“আমি কি কখনও আকাশ দেখব না। আকাশ কোথায়?”জানালা ধরে বিজবিজ করছে ছোট্ট এক শিশু। চোখে তার শুন্যতা। শুন্যতার রঙ কি নীল?নাকি রঙহীন। শিশুর চোখে কোন রঙ নেই। ধূসর বাদামী, যেন শহুরে শালিক, একটু সিঙারা-বনরুটির নষ্ট ময়দা খুঁজছে। ঢাকার যান্ত্রিক শহুরে ব্যস্ততার ভিড়ে, ধুলা–ধোঁয়ার স্তরে আটকে থাকা এক আকাশের নিচে জন্ম ছোট্ট জায়ানের। বয়স দেখতে দেখতে চার ছুঁয়ে ফেলেছে। বাবা–মা দুজনেই চাকরিজীবী; জীবনযুদ্ধে লড়ছে, একটু নিরাপত্তার আশায়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দৌড়াতে দৌড়াতে অফিস, রাত এগারোটায় শরীর জুড়ে ক্লান্তি নিয়ে ঘর — এই যাওয়া আসা যেন এক অলিখিত দৌড় প্রতিযোগিতা। জায়ানের সারাদিন কাটে কাজের বুয়া আকলিমার সাথে। আকলিমা — ইন্টার পাশ, মফস্বল থেকে আসা সরল মেয়ে। জায়ানের বাবার দূরসম্পর্কের ... ...
আজকাল একটা চিন্তায় মন মাঝে মাঝে একটু ঝিম মেরে যায়, এমনিতে কোন কিচ্ছুটি নিয়ে বিশেষ ভাবিত হইনা। আমার চেনা পরিচিত আপনজনেরা যদি ভালো থাকে তাহলে একা বোকা নিজের জন্যে আর কি নিয়েই বা ভাবার আছে!কিন্তু সেই ২০০৯ সাল থেকে সক্কাল হলেই ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে নৌকোটুকু বাদ দিয়ে বাকি সব রকম যান বাহনে চেপে যে এই শ্যামল সবুজ আদিগন্ত খোলা প্রান্তরে এসে হাঁপ ছাড়ি, যে কিনা আমার চোখের আরাম মনের আশ্রয় যাপনের ইন্ধন, সে হারিয়ে আমি থাকব কেমনে!ক’দিন হল বেশ ঠান্ডায় আমাদের আপিস পাড়া রোদ্দুর পড়ে এলে কেমন জুবুথুবু হয়ে যাচ্ছে। গাছপালা পশু পক্ষী মানুষ জন সক্কলে। সন্ধ্যে নামার সঙ্গে সঙ্গে সব ... ...
“Sunlight touches the scent,And the scent touches the sunlight.I tell my tiredness to the dust,For I don’t know the language of birds.”O: “আর নেই? এই শেষ?”n: “শেষ হবে ব’লে কি শুরু করেছি? প’ড়ে দ্যাখো— আমি শুধু শুরুটা করেছি, যার কোনও শেষ নেই।” O: “নেশা পেয়েছ? নেশা? না, নেশা নয়– তুমি ফুরিয়ে যেতে যেতে কখনও আরামের নাগাল পাওনি? পাওনি? পেলে বলো তো, এক্ষুনি বলো!”n: “হ্যাঁ, পেয়েছি। পেয়েছি ব’লেই এই চারলাইন লিখে তোমার কাছে নিয়ে চ’লে এলাম, তোমাকে দেখিয়ে নেব ব’লে...”O: “সে তো বেশ বেশ! করেছ বেশ... কথাদের ভাবনার যে নিজস্ব জগৎ আছে, সেসব থেকে স’রে এসে আমাকে একটা কথা বলো— তুমি কি ... ...
