
খরগোশদের আনন্দ ধরে না। নাচতে নাচতে লাফাতে লাফাতে তারা চলে বনের ধারে। তারপর শুরু হয় মহাযজ্ঞ। খরগোশ কর্তা তুর তুর করে নখ দিয়ে মাটি ভাঙ্গেন আর অবরে সবরে গোঁফে তা দেন, তাই না দেখে গিন্নিটি লজ্জায় লাল হয়ে ওঠেন। চিকচিকে চোখে হাসি মেখে তিনি কলকে ফুলের কলস ভরে জল আনেন, পদ্ম পাতায় ধরে রাখা ভোরের শিশির নিয়ে আসেন, মাটির তেষ্টা মেটাতে। আদরে আদরে মাটি ভিজে ওঠে। কর্তাগিন্নি দুজনে মিলে ক্ষেতে কাজ করে, বীজ থেকে চারা তৈরি করে, চারাদের যত্ন করে, তাদের আনন্দে-হাসিতে পাতারাও যেন হেসে ওঠে, শক্ত করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে, জড়াজড়ি করে ওম খোঁজে। বাচ্চারা লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে ক্ষেতের চারপাশে ছুটে বেড়ায়। হৈ হৈ করে ক্ষেত পাহারা দেয়। আর স্বপ্ন দেখে, আহা গোল গোল টাটকা বাঁধাকপির পাতা কতই না সুস্বাদু! আর কদিন পরেই তারা তাজা বাঁধাকপির পাতা দিয়ে লাঞ্চ ডিনার ব্রেকফাস্ট স-অ-ব করবে। স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকে। ... ...

বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করার যন্ত্রণা আছে। আপনি যাকে একদম পছন্দ করেন না, যার কথা মানেই প্রলাপ, তার সেই প্রলাপ বকার স্বাধীনতাই বাক স্বাধীনতা। আপনি যা পছন্দ করেন তা বলবে আর আপনি বলবেন আমি তো কথা বলতে দিচ্ছিই, কাওকে তো বাধা দেই নাই, এইটা বাক স্বাধীনতা না। এই সব কিছু যন্ত্রণা আছে সুনাগরিকের, আপনি মানবিক হবেন, আপনি মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাস করবেন অথচ আপনার অপছন্দের লোকের অকারণ হেনস্থায় চুপ থেকে মজা নিবেন, এইটা হবে না। অন্যায় হলে তার প্রতিবাদ করতেই হবে তা সে আপনার পছন্দের হোক বা অপছন্দের হোক। আমি সুনাগরিক লিখছি, মানবিক লিখছি, আসলে এইটা মানুষেরই ধর্ম। এ না হলে মানুষ বলা কঠিন হবে আমার পক্ষে। এই যে শাহরিয়ার কবিরকে হত্যা মামলায় হেনস্তা করা হচ্ছে, অসুস্থ একটা লোককে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে এইটা অন্যায় হচ্ছে। শাহরিয়ার কবির মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে পরিমাণ লেখালেখি করেছে তা অবিশ্বাস্য। এখন কি সেই দায় মিটাচ্ছে? মুক্তিযুদ্ধ এখন অপাংক্তেয় বিষয় এই দেশে। সেই সূত্রেই অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন শাহরিয়ার কবির? নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়, একাত্তরের যিশু, বাভারিয়ার রহস্যময় দূর্গসহ দুর্দান্ত সব কিশোর উপন্যাস লেখা শাহরিয়ার কবিরের কী হবে? আমরা হেরে যাচ্ছে কোথায়? কাদের কাছে? ... ...

