
ডে স্কুলে একবার আমাদের স্কুলে একজন অঙ্কের টিচার এলেন। সারনেম মান্ডি। অর্থাৎ শিডিউলড ট্রাইব। তিনি যে কিছুই জানেন না—সেটা প্রমাণ করার জন্যে আমাদের চেষ্টার খামতি ছিল না। সেই বয়সে মব মেন্টালিটিতে তাঁর প্রতি কী মনোভাব ছিল আমার—সেটা ভাবলে এখনো লজ্জাই পাই।এমন নয় যে আমাদের স্কুলে বাকি অঙ্কের মাস্টাররা সকলে রামানুজনের মত ব্রিলিয়ান্ট ছিলেন, কিন্তু ঐ যে জাত—ঐতেই আমরা বুঝে গেছিলাম, যে উনি কিচ্ছু জানেন না। জাতের দোহাই দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। এ নিয়ে কথাও হত আমাদের মধ্যে। একটু উঁচু ক্লাসে উঠলে অনেক বলত এসব কথা। ... ...

রুচিকা গিরহোত্রার কথা হয়ত কারোর কারোর মনে থাকবে। এই চৌদ্দ বছরের লন টেনিস প্লেয়ারটি হরিয়ানার লন টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও পুলিশ অফিসার রাঠোরের দ্বারা যৌন নিগৃহীত হয় ১৯৯০ সালে। ঘটনার তিনদিন বাদে মেয়েটি নালিশ জানায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ অফিসারের দোষও ধরা পড়ে। কিন্তু এফ আই আর হয় না। ইতিমধ্যে রাঠোরের চাপে মেয়েটি নিজের স্কুল থেকে বিতাড়িত হয়। তার দাদার বিরুদ্ধে ছটি কেস রুজু করা হয়। রাঠোরের সমর্থনে রাজপুত সভার সদস্যরা রুচিকার বাড়ির সামনে দিয়ে প্রসেসন করে, তাঁকে রাস্তাঘাটে রেন্ডি বলে অভিহিত করা হয়। ক্রমাগত মানসিক নির্যাতনে মেয়েটি ১৯৯৩ সালে আত্মহত্যা করে। কত বছর বয়স তখন ওর? আর সেই পুলিশ অফিসারের কি হয়? ... ...

নাহ, সীতা ও বোধহয় এঁদের থেকে ভালো ছিলেন, ওনার আসে পাশে রাবণ নিযুক্ত চেড়ি রা সর্বদাই মুখের কাছে খাদ্য বস্তু, এটা ওটা ধরছেন, রাবণ মাঝে মধ্যে এসে মিষ্টি কথায় চিঁড়ে ভেজাবার চেষ্টা করছেন আর সীতার সেখানে কাজ বলতে যাকে বলে "ল্যাদ" খাওয়া আর মাঝে মাঝে রামের নাম ধরে ডুকরে কেঁদে ওঠা। "এঁরা" বলতে এদেশে অর্থাৎ আমেরিকায় যে সমস্ত সদ্য বিবাহিতা নারী ভারত থেকে স্বেচ্ছায় এসে উপস্থিত হন তাঁদের গল্প কিন্তু অন্য। সিনেমায় দেখা আমেরিকা আর শিকড় উপড়ে আসা অভিবাসী ভারতীয়দের জীবনযাত্রার মধ্যে বিশাল ফারাক। কুড়ি বছর আগে সেটা আরোই কঠিন ছিল কারণ বর্তমানে ইন্টারনেট, হোয়াটসঅ্যাপ, বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, স্থানীয় অঞ্চলে ভারতীয় দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি, ভারতীয়দের জোট বেঁধে নির্দিষ্ট শহরে থাকা ইত্যাদি বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত যেন একেবারে হাতের মুঠোয় এসে গেছে, তবুও যে সমস্ত সমস্যা রয়ে গেছে তা চিরন্তন। ... ...

এমন এক প্রলয়ের কালে আমরা যারা স্বপ্ন দেখতে জানি, তারা অন্ধ ও বধির হয়ে যাই নি, আমরা যারা সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বুকে নিয়ে পথ হাঁটি সেই স্বপ্ন আজ আমাদের তীক্ষ্ণ অনুসন্ধিৎসু করে তুলেছে। স্বপ্নভঙ্গকে আমরা হতাশার প্লাবনে ভেসে যেতে দেইনি বরং স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটার অভ্যাস আমাদের ডুব দিতে শিখিয়েছে সমস্যার গভীরতম তলদেশে। আমরা এই প্রচন্ড প্রলয়ের মুখে লাথি মেরে এখনও রাস্তায় বা আলোচনা সভায় প্রতিবাদ জারী রাখার সাথে সাথে স্বপ্ন দেখে যাচ্ছি সাম্যবাদের বিজয়ের, সাম্যবাদী তত্ত্বের অগ্রগতির, নতুন করে সমস্ত ভাবনা-চিন্তাকে সজীব ও সৃজনশীল করে তোলার। ... ...

