
একটা (লালগড়) নয়, দুটো (লালগড়, পার্বত্য দার্জিলিং) নয়, তিনটে(লালগড়,পার্বত্য দার্জিলিং,নন্দীগ্রামের কিছু অংশ) নয়, অনেকগুলো মুক্তাঞ্চল মাথায় করে বেঁচে আছি আমরা আপাতত:। একেকটা জগতে আরেকটা জগতের আলো বা বলা ভাল অন্ধকার ঢুকে পড়ার ভয়। ... ...

এই কয়েক মাস আগে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে টাটার শহিদোচিত প্রস্থানের পর যখন সারা-রাজ্য "হায় টাটা! হায় ত্রাতা!' এইরকম বিলাপের মধ্যে দিয়ে কেঁদেও কূল পাচ্ছে না, তখন একে একে বন্ধ হয়ে গেছিল বা যেতে বসেছিল নৈহাটি-গরিফার কারখানাগুলি, আমরা জানতেও পারিনি। অবিশ্যি এই বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলি টাটা-র ন্যানো প্রজেক্টের মত অতখানি হাই-প্রোফাইল ছিল না -- নিতান্তই মামুলি কিছু জুটমিল, রঙের, কাগজের কারখানা, বা এইরকম আরো কিছু ছোট-বড় মিল-ফ্যাক্টরি। ... ...

১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সালে শমীক মুখোপাধ্যায় লোকপরিত্রাণ বলে একটি রাজনৈতিক পার্টির উল্লেখ করেছিলেন। আমাদের অনেকের পড়ে ভালো লেগেছিলো যে আইআইটির বেশ কিছু তরুণ ইঞ্জিনীয়ার মিলে একটি রাজনৈতিক পার্টি গঠন করেছেন এবং অতি পরিচিত 'কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি' থেকে দূরে গিয়ে সত্যিই মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছেন। অন্তত: এই 'হোপ' ও 'চেঞ্জ' এর মেসেজটিই তাঁরা আমাদের কাছে পৌঁছোনোর চেষ্টায় ছিলেন। ... ...

শিল্পায়ন! এই নির্বাচনের প্রধান ইস্যু, যে ধামাকার নিচে অন্ধকারে চাপা পড়ে যায় অতীতের বন্ধ কারখানাগুলি। আসুন, একটু পিছনে ফিরে তাকানো যাক, এ রাজ্যের সেইভাবে খবর না হওয়া কিছু বন্ধ কলকারখানার দিকে। তাদের মালিক শিল্পপতিদের কীর্তিকলাপের দিকে। তাদের শ্রমিকদের দিকে। কেমন আছেন তাঁরা? কী বলছেন? আর শিল্পায়নের পরিসংখ্যানই বা কী বলছে ? ... ...

সোদপুর ব্রীজের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় রেলস্টেশনের সামনে অনেক উঁচুতে কংগ্রেসের বিশাল ব্যানার প্রথমেই আপনার চোখে পড়বে। সোনিয়াজীর হাস্যোজ্জ্বল ঘোমটা-টানা মুখ, হাত নাড়ছেন আমার -আপনার উদ্দেশ্যে, মনমোহনজীও আছেন, কিছুটা খাটো হয়ে। বেশ। ভালো কথা। কিন্তু নীচে-র লেখাটার যে মানে বোঝা গেল না, সেটা মোটেই ভালো কথা নয়। আমার পক্ষে, সম্ভবত: কংগ্রেসের পক্ষেও। একতা আর সদ্ভাবনা তো বুঝলাম, সুরক্ষাও বোঝা গেল, কিন্তু "ভীত-শান্তি'? এমন কোনো শব্দ কী শুনেছি এই বেঁটেখাটো বাঙালী জীবনে? ইহা কী বাংলা ভাষা? কে বলবে রে আমা-আ-য়? ... ...

