
মেয়েদের নাম রাশিয়ান ও তুর্কিক, দুই ধরনের। কিন্তু পদবীটি হবে রাশিয়ান স্টাইলে স্বামী বা পিতার নাম অনুযায়ী ওভা অথবা এভা। যেমন গুলনারার পুরো নাম গুলনারা গালিমোভা। আর এক মন্ত্রী নাতালিয়া করজোভা! প্রায় তিরিশ বছর যিনি রাষ্ট্রপতির আসন অলঙ্কৃত করেছিলেন তাঁর নাম নুর সুলতান নজরবায়েভ। তাঁর এক মেয়ের নাম দিনারা নুরসুলতানোভনা নজরবায়েভা – তিনি বিলিওনেয়ার। নতুন রাজধানীর নাম নুর সুলতান। যেমনটি সচরাচর হয়ে থাকে! ... ...

পবিত্র বোধ হয় আবার কিছু বলবার চেষ্টা করছিল, কিন্তু সুভাষ নজরুলের দিকে তাকিয়ে বলল, নজরুল সাহেব, আজ সকালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে আপনি যখন কনফার্ম করলেন আপনিই নজরুল ইসলাম, আমি তখনই আপনাকে একটা প্রস্তাব দেব ভাবছিলাম। সেই জন্যেই আমি আপনার নবযুগের কথাটা তুলছিলাম। আপনারা তো এতক্ষণে শুনেইছেন, কয়েকমাস আগে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেবার বাসনায় আমি চিত্তরঞ্জন দাশ মশায়ের সঙ্গে দেখা করি। তিনি অতি স্নেহে আমাকে তাঁর সঙ্গী করতে রাজি হলেন। আমাকে তিনি প্রথম দিনেই দুটো কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলেন; এক, গৌড়ীয় বিদ্যায়তনের অধ্যক্ষতা, এবং দুই, বাংলায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রচারের দায়িত্ব। ওই যে স্টেট্স্ম্যানের মন্তব্যের যে-কথা পবিত্রবাবু বলছিলেন সেটা ওই প্রচারেরই একটা অংশবিশেষ। কিন্তু আমার বাসনা আছে, বাংলার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটা বাংলা দৈনিকপত্র বের করার। আমি ভাবছিলাম, এ ব্যাপারে যদি আপনার সক্রিয় সাহায্য পাওয়া যায়। ... ...

শিবিরা এত গরীব, ওদের কীকরে সংসার চলে সেটা একটা ভাবার বিষয়। কেউ জিগ্যেস করলে শিবি তার কাজের ফিরিস্তি দেয়, “বাড়ির মেয়েদের কাচ থে কিচু না কিচু কাজ জুটেই যায়। কেউ বলে, শিবি চাল পাছড়ে দে – শিবি চাল বেছে দে – শিবি উঠোন ঝাঁট দিয়ে দে – গোয়াল পরিষ্কার করে দে, ধান ভেনে দে, চাল কুটে দে—কত কত ফাই ফরমাশ! মিলনীও কাজ করে সমান তালে। তবে ছেলেদের সমান মজুরি ও পায় নে কুনোদিনই। অবশ্য আমিও পাই না।তবু বোনের থে কিচু বেশি মজুরি পাই মেয়েদের মদ্যি বেশি চৌকোস বলে”। অথচ সে পরিশ্রমে, দক্ষতায় পুরুষদের সঙ্গে সমানে তাল মেলাতে পারে। কিন্তু সেকথা মানছেটা কে? ... ...

বাংলা পড়া শেখার কথা সায়েরা একদিন ভয়ে ভয়ে আলীর দাদীকে বলেও ফেলে। আলীর দাদী কিন্তু মোটেও রাগ করলেন না। উলটো তিনি বললেন, মেয়েদের বাংলা পড়তে ও লিখতে, গোনাগুনতি শিখতে পারা উচিত। তাহলে তারা নামাজ শিক্ষাসহ ইসলামী বইগুলো পড়তে পারবে, নিজের বাচ্চাকাচ্চাকে দ্বীনি এলেম শেখাতে পারবে, খসম দূরে কোথাও কাজে গেলে তাঁকে চিঠি লিখতে পারবে, চিঠি লিখে নিজের বাবা-মায়ের খোঁজও নিতে পারবে। তাছাড়া মেয়েরা যদি গোনাগুনতি না শেখে, পাই পাই হিসেব করতে না পারে তাহলে সংসারের আয়-রোজগার বারো ভূতে লুটে খাবে। সায়েরার ইচ্ছার কথা শুনে আলীর দাদী ঠিক করলেন তিনি মেয়েদেরকে বাংলা আর হিসেবও শেখাবেন। এই কথা জানার পরে মেয়েদের বাবারা তো বটেই আলীর চাচা (কাকা) মান্নাফ, ইয়ার নবী আর হারুনও বেঁকে বসলেন। ... ...

