
আমি যেন ঘোরের মধ্যে কাটালাম সময়টা! একের পর এক লোক নামছে, উঠছে, ছেলে-বুড়ো-মা-মেয়ে সব শ্রেণীর, সব পেশার, সব বয়সের মানুষ এত ছোট্র এক জায়গায় তীব্র গরমের মধ্যে ঠাসাঠাসি করে বসে থাকে, দাঁড়িয়ে থাকে, তবু লাগে না বড় কোন গোলমাল! এমন সুশৃঙ্খল যাত্রী বিশ্বের আর কোথায় আছে? ... ...

সাহায্যের নামে কাছের মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে পড়া ... ...

সাইদি ওয়াজে জান্নাতের টিকেট বিক্রি করত! আর আমার দেশের সাদাসিধে মানুষ এমন মানুষের কথায় নাচত! সাইদির জেল হাওয়ার পরে মানুষ সাইদিকে চাঁদে দেখতে পাইছে বলে দাবী করছে। দেশ জুড়ে হাঙ্গামা হয়েছে, মানুষ মারা গেছে! গতকাল ঢাকায় মৃদু ভূমিকম্প হয়েছে, আর সাইদির ভক্তকুল বলা শুরু করেছে সাইদির মৃত্যুতেই এই ভূমিকম্প! এই শ্রেণীর সমর্থক থাকলে লাগে কিছু আর? যাই হোক, ওয়াজের ওই সব দিনে সাইদি নিজেকে হয়ত ঈশ্বরের কাছাকাছি কিছু একটা মনে করত। একবার ইরাকে আমেরিকা আক্রমণের পরে কক্সবাজারে এক ওয়াজে তিনি বলে বসেন আমেরিকান বা ব্রিটিশ, যাকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিশোধ নিতে হবে! এই ওয়াজের ক্যাসেট ইংল্যান্ডের চ্যানেল ফোরের হাতে পরে। এমন লোক কীভাবে ইংল্যান্ডের ভিসা পায় বলে প্রশ্ন তুলে চ্যানেল ফোর! ফলাফল সাইদির বিলেত সফর বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে অবশ্য সাইদির আমেরিকার ভিসা বন্ধ হয়। নাইন ইলিভেনের পরে আমেরিকা সারা দুনিয়ায় নানা জনের উপরে নিষেধাজ্ঞা দেয়, বাংলাদেশ থেকে একমাত্র সাইদির নাম ছিল সেই তালিকায়। ... ...

যৌনতা সম্পর্কে সচেতনতা ... ...

বিচ্ছিন্নভাবে র্যাগিং হয়না। এবং কলেজের প্রতিটি ছাত্র সংগঠন ব্যাপারটা জানে। হ্যাঁ, প্রতিটা ঘটনা জানেনা, অংশগ্রহণ বা এনডোর্স করেনা, সবই সম্ভব, কিন্তু জানেনা, এটা হয়না। যদি কেউ বলে, জানতামনা, তাহলে হয় সেই সংগঠনটা নেই, অথবা গুল দিচ্ছে। বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। আর যদি কোনো সংগঠন বলে, জানেনা, কারণ এটা "বিচ্ছিন্ন ঘটনা", তাহলে সেটাও গুল। "বিচ্ছিন্ন র্যাগিং" হয়না। বিচ্ছিন্ন খুন-জখম-রাহাজানি-গুন্ডামি-শ্লীলতাহানি সবই হতে পারে, কিন্তু র্যাগিং না। কারণ, আপনি কল্পনা করে দেখুন, অন্য একটা ছেলেকে আপনি বলছেন, "এই, প্যান্ট খুলে রাত বারোটায় ইন্ট্রো দিয়ে যাবি" - এটা চুপি-চুপি হয়না, এবং এটা আপনার মাথাতেই আসবেনা, যদি না একটা কালচার চালু থাকে, এবং সেটার একরকম মান্যতা থাকে। ... ...

কবিতা পত্রিকার সম্পাদকও কবির রচনাকে বুঝতে পারেন না ... ...

শ্রমক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়া ভালো লক্ষণ, কিন্তু এই বাড়তি মহিলা শ্রমের সিংহভাগই কৃষিতে যাচ্ছে, শস্তার শ্রম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে- এগুলো সুবিধার লক্ষণ নয়। ... ...

