
রেমডেসিভির নিয়ে প্রথম ট্রায়াল রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে (১০.০৪.২০২০) “Compassionate Use of Remdesivir for Patients with Severe Covid-19” শিরোনামে। এরপরে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র বেরোয় ল্যান্সেটে (২৯.০৪.২০২০) “Remdesivir in adults with severe COVID-19: a randomized, double-blind, placebo-controlled, multicentre trial” শিরোনামে। লক্ষ্য করার বিষয় এ ট্রায়ালটি “randomized, double-blind, placebo-controlled, multicentre” চরিত্রের – যেমনটা সঠিক বৈজ্ঞানিক ট্রায়ালের ক্ষেত্রে হবার কথা। রেমডেসিভির-এর বর্তমান আবিষ্কর্তা Gilead Sciences কোম্পানি এবং NIH স্বাভাবিকভাবেই এই ওষুধের ট্রায়াল দিয়েছে। কিন্তু এদের ট্রায়ালগুলো open-label, double-blind নয়। ফলে বিজ্ঞানের বিচারে বিশ্বাসযোগ্যতা কম। ... ...

জানেন কতজনের সঙ্গে আলাপ হয় কত বড়ো গুণীজন তাঁরা সবার কনট্যাক্ট আমি রেখে দিই। সময় এলে ঠিক কাজে লেগে যায়। এরম করে অন্তত দুটি ফুটবলারের জীবন আমি বাঁচাতে সাহায্য করেছি আমার চেনা পরিচিত দুই ডাক্তারের সাহায্যে। এই আপনার সঙ্গে আলাপ হলো আজ তেমনি কোথাও কোনও অনুষ্ঠানে তাঁদের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল, কার্ড দিয়েছিলেন রেখে দিয়েছিলাম। ঠিক সময়ে কাজে লেগে গেলো। ফুটবলে আপনার পায়ে বল এলে আপনাকে ঠিক টাইমিং এ পারফেক্ট কন্ট্যাক্টে বা টাচে বল পাস করতে হবে দলের সহ খেলোয়াড়কে, আফটার অল ইটস আ টিম গেম... লাইফ ইস অলসো আ টিম গেইম... শ্রদ্ধায় প্রণাম করতে গিয়েছিলাম, হাঁ হাঁ করে উঠে দাঁড়িয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর সেদিনের কলাম চেক করতে হবে ওঁকে, তাই আর বিরক্ত না করে বেরিয়ে এসেছিলাম। ... ...

ফলে আমার কাছে সে সময়ের খেলার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের, যাঁরা নিজেরা এই ত্রয়ীর সঙ্গে বা বিপক্ষে খেলেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলা ছাড়া আর কোনো রাস্তা খোলা ছিল না। আমার খোঁজ ছিল চুনী, পিকে বলরামের খেলার বৈশিষ্ট্য, পার্থক্য নিয়ে। কথা বলেছি, চন্দন পাল চৌধুরী (৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত খেলেছেন—এভিনিউ সম্মিলনী, স্পোর্টিং ইউনিয়ান, জর্জ টেলিগ্রাফ, ভ্রাতৃ সংঘের মতো ক্লাবে। মূলত মাঝমাঠের খেলোয়াড়, প্রয়োজনে ইনসাইডেও খেলেছেন), কানাই সরকার (৬০-এর দশকের মধ্যভাগ থেকে ৭০ দশকের প্রথম দিকে খেলেছেন, এরিয়ান্স ও তিন প্রধানেই। ভারতীয় দলেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। গোলকিপার), অরুময় নৈগম (৬০-এর দশকে মোহনবাগান ও ভারতীয় দলে নিয়মিত খেলেছেন। উইঙ্গার) সুকুমার সমাজপতি (মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য, পরে ধারাভাষ্যকার হিসেবেও খুব জনপ্রিয় ছিলেন। উইঙ্গার)—এঁদের মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে। এ ছাড়া সুনীল ভট্টাচার্য (৬০-এর দশকের শেষ দিক থেকে ৭০-এর দশকে ইস্টবেঙ্গল ও ভারতীয় দলে নিয়মিত খেলেছেন। ডিফেন্ডার) ও নভি কাপাডিয়া-র (ক্রীড়া সাংবাদিক) স্মৃতিচারণ থেকে সমৃদ্ধ হয়েছি। ... ...

