এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • ভাট : ভার্চুয়াল থেকে রিয়্যাল

    Tirthankar
    অন্যান্য | ২১ জুন ২০০৬ | ৫৪৯৩১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Tirthankar | ২১ জুন ২০০৬ ০৩:১১602358
  • ভার্চুয়াল এই চ্যাটাচাটি মাঝে মাঝেই বাস্তব হয়ে ওঠে। বিলেতে একদল ভাটুরে জড়ো হয়ে ট্যাংরামাছ ভেজে খায় আর শ্যামাসঙ্গীত গায়। কলকাতা ভাটের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ কুমড়ো ফুলের বড়ার বিবরণ টইপত্তরকে দস্তুরমত রসসিক্ত করে তোলে। আমেরিকাবাসী ভাটুরেদের মুখে মারিতং জগৎ। একের পর এক পরিকল্পনা কেবলই ভেস্তে যায়। টেক্সাস থেকে কানসাস, কানসাস থেকে নর্থ ক্যারোলিনা .... পরিকল্পনা চলতেই থাকে, চলতেই থাকে, তার মাঝেই কানসাসের নাম বদলে গিয়ে হয়ে যায় শিকাগো, মিঠাইয়ের ওয়েবসাইট হয়ে যায় ভ্যানিশ, ভাটুরেদের জন্য বাঁচিয়ে রাখা নলেনগুড়ের সন্দেশ খেয়ে চলে যান নবনীতাদি। এর মধ্যেও কিন্তু খুচখাচ দেখা হয়ে যায় ... কখনও আটলান্টায়, কখনও নক্সভিলে, কখনও ডাবলিনে। কখনও গুড়গাঁওয়ের ডাকসাইটে ভাটুরের সাথে মায়ামির সাইলেন্ট ভাটুরের দেখা হয় ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে। এই সব বিশ্বব্যাপী টুকরো টুকরো "রিয়্যালিট ভাট'-এর ডিজিটাল ছবি সেঁটে দিন মামুর অ্যালবামে।
  • Arjit | ২১ জুন ২০০৬ ০৩:১৭602469
  • রেসিপি-সহ। পিলিজ।
  • mita | ২১ জুন ২০০৬ ০৩:১৮602580
  • ও তীর্থ, নক্সভিলের গপ্পটা এখানে দেবে তো?
  • Parolin | ২১ জুন ২০০৬ ০৩:২৭602691
  • এই টইটা দেখে লিখবো লিখবো ভাবছি আর ফোন। বিক্রম। আমার ঘরে খেয়ে খেয়ে বোধহয় কিছুটা লজ্জা হয়েছে। রাত এগারোটার সময় ফোনে নেমতন্ন হল।ওদের বাড়িতে ডিনার কাল রাতে। মেনু নাকি ভাত, তড়কা আর আম দিয়ে মাংস।
    ভাট ঠিক এতটাই রিয়েল।
  • Tirthankar | ২১ জুন ২০০৬ ০৩:৩৩602802
  • আম দিয়ে মাংস! এরপর নির্ঘাৎ বলবে কাঁচা টোপা কুলের পায়েস।

    মিতাদি, লিখছি আজই।
  • Tirthankar | ২১ জুন ২০০৬ ০৪:৫৯602913
  • জুনের আট তারিখ নক্সভিলে কনফারেন্স সেরে হোটেলে ফিরে দেখলাম সবে সাড়ে পাঁচটা। কৃষ্ণকলি হয়ত এখনও ইউনিভার্সিটি থেকে ফেরেইনি। কিছুই করার নেই, টিভি চালিয়ে কিছুক্ষণ ফুড নেটওয়ার্কে মিনিট দশেক এন্তার স্টেক আর চিংড়ি দেখার পরেই বেজায় খিদে পেয়ে গেল। ভারী ব্যাজার হয়ে টিভি বন্ধ করে দিতে হল। এখনই কলিদের বাড়িতে হানা দিলে কেমন হয়? কিন্তু রাতের নেমন্তন্ন থাকলে সন্ধে সন্ধে হাজির হওয়াটা কি ভালো দেখাবে? ধৃতিমানের সঙ্গেও আলাপ নেই, সেই বা কি ভাববে? এমনিতেই ধৃতিমান নাম শুনলেই দাড়িওয়ালা রাগী রাগী ইন্টেলেকচুয়াল একটা চরিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে; আর ভয় ভয় করে।

