
আরেকবার রিলকে ... ...

পয়সা চাই। পাশের বাড়ির দাদা শ্রমজীবী ইনডিস্ট্রিয়াল কো অপারেটিভ সোসাইটির কর্মচারী। ওখানে হ্যান্ড ওয়াশ, স্যানিটাইজার, ফিনাইল, ডিটারজেন্ট, সাবান এমনকী আচার, বড়ি সব মেলে।ওখানে একটা কাজ চাই। মানি ফ্যাক্ট্রিতে কাজ করতে পারে, সেলসে কাজ করতে পারে, হোম ডেলিভারির কাজও করতে পারে। যে করে হোক কাজ চাই। হাতে টাকা থাকা দরকার। যে টাকার জোরে তার শাশুড়ি কাউকে তোয়াক্কা করে না। ডাল ভাতের টাকা ব্যাঙ্কে মজুত আছে। ... ...

মজার গল্প শুনেন। তখন নিয়ম করে ইফতার খেতে যাই। ভলেন্টারি মসজিদে গেছি ইফতার খেতে। এইটা একটু দূরের একটা মসজিদ। একটু নিরিবিলি। বাস থেকে নেমে একটু হাঁটলেই মসজিদ। একটু বলতে এক দেড়শ মিটার হবে হয়ত। আমার সাথে আরও দুইজন। এই সময় বাঘের মত একটা কুকুর কই থেকে জানি এসে হাজির। আমি ঠিক কুকুরপ্রেমি টাইপ মানুষ না। দেশি কুকুরকে মাঝে মধ্যে ঘাড় গলা হাতায় দিছি, ওরা আরামে শুয়ে পড়ছে। কুকুর প্রেম বলতে আমার এই পর্যন্তই। আর যা আছে খিঁচে দৌড় দেওয়ার স্মৃতি। আমি আগে পিছনে একটা কিংবা এক পাল এমন গল্প বহু আছে। কিংবা এক পাল আমাকে ঘিরে ধরেছে আমি কানের হেডফোনের সাউন্ড পুরো বাড়িয়ে দিয়ে গুটি গুটি পায়ে ওদেরকে পার হচ্ছি, আমার যুক্তি হচ্ছে ওদের চিৎকার না শুনলে আমি ভয় পাব না আর ভয় না পেলে আমি দৌড় দিব না, আর আমি দৌড় না দিলে ওরাও চিৎকার করেই থেমে যাবে। রাত বাজে সাড়ে তিনটা না চারটা, আমার বুদ্ধি কাজে লাগছিল, আমি কোন বিপদ ছাড়াই পার হতে পেরেছিলাম। ... ...

গত শতাব্দীর প্রথম দশকে ১৯০৯ সালে আমেরিকা আসেন। এর ষোলো বছর আগে বিবেকানন্দ শিকাগো এসেছেন, এর তিন বছর পরে রবীন্দ্রনাথের ইলিনয়-তে আরবানা-শ্যাম্পেন এ প্রথমবার আমেরিকা আসবেন - তখনও তিনি নোবেল প্রাইজ পান নি, তেমন নামডাকও হয় নি। তারও দুবছর বাদে শুরু হবে ইউরোপে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। এমন এক সময়ে, আজ থেকে প্রায় ১০৮ বছর আগে মেদিনীপুরের তমলুকের উনিশ বছরের ছেলে কিভাবে আনডকুমেন্টেড লেবার হিসেবে আমেরিকা এলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় পড়াশোনা করতে শুরু করলেন, ইংরেজিতে লেখালেখি শুরু করলেন, ইস্ট-কোস্টে বাসা বাঁধলেন, আমেরিকার শ্রেষ্ঠ শিশুসাহিত্যের পুরস্কার পেলেন, আগাগোড়া লেখালেখিকে সম্বল করে জীবিকা চালিয়ে গেলেন এবং ১৯৩৬ সালে আত্মহত্যা করে মারা গেলেন - সেই কাহিনী ... ...

