

সমস্যাটা হল ইন্টারমিটেন্সির। সৌর বিদ্যুতের কথাই ধরুন। ভোরবেলা থেকে সন্ধ্যা বেলা পর্যন্ত সূর্যের আলো আছে বলে সোলার প্যানেলগুলি না হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হচ্ছে, কিন্তু রাত হয়ে গেলেই তারা কার্যত অকেজো। কিন্তু বিদ্যুতের চাহিদা তো রাত্রেবেলাও থাকছে...... ... ...

‘Wanderlust’ শব্দটা প্রথম শুনি ক্লাস সিক্স বা সেভেন-এ আগন্তুক সিনেমা থেকে। বলতে অসুবিধে নেই, তার সঠিক অর্থ (আক্ষরিক অর্থটুকু বাদ দিয়ে) বুঝতে অনেক সময় গেছে। হল্যান্ডে এসে ঠিক দুটি সপ্তাহান্ত পাচ্ছিলাম, তবে আপিসের কাজকর্ম বাদ দিয়ে বাকি সময়টুকু এক পল-ও নষ্ট করব না ঠিক করেছিলাম। অ্যানা ফ্র্যাঙ্কের বাড়ি ঘুরে আসার পর মনে হল, সব তো হল, নর্থ সী-কে তো একবার দেখা হলো না! তার উপর, হল্যান্ড দেশটা যে সমুদ্রতল থেকে সত্যিই অনেক নীচে তা-ই বা চাক্ষুষ হলো কই! হান্সের গল্প তো সেই ছোটোবেলায় কিশলয়ে পড়া, কিন্তু সেই সমুদ্রের তীরের উঁচু বাঁধই (এদেশে বলে ‘ডাইক’) বা দেখা হল কই! কাছাকাছি সমুদ্র দেখতে হলে আছে হল্যান্ডের রাজধানী দ্য হেগ (এখানে ডাচরা বলে ‘দেন হাগ’, নামটা শুনে কি মনে হয়, সে বিশ্লেষণে আর যাবো না), তারপর আপিসেও সহকর্মীরা বলল, রটারড্যাম-ও ঘুরে আসতে পারো। তো ম্যাপ ইত্যাদি দেখে যা বুঝলাম, একটু কষ্ট করলে দুটো শহর-ই একদিনে ঘুরে নেওয়া যায়। ... ...

একা থাকতে কিছুটা ভয়ই পাই আমি। আকাশপাতাল চিন্তা করতে একেবারে ভালবাসি না, তবু ফাঁকা ফ্ল্যাটে একা থাকলে সেসব কীভাবে যেন এসেই যায়। তাদের থেকে পালাতে চাইলেই আমি বাইকে উঠে বসে এক্সিলারেটর ঘোরাই। গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে গলিতে আসতে না আসতেই বুঝতে পারি আমি পালাতে সক্ষম। কারণ বাইক চালাতে চালাতে অন্য কোন চিন্তা মাথায় আসে না। আসা সম্ভব নয়। এলে, দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। ... ...

লাঞ্চ নাগাদ ২৯৫/৫, সেমুর নার্স আউট। সাত নম্বরে ব্যাট করতে এলেন গারফিল্ড সেন্ট অবারন সোবারস। জীবনে সেই একদিনই তাঁর ব্যাটিং চাক্ষুষ করেছি। একি লাবণ্য প্রাণে ! অফের বল টেনে স্বচ্ছন্দে লেগে ঘোরালেন, একি লাবণ্য প্রাণে ! অফের বল টেনে স্বচ্ছন্দে লেগে ঘোরালেন, ব্যাটিং নয় এ যেন একটা উচ্চকিত হাসি, দূরে গঙ্গায় জাহাজের ভেঁপু বাজলো তিনি খেলে গেলেন এই ছায়া আলোকের আকুল কল্পনে, এই শীত মধ্যাহ্নের মর্মরিত ইডেনে ! এগারোটি বাউনডারি সহ সোয়া ঘণ্টায় ৭০ রান ! পরের দিন নতুন কায়ায় আবির্ভূত - কখনো স্পিন কখনো মিডিয়াম পেস। একটা শিখতে জীবন কেটে যায় আর ইনি পারেন না এমন কিছু নেই! একই অঙ্গে এতো রূপ ?‘ ... ...