অনেক পুরনো এই মস্কো শহরের পথঘাট সুপ্রশস্ত। লন্ডন-প্যারিস-ভিয়েনা-রোমের মত সেখানে কোনো সরু বা কানা গলি নেই। তার কারণ জানতে বেশিদূর যেতে হয় না। স্তালিন (আক্ষরিক অর্থে স্টিল বা লৌহমানব) যানবাহন ও জনসাধারণের সুবিধার্থে সেই হাজার বছরের পুরনো ইতিহাসের সঙ্গে কোনো আপোষ করতে চাননি। যেখানে বাধা, সেখানেই বুলডোজার চালিয়ে আপন পথ পরিষ্কার করেছেন, আপন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। অর্থে দ্বিবিধ। তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি রুমানিয়ার চাউসেস্কু সেপথেই চলে বুখারেস্টকে আলোকিত করতে চেয়েছিলেন। নির্মম হাতে প্রাচীন শহরকে নির্মূল করে কংক্রিট নগরী গড়ে তোলার পথে অনেকটাই এগিয়েছিলেন। অকালে তাঁর নিধন না হলে বুখারেস্ট শহরের ইতিহাসকে সমূলে উৎপাটন করে সারিবদ্ধ দশতলা ফ্ল্যাট বাড়ি বানিয়ে দেওয়াটা অসম্ভব হত না। ... ...

ও আমার ন্যাংটো বেলার বন্ধু। এ-রকম কথা বলার মানুষ ক্রমেই কমে আসছে। অথচ আমাদের, ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে, সবার, 'ন্যাংটো বেলা' ছিল। শহরে হয়তো আলাদা। শহরে ধনী উচ্চমধ্যবিত্ত মধ্যবিত্ত স্বল্পবিত্তদের ক্ষেত্রে আলাদা হতেও পারে, কিন্তু সুবিধাবঞ্চিতদের জীবনে এখনো গ্রাম বেঁচে আছে। খেলায়, মেলামেশায়-- অভ্যাসে। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় কাউকে কাউকে ঘুরতে আসতে দেখেছি প্যান্ট না পরেই। পুকুরে স্নান করার সময় ছোটদের পোশাকের কোনো বালাই নাই। বর্ষাকালে যত খুশি কাদা ঘাঁটার জল মাখামাখি করার কাদায় গড়িয়ে ফুটবল খেলার প্রভৃতি আজো জমজমাট। ... ...

পলিটিক্স্ তো এক-একজনের এক-এক রকমের হতে পারে। যেমন ধরুন আপনি নিজেই ন্যাশনাল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ হয়েছেন। তার মানে তো এই নয় যে, সরকারী স্কুল-কলেজ যারা এখনও ছাড়তে রাজি নয় আপনি তাদের বিরোধী। মূল একটা ঐকমত্য থাকলেই সংবাদপত্রে এক সঙ্গে কাজ করা যায়, বলে মুজফ্ফর, সেখানেই আমাদের প্রগতিশীলতা। নানা মতকে একটা প্ল্যাটফর্মে এনে আলোচনায় কোন আপত্তি নেই আমাদের। নিজেদের একটা মত থাকতেই পারে, কিন্তু বিরুদ্ধ মতকেও যথেষ্ট শ্রদ্ধা দেখিয়ে সেই মত কাগজে ছাপতে কোন আপত্তি হবে না আমাদের। তবে হ্যাঁ, কৃষক শ্রমিক অভুক্ত অর্ধভুক্তদের কথা আমরা লিখব, লিখব পূর্ণ স্বাধীনতার কথা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পাব না। সংবাদপত্র কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের মুখপত্র এ কথা আমরা বিশ্বাস করি না, কিন্তু তাঁবেদারও নয় কারো। ... ...

