২০০২ আই আরয়ের সময় নাম বাদ দেবার আগে নিশ্চয় হিয়ারিং হয়েছিল। তবে সেসব বিশেষ কেউ জানতেও পারেনি। এখন যদি বলি ওইসময়ে হিয়ারিংকে ম্যানিপুলেট করেছিল সিপিএম তাতে এমনকি কিছু নকশালপন্থী ঘনিষ্ঠ লোক সাধারণ বাম ঐক্যের স্বার্থে লাফাতে লাফাতে এসে সব দোষ এআইয়ের ওপর চাপাচ্ছে। ২০০২ সালে এআই ছিল না, পরে এসেছে। তাছাড়া ২০০২ এ যে লাখ লাখ নাম হাতে কাটা ছিল তা নামে কমিশনের হলেও সে হাতটা কার ? ওরা ভুলে যাচ্ছে বাম ঐক্যের ডোমেনে শাসক বামফ্রন্টিদের যাবতীয় কুকীর্তির দায় মূলত সিপিএময়ের। সেজন্য সিপিএমকে দোষ স্বীকার করতে হবে নইলে ঐক্য হবে ঘন্টা। আমি লক্ষ্য করছি কলকাতার কিছু মিডিয়া পারসন সিপিএমকে ... ...
বাবুমশায়দের পেন্নাম। মা জননীদের গড় করি।আজ্ঞে আমার নাম গণেশ হাঁসদা। মাঠের ওপারে ওই কুঁড়েটায় আমি থাকি। ছিটবেড়ায় মাটি লেপা। পচা খড়ের ছাউনি। তেমন বরষা হলে জল বাঁধে না। ঘর ভেসে যায়। আর ঘরে আমার কি বা আছে। একটা ছেঁড়া চাটাই – খেজুর পাতার, আমি নিজেই বুনেছিলাম। একটা মাটির হাঁড়ি। খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করি। ভেঙে গেলে মুশকিল। ওটাতেই ভাত রাঁধি কিনা। যেদিন চাল জোটে আর কি। রোজ তো আর জোটে না। আর একটা টিনের শানকি আছে। ভাত জুটলে ওটায় ঢেলে খাই। কখানা ইঁট জোগাড় করে রেখেছি। ওগুলো দিয়ে ঘেরো করে মধ্যিখানে শুকনো ডালপালা জ্বেলে ভাত আর শাকপাতা ফোটাই ... ...
বাংলাদেশে রক তারকা জেমসের অনুষ্ঠান ভণ্ডুল হয়েছে, সেটা তো অনেকেই জানেন। কিন্তু যে খবরটা এপারে তেমন ছড়ায়নি, সেটা হল, জেঞ্জির সঙ্গে জামাতের জোট। বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে( যদি হয়) বিপ্লবী জেঞ্জিদের পার্টি এনসিপি জামাতের সঙ্গে বিপ্লবী জোট করতে চলেছে। এখনও জোট ঘোষণা হয়নি, তবে সেই লক্ষ্যে আলোচনা চলছে, সব পক্ষই জানিয়েছেন। এবং জোটের বড় শরীক জামাত, জেঞ্জিরা লড়বেন ছোটো ভাইয়ের মতো মোটে ৩০ টা আসনে, এরকমই শোনা যাচ্ছে। যদি চমকে যান, তো আরেকবার লিখে দিই, হ্যাঁ, পূজ্যপাদ নাহিদ, সার্জিত, হাসনাত, সামান্থা, তাবাসসুম ইত্যাদিরা, যাঁদেরকে দুই বাংলায় মাথায় তুলে নাচা হয়েছিল, তাঁরা জামাতের ছোটো জোটসঙ্গী হবার জন্য আপ্রাণ আলোচনা করছেন এখন। বাংলাদেশ নিয়ে যখনই লিখি, তখনি কেউ-কেউ এসে বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এত ... ...
