
১৯২২ সালে গান্ধীর ডাকে পথে নামা আন্দোলনকারীরা যখন গোরক্ষপুরের চৌরিচৌরায় থানার ভিতরে ঢুকে ইংরেজসেবক ২২ জন পুলিশকে খুন করেছিল, গান্ধী আন্দোলন তুলে নিয়ে তাঁর পত্রিকা ‘নবজীবন’-এ লিখলেন, গোরক্ষপুরের চৌরিচৌরার ওই ঘটনার জন্য আমিই সব থেকে বেশি দায়ী। চলতি বছরের ২৪ মার্চ রাতে নরেন্দ্র মোদি ৪ ঘণ্টার নোটিসে লকডাউন ঘোষণা করে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিককে অবর্ণনীয় দুর্দশার মধ্যে ফেলে দিলেন। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বাড়ি ফেরার পথা প্রায় দু’শো জনের মৃত্যু হল রাস্তায়, রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে, পথ দুর্ঘটনায়, পথে অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায়। খাবার, পানীয় জলের অভাবে তারা ধুকতে ধুকতে পায়ে হেঁটে, সাইকেলে, ভ্যানে চেপে রওনা দিয়েছিলেন বাড়ির পথে। তার পরও বহুবার নানান বাহারি পোশাকে নরেন্দ্র মোদি সরকারি ক্যামেরার সামনে এসেছেন। একবারও কিন্তু স্বীকার করলেন না যে তাঁরই ভুলে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনন্ত দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। গান্ধী কি শুধু বসার কায়দায় আর বক্তৃতা দিয়ে হওয়া যায়! আজ থেকে চার বছর আগের কথা। আচমকা নোট বাতিল করে গোটা দেশকে তিনি বিপাকে ফেলেছিলেন। বলেছিলেন সব কালো টাকা বেরিয়ে পড়বে। দেখা গেল তা হল না। সব টাকাই ব্যাঙ্কে ফেরত এল। বলেছিলেন, কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ কমবে। যার কোনও লক্ষণই নেই। ওই সময় টাকার জন্য ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িবে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনও তো নরেন্দ্র মোদি বলেননি যে তিনি মানুষের এই দুর্ভোগের দায় নিচ্ছেন! লাইনে দাঁড়িয়ে বয়স্ক মানুষদের মৃত্যুর দায় তিনি নিচ্ছেন, কেউ কখনও শোনেনি তঁর মুখে এমন কথা। ... ...

বৈজ্ঞানিকদের পুর্ব-লব্ধ জ্ঞান এক্ষেত্রে বিশেষ কাজে লেগেছে। সেগুলো হল – (১) করোনা ভাইরাসের দেহের স্পাইক প্রোটিনের ভূমিকা সম্বন্ধে আগাম ধারণা থাকা, (২) ইমিউনিটির ক্ষেত্রে স্পাইক প্রোটিন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে “নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি”-র ভূমিকা, (৩) নিউক্লিক অ্যাসিড (যেমন আরএনএ বা ডিএনএ) ভ্যাক্সিন প্ল্যাটফর্মের উন্নত চেহারায় বিবর্তন এবং (৪) ভ্যাক্সিন তৈরির প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে (sequentially) করার পরিবর্তে সমান্তরাল ভাবে (parallel) করা, কিন্তু যারা ভ্যাক্সিন স্টাডিতে অংশগ্রহণ করেছে তাদের ক্ষেত্রে কোন ঝুঁকি না নিয়ে। পূর্বোল্লেখিত সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে – “কার্যকারিতা কেবলমাত্র তখনই নির্ধারণ করা যাবে যখন যাদেরকে ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়েছে এবং অতিমারির হটস্পটের মধ্যে তুল্যমূল্য বিচার (match) করা যায় ... এজন্য প্রাথমিক এন্ড পয়েন্টগুলোকে সতর্কতার সাথে নির্বাচন করতে হবে (এ বিষয়ে এর আগে বিস্তারিত আলোচনা করেছি), নির্বাচন করতে হবে স্টাডি-ডিজাইন এবং স্যাম্পেল সাইজের (অর্থাৎ কতজনের ওপরে ট্রায়াল দেওয়া হবে) সম্ভাব্যতার পুনর্মূল্যায়ন বিবেচনায় রাখতে হবে।” ... ...