কিরণজিৎ কাউর। টিকরি প্রটেস্ট সাইটের উজ্জ্বল মুখ। জসবীর কাউর।চুয়াত্তর বছর বয়স। গাজিপুর থেকে এসেছেন। বলছেন, আমরা মাঠে কাজ করি। গুরমিত, অমরদীপ, সুরজিৎ, জসবন্ত। সুঠাম নারী সব। রোদে পোড়া ত্বক। এই চেহারার একটা খেটে খাওয়া আভিজাত্য থাকে। এই মেয়েরা কৃষক হিসেবে তাঁদের পরিচিতি চান। বিন্দু আমিনি লড়ছেন দলিত মেয়েদের অধিকার নিয়ে। তিনিও এসেছেন। হরশরণ কাউর আইআইটি থেকে পাশ করা এনজিনিয়র। তিনি ছুটে এসেছেন দুবাই থেকে। ... ...



বহুকাল পর রিলকের সঙ্গ ... ...

তামাম বাংলা-বাঙালি তথা ভারতীয় উপমহাদেশের মনের জমিতে ক্রিকেট খেলাটিকে যিনি প্রথম রোপণ করেছিলেন সেই সারদারঞ্জন রায়ের আজ ১৬৫তম জন্মদিন। আজ সারাদিন কাজী নজরুলের জন্মতিথিতে তো সব্বাই তাঁকে স্মরণ করেছেন নানা ভাবে। আমি বরং "ভারতীয় ক্রিকেটের W. G GRACE". তথা ক্রিকেটার-অধ্যাপক-সংগঠক সারদারঞ্জন রায়কে আজ স্মরণ করি। 'ক্রিকেটপাগল' বাঙালিকে যিনি 'পাগল' হতে শিখিয়েছিলেন এই আই পি এলের ভরা মরশুমে বরং বিস্মৃতির ধুলোয় আবছা হয়ে যাওয়া সেই সারদারঞ্জনের কৃতি জীবন আর অনন্য উদ্যোগগুলিকে আরেকবার ফিরে দেখি আজ। ... ...

আই মিন দি এনটায়ার প্রসেস। হাউ দ্য ভাইরাস ওয়ার্কস। নাক, মুখ দিয়ে ঢুকে পড়ে। শরীর কিছু বোঝে না। সেল গুলোকে জড়িয়ে ধরে। তারপর সেগুলো ডেস্ট্রয় হতে থাকে। লাইক লাভ। সো ডেসট্রাকটিভ। অ্যান্ড স্টিল ইউ ক্যাননট গেট আউট অব ইট। অ্যান্ড ইউ ডোন্নো হাউ ইট এন্টারস ইউ। প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে। টেগোর সেইড। দ্য ট্র্যাপ অব লাভ। তাই না স্যর? ... ...

জীবনের নানা দিক নানা পথ ... ...

টুপুর একটু আশ্চর্য হল। এরকম জাজমেন্টাল কথা সে ঈশানের কাছ থেকে আশা করে না। কেমন একটা ডমিনেটিং টোন। তবে কী সব পুরুষের মধ্যেই একটা ডমিনেশনের টেনডেন্সি থাকে? অধিকারবোধ? টুপুর জানে এই অধিকারবোধ প্রেম নয়। আগে হলে বা রক্তিমের সঙ্গে হলে গালিগালাজ হয়ে যেত একচোট। ইদানীং ও অনেক শান্ত। ঝট করে রিঅ্যাক্ট করে না। অন্ধকারের অনেক সুবিধে। ভ্রূ কুঁচকানো দেখা যায় না। ... ...

জুনের মাঝামাঝি ভারভারা রাও বেইলের জন্য আবেদন করেছিলেন। হাইলি ভালনারেবল টু কোভিড নাইন্টিন। সরকারী আদেশনামা আছে। বয়স্ক জেলবন্দি, যাঁদের কোমর্বিডিটি আছে, তাঁদের রিলিজ করা হোক। চোদ্দজন এমপি সমর্থন করেছন। চিঠি লিখেছেন উদ্ধব ঠেকরেকে। প্রাক্তন চিফ ইলেকশন কমিশনাররা সমর্থন জানিয়েছেন। ষোলোই জুলাই থেকে কবি মাথায় আঘাত নিয়ে হাসপাতালে। কোভিড পজিটিভ। ... ...

কলেজ স্ট্রিট এলাকা নিয়ে সাড়ে চার দশকের অবলোকন ... ...

আমার রোমানিয়া চলে আসায় জ্যোতি একটু ফাপরে পড়েছে। তবে জ্যোতি তো জ্যোতি, ও নিজেই একশ। আমি আসার আগে পেজের জন্য একটা এজেন্সি ঠিক করে দিয়েছে। আপাতত পেজ নিয়ে আমাদের না ভাবলেও চলছে। আমার আর জ্যোতির যাত্রা বিরতি মনে হলেও আসলে আমরা এক সাথেই চলছি। ... ...

