
এদেশের ট্রাম্প থামপিং মোদী ভারতীয়রা জানেনা, এরা হিন্দুধর্মকেই কী ভীষণ ঘৃণা করে। কতবার যে মা কালীকে নিয়ে কুৎসিত কথা বলেছে এই মনস্টারগুলো! ... ...

আসিফ নজরুল রাষ্ট্রপতিকে শপথ ভঙ্গ করেছেন বলেছেন। খুব ভালো, রাষ্ট্রপতি আগে বলছে তিনি পদত্যাগ পত্র পেয়েছেন এখন বলছেন পান নাই। এইটা তো মিথ্যাই বলা হয়েছে। হয় তখন বলেছেন অথবা এখন বলছেন। যদিও আমার মনে হয় না তিনি ইচ্ছা করে মিথ্যা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরে তখন তাঁর আসলে কী করার ছিল? গোঁ ধরে বসে থাকা? না আমি পদত্যাগ পত্র না দেখে ভাষণ দিব না? তাঁর আসলে উপায় ছিল না। সেই সময় অনুযায়ী যা করার তাই তিনি করেছেন। যাই হোক, ধরেই নিলাম মিথ্যাই বলেছেন। শপথ ভঙ্গ করেছেন। মাননীয় আইন উপদেষ্টা জনাব আসিফ নজরুল কি শপথ ভঙ্গের এই একটাই উদাহরণ দেখেছেন এই কয়দিনে? আর কেউ শপথ ভাঙ্গে নাই? আর কেউ সংবিধানের বিপরীতমুখী কথা বলে নাই? জনাব নাহিদ ইসলাম যে সরাসরি জাতির জনককে অস্বীকার করল তা শপথ ভঙ্গের ভিতরে পরে নাই? আমাদের সংবিধানের চারের ক ধারায় স্পষ্ট করে বলা আছে - "জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারী ও আধা-সরকারী অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করিতে হইবে।" নাহিদ সাহেবসহ সবাই যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলছেন তা শপথ ভঙ্গ করে নাই? আপনি মানেন না, জাতির জনককে বদলে দিবেন সব বুঝলাম। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত এই সংবিধান মেনে চলতে আপনি বাধ্য। আইনের লোক এইটা তো না জানার কথা না! না এখানে আমরা যা করব তাই হচ্ছে সঠিক বাকি গুলো সব ভুয়া। কিংবা আমরা যা বলব তাই সত্য, আমরা যাকে মিথ্যা বলব তা মিথ্যা! আমরা যাকে অপরাধী বলব তারাই অপরাধী। ইউনুস রাজ বলে কথা, হতেও পারে! তবে আজকে আপনের ক্ষমতা আছে, যা ইচ্ছা করে গেলেন, বলে গেলেন, এইটাই শেষ না। ইতিহাসে এগুলা লেখা থাকবে। আপনারা সংবিধান ভঙ্গ করেছেন, করেছেন, করেছেন! ... ...

শেরপুরের বন্যার অবস্থা ভয়াবহ। পাহাড়ি ঢল এমন ভাবে আসছে যে এখন মনে হয় বন্যা হইছে না যেন টর্নেডো হয়ে গেছে। সব বাড়িঘর ভেঙ্গেচুরে শেষ। সরকারি সাহায্য নাই। ইউনুস সাহেব ফেনি কুমিল্লার সময় এক হাজার কোটি টাকার ত্রাণ তহবিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার ঘোষণাতেই মোসাহেবিরা বাহ বাহ! কি দারুণ কাজ বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলছিল। কিন্তু দেখা গেল সেই তহবিলের কোন খবর নাই। আমরা বাংলাদেশী না অন্য কোন দেশের অংশ তাও ঠিক মতো ঠাওর করতে পারছি না। মানুষের কোন বিকার নাই। সরকার তো দায়িত্ব পালন করবে? তারও কোন হুশ নাই। এইটা বলার জন্য এই প্রসঙ্গ আনি নাই। পূজার ছুটিতে জেলার সকল এবং সফল ছেলেমেয়েরা সব বাড়ি ফিরেছিল। বন্যার জন্য সবাই ঝাঁপিয়ে পরে কাজ করেছে। এক সাথে কাজ করেছি আমরা। এদের মধ্যে একজন সচিবালয়ে আছেন। মানে হচ্ছে প্রশাসনের একদম টপ লেবেলেই কাজ করেন তিনি।শেষ দিন, ছুটি শেষ, পরেরদিন চলে যাবেন। আমি সুযোগ পেলাম কথা বলার। বললাম ভাই, অবস্থা কী? ভিতরে কী চলছে? তিনি যা বললেন তা হচ্ছে কিছুই ঠিক নাই। সব অগোছালো। আগা থেকে পাতা পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা চলছে। কোন নিয়ম নীতি নাই। আর? আর শিবির আর জামাতের কর্মীরা সমানে ঢুকছে প্রশাসনে! উনার বক্তব্য হচ্ছে শোন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি, শিবির দেখলেই চিনি। এরা সব মিছিল করে নানা পোস্টে ঢুকছে। বিএনপির পুলাপান তো তৈরিই না যে ঢুকবে। আর এরা সব তৈরি হয়েই বসে ছিল। ইউনুস কী প্লান করছে জানি না। যা দেখলাম তাই কইলাম। ... ...