দিনবদলের দিনগুলো,রঙিন,দ্রুত,অবিরাম,আনন্দময়।রাতগুলো গাঢ়,ধীরে চলে,পুরোনো কাঁথায় মোড়া,তেলচিটে বালিশ।পুরোনো ঘামের গন্ধ,যে কটা অশ্রু ফোঁটা ওখানে পড়েছিল,রয়ে গেছে।তারা বড্ড ধারালো হয়ে ফিরে আসে,প্রতিশোধ নিতে চায়। কাটে রাত, গাল কাটে।দিনে অ্যাড্রিনালিন মেশে রক্তে,সব ব্যাথা ভুলে যাই।তারপর বিকেল হলেই এখন,ভয় চেপে বসে বুকের উপর,ঘর যেতে মন চায় না।ঘুম লাগে খুব,ফিরে যেতে হয়। ক্রমে আমি ঘরের অন্ধকারে আমার ভয়ের প্রতিভূ দেখতে পাই,ও শরীর ধারণ করে।আমাকে আমন্ত্রণ জানায়,ডাকে -আমার বুকের রক্ত হিম হয়ে আসে।দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্লান্তি পেছন থেকে ঠেলে,রাত বাড়তে তার জোর বাড়ে,এদিকে বাড়ে ভয়ের আকর্ষণ,সে আরো লোভ দেখায়। আবার ফিরতে হয় ঘরে,সেই কামরায় -যেখানে আমার ভূত আছে,আমার শৈশব কলকল করে লাফিয়ে পড়ে আমার বুকের উপর;আমার দমবন্ধ হয়ে আসে। ক্ষুধিত পাষাণ।আমার ... ...
জামিল রেললাইনের পাশ দিয়ে প্রাণপণে ছুটছিল। তিনজন তাড়া করেছে তাকে। পাশের রেলিং-এর তলা দিয়ে একটা কাঠবিড়ালির মতো শরীর গলিয়ে ওপাশে চলে গিয়ে অ্যাঁকাব্যাঁকা গলি গুঁজির জালে মুহুর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল। ওরা রেলিং পেরোনোর ঝুঁকি নিল না। অন্য এলাকায় ঢোকায় ঝুঁকি আছে। একটা ছেলে ছুটন্ত জামিলকে লক্ষ্য করে ওয়ান শর্টার থেকে একটা গুলি ছুঁড়ল। গুলিটা গিয়ে গেঁথে গেল একটা ঝোপড়ার দেয়ালে।ছেলে তিনটের কুড়ি বাইশ বছর বয়স। অরূপ ঘোষের হয়ে কাজ করে। তিনদিন আগে জামিলের ওয়ান শর্টারে অরূপ ঘোষের একটা ছেলে জখম হয়েছিল। জামিলের মনে হল, গুলিটা পায়ে লেগেছিল।দলের আর একটা ছেলের নাম তুফান। খুব ছোটবেলায় দুজনে একসঙ্গে নৃপেন্দ্র স্মৃতি ... ...
‘অধ্যাত্ম’ শব্দটির অর্থ নাকি ‘আত্মাকে অধ্যয়ন’ বা আত্মা তথা ঈশ্বর সম্পর্কে অধ্যয়ন। অর্থাৎ আপনার এই নাম-পরিচয় সমেত রক্তমাংসের শরীরটা আসলে কে ; আপনি কোথা থেকে এলেন ; বেছে বেছে এই পরিবারেই বা জন্মালেন কেন ; আদানি বা স্ট্যালোন এর পরিবারে কেন জন্মালেন না ; লিবিয়া বা কালাহান্ডির কোনো ভূখা পরিবারেই বা জন্মালেন না কেন ; আপনার জন্মানোর উদ্দেশ্যটা আসলে কী, ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর নাকি অধ্যাত্ম সম্পর্কিত গ্রন্থ থেকে জানা যায়। আর আত্মার স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারলে ঈশ্বরকেও উপলব্ধি করা যায়। তো, ধরা যাক, আপনি এই সব বিষয়ে জানতে আগ্রহী হয়ে অধ্যাত্ম সম্পর্কিত গ্রন্থ খুলে বসলেন। নেট-এ, কিছু পরিষেবা আছে ... ...
