কেন তুমি আমার সঙ্গে থাকো কেন আমি তোমার সঙ্গে থাকি কেন তুমি একবার ডাক দিলে ছাতিমের ডালে বসে মন শিশিরে ছড়িয়ে দিয়ে যায় শর্তহীন নিঝুম সম্মতি।। ... ...
- আপনি কি ভূত দেখেছেন? - হ্যাঁ দেখেছি, কেন আপনি দেখেননি? ভূত মানে তো অতীত, অতীত পেরিয়েই তো বর্তমানে এসে পৌঁছলাম। সুতরাং ভূত না দেখে তো আমাদের কারোরই কোনো উপায় নেই।। - না মানে এই ভূত সেই ভূত নয়। বর্তমানে বসে বসে অতীতকে দেখা। যা দেখলেই গা ছমছম করে ওঠে। -ওঃ, সে তো তাহলে সিনেমা। যেমন ধরুন উত্তম কুমার, কিংবা দেবিকা রানী কিংবা অড্রে হেপবার্ন এইরকম? কই সিনেমা হলে তাদের দেখতে তো ভয় লাগে না? -আরে ধুর মশাই ভূত তো অন্ধকারে আসে, মুখ ঢেকে, কঙকাল হয়ে, তারপর হাড়ওয়ালা হাত বের করে খুলিওয়ালা মুখ বের করে নাঁকিসুঁরে হিঁ হিঁ করে হাসে।। -ধুত্তোর, সে তো বাল্যখিল্যের গপ্পের বইতে থাকে, মেক আপ ... ...
মেয়েটির নাম লক্ষ্মী, এসে বসেছে সে পদ্মে, হাতেতে অভয় মুদ্রা, জমি ভরে আছে ধান্যে, মাথায় স্বর্ণউষ্ণীষ, গায়ে সজ্জিত অলংকার, কী অপরূপা তিনি চোখদাহ্য, তাঁকে আবাহনে ঘরে আনবো। ... ...
ফুলশয্যার পরের দিন সকালেই শ্বাশুড়িমা গম্ভীর মুখে বলে দিয়েছিলেন, এত বেলা অব্দি দরজা আটকে নির্লজ্জের মতো শুয়ে থেকো না রোজ। আমি আর তোমার শ্বশুরমশাই সাড়ে পাঁচটায় মর্ণিং ওয়াকে বেরোই। কাল থেকে তার আগে উঠে আমাদের রোজ চা বানিয়ে দেওয়া তোমার কাজ, খেয়াল রেখো,আর যেন দ্বিতীয়বার বলতে না হয়, এক কথা বারবার বলা আমার পছন্দ নয়। ... ...
বিভাগ-বিভেদ বস্তুটি ভারি সাংঘাতিক। এ যে মানুষেরই বুদ্ধি বা অবুদ্ধিপ্রসূত একান্ত নিজস্ব সৃষ্টি এ তো বলাই বাহুল্য।। বিভাগ বিভেদ কি আর একরকম, সে হাজার প্রকার। মানুষ রতন যত সভ্য হয়েছে তত তার অন্ত্রের আকার ছোট হয়েছে, মস্তিষ্কের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে, আর সে তত জটিল কুটিল ভাবে মানব জাতিটিকে নিয়ে এই বিভাগ বিভেদ বিভাজন করে কাটাকুটির মজার খেলায় উল্লসিত হয়ে নেচে-কুঁদে উঠেছে।। ধর্মের বিভাগ,জাতপাতের বিভাগ, গুণের বিভাগ, মানের বিভাগ, চামড়ার রঙের বিভাগ.......বিভাগ কি আর কম আছে? খুঁজে পেতে গুণে গেঁথে দেখলে অমন হাজার হাজারটা পাবেন। এইসব বিভাগের মধ্যেও আবার কিনা মশাই লঘু গুরু, উঁচু নীচু খানা খন্দ আছে, বলার তারিকায় মানুষের অন্তরটিতে বেশ ... ...
ছড়াটির ছত্রে ছত্রে চিত্রিত গ্রাম বাংলার সাধারন মানুষের জীবন যাত্রার চিত্র। বাদশাহ বা রাজা কয়েকটি গ্রামেরখাজনা আদায়ের জন্য এর শ্রেণীর তহশিলদার নিযুক্ত করতেন এদের বলা হত "মুজলিমদার"। মজুমদার কথাটি এরই অপভ্রংশ। "ইকির মিকির চাম চিকির" কথাটি সম্ভবত সেই অত্যাচারী শাসক শ্রেণীভুক্ত কর আদায়কারীর চিত্র তুলে ধরেছে। যারা দাঁত কিড়মিড় করে পিঠের ছালচামড়া তুলে নেবার হুমকি দিচ্ছে নিরীহ কৃষককে। ... ...
সবচেয়ে প্রাচীন ছড়া বলে যেটি লিপিবদ্ধ আছে সেটা পাওয়া যাচ্ছে প্রখ্যাত ভাষাচার্য সুকুমার সেনের "বাংলার ছড়া" গ্রন্থে। এটি আগে ঠাকুমা দিদিমাদের মুখে মুখে শোনা যেতো কিন্তু এখন তেমন আর শোনা যায় না। এটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। গ্রাম বাংলার মানুষের মুখ থেকে এটি সংগ্রহ করেছিলেন উইলিয়াম কেরী। মাছ আনিলা ছয় গন্ডা, চিলে নিলো দুই গন্ডা, বাকি র'লো ষোলো, তাহা ধুতে আটটা জলে পলাইলো তবে থাকিলো আট, দুইটায় কিনিলাম দুইকাটি কাঠ, তবে থাকিলো ছয়, প্রতিবেশীকে চারিটা দিতে হয়, তবে থাকিলো দুই, তার মধ্যে একটা চাখিয়া দেখলাম মুই। ... ...
বাংলার লোকমুখে বহু ছড়া ও গান প্রচলিত আছে দৈনন্দিন কথাবার্তায়, মায়েদের ঘুমপাড়ানি গানে, গ্রাম শহরের হাটে বাটে ছড়ানো মানুষের মুখে মুখে। বিভিন্ন কাজের বর্ণনায়, বিভিন্ন বারব্রত, পাঁচালির মধ্যে বহুদিন ধরে এগুলি মর্মে গেঁথে রয়েছে আমাদের। এর প্রকৃত রচয়িতা কে, উৎপত্তি কোথায় সঠিকভাবে জানার উপায় আর নেই। ... ...
উনি আমাদের গেরামকে এলেন, আমাদের দাওয়ায় বসলেন, আমার ঘরে দাওয়াত খেলেন। যাবার আগে, আমার ল্যাংটা, নাকে সিকনি ঝরা ছেলেটার গাল টিপে দিলেন, ছেলেটা ঈশ্বর স্পর্শের আনন্দে যেন ফেনার মতন লেতিয়ে গেল, কারণ আমাদের চৌদ্দপুরুষের জোড়হস্ত আমার ছেলেকে অমেরুদণ্ডী প্রাণী হয়েই জন্মাতে শিখিয়েছিল।। ... ...
কানাকড়ি বলে দেগে এলেবেলে, / গোঁজামিলে তাকে দিলে কোণে ঠেলে, / আমি তো জানি, আমি থেকে যাবো, / তোমরাই যাবে চলে।। ... ...