অমলেন্দুবাবু অনেকদিন বাদে চারতলার ছাদে উঠলেন। চারতলার ছাদে চিলেকোঠার ঘর। ঠাকুর্দার করা একান্নবর্তী পরিবারের এতবড় বাড়ি। বাড়িতে লোক অনেক। কিন্তু বাড়ি দেখভাল করার মতো মানুষের নিতান্তই অভাব। সকলেরই গা বাঁচিয়ে চলা স্বভাব। অমলেন্দুবাবুর বয়স প্রায় আশি হল। মুখ ঘুরিয়ে থাকতে পারেন না। গায়ে জ্বালা ধরে। বাড়ির দেখভাল যা করার তিনিই করেন। আজ প্রায় দু বছর পরে তিনি চিলেকোঠা ঘরের তালা খুললেন। দেখা দরকার ভেতরে কি অবস্থা হয়ে ... ...
ফিরে এসে ফোন ধরতে হবে। আবার স্ক্রল করতে হবে। ব্রেনওয়াশ চলতে থাকবে। একটা অদৃশ্য নলের মাধ্যমে চোখে ঢোকা। মগজে পৌঁছানো। তারা বলে বাকস্বাধীনতার কথা। গণমাধ্যমের পর্দায় লাল-নীল লোগোওয়ালা চ্যানেলে পরিপাটি মুখের কথা বলা। টাই পরা। চুল আঁচড়ানো। মাইক্রোফোন হাতে বলতে থাকা: "আমরা মুক্ত। আমরা উন্নত। আমরা প্রতিবাদী।"কিন্তু একই চ্যানেলে, একই সুরে, নিচে টিকার টেপে চলে আসা আরেক খবর। একটা ছাত্র আটক। সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের জন্য। একটা বই নিষিদ্ধ। "সমাজের মূল্যবোধের পরিপন্থী।" একটা লেখার বিরুদ্ধে মামলা। "মতবিরোধ নয়, বিদ্বেষ।" মুখ না বদলানো। একই সুর। একই পেশাদার হাসি। একই শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি।মনে পড়া গ্রামের কথা। বাবার মুখ। মায়ের হাত। নদীর পাড়। সেখানে ... ...
ছোট ছোট কথা বড় হয়ে যাচ্ছে,পাহাড়ঘেরা একটা দীঘির ধারে বসে আছি, এখন সূর্যাস্ত,এর সঙ্গে নদীর যোগ তার সঙ্গে সমুদ্র ;মনে মনে ছবি আঁকা। তোমাদের বৃত্ত পেরোলেই বাইরে শৈত্য বাইরে মরুভূমি, হিমশীতল ছায়াপথ, তার বাইরে কিছু লিখতে পারি না, কিছু লিখতে চাইনা। মানুষ বড় দূর্বল, মানুষ বড় একা, তিন-চারজনের সংসার একটা দ্বীপের মত, বাকি পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ মূলত বাণিজ্যিক। শামুকের মত মন ভেতরে ভেতরে ছোট হয়ে আসে লবির বাইরের কারো কথা শোনা চলে না আর শুধু জ্ঞান দেওয়া, নিরাপদে দূরে বসে.. নিজেকে আদর্শ ধরে।.. ইত্যাদি। এসব তেমন কিছু নয়, ছেলেমানুষী যেমন একটা লাইন পেলে আরেকটা লেখা যায়, লিখতে লিখতে কোথাও একটা থামতে হয়। মনে হয় বৃত্তের বাইরে থেমে আছি অনেকক্ষণ মনে হয় বড় বেশী কথা বলা হল এবার থামা যাক, শেষ তোমাদের মুখ, আলগা ... ...
জয়তী ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকে বলল, ‘ ওঠ ওঠ .... বেলা নটা বাজে ... আর কত ঘুমোবে। ওঠ তাড়াতাড়ি। আজ রোববার। ঘরের ঝুল ঝাড়ব। পড়ে পড়ে ঘুমোলে জীবন চলবে ? ‘ অর্ণব কথা না বাড়িয়ে বিছানা ছেড়ে বাইরে বেসিনের দিকে যায়। সেখানে তখন তার সাত বছরের ছেলে চিন্টু দাঁত ব্রাশ করছে। আজ রবিবার বলে দেরিতে দাঁত ব্রাশ। বাবাকে দেখে মাজনের ফেনা ভরা মুখে বলল, ‘ বাবা বাবা ...... আমাদের স্কুলে না সায়েন্স একজিবিশান হবে নেক্সট স্যাটারডে অ্যান্ড সানডে। সবাইকে হান্ড্রেড রুপিজ করে দিতে ... ...