বাইনারি দুনিয়ায় কোনও লিঙ্কে ক্লিক করতে না করতেই দেখি, পর্দাজুড়ে হুটোপাটি করছে শেয়ার করার বিভিন্ন আয়োজন। আমার এক কবিবন্ধুর কথায়, “সুরাসিক্ত লিঙ্ক আঁকশি বাড়িয়ে বিষ-আলিঙ্গনের কথা বলে।” যখন কোনও খবর পড়ি, পনেরো সেকেন্ড যেতে না যেতেই দেখি, লাইক করার হরেক টুল নেমে আসছে স্ক্রিন জুড়ে। পড়া স্তব্ধ করে দিয়ে বলে, লাইক করো আগে। কিভাবে করতে চাও বলো। তুবড়ির ফুলকির মতো উড়ে আসে হোয়্যাটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম আর ইমেলে শেয়ার করার আইকন। কোনও বিষন্ন খবরে তুমুল রেগে এমন অপশন বন্ধ করে দিয়ে দেখেছি, দশ সেকেন্ড পরে ফের হাজির হয়েছে অপশন অমনিবাস। মানেটা হল, শুধু আমি পড়লেই হবে না, মেঘের ওপাশ থেকে গর্জনের মতো তা বিলিয়ে দিতে হবে বিশ্বচরাচরে। আমি জানি, প্রতিটি লিঙ্কের পর্দার ওপারের ডেটাবেস আমার শেয়ার করার দলিলের খবর রাখে। যত বেশি শেয়ার করব, সংস্থার আরও বড় প্রিয়পাত্র হব আমি। আমার সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে ফুটে উঠবে ওই সংস্থার এমন খবরের আরও, আরও ফিড। পালাবার পথ নেই। ... ...

মৈতৈরা সিংহভাগ হিন্দু। কিছু সংখ্যক মৈতৈ মুসলিম, সানামাহি-ধর্মী ও খৃষ্টান। কুকিরা বেশিরভাগ খৃষ্টান। দাঙ্গার কারণ ধর্মীয় নয়, জাতিগত। দাঙ্গায় মৈতৈদের সতেরোটা মন্দির পুড়েছে, কুকিদের ২২১টা চার্চ- ২রা জুনের ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্ট অনুযায়ী। ঐ সময় অবধি মৈতৈদের প্রায় দু'হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। কুকিদের প্রায় দেড় হাজার। শুরুতেই অনেকগুলো সংখ্যা একের পর এক তুলে ধরার উদ্দেশ্য হল দাঙ্গার ব্যাপ্তি ও ভয়াবহতাটা বোঝা। হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষিত ভারতীয়রা শ্রীলঙ্কা আর পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমস্যার গল্প শুনে ভারতে ভোট দেয়, তাই দেশের ভেতরের সমস্যার কথা তাদের বলার জন্য সবার প্রথমে ঘরহারা মানুষ আর ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি ও ধর্মস্থানের সংখ্যা তুলে ধরা জরুরি। ... ...

বাস্তব হল এই, যে, রিজার্ভ ব্যাংকের নিজস্ব রিপোর্ট অনুযায়ী – ৯৯.৩ শতাংশ নোট ব্যাংকে ফিরে এসেছে। বড় ব্যাগধারী রাজাদের টাকা ডোবেনি, গরিবদের সুদে পড়ে থাকা কিছু নোট অবশ্যই পচে গেছে। বোঝাপড়া ছিল, যে, দুর্নীতিবাজরা নোটের বান্ডিল লুকিয়ে রাখে। দেখা গেল—তারা আমাদের চেয়ে বেশি চালাক এবং তাদের টাকা বেনামি সম্পত্তি, জমিজমা বা হীরা ও গহনাতে রূপান্তরিত করে রাখা হয়। জাল নোটের সংখ্যা অনেক বেশি বলেও দাবি করা হয়েছে। পরে, রিজার্ভ ব্যাংক নিজেই জানিয়েছিল যে জাল নোটের অনুপাত মাত্র ০.০০০৭ শতাংশ। ... ...