করোনা আবহে স্কুল বন্ধ।বাড়িতে বন্দী শিক্ষার্থীরা। নিষেধের বেড়াজালে তাদের প্রাণ হাফিয়ে উঠেছে।বন্ধুর সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করার সুযোগ নেই।আড্ডা, মজা,দুষ্টুমি সব অতীত। কতদিনে শেষ হবে অতিমারির প্রকোপ তা তাদের আজানা।বড়োরাও কোনো দিশা দিতে পারছে না।কোনো পরিকল্পনা করে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না।পড়াশোনা নিয়ে ঘোরতর অনিশ্চয়তা। বেসরকারি স্কুলের সম্পন্ন ছাত্রদের অনলাইনে ক্লাস চলছে। সেখানে অনিচ্ছা থাকলেও "অন "হতে হচ্ছে দিনের মধ্যে একাধিক বার। চলছে পড়াশোনার ঝকমারি। লেখাপড়ার হদ্দ মুদ্দ। সোনার খাঁচায় বন্দি করে ইন্টানেটের ডগা দিয়ে শিশুর মুখে ঢুসে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা। ... ...

ফের অন্যায় হল সুদর্শনের সাথে। বিস্মিত পদার্থবিজ্ঞান মহল। সুদর্শন নোবেল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হলেন অনেকেই। স্থির হল প্রতিবাদপত্র পাঠানো হবে নোবেল কমিটিকে। সেই মতো লেখা হল এক চিঠি। চিঠিতে লেখা হল, “আমরা সবিনয়ে জানাতে চাই... সুদর্শনের আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের মৌলিক অবদানের প্রতি উদাসীন থেকে ন্যায়ের জন্ম দিতে ব্যর্থ হয়েছে” কমিটি। ১০ জন (মূলত ভারতীয়) পদার্থবিদের সই সম্বলিত এই পত্র পাঠানো হয় নোবেল দফতরে। প্রতিবাদ জানিয়ে নোবেল দফতরে পত্র লেখেন সুদর্শনও। লিখলেন, “এই বছরের ঘোষণায় আমি প্রকৃত অর্থেই বিস্মিত এবং হতাশ।” ... ...

হিলগার্ড আর ওয়াইৎসেনহফার তৈরি করেন স্ট্যানফোর্ড হিপনোটিক সাসেপটিবিলিটি স্কেল। তাঁরা দেখেন মোটের ওপর ৮-১০% জনতা আছে, যারা হাইলি হিপনোটাইজেবল। ৮৪-৮৮% মডারেট আর ৪-৬% লো। ওই হাই এবং কিছু মডারেট লোকের মধ্যেই সেই বৈশিষ্ট্যাবলী আছে যাতে তারা খুব সহজে হিপনোটাইজড হতে পারে, এবং তাদের ক্ষেত্রেই হিপনোসিস খুব কার্যকরী চিকিৎসাপদ্ধতি হতে পারে কিছু কিছু রোগের জন্য। তাঁরা আরো দেখলেন যে এই বৈশিষ্ট্যগুলোও স্ট্যাটিক না, বয়সের সাথে একটু আধটু পাল্টায়। সাধারণত ৯-১২ বছর বয়সের জনতা যারা বেশি কল্পনাপ্রবণ, ফ্যান্টাসিতে থাকে, এবং যাদের কনক্রিট অপারেশনাল থিঙ্কিং তৈরি হচ্ছে, তারা বেস্ট ক্যান্ডিডেট। মজার ব্যাপার, সাময়িকভাবে এলেসডি বা এমডিএমএ জাতীয় ড্রাগ বা সেনসরি ডিপ্রাইভেশন কিছুক্ষণের জন্য এই হিপনোটাইজেবিলিটি বাড়িয়ে দিতে পারে, যদিও সেটা বেশিক্ষণ টেকে না। আর হ্যাঁ, কোন ধরনের লোক সহজে হিপনোটাইজড হবে আন্দাজ করার কোনো নিখুঁত রুল অব থাম্ব নেই, মোটামুটি মনোসংযোগদক্ষতা, একাগ্রতা, কল্পনাপ্রবণ ও অনুভূতিপ্রবণ মানুষের সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমার সামনের লোকটি হাই হিপনোটাইজার কি না, তা বোঝার স্কেল থাকে, এবং সাধারণত তা বোঝার পর হাই জনতাদেরই হিপনোসিস অফার করা হয় চিকিৎসার ক্ষেত্রে। পাতি লক্ষ্মণবিচার আর কি। সেইসব টেল টেল সাইন দেখে বোঝার চেষ্টা করা হয় সামনের ইনি সেই গিফটেড ৮% এর মধ্যে পড়েন কিনা। মার্কিনীরা সেইসব লিস্টির গালভরা নাম দিয়েছে - "হিপনোসিস ইন্ডাকশন প্রোফাইল", " স্ট্যানফোর্ড হিপনোটিক সাসেপটিবিলিটি স্কেল", "হার্ভার্ড গ্রুপ স্কেল অব হিপনোটিক সাসেপটিবিলিটি", "বারবার সাজেস্টিবিলিটি স্কেল" ইত্যাকার। এর মধ্যে ঐ হিপনোসিস ইন্ডাকশন প্রোফাইলটায় তো মাথার ওপর দিকে তাকাতে বলে চোখে স্ক্লেরার ভিজিবিলিটি দেখেই কিসব বোঝা যায় বলে দাবী করে। আর তার মেডিক্যাল ব্যাখ্যাওয়ালা হাইপোথিসিস রয়েছে গুটিকয়, যদিও এভিডেন্স বেসড নয়। সবার ওপরে, যিনি করবেন, তাঁর মানুষ চেনার এতদিনের অভিজ্ঞতা। ... ...