সকাল সাড়ে আটটা। কাঁচা রোদ লেগে আছে পিচের রাস্তায়। পাতলা কাঁচের আস্তরনের মতো। ফোটা দুধ আর উনুনের ধোঁয়ার গন্ধ রোজ একটা অদৃশ্য জাল বোনে এখানে। আটকে ফেলে আমাদের। ভাবির চায়ের দোকান। জীবনের ছোট ছোট টুকরোগুলো জড়ো হয় রোজ। আমি আর সোনালী। আমরা হাঁটছি। আমাদের হাত ছুঁয়ে যাচ্ছে একে অপরের হাতে। এই ছোট্ট হাঁটাটাই আমাদের ব্যায়াম… মনের…আমাদের দিনের শুরু। আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ। দোকানে ভিড়। একটা ছোট্ট জটলা। ধোঁয়া ওঠা কেটলি।বাতাসে হালকা শব্দ। কোনো দাঁড়ি-কমা নেই। শুধু মিষ্টি কিছু শব্দ।ট্যাক্স কনসালট্যান্ট। আবার নাট্যকার। জিএসটি। রিটার্ন। ফাইল। কিন্তু কথা শুরু করলেই মনে হয় নাটকের ডায়লগ।বইপোকা। ঝুলো শার্ট আর সরু পাজামা। বিপ্লব। সিস্টেম পচে গেছে? নাঃ! শব্দজব্দে মুখ গুঁজে থাকে ... ...
আলাদা করে চিহ্ন নেই তারিখ সময় গালাগালি হাসাহাসি লবিবাজি... নিষ্ঠুরতা সবসময়ই ক্যাজুয়াল সিরিয়াস অত্যাচার তুলনায় ভাল, প্রতিদিন নুরেমবার্গের কবিতা বদলায়। সাদা পায়রা উড়িয়ে দিয়েও সবসময় যুদ্ধ থামেনা শহর তাকে চেনে—নামে নয়, তারই মত অনেকের চলার ভঙ্গিতে।এই তাদের পরিচয়পত্র;বাসস্ট্যান্ডে চলতি ফুটপাতে স্টেশনে, টিকিট কাটার লাইনে খাদ্যে বস্ত্রে বাসস্থানে। ভারসাম্য হয়ত ভালো হয়ত ভারসাম্য বলতে নিরাপত্তা বোঝায় কিন্তু ভারসাম্য কোথায় ?দুপুরে বিস্বাদ ঠাণ্ডা ভাত কাঁধের ব্যাগটা ভারী লাগে, অসহনীয় একটা পুরোনো সিনেমার গান দূরে বাজছে কোথাও। স্মৃতির সন্ধ্যায় সময় পিছিয়ে যায় শান্ত গ্রাম, ঘরে ঘরে কেরোসিনের আলো, যথেষ্টশহরের মত সর্বতোভাবে অতিরিক্ত নয়। অন্য সময় হলে কিছু প্রশ্ন দেখা দিতসে যে বসে থাকেসেই নিয়ে এই বসে থাকাটাঅপেক্ষা নাকি, শুধু বিরতি..ইত্যাদি বদলে নির্বিকার রাতেহলোকাস্টের শহরটা জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ে, কৌতূহলবিহীন নির্বিকার কিছু মানুষ গলায় চাকতি দেখে চলে যায় আর নাজিদের নাইটক্লাবে গালাগালি হাসাহাসি লবিবাজি, আবার। শহরের ভেতর আমি আর আমার ভেতর শহর কে জানে কার বিবমিষা বেশী, কে জানে কার ইটিনারিতে লেওভার কতক্ষণ !কাল কী ... ...
ইস্কুলের গল্প (৩)এটা ১৯৮১ এর ঘটনা। তখন আমি সপ্তম শ্রেণী( আজ্ঞে না নবম শ্রেণী নয়)। স্কুলে আমরা তিনজন প্রাণের বন্ধু ছিলাম। আমি,অভীক শী আর বিশ্বজিৎ দে। অভীক পরবর্তী কালে যদুপুর হয়ে এখন নামী অধ্যাপক। বিশু আমেরিকা সেটলড। বড় কোম্পানির বড় চাকুরে।তো হয়েছে কী, আমরা তো এক একটা পাজির পাঝাড়া ছিলাম। ক্লাশে আমাদের সামনের বেঞ্চে বসছে বিশু। তার ঠিক পেছনের বেঞ্চে আমি, তারক রঞ্জন গুপ্ত ( তিনি ফ্রান্সে পিএইচডি করে বড় কোম্পানির বড় চাকুরে) আর অভীক। বিশু একটা নতুন সাদা জামা ( সাদা জামা,নীল প্যান্ট আমাদের স্কুলের ড্রেস) পরে এসেছে দেখে আমাদের চোখ চকচক করে উঠলো। নিব পেনের নিব টা ... ...
