

প্রথম পর্ব ভূমিকা সম্প্রতি কাশ্মীরের একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে দুই দিক থেকেই সাম্প্রদায়িক উত্তাপ ছড়িয়েছে। কেউ না জেনে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ধর্ম ও সম্প্রদায়কে একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করছেন। ফলে সাধারণ প্রচলিত ইসলাম ও মৌলবাদী ইসলামের মধ্যে সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। এই বিভ্রান্তি মুসলিম সমাজের মধ্যেও প্রবল।তবে এই সংকটের শিকড় কেবল ধর্মীয় অশিক্ষা বা মৌলবাদে সীমাবদ্ধ নয়। একশ বছরের ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উপনিবেশের উত্তরাধিকার, ঠান্ডা যুদ্ধ, ধর্মীয় ও সেক্যুলার জাতীয়তাবাদ, তেলের রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামী দেশগুলির ক্ষমতার লড়াই।ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে আমি এই লেখার মধ্যে দিয়ে বোঝার চেষ্টা করবো— কিভাবে ইসলামের বহুরূপী ও ... ...


আমেরিকায় মে দিবস পালিত হয়না আর। শ্রমিক ইউনিয়ন আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়েছে। অথচ, সে ইতিহাস এই দেশেরই ইতিহাস। ... ...


বিএনপি একটা দল যারা এমনই দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছে গেছে যে এই চরম দুর্নীতিবাজ ছাত্রদের সাথেও পেরে উঠছে না। সকাল বিকাল ধমক দেয় ছাত্ররা। ৫ আগস্ট পরবর্তী চাঁদাবাজি এমন পর্যায়ে করেছে যে এখন মানুষ তাদেরকে সহ্য করতে পারে না। আমি আমার এলাকায় যা দেখছি তার কথা বলতে পারি। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাহিরে থাকায় পাতি নেতারা ঝরে পড়ে গেছিল। আমি এক সময় রাজপথ কাঁপানো ছাত্র নেতাকে দেখছি আমাদের নিউ মার্কেট মোড়ে অটো লাইন ধরানোর কাজ করত। জ্যাম বেঁধে গেলে লাঠি দিয়া অটো, রিকশাকে সামনে আগানোর কাজ করত। ওই করে কয় টাকা কামাই করত জানি না। কিন্তু দিনের পর দিন এই করতে দেখছি। যার কথা বলছি সে আমাদের স্কুলেই পড়ত। পড়াশোনা কেন বাদ দিল, কেন রাজনীতির নেশায় পেয়েছিল ওকে কে জানে। কিংবা সবাই জানে মনে হয়। প্রবল প্রতাপ দেখানোর লোভ, সেই ২০০২/০৩- ২০০৫/০৬ সালে বিশ একুশ বছরের একটা ছেলের যদি শহর কাঁপানোর ক্ষমতা থাকে, টাকা থাকে তাহলে পড়াশোনাকে বাহুল্য মনে হবে না? ওর তাই হয়েছিল। ওকে সহ আরও কয়েকজনকে দেখতাম এই অটো সামলানোর কাজ করত। এবার আসুন ৫ আগস্টের পরের পর্বে। আবার ওদের চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেছে। কাপড় চোপর চিকচিক করছে! দুইজন দোকান দিয়ে বসেছে, আরেকজন আল্লাই জানে কী করছে এই মুহূর্তে। যা বুঝলাম কামাই করে নিয়েছে এরা প্রত্যেকেই। ... ...


“ভাবি, স্কুল যাবেন না?” ঘড়ির দিকে তাকায় বিনীতা, “হ্যাঁ, যাব।… স্কুল থেকে ফিরে রঙিন যদি কিছু জিজ্ঞেস করে ব’লো বাবা অফিস গেছে।” বিসপাতিয়া মাথা কাত করে জানায় তাই হবে, তারপর চলে যায় ডাইনিং রুমের দিকে। বিনীতাও উঠে শোয়ার ঘরের দিকে যাচ্ছিল, খেয়াল হল চিঠিটা রয়ে গেছে টেবিলের ওপর বই-এর মধ্যে। ফিরে এসে সেটা আবার তুলে নেয়। বেড রুমের দিকে যাচ্ছিল বিনীতা, দেখে ডাইনিং টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে আছে বিসপাতিয়া। “ভাবি, এখন কী করবেন?” বিনীতা উত্তর দিল, “অপেক্ষা।” ... ...

দাঙ্গা নারী ইস্যু নয়। সাম্প্রদায়িক ইস্যুও নয়। জমি দখলের ইস্যু। সম্পদ দখল করার, অধিকার কেড়ে নেবার ইস্যু। কিন্তু তবে দাঙ্গা হলেই প্রতিপক্ষ কৌমের নারীর সম্ভ্রমে হাত পড়ে কেন? দক্ষিণপন্থীদের আগ্রাসনের কলটিকে একটু ভেঙে দেখতে চান? ... ...