মা যে হল ঘরে ছিলেন, তার এ মাথা থেকে ও মাথা এত দূর যে শেষ অব্দি মা'র চোখ পৌঁছাতো না। সারাদিন লাঠি দিয়ে ঘর আর বাথরুম মোছা হতো। নার্সদের ব্যস্ততার কোনো সীমা ছিল না। সকাল থেকে রাত তাঁরা এ রোগী থেকে ও রোগীর মাথার কাছে ছুটে বেড়াচ্ছেন।হাগিজ পাল্টে দেওয়া, পরপর ঘড়ি ধরে ওষুধ খাওয়ানো, ইনজেকশন দেওয়া, অনেককে খাইয়েও দিতে হতো। দুপুরে বাড়ির লোকদের সাথে ভিডিও কলে দেখা করিয়ে দিতেন তাঁরাই। সারারাত তাঁরা কেউ না কেউ হলঘরে পায়চারি করতেন। মা'র হাসপাতালে থাকাকালীন ওই ওয়ার্ডে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। খান দশেক বেড ফাঁকা ছিল বেশ কিছুদিন। ... ...

নিউমার্কেট এবং কলকাতা কর্পোরেশনের নিকটেই রক্সি সিনেমা হলটা নিশ্চয় অনেকেই চেনেন। ওর সামনে দিয়ে কতোবার হেঁটে গেছেন অতীতে,যেখানে ওই সিনেমা হলটার উলটোদিকের ফুটপাতে সাব্বির ব্যাগওয়ালা বসতো নানানরকমের জুটের এবং কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে! মনে আছে? যেটাতেই হাত দিতেন, ঝাঁকড়াচুলো সাব্বির বলতো "ওনলি থ্রি হান্ড্রেড।" ওই রক্সি সিনেমা হলটা এখন কলকাতা কর্পোরেশনের স্থায়ী কোভিড টেস্টের সেন্টার। দারুণ ব্যবস্থা। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। প্রত্যেক কর্মীই ভীষণ সহানুভূতি সহকারে এবং সুশৃঙ্খলভাবে নিজের নিজের কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকে এই সেন্টারটার কথা জানেন না বলে গিজগিজে ভীড় নেই। আর সবচেয়ে বড়ো কথা ওই বড়ো বড়ো ঘরগুলোর কোথাও কোনো মন খারাপের ছায়া বা বিষণ্ণতা লুকিয়ে নেই। যাঁর কোভিড পজিটিভ ধরা পড়বে, তিনি ওখান থেকে ভয় নিয়ে বেরোবেন না। তাঁর মনে হবে কোয়ারেন্টিনে থাকলেই সুস্থ হয়ে যাবো। আর হবেনও তাই। উচ্চবিত্তরাও কিন্তু নিশ্চিন্তে যেতে পারেন। পুরসভা,সরকারি,ঘিনঘিনে, গন্ধ,জানোয়ারের মতো ব্যবহার, ছোটলোকদের জায়গা...ওখানে গিয়ে দাঁড়ালে এসব কথা মনেই হবে না। ছুটি এবং লকডাউনের দিন ছাড়া বাকি সব দিন খোলা। ... ...