"He has avenged the great Argentine people oppressed by ignoble imperialist in the Malvinas..It's a political act..he humiliated them, you understand?" - বৃদ্ধ আঙ্কল আলফ্রেডো উত্তেজনায় ফ্যাবিয়েত্তর হাতটা চেপে ধরেন! মালভিনাস হল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্যাটাগোনিয়ান শেল্ফে অবস্থিত। এই দ্বীপপুঞ্জের আবিষ্কার ও ইউরোপীয়দের দ্বারা এর উপনিবেশায়ন নিয়ে প্রভূত বিতর্ক আছে। ফরাসিরা, স্প্যানিশরা ও আর্জেন্টিনীয়রা বিভিন্ন সময়ে এই দ্বীপগুলিতে বসবাস করলেও ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশরা তাদের শাসন পুনরুদ্ধার করে। কিন্তু আর্জেন্টিনা এই দ্বীপপুঞ্জের উপর তাদের দাবি বজায় রাখে। ১৯৮২ সালে ২রা এপ্রিল আর্জেন্টিনা সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আক্রমণ করে ও দখল করে। তাদের দাবি ছিল দ্বীপগুলি আর্জেন্টিনার ভূখণ্ডেরই অংশ এবং এই আক্রমণের দ্বারা তারা আসলে নিজস্ব ভূখণ্ডই পুনরুদ্ধার করতে চাইছে। ৫ই এপ্রিল ব্রিটিশ সরকার পাল্টা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। অঘোষিত এই যুদ্ধ চুয়াত্তর দিন স্থায়ী হয়েছিল। ১৪ই জুলাই আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করে এবং দ্বীপগুলিতে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে। আঙ্কল আলফ্রেডো এই ফকল্যান্ড যুদ্ধের কথাই বলছেন। ... ...

এমন ঘটনা ইদানীং অনেক ঘটছে। বস্তত এত বেশি পরিমাণে ঘটছে যে আঠারোর কাছাকাছি নাবালিকাদের বিয়ের খবর পেলে আজকাল চাইল্ড লাইন বা প্রশাসনের তরফে সেই বিয়ে বন্ধ করার খুব একটা সদিচ্ছা দেখা যায় না। দিন পনেরো আগের ঘটনা। সতেরো বছর পাঁচ মাস বয়সী একটি মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে শুনে থানায় ফোন করেছিলেন হুগলী জেলার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ‘থানা থেকে তো পরিষ্কার বলে দিল, কী লাভ মাস্টারমশাই এই বিয়ে আটকে? আর তো মাত্র ক’মাস, একবার আঠারো বছর হতে দিন, দেখবেন ও মেয়ে নিজেই পালিয়ে যাবে বয়ফ্রেন্ডের সাথে।’ – দুঃখ করছিলেন তিনি। ... ...

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—অনেকে জানলেও, এখনও বেশিরভাগ মানুষই জানে না, যে—এই ভারত জোড়ো অভিযান ছিল যোগেন্দ্র যাদবের ‘ব্রেন চাইল্ড’। তিনি জানতেন এই অভিযান রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে করা সম্ভব হলে সমাজে ও রাজনীতিতে তার প্রভাব হবে অপরিসীম এবং নির্ণায়ক। সেই উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করতে দীর্ঘদিন যোগেন্দ্র যাদবের টিম অসীম ধৈর্য সহকারে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও তাঁদের মা সোনিয়া গান্ধীকে বুঝিয়েছেন, আশ্বস্ত করেছেন এর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক সুফল সম্পর্কে। কারণ, কংগ্রেস নেতৃত্বের একটা বড় অংশ বিষয়টিকে খুব একটা সুনজরে দেখেননি এবং এক অজানা আশঙ্কায় এটিকে অনাধিকার চর্চা বলেই মনে করেছেন। এমনটা যে বাস্তবে সম্ভব—অনেকেই তা ভাবতে পারেননি। এই যাত্রার সাফল্য নিয়ে সংশয় ছিল খোদ রাহুলের ও তাঁর পরিবারেরও। ... ...


তখন আমি বিশ্ববাঙালি হই নি, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল পড়াই। ভূগোলের পাঠ্যবস্তুর একটা অন্যতম অংশ ছিল ক্ষেত্রসমীক্ষা। তখনকার দিনের ভূগোলের নিয়মকানুন ও ঐতিহ্য অনুসরণ করে, এধরণের যাত্রায় আমরা দূরদূরান্তরের নানা অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো বোঝার চেষ্টা করতাম। এখানে বলে নেওয়া ভালো যে বেশির ভাগ শিক্ষক ও শিক্ষিকারাই পাঠ্যের এই অংশটি অপছন্দ করতেন। হয়তো তাঁদের পরিবার-সংসার ও দৈনন্দিন জীবনে সকলকে সামলে ছুটির ফাঁক বের করার সুযোগ ছিল কম। তাছাড়া অনেকগুলি সদ্য টিন-উত্তীর্ণ, বক-বকন্দাজ যুবক-যুবতীর সঙ্গ সকলের ভালো লাগারও কথা নয়। ... ...