    মরিয়া হয়ে ফোনটা করেই ফেললাম। "অ কৃষ্ণকলি, বাড়ী এয়েচো?' তখন কি আর জানি কৃষ্ণকলি ছুটি নিয়ে সারাদিন বাড়ীতে বসে ভরপুর রান্নাবান্না করেছে? কি লজ্জার ব্যাপার ... নাহয় আমার অতিভোজনের ব্যাপারটা দু-এক জায়গায় প্রকাশিত হয়েই পরেছে, তাই বলে ... ছি ছি। আমরা অবিশ্যি বাড়ীতে অতিথি আসার আগে প্রাণপণ ঘরও পরিস্কার করি; মানে হঠাৎ করে কেউ এসে পড়লে বাড়ী দেখে হাওড়া ইস্টিশন বলে ভ্রম হতে পারে কিনা! তবে কৃষ্ণকলি ভারী গোছানো স্বভাবের কন্যে বলে ধৃতিমান যেরকম নন-পলিটিকাল দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছে, তাতে এমন সন্দেহ পোষণ করার কোন কারণ দেখিনা।

    যাই হোক, হোটেলে ফিরে এসেছি শুনে কৃষ্ণকলি আর ধৃতিমান দুজনেই বার বার করে চলে যেতে বলল। ধৃতিমানের গলাটা শুনে ততটা রাগীও মনে হলনা। অতএব আমি একখানা ঢাউস ট্যাক্সি চড়ে ওদের বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। নক্সভিল ভারী সুন্দর ছোট্ট শহর; ঢেউখেলানো রাস্তা দিয়ে দশ মিনিটের মধ্যেই কৃষ্ণকলিদের বাড়ীর সামনে পোঁছে গেলাম। নম্বর মিলিয়ে বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে এবার একটা কনফার্মেটরি ফোন, "তোমাদের দরজার বাইরে কি একখানা সবুজ পাপোষ?' জিজ্ঞেস করামাত্রই খুলে গেল দরজা। সামনেই সহাস্য দম্পতি ... ধৃতিমানের ছোট্ট চৌকোণা একফালি দাড়ি থাকলেও মোটেও রাগী নয় - ভারী আন্তরিক সোজাসাপ্টা মানুষ। আর কৃষ্ণকলি তার ঠান্ডা-মিষ্টি লেখাগুলোর মতই মিষ্টভাষী। নিমেষের মধ্যে চমৎকার ঠান্ডা লস্যি বানিয়ে ফেলল, বিশাল এক-এক গেলাস লস্যি নিয়ে গ্যাঁট হয়ে বসলাম তিনজনে।
  • Tirthankar | ২১ জুন ২০০৬ ০৫:০০602935
  • লেখালেখি আর মেলামেলি-র মাধ্যমে যতই আলাপ থাক না কেন, সামনাসামনি দেখা হবার আগে সকলেরই বোধহয় একটা "কি কমু কি কমু' ভাব থাকে। ধৃতিমান একটা গুহ্য কথা লিক করে দিল, "বুঝলেন, গত দুদিন ধরে ও আমাকে কেবলই জিজ্ঞেস করছে আপনি এলে কি কথা বলবে।' কঠিন সমস্যাই বটে! কিন্তু যে সমস্যা নিয়ে কৃষ্ণকলি এত ভেবেছে, বাস্তবে তার কোন প্রতিফলন দেখা গেল না। ভাটের ঘোড়া টগবগিয়ে ছুটল অতি অল্পসময়ের মধ্যেই। দক্ষিনেশ্বর থেকে বিটি রোড হয়ে আমরা দ্রুত ঘুরে এলাম বার্নপুর-আসানসোল; ভার্চুয়ালি চেখে দেখলাম নক্সভিলের অরেঞ্জ মাছ আর আটলান্টার ইলিশ; একসাথে উল্টে ফেললাম অসংখ্য বইয়ের পাতা - নিকোলাই দুবোভের সাগরতীরে থেকে দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুরন্ত ঈগল; দেখে ফেললাম অগুন্তি চলচ্চিত্র - রাজপাল যাদব থেকে টম হ্যাঙ্কস; ঘুরে এলাম ধৃতিমানের প্রিয় থাই রেস্তোরাঁ থেকে; হঠাৎ দেখলাম আমরা তিন থেকে হয়ে গেছি অগুন্তি ... কখন নি:শব্দে ঢুকে পড়ে দীপ্তেন্দা লস্যির নতুন রেসিপি দিতে শুরু করেছেন, জাঁকিয়ে বসেছে বাকি ভাটুরেরা।