খেলার শেষে সবাই মুরি যাচ্ছেন বাসে করে। মুরি থেকে ট্রেন। দু ঘন্টার জার্নি। পিকে চুনী একই বাসে। সময় কম, বাস চলছে জোরে, ট্রেন ধরতে হবে তো। হঠাৎ চোখ ধাঁধিয়ে গেল ড্রাইভারের, উল্টোদিকে বোধহয় একটা বাস বা লরি কিছু ছিল, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদের দিকে ছুটছে বাস। বাসে রয়েছেন বসে আগামী দিনের দুই সুপারস্টার, প্রদীপ আর সুবিমল। পিকে আর চুনী। আঠারো মাসের ছোটো বড়। মোটামুটি নাম হয়ে গেছে দুজনেরই। সবাই ধরে নিয়েছে এরা কলকাতা মাঠ কাঁপাবে আর কিছুদিন পরেই। বাস ছুটতে ছুটতে ধাক্কা খেল বড় পাথরে। কাত হয়ে সামলে গেল। ভাগ্যিস গেল। না হলে? ... ...

অরুণাচলের অন্যান্য ব্যাঘ্র সংরক্ষণ এলাকায় যত বাঘ আছে তার চেয়ে ঢের বেশি আছে দিবাং ভ্যালিতে। অরণ্যের প্রতি ভালবাসা এতো গভীর যে ইদু মিশমি সম্প্রদায়ের প্রত্যেকের সমাধিতে রাখা থাকে বিভিন্ন শস্য ও বৃক্ষের বীজ সম্বলিত একটি বটুয়া। মৃত্যুর পরেও যেখানে সে যাবে, সেখানেই গড়ে উঠবে গহীন অরণ্য। গত ২০ শে এপ্রিল ২০২০ করোনা অতিমারিতে ব্যস্ত সাধারণকে অন্ধকারে রেখে একটি ভিডিও কনফারেন্সের পর সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে এই স্বর্গে বন কেটে গড়ে উঠবে বিশাল এক হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট, দেশের বিশালতমগুলির মধ্যে একটি। এই প্রজেক্টের অঙ্গ হিসেবে সরকারি আস্তিনে লুকোনো তাসের মধ্যে রয়েছে দুটি বিশাল বাঁধ, দীর্ঘ সুড়ঙ্গ, ভূগর্ভস্থ পাওয়ারহাউস, ৫০ কিমি ব্যাপ্ত রাস্তাঘাট। এসব করতে কিছু গাছ কাটা তো অবশ্যম্ভাবী। এই "কিছু"র সংখ্যা হলো ২.৮ লাখ গাছ, যাদের অনেকেরই গুঁড়ির ব্যাস ৮ মিটারেরও বেশি। ... ...

জেনার যেভাবে গো-বসন্ত আর গুটিবসন্ত বীজাণু মানুষের দেহে ইচ্ছেমত প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন, আজকের দিনে এইভাবে সরাসরি মানুষের ওপর পরীক্ষা করা যায় না। কিন্তু সেসময় এরকম পরীক্ষা চলত। আর তখন চিকিৎসাশাস্ত্র এতোই অনুমাননির্ভর ছিল, মানুষের ওপর করা পরীক্ষার এতোই অভাব ছিল যে এক-দুজন মানুষের রোগ ঠেকানো গেলে সেটাকেই একটা বেশ বড়সড় প্রমাণ বলে ভাবা হত। তাই জেনার-এর টিকার এমন হাতেগরম ফল সাধারণভাবে অগ্রাহ্য হবার কারণ ছিল না। কিন্তু ইংল্যান্ডের ডাক্তার সমাজ এই টিকা আবিষ্কারকে চট করে মেনে নিতে পারলেন না, বরং তাদের একটা বড় অংশ একে উড়িয়ে দিতে চাইলেন। ... ...