মাস্কবাদের পৃথিবী স্থবির পৃথিবীর কথা বলতে গিয়ে এর আগের লেখাতে মাসকিয় দর্শনের কথা বলেছি | এই দর্শন বলছে, সামনের পৃথিবীতে মানুষের কোনো অর্থের অভাব থাকবেনা, যে যখন যা চাইবে তার সবই সে পাবে, অর্থের উপার্জনের কোনো প্রয়োজনই হবেনা নতুন কিছু কিনতে গেলে | এমন সময়ে রাষ্ট্রের প্রয়োজনও আস্তে আস্তে কমেই যাবে |মাক্সের এই দুনিয়াতে মানুষ বাঁচবেও অনেকদিন চাপমুক্ত হয়ে কেননা যখন অর্থের বা জীবিকার কোনো প্রয়োজন হবেনা মোবাইল ফোন এ ক্লিক করলেই ইচ্ছামত সব কিছুই চলে আসবে হাতের কাছে মুঠোর মধ্যে এর জন্য পয়সাও দিতে হবেনা | অভাব তো হবেইনা বরঞ্চ মানুষ অভাবের কথাও ভাবতেই পারবেনা কখনো | তো এই নতুন এক জীবনের ... ...
যে ভাষার জন্যে এমন হন্যে,এমন আকুল হলামসে ভাষায় আমার অধিকার এ ভাষার বুকের কাছে মগ্ন আছে আমার অঙ্গীকার।" ধর্ম দেশ ভাষা জাত বর্ণ সম্প্রদায়, এগুলোর মধ্যে ভাষা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে আপনার। মায়ের ভাষা আমার কাছে মায়েরই প্রতিচ্ছবি। মায়ের ভাষায় ভালোবাসি, রেগে যাই, কাঁদি, হাসি, ঘেন্না পাই, নতুন কিছু শিখি, অভিমান করি, ভুল বুঝি, ভুল শোধরাই। যন্ত্রণার আর্তিও সেই মায়ের ভাষায়। প্রার্থনাও। দাবি-দাওয়া, অভিযোগ, খিস্তি... প্রতিদিন পরিণত হতে হতে নিজের ক্রমশ কমতে থাকা জীবনকাল উদযাপন... সেই ভাষা-মায়ের কোলেই তো... তাই, মায়ের ভাষার ওপর আক্রমণ, আমার চোখে, মায়ের ধর্ষণ হওয়ার সমতুল। এই আক্রমণ চলতে দেখেও নীরব থাকা, যেন বিছানার কাছেই একটা স্টুল টেনে নিয়ে বসে ... ...
শিশির ভেজা ভোরমুহাম্মদ ফজলুল হক রাতের গভীরতা নির্ণয় করতে না পারলেও শীতের তীব্রতা ঠিকই অনুভব করছে শামীম। ছনের তৈরি নরম বিছানায় পাতলা কাঁথা জড়িয়ে ভালো ঘুম হলেও প্রচণ্ড শীতে তার ঘুম ভেঙে যায়। উঠে বসে সে। হঠাৎ মিনুর কথা মনে পড়ে। শীত উড়ে যায়। শীতের প্রতি কৃতজ্ঞ হয় শামীম। শীতই তাকে মিনুর কাছে টেনে নিয়ে যাবে। দ্রুত উঠে নিজেকে গুছিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ পরই মিনু আসবে। তাকে নিয়ে সে কুয়াশা উপভোগ করতে যাবে।মিনুও সারারাত ঘুমাতে পারেনি। ভোরে বের হওয়ার উত্তেজনায় অস্থির। কুয়াশার আধিক্যে বেশি দূর দেখা যায় না। পরিচিত পথ ধরে নির্দিষ্ট জায়গায় এসে দাঁড়ায়। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় না। পিছন দিক ... ...
