"সে এক সময় ছিলো, যখন কানেক্ট করতে হত। বারবার কেটে যাওয়া যোগাযোগ ফিরে ফিরে ধরে, কথোপকথন। এখন ডিসকানেক্টের যুগ। জুড়ে যাওয়া যোগাযোগ কেটে কেটে কথোপকথন। মেশিনগানের গুলির মত ছিটকে আসছে শব্দমালা, গতানুগতিক। ক্লান্তিকর ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্র আনার চেষ্টায় তাই শুরু হচ্ছে এই নতুন বিভাগ। রাজনীতি থেকে খেলা, বিজ্ঞান থেকে কবিতা, দাঁতের মাজন থেকে শিবের গাজন, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স থেকে লোডশেডিং এই সব এবং আর যা কিছু ---সমস্তই এর আওতায়। দুঃসময়ের দোসর দোতলার এগজিট, দরকারমত যা পোল থেকে পলায়ন সবেতেই কাজে লেগে যাবে।" ... ...




‘কার আবেদনে আমি এখানে এসেছি জানেন? সুভাস চন্দ্র বসু। ১৯৩৮ সালে তিনি যখন কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন আবেদন করেছিলেন চিনের মুক্তিযুদ্ধে চিকিৎসক ভলান্টিয়ার চেয়ে। কলকাতায় আমাদের বিদায় নেওয়ার সময়ে হাত ধরে বলেছিলেন, আপনারা যাচ্ছেন এক পরাধীন দেশ থেকে আরেক পরাধীন দেশে। তাঁদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশ নিতে। তাঁদের জানাবেন এই মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যেক ভারতবাসী চীনাদের পাশে আছেন। আমাদের দেশও খুব তাড়াতাড়ি স্বাধীন হবে। তারপর স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এশিয়ার এই বিশাল দুটি দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন হবে।’ অন্য চারজন ভারতীয় চিকিৎসক দেশে ফিরে গেলেন। বিদায়ের সময় নতুন চীন সরকার তাঁদের বিপুল সংবর্ধনা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন। ডাঃ কোটনিস থেকে গেলেন। তিনি যোগ দিলেন ডাঃ বেথুন আন্তর্জাতিক শান্তি হাসপাতালের প্রধান হিসাবে। ... ...

আলো, আনন্দ, প্রেম কই সেভাবে তো ছুঁয়ে গেল না করতল! সেভাবে একটা কোনও সীমারেখা হয়ে উঠল না আমার দেশ। কোথাও ইচ্ছেমতো বাঁচতে চাওয়া হলো না। তবে এত না এর মধ্যে একটা সমাজ কাকে চাইবে! কাকে দেবে তার আয়ের শতাংশ! চারপাশে ছড়িয়ে আছে অধিকার। অধিকার আর অধিকার। যে তোমাকে কেড়ে নিতে শেখাবে, যে শেখাবে হত্যা, রক্ত আর বিরাট একটা অধঃপতন। মানসিক এবং মানবিক কোনও ভাবালুতা তার কাছে বোকামি মাত্র। এইযে দেশ ছেড়ে যারা বসবাস গড়ে তুলেছিল অন্য একটা সীমারেখায়। ... ...

নর্মান নীরবতা ভঙ্গ করলেন। ‘ফ্রান্সেস ছিল নম্র, লাজুক, চাপা স্বভাবের। আমি ছিলাম কটুভাষী, অস্থির-উদ্দাম। যা করতাম তা প্রবলভাবে করতাম। ডেট্রয়েটে ডাঃ মার্টিনের সাথে যখন কাজ করতাম, জলস্রোতের মতো পয়সা আসছিল। কিন্তু আমি হতাশায় ভুগছিলাম। রোগীরা সবাই বিত্তবান। সামান্য অসুখেই ডাক্তারের কাছে আসে, হিসাব না করেই ফি দেয়। কিছুদিনের মধ্যেই ধিক্কার জন্মালো নিজের প্রতি। আর যে পথে টাকা রোজগার করছি সেই পথের প্রতি। আমি আবার ফিরে গেলাম ডেট্রয়েটের বস্তি অঞ্চলে। দিন রাত এক করে তাঁদের মধ্যে কাজ শুরু করলাম। সেই সময় শত অভাবেও ফ্রান্সেস আমার স্বাধীনতা হরণ করেনি। একবারও প্রশ্ন তোলেনি কেন আমি রাত্রে ঘরে না ফিরে কোনও বেশ্যা-পল্লীতে কারও সন্তান প্রসব করাচ্ছি। আজ কি করে তাঁর স্বাধীনতা হরণ করব আমি?’ ... ...

