
আমেরিকাতে থাকার সময় কয়েকবার বাইবেল স্টাডি গ্রুপের মেম্বারদের সাথে দেখা হয়েছিল। তারই একখান এনকাউন্টারের গপ্পো ... ...

১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম উন্মুক্ত নির্বাচনে নেলসন ম্যানডেলার অধিনায়কত্বে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায় কিন্তু সংবিধান সংশোধনের জন্য জরুরি দুই তৃতীয়াংশ নয়। তাই গঠিত হয়েছিল গভর্নমেন্ট অফ ন্যাশনাল ইউনিটি, যার আফ্রিকানার নেতা দে ক্লেরক এবার সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিরোধী দলে বসার সিদ্ধান্ত নিলেন ইচ্ছের বিরুদ্ধে রাজপাট কালো মানুষদের হাতে তুলে দিয়েছেন কিন্তু বাইরে থেকে কাঠি দেবার সুযোগ ছাড়বেন কেন ?এই মহা অনিশ্চয়তার ভেতরেই আমাদের কাজ - তবে সব সময় আশা করেছি খদ্দেরের কাছ থেকে তার আদেশপত্র পাওয়া আর সেই প্রতিশ্রুত টাকা তাঁকে পৌঁছে দেওয়া অবধি বাজারটা, দুনিয়াটা যেন ঠিকঠাক চলে প্রভু ! আচানক কোথাও যেন লঙ্কাকাণ্ড না হয়, লগ্নিকারক যেন সেই বাহানায় হাত গুটিয়ে না ফেলে ! আমাদের ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন হলো ডিল চলাকালীন ওই বাজারি টালমাটাল ( মারকেট আপহিভাল )- যেটা ব্যাঙ্কের বিদেশি মুদ্রার কারবারিদের ( ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রেডার ) কাছে একান্ত কাম্য। তাঁদের দৈনন্দিন প্রার্থনা হলো -এলোমেলো করে দে মা লুটে পুটে খাই। বাজারের স্থিতাবস্থায় নাফা কম, অনিশ্চয়তায় লোকসানের আশঙ্কা থাকে গণ্ডার মারার প্রলোভন বিশাল। আমাদের কি হবে ? পালাবার পথ আছে ? আমাকে একদা এক শুভানুধ্যায়ী বলেছিলেন যদি কখনো দেখো একজন গুলিভরা বন্দুক তার মাথায় ঠেকিয়ে বসে আছে, তাকে সাহায্য করার কোন প্রয়োজন নেই, ট্রিগারটা সে নিজেই টিপতে পারবে। ... ...

দুই বছর বয়স থেকে প্রতিবন্ধকতার ধাবা, তবুও যতটুকু পারা যায় এই ভেবে লড়াই ছাড়ে না। দেখতে দেখতে কৈশর পেরিয়ে যৌবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বড় সাধ ছিল উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেে গাঁয়ের কলেজ ছেড়ে কলকাতায় নামী যাবে পড়াশোনা করতে, আসলে হৃদয়ে এগিয়ে যাওয়ার চরম নেশা, তখনও বুঝে উঠতে পারে না শুধু জীবনে নয়, প্রতিবন্ধকতা সর্বত্র ও সর্বদা বিরাজমান। মুক্তির রাস্তা খুঁজে বের করার আগেই একটা স্মৃতিমেদুর সকালের অভিজ্ঞতা। ... ...

অবশ্য ওহেন কাব্যিক উপমা তখন সুমনের মাথায় আসেনি। সেসব এসেছে পরে - স্বপ্ন লজ্জাহীন, সবিনয় নিবেদন বা বাংরিপোসির দু রাত্তির জাতীয় মুচমুচে উপন্যাস পড়ে। বছর দুয়েক পরের কথা, কেতকীর সাথে সুমনের আলাপ তখন কেতকীদের বাড়ির ছাদে নিয়মিত সান্ধ্যআড্ডার সুবাদে জমে ক্ষীর। সুমন গেছে হায়দ্রাবাদ বেড়াতে। সালারজং মিউজিয়ামে Awakening of Galatea ছবির সামনে অভিভূত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে সুমন। এক অদ্ভুত ভালো লাগার আবেশে ছেয়ে যায় সুমনের মন। ব্রিটিশ চিত্রকর হার্বাট গুস্তভ শ্মালজ অঙ্কিত ১৯০৭ সালের সেই অয়েল অন ক্যানভাসের প্রতিলিপির অভিঘাত উদ্দাম উন্মাদনাময় নয়, বরং আচ্ছন্ন করা এক শিরশিরে মাদকতায় যেন অবশ হয়ে যায় সত্তা। অনন্য সুন্দর সেই সৃষ্টি! দু বছর আগে সেই সন্ধ্যায় চাঁদনী রাতে সুশ্রী নদীর খোয়াইয়ের যে অস্পষ্ট খোয়াব ভাবনায় উঁকি দিয়েছিল - তার স্বরূপ যেন তখন চোখের সামনে উদ্ভাসিত। ... ...

মনে পড়ে ... ...

হাংরি আন্দোলন ... ...