    ভাত বসিয়ে দিল কৃষ্ণকলি। চপ ভাজার মনমাতানো গন্ধে আর বসে থাকা গেল না। টেবিলে চলে এল ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত। সবজি দেওয়া ডালের সাথে অরেঞ্জ (অরেঞ্জের পেছনে একটা লেজুড়, সেটা ঠিক মনে নেই) মাছের চপ। দেবভোগ্য বস্তু, মচমচে খোলস ভেদ করে আলতো দাঁত বসালে পরতে পরতে মাছের মনমাতানো স্বাদ, শেষে মুখের মধ্যে প্রায় মাখনের মত মিলিয়ে যায়। সুস্বাদু পার্চ মাছের একটা খাঁটি বাঙালী রান্না আর মাশরুম আর ওয়াইন দিয়ে মুরগীর ইটালিয়ান প্রিপারেশন - দুটোই অতীব মুখরোচক। ধৃতিমান প্রথমে আমার থালায় ভাতের যে পাহাড়টা বেড়েছিল, তা ডিঙিয়ে আমি ওদের মুখগুলো আর দেখতে পাচ্ছিলাম না। ফলে বিস্তর পীড়াপীড়ি করে একটু কমাতে হল। শেষ পর্যন্ত অবিশ্যি বার তিনেকের চেষ্টায় একটু একটু করে গোটা পাহাড়টাই ভেতরে সেঁধিয়ে গেল। শেষ পাতে আরও দুটো চপ আর চীজ কেকটা খাবার পর ধৃতিমানের অফার করা র‌্যানটাক ট্যাবলেটটা ঢোকার জায়গা রইল না। কৃষ্ণকলি সামান্য কটা ভাত নিয়ে নাড়াচাড়া করল, খেল না প্রায় কিছুই। ধৃতিমানের পারফরমেন্স সন্তোষজনক; যদি তারাপদ রায়ের কান্ডজ্ঞান পড়ে থাকে, তাহলে হয়ত আমি চলে আসার পর ডায়রীতে লিখে রেখেছে "আমি - চপ - চার, তীর্থ - চপ - পাঁচ; আমি - মাছ - দুই, তীর্থ - মাছ - তিন, ...' ইত্যাদি।

    কৃষ্ণকলির আঁকা ছবি দেখে ওর বহুমুখী প্রতিভা সম্পর্কে কোন সন্দেহ রইল না। ক্যামেরাটা অটো মোডে সেট করে তিনজনের একটা ছবি তুলতে গিয়ে গলদঘর্ম হয়ে আটলান্টায় কোয়েলীকে ফোন করতে হল। প্রায় এগারোটা বাজে, ইচ্ছে থাকলেও আর বসে থাকার উপায় নেই। অগত্যা উঠেই পড়তে হল। ওরা দুজনে আমাকে পৌঁছে দিল হোটেল পর্যন্ত নিস্তব্ধ: হয়ে যাওয়া নক্সভিলের রাস্তা ধরে টেনিসি নদীকে পাশে রেখে।