রঙিনের ঘরে লুডো খেলতে বসেছে বাবা আর মেয়ে। খেলতে খেলতে হঠাৎই “আসছি” বলে উঠে গেল অরুণাভ, ফিরে এল তার মোবাইল ফোনটা নিয়ে। তারপর ভিডিও ক্যামেরা অন করে রেকর্ড করা শুরু করল। “আমি আর রঙিন এখন লুডো খেলছি, তোমরা কেউ বিরক্ত করবে না।… রঙিন, চাল দাও… দেখি ছক্কা ফেলতে পারো কি না…” কমেন্টারি করতে লাগল সে। ছক্কা পড়ল না, পড়ল তিন। তবে খেলার মধ্যে ভিডিও ঢুকে যাওয়ার ব্যাপারটা রঙিনের দারুণ পছন্দ হল, বাবাকে আগে কোনও দিন ফোনে ছবি বা ভিডিও তুলতে খুব একটা দেখেনি সে। অরুণাভ খানিক ভিডিও করে, তাতে সব কিছুর ছবি তোলে - মেয়ের, লুডোর বোর্ডের, ঘরের নানা জিনিসের, নিজেরও; তারপর কিছুক্ষণ বন্ধ রাখে, আবার চালু করে। একটু পরে রঙিন জিজ্ঞাসা করল সে নিজে একটু ভিডিও করতে পারবে কি না। বাবা সম্মতি দিলে সেও ভিডিও করা শুরু করল। অরুণাভ উৎসাহ দেওয়াতে কমেন্টারিও শুরু করল সে, তবে বেশিক্ষণ পারল না, ক্যামেরা চলতে চলতে বলার মত কথা খুঁজে পাচ্ছিল সে, এমনিতেই তো বাবার মত কম কথা বলে সে। ... ...


আরেকটু গভীরে ঢুকে দেখা যাক, কেন দুর্নীতি। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার কোনো ওএমআর শিট পাওয়া যায়নি, ওগুলো নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেটা নিয়ম মেনেই, এসএসসি বলেছে, আদালতও আংশিকভাবে একমত হয়েছে। এসএসসির সার্ভারে স্ক্যানড কপিও পাওয়া যায়নি। তাহলে দুর্নীতি বোঝা গেল কীকরে? এসএসসির দুই ভেন্ডার, তাদের কাছে আলাদা করে স্ক্যানড কপিগুলো পাওয়া গেছে। মিলিয়েও দেখা হয়েছে। এসএসসিও সেখান থেকেই ডেটা নিত (এটা আইনী না বেআইনী বলা নেই, ধরে নিচ্ছি আইনী বা ধূসর এলাকায় পড়ে)। এই স্ক্যানড কপি এবং এসএসসির সার্ভারে থাকা নম্বর মিলিয়ে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে গরমিল আছে। এই মেলানোর কাজটা এসএসসিই করে কোর্টে দিয়েছে। এর অনেকগুলো সারণী আছে রায়ে। আমি সারসংক্ষেপটা দিলামঃ ১। প্যানেলের বাইরের ১৪৯৮ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। ২। ৯২৬ জনের র্যাঙ্ক বদলানো হয়েছে। ৩। ৪০৯১ জনের ওএমআরে গরমিল ধরা পড়েছে। সব মিলিয়ে ৬২৭৬ জন। এর মধ্যে বেশিরভাগ অংশটাই কিন্তু অশিক্ষক কর্মচারী। যেমন, ওই ৪০৯১ এর মধ্যে ২৫২৩ জনই অশিক্ষক।ফলে ২৬০০০ নিয়োগের মধ্যে ৬২৭৬ টা কেসে, যার বেশিরভাগ অংশটাই অশিক্ষক, দুর্নীতি, বেনিয়ম অবশ্যই হয়েছে। ... ...

ক্ষমতালিপ্সু তথাকথিত সমাজসংস্কারকরা ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়ে সেই ধুরন্ধর পুরাণকারদের ট্র্যাডিশানেই আজও যে ইতিহাসের অশুদ্ধি ঘটাবেন, তাতে আর আশ্চর্য কী? কিন্তু তাতেও কী আর অমৃতসমান মহাভারতের অশুদ্ধি ঘটতে পারে? ... ...

রাতের অন্ধকার দূর করতে আলোর ওপরেই ভরসা করতে হয় আমাদের, অথচ সেই আলোকে ঘিরেই এখন জমাট বাঁধছে গভীর অন্ধকার। আমাদের জীবন থেকে ক্রমশই হারিয়ে যাচ্ছে রাতের অন্ধকার। আলোর দাপট দেখিয়ে অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে রাখতে গিয়ে আমরা, বিশেষত নগরবাসী মানুষজন,রাতের শান্ত স্নিগ্ধ রূপকে হারিয়ে ফেলেছি। এই সূত্র ধরেই দূষণের দাপট বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। আজ এরফলে আক্রান্ত আমরা, বিপন্ন প্রাণিকুল। এই নিবন্ধের আলোচ্য আলোকে ঘিরে বেড়ে ওঠা ঘনায়মান অন্ধকার নিয়ে। ... ...


