পনেরোশো চৌষট্টিতে আকবর সেপাইসালার আসফ খানকে পাঠিয়েছিলেন স্বাধীন গোন্ড রাজ্য গারহা-মান্ডলা দখল করতে। কত বড় ছিল এই রাজ্য? এখনকার জব্বলপুর, দামোহ, সৌগের, নরসিংপুর ছাড়াও ভূপাল এস্টেট, হোসাঙ্গাবাদ আর বেতুলের একাংশ, চিন্দবাড়া, সোনি, মান্দালা, বালাঘাট জেলার পুরোটা, সম্ভবত ভান্ডারা আর চান্দা জেলাও এই বিশাল রাজ্যের মধ্যে পড়ত। আসফ খান রাজধানী চৌরাগড় থেকে শেষ স্বাধীন গোন্ড রাজা বীর নারায়ণকে হটিয়েদেন। পরে উনি নিজেই রাজা বনতে চান। তাঁকে কব্জা করতে সেপাইসালার মেহেদি কাশিমকে পাঠানো হল। আসফ খান কেল্লা ছেড়ে কেটে পড়লেন, পরে আবার বাদশাহ আকবরের কাছেই শির নোয়ালেন। মেহেদি কাশিম গোন্ডদের প্রাচীন রাজ্যকে মালওয়া সুবার অধীন এক সরকারে পরিণত করেছিলেন। মোঘলরা গোন্ড রাজাদের ... ...
ষোলো শো চৌতিরিশে কয়েক মাসের যাত্রা শেষে লাহোর থেকে শ্রীনগরে ঢুকে বা তার আগেই বাদশাহ শাজাহান কাশ্মীর -ই জান্নাত নজির - স্বর্গীয় কাশ্মীরের অপূর্ব কোন জলপ্রপাতের ধারে ঘোড়া থামান। উপভোগ করেন ফুটে থাকা ফুলের খুশবু তখন সেই যাত্রা বিরতিতে পায়ে চলা নোকর-নকরানি আর সেপাই লস্কর হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। তবে কাশ্মীরের ঠাণ্ডা হাওয়া আর ফুলের খুশবু সবার জন্যই। তাঁরাও বলে ওঠেন কাশ্মীর-ই বেনজির - অতুলনীয় কাশ্মীর।কাশ্মীর সম্পর্কিত স্বর্গীয় ন্যারেটিভ তৈরি করে চলে রাজা-প্রজা সবাই মিলে। পনেরোশো ছিয়াশিতে কাশ্মীর দখল করলেন আকবর। আর বাপ-ঠাকুরদার ঐতিহ্যে, আকবর-জাহাঙ্গীরের ঐতিহ্যেই অপূর্ব সব গোলাপের চমন-বাগান তৈরি করেন শাজাহানও। ডাল লেকের ধারে অপূর্ব সেই সব বাগান তৈরি করে প্রকৃতিকে পোষ মানিয়ে, অধিকার করা ... ...
এরপর শাজাহানের আদেশে শাহাজাদা দারা শুকোহ, নাদিরা বানু বেগম আর নবজাতককে নিয়ে শাহী বহর আবার বেরিয়ে পড়ে আগ্রা থেকে লাহোরের দিকে। পৌঁছতে সাড়ে ছশো কিলোমিটার রাস্তা মাস আড়াই লাগার কথা। পথেই নাদিরার মেয়েটা মারা গেল তখন তার মাত্র দু মাস বয়স।পবিত্র রমজানের শেষে ঈদ উল ফিতরের সময়েই ঘটনাটা ঘটে। এই ঈদ খুশির না হয়ে এক দুঃখের উদযাপন হয়ে গেল। ভেঙে পড়লেন দারা, হয়ে পড়েন ভালো রকম অসুস্থ। যথারীতি নাদিরার ... ...
ঔরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো খণ্ডনের স্ট্র্যাটেজি ঠিক স্ট্র্যাটেজি নয়। সব সংঘী অভিযোগের পেছনে দৌড়ে লাভ কি? অনেক ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডার উদেশ্যই হল বিভাজন সৃষ্টি তাই অযথা শক্তিক্ষয় করে লাভ কি? ঔরঙ্গজেব এক অর্থে হলেন মোঘল রাষ্ট্রীয় মতাদর্শের ধারাবাহিকতা যার ভিত্তি ছিল নাসিরুদ্দিন তুসির এ্যারিস্টটলের নেকমেকিয়ান এথিক্স প্রভাবিত স্বর্গীয় আশীর্বাদপুষ্ট রাজকীয় সার্বভৌমত্বের ধারণা। রাজা ন্যায়বিধান করবেন আর ন্যায়ভঙ্গকারীদের ... ...
ঔরঙ্গজেবের আমল থেকে ফারুখ শিয়র পর্যন্ত ওনার আয়ুষ্কাল। উর্দু ব্যঙ্গ কবিতার জনক বলা হয় মির জাফর জাটেল্লিকে (শাটেল্লি ?)। আসল নাম মির মুহম্মদ জাফর। ললিত ফার্সি জবানে কাঁচা মুখের ভাষার সব শব্দ বসিয়ে - নতুন মিশ্র-রাখতা ভাষা তৈরিতে, যৌন ইঙ্গিতে সব শালীন ছক উল্টে দিয়ে সময়ের অনেক আগের এক আলোর বর্তিকা হলেন জাটেল্লি। ওই শৈলীকে বলত হুজ্জু বা সমাজদেহের নানা হিপোক্রেসি আর ক্ষমতার চামড়া ছাড়িয়ে নেওয়া নেওয়া শুধু নয় সেই খালবোশ শরীরে রীতিমত ঝাল নুন ছিটোন ল্যাম্পুনিং করার শৈলী। ওনার ব্যক্তিগত জীবন ... ...
"কবি বলছে এই সময় পকেট খালি গড়ের মাঠ ;কারুর যদি থাকে জল রুটি নেই অবশ্যই। ঘোষণা হতাশ গোটা বিশ্বময় গরিবির কোনও ইলাজ নেই। এতই দেখ জলেতে টান চকচকে ভাব যায় পারায়। রুটি একটাই পাওয়া যায় সে হল ওই আকাশের চাঁদ। ভুলেও খুঁজো না মুক্তো আর হারিয়ে মানিক্য তার, সাগরে নুড়ি বিছায়। উরফি বলে চিন্তা কী ? যদিও পকেট গড়ের মাঠ আর ভাবলে তুমি হারাল সে লোভ যতসব সোনারূপায়।"The poet describes how in his times, no one has the wherewithal; if he has water, then there is no bread. Despair announces it to the entire world that poverty has no cure. Water (āb) is so scarce that even the arrow ... ...
ফিরিঙ্গীদের হাতে রাজত্ব খোয়ানো, অবধের নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ নরমসরম মানুষ ছিলেন। এক নাচনেওয়ালিকে গান্ধর্ব মতে বিয়ে করে ছেলে হওয়া সত্ত্বেও তালাক দিলেন। সেই নাচনেওয়ালি টার্নড বেগম ছিলেন চিরকেলে ঘাড় বেঁকা। নাচনেওয়ালিদের নেচে নেচে রুটি কাবাব ডাল ভর্তা যোগাড় করতে হয় হররোজ। তাতে হররোজ অনিশ্চয়তা সঙ্গে জবরদস্তি, মাতালের যৌনসঙ্গী হওয়ার জঘন্য জ্বালা। ওই অনিশ্চয়তা আর জ্বালার জন্য এমনিতেই নাচনেওয়ালি বেগমের ঘাড় খুবই বেঁকে গিয়েছিল। তারপর তালাকের ফলে আর ফিরিঙ্গীদের হারামখোরীতে আরো বঙ্কিম ভাব ধারণ করে। প্রথম স্বাধীনতার জন্য অবধের হিন্দু-মুসলিম রায়তরা বলল, “আপনাকে আমরা বেগম মানি”। বেগম সোজা তাকিয়ে থাকেন। তাঁর দৃষ্টি ছেলের দিক থেকে ঘুরে ঘুরে কলকেতায় চলে যাচ্ছে ... ...