কাল পনেরই আগস্ট। অখিলেশের জানা আছে এটা স্বাধীনতা দিবস। সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছে ভারত নাকি বিদেশীদের কব্জা থেকে বেরিয়ে আসে এই দিনে। বেরিয়ে এসে নিজেরা নিজেদের মতো ছাঁচে ঢেলে নিয়ে দেশ চালাচ্ছে আর কি।অখিলেশের বাবা বিধূভূষণ মন্ডল অনেক ঘাটের জল খেয়েছে। শেষ পর্যন্ত পঞ্চায়েত সদস্য হবার পর সংসারটাকে দাঁড় করাল।বিধূভূষণ দুটো মাছের ভেড়ি কিনেছিল। দুর্জনে বলে ও দুটোর মালিকানা ছিল অসিত দাসের। বিধূভূষণ জবরদস্তির সঙ্গে ফেরেব্বাজির কৌশল মিশিয়ে ভেড়ি দুটো দখল করেছিল। তারপর থেকে লালে লাল। দোতলা বাড়ি তুলেছিল গৌরসুন্দর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের পিছনে। ওই স্কুলে প্রত্যেক বছর প্রজাতন্ত্র দিবস আর স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা তোলা হয়। হারমোনিয়াম বাজিয়ে বাংলার ... ...
একটা স্বপ্ন আমার দেখা একান্ত দরকার যে কোনো স্বপ্ন নয়;তুমি। না, ভুলিনি ভুলে যাব ভয় হয়, তবু নয় সন্দেহ হয় আরোপিত স্মৃতি;নিশ্চয়ই তা সত্যি নয় তবু স্বপ্ন চাই। মাথা বড় কুটকুট করছে কয়েকদিনআয়নায় তাকালেনিজেকে চেনা যাচ্ছে নাট্রিমারটা চার্জে দিলাম আজ চুল কাটতে হবে,দাড়িও কামানো দরকার। এই সব অস্বস্তিস্বপ্নের চেয়ে স্পষ্টআর আমার স্বপ্ন দেখার আগ্রহ অনেকদূর অতিক্রম করে যায়। দিনের শুরুতেইস্বপ্ন হারিয়ে যায় পরে খুঁজি, খুঁজতে থাকি বাগানে, আলোকিত উঠোনেনির্ধারিত সব ভুল ঠিকানায়। সব রহস্যের সমাধান করতে নেই শেষ প্রকৃতিস্থ পথের সীমানা পেরোতে নেই,তবু ফাঁকা ঘর মাথার ভেতর,তোমার অপেক্ষা করে,একটা সূর্যালোকিত দিনের স্বপ্নে তোমার গলায় গান শুনতে চায়,স্বাধীনতা যেমন হতে পারত। তা হয়না, বদলে সব পেয়েছির বুড়ো মাঝে মধ্যে আসেন সুর টুর করে নিতান্ত অনধিকারে, অবিশ্বাসীকে জ্ঞান দিয়ে যান, যেমন বদ অভ্যাস আজীবন। ... ...
সম্ভবত জানুয়ারি ৩ তারিখ ২০২৬ এসএইআর হিয়ারিংএ যাচ্ছি। কোন নোটিস ছাড়া নিঃশব্দে আমার মতো ৬৯ লাখ লোকের নাম কাটা গিয়েছিল ২০০২ তে। সেসময় কারা মাতব্বর ছিল ?