বলার মতো তো কিছু খুঁজে পাইই না উল্টো রিসেট বাটন টিপে সমস্ত অতীত মুছে দিতে চান প্রধান উপদেষ্টা। এদিকে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী বলছেন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে পাকিস্তানের ইসলাম থেকে বাংলাদেশের ইসলামকে আলাদা করার জন্য। আজকে তিনি আবার তার ফেসবুক প্রোফাইলের কাভার ফোটো দিয়েছেন পাঁচজন নেতার ছবি। কে কে? সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা, আবুল হাশিম, যোগেন মন্ডল ও মাওলানা ভাসানি! হুমায়ুন আজাদ লিখেছিলেন - ‘‘শেখ মুজিব দৈহিকভাবেই মহাকায় ছিলেন, সাধারণ বাঙালির থেকে অনেক উঁচুতে ছিলো তার মাথাটি, সহজেই চোখে পড়তো তার উচ্চতা। একাত্তরে বাংলাদেশকে তিনিই আলোড়িত-বিস্ফোরিত করে চলেছিলেন, আর তার পাশে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে যাচ্ছিল তার সমকালীন এবং প্রাক্তন সকল বঙ্গীয় রাজনীতিবিদ।" দেখা যাচ্ছে এগুলা মাহফুজ আলমের হিসেবে নাই বা তিনি বঙ্গবন্ধুকে ছাড়াই নতুন এক ইতিহাস তৈরির ফিকির খুঁজছেন। আংকেল স্যাম সাথে থাকলে সবই সম্ভব। অসম্ভব বলে কিছু নাই। ... ...

মাহফুজ আলমের একটা সাক্ষাৎকারের কথা বলাই হয় নাই। প্রথম আলোতে তিনি দীর্ঘ সাক্ষাতকার দিয়েছেন। কীভাবে কত বছর আগে থেকে সব শুরু, পরিকল্পনা সব কিছু সুন্দর করে বর্ণনা করেছেন। এ ছাড়াও তিনি সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন অনেক গুলা। এবং আমার মূল চিন্তা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ তাই আমি সব বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তার ধরনা দিয়েই তাকে মাপতে গেলাম। কথার প্যাচ ধরতে পারলে দেখা যায় তিনি সুন্দর করে মুক্তিযুদ্ধের এক নতুন তত্ত্ব এনে হাজির করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে পাকিস্তানের ইসলাম থেকে এই মুল্লুকের ইসলামকে আলাদা করার জন্য! উদ্ধৃতি দিচ্ছে প্রথম আলোর সাক্ষাতকার থেকে, - "১৯৭১ হয়েছিল বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের দুটি বোঝাপড়া থেকে। ১৯৪৭ সালের আগপর্যন্ত ইসলামের সঙ্গে তার যে বোঝাপড়া ছিল, সেটা বদলে গিয়েছিল। তারা বুঝতে শুরু করল, বাংলার ইসলাম পাকিস্তানের ইসলামের সঙ্গে যায় না, এমনকি উত্তর ভারতের ইসলামের সঙ্গেও নয়। ফলে তারা পাকিস্তানি ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড়াল।" মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে আমার লিটমাস পেপার। তুমি কোন ক্ষেতের মুলা তা এই পরীক্ষাই সহজে ধরা যায়। ব্রাত্য রাইসুরে এমনে আমি খুব একটা পছন্দ করি না। কিন্তু এই সাক্ষাতকার প্রসঙ্গে তাঁর একটা ফেসবুক পোস্ট এখানে শেয়ার না করে পারছি না। ওইটা আমারও বক্তব্য বলেই শেয়ার করছি, তিনি লিখেছেন, - "মুক্তিযুদ্ধ মানে হচ্ছে পাকিস্তানি ইসলামের বিরোধিতার যুদ্ধ, এইরকম যারা বলতেছেন তারা ভয়ঙ্কর কথা বলতেছেন। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধরে ধর্মীয় সিলসিলা রক্ষার যুদ্ধ হিসাবে সীমিত করার ষড়যন্ত্র আছে। অবশ্য ইসলামি দলগুলি যদি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে চায় তবে মুক্তিযুদ্ধরে ধর্মের যুদ্ধ হিসাবে দেখানোটা অত্যন্ত কাজে লাগার মত বিষয় হবে। মুক্তিযুদ্ধ ধর্মের যুদ্ধ ছিল না। কোনো অর্থেই ছিল না।" ... ...