হারানো প্রযুক্তি ... ...

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ? তাঁকে দেখাবো আমার কাঁচা প্রেমের কবিতা ? যার মাত্র সতেরো বছর বয়েসে লেখা কবিতা ‘ একটি চিঠি ‘ সাগরময় ঘোষ দেশ পত্রিকায় ছেপেছিলেন ? যিনি লিখেছেন, ‘ আমার যৌবনে তুমি স্পর্ধা এনে দিলে / তোমার দুচোখে তবু ভীরুতার হিম’। এই তো সেদিন চৌঠা এপ্রিল, শুক্রবার ওভারটুন হলে কৃত্তিবাসের সভায় যাকে প্রথম চাক্ষুষ করে এসেছি! তেত্রিশ বছরের দুঃখ উজাড় করে বলে গেলেন মাঝি নাদের আলী, আগমনী গাওয়া বোস্টুমি তাদের কথা রাখে নি। সুনীলদার সামনে বসে এই প্রথম তাঁর আবৃত্তি শোনা। তারপরে কত পূর্ণিমা অমাবস্যা কেটে গেলো কিন্তু সেদিন শোনা ‘ কেউ কথা রাখে নি ‘ মনে থেকে গেছে সারা জীবন। কোন কবি পারেন সে গীতি শোনাতে। তার রেশটুকু আজও থেকে গেছে। হাতের কাছে বইটা পেয়েও সোনালি দুঃখ আর পড়িনি। ত্রিস্তান ইসোলদে নামক হলিউডি ছবিটি দেখা দেয় বছর পনেরো আগে, দেখি নি। এক আশ্বিনের বিকেলে বীরভূমের গ্রামের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের মুখোমুখি বসে দু চোখ ভিজিয়ে দেওয়া পাওয়া ও হারানো ভালোবাসার যে রাগিণী শুনেছিলাম সেটি বাজে মাত্র একবার। ... ...

আমার উড়াল ... ...

“ ঘোড়ার পেছনে কখনও নিজের টাকা নিয়ে ছুটো না। ব্যাঙ্কারদের সেটা কখনও করা উচিত নয়। কিন্তু মনে রেখো - ঘোড়া হলো ব্যাঙ্কারদের বিজনেস পার্টনার। লোকে আমাদের কাছ থেকে ধার নিয়ে ঘোড়ার পেছনে পয়সা লাগাবে। সে ঘোড়া জিতলে লাভের টাকা আবার আমাদেরই সেভিংস ব্যাঙ্কে জমা দেবে “ আমি বললাম, “ আর যদি হারে ?” মুখে সেই অনবদ্য হাসি “ তখন তারা আমাদের পায়ে পড়বে আরও টাকা ধার নেওয়ার জন্যে ! ঘোড়া জিতলে আমাদের ব্যাঙ্কে পয়সা জমা করবে, হারলে ধার নেবে! “ ... ...

কলেজ স্ট্রিট এলাকা নিয়ে গত সাড়ে চার দশকের অবলোকন ... ...

১৯৯৩ সালের কথা - জ্যোতিবাবু যাচ্ছেন কিউবা, প্রথমে যাবেন কিউবার রাজধানী হাভানা, সেখানে ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে দেখা সাক্ষাত করে তারপর কিউবা একটু ঘুরে দেখবেন। সিপিআইএম পার্টি থেকে জ্যোতিবাবুর সঙ্গী হয়েছেন সীতারাম ইয়েচুরী। যাওয়ার কয়েকদিন আগে জ্যোতিবাবু ফোন লাগালেন ইয়েচুরী-কে। - সীতা, তা তুমি কি নিয়ে যাবে ভাবছো কাস্ত্রো-র জন্য? এত দূর থেকে যাচ্ছি, খালি হাতে তো আর যাওয়া যায় না! - জ্যোতিদা আমি তো এখনো তেমন ডিটেলস কিছু ভাবিনি! তা আপনি কি নিয়ে যাচ্ছেন? জ্যোতিবাবু ফোনের এদিকে তাঁর সেই বিখ্যাত না ফুটে বেরুনো হাসিটা হেসে নিলেন – কারণ তিনি জানেন যে এই ব্যাপারে তিনি এগিয়ে আছেন ইয়েচুরীর থেকে। তাঁর ভাবার তত কিছু নেই – কারণ কুড়ি বছর আগে কাস্ত্রো কলকাতা এলে বোঝাই গিয়েছিল তিনি কি জিনিস ভালোবাসেন। তাই জ্যোতি বসু বললেন - - আমার দিক থেকে তেমন ভাবার কিছু নেই, ও সব ঠিক আছে। - একটু খুলেই বলুন না। - অত কথা এখন ফোনে বলার সময় নেই, এয়ারপোর্টে দেখা হলে বলব সেই গল্প না হয়। - ঠিক আছে, তাহলে আমি ভেবে দেখি কি নেওয়া যায় - বেশী দামী জিনিস নিও না যেন! একটা কথা মনে রেখো সীতা, আমরা কমিউনিষ্ট পার্টি – দামী জিনিস আমাদের ইমেজের সাথে যাবে না ... ...

