কী বুঝবে তার একটুখানি মাত্র রয়েছে আমার মনের ভিতরে। বাকি পুরোটাই তোমার মধ্যে, সে সাকিনটির মধ্যে আর তার সাথে তোমার রসায়নের মধ্যে। শেষটা তো এখুনি বোঝা যাচ্ছেনা ---গেলেই বুঝবে! যাবেটা কোথায়? তাইতো? হ্যাঁ সেটাই বলছি। ছুটি তেমন নিতে হবেনা। একটি বেলা হলেই যথেষ্ট। বাকিটা তোমার ব্যাপার। তবে সক্কাল সক্কাল বেরোনোই ভালো। কাঁচা রোদটি কেমন কুয়াশার গায়ে পড়ে পড়ে ঝিলিমিলু খেলছে দেখতে হবেনা? একটু মুড়িসুড়ি দিয়ে বেরিয়ে পড়ে ট্রেনে উঠে বসে পড়ো। জানলা পেলে তো কথাই নেই। ডান দিক না বাঁ দিক ----করার দরকার নেই, রোদ এখন মিঠে। তারপর ট্রেন চলতে শুরু করলে আবার মোবাইল খুলে বসোনা যেন! তাই যদি কর, তাহলে আর বেরোলে ... ...
সে গ্রাম একেবারেই আদিবাসীদের গ্রাম। খেজুর গুড় তৈরীর বীজমন্ত্র তাদের জানা নেই। প্রকৃতি মায়ের কোল ছেড়ে এই কঠিন নির্দয় নগর জীবনে কোনমতে পেটের ভাতটুকুর সংস্থানে দিন কাটে। এদিকে চা খেয়ে আমরা তো আবার হেলেঞ্চা থেকে অটোয় চেপে নাচতে নাচতে (মানে নাচতে না চাইলেও) চললাম মনটোপলা গ্রামের উদ্দ্যেশে। শরীরটা বিশেষ ভালো ছিলনা, নাহলে আমি কিছুতেই পথ চলতে গ্রাম জীবনের ছবিটুকু চোখে তুলে রাখার সুযোগ ছেড়ে দিই ... ...
যেসব নদীর বুকে পিলার গেঁথে দিয়েছ, তারা কী করে সুখী হবে? তোমার নদীর উপর দিয়ে যেতে ভালো লাগে, ভালো লাগে চুম্বনরত বা আলিঙ্গনাবদ্ধ শুকসারি - কিন্তু যার বুকে ক্ষত, টন টন ভার বয়ে সুখী হতে পারে কি সে? তোমার শহরে যেতে কম সময় লাগে, সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরতে পারো, সেগুলো তোমার লাভ। কিন্তু নদীর তো বুকের রক্ত বাধা পায়, বইতে পারে না, গান গায় না বহুদিন। ওর করোনারি আর্টারি ব্লক হয়ে ... ...
( ৩১) গৌতমবাবু হাত বাড়িয়ে বললেন, ' হ্যাল্লো মিস্টার গুপ্ত... ইটস এ বিগ সারপ্রাইজ। আপনাকে একেবারেই এক্সপেক্ট করিনি এখানে এই সময়ে.... 'কলতান হাত মেলাল। বলল, ' কী করব বলুন... কর্তব্যের টান... কাটাতে পারি না যে। ভাবলাম, আপনাদের পাশে যদি থাকতে পারি এই ক্রুশিয়াল সময়ে। যা করার তো আপনারাই করবেন। আমার শুধু একটাই কৌতূহল, বিল্বদল ঘটক এ ফ্ল্যাটে আছে কিনা। বাকিটা মনে হয় আমার জানা আছে... প্রপার টাইম অ্যান্ড প্লেসে ডিসক্লোজ ... ...
[ইতিহাস কোনো সূচিশিল্পের প্রদর্শনী নয়, নৈশভোজের নরম বাক্যালাপ নয়, মনোজ্ঞ প্রবন্ধ নয়। অতীতচর্চায়--বর্তমান ধ্যানধারণা-নৈতিকতার প্রতি অত নরম, সহনশীল, সুশীল ও স্নিগ্ধ হওয়া সম্ভবই নয়। ] .......[মাও সে তুং অনুসরণে] আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে লুম্বিনী উদ্যানে উদ্ভাসিত অংশুমালী,আহা, অনালোকিত পৃথিবীর অতনু অঙ্গরাগে সুধার পূর্ণভান্ড দিয়েছে ঢালি। জোৎস্নার চিকন পরশে সহসা হেসেমেঘলা নিকাব সরায় চন্দ্রকুমারী কানাগলিতে নামলো একই চাঁদ এসে বস্তি-শয্যায় যৌবনের আদমশুমারি শীর্ণ স্তনে রেখা এঁকে ফেরে তারা, গঙ্গাও কাঁদে চান্দ্রেয় ... ...