প্রশ্ন: ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর হিসেবে যেটা পরিচিত ছিল, সেই জাদুঘর ৫ আগস্টের পর বিনষ্ট করা হলো। ১৫ আগস্টে সরকারি যে ছুটি ছিল, সেটাও আপনার সরকার বাতিল করেছে। বঙ্গবন্ধুর বহু ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে বেশ খানিকটা সমালোচনাও হচ্ছে। আবার অনেকেই বলছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁরা ফ্যাসিবাদের আইকন হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বলছেন, এ কারণেই এটা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জাতির জনক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বীকৃত। এ ব্যাপারে আপনার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী? ড. ইউনূস: আপনি পুরানো দিনের কথাবার্তা বলছিলেন। এর মধ্যে একটি গণ–অভ্যুত্থান ঘটে গেছে, এটা বোধ হয় আপনার স্মরণে নেই। আপনি এমনভাবে কথা বলছেন যেন এসব ঘটনা ঘটেইনি। কাজেই নতুন ভঙ্গিতে যা হচ্ছে, সেটাকে দেখতে হবে তো। কত ছেলে প্রাণ দিল, সেটা নিয়ে আপনার প্রশ্ন নেই। কেন প্রাণ দিল। সেগুলো আসুক। কাজেই প্রথমে স্বীকার করতে হবে যে, ছাত্ররা বলেছে, আমরা রিসেট বাটন পুশ করেছি। এভরিথিং ইজ গন। অতীত নিশ্চিতভাবে চলে গেছে। এখন নতুন ভঙ্গিতে আমরা গড়ে তুলব। দেশের মানুষও তা চায়। নতুন ভঙ্গিতে চলার জন্য যেটা আছে, সেটা আমাদের সংস্কার করতে হবে। ... ...

ডক্টর ইউনুস তার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলমকে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন এই আন্দোলনের মাস্টার মাইন্ড হিসেবে। সেখানে তিনি বলেন, "He (Mahfuz) is known as Subedar behind the whole revolution, he denied repeatedly it’s not me many others …but now we recognise that there brain behind the whole thing … it’s amazing meticulously designed thing…it’s not just suddenly came it’s not like that…very well designed … even the leadership pattern …people don’t know who is the leader…you can’t catch one and say it’s over…it’s not over" ... ...

দেশ জুড়ে নানা জায়গায় অস্থিরতা। কে যে কী চালাচ্ছে তার কোন হিসাব নিকাশ নাই। এমন কি সরকার যে কে চালাচ্ছে তারও কোন সঠিক উত্তর নাই। গার্মেন্টস জুড়ে চলছে নানা আন্দোলন। রাস্তাঘাটে আন্দোলন। লুটপাট, চাঁদাবাজি সব চলছে এক যোগে। একটা বোতলে বেশ কিছু দৈত্য দানো, ভূতকে বন্দি করে রেখেছিলেন শেখ হাসিনা, বন্দি করেই দেশ চালিয়েছেন। একে অনেকেই অনেক নাম দিয়েছিল। এখন তিনি নাই, সব ভূত এখন মুক্ত, আর চারদিকে চলছে ভূতের নৃত্য! আমরা সবাই পিশাচ নৃত্য দেখে চলছি। ... ...

আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ভু রাজনীতি এগুলা নিয়ে নানা সময় নানা মন্তব্য করে ফেলি। আসলে তো এর বিন্দু বিসর্গও বুঝি না আমি। কী থেক কী হচ্ছে আল্লা মালুম। ডক্টর ইউনুসকে এক দাগে খারাপ মানুষ বলে দেওয়া সম্ভব না। আমিও বলতে চাই না। কিন্তু তিনি এমন সব কাজ করছেন যার হিসাব ভালো মানুষের খাতায় নাই। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। কে এই তাইজুল ইসলাম? আর এইটা কোন ট্রাইব্যুনাল? একটু চিন্তা করেন! এইটা হচ্ছে সেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেখানে সমস্ত রাজাকারদের বিচার করা হয়েছে। এখন এই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ বাকি যাদের নামে মামলা হয়েছে, হয়ত জাফর ইকবাল, শাহরিয়ার কবিরদেরও এই ট্রাইব্যুনালেই বিচার হবে। মজাটা হচ্ছে কেই তাজুল ইসলাম প্রশ্নে! এই একই ট্রাইব্যুনালে রাজাকারদের বিচার চলার সময় এই উকিল জামাতের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন! মনে হচ্ছে না এইটা একটা প্রতিশোধের মঞ্চ বানানো হচ্ছে? মনে হচ্ছে না নোবেল জয়ই মানুষটার অন্তর তীব্র ঘৃণায় পূর্ণ? তিনি পিষে মারতে চাচ্ছেন প্রতিপক্ষকে? এতে যদি দেশ, জাতি, মুক্তিযুদ্ধের সাথেও আপোষ করতে হয় তার সেই আপোষে কোন দ্বিধা নেই! আর এইটা বুঝার পরেও তার মহানুবতা নিয়ে কথা বলতে হবে? বলতে হবে আরে তিনি জ্ঞানী মানুষ, ঠিক সব লাইনে এনে ফেলবে! লাইন চ্যুত করার সমস্ত ব্যবস্থা করে সব লাইনে চলবে আশা করা কে কী বলব? আম গাছ লাগিয়ে আনারস পাওয়ার আশা? ... ...

আমি যে গল্পের জন্য গিয়েছিলাম তা পাইনি। কিন্তু যা পেলাম তার কোন মাপজোক সম্ভব? তিনি আমাকে বললেন তিনি ১৯৭১ সালেই এসেছিলেন। আমি যে জন্য গিয়েছি তার কোন ডাটা তাদের কাছে নাই আর আগের কেউ বেঁচেও নাই। উনি পুরোপুরি আমাকে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেন নাই। আমি যখন প্রথমে গেলাম তখন কার্ড চেয়েছিলাম, উনি আমাকে বলছিলেন কার্ড থাক, আমিই তোমার সাথে যোগাযোগ করব। আমি আর কী বলব? চলে আসছি, আসার আগে বললাম একটা সেলফি তুলি? উনি হাসি দিয়ে রাজি হলেন। দ্বিতীয় বার যখন আমি আমার বই নিয়ে গেলাম তখন তাঁর সমস্ত দ্বিধা চলে গেছে। তিনি তখন নিজেই কার্ড দিলেন আমাকে আর বললেন, একটু দাঁড়াও, তোমার একটা ছবি তুলে রাখি! আমি হাসি মুখে একটা ছবি তুলতে দিলাম উনাকে। ... ...

এইসবের মাঝেই সীমান্তে আবার এক কিশোরীর লাশ! ফেলানি থেকে স্বর্ণা দাস! অষ্টম শ্রেণিতে পড়া একটা মেয়ে। কত দুর্ধর্ষ চোরাকারবারি ছিল স্বর্ণা দাস? গুলি করে মেরে ফেলল বিএসেফ। ত্রিপুরায় ওর ভাই থাকে, দালালের মধ্যমে সীমান্ত পার হচ্ছিল মায়ের সাথে। গুলি খেয়ে মরল স্বর্ণা দাস। বিএসএফ বরাবরই বলে আসছে সব অপরাধী। সব চোরাকারবারি! চোরাকারবারি সব বাংলাদেশের? এখান থেকে এমনে এমনেই চোরাকারবারি করা যায়? ওই পাশের কারও সাহায্য লাগে না? গুলি খায় শুধু আমাদের লোকজন? এমন একটা পরিস্থিতি যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত! ভাইরে কী একেবারে চলছে এইখানে যে এত মানুষ মরছে এখানে? আরে ভারতের নিজের দেশের আইনেই গুলি মারার আইন নাই, তবুও চলছে হত্যা! প্রথম আলো থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি, "জয়েন্ট ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ গাইডলাইনস ফর বর্ডার অথোরিটিজ অব দ্য টু কান্ট্রিজ প্রটোকলের ধারা ৮(আই) অনুসারে, এক দেশের নাগরিক যদি বেআইনিভাবে অন্য দেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করে বা কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আত্মরক্ষায় যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবে, তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করাটাই বাঞ্ছনীয়।" ... ...