রেভনিউ মিনিস্টার। মিনিস্টার বটে বাবা! উনিশশো তিরিশের কলোনিয়াল পাঞ্জাবের পি এম সিকান্দর হায়াতের ক্যাবিনেটের মন্ত্রী। নাইটহুড পেয়েছিলেন ছোটুরাম। হো! জাঠের রক্ত! ছোটুরামের জমিন্দার লিগে হিন্দু, মুসলমান, খেরেস্তান সব ছিল। ফাজিল হোসেনের সঙ্গে যোগ ছিল। হো! কৃষক ঋণে সুদের ওপর সুদ চাপানো বন্ধ করেছিলেন ছোটুরাম। পাঞ্জাব ডেবটরস প্রোটেকশন অ্যাক্ট। আর পাঞ্জাব রিলিফ ইনভেবটেডনেস অ্যাক্ট। সুদখোরদের হাত থেকে বাঁচল কৃষক। আর বাঁচল জমির দখল পেয়ে। কিন্ত জল? পানি? হো! ... ...

দেহটা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিল পিঠের সিংহাসনটাতে, কিন্তু তেলের কাঁটার সাথে সঙ্গত করতেই কিনা, গাড়িটি হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল। সিগনাল বাতি নেই, তাও এই জ্যাম! ‘’রাস্তায় নামলেই পাব্লিকের নাটকের আল্লাদ উডে… পাংখা গজান আরম্ভ করে…’’, বিড়বিড় করতে থাকে মারুফ গায়ের ক্যাটক্যাটে হলদে গেঞ্জিটা দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে। গেঞ্জিটা বুক পর্যন্ত উঠাতেই বেরিয়ে পড়ে রোমশ শরীরটা, এক রত্তি মাংস বাড়তি নেই কোথাও, হাড্ডিগুলো গড়েপিটে উঠেছে সেখানে বাইশটি বছর ধরে, তেল-মসলার কারুকাজ ছাড়াই। কিন্তু এই শরীরটারই চাকায় চাকায় বেজে চলে রাজপ্রাসাদী তান, যখন এক মনে আল্লা-খোদা করে যেতে থাকে তার পিছনে দন্ডায়মান এক দল নিরীহ ও নিপীড়িত যান! সংগীতটা আরো সুমধুর হয়ে উঠে, যখন সে বড় রাস্তা ছেড়ে গলিতে ঢুকে পড়ে। তখন জায়গার অভাবে তার জ্যাকটাকে সাইড দিতে চেয়েও ব্যর্থ হয়ে মরাকান্না জুড়ে দেয় আগের থেকেও নিরীহ ও নিপীড়িত কিছু যান। মারুফ আপন মনে হেসে উঠে! এমন কোন প্রাণী আছে যে রাস্তার বুকে চড়ে বেড়াবে আর তাকে সমীহ করবে না? তাকে নিয়ে রাস্তার সবার দুশ্চিন্তা, অথচ কারো মুখে রা পর্যন্ত নেই! পুলিশের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, এমনকি মন্ত্রী- মিনিস্টারের গাড়িকে গুণতে চায় না পাব্লিক আজকাল! কিন্তু তাকে কেউ কিছু বলে না, গালাগালির তুবড়িও ছুটে আসে না। কি করবে, মানুষ যে ময়লা সহ্য করতে পারে না; টিয়ার গ্যাস, গুলি হজম হলেও ময়লা হজম হতে চায় না তাদের! বাসার পায়খানাটার মতই ঘেন্না একে তাদের! ... ...