লঙ্কা কান্ড - বেশ কিছুদিন ধরেই খবরের শিরোনামে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের যুদ্ধ ঘোষণা এবং যুদ্ধের ফলে ক্রমশ: কোণঠাসা হয়ে যাওয়া LTTE রা, সব মিলিয়ে রাজাপক্ষের মুখে এখন সাফল্যের চওড়া হাসি। আর সেই হাসির ফাঁকেই চাপা পড়ে যাচ্ছে শ্রীলংকার বর্তমান রাজনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি, যা এই যুদ্ধের থেকে কম ভয়ানক নয়। প্রেসিডেন্ট তার যুদ্ধটা শুধু মাত্র তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধেই শুরু করেননি, সেই একই যুদ্ধ তিনি অনেকদিন থেকেই শুরু করে দিয়েছেন দেশের মধ্যে। ... ...

নান্দীমুখ: যেখানে "দি এলিফ্যান্ট প্রজেক্ট" ছাড়া অন্যদের কথা। থিয়েটার মানে হল চৌকো, গোল বা বিশেষ জ্যামিতি-বিহীন রঙ্গবেদীতে আচরিত একটি সজীব শিল্প -- যে রঙ্গবেদী কখনও দর্শকের থেকে দূরে কিছুটা উচ্চতায় রাখা, কখনও দর্শকের হাঁটু-গোড়ালির সঙ্গে মেশামেশি করে নেওয়া। ... ...

প্রথমে ভেবেছিলাম নাম দেবো Vote টি কাব্য; কিন্তু কাব্য? এই কাগদেশান্তরী গরমে কাব্য? অগত্যা ভোটের গরম-ই সাব্যস্ত হল। নাম বাবদ মডারেটরের কাছে কিছু কর্জ হল। হ্যাঁ, কেউ যেন সিরিয়াস লেখার আশায় বসে না থাকে (অ্যাজ ইফ, কেউ বসে আছে)। এ ঘোর নিদাঘে আমি শুধু চাট্টি কুচ্ছো করবো, কিছু পি এন পি সি, কিঞ্চিৎ বিলাপ ও বাদবাকি প্রলাপ। হনুদা পড়ে রাগে-দু:খে মুখ ভেটকে উঠে যাবে, কেউ-কেউ পড়বেই না, কিন্তু তাতে আমার কচু। সরি, কচুপোড়া; ৪২ ডিগ্রির কথা মনেই ছিল না। ... ...

গত তিন বছরে অন্তত পাঁচ জন বিরোধী পক্ষের সাংসদ খুন হয়ে গেছেন, নিখোঁজ হয়েছেন আরো অনেকেই। সমস্ত ক্ষেত্রেই তদন্তের ব্যপারে আশ্চর্য নীরব থেকেছে পুলিশ, এবং আজ অব্দি কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় নি। সবচেয়ে বড় আঘাত নেমেছে মিডিয়ার ওপর। ২০০৯ এর জানুয়ারীতে Sunday Leader এর চিফ এডিটর বিক্রমাতুঙ্গের মৃত্যু হয় অজ্ঞাত আততায়ীদের হাতে। সরকারী কাজকর্মের সমালোচনা করা এবং সরকারের অপদার্থতা তুলে ধরার জন্য বহুদিন থেকেই টার্গেট হয়ে ছিলেন ইনি। এমনকি মৃত্যুর আগে তাঁর লেখা শেষ প্রবন্ধে তিনি মন্তব্য করে গিয়েছিলেন যে " When finally I am killed, it will be the government that kills me "। শুধু ইনি নন, ২০০৯ তেই ঠিক এভাবে আততায়ীদের হাতে প্রান হারিয়েছেন অন্তত ৮ জন সাংবাদিক। নিখোঁজ হয়ে গেছেন আরো অনেকেই। দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন বহু। ... ...

শব্দে-ঝঙ্কারে-নিস্তব্ধতায়-ব্যঙ্গে-শুদ্ধতায়-মলিনতায় ২-১২ মার্চের জাতীয় নাটক উৎসবের নাটকগুলি এই শহরের নাট্যপ্রেমীদের বেশ কিছুটা ভাবিয়ে ছিলো। রসিকেরা একেবারে কাচ্চাবাচ্চা নিয়ে থিয়েটার দেখতে এসেছেন। ভিড় প্র্রায় ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বিশেষ-প্রসিদ্ধ আন্তর্জাতিক ফিল্ম-উৎসবের মতনই। শহরের সন্ধের আকাশ তাই প্রতিদিনই বদলে যেত, জনতার বিপুল উৎসাহ- সমাহারে। ছোটো শহরের মজা এখানেই। একটুতেই ঘোর লেগে যায় ... ...

