমন কিছু মণিমুক্তো ভুল করে বেরিয়ে আসে, যাকে অস্বীকার করা অসম্ভব। সম্প্রতি চলে গেলেন সন্দীপ দত্ত। ফেসবুকে ছেয়ে গেল তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে, অথচ এমন কোন পোস্ট আমার চোখে পড়ল না যেখান থেকে এই মানুষটা সম্পর্কে সম্যক পরিচয় পেতে পারি। সন্দীপ দত্ত-র কাজের সাথে পরিচয় হওয়া তো দূরের কথা, তার নামটা পর্যন্ত এযাবৎ শুনি নি। অথচ, সমসাময়িক পত্রপত্রিকা তার সম্পর্কে নীরব, হয়তো, লিটল ম্যাগাজিনগুলোর কয়েকটাতে তার সম্পর্কে লেখা বেরিয়েছে, কিন্তু ফেসবুক, কিম্বা অন্যান্য সোশাল মিডিয়া সে তুলনায় ... ...
কিছু কিছু বই প্রশ্ন রাখে। এক-এক বইয়ের প্রশ্ন এক-এক রকম। কোন কোন প্রশ্নের উত্তর হয়, কোন কোন প্রশ্নের উত্তর হয় না, সে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, অনেক ক্ষেত্রে উত্তর অমিমাংসীত, অনেক ক্ষেত্রে উত্তর অনন্তকালের অপেক্ষার। এতএব, প্রশ্ন করার ক্ষমতা রাখে যে বই, সেই বই আমার চোখে মারাত্মক শক্তিশালী বই। চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন রাখার সাহস দরকার, ক্ষমতা দরকার। আলেক্সান্দর বেলায়েভ প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্ন একটা না, বেশ কয়েকটা। চিরন্তনী সেই সব প্রশ্ন--- ১। বিজ্ঞান সত্যিই আশীর্বাদ, না অভিশাপ? ২। মানুষের প্রয়োজনে প্রকৃতি, না কি প্রকৃতির প্রয়োজনে মানুষ? ৩। প্রকৃতির স্বাভাবিকী ক্ষমতাকে প্রয়োজন এবং ইচ্ছামতো পরিবর্তন করার ক্ষমতা এবং ঔচিত্য কি আমাদের আছে? ৪। ধর্ম বিজ্ঞানের ... ...