এখানেই শেষ নয়। প্রচুর প্রাইভেট কোম্পানি আছে যেখানে কর্মীদের বসেরা 'বাপের চাকরে'র মতো করে ট্রিট করে। প্রচুর কোম্পানিতে লোকজনকে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলে। এটা বিশেষ করে ঘটে একজন জুনিয়র এমপ্লয়ির সাথে। একটি কল সেন্টারের কথা শুনেছিলাম যেখানে জুনিয়র বা সদ্য জয়েন করা কর্মীরা সময়মতো পৌঁছেও কোন এক রহস্যময় কারণে কিছুতেই যথাসময়ে লগইন করতে পারতেন না। ফলে, সিস্টেমে সর্বদাই তাদেরকে দেখানো হতো লেট হিসেবে। এইভাবে সারাদিন কাজ করেও তারা দিনের শেষে বাড়ি ফিরতেন অর্ধেক কাজের স্যালারি নিয়ে। ... ...

আগের বার পোস্ট গোলমাল হয়ে গিয়েছিল। আবার ট্রাই করলুম। ... ...

একেই মন স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে আছে, তারপরে যাচ্ছেতাই রকমের ঠান্ডা পড়েছে! রাত পৌনে এগারটা বাজে, বিছানায় বসে একটা চিঠি লিখছি, সেটাও লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে। বাইরে কনকনে হাওয়া ঝাপটা দিয়ে যাচ্ছে। “ইস্পাত শীতল” বলে একটা কথা বইতে পড়েছি, সেটা বোধ হয় এই রকমই কিছু। চেকভ লিখেছিলেন, “মন যখন খুশি থাকে তখন লোকে খেয়ালও করে না শীতকাল চলছে, না গ্রীষ্ম।” তা লিখুন, মহামানবরা অমন অনেক কিছু লিখে টিখে থাকেন, যেগুলোর কোটেশন ছাড়া অন্য কোনও ব্যবহার নেই সাধারণজনের কাছে (এই যেমন আমি দিলাম)। ... ...

নয়না নাকছাবি ঝলসিয়ে সায় দিল। কমন পিপলস হিস্ট্রি। দ্যাট ইজ ইম্পরট্যান্ট। সাধারণ মানুষের জীবন। কোনকালে কোন রাজাবাদশা তার তেমন খবর রেখেছে! দুল্লা ভাট্টি আকবরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। মুসলমান রাজপুত। আবদুল্লাহ ভাট্টি। সন অব পাঞ্জাব। পাঞ্জাবের রবিন হুড। ... ...

মালবিকা একটা শ্বাস আটকালেন। কলকাতা শহর এখন একটি বৃহৎ গ্রাম যেখানে সবরকমের কূটকাচালি অ্যাভেইলেবল। গ্র্যান্ড ফর্ম টু দ্য মিনেস্ট ফর্ম। রীণা যোশি বিয়ে করছে খুব শিগগিরই, এই খবরটা মালবিকার কানে এসেছে। যে বলেছে সে বেশ সাজিয়ে গুছিয়েই বলেছে, গয়নাগাটি পরিয়ে। মালবিকা অলংকার খুলে সার সত্যটি বুঝে নিয়েছেন। ত্রিদিবের সঙ্গে উদ্দাম ফূর্তির দিন শেষ। রীণা এবার সোশ্যাল সিকিউরিটি খুঁজছে। কাজেই ত্রিদিবের ঘর শূন্য। হাতের ও ঝোপের উভয় পাখিই অদৃশ্য। ... ...

কে এই ভক্ত? কিসে তাঁর ভক্তি? চিত্তটিই বা কার কাছে প্রণত? ... ...