“আগে ম্যামথ, ডাইনোসর এরাও ছিল বিরাট বড় বড় প্রাণী। দাঁড়াও দেখাচ্ছি,” অন্য একটা বই এনে ওই দুই লুপ্ত হয়ে যাওয়া জন্তুর ছবি মেয়েকে দেখাল অরুণাভ। “এত বড় বড় অ্যানিম্যাল কোথায় থাকত?” “এখানেই থাকত।” “কুসুমবনিতে?” খুব আগ্রহের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করল রঙিন। হাসল অরুণাভ, “হ্যাঁ, কুসুমবনিতেও হয়তো ছিল। তবে ডাইনোসররা যখন ছিল, তখনও পৃথিবীতে মানুষ আসেনি। ম্যামথের টাইমে অবশ্য মানুষ ছিল।” অবাক হল রঙিন, “মানুষ আসেনি মানে?” “আমাদের পৃথিবী তৈরি হতে অনেক অনেক বছর সময় লেগেছে, তারপর আস্তে আস্তে এসেছে গাছপালা, পোকামাকড়, মাছ, কচ্ছপ… ডাইনোসর… ম্যামথ… এই রকম করে করে সবার শেষে মানুষ।” “ডাইনোসররা কোথায় গেল?” অরুণাভ বলল, “একটা মিটিওরাইট... যাকগে, ওটা এখন বুঝবে না।” “না না, আমি বুঝব… বল না,” বায়না করল রঙিন। “আসলে… আসলে ওদের কাজ ফুরিয়ে গিয়েছিল, তাই চলে গেল।” “ওদের কী কাজ ছিল?” “অনেক কাজ - খাওয়া, ঘুমানো, মারামারি করা…” “কাজ ফুরিয়ে গেল, তাই চলে গেল…” উত্তরে ইসারায় হ্যাঁ বোঝাল অরুণাভ। রঙিন একটু ভেবে নিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “কাজ ফুরিয়ে গেলে সবাই চলে যায়?” “সবাই নয়, কেউ কেউ যায়,” মেয়েকে বলল বাবা। দু’জনের কেউই খেয়াল করেনি কখন বিনীতা এসে দরজায় দাঁড়িয়েছে, সে চুপচাপ বাবা-মেয়ের কান্ড দেখছিল। এই বার এগিয়ে এসে বলল, “রঙিন, একটা নতুন রান্না করেছি, টেস্ট করবে নাকি?” ... ...

সাতসকালে মুঠোফোনে আত্মীয় পরিজন বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে নানান ধরনের শুভেচ্ছাবার্তা ভেসে আসে। সেইসব শুভেচ্ছা বার্তার মধ্যে কিছু বার্তা বা দৃশ্যপট এমন থাকে যা কখনও কখনও নতুন ভাবনার পথে মনকে ছুটিয়ে দেয়। এমনই দুই প্রভাতী শুভেচ্ছাবার্তা নিয়েই এই মনকথা। ... ...

'আমি একদিন নদীর ধারে গিয়েছিলাম, মেঘনার তীরে, যেখানে ঢেউগুলো নাচে অবিরাম'... 'সামাল সামাল' পরিস্থিতিতে টালমাটাল সরকারের মডেল মেঘনায় হোঁচট খাওয়া খুব বড় ঘটনা, কারণ এটি জ্বরের মত অসুখ নয়, বরং অসুখের পূর্ব লক্ষ্মণ। এছাড়া মেঘনাকাণ্ডে সরকারের ইমেজ নামতে নামতে কোন অতলে নামে সেটিই এখন দেখার বিষয়।... ... ...