বহুদিন হলো প্রবল পরাক্রমী বেদান্ত ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে উড়িষ্যার নিয়মগিরির ডোঙ্গরিয়া কন্ধ উপজাতির মরণপণ লড়াই চলছে নিজের ও পূর্বপুরুষের বাসভূমি রক্ষায়। এই যুদ্ধ sahaje শেষ হবার নয়। হাঙর একবার হাঁ করলে না গেলা অব্দি সেই হাঁ বোজে না, অরণ্যের প্রাচীন প্রবাদ। এক ফার্লং পেছনে সাঁতরা্তে বাধ্য হলে পর মূহুর্তে একশ ফার্লং এগিয়ে আসে। ঠিক তাইই হয়েছে এখন বেদান্ত এবং ডোঙ্গরিয়া কন্ধ উপজাতির লড়াইয়ের বর্তমান অবস্থা। ২০০৭ সালে কোঅর্ডিনেশন অব ডেমোক্রাটিক রাইটস অরগানাইজেশন (CDRO) নামে সারা ভারতে গণতান্ত্রিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করা আঠারোটি সংস্থা এক ছাতার তলায় সংগঠিত হয়। গত জুলাই মাসে তা্রা নিয়মগিরির যুদ্ধ নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করে। বর্তমান প্রবন্ধে ব্যবহৃত ও উদ্ধৃত সমস্ত তথ্য এই রিপোর্ট থেকে নেওয়া। ... ...

বর্তমানে সারা দেশের মতো এই রাজ্যেও সামাজিক অস্থিরতা এবং আইন শৃঙ্খলার দারুণ অবনতি সংক্রমণের মতো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে। দলিত, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষজনের উপর সম্পন্ন ও প্রভাবশালীদের অত্যাচার; রাজনৈতিক দলগুলির গোষ্ঠীসংঘর্ষ বা নিজেদের মধ্যে এলাকা দখলের লড়াইতে সাধারণ নীচু তলার কর্মীদের প্রাণহানি; নানা ধর্মীয় প্ররোচনায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা; তোলাবাজি, অগ্নিসংযোগ বা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়ানো; রাজনৈতিক মদতপুষ্ট পার্টির ক্যাডারদের তাণ্ডব আজ দৈনন্দিন কাহিনি হয়ে দাড়িয়েছে। গত দেড় দু'বছর ধরে এর সাথে যুক্ত হয়েছে রোগীর আত্মীয়স্বজন এমনকি অসম্পর্কিত জনতারও চিকিৎসকদের উপর যূথবদ্ধ আক্রমণ এবং প্রহারের ঘটনা। কর্পোরেট হাসপাতাল, সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ছোট ও মাঝারি নার্সিংহোম গুলির উপর লাগাতার হামলা। প্রায় সব ক্ষেত্রেই আপাত কারণ হল অবহেলা বা ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু। অর্ধসত্য-অর্ধমিথ্যা এইসব অভিযোগ এবং উত্তেজনার পিছনে যা উপস্থিত থাকে তা হল, সরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা, অবহেলা, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের দুর্ব্যবহার এবং হাসপাতাল চত্বরে বহির্বিভাগে দেখানো, পরীক্ষানিরীক্ষা থেকে ভর্তি হওয়া নিয়ে সর্বভূতে বিরাজমান উৎকোচ ও ঘুষতন্ত্র, দালালরাজ। আর বেসরকারি কর্পোরেট হাসপাতালের ক্ষেত্রে আর্থিক দুর্নীতি, অস্বাভাবিক ভাবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তোলা খরচাপাতি এবং বহুক্ষেত্রেই চিকিৎসকের দ্বারা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অপ্রয়োজনীয় রোগী ভর্তি, অহৈতুকী দামী ওষুধ এবং পরীক্ষানিরীক্ষার ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার। ... ...