আফগানিস্তান, বেলারুশ, বুরনিকা ফাসো, মিয়ানমার, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, হাইতি, ইরান, ইরাক, লেবানন, লিবিয়া, মালি, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, ইউক্রেন, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেন। এই দেশের নাম গুলোর সাথে এখন বাংলাদেশ! কিসের তালিকা এইটা? এইটা হচ্ছে আমেরিকা তার নাগরিকদেরকে এই সব দেশে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এখানে এতদিন বাংলাদেশ ছিল না। মাশাল্লাহ এক মাসে বর্তমান সরকার কৃতিত্বের সাথে এই তালিকায় নাম লেখিয়ে ফেলতে পারছে। আমি গত এক মাস ধরেই এই প্যাঁচাল লিখে যাচ্ছি যে দেশে আইন শৃঙ্খলা বলতে কিছু নাই। আমেরিকা তাদের সতর্কবার্তায় লেখা হয়েছে, "বেসামরিক অস্থিরতা, অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ ভ্রমণ করবেন না। সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে সতর্ক করে মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে এতে আরও বলা হয়, এই সময় স্বল্প বা আগাম সতর্কতা ছাড়াই সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন গন্তব্য, বাস–ট্রেন স্টেশন, বাজার বা শপিংমল, রেস্তোরাঁ, ধর্মীয় স্থান, স্কুল ক্যাম্পাস এবং সরকারি স্থাপনা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।" এমন পরিস্থিতিতে সরকারের জবাব তৈরিই আছে, সব আওয়ামীলীগের ষড়যন্ত্র! তারাই দেশেকে অস্থিতিশীল বানাচ্ছে। এদিকে চোখের সামনে বিএনপির নেতাদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মানুষ। এক মাসের মধ্যে এইটা কী চাইছিলাম আমরা বলা শুরু হয়ে গেছে। ... ...

বলা হচ্ছে যারা ভারত বিরোধিতা না করবে তারা দেশপ্রেমিক না! কোন বিকল্প নাই! বুঝেন এখন! সেতু উপদেষ্টা পদ্মা সেতুর টাকা বাঁচিয়ে কত বড় কাজ করছে এই কৃতিত্ব নেওয়ার পরে গতকাল বলছে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ জনগণের কোন উপকার হয় নাই! এই বিষয়টাও বুঝতে হবে আপনাদের। পদ্মা সেতুতে রেললাইন হলে কেন জনগণের উপকার হবে না? পশ্চিম, দক্ষিণ বঙ্গের ওই অংশ পুরোটা রেলের আওতায় এসে যাচ্ছে, এইটা ভালো না? না! কেন? কারণ বহুদিন ধরেই একটা গুজব বাতাসে ঘুরছে এই রেল লাইন বানানোই হচ্ছে ভারতের ট্রেন যেন সোজা কলকাতা থেকে ঢাকা আসতে পারে এই জন্য! দেশের উপর দিয়ে রেল করিডর দেওয়ার কথা এই জন্যই এই পদ্মা সেতুতে রেলের ব্যবস্থা, অনেকে আরও একটু এগিয়ে বলে পদ্মা সেতু বানানোর জন্য সরকারের যে এত প্রবল ইচ্ছা ছিল তা এই কারণেই, ভারতকে দেশের ভিতর দিয়ে রেল করিডর দেওয়া! খুলনা, যশোর, বরিশাল জেলার মানুষকে কেউ জিজ্ঞাস করে না কেন এই সেতু কেন বানাইছে? জীবনে দুই একবার যে ওইদিকে গেছি, তাতেই গলা ছেড়ে কান্না আসছে যে কেন সেতু নাই! ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে এই অঞ্চলের মানুষ। আমি অবাক হয়ে গেছি এই কারবার দেখে! যাদের সুযোগ থাকে তারা লঞ্চে যাতায়াত করত তখন। কিন্তু সবার তো সেই সুযোগ ছিল না। যশোর, খুলনা, বাগেরহাট এরা কই যাবে কী দিয়া যাবে? না, সেতু বানাইছেই ভারতের জন্য! ওই যে বিলো অ্যাভারেজ আইকিউ! এই কথার পরে এখন উপদেষ্টার বুদ্ধিও মাপতে পারেন আপনারা, কোন সমস্যা নাই! ... ...