    বড় অল্প সময় - কিন্তু তার পরিপূর্ণ ইউটিলাইজেশন। ভালো থেকো কৃষ্ণকলি-ধৃতিমান। শিগগিরি আবার দেখা হচ্ছে।
  • kali | ২১ জুন ২০০৬ ০৫:৪১602946
  • তীর্থ দা বড্ড বিনয়ী, ভাতের পাহাড় তো দূর, টিলাও খায় নি মোটে।

    তীর্থ দা বড্ড ভদ্রলোক, সব কিছুর মধ্যে কেবল ভালো টুকুই দেখে ও লেখে।

    তীর্থদা,বড্ড ভালো মানুষ, আমাদের অ্যাটলান্টা না গিয়ে আর উপায় নেই।
  • indo | ২১ জুন ২০০৬ ০৯:৪৮602957
  • অতি অল্প হইল।
  • r | ২১ জুন ২০০৬ ১৪:২৪602359
  • সেইদিনও তো হল আমার, ব-য়ের এবং ইন্দোর সশ্রদ্ধ ভাট যাতে ঘনঘোর আঁতলামির দুর্নিবার অভিকর্ষ থেকে দূরে গিয়ে ইতস্তত: ক্যাওড়ামি, খেজুর, সফল গৃহস্থ বুদ্ধিজীবী বাঙালী যুবকের মনোবাসনার বিনিময় এবং তিন গ্লাস লস্যি শেষ করতে না করতেই সুভাষ সরোবরে বিড়ালেরা জড়ো হল, ইন্দো টাই দিয়ে কপালের ঘাম মুছল, ব বিয়ার খেল না, পাঁচ টাকায় খুরির চা হল। আর যে রকম হয় ঠিক সেইরকমই আবার দেখা হওয়ার কথা রইল।
  • vikram | ২১ জুন ২০০৬ ১৪:৩০602370
  • খুরির চা পাঁচ টাকা? একেকজন? ঢপবাজির জায়গা পাও না! সবাই মিলে? পাঁচ টাকা? ঢপবাজির জায়গা পাও না!

    বিক্রম
  • r | ২১ জুন ২০০৬ ১৪:৩৯602381
  • ডাবলিনে ডাবরের ঘৃতকুমারী তৈল পাওয়া যায়? একেকটি চায়ের খুরি পাঁচ টাকা করে। ঠিকানা দিলে রসিদটা ক্যুরিয়ার করে পাঠিয়ে দেব।
  • b | ২১ জুন ২০০৬ ১৪:৪৪602392
  • ইন্দো সেই অবলোকন অভিঘাত সামলাতে না পেরে আরো ডাকতারি তে আরো মন দিয়েছে।
  • vikram | ২১ জুন ২০০৬ ১৫:০৭602403
  • এন আর আই পেয়ে ঠকিয়ে দিয়েছে আর কি!
    তা ভালো, বেশি পয়সা আলা লোকেদের খরচের একটা রাস্তাও তো চাই।

    বিক্রম
  • r | ২১ জুন ২০০৬ ১৫:১২602414
  • সত্যি সত্যি এন আর আইদের কি দুষ্কু মাইরি! কিছু ছুতো পেলেই দল ভারী করার ধান্দা!
  • damayantee | ২৫ জুন ২০০৬ ১৮:৫৯602425
  • হ্যাঁ সে একখান ভাট হল বটে। এখনও শেষ হয় নি অবশ্য। আমাতে, মিতাদিতে, অপনকাকুতে সে ক্কী কান্ড রে বাবা। আপাতত মাত্র একটি কথা ---