সুদর্শন-মারশাকের এই লেখা প্রকাশের পর থেকেই শুরু হল এক নতুন বিতর্ক। আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় অনেকেই ততদিনে এই V-A তত্ত্বকে ফাইনম্যান-জেল-ম্যান তত্ত্ব হিসবেই দেখতে শুরু করেছেন। অনেকেই আবার এটাকে সুদর্শন-মারশাক তত্ত্ব হিসেবেই জানেন। প্রশ্ন দাঁড়াল, V-A তত্ত্বের প্রকৃত জনক কে? সুদর্শন-মারশাক না ফাইনম্যান-জেল-ম্যান? পদার্থবিজ্ঞান মহল দ্বিধাবিভক্ত। যতদিন যায় বিতর্ক ততই বেড়ে চলে। যদিও ততদিনে প্রত্যেকেই নিজেদের অন্যান্য গবেষণায় মনোনিবেশ করেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই। কিন্তু তবুও ধিকি ধিকি করে বহু দিন ধরে জিইয়ে রইল এই বিতর্ক। বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না দেখে ৫ বছর পর, ১৯৬৩ সালে, এক প্রকাশ্য বিবৃতিতে ফাইনম্যান জানান, “V-A তত্ত্বের জনক সুদর্শন-মারশাক। আমি আর জেল-ম্যান তা প্রকাশ করেছি মাত্র”। ... ...

১৯৫৬ সাল, স্যরের নির্দেশমতো, উইক ইন্টারেকশন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেন সুদর্শন। পড়লেন এনরিকো ফের্মি, বারনিস ওয়েল্ডন সার্জেন্ট, হিডেকি ইউকাওয়া, সাং-ডাও লি, চেন-নিং ইয়াং প্রমুখ। এই সমস্ত পদার্থবিদদের রচনা মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়ে চলেছেন সুদর্শন। যত পড়ছেন ততই যেন একটা ভাবনা তাঁর মাথায় চেপে বসছে। পড়ছেন যতটুকু ভাবছেন তার চেয়েও গভীরে। উইক ইন্টারেকশনের বেনিয়মের মুখে লাগাম পরাতে মনে মনে বুনে চলেছেন এক নতুন যুক্তিজাল। ... ...

অনেকেই প্রশ্ন করে, “তাহলে বৌদ্ধধর্মে সরস্বতীর নাম কি?” বৌদ্ধধর্মে অনেক বৈদিক দেবদেবীর নাম পরিবর্তন করা হলেও, কোন কারণে সরস্বতীর নাম পরিবর্তন করা হয়নি। যদিও বৌদ্ধধর্ম ভারতের গণ্ডী ছেড়ে যখন এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রসারিত হয়, তখন স্থান ভেদে দেবীর নাম পরিবর্তন হতে থাকে। তিব্বতে তাঁর নাম হয় ‘ইয়াং চেন মো’, সঙ্গীতের দেবী হিসাবে প্রাধান্য হলে নাম হয় ‘পিওয়া কার্পো’। মঙ্গোলিয়ায় তিনি হলেন ‘কেলেয়িন উকিন তেগ্রি’। চীন দেশে নাম হল ‘মিয়াওয়িন মু’। জাপানে তাঁকে মিলিয়ে দেওয়া হল দেবী ‘বেঞ্জাইতেন’ বা ‘বেন্তেন’-এর সাথে। যদিও বৌদ্ধ সরস্বতীর সব মন্ত্রে- তা সে যে ভাষাতেই হোক- উচ্চারণ ‘সরস্বতী’ই করা হয়। ... ...

দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন মেরুনা। সম্প্রতি জেনারেল ক্যাটেগরিতে এক ওবিসি মহিলার সিলেকশনের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট মহিলাটির নিয়োগ আটকে দেয়। পরে যদিও উচ্চআদালত হাইকোর্টের এই রায়ে স্থগিতাদেশ দেয় কিন্তু বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। অথচ ২০০৪ সালে সুপ্রিমকোর্টের রুলিংয়েই অনগ্রসর শ্রেণির জেনারেল ক্যাটেগরির আসনে চলে আসার প্রতিবিধান রয়েছে! দ্বিতীয় ঘটনাটি মেরুনার নিজের। কলকাতা সংলগ্ন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংরক্ষিত জেনারেল ক্যাটেগরির মেধাতালিকায় প্রথম নির্বাচিত হন তিনি। এই নির্বাচন মেনে নিতে পারেনি জনৈক ব্রাহ্মণ অধ্যাপক এবং মেরুনা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন, অভ্যাগত সদস্য হিসেবে সমস্ত মিটিং এড়িয়ে গিয়েছেন অধ্যাপক মহাশয়। মেরুনা সেখান থেকে স্থানান্তরিত হবার পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ভদ্রলোকের সম্পর্ক সহজ হয়! ... ...