আকবরের আমল থেকে মোঘল দরবারে ব্রাহ্মণ পণ্ডিতরা বা কায়স্থরাও উচ্চ পদে বসতে শুরু করে। শাজাহানের সময়ও অনেকে ছিলেন তাঁদের মধ্যে মুন্সি- সেক্রেটারি চন্দ্রভান ব্রাহ্মণ খুবই বিখ্যাত ফার্সি কবিও বটে। ইতিহাসকার রাজীব কিনরা ওনার ওপর বড়োসড়ো কাজ করেছেন। বইটার নাম ''রাইটিং সেলফ, রাইটিং এম্পায়ার'' - ''নিজেকে নিয়ে, সালতানাতকে নিয়েও লেখা'', এক বিচিত্র বই বটে! চন্দ্রভানের সময়কার গোটা সাংষ্কৃতিক জগতের ইতিহাস উঠে আসছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হল চন্দ্রভানের পেননেম -ছদ্ম নাম ছিল ব্রাহ্মণ। বোঝা যাচ্ছে, শাহী মহলের সঙ্গে সায় দিতে পারলে হিন্দু পরিচয় দরবারি স্বীকৃতির বাধা হতো না শুধু তাই নয় উচ্চকোটির পারসিক সাংস্কৃতিক মহলেও সমাদৃত হতো। কবি হিসেবে চন্দ্রভানের পরিচয় মোঘল সালতানাতের সীমা ... ...
চিস্তি সুফিরা ইন্ডিক-হিন্দু নানা টেক্সটের ওপর রীতি মতো পড়াশোনা করত। তাঁদের নাথ যোগী সম্প্রদায়ের সাধুদের সঙ্গও করতে দেখা যায়। হঠ যোগের ওপর কিছু বইও তাঁরা লেখেন। তবে রুদাউলির সাবিরি চিস্তি আব্দুর রহমান সবাই কে ছাপিয়ে গেলেন। ষোলোশো তিরিশের গোড়ায় উনি মিরাত উল মাখলুকাত নামের একটা বই লিখলেন ( Emperor Who Never Was, Dara Sikoh in Mughal India – Supriya Gandhi page 69-70 )। ফার্সিতে লেখা সে বইতে উনি বশিষ্ঠ মুনিকে জিনদের জগতের অবতার বলে বর্ণনা করছেন। ইসলাম আসার আগে হিন্দুস্থানে জিনেরা বসবাস করত। বশিষ্ঠ মুনি আবার নাকি আদম ও হজরত মুহম্মদের মহত্ব বিষয়ে লেখেন। উনি জিনদের রাজা মহাদেবের থেকে দিব্যজ্ঞান লাভ ... ...
এই জোটের শুরু বিহারে। সেখানে বিজেপি বিরোধিতাকে কেন্দ্রীয় বিষয় করে লোহিয়াপন্থী-নকশাল আলাদা ভাবে।পরে কংগ্রেস-লোহিয়াপন্থী-নকশাল-বামপন্থী নানান প্রক্রিয়া চলছে উনিশের একটু আগে থেকে। উত্তরপ্রদেশেও তার ধারা মোটামুটি একই। ওখানকার যে তেহজিব-সংস্কৃতি তা মিশ্র হিন্দুস্থানী গঙ্গা যামুনি তেহজিব তার সঙ্গে এখানকার বেশ ফারাক। ওখানের নানা ধারার যে জোট হয়েছে তার অনেকটাই এই তেহজিবের প্রশ্নটাকে ধরে। হিন্দুত্বের আগ্রাসী প্রভাবে ... ...