সারা দেশে শিক্ষকদের অপমান অপদস্থের একটা মিছিল শুরু হইছে। কোথাও যদি না হয় তাহলে উশখুশ শুরু হয়ে যাচ্ছে, এখানে কেন কিছু হচ্ছে না? বয়স্ক শিক্ষকদের রীতিমত অপমান করে জোর করে পদত্যাগ করানো হচ্ছে। এই ব্যাপারে আমাদের আইন উপদেষ্টা বলেছেন এগুলা হওয়া ঠিক না, কিন্তু শিক্ষকরা এতদিন দলের প্রতি অন্ধ সমর্থন দিয়েছে তাই এগুলা হচ্ছে। আইন উপদেষ্টার মতোই কথা না? একটা ভিডিও দেখছি যেখানে এক শিক্ষক পদত্যাগ পত্রে জোর করে সাক্ষর দেওয়ার পরে তিনি দুম করে কাঁপতে কাঁপতে পরে গেলেন।ধরাধরি করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সম্ভবত। গতকাল শুনলাম তিনি মারা গেছেন! এগুলার কোন মূল্য নাই। একদল মানুষ এখন যাই হচ্ছে, যে অনিয়মই হচ্ছে তাকেই চোখ বন্ধ করে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। প্রিন্স মাহমুদ, যিনি বাংলাদেশের খ্যাতনামা সুরকার। তিনি পুরো আন্দোলন জুড়েই অন্ধ সমর্থন দিয়ে গেছেন ছাত্রদের। এবং তিনি এখন পর্যন্ত ওই ঘোর থেকে বের হতে পারেন নাই। তিনি আরেকজনের একটা স্ট্যাটাস শেয়ার করছেন। যা তার নিজেরও বক্তব্য। সেখানে লেখা শিক্ষক যদি দলদাসে পরিণত না হয় তাহলে বখাটে ছাত্রও সেই শিক্ষকের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য। দলদাস শিক্ষক ইতর ছাত্র থেকেও অধম। এই যে মবের প্রতি উৎসাহ দেওয়া, তারা জানে কী হচ্ছে পুরো দেশে? তাদের উৎসাহ পেয়ে সামনে আরও কী কী হতে পারে? কালকে দেখলাম আরেকজন লিখেছে যারা এগুলা নিয়ে মায়া দেখাচ্ছে তারা জুলাই মাসে কই ছিল? একটা শ্রেণিই না কি জুলাইয়ে চুপ থেকে এখন এইসবের জন্য মায়া কান্না করছে! ফ্যালাসির কোন মাত্রা কোন ধারণা আছে কোন? ... ...

শুরুতে আন্সারুল্লাহ দলের নেতা মুক্তি পেয়েছে বলছি। এখন আরেক নিষিদ্ধ সংগঠনের কথা বলি যারা বুক ফুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সব জায়গায়। সেটা হচ্ছে হিজবুত তাহরীর! এই নিষিদ্ধ সংগঠন হোলি আর্টিজেনের ঘটনায় যে দুইজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছিল তাদের স্মরণে যে ভাস্কর্য বানানো হয়েছিল সেই ভাস্কর্য ভেঙ্গে দিয়েছে! দীপ্ত শপথ নামের এই ভাস্কর্য ভেঙ্গে সেখানে খেলাফতের আহবান জানানো পোস্টার লাগিয়ে দিয়েছে। এইটা কবের ঘটনা? গতকালের ঘটনা মানে সরকার গঠন করার প্রায় বিশ দিন পরে যখন দাবি করা হচ্ছে আইন কানুন ফিরে আসছে দেশে। কোথায় এই ভাস্কর্য? ঢাকার গুলশান এভিনিউয়ে ! ঢাকার প্রাণ কেন্দ্রে কেউ ভাস্কর্য ভেঙ্গে চলে গেছে খেলাফতের পোস্টার টাঙ্গিয়ে। কেউ কিছু জানে না। গুলশান থানার পুলিশ এইটা নিয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি! দায়িত্বশীল কেউ কোন বক্তব্য দেয় নাই। হিজবুত তাহরীর নিষিদ্ধ ২০০৯ সাল থেকে। এরা উগ্র ইসলামিক দল। যারা খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য কট্টর অবস্থান নিয়ে চলে। ৫ তারিখ আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পরেই এরা প্রকাশ্যে চলে আসে। কোন রাখঢাক না করে ব্যানার নিয়ে, পোস্টার নিয়ে তারা মিছিল করে চলছে। ত্রাণের জন্য ক্যাম্প বসিয়েছে! সব চলছে চোখের সামনে। কেউ একটা শব্দ পর্যন্ত করছে না। ... ...

গতকালের সেরা চমক পেয়েছি টুইটারে! আমাকে একজন একটা স্ক্রিনশট দেখাল। ইউএস নেভাল ইনিস্টিটিউট নামের একটা একাউন্ট থেকে গত ২২ আগস্ট একটা টুইট করা হয়েছে। তাতে লেখা "Bangladesh could be an important security partner for the United States, with desirable facilities on the Bay of Bengal and an interest in a free and open Indo-Pacific." এর পরে তাদের ওয়েবসাইটের একটা প্রতিবেদনের লিংক দিয়েছে। আমি এইটা সত্য না মিথ্যা তা দেখার জন্য টুইটারে ঢুকলাম। ঢুকে নিশ্চিত হলাম যে না এইটা যা দেখছি তা সত্যই দেখছি। প্রতিবেদনটাও পড়লাম। নানা বিষয় আলোচনা করেছে সেখানে। কেন আমেরিকার একটা নৌ বাহিনীর ঘাটি বঙ্গোপসাগরে দরকার! এখানে একটা জাহাজ তৈরির শিল্প তৈরি হয়েছে, এইটাও তাদের কাজে লাগবে! জাহাজ মেরামত করা কাজে লাগবে। বাংলাদেশ নৌ বাহিনী আর ইউএস নৌ বাহিনী মিলে এই অঞ্চলে কত দারুণ সব কাজ করা সম্ভব তাও লিখেছে! দারুণ না? এইটা দেখেই মনে হল “এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে! ... ...