যাঁরা ভোট দিলেন না - স্বত:স্ফূর্ত ভোট বয়কট এবার কর্ণাটকের বিভিন্ন নির্বাচন কেন্দ্রে। বারোটির বেশী বুথে টিকি মেলেনি একটি লোকের। গত বৃহষ্পতিবারের খাঁ খাঁ পোলিং বুথ, জনতার তরফ থেকে উন্নয়নের দাবীতে অনুপস্থিতিকে এক মৌন চ্যালেঞ্জ রূপেই দেখছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার। বেশ অনেক অঞ্চলেই এরা পানীয় জল, রাস্তা, সেতুর মত মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ব্যাঙ্গালোর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদেও ভোট পড়েনি বেশ কিছু বুথে। ... ...

গত প্রায় মাসদুয়েক ধরে পশ্চিমবঙ্গের একের পর এক বেসরকারী ইঞ্জিনিয়ারীং কলেজে অশান্তি চলছে। এককালে রাজ্যব্যাপী শিল্পায়নের ধামাকার অংশ হিসেবে রাজ্যের কোণে কোণে যে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোকে অনেক ঘটা করে চালু করা হয়েছিল, সেখানে ছাত্রদের বিক্ষোভ, গোলমাল চলছেই। দুর্গাপুর-আসানসোল-বাঁকুড়া-বিষ্ণুপুর থেকে শুরু করে বারুইপুর-সোনারপুর, এমনকি খোদ কলকাতার বেশ কয়েকটি কলেজেও চলেছে ঘেরাও, ক্লাস স্ট্রাইক। খবরের কাগজে যে খবর উহ্য থেকে গেছে। ... ...

দিল্লিওয়ালা কী করে চিনবেন? একটা প্রচলিত জোক চলে বাজারে, কলকাতার বাঙালির হাতে পয়সা জমলে বাঙালি কী করে? না, এবারে পূজোয় কোথায় বেড়াতে যাবে, তার প্ল্যান করে। বম্বের মারাঠির হাতে পয়সা জমলে সে কী করে? না, কোন শেয়ারে সেই পয়সা লাগালে তার সবচেয়ে বেশি লাভ হবে, তার ছক কষে। আর দিল্লিওয়ালার হাতে পয়সা জমলে দিল্লিওয়ালা কী করে? ... কী আবার, প্রপার্টি কেনে। ... ...

ভোট বাজার - বিশ্বের সর্ব বৃহৎ গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব এখন প্রায় দোর গোড়ায়। চারদিকে তাই রীতিমতন সাজ সাজ রব। একশো কোটি মানুষের দেশ যখন, তার জাতীয় উৎসবটাতো তো একটু জাঁক-জমকপূর্ণ হবেই। তো একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক, এই ২০০৯ এর লোক সভা নির্বাচনের খরচা পাতির দিকে। দুই প্রধান যুযুধান দল, অর্থাৎ কংগ্রেস এবং বিজেপির মোট নির্বাচনী খরচ প্রায় ৮০০ মিলিয়ান ডলার ছুঁতে চলেছে। এছাড়াও অন্যান্য যে সব দল বা উপদল আছে, তাদের ও আনুমানিক খরচ প্রায় ২০০ মিলিয়ান (ডলার)। এরপরেও আছে সরকারী খরচ যা প্রায় ৯০০০ কোটির মতন। এই বিপুল পরিমান টাকা খরচ হচ্ছে কিসের জন্য? ... ...

আজ মৃত্যুর প্রায় ষাট বছর পরে তিনি সবার কাছে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে দোসরা অক্টোবরের ছুটির কারণ হয়েই রয়ে যেতেন যদি না বিধুবিনোদ, রাজু হিরানী আর সর্বোপরি সঞ্জয় ডাট থাকত। আমাদের ডিকশনারীর নতুন লব্ধ শব্দ "গান্ধীগিরি" আজকাল টপ ফ্যাশনে। ফুল ও মোমবাতি বিক্রেতাদের পৌষমাস! আজ যে দেশের কোণে কোণে বাচ্চা বাচ্চা জানে গান্ধীর নাম, তার কৃতিত্ব অবশ্যই মুন্নাভাইয়ের। যা ইতিহাসের বই,স্কুলের পাঠ করতে পারেনি তা করে দেখিয়েছে বলিউডের মহারথীর দল। তাতে কি হল যদি আজ গান্ধীজীকে একজন টাডা অপরাধী, প্রাক্তন ড্রাগ অ্যাডিক্ট, তাঁর জীবনদর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর এক লোকের হাত ধরে জনমানসে ফিরতে হয়! ... ...

