
ভদ্রলোক বিহারি। ভুবনলাল চৌবে। লেখাপড়া অল্পই জানেন। অল্পবয়সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বম্বে চলে গেছিলেন নায়ক হতে। সিনেমা পাড়ায় অনেক ঘোরাঘুরি করেও কোন রোল জোটেনি, কিন্তু জুটে গেছিল লেবারারের কাজ। ইলেক্ট্রিকের ভারি ভারি জিনিস তুলে এদিক-ওদিকে সরানো, লাইটম্যানের অ্যাসিস্টেন্টের অ্যাসিস্টেন্ট। সেই করতে করতে কদিন পরে বিড়লাদের কারখানায় মেটিরিয়াল হ্যান্ডলারের কাজ পেয়ে সিনেমা লাইনের কাজ ছেড়ে দেওয়া। ... ...

আমি মালা। নবমের বার্ষিক পরীক্ষা দিলাম না। গরমের ছুটিতেই প্রেম। তারপর পালিয়ে বিয়ে। এখন আমরা তিনজন। বুবুনকে স্কুলে আমিই রাখতে যাই। ওর বাবা সকালে ঘুমিয়ে থাকে। মায়েদের ক্লান্তি বলে কিছু হয় না। শুধু এক লহমায় সব উথাল পাথাল হয়। যেমন আমার হয়েছিল। এক ম্যাসেজে। ছয় হাজার টাকা তোলার ম্যাসেজ। তুলেছিল বুবুনের বাবা। আমার এটি এম কার্ড চুরী করে। তারপর সব ছবির মত। ... ...

গুরুচণ্ডালীতে একজন লিখেছিলেন হুমায়ুন আহমেদ মৃদু মানুষের ঈশ্বর। উপযুক্ত বিশেষণ। নারায়ণ সান্যালের অবশ্য সেরকম কোনো বিশেষণ নেই। ইনি হুমায়ুনের তুলনায় বেশ খানিকটা কম জনপ্রিয়। সম্ভবতঃ একটি বিশেষ প্রকাশনা গোষ্ঠীর কাছে মাথা নত না করতে পারায় তাঁর লেখার প্রাপ্য প্রচারে অনেকটা খামতি থেকে গেছে। ‘বিশ্বাসঘাতক’ এখনও প্রচুর বিক্রি হয়। কিন্তু ‘আনন্দে’ না থাকতে পারলে ‘টপ টেনে’ টিকে থাকা বড়োই মুশকিল। নারায়ণ সান্যালের অনেকগুলো স্টাইলের মধ্যে একটি অনবদ্য স্টাইল ছিল - যেটা কিছুটা ইতিহাস, কিছুটা কল্পনা। এই স্টাইলটাকে সঠিকভাবে ভাষায় বর্ণনা করা মুশকিল। চেষ্টা করছি। এককথায় বলতে পারেন ইতিহাসের শূন্যস্থান পূরণ। ইতিহাসের বিকৃতি বলবেন না, প্রেম আর যুদ্ধের থেকেও সাহিত্যে গণ্ডি বেঁধে দেয়া আরো বেশি কষ্টকর। এবারের লেখা নারায়ণ সান্যালের সেই স্টাইলে। স্টাইলের নাম? – ওই যে বললাম 'ইতিহাসের শূন্যস্থান পূরণ'। ... ...

জ্যোতিষ আসলে কী - তা নিয়ে জ্যোতিষ বিরোধী অর্থাৎ বিজ্ঞানসম্মত ভাবনাচিন্তায় আগ্রহী মহলেও পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। সেরকমই একটি ধারণা নিয়ে এসেছেন সুকল্প কুণ্ডু। জ্যোতিষ যে আসলে বিজ্ঞান, তবুও কেন জ্যোতিষ সফল এবং জ্যোতিষের বৈজ্ঞানিক বিরোধিতাও কেন সাফল্য পাচ্ছে না, তার নির্মোহ বিশ্লেষণ ফুটে উঠেছে এই লেখায়। ... ...

সেই যে আমরা জন্মের পর ছুটতে শিখলাম, তারপর আর থামলামই না। ছোটবেলায় শিক্ষার পেছনে ছুটলাম, অথচ সেই শিক্ষাটাই আমাদের কখনো হলো না। তারপর রূপ-যৌবন-যৌনতার পেছনে ছুটলাম কিন্তু মানুষ অধরা রয়ে গেল। তারপর অর্থ, স্বাচ্ছন্দ, সমৃদ্ধি, উন্নতির পেছনে ছুটলাম, সুখ,শান্তি, মানুষত্ব হাত ছাড়া হয়ে গেল। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের যাত্রা পথের দিকে তাকালে কেউ যদি হঠাৎ আবিষ্কার করেন, ছোটবেলায় তিনি বড্ড সুখী ছিলেন, তাহলে তাকে কি বলবেন, সুখ কোনটা। ... ...