উঠে খুব রাগ, কিছুটা শ্রান্তি, শান্তি, অনিশ্চয়তা আর ভয় -আমি কম্বল চাপা দিয়ে শোয়ার চেষ্টা করি,ঘুম আসে না।পাশের বাড়ির কাকিমা চেঁচামেচি লাগায়, "ও আব্বাসের আব্বা উঠো না, সাপে কামড়েছে মনে হয় রোমানাকে।"আমার ইচ্ছে হয় উঠে যাই, দেখি কী ব্যাপার!কিন্তু আমি গত এক সপ্তাহ ঘুমাইনি,আমার বাপের মাথার কাছে ঠাই জেগে বসেছিলাম।আজ সন্ধ্যায় তাকে কবর দিয়ে এলাম,এবার একটু বিশ্রাম দরকার।নিজের অপরাধবোধ হয়,কিন্তু আমার আর উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই,আমি কি অপরাধী?আমি তো কিছু করতে পারতাম,পরিচিত ছিল অনেক, যারা সাহায্য করতে পারত,হাসপাতাল আমার চেনা জায়গা,মেয়েটা হয়তো বেঁচে যেত।কিংবা যেত না।সবাই কি বাঁচে?যাদের আমি নেই!জানি এসব নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য,কিন্তু বিশ্বাস করো,আমার ঘুমটা খুব ... ...
মাচার নেতা ছিল নেতার মাচাটিতে ভোটার ছিল ঘরকোণে, একদা বিকেলেতে মিলন হলো দোঁহে ভোট মাগনের ক্ষণে। মাচার নেতা বলে, শোনো, ভোটার ভাই ভোটটা আমাকেই দিও, ভোটার শুনে বলে, ভোট চাওয়ার আগে রিপোর্ট কার্ডটা দেখিও। মাচার নেতা কহে, ভা-আ-আ-আ-ই দেশে সু-দিন পেয়েছে সবাই, ভোটার কেঁদে বলে, না-আ-আ-ই মোর ট্যাঁকেতে কানাকড়ি নাই। মাচার নেতা বলে, কী হবে কড়ি ... ...
ইমরান বল করতে দৌড়লেই ব্যাপারটা নৈসর্গিক হয়ে যেত, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। কিন্তু সে জন্য ইমরান নায়ক নন। কত লোকই তো খেলে, কতজনকেই চমৎকার দেখতে লাগে, স্টেফি গ্রাফের ফোরহ্যান্ডও একই মাপের নৈসর্গিক। ইমরানের নায়কত্ব তাঁর দেখার ভঙ্গীতে, আর সামনে থেকে বুক চিতিয়ে নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতায়। বুলেটটা খেলে আমি আগে খাব, এই যার ভঙ্গী, সে নায়ক ছাড়া আর কিছু হতে পারেনা। পাকিস্তান যেবার বিশ্বকাপ জিতল, তখনও ক্রিকেট দেখতাম। সেমিফাইনাল বা ফাইনাল, কোনো একটায় অল্প রানে দুই উইকেট পড়ে গেছে পাকিস্তানের, ব্যাটিং অর্ডার পাল্টে নেমে পড়লেন ইমরান। বোধহয় সেঞ্চুরি করেছিলেন সেই খেলায়। পাকিস্তান জিতেছিল। শুধু ক্রিকেট হলে বলা যেত, ওটা স্ট্র্যাটেজি। এইটুকুতে কেউ ... ...