    'মিতাদি" ---- এই ভদ্রমহিলা সম্পর্কে ইন্ডোদাদা খাঁটি কথা বলে গেছেন, "এনার মাতৃভাব অতি প্রবল", তা এই গুরুবাক্যের পর আমা হেন অর্বাচীনের আর কিছু বলা শোভা পায় না। তাছাড়া মিতাদি এত খাইয়েছে, এত খাইয়েছে, যে আমি এখনও নড়তে পারছি না।

    এখানে চোখ রাখুন। শীঘ্রই আসিতেছে বিস্তারিত বিবরণ।
  • Tirthankar | ২৫ জুন ২০০৬ ২২:১৪602436
  • হা পিন্টুদা! হা মিঠাই! হা মালাই চমচম!
  • mita | ২৬ জুন ২০০৬ ০৯:২২602447
  • ও তীর্থ, মিঠাই বলে হা পিত্যেশ করলে হবে? আসতে হবে তো! আর দমু কিন্তু কিচ্ছু খায় না, মিষ্টিও প্রায় না খাওয়ার মতন।
  • Arjit | ২৬ জুন ২০০৬ ১৪:৩৯602458
  • আমি খাই, আমি বেজায় পেটুক। কিন্তু আমাকে কেউ খাওয়ায় না।
  • b | ২৬ জুন ২০০৬ ১৫:৩৯602470
  • আমারো না খেয়ে খেয়ে কি অবস্তা। হাড় কখান গোনা zআয়। এট্টু কড়া মত এক্স রে লাগে এই zআ।
  • Ru | ২৬ জুন ২০০৬ ১৯:২৯602481
  • ধুর, লোকে যে কেনো এতো বাজে কথা বলে, দম দি খুব ই কম খায়, আর মোটেও পড়লে lake তৈরি হবে এমন চেহারা নয়। মিস্টি তো খেতেই দেখলাম না, একটা না দুটো লুচি নিয়ে নাড়া চাড়া করলো। মনে হয় আমার বর এর লুচি খাবার performance দেখে একটু nervous হয়ে গেছিল আর কি।
  • r | ২৭ জুন ২০০৬ ১১:২৩602492
  • এই যে দমু গুরুজনের কথা শুনিয়া খাওয়াদাওয়া ছাড়িয়া দিয়াছে, ইহাতে গুরুজনেরা যৎপরোনাস্তি আহ্লাদিত। দম হইতে ভাজা হইবার এই দুর্গম পথে গুরুজনদের আশীর্বাদ রহিল।
  • r | ২৭ জুন ২০০৬ ১১:২৬602503
  • ব-এর অতি দুরবস্থা স্বচক্ষে দেখেছি। এখনও মাইনে পায় নি তাই। নইলে ছ তলায় মঞ্জিনিসকে পয়সা রাখার আরও গোটা দুই dedicated ক্যাশবাক্সো কিনতে হত।
  • Tina | ২৮ জুন ২০০৬ ০৫:০৫602514
  • আচ্ছা এই এতো এতো সব ভার্চুয়াল ভাট এর গল্প শুনছি আর আমরা যারা কিছুই খেতে পেলাম না আর গল্প ও করতে পেলাম না, তারা কি অন্তত কিছু ছবি দেখতে পাবো?
  • damayantee | ০৪ জুলাই ২০০৬ ২২:৫৬602525
  • গুরুচন্ডা৯র রান্নাঘর থেকে
    ===========================