জীবনে সেই প্রথম চক্ষুকর্ণের বিবাদ ভঞ্জন করে "কম্পিউটার" দেখা হল - ইনটেল 386 - সাদা রঙের পিসি - টিভির মত দেখতে সাদা দামড়া মনিটার, ইয়া গাব্বা সাইজের সি পি ইউ, সেটাও সাদা, তাতে ছোট এবং বড় দুই রকমের ফ্লপি ডিস্কের স্লট। বলা বাহুল্য এসব ডিটেইল কিছুই তখন জানতাম না - ওটাকে ফ্লপি বলে বা ওই ঢোকানোর জায়গাটাকে স্লট বলে, সেটুকুও না। সিডি ব্যপারটার নামই শুনব আরো প্রায় বছরখানেক পরে ... ...

চৈত মাসের সাত-সকালে দোচালা ঘর থেকে বেরিয়ে উঠোনে দাঁড়াতেই গফুরের চোখে পড়ে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি; খাঁ খাঁ রোদ্দুরে স্বচ্ছ জলরাশি সফেদ বর্ণ ধারণ করেছে। হালকা বাতাসে জলরাশিতে মৃদু ঢেউ গফুরের মনে অতীতের অনেক স্মৃতি দোলা দিয়ে যায়। দশ বছর আগেও এখানে চোখে পড়ত আদিগন্ত সবুজের সমারোহ। সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগরগামী পাকা-সড়ক লাগোয়া ফুলেশ্বরী গ্রামে দুই বিঘে জমিতে গফুরের পৈত্রিক ভিটে ছিল। ... ...

নিউ জিলান্ড নিয়ে কয়েকটি এলোমেলো কথা - মাউই এর মায়ের নাম "তরঙ্গা", আমার কাছে বেশ লাগে ভাবতে যে সমুদ্রের ঢেউ (আমাদের তরঙ্গ?) নাকি মাউই কে বড় করেছে। ... ...

গপ্পো - ক্রমে ক্রমে ঘ্যাঁঘাবাবু আড়াই বছরের হইল। ডারউইনের থিয়োরি অনুসরণ করিয়া কথাও বলিতে শিখল। তাহা শুনিয়া বাড়ির লোকেরা ধন্য মানিল। এমন নহে যে, এতাবৎকাল সে কথা বলিত না। তবে তৎকালে সে ঘ্যাঁঘাভাষায় কথা বলিত। সে কথা কেবল ঘ্যাঁঘা ঘেঁঘীরাই বুঝিতে পারিত। ... ...

প্রকাশ্যে আসা মানা। ইটের তলায় চাপা পড়া এই হলুদ ঘাসেদের নিয়ে শুরু #আমি সিরিজ। এরা কেউ কেউ রূপঙ্করের গান শোনে। নচিকেতা প্রিয়। 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' আবৃত্তি করে পাওয়া স্কুলের প্রাইজটা নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছে। এক বুক অভিমান নিয়ে মাথায় কাপড় টেনে ঝড়-জলে পড়ে মায়ার সংসারে পড়ে। ঘরের বৌ হয়ে লেখাপড়া-জীবন-জীবিকা কিছুই বোঝা হল না। কেউ আবার পথে নেমে পেল হাজার বঞ্চনা। শেষমেশ ঘর- স্বামী - শাশুড়িও নিজের হল না। শীত-হেমন্ত-যুদ্ধ-শান্তির বাইরে এদের এক ইচ্ছার শরীর আছে। সেন্সেটিভ মন আছে। এক হার মানিয়ে দেওয়া অনুভূতি আছে। শুধু নিজেদের বেঁচে থাকাটাই হল না এই জন্মে। এদের গল্পগুলো বলা হল না। ... ...

ফেলুদা ধপ্ করে একটা শব্দে বইটা বন্ধ করে, নীচু টেবিলটার উপরে রাখা ডান পায়ের উপরে বাঁ পাটা লম্বা করে তুলে, তুড়ি মেরে সিগারেটের ছাইটা ছাইদানিতে ফেলে বললো, "শার্লক হোমস।" ফেলুদা এতক্ষণে ধরে দুটো বই প্রায় একসাথে পড়েছিল। দুমাস আগে বিহারের শিমূলতলায় একটা খুনের ব্যাপারে অপরাধীকে জুতোর সাইজের গোলমালের সাহায্যে ধরে দিয়ে, বেশ মোটা রোজগার করে বসে আছে। ... ...

অনেকদিন বাদে আজ ছাতে উঠেছে ও। ছাতে এত সুন্দর বাগান করেছে মা! দেখে অবাক হয়ে গেছিল। আইআইটি জয়েন করেছে পরের থেকে খুব কম বাড়িতে আসে। এলেও ছাতে ওঠা হয়না। ওর গৃহবন্দিত্ব না। ঘরবন্দিত্ব চলছে। স্বেচ্ছানির্বাসন। সারা পৃথিবী থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিতে হয় মাঝে মাঝে। একেবারে একটা দ্বীপের মধ্যে। খুব বেশিই ছুটছিল যেন! একটার পর একটা সেমেস্টার।টপ করে যাওয়া। না করতে পারলেই ফ্রাস্ট্রেশন। বাড়িতে এখন আর কিছু বলে না। কিন্তু ছোটবেলা থেকে ও একটা অদৃশ্য চাপ অনুভব করে। দাদা ফার্স্ট হয়েছে।তোমাকেও হতে হবে। দাদা এটা পারে। তোমাকেও পারতে হবে। ... ...