সাত: বাবা ও রবীন্দ্রনাথের প্রতি (আমার বাবা অধ্যাপক ডক্টর নিমাই বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণে..) চোখে ভারী চশমা পরা এক ব্যাক্তিত্ত্বপূর্ণ মানুষ.. তাঁর পড়ার ঘরে বিশাল এক লম্বা টেবিল.. আর রাশি রাশি বইয়ের পাহাড়কাগজ, পেন,ডায়েরি আর তাঁর অজস্র লেখাস্টাডিরুমের আলমারিগুলো বইতে ঠাসা ..আর সামনের তাকে রবীন্দ্র রচনাবলীর ভিড় যাঁর কথা বললাম তিনি আমার বাবা…. হলুদ রঙের একটা দোতলা বাড়ি.. পুব দিকে গঙ্গা নদীছটা বাজতেই গম্ভীর গলায় ডাক.. “উঠে পড়ো”রেডিওতে শুরু হতো সংগীতাঞ্জলিপুবের জানলা দিয়ে মিঠে রোদ বিছানায়.. ভেসে আসত গঙ্গার ভোরের হাওয়া.. আমি পড়তে পড়তে দেখতাম বাবা খাবার টেবিলে বসে আছেন.. পিঠে রোদ পোয়াতে পোয়াতে চা খাচ্ছেনপাশে রেডিও থেকে ভেসে আসছে রবীন্দ্রসঙ্গীত.. সকাল থেকেই ভিড় প্রচুর ছাত্রছাত্রীর.. চল্লিশ বছরের অধ্যাপনার জীবন.. জনপ্রিয় অধ্যাপক… কিন্তু ছুটির দিনে বিকেল বেলার দিনগুলো শুধু ... ...
( ৩৩ ) সকাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন না গৌতমবাবুরা। রাত সোয়া একটা নাগাদ বিল্বদলদের তিনজনকে পুলিশ ভ্যানে তুললেন ওরা। কিছুটা আশ্চর্য হলেন দেখে দলের কেউই আপত্তি করল না। ভাবলেন, কী মতলব আছে কে জানে। কলতান গৌতম রায়কে জিজ্ঞেস করল, ' কোথায় নিয়ে যাবেন ? ' --- ' আপাতত গড়িয়া থানায়। ওখানেই রিম্যান্ডে নেব... চলুন... আপনি আপনার বাইকে আমাদের ফলো করুন... ' কলতান একটু দোনামোনা করে বলল, ' আমার ওখানে যাওয়াটা কি ঠিক হবে ? ' --- ' আপনি না থাকলে কী করে হবে? আফটার অল আপনার ক্লু ধরেই ... ...
এই আর্টিকল #: 33720দেখতে চাও যদি সেবক-মাশরুম—- শংকর ভট্টাচার্য্য ✍️ ০৭/১২/২৫ মাঝেমধ্যে মাঠে নেমে করে নেয় লেফট রাইট,আধুনিক সেবক, কেউ নহে পদাতিক, বাহনে চড়ে যাওয়া আসার আসক্তি অত্যাধিক। শ্রমে কাতর দেশের দশের কল্যাণ ভাবনায়,পরিব্রাজক হতে গেলে অনেক সময় খরচ,কে যায় অতো ঝামেলায়,তাছাড়া মাঠে লেফট রাইটের তামাশা দেখে— কেউ বলে না অনুচিত! সেবার কীর্তন গেয়ে সেবা মধূ নিস্কাশনেবাজিয়ে ঢাক,সহজেই ব্যবহার করা যায় ভক্তির মৌচাক, তাক লাগানো বাণিয়া-কর্পোরেট কর্পোরেশন, জুড়তে নরনারায়ণের ডেস্টিনেশন! দেশের দশের কল্যাণ ভাবনায়–ঘুম নাই খিদা নাইআইঢাই প্রাণ, শান্তি নাই। মাঝে মাঝে করে নিই নকল fight,জীমখানায় মিলে মিশে হয়ে যায় কসরত slight,ধর্ম বা আদর্শ মতে সেবার left right কৌশলেই কেল্লা ফতে!আধুনিক সেবক—কেউ নহে টাকাকড়ি নিয়ে পলাতক,কাঁহাতক নির্বোধগুলো কে বোঝাই,মর্মে গাঁথা সেবা ... ...
ধর্মঠাকুর বাংলার এক অতি প্রাচীন ও স্বতন্ত্র লোকদেবতা, যিনি ব্রাহ্মণ্য হিন্দু ধর্মের মূলধারার বাইরে এক নিজস্ব সত্তা নিয়ে টিকে আছেন। তিনি শুধুমাত্র একজন দেবতা নন, বরং ছিলেন সমাজের নিম্নবর্গের মানুষের আশ্রয়, ন্যায়বিচারের প্রতীক এবং সামাজিক শৃঙ্খলার এক রক্ষাকর্তা। তিনি প্রধানত পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে গ্রাম্য দেবতা (গ্রামদেবতা) হিসেবে পূজিত হন। তাকে সাধারণত ধর্মরাজ নামে ডাকা হয়,কোথাও কোথাও শুধু ধর্ম। তার উপাসনা বাংলার প্রান্তিক সমাজের বিশ্বাস, সংগ্রাম এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার এক ... ...