    আচ্ছা এই সপ্তাহান্তে যে দিকে দিকে ভাটের চুড়ান্ত হল, সে খবর জানা আছে? শনিবার সকাল সাতটায় ঈশানচন্দ্র এয়ারপোর্টে উপস্থিত হয়েছিলেন বটে, কিন্তু আমাকে খুঁজে পান ২০ মিনিট পরে। তারপরে দুজনে মিলে পার্কিং লট খুঁজে বার করি আরো আধঘন্টা ঘোরাঘুরি করে। ঈশান একদিকে আঙুল দেখিয়ে প্রবলভাবে দাবী করছিল যে ও ঐদিক দিয়ে ঢুকেছে ---- অথচ সেদিকে লোকজন যাচ্ছে চেক-ইন করবার জন্য!!! যাই হোক পার্কিং লট খুঁজে বের করার পর আরো মিনিট ১৫ লাগল ঈশানের নিজের গাড়ী খুঁজে পেতে। তারপর ফ্রীওয়েতে উঠে ৩৫-৪০ মাইল যাবার পর খুব গভীর আত্মবিশ্বাস এর সাথে জানাল আমরা সম্পুর্ণ উল্টোদিকে, ইন্ডিয়ানার দিকে যাচ্ছি। তা এই সমস্ত ঝামেলা ঝঞ্ঝাট ঝক্কি ইত্যাদি সামলে আমি মাত্র দেড় ঘন্টা পর মিঠুর কাছে পৌঁছাই। তারপর জানতে পারি ঈশান প্রায়ই উত্তর নিতে গিয়ে দক্ষিণ এর রাস্তা নেয়, অথবা পূর্ব যেতে গিয়ে পশ্চিম যায়।

    মিঠু আর মিতাদি যদি কোনোদিন রান্নার কম্পিতে যায় --- কে যে প্রথম আর কে দ্বিতীয় হবে তা জানিনা। মিঠু যে কি ভাল রান্না করে সে আর কি বলব! ইলিশে, পাবদায়, মাংসে, সুক্তোয়, ডালে, ভাজায়, মিষ্টিতে --- সে এক হৈ হৈ কান্ড রৈ রৈ ব্যপার।

    আর হ্যাঁ দোকান বাজারে ঘোরার ব্যাপারে আমি আর মিঠু এক্কেবারে একরকম।

    পিন্টুদার মিষ্টি ফুরাবার আশঙ্কায় তীত্থ আর কোয়েলী ঝটপট মিতাদির কাছে পৌঁছে গেছে। রাস্তায় উড়ন্ত টেবিলের দ্বারা আক্রান্ত হয়েও ওদের এই অবিচল নিষ্ঠা দেখে আমি মুগ্‌ধ।
  • b | ০৫ জুলাই ২০০৬ ১২:২৮602536
  • কি খায় মাইরী সকলে। কোনো ইয়ে নেই।
  • Arijit | ০৫ জুলাই ২০০৬ ২০:১৭602547
  • খায় আর লোভ দেখায়। কিপ্পুস্‌।

    নতুন লেকটার নাম কি হল?
  • damayantee | ০৬ জুলাই ২০০৬ ০৪:৫৯602558
  • তা খাওয়ার কথায় যখন লোকজনের বেশি ইন্টারেস্ট তখন শুরু থেকেই শুরু করি, খাওয়াদাওয়াকে মূল থীম হিসাবে রেখে।

    রিচমন্ডে এসেছি শুনেই নবনীতা ঠিক করেছিল এখানে এসে আশেপাশে কিছু দেখার থাকলে একসাথে ঘুরে দেখবে। নবনীতা -- যে আগে থাকত স্যাক্রাম্যান্টো আর এখন থাকে মিয়ামি। ওর কাছেই জানতে পারি, মিয়ামি খুব পচা জায়গা। অথচ আমার একবার ছুটি নিয়ে মিয়ামি-টাম্পা-ফোর্ট লডারডেল, এইসব ঘুরতে যাবার প্ল্যান ছিল। ভাগ্যিস!