এই পরিস্থিতির মতো গল্প শুনলাম আজকে আরেকটা। কয়েকদিন আগের ঘটনা। সেই কুৎসিত রাতের গল্প। যখন সমস্ত বাংলাদেশ এক সাথে কালি গোলা অন্ধকারে ডুবে গেছিল। তিনি নিজের মা বোনকে অন্য বাড়িতে পাঠিয়ে নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। এলাকার বিএনপির নেতারা এসে অভয় দিচ্ছেন, কে কইছে আগুন দিব তোমাদের বাড়িতে? ডরাইতেছ কেন? যত এগুলা বলে তত ভয় আরও বাড়ে! কী অদ্ভুত সময়! এদিকে উনাদের নিচ তালায় ভাড়াটিয়া থাকে, তারা এসে জিজ্ঞাস করছে, এখন কী করব? আমরা বের হয়ে যাব? কই যাব? কী উত্তর দিবেন তিনি? উনি আমাকে বললেন, একটা শব্দও মুখ দিয়ে বের হল না। আমি হেঁটে হেঁটে চলে গেলাম ওইখান থেকে। ঘরে ঢুকলেন। আমার মতোই তিনিও ভাবলেন বই গুলার কথা। একটা একটা করে বই স্পর্শ করছেন আর ভাবছেন এইটা সরায় রাখব? এইটা নিয়ে রাখব? বইয়ের মাঝে টাকা রাখছেন কি মনে করে কে জানে। ওগুলা হাতে নিলেন। টাকা পকেটে রাখব? বই পুড়লে, বাড়ি পুড়লে এই টাকার কথা ভেবে লাভ আছে? অল্প কিছু টাকা, ওইটা আবার রেখে দিলেন বইয়ের মধ্যেই। জিনিসপত্র দেখলেন, হাতালেন। কী করবেন তখন? অথচ একটা হিড়িক উঠলেই এই বাড়ি যে পুড়া হবে তা নিশ্চিত! কী করার আছে একজনের এই সময়ে? উনার পরিচিত যে কয়জন আছে তারা সাথে আসলেন। কিন্তু তাদের চোখ মুখও শুকিয়ে গেছে। সাহস দেওয়ার সাহসও নাই কারও। এর মধ্যে উনার বাবা বাসায় আসলেন। তিনি তার বাবাকে বললেন, তুমি ওদের সাথে চলে যাইতা? উনার বাবা বললেন, না, আমি বাড়িতেই থাকব, যদি আগুন দেয় তাইলে এইখানেই মরমু! বলে কোরান শরিফ নিয়ে পড়তে লাগলেন! টানা ছয় সাতদিন তাদের এমন করেই গেছে। ঘুম নাই, রাতের পর রাত জেগে জেগে পাহারা দিয়ে পার করেছেন তারা। অথচ এরা রাজনৈতিক পরিবারের কেউ না। শহরের মধ্যে অর্থ সম্পদ আছে, সচ্ছল একটা পরিবার। এবং এইটাই বড় অপরাধ! ... ...

চির চেনা প্যারিসের অন্য রূপ মনে রেখে দেবো। ভোরের আলোয় আইফেল টাওয়ারের সাময়িক স্টেডিয়াম ঘিরে ৩৫ কিলো মিটার পথ চলার প্রতিযোগিতা – রেলিঙের পাশে সারা পৃথিবীর মানুষের মুখ! এতো রকমের এতো রঙের যে পতাকা আছে ! মায়ের কোলে বসে স্প্যানিশ পতাকা হাতে শিশু, জানলা দিয়ে বিশাল ফরাসি পতাকা দোলাচ্ছেন এক মহিলা, সবার শেষে যে স্লোভাক চলা শেষ করলেন তাঁকে সম্বর্ধনা জানালেন হাজার মানুষ। স্টেডিয়ামের ভেতরে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে গলা মিলিয়ে সমবেত জনতা গাইছেন- লা মারসেইস, অকস্মাৎ অজস্র আইরিশ কণ্ঠে বাজে ওরান না ভিঅন – সৈনিকের গান, ও কানাডা, আইনিগকাইট উনড রেখট উনড ফ্রাইহাইট, অ্যাডভানস অস্ট্রেলিয়া ফেয়ার ! হার বা জিত যাই হোক না কেন, আপন পতাকা গায়ে জড়িয়ে চলে নানান দেশের মানুষের মিছিল। পথে শুনি সারা ইউরোপের, বাকি পৃথিবীর চেনা অচেনা ভাষা। এই প্যারিস আজ আমাদের। ... ...