অন্য কারও জন্য নয় বড় কোনো লক্ষ্য বা আদর্শের জন্য নয় নিজের জন্য, এই শহরে সে একা থাকে। গাড়ির শব্দ শুরু হয় - ভোর বেলা নিজে থেকেই ঘুম ভেঙে যায়, সে বেরোয়,সস্তা ভাতের হোটেল থেকেবাসে ট্রেনে মেট্রোয় ভিড় ভিড় ভিড় ...লেদার ফ্যাক্টরীর সয়ে যাওয়া গন্ধেপ্রাণ ভরে শ্বাস নেয় আজকালফুসফুস ফিরিয়ে দেয় না। বেঁচে থাকা একটা যান্ত্রিক প্রক্রিয়াচিন্তা ভাবনা অপ্রয়োজনীয়সত্যি বলতে তো আর তার জীবনে লক্ষ্য কিছু নেই কাজ নেই — কাজ নেইতবু দিন ভরে যায়;সেটা এই শহরের ক্রেডিট । আশেপাশে পাশ-কাটানো মানুষের ভিড়চেনা নয়, এরা কেউ আবার অচেনাও নয়আন্তরিকতাহীন ;যান্ত্রিক সভ্যতার রথে যুতে দেওয়া ঘোড়া একে অন্যকে দেখতে পায়না চোখে ঠুলি থাকে অকারণ ঘাড় ঘোড়ালেই, চাবুক পড়ে সেই ভয় আর কাঁধের ভার বয়ে বয়ে চলে সারাজীবন। তবু সে যেন কিসের একটা অপেক্ষা ... ...
ছড়ানো ঝিল ভর ভরন্ত। ওপারে ঝোপঝাড় জঙ্গল। এপারে কাঁচা রাস্তা আবলা খাবলা। শুক্লা রাতে চাঁদের আলো খেলা করে ঝিলের জলে।ওপারের জঙ্গল থেকে শেয়ালের দল ডাকতে শুরু করে আচমকা।এপারে শিবমন্দিরের বাইরে ল্যাম্পপোস্টের আলোর ছটা মাখা আঁধারে বসে রাত বারোটা অব্দি চার পাঁচজনে মিলে এন্তার মদ খায়। মদ গিলতে গিলতেই যে যার ঘর সংসারের জমিয়ে রাখা বিষ বাষ্প উগরে দেয়। নেশা চড়ে গেলে কেউ কাঁদে কেউ হাসে। সুহাস আর তারক অশ্রাব্য গালাগালি করতে থাকে। বোধহয় ভগবান বা ভাগ্যের উদ্দেশ্যে।বাইপাস এখান থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার ফারাকে। লোকাল পুলিশ ফাঁড়ি মুকুন্দপুরে। ওখান থেকে রাতের ঝিঁঝি ডাকা আঁধারেমাঝ সাঝে কড় কড় কড় কড় ... ...
প্রথম প্রথমঘরটা ছোট মনে হতপরে পরেছোট নয়, বন্ধমনে হয়।মনে হয় হেরে গেছি।দেয়ালে ক্যালেন্ডার,মেঝেতে দাগ,ওগুলো থাকে।ক্লান্ত লাগেএকজনের পর আরেকজনদিশা কে দেখাতে চায় ?দায়িত্ব কে নিতে পারে ?সবাই ?শুরুতে সে কাঁদত।শুরুতে ছিল সূর্যালোক সত্যিভরসা মতোধীরে ধীরে বোঝা যায় ছমাস অন্তর দিন রাতঅক্সিজেন ফুরিয়ে যায়মাথা ঘোরে।চুপিচুপি শরীর মানিয়ে নেয়।গন্ধ, ওজন।ধুয়ে ধুয়ে চামড়া জ্বালা করেপাতলা হয়ে আসে।তবু সভ্যতারস্পর্শ ধোয়া যায় না সবথেকে যায় গভীরে।যেভাবে মনের অনিন্দ্যে স্মৃতি,তাল সুপুরি পলাশ শিউলিবিরাট ধানের মাঠঘোলা জলের ছোট নদী ;তীরে তীরেনেশাতুর সূর্য ডোবে।একদিন হিসেবের খাতাটাহাতে আসে,এটাকে উন্নতি বলেভাগের কথা শোনা গেল—অর্ধেক,তারপর নিওন আলোর নীচেনেমে আসে অপর্যাপ্ত "স্বাধীনতা"।সে এখন নিজের দরজায়নিজেই তালা দিয়ে বসে থাকেবাইরে রাস্তা আছে,হাজার মানুষ আছে,কিন্তু ... ...