আমি বনে-বাদাড়ে ফুলফল তুলে বেড়াতাম - কোথায় বেজির গর্ত, কোথায় সাপের খোলস, কোন ঝোপে কোন গাছ, তাদের আলোছায়ার সঙ্গে কেমন অচেনা নতুন দেশে এসে পড়ার বিস্ময়। যা দেখি, সবই অনির্বচনীয়। বেজির গর্ত দেখে মনে হতো পাতালের বামনের দেশ পর্যন্ত চলে গেছে ওই গহীন সুড়ঙ্গ। সেখানে যক্ষের পুরী, নাকি পৃথিবীর অতল তল কে জানে? কিছু প্রশ্নের উত্তর না পাওয়াই ভালো। কল্পনায় অজস্র সম্ভাবনা মনকেও দূরগামী করে। ঝড়ে পড়া জাহাজের মাস্তুলে উড়ে এসে বসা অ্যালবাট্রস, যে এনে দেয় আশার আনন্দ, এনে দেয় গভীর পর্যটনের স্বাদ আর বয়ে আনে সুগভীর বেদনার মতো বহু দূর অভাবনীয় সমুদ্রের পেটের ভেতরের নতুন গন্ধভরা বাতাস, বিপদগ্রস্ত নাবিকের যে পথপ্রদর্শক। সেসবই ভাষার অতীত। আমার ঘোরাঘুরিতে বিরক্ত মা বকাবকি করত। ভয় পেতো কবে অপঘাতে মরেই যাব। ... ...

“গ্রিগরি, এতক্ষণ আপনি আমি দু’জনেই প্রভূত রেড ওয়াইন পান করেছি। একটা ল্যাটিন প্রবাদ আছে – ভিনো ভেরিতাস। মদ্যে নিহিত আছে সত্য। তাই বলি, আমরা আফ্রিকাতে যাদের সঙ্গে কারবার করি, তাঁদের পূর্ণ সততা সম্বন্ধে সন্দিহান হওয়া স্বাভাবিক। সে সন্দেহ আমাদের আছে। যে ঋণ গ্রহীতাদের কথা বলছেন, নিজেরাও জানেন তাঁদের সততা বিবাদিত। তাঁরা এটাও জানেন যে আমরা ব্যাঙ্কাররা সেই একই সন্দেহ পোষণ করি। সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি। তাই যে বৃহৎ খনিজ তেলের ডিলগুলির কথা আপনি ভাবছেন – যেমন এঙ্গোলা, নাইজেরিয়া, কঙ্গো – সেখানে আমরা সম্যক সাবধানতা পূর্বক ঋণ দিয়ে থাকি। এক পয়সা মারা যায়নি। আমাদের রাশিয়ান অভিজ্ঞতা বলে আপনাদের দেশেও সেই একই সমস্যা। আপনাদের ব্যাবসায়িক কর্মকর্তারা আরমানি স্যুট পরে দারুণ আমেরিকান ইংরেজিতে বক্তিমা দিলেও আমাদের সন্দেহ দূরীভূত হয় না। সেটি প্রকাশ করলে আবার আপনারা ক্ষিপ্ত হন”। ... ...

কতক্ষণ লেগেছিল পৌঁছোতে? দু আড়াই ঘন্টা হবে। সে দেখিয়ে দিয়েই চলে গেল। আমি ব্যাগ কাঁধে দরজা খুললাম। দরজা খুলেই হাঁ হয়ে গেলাম। দেখি গাদাগাদি করে মানুষ ঘুমোনো। কেমন বলেন তো! যেদিকে একজনের মাথা সেইদিকে আরেক মানুষের পা। মানে অল্প জায়গায় বেশি মানুষ আঁটাতে গেলে যেমন ভাবে শুতে হয় তেমন। প্রায় দেড়শ লোক এক ঘরে। কত বড় ঘর! ছোট। ওইটা আসলে একখানা ফ্ল্যাট। এই আমাদের এখানে যেমন ফ্ল্যাট বাড়ি দেখেছেন সেই রকম। হাসব্যান্ড ওয়াইফ একটা কী দুটো বাচ্চা নিয়ে থাকার যে ফ্ল্যাটবাড়ির ঘর হয় সেইরকম। দুটো রুম। কিচেন। আর পায়খানা বাথরুম কটা? একটা। ... ...