নার্স দিদিরা পৃথিবীর অন্যতম নিয়ম শৃঙ্খলে আবদ্ধ ক্যাডার। এনারা যেভাবে মুখ বুজে বিনা প্রতিবাদে হায়ারার্কি মেনে চলেন তা শেখবার মতো। প্রথম দিকে সেটা আমার কিছুটা বিরক্তিকরই লাগত। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম, চরম হট্টগোলের সরকারি হাসপাতালগুলি টিকিয়ে রেখেছে তাঁদের এই অসাধারণ শৃঙ্খলা। তাছাড়া সম্ভবত এই ক্যাডারের সকলেই মহিলা হওয়ায় এনাদের মধ্যে করাপশন প্রায় দেখাই যায়না। নার্স দিদিদের কাছে শিখেছি অনেক কিছু। এনারা অনেকেই অত্যন্ত ভালো ছাত্রী। আজকাল তো উচ্চমাধ্যমিকে ৮০% এর বেশি নম্বর না পেলে জি এন এম নার্সিং এ সুযোগ পাওয়াই মুশকিল। ... ...

এ যেন এক মৃত্যুমিছিল চলছে – করোনার মৃত্যুমিছিল। ১৩.০৬.২০২০-তে worldometer-এর তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৭৬৫,৮৭৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪২৮,৭৫৩ জনের, সেরে উঠেছে ৩,৯৯৮,৭৫১ জন। এর মধ্যে খোদ আমেরিকাতেই মৃত ১,১৬,৮৩১ জন। সংক্রমণের হারে ভারত এখন ৪র্থ স্থানে – সংক্রমিতের সংখ্যা ৩১০,১৩১, মৃত্যু ঘটেছে ৮,৮৯৫ জনের, সেরে উঠেছে ১৫৪,৬৯৬। কিন্তু ভারতে করোনা সংক্রমণের গ্রাফ এখনো ঊর্ধমুখী বা এক্সপোনেনশিয়াল। তাহলে আমাদের মুক্তির উপায় কি? এখানেই আসবে আমাদের ইমিউন সিস্টেম নিয়ে প্রাথমিক কিছু কথাবার্তার প্রসঙ্গ। ... ...

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বলতেন 'দেবশিল্পী'। সলিল চৌধুরী বলতেন, 'হেমন্তদা বা লতা যখন আমার গানের শিল্পী, তখন কল্পনা আমার দিগন্ত ছাড়িয়ে যায়। Sky is my limit.' আকাশই তাঁর সীমা হতে পারে। আকাশ পেরিয়ে ঐ পারেও রয়েছে তাঁর রাজপাট। বাঙালি হয়ে জন্মাবার সুবাদে যেসব ওয়রিশন ফাঁকতালে পেয়ে গেছি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তাঁদের মধ্যে একটি সেরা অহংকার। নীল ধ্রুবতারা। সব প্রশ্ন থেমে যায় সেদিকে তাকিয়ে। তাকিয়ে থাকাটাই আমাদের প্রাপ্তি। অমলিন উজ্জ্বল উদ্ধার। ... ...

বিভিন্ন প্রকল্পে কতটুকু পাওয়া যাবে, তাকেই বলা হয় অনুদান। ১৯৯০ দশক পর্যন্ত বাম সরকারের মন্ত্রীরা, বিশেষ করে অশোক মিত্র যে অভিযোগগুলি করেছেন, তার মর্মার্থ একটিই, যে, এই রাজ্যের নিজস্ব উপার্জনের সমমূল্যের এই টাকা রাজ্যে ফিরে আসেনা। একে তাঁরা বঞ্চনা বলেছেন। অভিযোগ সত্যি হলে ৫০ বছরের লুণ্ঠন বললেও অত্যুক্তি হয়না।নতুন শতাব্দীতে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০০০ সাল থেকে অর্থ কমিশন কেন্দ্রের আয়ের একটি অংশকে সরাসরি রাজ্যের হাতে অনুদান হিসেবে ফেরত দেবার কথা জানায়। কতটুকু দেওয়া হবে, সেই ভগ্নাংশটি সময়ের সঙ্গে বদলেছে। ... ...