চরিত্রদের নিয়ে একটি সতর্কবাণীএখানে যেসব চরিত্র আসবে—বেশ্যালয়ের নর্তকী মিলা, গ্রামের জেলে, শহরের রিকশাওয়ালা, ট্যাক্স অডিটে জর্জরিত একাউন্টেন্ট, সুপারশপের আলোয় নিশ্চুপ এক গৃহিণী—তাদের কাউকেই ‘পিটিশ’ ভেবে পড়ো না। তারা কোনো আদর্শের মূর্তি নয়। তাদের দুর্বলতা আছে, দ্বিধা আছে, স্ববিরোধ আছে। তারা ভালো-মন্দের ঊর্ধ্বে—তারা শুধু আছে। আর তাদের এই ‘থাকা’টাই সমাজের জন্য অস্বস্তিকর। শেষে...‘ছায়া ও মুখশ্রী’ পড়তে গিয়ে হয়তো তুমি বারবার বিরক্ত হবে, থেমে যাবে, বা বইটি দূরে ছুড়ে ফেলতে চাইবে। তেমন করো। থেমে যাও। বিরক্ত হও। কারণ এই বিরক্তিই বইটির প্রাণ। আর যখন আবার ফিরে এসে পড়বে, তখন হয়তো খুঁজে পাবে—কোনো এক পৃষ্ঠায়, কোনো এক উদ্ধৃতিতে—তোমার নিজের মুখের একটি অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব। যে ... ...
এমন যদি হতো!..সেদিন গোলাপী আকাশের বুকে একফালি আসমানী চাঁদ উঁকি দিল। জঙ্গলের পথে পা বাড়ালো বিলাবল। শান্ত ঠান্ডা জঙ্গলে একটানা ঝিঁঝিঁদের ডাক। উত্তরে হাওয়ায় না বলা কথাদের আপসোস। সেসব পেরিয়ে এই অজানা ঝিল, যার বহুদূর বিস্তার।গন্তব্যহীন গন্তব্যে অকারণ আনন্দ পেল বিলাবল।ঝিঁঝিঁদের সাথে গান গেয়ে গল্প করে ঝিলের জলের ধারে অন্ধকারে, কলমি পাড়ে চুপটি করে বসলো বিলাবল।ওরাও বসলো ওকে ঘিরে।কে না ছিল সেখানে, সেই সবুজ অন্ধকারে..রাতচড়া পাখি, গাছপালা, ঝিঁঝিঁদের সঙ্গেগোলাপী আকাশ আর আসমানী চাঁদও এসে বসেছিল বিলাবলের পাশে, সেই রাতে। অত রাতেও ঝিলের জলে দুটো ... ...
একটা আয়না দেয়ালের পেরেকে টানানো ছিল। চৌকো ছোটখাটো তিন বিঘতের আয়না। শুধু মুখটুকু দেখা যায়। একটু পিছিয়ে দাঁড়ালে বুকেরও আধখানা দেখা সম্ভব। ওটার সামনে দাঁড়িয়েই দীপিকা চুল আঁচড়ায়, কপালে বিন্দি লাগায়, সিঁথিতে সিঁদুর ঢালে। মাঝে মাঝে চোখে কাজলও টানে।বাদল কসবার একটা বারের বাউন্সার। পয়সাওয়ালা ঘরের উড়নচন্ডী বেপরোয়া ছেলেমেয়েরা যেখানে বেহিসেবী টাকা ছড়ায় উন্মত্ত অবস্থায়।বাদল মাস গেলে হাজার পাঁচেক টাকা পায়। তাছাড়া ওই ফূর্তি করতে আসা পয়সায় টইটুম্বুর লোকগুলোর কাছ থেকে বখশিস বাবদ কিছু আমদানী হয়। আদতে এটাই তার আসল রোজগার। এতেই তার সংসার ... ...
নামের ইতিহাস (এটা ফেসবুকেও ছিল সেখান থেকে কপি করে দিলাম) আমার পোশাকী নাম ভুরভুরা। ভুরভুরা যে কিভাবে ভুলেভরা হয়ে গেল, সে এক কাহিনী। তবে আগে বলে নিই, আমি কিন্তু বাঙ্গালী, নিছকই মাছভাত খাওয়া পিওর বাঙ্গালী। আমার নাম ভুরভুরা কপাট। ছোটবেলায় মুখ দিয়ে ভুর্ রর ভুর্ রর…শব্দ করে আমি নাকি অন্যদের প্রভূত আনন্দ দিতাম। তাই আমার ডাকনাম হয়ে গেল ভুরভুরা। মুখেভাতের সময় নামকরণের চল তখনো চালু হয় নি। পোশাকী নামের প্রথম প্রয়োজন ... ...