নীরবতা কি নিরপেক্ষ? মৌলবাদ ও আমাদের নৈতিক দায়। অয়ন মুখোপাধ্যায় আমি অনেকদিন ধরেই একটা অস্বস্তি বয়ে বেড়াচ্ছি। এবং কথা বলতে গিয়ে বারবার নিজেকে সংযত করতে হচ্ছে। কখনো কখনো মস্তিষ্কের মধ্যে একটাই ভাবনা চলে শব্দ বেছে বলতে হবে, বাক্য নরম করে বলতে হবে—যেন একটু বেশি স্পষ্ট হলেই কেউ আঘাত পেয়ে যাবে। কিন্তু আজ মনে হয়, এই সংযমটাই আমাদের সময়ের সবচাইতে বড় সমস্যা। কারণ যে বাস্তবতার মুখোমুখি আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে নরম ভাষা আর সাবধানী উচ্চারণ আসলে সত্যকে ঢেকে রাখার কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা এখনও বলতে ভালোবাসি—“সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই।” কথাটা নৈতিকভাবে ঠিক ... ...
ইসলামী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরব হওয়া কেন অনিবার্য।অয়ন মুখোপাধ্যায়আমি বহুবার নিজেকেই এই প্রশ্ন করেছি—“সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই” এই বাক্যটা কি সত্যিই আমাদের দায় শেষ করে দেয়? নৈতিকভাবে কথাটি ঠিক। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে বারবার মনে হয়েছে, এই বাক্যের আড়ালে আমরা অনেক সময় এমন এক নীরবতাকে লালন করি, যা সমস্যাকে চিহ্নিত করার বদলে ঢেকে দেয়। আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে সংগঠিত, আদর্শগতভাবে কঠোর এবং গণহত্যাকে পর্যন্ত ‘ধর্মীয় কর্তব্য’ বলে বৈধতা দেওয়া যে সন্ত্রাসবাদ, তার বড় অংশ যে ইসলামের বিকৃত ব্যাখ্যার উপর দাঁড়িয়ে ... ...
জিঙ্গল বেল ..... জিঙ্গল বেল ..... ঝিন ঝিন ঝিন ঝিন রঙ বেরঙের ক্যালিডোস্কোপ রশ্মি পাক খাচ্ছে ঝলমলে খুশি ছড়িয়ে। কাল পঁচিশে ডিসেম্বর। সিমোন বলল, ' প্রত্যেক ইয়ারে কলকাতা রেভেলরি আর ভাল লাগে না। সো ব্যানাল ..... শিট .... এনাফ ইজ এনাফ। চল এবার অন্য কোথাও যাই।' --- ' একজ্যাক্টলি .... কোথায় যাবি ? চল এবার সুন্দরবনে ঘুরে আসি। যাবি ? আমার কারে যাব ডায়রেক্ট... ওকে ? ', ইরাবান সিমোনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। --- ' ইয়েস .... ফ্যানট্যাস্টিক .... এক্সেলেন্ট আইডিয়া। বাট ... শুধু তুই আর আমি। নোবডি এলস্।' --- ' ওক্কে ওক্কে .... এগ্রি .... ' ইরাবান এক কথায় রাজি। ... ...
সকালের আলো,আধখানা পৃথিবী, মাঠঘাটআমার জানালা লাগোয়া দালানআলোর ভেতর ঢুকে পড়ে।ধানের পাতায় রোদ - স্মৃতিভার,জন্ম থেকে তিরিশ বছরআগুনে উনুনের ধোঁয়ার মত এখনধীরে ধীরে নিজের চেহারা ভুলে যায়।আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েশব্দ খুঁজি, স্মৃতির পাতায়হেঁটে আসা সেই সবযা কোনদিনতোমাকে বলা হয়ে উঠল না।মাটির নিচেজান্তব কামনা-বাসনা-পশুসময়ে ধীরে হাঁটে,যখন তখন উঠে এসে খেয়ে নিতে চায় কাঁচা ঘিলু,থালা সাজিয়ে এগিয়ে দিই,তাদের প্রতি আমার সহানুভুতি আছে।দিন এগোয়, গন্তব্য নয়,সন্ধ্যা সন্ধ্যা আলো।সারাদিনে কিছুই করা হল নাপাখিরা ফিরে এসেআমার আরেকটা ব্যর্থ দিন নিয়েউড়ে চলে যায়।আলোহীন,তোমার ভালোবাসার বাকি সব তরঙ্গ পথ,আলোর অভাবে উজ্জ্বল এখন,আরও নিস্তব্ধ,আরও ভাঙা, ভাঙা, অনিশ্চয় এখন। ... ...