নলিন বলল, ‘শুনেছিলাম মুসলিমরা পৌত্তলিক নয়। এবং পৌত্তলিকতাকে ঘৃণা করে। এখানে এসে অন্য জিনিস দেখলাম। দেখলাম রীতিমতো মুর্তি গড়ে ওলাবিবির উপাসনা হচ্ছে। ওলাবিবি একা নন, সঙ্গে আছে আরও ছয় বিবি ঝোলাবিবি, আজগৈবিবি, চাঁদবিবি, বাহড়বিবি, ঝেটুনেবিবি ও আসানবিবি। তোমারা কি বিবিগান শুনেছো? বিবিগান আখ্যান অনুসারে ওলাবিবি এক কুমারী মুসলমান রাজকন্যার সন্তান। তিনি অলৌকিক উপায়ে অদৃশ্য হয়ে যান এবং পরে দেবী রূপে আবির্ভূত হন। তাঁর আবির্ভাবের কারণ ছিল দাদামশাইয়ের ও রাজ্যের সব মানুষের আরোগ্য দান। তাঁর মাথায় থাকে মস্তকাবরণী, গলায় গলবস্ত্র ও গয়না। পায়ে তিনি নাগরার জুতো পরেন। এক হাতে জাদুদণ্ড ধরে থাকেন। এই দণ্ডের মাধ্যমে তাঁর ভক্তদের রোগ দূর করেন। এই কলেরা আর ওআরএস এর কাজটাজ মিটলে আমি ঠিক করেছি শেষ জীবনে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাংলার লোকসংস্কৃতির চর্চা করব।’ ... ...

এভাবেই সিট আসছে, যাচ্ছে। সিটের অধিকার পাচ্ছে অন্যকেউ... আবার অন্যকেউ সুযোগ বুঝে চেপে বসছে অন্যের ঘাড়ে... উদাসীন বাউল যাঁরা, তাঁরা ছাড়া এই পৃথিবী বড়ই প্ররোচনাময়। সবকিছুই যেন খুবই কষ্টের। তাঁকে ছাড়া আনন্দ নেই, আলো নেই, এগোনো -পেছনো নেই। ভাবছি। আর দেখছি ঘাটশিলা পর্যন্ত ছিল তাঁর আসা যাওয়ার খেলা। আর এই পথটাই ছিল লীলাময়তায় ভরা। ভাবছিলাম, এই মায়ার পৃথিবীতে কে যে ঈশ্বর! কে যে অন্ধকার! বাচ্চার কান্না, ঘামের গন্ধ, চিৎকারের রঙ বেরঙের সুরে ভাসতে ভাসতে, ট্রেন গালুডিহি পেরিয়ে ঢুকে পড়ে আসনবনীতে... আহা খানিক পরেই জামশেদপুর! ... ...

একটুকরো রুটি তুলে দেখলাম আদৌ খাওয়া যাবে নাকি। কারুর রাগী পায়ে পিষ্ট হয়ে গেছে। অল্প একটু সর্ষে লেগে ওতে। সর্ষেই তো? বরং আরেকটা দেখা যাক। ধ্বংসের মুখ থেকে একটা ঠিকঠাক পরিষ্কার টুকরো তুলে আনলাম, ভেজা মেঝেতে সপসপে ভেজা একটা ছোট্ট টুকরো, যাতে এক টুকরো চীজ চেপ্টে আছে। বেসিনের পাশে একটা গ্লাসে একফোঁটা ওয়াইন দেখলাম। গলায় ঢেলে, তারপর সন্তর্পণে কামড় দিলাম। খারাপ নয় একেবারে। উলটে, বেশ ভালোই লাগছে। ক্ষুধার্ত কিংবা অনুপ্রাণিত মানুষকে জীবাণুরা উত্যক্ত করে না। একেবারেই পচে গেছে মনে হয়, এই বিরক্তিটা আসছে ভেজা সেলোফেনটা থেকে আর শেষ কে এটা ধরেছিল ভেবে। ঝট করে পেছনে ঘষে মুছে নিলাম একবার। তারপর গিলে ফেললাম। আর তবে কীসের দুঃখ? আশেপাশে দেখলাম সিগারেট পাই কিনা। কয়েকটা পোড়া টুকরোই রয়েছে। সবথেকে বড় টুকরোটা বেছে নিয়ে জ্বাললাম। চমৎকার গন্ধ। আমেরিকার স’ ডাস্টের মতো নয়। একেবারে খাঁটি তামাক। ... ...