উৎপল দত্ত কেন বোম্বে গিয়ে ভাঁড়ামি করতেন? রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তর একটা লেখা, এই প্রশ্নটা উস্কে দিয়েছে। প্রশ্নটা আসলে স্রেফ উৎপলকে নিয়ে না, অনেক বড়। বাংলা থেকে সিনেমা-শিল্পীদের একটা মহানিষ্ক্রমণ ঘটে ১৯৫০ এ। তারপরও সেটা চলতেই থাকে। কেন? কারণটা সব্বাই জানেন, কিন্তু কেউ বলেন না। কারণটা হল দেশভাগ। ৪৭ এর আগে, ভারতের দুটো বড়ো সিনেমা কেন্দ্র ছিল কলকাতা আর বোম্বে। বাইরের লোকেরা কলকাতায় আসতেন, যেমন সাইগল, বড়ো-বড়ো শিল্পীরা বোম্বে যাবার অফার তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতেন। প্রমথেশ বড়ুয়া বোম্বে প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ওই বাজারে কে যাবে। কেউ কেউ আবার কলকাতা থেকে যেতেনও, যেমন অশোককুমার। সব মিলিয়ে একটা যাতায়াত ছিল। নিউ থিয়েটার্স ছিল কলকাতার বিগ বস। তাদের সিনেমা হত দ্বিভাষিক। বাজার বাংলা ছাড়িয়ে চলে যেত লাহোর অবধি। ছিল ভারতলক্ষ্মী। ইস্টার্ন মোশন পিকচার্স। সবাই বড় বড় স্টুডিও। ... ...


আগেই লিখেছি, কোনো কিছুই মহাশূন্যে আলোর বেগের চেয়ে বেশি জোরে যেতে পারে না। কিন্তু জলের মধ্যে তো আর সে বাধা নেই, সেখানে আলোর যা বেগ, তার চেয়ে বেশি বেগেও যাওয়া সম্ভব। আপনি আমি পারব না, কিন্তু ইলেকট্রন যেতেই পারে, যদি তার যথেষ্ট শক্তি থাকে। এই সব সময়ে একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে। কনকর্ড বলে একটা প্লেন এক সময়ে উড়ত, তার বেগ ছিল শব্দের চেয়ে বেশি। এর চলার পথে শক ওয়েভ বা বুম তৈরি হত। প্লেন চলার সময়ে যে শব্দ হয়, প্লেন তাকে ফেলে এগিয়ে যেত, শব্দ তার পিছু ধাওয়া করত। জলের মধ্যে ইলেকট্রন বা ওই জাতীয় কণা যদি আলোর চেয়ে বেশি বেগে চলে, তাহলে এরকম আলোর শক ওয়েভ তৈরি হয়। চলার পথ ঘিরে শঙ্কুর আকারে সেই আলো ছড়িয়ে পড়ে। একে বলে চেরেনকভ বিকিরণ ... ...

হাতের কাগজটার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল অরুণাভ; মুখ তুলে সবাইকে দেখল। “একটা রিকোয়েস্ট, এই প্যাকেট তোমরা খুলবে আমি এই ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর।” এক এক করে সবার হাতে গিফট আর মিষ্টির প্যাকেট তুলে দিল এজিএম, এবার রামাকৃষ্ণানের নাম এল আভিধানিকভাবে ঠিক জায়গাতেই। আর তার বদলে একদম শেষে নাম এল সেক্রেটারি কবিতার। সবাই জিনিস পেয়ে গেলে অরুণাভ চলে গেল নিজের ঘরে। আর তার পরেই সবাই গিফট প্যাকেট খুলে ফেলল, দেখা গেল ভেতরে রয়েছে দামী কলমের সেট - প্রত্যেকের জন্য একই জিনিস। কিন্তু প্রতিটা প্যাকেটে ভাঁজ করা সাদা কাগজটা কি? ... ...