সমস্ত ধরনের কাজের যন্ত্রায়ণ আজ এমন একটা পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, কোন একটা কাজ মানুষের জ্ঞানবুদ্ধি ছাড়া হবে না এটা হয়তো আর বলা যাবে না। ফলে সমস্ত ধরনের কাজে মানব-শ্রমের প্রয়োজন কমতে কমতে একদম তলানিতে। এতে শিল্প ও ব্যবসা মহল আপাততঃ খুব খুশি। উৎপাদন বাড়ছে, খরচ কমছে, ঝামেলা কমছে। প্রাথমিক বিনিয়োগ বাড়ছে অনেকটাই। কিন্তু তার জন্য ব্যাঙ্ক আছে। কিন্তু সমস্যার শুরু সেখানেই। ব্যাঙ্ক কার টাকায় চলে ? সোজা উত্তর, সাধারণ মানুষের টাকায়। মানুষ ব্যাঙ্কে টাকা রাখে। সেই টাকা ব্যাঙ্ক নানান উদ্যোগে খাটায়। মানুষ যে টাকাটা ব্যাঙ্কে রাখে, সেটা কোথায় পায় ? রোজগার থেকে। মানুষের হাতে কাজ না থাকলে সে ব্যাঙ্কে জমা করার টাকা কোথায় পাবে ? কাজেই আজ না হলে কাল ব্যাঙ্কের পুঁজিতে টান পড়তে বাধ্য। ... ...

অগাস্টের আট তারিখ, লকডাউনের দিন বেহালার এক পরিচারিকা হেঁটে কাজে যাচ্ছিলেন। পর্ণশ্রী থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে। রাতে তিনি ছাড়া পান। পরের দিন ওই বাড়িতে কাজে গেলে লকডাউনের দিন না আসার অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। ... ...

প্রতীককে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি ধরিয়ে তাতে সই করে দিতে বলা হয়। চিঠিতে লেখা আছে ‘ব্যক্তিগত কারণে প্রতীক সান্যাল আজ এই মুহূর্তে এই সংস্থা থেকে পদত্যাগ করছে’। প্রতীকের বিভ্রান্ত মুখ দেখে উপস্থিত দুজনের একজন বলেন, কোভিডজনিত কারণে সংস্থার ব্যবসায় মন্দা দেখা দেওয়ায় তাঁরা প্রতীককে আর রাখতে পারছেন না। ... ...

আমরা যেন মাথায় রাখি, বঙ্গভাগের পর বছরের পর বছর ভূমিভাগের ব্যথা সহ্য করে বাংলার নানান অঞ্চল উদ্বাস্তুদের আত্মীকরণের লড়াই চালাচ্ছিল, সে সময় বিপুল সংখ্যক প্রায় সব হারিয়ে আসা মানুষ পথকে বেছে নিয়েছিলেন জীবিকার পাথেয় হিসেবে। কলকাতা, অন্যান্য অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল শহুরে নিম্নবিত্তদের জন্যে বিপুল স্বাভাবিক বাজার এবং ক্রমশ কলকাতার কপালে উঠেছিল শস্তাতম শহরের তকমা। ... ...

উন্নয়নের ভূগোল মোটের ওপর কেন্দ্র-পরিধির কাঠামো মেনেই চলে। আর এখানেই করোনার সংক্রমণ একটা নতুন সমস্যার জন্ম দিয়েছে। আমাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়া গত অনেক বছর ধরেই যে নীতি ধরে এগিয়েছে সেটা হল সংযোগের নীতি। এই সংযোগটা কখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের রূপে এসেছে, কখনো কেন্দ্র-পরিধির রূপে। ... ...