বিকল্প সংস্কৃতি চর্চা: ক্ষমতার বিরুদ্ধে মানুষের সাংস্কৃতিক রাজনীতি অয়ন মুখোপাধ্যায় সংস্কৃতি নিরীহ নয় — এই কথাটা যতবার ভুলে যাওয়া হয়েছে, ততবারই রাজনীতি মানুষকে নীরবে গ্রাস করেছে। গান, কবিতা, নাটক, সিনেমা, উৎসব — সবই রাজনীতির অংশ। শুধু সংসদে আইন পাশ নয়, মানুষের কল্পনাজগৎ দখল করাও ক্ষমতার অন্যতম কৌশল। এই প্রেক্ষাপটে “বিকল্প সংস্কৃতি চর্চা” কোনো রোমান্টিক শিল্পভাবনা নয়, বরং ক্ষমতার বিরুদ্ধে মানুষের সাংস্কৃতিক রাজনীতির এক অপরিহার্য লড়াই। মূলধারার সংস্কৃতি আজ রাষ্ট্র ও পুঁজির যৌথ ... ...
হেলিকপ্টারের নীচে চাপা পড়া ভবিষ্যৎ: ভিআইপি কালচারের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে কোন রাজনীতি? অয়ন মুখোপাধ্যায় হেলিকপ্টারের শব্দে আর শোনা যায় না মানুষের দীর্ঘশ্বাস।বিদেশি গাড়ির কাঁচ এতটাই কালো যে ভেতরে বসে থাকা নেতার চোখে পড়ে না রেশন লাইনের মুখ, বন্ধ স্কুলের গেট, কিংবা বেকার যুবকের ভাঙা স্বপ্ন। দামি সানগ্লাসে সূর্যটা ফিল্টার হয়ে যায়—কিন্তু বাস্তবটা নয়। এই রাজনীতিতে আলো নেই, আছে শুধু ঝলকানি। আপনি কাদের নেতা বানিয়েছেন? চকচকে জামা-কাপড়, লক্ষ লক্ষ টাকার বডিগার্ড ... ...
১ আমিশা অবিনাশের হাত ধরে ফেলল।"তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না, প্লিজ। তুমি জানো আমি মরে যাব।" কিন্তু অবিনাশ আবার নিস্পৃহ ভঙ্গিতে বলল, "মরলে মরবে। আমার হাত ছাড়ো, লোক দেখছে।" আমিশা - "দেখুক। তুমি আমায় ছেড়ে যেও না। তুমি যা বলবে আমি তাই করব, আমাকে তোমার দাসী করে রেখো, ছেড়ে যেও না।" অবিনাশকে খুব বিব্রত দেখায়। চারিদিকে চেয়ে দেখে, প্রায় সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। এমন সময় পেছন থেকে একজন ধাক্কা দিয়ে বলল, "আরে এখানে দাঁড়িয়ে ন্যাকামি করছেন কেন, এগোন না মশায়। ওসব করতে গেলে সিঁড়ির কোণে গিয়ে করুন। সবার আপনাদের মতো এত বাজে সময় নেই।" অবিনাশ খুব বিব্রত হল, "সরি, সরি, মাফ করবেন।" বলেই ঘুরে দাঁড়াল আমিশার দিকে। তারপর তার হাত ধরে হিড়হিড় ... ...
অন্ধকার মঞ্চ। একপাশে একটি খাট। তার ওপর কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছেন ছবি বিশ্বাস। সেটা উপস্থিত দর্শক জানে। তাঁকে খুঁজে বের করবেন নৃপতি চ্যাটার্জি। এই ছিল নাটকের দৃশ্য। নৃপতিবাবু মঞ্চে এলেন। খোঁজাখুঁজি শুরু হল। মঞ্চের ওপর শুরু হল ধুন্ধুমার খোঁজাখুঁজির পালা। নৃপতিবাবু সর্বত্র খুঁজছেন শুধু খাটের ওপর কম্বলটি ছাড়া। নৃপতিবাবুর খোঁজার ধরনে দর্শক হেসে কুটিপাটি। আর ওদিকে গরমকাল, তায় মঞ্চের আলো... কম্বলের নিচে ছবি বিশ্বাস দরদর করে ঘামছেন। দৃশ্যটি তিন মিনিটে শেষ হওয়ার কথা ... ...