কর্ণাটকের নির্বাচনে এক অনন্য পরীক্ষা চলছে। "ইয়েদেলু কর্ণাটক" এর নামে রাজ্য ও দেশের অনেক সামাজিক সংগঠন এবং আন্দোলনকারী গোষ্ঠী কর্ণাটকের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে, যাকে বলা যায় এক রকমের, প্রয়োজনীয় আবিষ্কারের জননী। দেশের ইতিহাসের এই পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই ব্যতিক্রমী নির্বাচন অস্বাভাবিক হস্তক্ষেপের জন্ম দিয়েছে। ১০ মে আসন্ন কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচন দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কেবল গণতন্ত্রই নয়, আমাদের প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বও হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। গত কয়েক বছরে, ভারতের স্বধর্মের তিনটি স্তম্ভ (সহানুভূতি, বন্ধুত্ব এবং বিনয়) একযোগে মারাত্মক আক্রমণের শিকার হয়েছে। ... ...

জম্মু ও কাশ্মীরের তৎকালীন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর থেকে টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রগুলো সাপের গন্ধ পেয়েছে। গুলাব নবি আজাদের ছোট-বড় অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘ অনুষ্ঠান চালাতে থাকা চ্যানেলগুলোর কাছে এই উদ্ঘাটন নিয়ে আলোচনার জন্য এক মিনিটও সময় নেই। ১৫ এপ্রিলের সংবাদপত্রে কোথাও এই খবরের উল্লেখ ছিল না। এটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১-এ যখন পুলওয়ামা ঘটনা ঘটেছিল, তখন সত্যপাল মালিক জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল ছিলেন। প্রকাশ ট্যান্ডন এবং তারপরে করণ থাপারকে দেওয়া একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে, তিনি প্রকাশ করেছিলেন যে সরকারের ভুলের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আমাদের ভুলের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এটা এড়ানো যেত।’ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তারপর অজিত ডোভাল তাঁকে এ বিষয়ে চুপ থাকতে বলেছেন। ... ...

নববর্ষের দিনে সম্ভব হলে দিশা ‘অনিন্দ্যা’ বা ‘রূপবতী’ বা ‘নিউ স্বর্ণালী’-এর হিসেবের খাতায় থাকা বাকি বকেয়া সমুদয় মিটিয়ে দিতেন। বকেয়া মেটানো হোক বা না হোক আমাদেরকে আসতে দেখলে এই দোকানের মালিক-বিক্রয়কর্মীরা খুশি হতেন। তাঁরা আমাদেরকে যথাসাধ্য আপ্যায়ন করতেন। দুই-তিন বার কী করে যেন হালখাতার দিনেই আমাদের কেনাকাটা করার প্রয়োজন হয়েছিল। ঐ কয়েকবার তাঁরা বিপুল আনন্দিত হয়েছিলেন। ... ...


আমাদের নিউটনবাবু মিলিটারি ও পুলিশ পরিবৃত হয়ে শেষমেশ পৌঁছলেন তার গন্তব্যে। যদিও ইতিমধ্যে সঙ্গী আইনরক্ষকরা তাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন দূরবর্তী ক্যাম্পে বসেই কাগজেকলমে ভোটপর্ব সেরে নিতে। কারণ জঙ্গি হানায় কুঁকড়ে থাকা ঐ আদিবাসী গ্রামের নিরক্ষর স্বল্পসংখ্যক মানুষদের মধ্যে কেউ-ই কোনো কালে এই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে অভ্যস্ত নন। নিউটনও ছাড়ার পাত্র নন। ‘স্বদেশব্রত’-ই যে তখন তার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান! হয়তো তেমনটাই যৌক্তিক। প্রথমবার ইলেকশন ডিউটি পেয়ে হয়তো এমনই গরম রক্তে আমিও ফুটেছিলাম গণতন্ত্রের মহান উৎসবে সামিল হতে। কিন্তু পোড় খাওয়া অভিজ্ঞতা বড় নির্মম। মানুষকে কাপুরুষও করে তোলে। বাস্তবে এমন আশাতীত প্রস্তাব পেলে হয়তো বুদ্ধিমান প্রিসাইডিং অফিসার তা দু’হাতে লুফে নিতেন। আবারও সিনেমা-প্লটের অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গে ব্যক্তিগত হিসেবনিকেশের দুস্তর ব্যবধান। তবু শিল্পমাধ্যম তো তখনই যথার্থ হয়ে ওঠে, যখন হৃদয়-উৎসারিত বেদনা উন্মোচনে তা অনুঘটকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। ... ...

জুনিয়ার হাইস্কুলগুলি নতুন হলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি সব অবশ্য নতুন নয়। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির ভৌগোলিক অবস্থান দেখলেই বোঝা যাবে কেন সেখানে ছাত্র-ছাত্রী কম। ঝাড়গ্রামের প্রত্যন্ত জঙ্গলে ঘেরা গ্রামের একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কি ছাত্রসংখ্যা দুশো হবে? নাকি ছাত্র সংখ্যা ত্রিশের কম বলে তাকে তুলে দেওয়া চলে? যদি ধরেও নিই এলাকাবাসী ততটা সচেতন নন বা কী থেকে কী হল স্কুল বন্ধ হয়ে গেল এতটা ভাবার সময় যদি তাদের নাও থাকে তবুও কি সরকারের নৈতিক দায়িত্ব নেই স্কুলগুলিকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার? অবশ্যই আছে। যেখানে প্রথম থেকেই ছাত্রসংখ্যা কম হওয়ার কথা সেখানে এই অজুহাতে স্কুল তুলে দিতে হলে এই ভাবনা যাদের মস্তিষ্কপ্রসূত তাদেরকেই আবার স্কুলে ভর্তি করতে হয়। কারণ তাদের ন্যূনতম জ্ঞানবোধপ্রজ্ঞাই তৈরি হয়নি। তাই এখানে কীভাবে স্কুলটিকে টিকিয়ে রেখে শিক্ষাদানের পরিবেশ বজায় থাকে তারই চেষ্টা করার জন্য সরকারি পরিদর্শক আছেন। তাঁর কাজ কেবল অফিসে বসে বসে মিডডে মিলের রিপোর্ট নেওয়া আর সরকারি প্রকল্পগুলি চলছে কিনা দেখা নয়। কেন স্কুলছুট হচ্ছে কোনও শিশু, কেন সে বাবা-মায়ের সঙ্গে কাজ করতে চলে যাচ্ছে তার খোঁজ নেওয়াটাও তাঁর দায়িত্বে মধ্যেই পড়ে। ... ...

তবু একদিন যাবার সময় হয় রঘুর। বনবিভাগ ফেরত চায় হাতিকে। তারা মিনতি করে হাতিটিকে রেখে দেবার কিন্তু নিষ্ফল সে আবেদন। রঘু চলে যায়। নীরবে চোখের জল ফেলে বোমান আর বেলি। সন্তানকে দূরে পাঠাতে হলে যেভাবে দুমড়ে যায় মন। কিন্তু ততোদিনে এসে গেছে নতুন একটি হস্তিশাবক, তারা নাম দিয়েছে আম্মু। হাতির সেবায় উৎসর্গীকৃত জীবন থেমে থাকে না। দূরের বন থেকে কখনো দেখা করতে আসে রঘু। বোমান হাঁক দেয়, কেমন আছিস রে রঘু? রঘু তার শরীরী ভাষায় জবাব পাঠায়। আশ্চর্য মুহূর্ত ধরে ক্যামেরা। ... ...

এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণেরও অভাব নেই যেখানে মোদি সরকার এমন নীতি তৈরি করেছিল যা সরাসরি আদানি গোষ্ঠীকে উপকৃত করে। একদিকে আদানি অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে কয়লা আমদানি শুরু করে, অন্যদিকে সরকার সেই কয়লা আমদানিতে শুল্ক বাতিল করে। আদানি 'গ্রিন হাইড্রোজেন' তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করার পরপরই, সরকার গ্রিন মিশনের অধীনে এটিকে ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। আদানি শস্য সঞ্চয় করার জন্য সাইলো নির্মাণ শুরু করে। কখন? যখন সরকার মজুত রাখার আইন শিথিল করার জন্য কৃষক বিরোধী আইন সংশোধন করে। সরকারি নিয়ম পরিবর্তন করার ফলে আদানি দেশের বেশিরভাগ বন্দর ও বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অর্থ মন্ত্রক এবং নীতি আয়োগের আপত্তিও উপেক্ষা করা হয়েছিল। এছাড়াও সন্দেহ রয়েছে যে আদানির প্রতিদ্বন্দ্বী জিভিকে-র কাছে আয়কর এবং ইডি অভিযানের হুমকি দিয়ে মুম্বাই বিমানবন্দর আদানির হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছিল। ... ...