ইতিমধ্যে আরেকটা কাণ্ড ঘটেছে। মিস্টার ঘটক নামে একজন সাব-ইন্সপেক্টর তোপচাঁচি থানায় পোস্টেড ছিলেন। আদিবাসীরা তাঁকে গুম করে খুন করে লাশ গাপ করে দিয়েছে। আদিবাসীগুলো এম সি সি, নাকি জে এম এম ক্যাডার সেটা বোঝা যাচ্ছে না। তবে বিনোদবাবু ওদেরকে শনাক্ত করতে পারেন। 'বিনোদবাবু, সে আবার কে?' 'বিনোদবিহারি মাহাতো। ফরমার কমিউনিস্ট।' 'বেশ। বেশ। বিনোদবাবুকে ডেকে ক্রস-এগজামিন করুন। উনিও যদি মুখ খুলতে না চান, গ্রেপ্তার করে হাজতে পুরুন। তারপর আমি দেখব।' 'স্যার, বিনোদবাবু বর্তমানে জে এম এমের প্রেসিডেন্ট। তাছাড়া নামকরা অ্যাডভোকেট।' 'সো হোয়াট! মেইনটেন্যান্স অফ ইন্টারনাল অ্যাক্ট আছে কী করতে? জাস্ট ডু ইওর ডিউটি।' এমন সময় একজন অফিসার ঢুকে সাক্সেনাকে সেলাম ঠুকে জানাল, 'স্যার,রায়সাহাব অনেক্ষণ থেকে আপনার সাথে দেখা করবেন বলে বাইরে ইন্তেজার করছেন।' 'রায়সাহেব কে?' 'সিঁদরির সিটিং এম এল এ, এ কে রায়।' 'আচ্ছা আচ্ছা, উনি? কমিউনিস্ট ট্রেড ইউনিয়নিস্ট? ডাকুন তাঁকে।' ... ...

একা মানুষের শত্রু হচ্ছে সে নিজে। তার একলা মন চাইবে পথে এসে মিশুক অন্য কেউ... হাত ধরুক... পায়ে পায়ে জুতো লেগে গতি হোক ধীর, মৃদু... অথচ কেউ আসে না, কেউ আসবে না হয়ত কখনো, কোনদিন, শুধু একটা দমকা বাতাস সবসময় ভিজিয়ে রাখবে তোমাকে... অধীর করে তুলবে... আর এই একলা জার্নি যোগ হবে দু'টো শালিকের শান্ত চেহারা। মন্দ ভেবে, আড়াল ভেবে যতই তাকে এড়িয়ে যাওয়া না কেন, ঠিক এসে ভাব জমাবে তোমাকে সঙ্গে। ... ...