২০০৫-০৬ সালে ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৯.৪% এব ২০০৬-০৭ সালে ৯.৬ %। দেশের বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছিলো এই সময়ে। সেন্সেক্স প্রথমবার ছুঁয়েছিলো ১০০০০ এর ম্যাজিক সংখ্যা। তবে শাইনিং ইন্ডিয়ার এহেন আকাশছোঁয়া সাফল্য এই বাজারে মন্দার বুরা নজর এড়াতে পারেনি। কদিন আগে ফোর্বস ম্যাগাজিনে বেরোনো লিস্টিতে সবচেয়ে বেশি বিলিয়নিয়ারের তালিকায় গত বছরের 'এশিয়ার ধনীতম' দেশের স্থান নেমে গেল চার থেকে ছয়ে। ... ...

ভোজ কয় যাহারে - আজ বরম্ একটু খাওয়া দাওয়ার গল্প হোক। শুধু শুধু চা আর লেড়ো বিস্কুটের জোরে আর কতদিন গল্প জমে, বলুন? আচ্ছা, বলেন তো, দিল্লি বললেই প্রথম কোন্ খাবারের কথা আপনার মনে আসে? ....... ঐ দ্যাখেন, একসাথে কতগুলো হাত উঠেছে। এদিকে দমোদিদি চোখ পাকিয়ে এক নিশ্বাসে বলে যাচ্ছেন "ঘেভর ঘেভর'; ঐদিকে অজ্জিতকাকু এন্তার জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটছেন আর মন্তর পড়ার মত করে বলছেন "করিম্স ..... লস্যি ..... মালাই মার কে'। ... ...

অকালমৃত্যু সবসময়ই দু:খের। তার উপর অনিশ্চিত ও কুন্ঠিত মৃত্যুসংবাদ, প্রায় গুজবের মত, যখন বেশ কিছুদিন উৎকন্ঠায় রাখে। বিক্রমের মৃত্যুর খবর আমাদের অনেকের কাছে এভাবেই পৌঁছেছিল। বেশ কিছুদিন অস্থিরতার পর মিডিয়ার থেকে দু:সংবাদের সমর্থন পেলাম। ... ...

না, কৃষকদের মতন এনাদের আত্ম্যহত্যার কোন সরকারী পরিসংখ্যান পাওয়া মুশকিল। এনাদের কেউ কেউ ঐ সুখচর মোড়ের "সরকার-দ"'র মতন খেতে না পেয়ে বিনা চিকিৎসায়ো মারা যান। কেউ আত্মহত্যা করেন। সেইসব টুপটাপ খুচরো ঝরে যাওয়ার ঘটনা কি কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর তালিকাভুক্ত হয়? মনে হয় না। এনারা বলতে যাঁরা কারখানার শ্রমিক, ছিলেন। সেইসব লক আউট কারখানা, যারা কাগজে হেডিং হয়, কিছুদিন। তারপর দিন-মাস-বছর চলে যায়, খবরের কাগজে নতুন হেডলাইন ঝলমল করে। আর সেই কারখানার শ্রমিকরা বাঁচলেন না মরলেন সেসব খবর আর আমাদের জানা হয়না। ওসব আমাদের জন্য নয়। ... ...

একশো দিন কাজ প্রকল্প, যার পোষাকি নাম জাতীয় গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্প, প্রথম আত্মপ্রকাশ করে কংগ্রেসের ২০০৪-এর নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রস্তাব হিসেবে। কংগ্রেস সরকার গঠন করলে আরম্ভ হয় গড়িমসির পালা। শেষে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বামদলগুলোর চাপে ছুঁচো গিলতে হয়। ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এর আইন পাস করে। সব নয়, ২০০টি পিছিয়ে পড়া জেলাতে প্রকল্পের কাজ আরম্ভ হয় ২০০৬ সালে ... ...