এই আর্টিকল #: 33712একে কি সভ্যতা বলে?—-- শংকর ভট্টাচার্য্য ✍️ ০৬/১২/২৫সেই প্রভাতে চারি পাশে দিকে দিকে স্বর্ণালঙ্কারে সজ্জিত ঋক,চিত্রাভা চিত্রাভ – নারী পুরুষ সেই প্রথম বুঝতে পারলো ঋকের সাথে তারা আত্মীক,ঋকের সঙ্গে শস্য গাছপালা পশুপাখি মানুষ সকলের আত্মীয়তা সর্বাঙ্গীন,জিজ্ঞাসা করোনা এই বস্তুনিষ্ঠ অনুভব কবে হয়েছিল কোন যুগে কোন দিন। উচ্ছসিত তারা ঋকের সাথে এই সমাকলনে,সেই প্রভাত ফেরীতে প্রজ্ঞান প্রকাশিত হয়েছিল সাম গানে।চিত্রাভ চিত্রাভা সেই প্রথম বুঝতে পারলো ঋকের সাথে তাদের আছে ধ্যান জ্ঞান কর্মে সাযুজ্যতা,ঋক তখন সাম-এর পর তাদের শিখিয়ে দিলেন যজু — মনকে নিয়ন্ত্রণ ও উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত মন্ত্রের কার্যকারিতা। তারপরে ঋক দিলেন অথর্বস্বাস্থ্য ও মন সুরক্ষায়।দীর্ঘায়ুর অর্থ বুঝিয়ে ... ...
নিস্তব্ধ দুপুরে জানলার গ্রিলের যে নকশা দেয়ালে ফুটে ওঠে রোদের কারুকার্যে, তার সঙ্গে খেলাঘর সাজানোর ঐতিহ্য আমার সেই ছোটোবেলা থেকে। 'ছোটোবেলা' লিখি সবসময়ে, ছেলেবেলা আর মেয়েবেলার দ্বন্দ্ব নাহয় থাক। এসবের মধ্যে ছোটোরা কোথায় যেন হারিয়ে যেতে পারে দিক ভুলে। দুপুর নিয়ে এক আশ্চর্য অনুভব চিরদিনই আমাকে আচ্ছন্ন করে এসেছে। টগরগাছে কোণে মাথা নীচু করা ঘুঘুপাখির একমনে কুবকুব ডাকের সঙ্গে হেঁটে বেড়ানো আর জানালার গরাদে বসে পায়রার চিরপরিচিত ডাক। ডালভাতের গন্ধ ছাপিয়ে সেসব আশ্চর্য দুপুর আমার একান্ত নিজস্ব ঐশ্বর্য। কেবল দুপুর কেন? নিজস্ব বিকেল, সন্ধ্যে, অপরাহ্ন, ত্রিযামা যামিনী সবই আছে আমার। সেসব মহানগরীতে বসে অন্য কেউ দেখতে পায় না। আমাকে ভিতর ... ...
ইনসল্ভেন্সি এ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোড ২০১৬ - এক সর্বনাশা আইন সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত জমাকৃত অর্থকে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট কতিপয় ব্যক্তিকে (বা তাদের সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানকে) অনৈতিকভাবে পাইয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষদেরকে নিঃস্ব করে দেওয়ার মাধ্যমের নাম সরকার অধিগৃহীত ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা।যাতে সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত সমস্ত টাকা ব্যাঙ্কে জমা রাখে, তার জন্য সরকার ব্যাঙ্কে এ্যাকাউণ্ট খোলা সরলীকরণ করে নাম দিল জনধন এ্যাকাউণ্ট।অনাদায়ী ঋণ আদায়ের নাম করে সরকার ২০১৬ সালে আইন প্রণয়ন করলো Insolvency & Bankruptcy Code আর রাজ্যে রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত ... ...
অথ ফকির কথা মনের কথন তার শুনি আমি যত বার কুল-কিনারা ভেবে নাহি পাই। অনৃত বচন কত বলে যায় অবিরত শরমের লেশটুকু নাই ৷৷ সর্ব বিদ্যায় পারদর্শী মহাজ্ঞানী বহুদর্শী অসীম জ্ঞানের ভাণ্ডারী৷ দরিদ্রের ভাগ্য হতে সব দুঃখ মুছে দিতে একমাত্র তিনিই কাণ্ডারী ৷৷ তিনি নাকি এম.এ. পাশ লোকে করে অবিশ্বাস নানা জনে নানা কথা কয় ৷ যা খুশী বলুক লোকে বিব্রত করে না তাকে লোকবাক্যে কিবা আসে যায় ৷৷ বয়স ... ...