বাংলাদেশের রজনীতিতে জামায়াতে ইসলাম নামে একটা দল কিছুদিন যাবত খুব লাফালাফি করতেছে, ভাব দেখে মনে হয় অথবা কাজকারবার কথাবার্তায় মনে হয় তারা দেশের ক্ষমতা পেয়ে গেছে। আমি রাজনীতি পছন্দ করিনা। এই দল যেভাবে যা করতেছে ভাবলাম তাদের নিয়ে দুইলাইন লিখি...... সুয়রের বাচ্চারাএদিকে যে দেশে ছয় কোটি মানুষগরীব হয়ে গেলো সেদিকে তোদের নজর নাইখালি চিৎকার চেঁচামেচি, নির্বাচন চাই নির্বাচন চাইজান্নাতের টিকেট বিক্রি করে, মন্দিরে গীতা পাঠ করেসবকিছুর সাথে কোরআন কে জোড়া লাগিয়েগায়ে হাতপাখার বাতাস লাগিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাসনির্বাচনে পাশ করলে মেয়েদের বোরখা পড়তে হবে নাবোরখা কি তোদের জাতীয় পোশাক, দলীয় পতাকা?তোদেরকে জিজ্ঞেস করে এই দেশের মেয়েরা বোরখা পড়বে?তোরা কারা, যতটুকু জানি তোরা ... ...
সেবছরও ফুল ফুটেছিল - কিন্তু চারিদিকে এত ধোঁয়া ছিল, সব ফুল ঝরে গিয়েছিল। মৌমাছি, পিঁপড়ে, শামুক বা টুনটুনি কেউ আসেনি, আসতে পারেনি। কেউ পথ হারিয়ে ফেলেছিল, বাকিরা গিয়েছিল মরে। সেবছর মানুষ, কুকুরের মতো মরে পড়েছিল পথে, মধ্যযুগের মতো সেবারেও যারা বেঁচেছিল, নাকে রুমাল চাপা দিয়ে হেঁটেছিল অনেকদিন। হিল তোলা জুতো বিক্রি বেড়েছিল খুব। চারিদিকে ব্যাঙের ছাতার মতো জুতোর কারখানা গজিয়ে উঠেছিল। শুধু মানুষ ছিল না। এই যে সব ঘাস ... ...
বিস্কুটের ডিবেটা খুলতেই ভেতর থেকে পিলপিল করে পিঁপড়েগুলো বেরিয়ে এল। গলগল করেও বলা যায়, কিন্তু তা ঠিক পদার্থবিদ্যার নিয়ম মানে না, প্রতিটি এককের নিজস্ব সত্ত্বা আছে তো! ওরা কেউ জানে না, আমি এখন একটা কি দুটো বিস্কুট খাব। যতই ঝাড়ি না কেন, ওদের কয়েকশত পরিজন খাবই খাব। না চাইলেও। ওরা কি আমার উপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইবে? করেনি তো কোনোদিন। ওরা যদি বিশ্বাস করে ঈশ্বর ওদের ... ...
তাপ্পর তো হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে ব্যস্ত বড়বাজারের রকমারি ভিড় ঠেলে একে গুঁতিয়ে তার গুঁতো খেয়ে লোহার ভ্যানের ঠোক্কর বাঁচিয়ে মুটের ধাক্কা সামলে আমরা কম্বলের দোকান খুঁজতে লাগলাম।গুটিকয় কথা খোলসা করে বলি, যবে থেকে কম্বল দেওয়ার কথা হয়েছে, আমরা ভেবেই চলেছি আমাদের সীমিত ক্ষমতায় ভালো কি দেওয়া যায়। দলের লোকজন এদিকওদিক দেখে শুনে আসছে, কিন্তু মনোমত হচ্ছে না। এই সময় হঠাৎ মনে হল, আমাদের ছেলেবেলায় কম্বল বলতে ভেড়ার লোমের ... ...
: সেতুযেখানে পাহাড়গুলো এসে শেষ হয়েছে সাগরেযেখানে সাগরটা রুষে ফুসে উঠছেযেখানে নীলাভ শুভ্র ঢেউগুলো গর্জে উঠে জানান দিচ্ছেপৃথিবীর শেষ সীমানা..কিন্তু ওধারেও তাকিয়ে দেখো....দূরে... দূরে...যেখানে অন্যান্য কালো উঁচু ঝাপসা পাহাড়গুলোর দলহাতছানি দেয়এপারের পাহাড়গুলোর সাথে বন্ধুত্ত চায়যেখানে সুন্দরী মোহিনী সাগর নীল বেশে এসে বিভাজন ঘটিয়েছে তাদেরতবে...যেখানে মানব সভ্যতা টেক্কা দিয়েছে সৃষ্টিকেযেখানে পৃথিবীর আদিম কাল থেকে তৈরি হয়েছেপ্রকৃতিকে জয় করে নেওয়ার লড়াই....যেখানে মানুষ বানিয়েছে সেতু .......(Bixby Creek Bridge or Big Sur bridge in California between the Sierra Nevada Mountains and the Pacific Ocean)Penned by Saheli BandyopadhyayCopyright Nov 20, 2024 ... ...