ঘোর কাটল আমার গবেষণা পত্রের প্রস্তাব এথিকাল কমিটিতে পাশ করানোর সময়। দুই রাত্রি জেগে বেশ জম্পেশ করে থিসিসের প্রপোজাল তৈরি করলাম। জমাও দিলাম। পত্রপাঠ এথিকাল কমিটি আমার প্রস্তাব বাতিল করল। আমার থিসিসের এক জায়গায় ছিল রোগীদের ঠোঁট থেকে লালা গ্রন্থির বায়োপসি করতে হবে। এথিকাল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি কোনও ভাবে ওই বায়োপসি ব্যাপারটাকে বাতিল করা যায়। কারণ এতে রোগীদের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কি কেলেঙ্কারি কাণ্ড। থিসিস ‘জোগরেন সিন্ড্রোম’ নিয়ে। মাইনর স্যালাইভারি গ্লান্ডের বায়োপ্সি করে তাতে শ্বেত রক্ত কণিকার ঝাঁক খুঁজতে হবে। বায়োপ্সি ছাড়া কিভাবে ‘জোগরেন সিন্ড্রোম’ নির্ণয় করা সম্ভব? সে কথা লিখলাম। কিন্ত থিসিস আবার বাতিল হল। এবার এথিকাল কমিটির সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘জোগরেন সিন্ড্রোম একটি বিরল রোগ। ঐ রোগ নির্ণয় করে এমন কি মহাভারত শুদ্ধ হবে?’ ... ...

ভদ্রলোক হচ্ছেন কোলেতের লিগাল গার্ডিয়ান। কোলেতের যখন পনেরো, এরকম সময়ে ও বাড়ি থেকে হঠাৎ পালিয়ে যায়। সে যাই হোক, উনি বললেন যে, উনি যদি আমায় কোর্টে নিয়ে যান তাহলে দশ বছরের জেল আমার পাকা। জিগ্যেস করলেন, সেটা আমার জানা আছে কিনা। বললাম হ্যাঁ। আমার মনে হয় উনি বেশ অবাক হয়েছেন দেখে যে আমি নিজেকে বাঁচানোর কোনও চেষ্টাই করছি না। কিন্তু যেটা দেখে উনি সবথেকে বেশি অবাক হয়েছেন তা হল, আমরা দুজনেই লেখক। তুমি জানো লেখকদের প্রতি ফরাসিদের একটা বিরাট সম্মান আছে। একজন লেখক কখনও একটা ছিঁচকে গুন্ডা হতে পারে না। আমার মনে হয় উনি বোধহয় ভেবেছিলেন দুজন পাতি রেড ইন্ডিয়ান বা ব্ল্যাকমেলার দেখবেন এখানে এসে। কিন্তু তোমাকে দেখার পর ওর ভাবনা পালটাল। পরে আমাকে জিগ্যেস করছিল তুমি কী ধরনের বই লেখো, সেগুলোর মধ্যে কিছু অনুবাদ হয়েছে কিনা। আমি বলেছি তুমি একজন দার্শনিক, সেজন্যেই তোমার লেখা অনুবাদ করাটা বেশ কঠিন... ... ...

বহু প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে ঘটনার ধারা বিবরণী আপনারা ইতিমধ্যেই বহুবার পড়েছেন। সেই নিয়ে চর্বিতচর্বণ করার পরিবর্তে এই ঘটনার উৎস সন্ধানের চেষ্টা বোধ করি বর্তমান অবস্থায় এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বেশী প্রয়োজনীয়। সিনিয়র এবং জুনিয়র ডাক্তারদের বিভিন্ন সংগঠন জনিয়েছেন, চিকিৎসকদের উপর লাগাতার হামলা বিশেষত গত আড়াই বছর ২৩০ টি এই ধরণের ঘটনা বহুবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সরকার কার্যত ডাক্তারদের কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন নি এবং অপরাধীরা কোনো শাস্তিও পান নি। সরকারি ডাক্তারদের সঙ্গে সরকারের আচরণ চূড়ান্ত অমানবিক। এমনকি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত চিকিৎসককেও স্বেচ্ছাবসরের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে কর্তৃপক্ষের হুমকি, অন্যদিকে বিভিন্ন পার্টি আশ্রিত কুকৃতিদের হামলায় ডাক্তাররা চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ফলে তাদের পক্ষে এন আর এসের এই ঘটনা 'উটের পিঠে শেষ কুটো'র মত ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার ৮০ শতাংশ শিক্ষানবিশ বলে চিন্হিত জুনিয়র ডাক্তারদের ঘাড় দিয়ে চলে। কিন্তু তারাও ধারাবাহিক লান্ছনার শিকার। যে কোনো রোগীর মৃত্যু হলেই অবহেলা এবং হামলার অভিযোগ ওঠে। অপর পক্ষে কান পাতলেই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে যার মধ্যে অনেকটাই সত্য। ... ...