কলেজ স্ট্রিট এলাকা নিয়ে সাড়ে চার দশকের অবলোকন ... ...

কতো গল্প যে মগজে ঘুরঘুর করে ... ...

বাবা ... ...

কলেজ স্ট্রিট এলাকা নিয়ে গত সাড়ে চার দশকের অবলোকন ... ...

লাঞ্চ নাগাদ ২৯৫/৫, সেমুর নার্স আউট। সাত নম্বরে ব্যাট করতে এলেন গারফিল্ড সেন্ট অবারন সোবারস। জীবনে সেই একদিনই তাঁর ব্যাটিং চাক্ষুষ করেছি। একি লাবণ্য প্রাণে ! অফের বল টেনে স্বচ্ছন্দে লেগে ঘোরালেন, একি লাবণ্য প্রাণে ! অফের বল টেনে স্বচ্ছন্দে লেগে ঘোরালেন, ব্যাটিং নয় এ যেন একটা উচ্চকিত হাসি, দূরে গঙ্গায় জাহাজের ভেঁপু বাজলো তিনি খেলে গেলেন এই ছায়া আলোকের আকুল কল্পনে, এই শীত মধ্যাহ্নের মর্মরিত ইডেনে ! এগারোটি বাউনডারি সহ সোয়া ঘণ্টায় ৭০ রান ! পরের দিন নতুন কায়ায় আবির্ভূত - কখনো স্পিন কখনো মিডিয়াম পেস। একটা শিখতে জীবন কেটে যায় আর ইনি পারেন না এমন কিছু নেই! একই অঙ্গে এতো রূপ ?‘ ... ...


ছোট করে চুল কাটলে আমাকে একদমই বাঙালী বলে চেনা যায় না সেটা আবার আজ টের পেলাম। আর এমনিতে আমাকে দেখে ঠিক কি মনে হয় সেটারও রিমাইন্ডার এসে গেল আজ আমাদের হাউসিং কমপ্লেক্সে ওনম উপলক্ষ্যে মেলা টাইপের বসেছে - নানা ধরণের নারকেল তেল বিক্রী হচ্ছে খুব। কি খাওয়া সেফ হবে সেই ভাবতে ভাবতে দেখতে পেলাম এক দোকানে লস্যি পাওয়া যাচ্ছে। একবোতল ম্যাঙ্গো আর একবোতল স্ট্রবেরী কিনে বগলদাবা করে ফিরছিলাম, সেই দোকানী ভালোবেসে কাগজের ঠোঙায় প্যাক করে দিল সেই প্যাকিং নিয়ে আমি লিফটে ঢুকে দেখি এক দম্পতি। লোকটি আমাকে আপাদমস্তক দেখে হিন্দীতে বলল - - অ্যাই সুইগি ভাই, তুমি এই লিফটে কেন? ভেন্ডরদের জন্য যে লিফট আছে সেটায় যাও নি কেন? - আমি তো সুইগি নয়! - তাহলে জ্যমেটো হবে! তোমাদের তো কোম্পানী লেখা টিশার্ট থাকে। সেটা পর নি কেন? ... ...

যে কোন নাটকের গোড়ায় পাত্র পাত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় , তারপরে ঘটনার ঘন ঘটা - রাইজিং অ্যাকশন! সেটির পরিণতি ক্লাইম্যাক্সে ; অতঃপর ফলিং অ্যাকশন । বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা থেকে স্বচ্ছন্দে বলতে পারি নাট্য শাস্ত্রীদের এই বিন্যাসের সঙ্গে ফুটবল খেলাটা হুবহু মিলে যায় । তফাত এই যে সবটাই মঞ্চে বা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় না । পাত্রদের নাম ধাম , প্রতি সপ্তাহের বেতন কত তা আমরা জানি । তাদের ভূমিকা এই নাটিকার ক্লাইম্যাক্স পর্বে , মানে মাঠের ভেতরে। খেলা শুরুর আগে মঞ্চের চারপাশে যা চলতে থাকে সেটা রাইজিং অ্যাকশন, সেটা আমার কাছে আসল খেলার চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়! ম্যাচের কয়েকদিন আগে থেকেই শহরের পথঘাট ভরে যায় - নানান দেশের পতাকা, মুখে রং, মাথায় বিচিত্র টুপি , ক্লাউনের সাজ সজ্জা , ফুটপাথে ম্যাপ ও ছবি আঁকা, নানান গান ( একবার লন্সে ইউরো ২০১৬ তে ক্রোয়েশিয়া আর পর্তুগালের ফ্যানরা রাস্তার ওপরে লোক সঙ্গীতের চাপান উতর বসিয়ে দিয়েছিলেন – এ যতো গায় অন্যে গায় তার শত গুণ। কারো ভাষা অবিশ্যি কেউ বোঝে না )। স্লোগানে স্লোগানে অলি গলি গুলজার। সারা ইউরোপে উজ্জ্বল গ্রীষ্মের দিনে অজস্র হাসি খুশি মানুষের মেলা বসে যায় – ফুটবল শুধু একটা বাহানা! ... ...