করোনা পরীক্ষা কি সত্যি কম হচ্ছে ভারতে? আর তাই করোনা রোগী যত বেশী হওয়ার কথা তা হচ্ছে না? আসুন দেখা যাক পরিসংখ্যান কি বলছে। আজ দ্বিতীয় কিস্তি ... ...

ত্বরিতগতিতে ছুটে যাচ্ছিল সারমেয়কুল। এদের একটা স্বভাব আছে। খাদ্যের সামান্য আভাস এবং আদরের সামান্যতম আভাস পেলেও এরা লেজ নাড়াতে নাড়াতে দৌড়ে আসে।যেন বহুদিনের পরিচয়। একেক জনের একেক রকম স্বভাব। কেউ এসেই হামলে পড়ে খায়।কেউ কেউ এসে সলজ্জভাবে দূরে দাঁড়িয়ে থাকে।পেটে খিদে।অথচ আসে না।দূরে দাঁড়িয়ে লেজ নাড়াতে থাকে। ... ...

স্কুলের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলেই আজকাল মেয়েদের এগিয়ে থাকার খবর উঠে আসে সংবাদপত্রের প্রথম পাতায়, girls outperform boys. পাশের হার থেকে প্রথম স্থান, সবেতেই মেয়েদের জয়জয়কার। পরিসংখ্যান একটু খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করলে ছবিটা কেমন অন্যরকম হয়ে যায়, আগুপিছুর হিসেব বদলাতে থাকে। সেই ধূসর পর্দায় ফুটে ওঠে কিছু missing women-এর মুখ। ... ...

কবি বীতশোক ভট্টাচার্যের প্রয়াণ-দিবস আজ। কিছু স্মৃতি ও কিছু কবিতা নিয়ে এই লেখা। ... ...

ভারতের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের নানান প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে দেশী, বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে। সম্প্রতি বিবিসি একটি তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন বের করেছে, যেখানে প্রতিবেদকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে আমেরিকা, ব্রাজিল এর পরে করোনার পরবর্তী হটস্পট হয়ত ভারত। আমরা বিভিন্ন তথ্যের আলোতে এই প্রশ্নটারই উত্তর খুঁজব, একই পরিসংখ্যানে আলো ফেলব বিভিন্ন কোন থেকে। আগেই বলে রাখি, এই লেখা পড়ে আপনি যদি ভারতে পরিস্থিতি খুব ভালো বা খুব খারাপ, এই জাতীয় সিদ্ধান্তে আসার আশা রাখেন, তাহলে হতাশ হবেন। আমি শুধুমাত্র ভাবার চেষ্টা করছি, আপনাদেরও ভাবানোর চেষ্টা করছি। আজ প্রথম কিস্তি। ... ...

আধুনিক তথ্যবিজ্ঞানে প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের আবিষ্কৃত ফর্মুলা কিভাবে কাজে লাগছে, কিভাবে মেশিন লার্নিংয়ের একটি জরুরি ভিত্তিপ্রস্তর আসলে এই বাঙালী বিজ্ঞানীর অবদান, যা আমাদের দৈনন্দিন অনলাইন জীবনকে নিয়ত প্রভাবিত করছে, এই দিকটি তুলে ধরার জন্যই এই প্রবন্ধ। ... ...

সরকার না চাইলে যেমন দাঙ্গা হয়না, তেমনি রাষ্ট্র না চাইলে অপরাধী বা নিরপরাধী কেউ এনকাউন্টারে মরে না। এনকাউন্টারকে বাহবা দেয় যারা, তারা মব লিঞ্চারের সমগোত্রীয়। নিজের হাতে আইন তুলে নিতে চায়। তুচ্ছ করে দেশের সংবিধানকে, যেখানে একরকম আইনানুগ সুবিধে সবারই পাওনা একথা স্পষ্টাক্ষরে লেখা আছে। ... ...

আজ থেকে বত্তিরিশ বছর আগে রঞ্জনদার লেখা পড়ি প্রথম। দেশ পত্রিকায় 'বাঙালির বাঙালোর' নামে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। বুদ্ধিতে আর উইটে ভরপুর এক অতি স্বাদু, মুচমুচে, আরবান লেখা। ভাল লেখা পড়লে কেটে রাখতাম। এ লেখাও সংগ্রহ করেছিলাম। আজও আছে। লেখকের নাম ছাড়া আর কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। দেশ পত্রিকার আপিসে গেলে হয়ত পাওয়া যেত। তার বছর কয়েক পরে দেশে ছাড়লাম। ... ...