কাকিমা বলছিল, আরে! শুকদেবের হাতেও মোটা কাঠ ছিল, কুড়ুলও ছিল। ঝামেলা শুরু হবার আগে সে কাঠ কাটছিল, চাইলেই সে সেগুলো ব্যবহার করতে পারত। কিন্তু সে তা না করে মাথা ঠান্ডা রেখে শুধু ঢালের মতো করে মোটা কাঠ দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করে গেছে। নাহলে রক্তগঙ্গা দ্বিগুণ হতো, শানু! ... ...

আর আমি?– প্রশ্ন করে কাজি। তুমি? তুমিই খানিকটা আমার প্রেরণা বলতে পার। বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতিতে যখন তুমি প্রথম কবিতা পাঠালে করাচি থেকে, আমি তখন সমিতির সহকারী সম্পাদক। তার আগে দুয়েকখানা চিঠিও তুমি লিখেছিলে। কিন্তু ক্ষমা নামে একটা কবিতা যখন পাঠালে, তা ছাপা হল। তোমার প্রথম ছাপা কবিতা। ছাপাবার সময় শুধু কবিতাটার নাম আমি বদলিয়ে দিয়েছিলাম, ক্ষমার বদলে মুক্তি। তুমি রাগ তো করলেই না, চিঠি লিখে ধন্যবাদ দিলে। ... ...

আমাদের দুটো গ্রাম। পাশাপাশি। দুটো জমি পেরোতে হয়। একটা চার বিঘা। আরেকটা তিনবিঘা। চার বিঘা এক সময় আমাদের ছিল, ফুটবল খেলার ম্যাচে বুট না থাকায় মার খাচ্ছে গ্রামের ফুটবল দল। অতএব বুট কিনতে চার বিঘা জমি বিক্রি করে দিলেন বাবা। এ-সব শোনা। মায়ের পতি নিন্দার আবশ্যিক উপাদান: উড়িয়ে পুড়িয়ে খাক করে দিলে। এবং অবিস্মরণীয় উদ্ধৃতি: ঘর জ্বালানে পর ভালানে। ... ...

আপনার ধন কেমন ভাবে নিবেশিত হবে তার স্ট্রাটেজি তৈরি করেছিলেন ফান্ডের দুই ডিরেক্টর – অর্থনীতিতে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত মাইরন শোলস এবং রবার্ট মেরটন। নোবেল বিজেতারা আম জনতাকে জানালেন, নির্ভয়ে থাকুন। আমাদের নিবেশন কৌশলটি এমনই ফলপ্রসূ এবং অভ্রান্ত, যে কোনো ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক বিপর্যয় না ঘটলে আপনাদের অর্থ এবং তার মুনাফা সুনিশ্চিত থাকবে। আমাদের হিসেব অনুযায়ী এ ধরণের ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক বিপর্যয় এক শতাব্দীতে একবার মাত্র ঘটতে পারে। চার বছর বাদে রাশিয়াতে প্রভূত লোকসান করে এল টি সি এম তাঁদের গ্রিনিচ কানেকটিকাটের অফিসে তালা দিলেন। ... ...

দাদু বলেন, একে নবজাগরণই বলা যায়। ইংরেজ আমলেও ইংরাজী শিক্ষায় শিক্ষিত হতে থাকা বাঙালি বঙ্গের ভাবধারা – তার চিন্তন মনন ও আদর্শকে রূপদান করতে লাগল। শাসক আর শাসিতের মধ্যে সংঘর্ষ, কখনও বা সম্মিলনে গড়ে উঠতে থাকল বঙ্গের রূপরেখা। সেই নবজাগরণের কালে দক্ষিণ রাঢ়বঙ্গ ও দক্ষিণ দামোদর অঞ্চলের প্রেমচাঁদ তর্কবাগীশ হলেন তার একজন সহযোগী। ... ...

কাজিকে এতক্ষণ চুপচাপ বসে থাকতে দেখে খারাপ লাগে মুজফ্ফরের। একেই ওর শরীর ভালো নেই, তার ওপর আবার বকাবকি করল সে। সত্যিই তো, বেচারার স্বভাবই এরকম। কাজি বিশ্বাস করে না ভূ-ভারতে এমন কোন মানুষই নেই। কেউ যদি ঠকিয়েও নেয়, কাজি হজম করে নেবে বিনা বাক্যব্যয়ে। মুজফ্ফর বলে, তোমার শরীর ঠিক আছে, কাজি? ... ...