আসামের তিনসুকিয়াতে বাঘজান তৈলকূপের কথাই মনে এল সবার আগে। কারণ খবরের কাগজে একেবারে ভেতরের পাতায় এ খবর কতোজনের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে নিশ্চিত নই। অথচ ক্ষতি যা হল তা মারাত্মক। এই তৈলকূপ ঘিরে রয়েছে ডিব্রু-শইখোয়া ন্যাশনাল পার্ক। পার্কের গাছপালা, পশুপাখি ঝলসে গেছে। লাগোয়া বিলে ভেসে উঠছে অসংখ্য জলজ প্রাণীর পচাগলা মৃতদেহ। বিলেই পাওয়া গেছে দুজন দমকল কর্মীর লাশ। আগুন আর গ্যাস তাদের এমনভাবে ঘিরে ফেলেছিল যে পালাবার অবকাশ ছিল না। ডিব্রু নদী বিখ্যাত ছিল নানা বিরল প্রজাতির মাছ ও গাঙ্গেয় ডলফিনের জন্য। লাগোয়া বন বিখ্যাত ছিল বুনো ঘোড়ার জন্য। ৩৬ টি স্তন্যপায়ী প্রজাতি যার মধ্যে বাঘ একটি, এবং ৩৮২টি প্রজাতির পাখি এই ৩৪০ কিলোমিটার ব্যাপ্তির বনে বাস করত। তাদেরই বা কী হল ! শোনা যাচ্ছে ৪ সপ্তাহের আগে এ আগুন নেভানো সম্ভব হবে না। ... ...

' উচ্চবর্ণে জন্ম নেওয়া শিশুর মনেও শৈশব থেকেই ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এই ধারণা যে দলিত মানেই 'নির্বোধ', 'বোধবুদ্ধি হীন', 'অযোগ্য', 'অকর্মণ্য'! 'আমাদের জেনারেলদের সব চাকরি ওরাই খেয়ে নিলো'! আর, মুসলমান মানেই 'নোংরা', 'নৃশংস', 'হিংস্র', 'মীরজাফরের জাত', 'পাকিস্তানী', 'দেশদ্রোহী', ' সন্ত্রাসবাদী'...! 'মুসলমান মানেই চারটে বিয়ে আর গন্ডা গন্ডা বাচ্চা!' দলিত এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ সম্পর্কে এইসব ধারণাও ওই সাদা চামড়ার মানুষদের মতোই আমাদের 'উচ্চবর্ণের' বড় অংশের মানুষের মধ্যে বংশপরম্পরায় প্রবাহিত! এইসব ধারণা থেকে মুক্ত নন তথাকথিত 'শিক্ষিত' কিংবা 'বাম-মনস্ক' বহু মানুষও! ... ...

পৃথিবীর ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত এই একটিমাত্র অসুখকে আমরা চিরদিনের মত পৃথিবী থেকে বিদায় করতে পেরেছি। কোভিদ-১৯ এর মতো গুটিবসন্ত ছিল একটি ভাইরাসঘটিত অসুখ। আরেকটি রোগকেও আমরা পৃথিবী থেকে প্রায় দূর করে দিয়েছি, পোলিও। সেটাও ভাইরাসজনিত। অথচ পোলিও বা গুটিবসন্তর ভাইরাস মারার মতো কোনো কার্যকর ওষুধ নেই।কীভাবে গুটিবসন্ত দূর করা গেল? তা থেকে আজকে করোনা ভাইরাস দূর করার ব্যাপারে কোনো শিক্ষা নেওয়া যায় কি? কোয়ারান্টিন, লকডাউন আর আজ ক্লোরোকুইন, কাল এজিথ্রোমাইসিন, পরশু ফ্যামোটিডিন, তারপরের দিন হোমিওপ্যাথি বটিকা - এরকমভাবে কি কোনো মহৌষধ আবিষ্কার আর রোগ নির্মূল কোথাও কোনোদিন হয়েছে? বিজ্ঞান এগনোর সাথে সাথে ওষুধ ও টিকা আগের চাইতে ঢের তাড়াতাড়ি আবিষ্কার করা যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তার সীমা কোথায়? আর পরাধীন দেশে সাহেবদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা - এর বাইরে দেশীয় কোনো উদ্যোগ কাজে লেগেছিল কি?গুটিবসন্ত নির্মূল করার ইতিহাস থেকে হয়তো কিছু শিক্ষা পাওয়া যেতে পারে। তবে কিনা, ইতিহাসের প্রথম শিক্ষা হল, অতীতের ঘটনা হুবহু একভাবে আরেকবার ঘটে না। ... ...