অতীতের দুর্বল পঙ্গু পূর্ব জার্মান মার্ককে ( মার্ক ডের ডে ডে এর) আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে অর্থ ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করেছিল যে মহার্ঘ্য ডয়েচ মার্ক, তার স্থান নিয়েছে আরও এক শক্তিশালী মুদ্রা, ইউরো: ১.৯৯ পুরনো ডয়েচ মার্কের বিনিময়ে পাওয়া গেছে এক ইউরো। বদলেছে তো আরও অনেক কিছু - পুবের রাস্তাঘাট, টালির চাল, বাড়ির দরোজা দেওয়াল মেরামত হচ্ছে, মেটে হলদে রঙের দেওয়ালে পড়ছে রঙ্গিন পোঁচ। লিডল, আলদি সুপার মার্কেট সর্বত্র, ক্বচিৎ কোথাও গ্রামের চাষিরা সবজিটা মুরগিটা নিয়ে মার্কট প্লাতসে বসে, ট্রাবান্ত ওয়ারটবুরগ গাড়ি রাস্তায় দেখা যায় না, পয়সা খরচা করে মিউজিয়ামে তাদের দেখতে যেতে হয়, টেলিফোন ঘরে ঘরে। এগারো বছর আগে স্টাডরোডায় এসে মনে হয়েছিল জার্মানি কোথাও ছেড়ে এসেছি, এ এক অন্য দেশ। আজ হাইকের বাড়ি থেকে ফেরার সময়ে মনে হল আমার চেনা জার্মানির কোন একটা ছোট শহর থেকে বেরুচ্ছি। বদলালো তো আরও কিছু ; যেমন, একশোর বেশি দেশে ছিল জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ( ডয়েচে ডেমোক্রাটিশে রেপুবলিক, ডে ডে এর ) দূতাবাস। ১৯৭০ সালে দিল্লিতে পাপুর ছবির প্রদর্শনী করতে গিয়ে পরিচয় হয়েছিল ডে ডে এর দূতাবাসের কালচারাল আটাশের সঙ্গে, খুব কৌতূহলের সঙ্গে দেখলেন, নানান প্রশ্ন করলেন পরিষ্কার ইংরেজিতে। আজ তাঁর মতন কালচারাল আতাশে কেন,কাজ হারিয়েছেন তদানীন্তন পূর্ব জার্মানির একশোর বেশি রাজদূত, ফার্স্ট সেকেন্ড অফিসার। দেশ যখন একটা, দূতাবাস হবে একটাই। রাজা অপ্রসন্ন হলে রাজদূতের গর্দান এবং চাকরি দুটোই যেতে পারে। দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ উৎপন্ন হলে রাজ দূতাবাসের দরোজায় তালা পড়ে। যেমন ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে বার্লিনের ৭৩ নম্বর ভিলহেলমস্ত্রাসের রাইখ চ্যান্সেলরিতে গিয়ে জার্মানির বিরুদ্ধে ব্রিটেনের যুদ্ধ ঘোষণাপত্রটি বিদেশ মন্ত্রী ইওয়াকিম ফন রিব্বেনত্রপের সহকারীর ( রিব্বেনত্রপ দেখা করেন নি ) হাতে দিয়ে রাজদূত সার নেভিল হেনডারসন দু কদম দূরের ৭০ নম্বর ভিলহেলমস্ত্রাসের ব্রিটিশ দূতাবাসে ফিরে বলেছিলেন, পাততাড়ি গুটোও, আমরা চললাম ( প্যাক ইয়োর ব্যাগস, অফ উই গো )। যুদ্ধ শেষে সেই বাড়িতেই ফেরেন নতুন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত। জার্মানির পুনর্মিলনের সঙ্গে সঙ্গে এক ধাক্কায় একশো রাষ্ট্রদূতের ছুটি হলো। ... ...

আরো কিছু কর্মপরিকল্পণা প্রায় চুড়ান্ত করে এনেছে, এমন সময় তার মনে পড়ে গেল, তার হাতে সময় নেই একদমই। তার তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ পড়ে আছে সামনে! তাই সে হনহনিয়ে হাঁটতে লাগল আবার সামনের দিকে। তার পায়ের পাতাটায় অবশ্য একটা আজব স্পর্শ-অনুভূতি হচ্ছিল! সে কি কঠিন শিলা, নরম পলি মাটি, না কি জল, বরফ আর মেঘের তুলোর স্পর্শ, তা সে বুঝতে পারছিল না সে। তার মনে হচ্ছিল, এসবের বাইরে একটা কিছু হবে, আর যা বর্ণনার জন্য কোন শব্দ তার ভান্ডারে নেই! ... ...


সেই সময় এই প্রসঙ্গ ধামাচাপা পড়লেও যতই সময় ঘনিয়ে আসল ততই এই প্রসঙ্গ প্রাসঙ্গিক হতে থাকল। এবং শেষ মুহূর্তে হেফাজতে ইসলাম থেকে বলা হল মঙ্গল শোভাযাত্রা করা যাবে না, এই নাম চইলত ন! ফলাফল হাতেনাতে, চারুকলার ডিন জানিয়ে দিলেন তারা নাম পরিবর্তন করছে, এবারের শোভাযাত্রার নাম হবে আনন্দ শোভাযাত্রা! ব্যাস, হয়ে গেল সব! ফারুকির নাক গলানোর পরেই যে ব্যাচ এবার দায়িত্বে থাকার কথা তারা একটা বিবৃতি দেয়, দিয়ে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয় যে তারা এবার এই দায়িত্ব পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু এবার যে শোভাযাত্রা হচ্ছে তার সাথে তারা জড়িত না! সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এবারের শোভাযাত্রার আয়োজন করছে, তাদেরকে এর সাথে রাখা হয়নি, তারা সাথে নাইও। উপদেষ্টার জন্য এরচেয়ে লজ্জার কী হতে পারে? কিন্তু না, ফারুকি এই সামান্য বিষয়ে থেমে যাওয়ার লোক না। ... ...

পরিমল ভট্টাচার্য রচিত "সত্যি রূপকথাঃ সভ্যতা, উন্নয়ন ও ওড়িশার এক উপজাতির জীবনসংগ্রাম" বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া। ... ...
