
হাঁটতে হাঁটতে আসছিলাম, হঠাৎ দেখি নীল চোখ, সোনালী চুলের এক সাহেব ফুটপাথের দোকানে বসে চা বেচছে। গায়ে ময়লা হয়ে যাওয়া প্যান্ট-শার্ট, কালো জুতো আর ছেঁড়াখোঁড়া জ্যাকেট। হাতে সময় ছিল, এক গ্লাস চা চাইলাম, হাত বাড়িয়ে এগিয়ে দিল সে। দেখলাম সাহেবের মুখের ফর্সা রঙ রোদে পুড়ে কিঞ্চিৎ বাদামী হয়ে গেছে। দোকানের মালকিনকে জিজ্ঞাসা করলাম, এনাকে কোথায় পেলেন তিনি। ... ...


অনেকেই ভাল কোম্পানি পেয়েছে। ভাল আছে তারা। কিন্তু আমি যা দেখছি তাই বললাম। এখন আমি একটা ওষুধ কোম্পানিতে আছি। এই কোম্পানির মাথায় আছে ইরাক, সিরিয়ার কিছু মানুষ। যারা এত বছরেও ইউরোপিয়ান হয়ে উঠতে পারে নাই। অথচ তাদের কোম্পানিতে কাজ করা রোমানিয়ানরা আমাদেরকে বুকে টেনে নিয়েছে আপন করে! এদের জন্যই ভাল আছি। উপরের লোকজনের সাথে কথাবার্তা হয় সামান্য। যাদের সাথে কাজ করি, কাজ করাই তারা অসম্ভব ভাল, এইটাই এখন পর্যন্ত ভাল কিছু ঘটেছে আমার রোমানিয়া আগমনের পরে। ... ...



আমাকে এই বিখ্যাত সী-ফুড রেষ্টু্রান্টে এনে মেনু কার্ড দিয়ে বলা হল কি খাবে? ইংরাজীতে লেখা থাকলেও একটা খাবারের নাম বুঝতে পারলাম না! কিন্তু চাষার ছেলে হলেও বুদ্ধি খাটিতে চাল দিলাম ভাঙলেও মচকাবো না এই টাইপের। বললাম, "তোমরা যা রেকমেন্ড করবে তাই খাবো" বিশাল ভুল করলাম! এটা শুধু ঐতিহাসিক নয়, একেবারে প্রাগঐতিহাসিক ভুল যাকে বলে প্রায় কাঁচা চাল। দাঁতে কেটেই পাশের জনকে - চাল তো সেদ্ধ হয় নি! - মানে? আবার আমার অ্যান্টেনা সংকেত পেল। কিছু না বলে সেই প্রায় কাঁচা চাল খেলাম, মাঝে মাঝে চিঙড়ি, শামুক এই সব মুখে এল রিসোত্তো না কি যেন একটা নাম বলল! বিখ্যাত ইতালিয়ান ডিস নাকি এটা! ইতালিতে কি আগুনের অভাব নাকি যে ব্যাটারা চাল সিদ্ধ করে না! ... ...

সেই ছায়া এই আমার মনে, সেই ছায়া ওই কাঁপে বনে, কাঁপে সুনীল দিগঞ্চলে রে। ... ...

"সে ছিল এক একদম অন্যরকম হিন্দোস্তান। যেখানে বাস করতেন বলিষ্ঠ পাঠান, নির্ভীক রাজপুত, জ্ঞানী ব্রাহ্মণরা…সম্মানের সঙ্গে সেখানে একসঙ্গে বাঁচতেন হিন্দু আর মুসলিম জনগণ.."। আনিস কিদওয়াই লিখেছিলেন তাঁর 'আজাদী কি ছাঁও মে' নামক বইয়ের মুখবন্ধে। কে ছিলেন এই আনিস কিদওয়াই? কি এমন কাজই বা করেছিলেন তিনি এই দেশের জন্য? নিশ্চিত আমাদের অনেকের কাছেই আনিস এক অশ্রুতপূর্ব নাম। এই লেখায় আমরা বরং সংক্ষেপে ফিরে দেখি এই ব্যতিক্রমী অথচ বিস্মৃত সমাজকর্মীর জীবন ও মহতী সক্রিয়তাগুলিকে…। ... ...