ঝড়ে ভেঙে পড়া মহীরূহর মতই - নেমে আসে কোন কোন মৃত্যু... ... ...

সেদিন আমেরিকান রেষ্টুরান্টে এই প্লেটের কোণে ঝিনুকের মাংস আর ভাত দেখে মনটা খুশী হয়ে গেল। দেশের কেটারিং রীতি ভুলে গেলেও এরা মনে রেখেছে! ভাবছি পুরো প্লেটটাই খালি, এবার এখানে আসল খাবার আসবে। ভাতের আকার দেখে আমি ধ্বন্দে পড়ে গেলাম - এ কি চাল? রত্না বা বাঁশকাঠিও তো এমন হয় না! তাহলে কি এগুলো ছোট কাঁকুড়ের বীচি? যে কাঁকুড় বড় হতে পারে না, তাদের বীজ এমনই হয়। টেনশন দূর করতে দাঁতে কেটে দেখলাম সেই চাল - আরে বীজ নয় তো! এ চালই বটে, কিন্তু অর্ধসিদ্ধ প্লেট নিয়ে বসে আছি, তখনো সন্দেহ হয় নি। খেয়াল হল প্লেটের বাকি খালি জায়গায় আঁকাবুকি কাটা কেন?? ... ...

হল্যান্ড ওরফে নেদারল্যান্ডস এমন একটা দেশ যেখানে আবহাওয়া কখন ভালো হবে বা কখন চনমনে রোদ উঠবে, সেকথা ভেবে বসে থাকলে কোথাও ঘোরাই যাবে না। মানে রোদ-ঝলমল সকাল দেখে বেরিয়েও দশ মিনিটের মধ্যে বৃষ্টি এসে আপনাকে ভিজিয়ে দিতে পারে। হাওয়া তো আছেই সে-কথা আর আলাদা করে বলার নয়, তাপমাত্রা সব সময়েই পাঁচ ডিগ্রী কমিয়ে ধরতে হবে। প্রথম শনিবারটা সকালে উঠে ভেবে রাখলাম শহরের বাইরে কোথাও হাওয়া কল বা ট্র্যাডিশনাল উইন্ডমিল দেখতে যাব। সেইমত, চটপট প্রাতঃরাশ সেরে বেরিয়ে পড়লাম। এয়ারপোর্ট থেকে স্প্রিন্টার ধরে যাব স্লটারডিক, তারপর সেখান থেকে আবার অন্য এক স্প্রিন্টারে যাব 'জানডাইক - জ্যানসে স্ক্যানস' - হ্যাঁ স্টেশনের নাম ঠিক সেটাই। পুরো যাত্রাটাই একটা রিটার্ন টিকিটে সারা হয়ে যায়। জ্যানসে স্ক্যানস আদতে একটি গ্রামের গন্ধ-মাখা মফঃস্বল (কান্ট্রি-সাইড বলা চলে)। ... ...

যাঁরা নোম চমস্কির নাম জানেন, এবং বিশ্বশ্রেষ্ঠ এক ভাষাতাত্ত্বিক ছাড়াও তিনি যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এক মহাপণ্ডিত -- জানেন রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি ইত্যাদি সমস্ত ক্ষেত্রে তাঁর অবাধ ও অগাধ বিচরণের কথা, তাঁরা আমার করা এই ইন্টারভিউগুলো থেকে হয়তো অনেক রসদ সংগ্রহ করতে পারবেন। ... ...

সুমন নাচতে নাচতে ওর সামনে এসে দাঁড়াল। হাত প্রসারিত। ইউ টিউবে গান বাজছে। একটা ট্র্যাডিশনাল পাঞ্জাবী ধুন। দেবরূপ নাচে না। কখনো সখনো অদিতি জোর করতো। তখন যা খুশি তাই। ওর কান ঝাঁঝাঁ করছে। সারাদিন সিংঘুতে কেটেছে আজ। একেবারে অন্য জগত। ভালো ছিল ওখানে। একটা যেন ট্র্যান্সফর্মেশন।মিলে মিশে যাচ্ছিল। একটা আন্দোলনের এটা পজিটিভ দিক।সম্মিলিত শক্তি দেয়। এখন ওর সব শক্তি নিঃশেষ। ... ...