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মতে, শারীরিক শ্রমে নিযুক্ত ১৫২ মিলিয়ন শিশু রয়েছে। এর মধ্যে ৭২ মিলিয়ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রয়েছে। যদিও আমাদের দেশের লেবার ল ডোমেস্টিক ওয়ার্ককে কখনোই প্রোডাক্টিভ কাজের সমতুল মনে করেনি। ২০১৮-তে লেবার অ্যান্ড স্কিল ডিপার্টমেন্ট দক্ষতা ও স্থান নির্বিশেষে ওয়ার্কারদের ঘণ্টায় ৩১-৩৯ টাকা মজুরি বেঁধে দিয়েছিল। সেটাও তারা আদায় করার অবস্থায় হয়তো নেই। ... ...

মনে রাখা দরকার, কোভিড কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এগুলো কিন্তু আসলে দুনিয়াব্যাপী বাজার-অর্থনীতির পন্থায় পালটে যাওয়া জলবায়ুর ফলাফল। অর্থাৎ, রোগের সিম্পটম্স্ মাত্র। লকডাউন হোক, অতিমারির কারণের বিরুদ্ধে, সিম্পটম্স্ বা ফলাফলের বিরুদ্ধে নয়। পৃথিবীতে মানবজাতির অস্তিত্বরক্ষার জন্য মানবজাতিকেই আবার ভাবা প্রাকটিস করতে হবে। সুতরাং, তিনমাসের থমকে থাকা সভ্যতার গতির মধ্যে যখন দীর্ঘ প্রত্যাশিত প্রাপ্তির ভাঁড়ার পূর্ণ হতে শুরু করেছে, তখন ক্ষমতাবানদের সঙ্গে এঁটে ওঠার লড়াইয়ে কে বিজয়ী হয় সেটাই দেখার—সবুজ-নীল বাসযোগ্য পৃথিবী নাকি তমসাচ্ছন্ন বাজার-অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত দুনিয়াদারি। ... ...

ক্যাম্প থেকে ১৫ দিনের ওষুধ দিয়ে দেওয়া হল। তারপর কী হবে জানা নেই। লকডাউন হবার আগে এই রোগীদের কথা কি একবারও ভেবেছিলেন কেউ? কলকাতা মেডিকেল কলেজকে করোনা হাসপাতাল করার আগে প্রত্যেক দিন যে হাজার হাজার রোগী শুধুমাত্র আউটডোরে দেখানোর জন্য আসেন তাদের কী হবে ভেবেছিলেন কেউ? যাদের কেমো চলে, থ্যালাসেমিয়ায় রক্ত নিতে হয় নিয়মিত, যারা ওই বিনামূল্যের ওষুধগুলো পেয়েই বেঁচে থাকেন তাঁরা কী করবেন? বাস বন্ধ, গাড়ি বন্ধ, ট্রেন বন্ধ—আসতে পারছেন না। একদিক থেকে ভালো। খবরও হবে না… জানতেও পারবেন না। ওনারা বোধহয় মারা যেতেই পারেন—কিছু যায় আসে না। যেমন যায় আসে না পরিযায়ী শ্রমিকদের বেলা। ... ...