কোভিডে চলে গেলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। দিল্লিতে বসে দেবরূপ দেখছে কৃষক আন্দোলনের গতি। সব মিলিয়ে বিপন্ন জীবন। ... ...

জয় না পরাজয় ? ... ...

মিডিয়া কাকে বলে ! ... ...

জীবনানন্দ ... ...

রক্তিমের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পরে নতুন সম্পর্কে টুপুর। ক্লান্ত মালবিকা কৃত্রিম দাম্পত্য সম্পর্কে। তবু জীবন চলতেই থাকে। ... ...

কোভিডে মৃত অদিতি শিবরামণ। দেবরূপ তার ভার নিয়ে চলে এসেছে দিল্লিতে সুনন্দিতার বাড়িতে পিজি হিসেবে।কাজ করছে দিল্লি ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ ফেলো হয়ে।বিষয় ভাইরাস। সুনন্দিতার শাশুড়ি আর্মেনিয়ান আমেলিয়া মেহতা। স্বামী পরমপ্রতাপ মেহতা।মেয়ে নিকি। দেবরূপ এ বাড়িতে আগন্তুক কিন্ত অনাহুত নয়। ... ...

জন্মদিনের সকাল যেমন হয়, এ লেখাও তেমন। যার পরতে পরতে মায়া, প্রেম, আলোহাওয়া এবং সদ্য ফেলে আসা স্মৃতি খেলা করে। ... ...

নতুন এ রচনা। গন্ধ নিয়ে। গন্ধ মানে সৌরভ, গন্ধ মানে পারিফিউম, গন্ধ মানে কলকাতায় দিনমানে চলা কর্পোরেশনের জঞ্জাল ফেলার গাড়ি, গন্ধ মানে শেষযাত্রার অগুরু, গন্ধ মানে ধুপ-ধূনো, গন্ধ মানে মায়ের খোলা চুল। এমন কতো কিছুই। আপনাদের উৎসাহ পেলে ভরসা বাড়বে। ... ...


আজ শালপ্রাংশু, অনতিমন্দ্র কণ্ঠস্বরের বহুমুখী প্রতিভাধর মানুষটির ১০৩ তম জন্মদিবস। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দুঃসময়ে ওঁর তিনটি ছবির কথা আজ বেশি করে মনে পড়ছে যেগুলিকে ওর নাগরিক ট্রিলজি বলেন অনেকে। এই তিনটি ছবির মধ্যে অন্তত দুটির বিষয় বিপুল কর্মহীনতা আর অন্তত দুটি ছবিতে মধ্যবিত্তের আদর্শচ্যুতি। কিন্তু সেটা নিছক ঈশপ ফেবলসের নীতিকথা নয়, এই আদর্শচ্যুতির পেছনে যে সামাজিক পটভূমিকার চাপ যা মনুষ্যত্বকে বিকিকিনির হাটে চাপিয়েছে তা সত্যজিত বড় নিষ্ঠুরভাবে উপস্থাপিত করার সাহস দেখিয়েছিলেন। ... ...

মেট্রো স্টেশন থেকে অফিস যাওয়ার পথে অটোটা ঠিক পাঁচবার বাঁক নেয় – অমিত হিসেব করে দেখেছে। সুধীন সমাদ্দারের বাড়ি ঠিক তিন নম্বর বাঁকের মুখে। সুধীন সমাদ্দারকে অমিত চেনে না। কিন্তু রোজই দেখে তাকে তাঁর বাড়ির বারান্দায় বসে লিখতে। সুধীন সমাদ্দার ছোট ছোট কবিতা লেখেন আর লিখে বাড়ির দরজা বা বাইরের দেওয়ালে আটকে দেন। তলায় সই – সুধীন সমাদ্দার। ... ...

দেবরূপ, সুনন্দিতা, নিকি ও আমেলিয়া... চার ভিন্ন গ্রহের ভিন্ন মানুষ ... ...