আসলে শেকড়ের শেকল থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে মানুষের আকাঙ্ক্ষা যেন আরেক পেষণের, আরেক শেকলের; ধরণীতলের কঠিন শেকল যা মানুষকে করেছিল গুহাবন্দী, তাকে ছিন্ন করে উপরের জলে গড়া নরম শেকলে সে স্বপ্ন দেখে মুক্তির। নিয়ম আর আচারের শেকড়-বাকড় উপড়ে ফেলে বর্ষা নগ্ন মানুষকে মুখোমুখি করে প্রকৃতিদেবীর, যার জন্য সে কতদিন পথ চেয়ে ছিল! বৃষ্টির কোলে শায়িত অবস্থায় এক তীব্র পেষণে যখন ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে আদিম সব গুহা থেকে, এক নতুন পৃথিবীর জন্ম হয় তখন! বৃষ্টির পরম শাসনে সভ্যতার মুখোশ খোলার অব্যর্থ সব বাণ নিক্ষিপ্ত হতে শুরু করে সেখানে; তার পিঠের উপর পড়তে থাকে বৃষ্টির তীব্র চাবুক! বর্ষা তাই পৃথিবীর আরেক রেঁনেসা। নগ্নতার অমোঘ আহবানে পরিচয়-যুদ্ধের মাতাল মাঠ ছেড়ে মানুষ পাড়ি জমায় অকুলের অনন্ত নৌকোয়। ... ...

গল্পগুলি আমাদের অন্য এক জগতে নিয়ে যেতে পারে – যে জগৎটা আমরা প্রতিনিয়ত হারিয়ে চলেছি আঙুলের ফাঁক দিয়ে ঝরে পড়া বালুর মতো। ... ...

প্রকৃতিকে ছারখার করে, প্রকৃতিকে নিংড়ে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করাই সভ্যতার সংজ্ঞা। ... ...

অহল্যা বাঈ হোলকার কে ছিলেন? কেন মধ্যভারতের এক বিশাল অঞ্চলে আজও তিনি 'লোকমাতা' রূপে স্মরণীয়া হয়ে রয়েছেন? সচরাচর এই ধরনের ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বদের আজকাল আর ফিরে দেখা হয়না প্রায় কারোরই। ইতিহাস চর্চার নতুন আবহেও প্রায়ই বাদ পড়ে যান তাঁরা। তবুও অসহিষ্ণু এই দেশে -এই সমকালে অহল্যা বাঈদের মতো মানুষরা চির প্রাসঙ্গিক। ঠিক যেমন চির অমলিন তাঁর অসামান্য জীবন - অনন্য কীর্তিসমূহও। ... ...

আই-আই-পি-এস (International Institute for Population Sciences) এর ডিরেক্টর, কে এস জেমস-কে সরানো হয়েছে। সরকারী প্রেস রিলিজ এখনো আসেনি তবে এই দ্য ওয়ায়ারের সূত্র অনুযায়ী IIPS-এর সার্ভের ফলাফল বড়কর্তাদের পছন্দ হয়নি। অতএব, বেণীর সঙ্গে মাথা। অবশ্য পছন্দ হওয়ার কথাও না। সারা বছর ফাঁকি দিয়ে কার আর অ্যানুয়াল পরীক্ষার মার্কশীট পছন্দ হয়? কারুর না। তা ছাড়া, সরকারের গগনচুম্বী সমস্ত দাবীর বেশীর ভাগের সাথেই যে বাস্তবের আকাশ-জমিন ফারাক, সে ঐ NFHS-5 এর ডেটা একটু খুলে দেখলেই দিব্যি বোঝা যায়। ... ...

পুরুষের দৃষ্টি ... ...

মাধব গ্যাডগিল আর রামচন্দ্র গুহ ‘ভারত’ আর ‘ইন্ডিয়া’ নামে অভিহিত করেছেন এই দুই বলয়কে। ইন্ডিয়া থেকে আসা পাখিপ্রেমীরা ভারতের লখাদের থেকে দূরেই থেকে যায়। শহুরে হুজুগে বাবু, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পক্ষীবিদ আর বনাঞ্চলের লখিন্দর, একই চরাচরে বাস করেও রয়ে যায় বহুদূরবর্তী পৃথক ভৌগোলিক বলয়ে। ... ...

সম্প্রতি ইসকন ও রামকৃষ্ণ মিশনের মধ্যে কাজিয়া তুঙ্গে উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতেই বিকৃত ইতিহাসের সুলুকসন্ধান করা... ... ...

পঞ্চায়েতী ব্যবস্থার সঙ্গে গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক অস্তিত্ব জড়িত। অথচ ক্রমেই তা হয়ে যাচ্ছে দূরতর এক মরীচিকা যাতে সাধারণ মানুষের মতদানের অধিকার সংকুচিত হয়েই চলেছে। আগের আমলে দলীয় আমলাতন্ত্র যা ক্ষতি করেছে তাকে বহুগুণে বাড়িয়ে তুলছে বর্তমান আমলের ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতন্ত্র। শুধু দুর্নীতি নয়, প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত পঞ্চায়েতের আদর্শকে প্রতিষ্ঠা যা কখনোই পূর্ণতার মুখ দেখে নি। ... ...