রাগের ভেতর সাপের মত আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ঢেলে দেবে সুরের বিষ। তৃষ্ণার্ত পথিক সেই আঁচলা ভরে পান করে নেবে মৃত শহরের সমস্ত ঝরে যাওয়া শোক। দুঃখ। অভিমান। তখনই নিজেকে ঈশ্বর মনে হয়। সমস্ত না-পারার খেদ ধুয়ে মুছে চোখের জলে ভেসে ভেসে সুবর্ণরেখায় মেশে। আর সেই গভীর ধ্যান পথ হয়ে ওঠে লাল বিপ্লবের। চারপাশে ছড়ানো ছিটানো মোরামের কাঁকর। খালি পা জ্বালা করে। পিচপিচ করে রক্তের স্রোত ছুটে... গানের মত? ... ...

না, কোনও বিখ্যাত চিকিৎসক অথবা বৈজ্ঞানিক নন, এই উপাধি দেওয়া হয়েছে একটি রোগকে। সেই রোগের নাম কলেরা। এই কলেরাই আমাদের জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব ঘাড় ধরে শিখিয়েছে। এই কলেরার ভয়েই রাষ্ট্র তৈরী করেছে উন্নত পয়ঃপ্রণালী, জীবাণুমুক্ত জল সরবরাহ ব্যবস্থা। ভেবেছিলাম কলেরা রোগ নিয়ে লিখব। বিশেষ করে বেশ কয়েকজন বাঙালী চিকিৎসকের কলেরা রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এবং ও আর এস এর প্রচলনের ক্ষেত্রে গৌরবজনক ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু দুই পর্ব লেখার পর মনে হল কুখ্যাত ব্ল্যাক ডেথ’কে এড়িয়ে যাব কি করে। ১৩৪৭ থেকে ১৩৫১ সালের মধ্যে প্লেগের এই মহামারীতে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় মারা গেছিলেন প্রায় কুড়ি কোটি মানুষ, যা ছিল এই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের তিন ভাগের এক ভাগ। এই অঞ্চলের জনসংখ্যা এতটাই কমে গেছিল যে পরবর্তী চারশ বছর লেগেছিল আগের জনসংখ্যা ফিরে পেতে। ... ...

আমার মাথা এখন কাজ করছে ক্ষিপ্র গতিতে। আমায় যেটা করতে হবে সেটা হল, ওদের দুজনকে আমার ঘরটার মধ্যে রাখা, ভল্টের থেকে টাকা বের করে আনা, এনে মেয়েটার হাতে দেওয়া, তারপর ও আরেকবার বাথরুমে গেলেই ওর ব্যাগ থেকে টাকাটা নিয়ে গ্যেটের ফাউস্টের ভেতরে আবার রেখে আসা। কার্লকে বরং ওর হাতে পঞ্চাশ ফ্রাঙ্ক দিয়ে দিতে বলব, যেটার কথা কার্ল বলছিল আরকি; ওটা ট্যাক্সি ভাড়ায় চলে যাবে। সকালের আগে ও নিশ্চয়ই দুশো ফ্রাঙ্কের খোঁজ করবে না; যদি সত্যিই ওর টাকার দরকার থাকে, তাহলে যেভাবেই হোক তার ব্যবস্থা করে নেবে, আর যদি তা না হয়, তবে খুব সম্ভব নিজেকে বলবে যে টাকাটা হয়তো ট্যাক্সিতে ফেলে এসেছে। যেটাই হোক না কেন, মোদ্দা কথা, যে অবস্থায় ও এই বাড়িতে ঢুকেছিল সেভাবেই বেরুবে — একটা আচ্ছন্ন ঘোরের মধ্যে। ... ...