তোমার না থাকা দিনগুলোর গল্প অয়ন মুখোপাধ্যায় ১ তুমি থাকলে ঘরটা অন্যরকম হতো প্রতিদিন তোমার সঙ্গে লুকিয়ে দেখা করি,হাওয়ার ভেতর লুকিয়ে থেকেমনে হয়, আমাদের কোথাও কোনো ঘর আছেযেখানে আমরা থাকতেই পারতাম। তুমি এলে আলো বদলায়,জল বদলায়,মনের ভেতর নরম একটা নদী নামে।কিন্তু তুমি তো থাকো না—থাকে শুধু তোমার যাওয়ার শব্দ,আর আমার বুকের ভেতরএকটা ফাঁকা চৌকাঠ। আমি ভাবি, তোমায় যদি আনতে পারতাম,এই সাধারণ ... ...
ট্রাইবুনাল অ্যাক্ট ২০২১ মারফত ট্রাইবুনালের বিচারক নিযুক্ত করার ক্ষমতা শ্রী সর্বশক্তিমান আপন হস্তে লইয়া সংবিধান লঙ্ঘন শুধু করেন নাই, ট্রাইবুনালের উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করিয়াছিলেন। এই মত প্রকাশ করিয়া শ্রী গাভাই আইনটির পূর্বাবস্থা ফিরাইয়া দিয়া যাহা বলিয়াছেন তাহা ঐতিহাসিক বলিলে অত্যুক্তি হয়না।
জন্মসূত্রে ভারতের একজন নাগরিক হিসেবে, এই ভারতবর্ষের মাটিতে দাঁড়িয়ে, ইদানীং কতগুলো হিং টিং ছট প্রশ্ন মাথার মধ্যে কামড়াতে শুরু করেছে। এইসব প্রশ্নেরা আগে কোনদিন দেখা দেয় নি। প্রশ্নগুলো এইরকম : ১> আমি ধর্মকে বেশি গুরুত্ব দেব, নাকি দেশকে, নাকি ভাষাকে? ২> আমার কি একজন রাজস্থানী হিন্দুকে বেশি পছন্দ করা উচিৎ কারণ সেও একজন ভারতবাসী বলে, না কি একজন বাংলাদেশী মুসলমানকে, কারণ আমাদের ভাষা এক বলে? ৩> আমার কি একজন বিহারের অথবা অসমের মুসলমানকে বেশি পছন্দ করা উচিৎ, কারণ আমাদের দেশ এক বলে, না কি একজন বালিদ্বীপের অথবা মরিশাসের হিন্দুকে, কারণ আমাদের ধর্ম এক বলে? না কি একজন বাংলাদেশের মুসলমানকে, কারণ আমাদের ভাষা এক ... ...
টেলিগ্রাফে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ( লিংক প্রথম কমেন্টে ) ২০২৫ শের ভোটার তালিকার ৪৫ শতাংশ ভোটাদের সঙ্গে ২০০২ এর তালিকার ম্যাপিং করা যাচ্ছে না। ২০২৪এর ভোটার ছিল কমবেশি ৭,৬০,০০,০০০ সাত কোটি ষাট লাখ। সেই সংখ্যাটা বেড়েছে। তবু তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই একই আছে তবে তার ৪৫ শতাংশ মানে ৩,৪২,০০,০০০ তিন কোটি বিয়াল্লিশ লাখ সেটাকেও কমিয়ে ধরছি তিন কোটি। এদের হিয়ারিংএ ডাকা হবে। যারা হিয়ারিং নেবেন সেই ভোটার নিবন্ধীকরণ আধিকারিক ... ...
মাঝেমধ্যে অনেক কবিতা-টবিতা লেখার পর, গম্ভীর আঁতেলমার্কা আলোচনা করবার পর মাথায় চিড়িক চিড়িক করে আরো গভীরতর ভাবনারা উঁকি দেয়। তেমনই একদিন- চমচম খেতে নেই, পেটে হবে ব্যাথা যে-হিসি হবে ঘনঘন, ভিজে যাবে ক্যাঁথা যে।সুগারেতে সুখ নাই, এই বেলা বুঝে নাও-যত পারো কম কম (আই মিন বুঝে খাও)।চিনি খেলে বেশি বেশি চলে যাবে আকাশেবুঝবে উচ্ছে ভালো সমাজের বিকাশে। ... ...