দুল্লা ভাট্টি।সম্রাট আকবরের আমল।মধ্যপ্রাচ্যে হিন্দুদের মেয়েরা পাচার হয়ে যেত।আকবর বন্ধ করেছিলেন এই পাচারের সুন্দ্রি আর মুন্দ্রি দুটি বোন।পাচার হয়ে যাচ্ছিল তারা। আকবর উদ্ধার করেছিলেন তাদের। সেই বোনদের নিয়ে গান।সুর টুপ টুপ করে ঝরে পড়ছে শীতশস্যে। আমেলিয়া একটি শিশুর জননী হয়েছেন বটে, কিন্ত তাঁর মধ্যে থেকে এখনো মুছে যায়নি প্রায় কিশোরী চাঞ্চল্য, বিস্ময়বোধ।তদুপরি আদিগন্ত প্রেম। আর্মেনিয়ান সংস্কৃতিধারা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়েও তিনি ধর্মবোধে প্রোথিত, আবার বিবাহসম্পর্কে একটি অন্য ধর্ম, অন্য সংস্কৃতি! এত ব্যাপ্তি তাঁর মধ্যে দোলা দিয়ে যাচ্ছে ... ...

এক নতুন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মুখোমুখি কিছু কথা এখানে নিউ ইয়র্কে। ... ...

এই সেকেন্ড ওয়েভ নাকী বড় মারাত্মক। প্রথম ওয়েভের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। কে জানে! তাই কী শুকদেবের অমন শক্ত প্রাণ চলে গেল! কী হা হা করে উদার হাসি! স্বতঃস্ফূর্ত। প্রাণবন্ত। কৃষ্ণের মত কূট নয়। অথচ সখা। ... ...

উনাদের কাণ্ড দেখলাম। উনারা একটা বারের উল্টো দিকে বন্ধ দোকান আছে এমন একটা জায়গায় বসে পড়লেন। তারপরে অবাক হয়ে, হা করে অনেকটা বলা চলে সামনের চলমান সিনেমা দেখতে থাকলেন! আমি নতুন মানুষ, যা দেখি তাই আশ্চর্য লাগে, অবাক হয়ে দেখি শুধু। একটু পরে বোধ বুদ্ধি ফিরলে মনে হল আরে করতেছি কী আমি এখানে! অর্ধনগ্ন নারী নাচছে এই দৃশ্য কতক্ষণ দেখা যায়? উনারা আমাকে রেহাই দিলেন। বললেন, চল একটু ঘুরে আসি। চললাম। প্রচুর মানুষ, সব বারে একই দৃশ্য। কাস্টমার ধরার জন্য নানা ফন্দি। আমি দেখতে দেখতে হাঁটতে থাকলাম। উনারা এবার যা করলেন তা হচ্ছে গলির ভিতরে তস্য গলি খুঁজে বের করলেন। চিপা একটা গলি, ওই গলির দুই পাশে পানশালা, ভিড় প্রচুর। যেহেতু জায়গা কম ঠ্যালা ধাক্কা খাওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা আছে। তার মধ্যে দোকানদারদেরই বুদ্ধি না মানুষ নিজেই এই কাজ করছে জানি না, ওই অল্প জায়গায় বিকট শব্দে গান বাজিয়ে নাচছে! কোন রকমে ঠেলে ঠুলে পার হলাম গলিটা। ওই পাশে উনারা অপেক্ষা করছেন। যা বললেন তা শুনে আমি মনে মনে কইলামও হরি, রক্ষা কর আমারে! ... ...


হয়তো ২০৫০ এর আগেই বিশ্বজুড়ে ক্লাইমেট ক্রাইসিস এমন একটা চেহারা নেবে যে গোটা পৃথিবী আর সবকিছু লাটে তুলে এই বিপদ কি করে সামলানো যায় সেই দিকে ফোকাস করতে বাধ্য হবে! অর্থাৎ, Covid প্যান্ডেমিকের সময় যেমন সারা পৃথিবীর ডাক্তার, বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, পুলিশ এবং আরো অনেকে এক হয়ে গিয়েছিলেন পরিস্থিতি সামাল দিতে, তেমনই আর একটা অবস্থা হয়তো আমরা আমাদের জীবদ্দশায় দেখতে চলেছি এই বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে। তবে ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই সস্তা হবেনা। ... ...

শুধু ভয় দেখানো খবর আছে। সেন্টিমেন্ট আছে। কিন্তু প্রশ্ন নেই, চ্যালেঞ্জ নেই। কোনো দায় স্বীকার নেই। ... ...