ঝলমল করছে দিল্লি এয়ারপোর্ট। ওদের জন্য সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার কথা কোনো এক অচেনা লোকের। যাকে দেখতে পাওয়ার কথা এয়ারপোর্টের ঝকঝকে আলোতে বাইরে কোথাও দেখা গেল না তাকে। বারবার ফোন করে একখানা এড্রেস পাওয়া গেল কেবল। এক হোটেলের অ্যাড্রেস। একখানা ট্যাক্সি ধরে যেতে হবে সেই হোটেলে। বলল, সে হোটেলের রিসেপশন-এ পৌঁছোলেই জানা যাবে সব কিছু। পাওয়া যাবে ভিসা, পাসপোর্ট আর চাকরির কাগজপত্র। ফোনের ও’পাশ থেকে একটা অচেনা গলার স্বর বলেছিলও এ কথাগুলো। ... ...

একদিন নারায়ণ ফোন করে। "স্যার, ভাবতে পারবেন না এত মাছ হয়েছে! রান্নাপুজোর দিন থেকে মাছ বিক্রি শুরু করেছি। পাড়া প্রতিবেশী জানতে চাইছে এত মাছ হচ্ছে কীকরে? আপনি সুস্থ হয়ে আসুন৷ আমরা অপেক্ষা করবো। আপনাকে এক লাখ টাকা দেবো৷ আমার ক্ষেত খামার পুকুর সব সাজিয়ে দেবেন।" শুনি আর ভাবি, সোমদা বিভিন্ন ব্লকে কিষাণ কিষাণীদের জন্য যে ব্যবস্থা করে দেয়(কৃষি প্রশিক্ষণ, ফার্ম ডিজাইন) তাতে তাদের যা রোজগার হয় সোমদার বেতন তার চেয়েও কম। ... ...

নজরুল চুপ করে বসে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটা, বলে, আলি যখন বিয়ের প্রস্তাব দেয় আমাকে, আমি তখন জিজ্ঞেস করেছিলুম, আপনি কি আপনার ভাগ্নীর মতামত নিয়েছেন? সে কি চায় আমাকে? যে উত্তর আমি পেয়েছিলুম তা হল, আপনি চাইলে ও এক কাপড়ে আজ রাতেই বেরিয়ে যাবে আপনার সঙ্গে। বিয়ের দিন রাত্তিরে যখন বুঝতে পারলুম ওদের ওই আকদের শর্ত কিছুতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় আমার পক্ষে, তখন বাসরে আমি নার্গিসকে প্রস্তাব দিয়েছিলুম – মনে রেখো মুজফ্ফর ভাই, আকদে আমি সই করিনি, কিন্তু ইজাব কবুল তো হয়েছিল – আমি প্রস্তাব দিয়েছিলুম, আমার হাত ধর, আমরা বেরিয়ে যাই। গলাটা ধরে আসে কাজির। কিছুক্ষণ নিঃশব্দ বসে থাকে সে। তারপর বলে, ও রাজি হয়নি। ... ...

অনন্তর কানে কিছুই গেল না, যেন সে বধির, যেন বা অন্ধ। আর এক দিকের দাঁড়ে আজ লোক নেই, তাই আজ এই মহাবিপদের সামনে পড়ে গেল তারা। “পাঁচু, সামাল” বলতে বলতে সে ততক্ষণে হালে বসে পড়েছে। দু’জনে প্রাণপণ চেষ্টা করে নৌকো সোজা করার। কিন্তু ঘূর্ণিতে পড়ে গেছে নৌকো। মোচার খোলার মতো তারপর জলের কুটিল প্যাঁচাল টানে সেটা একমুখে ছুটে গেল প্রথমে, তারপর ঘুরতে লাগল ঘূর্নির ভেতর।নৌকো ভয়ঙ্করভাবে দুলতে দুলতে হেলে গিয়ে জল ঢুকতে লাগল। দুজনেই তখন অন্ধ।ইষ্টদেবতাকে ডাকতেও ভুলে গেল তারা। স্বর্ণকেশিনী ময়াবিনী নারীর মতো নৌকো সমেত সোনালি পাট তাদের জ্ঞানহারা করে দিলেও সমানে তারা চেষ্টা চালাতে লাগল, তবু নৌকো ছেড়ে লাফ দেবার কথা প্রথমে মাথায় এল না। ... ...