১৯৮৭ সাল। বিজ্ঞানী ডেরেক লভলে পোটোম্যাক নদীর তীরে এসে সন্ধান পেয়েছিলেন সেই অদ্ভুত অধিষ্ঠানের। তারপরে ১৯৮৮ সালে কেনেথ নিয়েলসন পেয়েছিলেন দ্বিতীয় বিদ্যমানতার সন্ধান। এগুলি আর কিছুই নয়—কাদামাটিতে মিশে থাকা দুটি ব্যাকটেরিয়া মাত্র। কিন্তু তাতেই অনাবিল অব্যয় নিথর করে দিয়েছিল হৃদকম্পন। মানুষের জীবনের সবচেয়ে আদিম প্রশ্নটি হল, প্রাণ কী? উত্তরে সেদিন যেন অতলস্পর্শী ছুঁয়ে দিয়ে গেছিল অপলকে। ... ...

কেরালার সেন্টার ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের সিনিয়র ফেলো জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রিও জনও দ্য ল্যান্সেট এর কাছে একই রকম সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কোভিড - ১৯ এর টেস্টিং এর তথ্য নিয়ে। তাঁরমতে বিভিন্ন রাজ্য বিভিন্ন ধরনের টেস্ট ব্যবহার করছেন; ক্রমশঃ র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টিং করার ঝোঁক বাড়ছে। এই ধরনের টেস্টে ফলস নেগেটিভের অনুপাত বেশি। অনেক রাজ্য ঠিক কী কী ধরনের টেস্ট কতবার করেছেন সেই তথ্য স্পষ্ট করছেন না। ফলে বিভিন্ন রাজ্যের তুলনা করার কোনো মানে দাঁড়াচ্ছে না। সব ধরনের টেস্টিংকে একত্রিত করে যে সংখ্যাটি প্রকাশিত হচ্ছে রোজ তার থেকে আমরা কেমন আছি, সেটা স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না। ... ...

রিপোর্ট অনুযায়ী ৬৫টি পেমেন্টের ক্ষেত্রে রোগীদের ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা দিতে হয়েছিল। অডিট করার পরে ৩৮ লাখ টাকা কমে যায়। আরেকটি ক্ষেত্রে ৩১টি ক্ষেত্রে ৫১ লাখ ৮৪ হাজার টাকার থেকে অডিটের পরে ১২ লাখ ৬ হাজার টাকা কম দিতে হয়। দুটো মিলে ৫০ লাখ টাকা। ব্যাঙ্গালোরের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় জানা যায় ৭ দিন হাসপাতালে থাকার বিল হয়েছিল ৯৩ লাখ টাকা। বিদেশে, একমাত্র আমেরিকা ছাড়া, ইউরোপের দেশগুলোতে এরকম বিলের কথা ভাবা যায়না। নিউজিল্যান্ড সহ অধিকাংশ দেশেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা সরকারের পরিচালনায়। ফলে এ্ররকম ঘটনা ঘটেনা বললেই চলে। পুণেতে তাও সরকারি একটা অডিট হয়েছে, বিলের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। পশ্চিমবঙ্গে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের মতো সংগঠনের তরফে বারংবার চিঠি দেওয়া এবং হস্তক্ষেপের পরেও অবস্থার খুব কিছু ইতরবিশেষ হয়নি। ... ...

কোভিড থেকে বাঁচার জন্যে সুরক্ষাসামগ্রীর দাম বেড়েছে বহুগুণ। N95 মাস্কের দাম কোভিড পরিস্থিতির আগে যা ছিল, কিছু ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে তার দশগুণ - পরবর্তীতে দামে কিছুটা লাগাম টানা গেলেও, কোভিড-পূর্ব দামে পৌঁছানো যায় নি। পিপিই কিট বা হেড শিল্ড সবকিছুর ক্ষেত্রেই তা-ই। এর সাথে বাড়তি বিপদ, নিম্নমানের সামগ্রীকেও চড়াদামে বেচে দেওয়া। সরকারি কমিটি, যাদের দায়িত্ব গুণমান যাচাই করা, তাঁরা প্রবল উদ্যোগে এবিষয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন - এমন অপবাদ কেউই দিতে পারবে না। যাঁরা এইধরণের সুরক্ষাসামগ্রী তৈরী করেন, যাঁদের এবিষয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে - বিশ্বজুড়ে কোভিড মাথাচাড়া দেওয়ার সময়েই তাঁরা সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ঠিক কী পরিমাণ বাড়তি সামগ্রী প্রস্তুত করে রাখা প্রয়োজন - অভিযোগ, সরকার তাঁদের একাধিক চিঠির উত্তরটুকুও দেননি। ... ...