অরাজকতা সীমা অতিক্রম করে ফেলছে। শুরুতে আমিও লিখেছিলাম সরকার গঠন করে ফেলল ছাত্রদের তো ডাকও দিল না! এইটা সম্ভবত এরা খুব করে খেয়াল করেছে। ফলাফল এখন ওরাই দেশ চালাবে বলে ঠিক করেছে। ছাত্ররা রাজু ভাস্কর্যের সামনে আগুন ঝরা বক্তব্য দিয়ে উপদেষ্টাদের মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করে ফেলছে, মানে তাদের কথায় পরিবর্তন হচ্ছে! ইতিহাস, সংস্কৃতি নিয়ে যা ইচ্ছা তা তো বলছেই, কেউ তো চ্যালেঞ্জ করছে না তাদের বক্তব্যকে! সর্বশেষ যা হল, ইন্টারমিডিয়েট পরিক্ষার্থীদের এক দল ছাত্র সচিবালয় মিছিল করে গেল। হুড়মুড় করে ঢুকে গেল সচিবালয়ে, সোজা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এক প্রকার গান পয়েন্টের মতো করে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে আসল! মানে একবার ভাবুন, ছাত্ররা চাচ্ছে পরীক্ষা দিব না, দিবেই না! এইটাই মানতে হবে। মব কালচার রীতিমত! টিভিতে একটা মেয়ে প্রায় কান্না করে দিচ্ছে পরীক্ষা হবে না শুনে। ও বলছে ওর মতো অনেকেরই স্বপ্ন ছিল মাধ্যমিকের পরে বাহিরের কোন ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার। এই ফলাফল তো কোন দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই মানবে না। তাদের স্বপ্ন তো শেষ। সামনেও তাদেরকে এই ফলাফলের জন্য ভুগতে হবে। এই যে তার অত্যন্ত যৌক্তিক একটা কথা, এইটা কেউ শোনার নাই। মহামান্যরা ছাত্রদের ভয়ে তারা যা বলছে তাই করছে। কেউ যুক্তি দেখাচ্ছে অনেক পরীক্ষার্থী হাসপাতালে আছে এখনও, তাদের কথা ভেবে হলেও এইটা নিয়ে আর তর্ক করার দরকার নাই! সব হাস্যকর কথা না? আরে কয়জন ছাত্র হাসপাতালে? কয় হাজার? তাদের জন্য আলাদা করে একটা ব্যবস্থা করা গেল না? লক্ষ লক্ষ ছাত্রদের এই বিপদে ফেলার মানে কী? ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ লাখ ২৮ হাজার ২৮১, এদের সবাইকে কেন আমি গড়ের বিপদে ফেলব? সারা জীবনের কান্না হয়ে থাকবে না এই ফলাফল? কে বলবে এই কথা? ... ...

দেশের জনগণের কিন্তু যথারীতি এগুলা নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা নাই। তারা বরাবরের মতোই আজগুবি সব গাল গপ্প নিয়ে ব্যস্ত আছে। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফাঁসির আদেশ থাকার পরেও ফাঁসি দিয়ে মারেন নাই, তিনি নিজেই জেলে ঢুকে বুকে উপরে পা দিয়ে গলায় কুরবানির চাকু দিয়ে জবাই করছে! এইটাও খাচ্ছে মানুষ! বিডিআর বিদ্রোহের সব দোষ শেখ হাসিনাকে দিয়ে শাস্তি চাচ্ছে কেউ কেউ। কেউ ব্যস্ত জাফর ইকবালের বই পুড়ানর কর্মসূচি নিয়ে। সারজিস নামের এক সমন্বয়ক সাংবাদিকদের সামনে বলেছে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে শুধু মাত্র অল্প কয়েকজন সেনা অফিসারের বিদ্রোহের কারণে এমন ঘটনা ঘটেনি। জনগণও এই হত্যাকাণ্ডের সমর্থক ছিল। সেদিনও স্বৈরাচারের পতন হয়েছিল। এদিকে গতকাল ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের অফিসে হামলা হয়েছে। এদের পত্রিকা হচ্ছে কালের কন্ঠ, বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর। কেন হামলা হচ্ছে? কে হামলা করছে? জবাব নাই। ... ...