দেখুন, মিউমিউ করে লাভ নেই, স্পষ্ট কথা স্পষ্ট করেই বলতে হবে। সোনালী খাতুন ফেরত আসছেন, খুব আনন্দের কথা। সোনালী একা না, সাংসদ সামিরুল ইসলাম উদ্যোগ নিয়ে না হলেও আরও জনাপঞ্চাশেক লোককে ফেরত এনেছেন। কিন্তু এটুকুই তো যথেষ্ট না। কথাটা হল, এদের যে ঠেলে পাঠানো হয়েছিল, সেটাই তো অন্যায় এবং বেআইনী। তার প্রতিকার তখনই হবে, যখন সমস্ত দোষীরা শাস্তি পাবে। দোষী যেই হোক, নিরাপত্তাবাহিনীর কোনো হোমরাচোমরা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো মাথা, এই অপরাধীদের শাস্তি চাই। যদি না দেওয়া হয়, বুঝে নিতে হবে, ইচ্ছাকৃত ভাবে এই বেআইনী গুণ্ডামি করা হচ্ছে। বাঙালির বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করা হয়েছে। এই কথাটা স্পষ্ট করে বলা দরকার। এই যুদ্ধঘোষণার যারা দোসর সেই গোদি-মিডিয়াকে নিয়েও একদম সোজা ... ...
নব্য তুঘলক নরাধম সুলতান, তাড়িপারে ডাকি কহিল গোপনে, তুমি আর আমি মিলি দুই জনে, লুঠিব দেশের আম জনগণে, ফন্দি হরেক আঁটিয়াছি মনে, করো তাহা অবধান। সুলতান কহে ধীরে, বেচিব দেশে সম্পদ যা আছে, মোর প্রিয় যত ধনীকের কাছে, কহিব যা কিছু সকলই মিছে, লুটাইব সবই অর্থ যা আছে, সরকারি কোষাগারে। পুন কহে নরাধম, প্রিয় যত মোর ভাই দেশোয়ালি, পাইবে তাহারা সুযোগ সকলি, বাকি দেশবাসী কর দেবে খালি, বিনিময়ে পাবে মোর ফাঁকা ... ...
“তুমি কি চালটা দেবে, নাকি সারারাত এভাবেই বসে থাকব আমরা?”লোকটার গলার স্বরে এমন কিছু একটা ছিল, যা আমার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নামিয়ে দিল। উল্টো দিকে বসা লোকটা হাসছে। সেই হাসিটা আমার চেনা। বড্ড চেনা। কিন্তু মনে করতে পারছি না কোথায় দেখেছি। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। জানালার কাঁচে বৃষ্টির জলের ঝাপটা এমন শব্দ করছে যেন কেউ নখ দিয়ে আঁচড়াচ্ছে কাঁচটা। ভেতরে আসার জন্য মরিয়া। টুর্নামেন্ট হলের এই ঘরটা বড্ড নিস্তব্ধ। অনেকটা মর্গের মতো। আমি দাবার বোর্ডের দিকে তাকালাম। সাধারণ প্লাস্টিকের ঘুঁটি। কিন্তু আমার কেন মনে হচ্ছে ওগুলো প্লাস্টিক নয়? আমার আঙুলগুলো কাঁপছে। ওগুলো ঘুঁটি নয়। ওগুলো চিতা। আমার নিজের হাতে দাহ করা সব ... ...
গতকাল প্রাইমারি রিক্রুটমেন্ট মামলার রায় এসেছে মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। তাই নিয়ে তোলপাড় রাজ্য, সামাজিক মাধ্যম থেকে বাস ট্রেন চায়ের দোকান। এবং যথাযত কারণে বিভিন্ন মানুষ, গোষ্ঠী নেমে পড়েছেন পাবলিক ওপিনিয়ন তৈরির স্বার্থে, narrative building এর স্বার্থে। আমাদের মিডিয়া, কিছু বিজ্ঞ উকিল (যে উকিলদের SIR নিয়ে কেসে, উমার খালেদের কেসে, electoral bonds নিয়ে কেসে বা সোনালী খাতুনদের কেসে খুঁজে পাওয়া যায়না ) মিলে কাল দুপুর থেকে একধরণের নেগেটিভ বাতাবরণ তৈরির জন্যে সচেষ্ট হয়েছে। এনারা বলতে চেষ্টা করছেন যে প্রাইমারি টিচার রিক্রুটমেন্ট সংক্রান্ত যে রায় মহামান্য হাইকোর্ট দিয়েছেন সেটা শুধু মাত্র দয়ার দান এবং যেহেতু ৯ বছর চাকুরীরতো আছেন এই শিক্ষকরা ... ...