৯ নভেম্বর ১৯৮৯ সালের সন্ধ্যায় পুবের উত্তাল জনতা পথে নেমেছিলেন, তাঁরা চাইলেন পরিবর্তন, বাক ও প্রেস স্বাধীনতা এবং অবশ্যই আর্থিক উন্নয়ন কিন্তু সেটা ঘটবে কি ভাবে ? দুই দেশের দুই নেতা, হেলমুট কোল ও হান্স মদরো যে আলোচনায় বসলেন ১৯শে ডিসেম্বর, ড্রেসডেনে, তাতে বোঝা গেলো এই দুজনের দুটি পথ দুটি দিকে বেঁকে যাবে। মদরো চাইলেন দুই জার্মানি রইবে দুই স্বতন্ত্র সার্বভৌম দেশ ; পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পূবে ঘটবে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার, রিফরম, দুই জার্মানি চলবে সমান্তরাল ভাবে রেলের দুটি লাইনের মতন; বড়ো ভাই পশ্চিম জার্মানির কাছে চাইলেন আর্থিক সাহায্য। হেলমুট কোল সে সব শুনতে রাজি নন। মদরোর এই ভাষ্যকে সম্পূর্ণ নাকচ করে জানালেন দুই জার্মানির আশু পুনর্মিলন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ইউনিয়ন। পরবর্তীকালে আধুনিক চিনের কায়দায় ‘ এক দেশ দুই ব্যবস্থা ‘ ( যেমন চিনের হংকং এ গাড়ি চলে রাস্তার বাঁ দিকে, সাংহাই বেজিঙ্গে ডান দিকে !) নয়। পরবর্তী ছ মাসের মধ্যে পশ্চিম জার্মানির ডয়েচে মার্কের বুলডোজার দেখিয়ে দেবে পুবের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক রিফরম হেলমুট কোলের কাম্য নয়, তিনি চান এক জার্মানি, তাঁর নিজস্ব শর্তে। ইতিহাসের পরিহাস – যেখানে কোন দ্বিতীয় মতের স্থান ছিল না, সেই প্রাক কমিউনিস্ট দেশ চাইল আলাপ আলোচনা করে, আইন ও সংবিধান বদলে নিজস্ব গতিতে সমাজ ও অর্থ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ সংস্কার। তখন মুক্ত চিন্তা ও বাক স্বাধীনতার ধ্বজাধারী পশ্চিম জার্মানি জানালে, ওসব ভুলে যান, রিফরম নয়, রি ইউনিফিকেশান ! মাই ওয়ে অর হাইওয়ে। ... ...



মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হল বঙ্গবন্ধু সহ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া চারশজনকে মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না যেহেতু তাঁরা কেউ সরাসরি সম্মুখ সমরে লড়াই করে নাই! এই যুক্তি দিয়ে তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী বলা হবে এখন থেকে, মুক্তিযোদ্ধা না। বঙ্গবন্ধুকে মুক্তিযোদ্ধা বললেই কী আর না বললেই কী? একই কথা খাটে তাজউদ্দীন আহমেদসহ বাকি শীর্ষ নেতাদের ক্ষেত্রে। প্রশ্নটা হচ্ছে এদের চেষ্টার! কী আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে যদি কোন ভাবে ছোট করা যায় এঁদেরকে। কোনভাবে যদি আরেকটু নামানো যায় তাঁদের অবস্থান থেকে। এরা যে সূত্র দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাপ মাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাতিল করছে সেই সূত্রে তো মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানীকেও মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না! তিনি যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন, সম্মুখ যুদ্ধে লড়াই করেছেন? এখন দেখেন তো শুনতে কেমন লাগে যে যাকে সেনাপতি বানানো হল যুদ্ধের তিনিই যোদ্ধা না! দারুণ না? ... ...




এক চাঁদনী রাতের নাট্য আখ্যান। প্রভাতী শুভকামনা জানিয়ে পাঠানো এক ছড়িয়ে পড়া ছড়াকে মাথায় রেখে এই আশ্চর্য দাম্পত্য আখ্যানের নির্মাণ প্রয়াস। নিয়মিত নাটক পাঠের অভ্যাস এখনও সেভাবে আত্মস্থ করতে বোধহয় আমরা পারিনি। আমরা সবাই নাটকের অভিনয় দেখতেই অভ্যস্ত। তবে মঞ্চের কুশীলবরা এই সাহিত্য রসের ধারাতেই মজে থাকেন। নাটিকাটি পড়ুন ও অকপট মতামত জানান। ... ...