১ ‘বোর্ডিং টু কাতার এয়ারওয়েজ ফ্লাইট নাম্বার QR739 টু লস অ্যাঞ্জেলস উইল স্টার্ট ইন ফিফটিন মিনিটস’। রমা বসে আছেন দোহা এয়ারপোর্টে। যাবেন লস অ্যাঞ্জেলসে ছেলে শমীকের কাছে। কলকাতা থেকে দোহা এসে পৌঁছেছেন চার ঘণ্টা আগে। সঙ্গে যাচ্ছে শমীকের বন্ধু সুবীর ও তার পরিবার। রমার এটি প্রথম বিদেশযাত্রা। খুব ঘাবড়ে আছেন। সঙ্গে সুবীর আছে বলে একটু ভরসা। রমা থাকেন দমদমের মতিঝিলে একটি ফ্ল্যাটে, একা। রমার স্বামী অসীম তিন বছর হল মারা গেছেন, এই ফ্ল্যাটে আসার দু বছরের মাথায়। রমার স্বামী বর্ধমান ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক ছিলেন। রমার এক মেয়েও আছে ... ...
পঁচিশ বছর ধরে সারা অঙ্গে দূরারোগ্য বাতে আমার সারা শরীরে ব্যথা। যা এই শীতে বেড়েছে। বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারিনা। ২০০২ তে নাম না থেকে আনম্যাপড হওয়ায় কাল এসআইআর হিয়ারিং। একজনকে নিয়ে যাচ্ছি যে আমার হয়ে দাঁড়াবে। যদি পাবলিক এ্যালাউ করে। আমার বয়স ৬৪। অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব, পশ্চিমবঙ্গ সরকার। উপসচিব বলতে নিজের পরিচয়ের সত্যতা বুঝিয়েছি। ঘ্যাম দেখানোর জন্য নয়। আমার থেকে অনেক হনু আবার একদম নিম্নবর্গের ও আমার থেকে অনেক অসুস্থ/অক্ষম মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ইসিআই। গণতন্ত্র বলতে এই কমিশন যে সরকারের বকলমা নিয়ে কাজ করে, তাঁরা বোঝেন লাইনে দাঁড় করিয়ে ভোগা দেওয়া। এই অসংবেদনশীলতার ভোগান্তির নাম কি গণতন্ত্র ? ... ...
নিঃস্ব প্রদীপ সামিল হল কল্পতরু উৎসবে। ধার করা তেল আর নির্জীব সলতে নিয়ে প্রায় নিভু নিভু আলো আজ বেপরোয়া¡ এলোমেলো বাতাসে; তার বুক পুড়ে যাচ্ছে সলতে উসকে দিতে কেউ নেই - নীরবে জ্বলছিল তুচ্ছ প্রদীপ শেষ সম্বল দিয়ে তবে কি অসংখ্য নিঃস্ব প্রদীপের বুক পুড়েই যাবে?কল্পতরুর প্রতিটি শাখায় শাখায়, পাতায় পাতায়, শিরায় উপশিরায় কি জ্বলে উঠবে না শিখা এই হাহাকারের ফতোয়া নিয়ে ?তা যদি না হয় তবে তো লম্পট স্বেচ্ছাচারী বাতাস শুধু ফুলকি সঙ্গে করেই দাবানল হয়ে উঠবে তখন কি আর কেউ রেহাই পাবে কল্পতরু?আজকের বারাব্বাস কি চৈতন্য ফিরে পাবে কল্পতরু?আজ ও তো 'চৈতন্য' মন্দির গাত্রে গাঁথা হয়ে আছে চিরকালীন 'জুডাসের' অচৈতন্য স্বরূপ!এতদিন প্রদীপের নীচে ... ...
মফিজুল বাইক ছুটিয়ে হিঙ্গলগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। দুপুর প্রায় বারোটা। বাইকে ব্রেক কষতে হল।রাস্তার একদিকের পুকুরের পাড় থেকে উঠে ভোলা ভালা একটা জলঢোঁড়া সাপ উল্টোদিকে মাঠের দিকে যাচ্ছে ধীর গতিতে। বোধহয় চষা ক্ষেতে নেমে যাবে খাদ্যের সন্ধানে। বর্ষাকাল। জ্যান্ত ব্যাঙের অভাব হবে না নিশ্চয়।সারা দুনিয়াই তো ঘুরছে যে যার খাবারের খোঁজে। সাপটা সড়সড় করে মাঠে নেমে গেল।বর্ডার এরিয়ায় একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করতে সাত আট বছর ধরে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি।এই ক’বছরে কয়েক কোটি টাকা এমনি হয়নি। অনেক বন্দোবস্ত করতে হয়েছে সে জন্য। দু চারটে লাশও ফেলতে হয়েছে বাধ্য হয়ে।কি করা যাবে। এই রাজা বাদশার জীবন থেকে আবার সেই রাজমিস্ত্রির যোগাড়ের জীবনে ... ...