কোন পুরুষ যদি প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করে, মদ বা জুয়ার নেশায় নিমজ্জিত হয়, যৌনরোগে আক্রান্ত হয়, পুরুষত্বহীন হয়ে পড়ে বা সাংসারিক খরচাদি মেটাতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে সংক্ষুদ্ধ স্ত্রীটি যেন তার স্বামীর বিরুদ্ধে সরাসরি ও স্বাধীনভাবে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন শুরু করতে, সেই সুযোগ আদর্শ বিবাহ চুক্তিটিতে রাখা হয়েছিল। মেয়েদের জন্য মুখলিসার এই সংগ্রামকে নিশ্চিতভাবেই প্রভাবিত করেছে তার নিজের জীবন।, নিজের মোল্লা স্বামীর সাথে কিছুতেই বনিবনা হচ্ছিল না। অথচ প্রায় বিশ বছর তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল বিচ্ছেদ কার্যকর করতে, অনিচ্ছা সত্বেও করতে হয়েছে স্বামীর ঘর। ... ...

ঠিক পড়েছেন। অন্য এক প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টরের কাছে লেখা খোলা চিঠিতে সই করার ‘অপরাধে’ তাঁদের শো-কজ হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের গবেষণার খাতে বরাদ্দ সমস্ত টাকা প্রতিষ্ঠান আটকে দিয়েছে। আগামী ১৩ তারিখের মধ্যে সেই চিঠির উত্তর দিতে হবে অভিযুক্ত অধ্যাপকদের। মোহালিরই এক অধ্যাপকের মন্তব্য, “কোনো CCS (Central Civil Services) আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে বলে আমি মনে করি না, … গোটা দেশে, বৃহত্তর পরিসরে যা হচ্ছে এ আসলে তারই প্রতিফলন। ‘শুধু প্রতিবাদ-ই শাস্তিযোগ্য অপরাধ’—বছরের পর বছর এই মানসিকতাই গড়ে তোলা হচ্ছে গোটা দেশে।” ... ...

বাংলায় শিক্ষা-টিক্ষা চালু করার কথা এলে, প্রথমেই দুটো তর্ক উঠে আসে, যা সেই রবীন্দ্রনাথের আমল থেকে চলছে। এক, বাংলার পরিভাষাগুলো অদ্ভুত। ছোটো থেকে শুনে আসছি, গতিজাড্য, ভরবেগ, জ্যা, ব্যাসার্ধ, কূটাভাষ, চলগতিবিদ্যা, বস্তুবাদ, যুক্তিবাদ, তাত্ত্বিক প্রস্থানবিন্দু, এইসব নাকি খুব কঠিন কথা। 'উদস্থৈতিক কূট'? হ্যাহ্যাহ্যা সেটা আবার কী? আমরা মফঃস্বলবাসীরা এ জিনিস শুনে-শুনে পচিয়ে ফেলেছি। অথচ, কথাটা একেবারেই ফালতু। ইংরিজি দারুণ-দারুণ সোজা পরিভাষার ডিপো, তা নয়। যা আছে, তার বহু কিছুই ইংরিজিভাষীদের পক্ষেও কঠিন। মায়ের পেট থেকে পড়েই 'হাইড্রোস্ট্যাটিক প্যারাডক্স' কাকে বলে কেউ বুঝে যায়না, আর অ-ইংরেজভাষীদের পক্ষে, খুব অভ্যাস না থাকলে, বলতে দাঁত খুলেও যেতে পারে। স্ট্যালাগটাইট, স্ট্যালাগমাইট, ইন্টারডিসিপ্লিনারি-ডিসকোর্স, এসবই কঠিন জিনিস। বৈজ্ঞানিক নামগুলো তো, ওরে বাবা। পেরিপ্ল্যানেটা আমেরিকানা, মানে নাকি আরশোলা, হোমো-স্যাপিয়েন্স মানে মানুষ। তার আগে ছিল নিয়েন্ডারথাল, হোমো-ইরেকটাস। প্রচুর মুখস্থ না করলে মনে রাখা সম্ভব না। আমাদের পন্ডিতদের যেমন তৎসমের উপর একটা ঝোঁক ছিল, পশ্চিমের পন্ডিতদের ছিল লাতিনের উপরে। সব একই রকম খটোমটো। অভ্যাস করলেই অভ্যাস হয়ে যায়। নইলে হয়না। ... ...