আমেরিকায় মোট আক্রান্ত ১,৯৮৮,৫৪৪ জন; মৃত্যু ঘটেছে ১১২,০৯৬ জনের; সুস্থ হয়েছে ৭৫১,৮৯৪ জন। সমগ্র পৃথিবীতে মৃত্যু হয়েছে ৩৯৩,০০০ জনের। আমাদের ভারতবর্ষে কনফার্মড করোনা পজিটিভ কেস ২৪৬,৬২২টি, মৃত্যু হয়েছে ৬,৯৪৬ জনের, সুস্থ হয়ে উঠেছে ১১৯,২৯৩ জন। এ যেন এক মৃত্যুমিছিল দেখছি আমরা। আর এখানেই অভাবনীয় গতিতে বিজ্ঞানী, চিকিৎসক এবং গবেষকেরা অক্লান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন কোন একটি নিরাময়ের সন্ধান পেতে, কোন একটি অমৃতকুম্ভের সন্ধানে পথ হাঁটছেন। দুর্ভাগ্যের হল “জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি”-র মতো একইসাথে পথ হাঁটছে কর্পোরেট পুঁজি – কতটা মুনাফা করা যায় মানুষের জন্য জীবনদায়ী ওষুধ আবিষ্কার করে এরকম এক অভ্রান্ত লক্ষ্য নিয়ে। এরকম এক আবিষ্কার-মুনাফা, জীবনের সন্ধান-লাভের সন্ধান দ্বৈততার মাঝে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বাজি হিসেবে উঠে এসেছে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন। ... ...

করোনাকে আর আমার বিশেষ ভয় লাগছে না। বরঞ্চ আমি ভয় পাচ্ছি ক্রমশ নিজের পরিবর্তন দেখে। এতো দারিদ্র, এতো অসহায়তা দেখতে দেখতে আস্তে আস্তে আমার অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে। মনখারাপের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য শামুখের মতো খোলসে গুটিয়ে যাচ্ছি। নচিকেতার ‘ও ডাক্তার’ গানের এতো প্রতিবাদ হলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সেই কসাই’ই হয়ে যাব নাতো? ... ...

গত দুমাসেরও বেশি লকডাউন আমাদের জীবনের গতিতে একটু লাগাম টেনে ধরেছে। একদিকে এতদিনের বাধ্যতামুলক ঘর-বন্দীজীবন, থেমে-থাকা অর্থনীতির নীচের দিকে ছুট আর অন্য দিকে তুমুলভাবে উপর দিকে উঠতে থাকা করোনা-আক্রান্তের গ্রাফ – দুয়ের চাপে পড়ে জুন মাসের লকডাউন থেকে আনলক পর্ব নিয়ে কেমন একটা গুলিয়ে-যাওয়া অনুভূতি হচ্ছে অনেকেরই। কেমন হবে আগামী দিনগুলো? এদিকে খবর আসছে যে জাপানের হক্কাইডোতে প্রথম দফার লকডাউন তোলার এক মাসের মধ্যে আবার লকডাঊন জারী করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে অবস্থাটা তেমন সুবিধার না। সামনেটা বড্ড অস্বচ্ছ, ঘোলাটে দেখাচ্ছে। ... ...

সর্বত্রই ত্রাণের কাজে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের কাছ থেকে একটাই কথা শুনতে হচ্ছে - 'ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কিছুদিন না হয় চলবে, কিন্তু সরকার যদি দীর্ঘস্থায়ী সমাধান না করে, তাহলে মরে যাব আমরা'। আমরা গুরুচণ্ডা৯-র পক্ষ থেকেও এই কথার সাথে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করি। কেবল ত্রাণ নয়, এই সমস্যাগুলোর দীর্ঘমেয়াদী সমাধান চাই। আজকে যাঁরা ত্রাণের জন্য হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের কাছে আমাদের তাই আবেদন, দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক নজরদারি কীভাবে গড়ে তোলা যায়, কীভাবে আয়লা বা আমফানের ক্ষয়ক্ষতির পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়, ধীরে ধীরে সেটিকে চর্চার বিষয় করে তুলুন। ... ...