    নবনীতা রিচমন্ডে এসেছিল মে মাসের শেষ সপ্তাহান্তে। আমার জন্য টিফিন বাক্স ভর্তি করে নিজে এবং বন্ধুকে দিয়ে রান্না করে/করিয়ে এনেছিল। আমি তার পরের শনিবার পর্যন্ত মহানন্দে সেইসব চমৎকার খাবারদাবার খেয়েছি।

    নবনীতা - যে প্রতি ১২ মিনিটে একবার করে ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কের কথা বলে। নবনীতা -- যে আমার মতই একটু কম লোকজনওয়ালা জায়গায় বেড়াতে ভালোবাসে। নবনীতা -- যে আমার মতই নীল রং ভালোবাসে। নবনীতা -- যে কক্ষণো কোনকিছু নিয়ে অভিযোগ করে না। আমার কিরকম ধারণা ছিল ও বেশ গম্ভীর ধরণের। দেখলাম না: দিব্বি হাসিখুশী আর প্রচুর বক্‌বক করতে পারে। রাত এগারোটায় ল্যুরে তে বারান্দায় বসে পাহাড় দেখতে দেখতে আড্ডা মারতেও দিব্বি রাজী।(শুধু যদি ঐ গাদাখানেক কালো বিড়াল না থাকত।) নবনীতার কাছে জানতে পারি ও দীপ্তেনদার দারুণ ফ্যান (DD শুনছেন?)। আমাদের আড্ডা চলতে থাকে --- সাথে সাথে বেড়ানোও। ন্যাচারাল ব্রীজ, ল্যুরে কেভার্ন ঘুরে শেনানডোয়া ভ্যালী হয়ে ফেরা। পথে থেমেটেমে খাওয়াদাওয়া তো আছেই। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়া হরিণকে দেখে আমরা আবিস্কার করি শেনানডোয়ার হরিণদের ল্যাজটা ভারী অদ্ভুত ধরণের। বাদামী, কালো আর সাদা রঙের মিশেলে বেশ লম্বা ল্যাজ। হরিণের অত লম্বা ল্যাজ আগে কখনও দেখেছি বলে মনে পড়লো না।

    কে না জানে সময় বড় তাড়াতাড়ি ফুরায়, আর লাইভ ভাট হলে তো কথাই নেই। তাই আমার হোটেলে ফেরার পর মনে পড়ে, দুজনে একসাথে একটা ছবি তোলা হয় নি। অগত্যা হোটেলেই সে কার্য্যটি সম্পন্ন হয়। নবনীতা ফিরে যায়।

    আর পরবর্তী পাঁচদিন ধরে আমি ওর আনা তরকারীগুলো খেতেই থাকি .......
  • dri | ০৬ জুলাই ২০০৬ ০৬:২৩602569
  • খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে আমার নতুন করে বলার কিছুই নেই। এক্সপার্টরা আগেই সব বলে দিয়েছেন।

    শুধু ইয়েলোস্টোনকে আমি সেকেন্ড করতে চাই। আমি মুগ্‌ধ। আমার বউ তো মাঝে মাঝে আবার যাবার কথা বলে। যারা আমেরিকায় এসে নায়েগ্রা আর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন দেখে ফেলেছেন এবং এরপর কোথায় যাবেন ভাবছেন, ইয়েলোস্টোনে যান। সাতিস্‌ফাক্‌সিয়ন তোতালমেন্তো। গ্যারান্টিড।

    আর গত সামারে শেনানডোয়াতে আমরাও একটা হরিণ দেখে ফেলেছিলাম রাস্তার ওপর টিপটিপে বৃষ্টিতে। তবে তার আগের আগের দিন স্মোকিতে একটা পথভোলা ভালুকছানা দেখেছিলাম তো। রিকটার স্কেলে হরিণটা তাই খুব বেশী স্কোর করতে পারে নি।
  • dam | ০৬ জুলাই ২০০৬ ০৭:৩৫602581
  • হরিণ আমরা বেশ কিছুই দেখলাম। দলবল, একলা একলি। সে তেমন কিছু না। ভালুকছানার কাছে তো ফু:। তবে এরকম ল্যাজ আর কখনও দেখি নি। দ্রি, আপনি দেখেছেন?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন