

এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কেন সফট টার্গেট হিসেবে বারবার এনকাউণ্টারের পর স্কোয়াডে থাকা মহিলাদের চরিত্র মূল্যায়নে এত সময় ব্যয় করেছে, তা নিয়ে কিন্তু মাথাব্যথা ছিল না মাওয়িস্ট শীর্ষ নেতৃত্বের। তাঁদের কাছে শশধর এবং কিষেণজি, দুই মৃত্যুই ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেন এনকাউণ্টার হল, কীভাবে হল, কে খবর দিল পুলিশকে, সবই পরে তদন্ত করে দেখে মাওয়িস্ট নেতৃত্ব এবং তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে দু’বারই ক্লিনচিট পেয়েছেন সুচিত্রা মাহাতো। ... ...

গায়ক ছেলেটা ইতিমধ্যে একটা ইংরেজি গান ধরেছে, আর অনেকেই হাততালি দিয়ে তাল দিচ্ছে। বিনীতা বুঝল নিশ্চয় জনপ্রিয় গান, তবে তার জানা নেই। “বিলিভার” আর “পেইন” এই দুটো শব্দ ঘুরে ঘুরে আসছিল গানটায়। ইংরেজি গানে অবশ্য তার আগ্রহ নেই। যাতে আগ্রহ আছে সেই রবীন্দ্র সঙ্গীত নিশ্চয় এই ছেলেটা গাইবে না। ... ...

দেওয়ানি লাভ করার মাত্র ৭ বছরের মধ্যেই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে একেবারে প্রান্তিক করা ও সমাজকে ক্রমশ পিতৃতান্ত্রিক করে তোলার জন্য বিভাজনমূলক আইন চালু করার উদ্যোগ নেয়। প্রথমে হেস্টিংস ও পরে কর্নওয়ালিসের উদ্যোগে তৈরি হয় ঔপনিবেশিক হিন্দু আইন, যার নিদর্শন প্রাক্-পলাশি বাংলায় ছিল না। ১৯৫৫ সালে হিন্দু কোড বিল পাস না হওয়া পর্যন্ত এই ঔপনিবেশিক আইনটি এ দেশে পুরোদমে বিদ্যমান ছিল। কোন প্রেক্ষাপটে ও কী উদ্দেশ্যে ঔপনিবেশিক শাসকরা এই আইন তৈরি করে, তার সুলুকসন্ধান করাই এই ধারাবাহিক প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য। ... ...

'দেখুন আমাদের সমালোচনা ছিল মূলত দু'তিনটে জায়গায়। কোটেশ্বরের সাংগঠনিক ক্ষমতা, পার্টির প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কোনও কথা নেই। ওর মতো সাহসী সংগঠক পাওয়া মুশকিল। কিন্তু লালগড় আন্দোলনে ও সংযম রাখতে পারল না, তাই পার্টির মূল কাজ থেকে অনেকটা সরে গেল। ওকে আমরা বলেছিলাম, ভুল করছ। এভাবে মানুষ খুন করা ঠিক হচ্ছে না। যথেচ্ছভাবে মানুষ খুন করে দলের সংগঠনে বৃদ্ধি হবে না। বরং আমাদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা খারাপ হয়ে যাবে। তাছাড়া সংগঠনের বিস্তার করতে হবে গোপনে। গোপন পার্টিকে টেলিভিশন চ্যানেলে ইন্টারভিউ দিয়ে, ফোনে ইন্টারভিউ দিয়ে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছিল কোটেশ্বর। যা আমাদের পার্টির অনেক ক্ষতি করেছে। ... ...

“সত্যিই তো… টেগোর কেন?” বলল বিনীতা। “ইয়েস। এই একটা প্রশ্ন লোককে হন্ট করবে। একজন জিজ্ঞেস করবে আর একজনকে - হোয়াই টেগোর? সে আবার জিজ্ঞেস করবে তিন নম্বর লোককে - হোয়াই টেগোর? এই চেন চলতে থাকবে আর দোকানের নাম ছড়িয়ে পড়বে ইন ওয়ার্ড অফ মাউথ। নতুন দোকান, তাও সেক্টর ফোরে। পাবলিসিটি তো লাগবেই,” ছদ্ম গাম্ভীর্যের সাথে বলল রঞ্জিত। “আইডিয়া আচ্ছা হ্যায়,” মাথা ঝাঁকিয়ে বলল অরুণাভ। “ওই নামের জন্যই লোকে দোকানে আসবে। আর বৃষ্টি যদি হয় তবে ছাট আসবেই,” বলল রঞ্জিত। “মানে দোকানে লোকজন এলে বিক্রিও হবে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ আর ফ্যাশন…?” পুরোন কথায় ফিরে এল দাস সাহেব। ... ...

অশরীরীরা যখন বন্ধু হয়ে ওঠে - তারা অনেক মুশকিলই আসান করে দেয় - তেমন বন্ধু মানুষদের মধ্যে কোথায়? ... ...

দিলদারে স্বপ্নগুলি যায়নাতো ফাঁকি। ঘটে যাওয়া সত্যিগুলি ফিরে ফিরে বলে যায় --- জীবনের আছে আরো বাকি ! ... ...

ইসলাম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। লক্ষ্য, কর্মসূচি ও আজকের মৌলবাদী প্রবণতা এবং সাম্প্রদায়িকতা ... ...

একদিন বিকেলে অফিসে বসে আছি। পরিচিত এক ব্যক্তি বান্দোয়ান থেকে ফোন করলেন। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা হল। বললেন, পরীক্ষার জন্য বড়ো মিটিং বন্ধ আছে, কিন্তু পরিস্থিতি খুব খারাপ। কেন? বললেন, পুরো আতঙ্কের পরিবেশ। বিধায়কই বাড়িতে থাকতে পারছেন না, আর আমাদের কী হবে? তাঁর কথা শুনে একটু অবাক হলাম। জিজ্ঞেস করলাম, মানে? তিনি বললেন, বান্দোয়ানের এমএলএ বাড়ি থেকে লুকিয়ে রাতে একটা লাইব্রেরিতে গিয়ে থাকেন মাওবাদীদের ভয়ে। ... ...

যথাসম্ভব শব্দ না করে ড্রেসিং টেবিলের সামনে থেকে চিরুনি তুলে নিয়ে সে গেল বারান্দার খোলা দরজার দিকে। এই বারান্দার সামনে একটা মুসান্ডা আর একটা হলুদ জবা গাছ আছে। দরজাটা বাইরের রাস্তা থেকে খুব চোখে পড়ে না। তাই এইখানে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়ায় বিনীতা, চিরুনিতে চুল উঠে এলে সেগুলো আঙুলে পাকিয়ে ঘরের কোণে রাখা ঢাকনা দেওয়া ছোট ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। আজও তাই করতে যাচ্ছিল, এমন সময়ে বাড়ির সামনে একটা গাড়ি এসে থামল ... ...

ঘাসের উপর দেখো শুয়ে আছে গোলাপী শাড়িটি, ফুল, পাখি,লতাপাতা, পথ ধারে ছা পোষা বাড়িটি। বাড়িতে গল্প আছে, পথে ঘাটে গল্পের ধুয়ো --- দিলদারে মুক্তি বলে : মায়া --- তুমি আমারেও ছুঁয়ো ! ... ...

রাজ্যের পশ্চিম প্রান্তের এক-দেড়টা মহকুমায় মাওবাদী আন্দোলনের যে উৎস সন্ধানে ঘুরছিলাম এত দিন ধরে, শেষ পর্যন্ত এক বাক্যে তারই জবাব মিলল কিনা শিবরামের কাছে! প্রথমেই ওঁর কাছে এলে তো কবেই কিষেণজি মৃত্যু রহস্যের অর্ধেক কিনারা হয়ে যেত। রামজীবন মুর্মুর বাড়ির উঠোনে বসে সাত-পাঁচ ভাবছি, আর কানে বাজছে শিবরামের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে উঠে আসা এক বাক্যের ব্যাখ্যা, ‘এখন সিপিআইএম নেই, মাওবাদী আসবে কেন?’ ... ...

ড্রইং খাতা ফেরত নিয়ে কিৎকিৎ খেলার মত করে রঙিন ঘর ছাড়ে। তার হাঁটার ভঙ্গিতে মজা পায় ইন্দ্রনীল। কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল সে, বিনীতার কথায় থেমে গেল। “আমাদের একটা ভুল হয়ে গেছে। আপনার মিসেসকেও বলা উচিত ছিল।” “কিছু ভুল হয়নি,” একটু থামল ইন্দ্রনীল, তারপর বলল, “আমার কোনও মিসেস নেই।” অরুণাভ জিজ্ঞেস করল, “আপনি ব্যাচেলর?” “ডিভোর্সি,” একটা শব্দে উত্তর দিল ডাক্তার। একটা অস্বতিকর নীরবতা নেমে এল ঘরে। ... ...

আবার সেই গাদাগাদা অচেনা লোক, সেই একগাদা হাবিজাবি মন্ত্র আর বারবার করে 'প্রেত প্রেত' করতে লাগল ঠাকুরমশাই। আবার আমার ইচ্ছে করে এই ঠাকুরমশাই নামের লোকটাকে ধাঁইধাঁই করে মারতে। মীনামার মত ভালমানুষ যে কাউকে কোনোদিন একটু জোরে বকে নি, সবসময় হাসিহাসি মুখে থাকত, তাকেই এই পাজী লোকটা 'প্রেত প্রেত' বলছে! আমাকে যারা যারা ভালবাসত তাদেরকে এই ঠাকুরমশাইরা 'প্রেত' বলে ডাকে আর তারপর একগাদা কাপড়চোপড়, বাসনপত্র, খাবারদাবার এমনকি বিছানা বালিশ, ছাতা পর্যন্ত পোঁটলা বেঁধে নিয়ে চলে যায়!! এই নামাবলি জড়ানো একটু কুঁজোমত লোকগুলোর প্রতি এক তীব্র বিতৃষ্ণা, প্রায় বিদ্বেষ জন্ম নিতে থাকে আমার মনে। ... ...

২০০৬ সালের বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগে দাদা ফোন করল সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক বিমান বসুকে। দীপক সরকারদের সমস্ত কার্যকলাপ জানাল। তারপর বলেছিল, বুদ্ধ ভকতকে ভোটে নির্দল হিসেবে ক্যান্ডিডেট করবে। সিপিআইএমের মুখোশ খুলে দেবে। বিমান বসু বললেন, রাগের মাথায় কিছু না করতে। বিমানবাবু টেলিফোনে দাদাকে বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের পরিবারের প্রতি অনেক অবিচার হয়েছে। তুমি বুদ্ধকে বোঝাও এই সব না করতে। সূর্যকান্ত মিশ্র, দীপক সরকার তোমাদের বাড়ি যাবে সব ঝামেলার সমাধান করতে।’’ এর কয়েকদিন পরে সূর্যকান্ত মিশ্র আর ডহর সেন আমাদের বাড়িতে এলেন। ... ...


এই অভিযোগের উত্তরে অরুণাভ বলল, “আসলে কি জানেন, কোলিয়ারি কলোনিতে থাকি, সবাই কলিগ। আড্ডা দিতে গেলে অফিস ঢুকে পড়ে।” সম্মতি জানিয়ে মাথা ঝাঁকাল ইন্দ্রনীল। “আমারও খানিকটা একই রকম অবস্থা।” বিনীতা বলল, “ওর তেমন বন্ধু নেই। অফিসের পার্টি থাকে, ক্লাব আছে, তবে ও বিশেষ কোথাও যায় না।আমার এক কলিগ আসে মাঝে মাঝে ওর হাসব্যান্ডকে নিয়ে। তার সাথে আমাদের বন্ডিংটা ভাল। সার্জারির দিন ওরা পুরো দিন হসপিটালেই ছিল। আর কেউ তেমন নেই।” ইন্দ্রনীল বলতে যাচ্ছিল এবার উঠতে হবে কেমো শুরু করার জন্য। অরুণাভ হঠাৎ বলল, “আপনি আসুন না এক দিন।” “কোথায়,” অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল ডাক্তার। “আমাদের বাড়িতে, আবার কোথায়।” অরুণাভ খেয়াল করলে দেখতে পেত তার কথায় যে শুধু ডাক্তার অবাক হয়েছে তাই নয়, স্ত্রী বিনীতাও কম আশ্চর্য কম হয়নি। ... ...

শোভাময়ী সান্যালের রহস্যভেদ - না, রক্তারক্তি নেই - সাঁ সাঁ দৌড় আর কিঁইইইইচ আওয়াজে কার চেজ্ নেই। ... ...