ছয় : নারী দিবস আজ সকাল থেকেই অনবরত লোকের ভিড়মিস্টার আর মিসেস পাকড়াশীর তিন কামরার ফ্ল্যাটে ....বেজে উঠছে প্রায়শই কলিং বেলদেখা করতে আসছে অনেকেই হাতে ফুল বা সৌহার্দ্য বিনিময় .. আজ যে ৮ ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস | এই নারীর মুক্তির কথা রিনিতা পাকড়াশীর কলমে উঠে এসেছে বারবার ..লেখিকা হিসেবে পরিচিতি এখন প্রতিবাদী কলম বলে ..হতভাগ্য নারী, দুর্ভাগা নারীর ভাগ্যকে তাঁর কলম দেখিয়েছে আলোতাঁর প্রতিটি গল্প, কবিতা আর উপন্যাসে নারীর ক্ষমতায়ণ, নারীর উঠে দাঁড়ানোর গল্প ..কত সাধারণ মেয়ে অর্জন করেছে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় |কয়েকটি বাচ্চা মেয়ে আর ছেলে দেখা করতে এসেছে'হাতে তাদের ফুল, মুখে স্মিত হাসিএপাড়ারই হবে..বোধহয় সদ্য কলেজ যোগ দিয়েছে প্রণাম করে বললে, "আজ দুপুরে ... ...
ট্রেন চলেছে দিল্লি, রাজধানী এক্সপ্রেস। বিকেল পাঁচটায় ছেড়েছে হাওড়া থেকে। অম্লান বসে আছেন লোয়ার বার্থে, নিজের সিটে। সামনের লোয়ার আর আপার বার্থে আছেন দুজন যুবক, বয়স পঁচিশের আশেপাশে। অম্লানকে একবার দেখলে কেউ আর ভুলবে না, তাঁর বাঁ গালে আছে একটা বড় কালো আঁচিল। যুবক দুজন অম্লানের সঙ্গে খুব আলাপ জমিয়ে নিয়েছেন। মাঝে মাঝেই ঝালমুড়ি, কমলালেবু, বাদামভাজা, কফি ভাগাভাগি করে খাচ্ছেন ওঁরা তিনজন। সবাই বাংলাতেই কথা বলছেন। গল্প বেশ জমে উঠেছে। সন্ধ্যা আটটায় ট্রেনটা ধানবাদ এলে অম্লান কৌটো খুলে লুচি, আলুর দম আর মিষ্টি খেতে শুরু করলেন। অম্লান যাচ্ছেন দিল্লি, অফিসের কাজে। তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানির অ্যাকাউন্টস অফিসার। কাল দিল্লি পৌঁছবে ... ...
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যখন পনেরো বছরের রিপোর্ট কার্ড বের করেন, তখন বুঝতে হবে নির্বাচন কাছে এসে গেছে। আমরা বাঙালিরা রিপোর্ট কার্ড দেখতে ভালোবাসি—স্কুলে ছেলেমেয়েদের, সরকারের, এমনকি প্রতিবেশীর বউয়ের রান্নার। এবার সাত হাজার কোটি টাকা থেকে বাষট্টি হাজার কোটি টাকা—সংখ্যাটা শুনলে মনে হয় আমরা সিঙ্গাপুরে আছি। কিন্তু হাসপাতালে গেলে এখনও সিরিয়াল পেতে রাত জাগতে হয়, স্কুলে বাচ্চাদের বেঞ্চ নেই, রাস্তায় গর্ত আছে যেখানে পুকুর বানানো যায়। তবু আমরা বিশ্বাস করি। কারণ বিশ্বাস না করলে আমাদের আর কী-ই বা আছে? চুরানব্বইটা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প—এই সংখ্যাটা শুনে মনে হয় আমরা প্রত্যেকে একেকটা প্রকল্পের ভাগীদার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, কৃষক বন্ধু—এই নামগুলো শুনলে মনে হয় দেবী লক্ষ্মী ... ...