ডিলিট
অনুগল্প: আলোর কর্মচারীঅয়ন মুখোপাধ্যায় কুমির মোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান সনৎ ঘোষ। লাইব্রেরিতে বইয়ের অভাব ছিল না—অভাব ছিল পাঠকের। ছাত্রছাত্রীদের কাছে লাইব্রেরি মানে ছিল বন্ধ দরজার একটি ঘর, যেখানে ধুলো জমা বই গুলো নীরবে পড়ে থাকে। কখন ও আবার সেই ঘরটাই হয়ে উঠত রিহার্সাল রুম। কিন্তু সনৎ ঘোষ বিশ্বাস করতেন—লাইব্রেরি যদি আলো না ছড়ায়, তবে তার অস্তিত্বের মানেই বা কী?প্রতি দিন তিনি বইগুলো ধুলো ঝেড়ে যত্ন করে সাজিয়ে রাখতেন। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন একটি করে বই হাতে নিয়ে দাঁড়াতেন লাইব্রেরির দরজার সামনে। যে ছাত্রছাত্রীকে দেখতেন, তাকেই বলতেন—“আজ এই গল্পটা পড়ে দেখবে? ভালো লাগবেই।”শুরু তে কেউ পাত্তা দিত না। কিন্তু সনৎ ঘোষ হাল ছাড়েননি। একদিন ... ...
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও যান্ত্রিক যুক্তির বিভ্রম বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কে একটি পরম সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, AI কোনো জৈবিক চেতনা নয়; এটি স্রেফ কিছু সাজানো সংকেত এবং যান্ত্রিক নির্দেশের সমষ্টি। মানুষের বুদ্ধি যেখানে প্রেক্ষাপট, ইতিহাস এবং মানবিক সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দেয়, AI সেখানে কেবল সংখ্যা এবং অক্ষরের মিল খোঁজে। ... ...
জননায়ক না উত্তরাধিকার—পপুলিজমের নামে ক্ষমতার পুনরুৎপাদন। অয়ন মুখোপাধ্যায় বাংলার রাজনীতিতে আজ কিছু শব্দ অস্বাভাবিক ভাবে বেশি শোনা যায়—‘জনগণ’, অসমিতা’, ‘বাংলার লড়াই’। এই শব্দগুলো শুনলে মনে হয় রাজনীতি বুঝি মানুষের হাতেই ফিরে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে এই শব্দগুলোর বেশিরভাগই আর মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসে না। এগুলো এখন ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে ছুড়ে দেওয়া রাজনৈতিক স্লোগান মাত্র। যে রাজনীতির নাম পপুলিজম, তা এখানে আর নিচ থেকে উঠে আসা কোনও প্রতিরোধ নয়; বরং উপর থেকে আরোপিত এক সুচারু আবেগ ব্যবস্থাপনা। দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই—এই কথাটা শুনতে বেশ ভালো লাগে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দিল্লির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নামে কলকাতায় কি নতুন কোনও দিল্লি তৈরি হয়নি? ক্ষমতার কেন্দ্র কি ... ...
ক্ষমতার আগাম বিনিয়োগ: ২০০৬-এর পর বাংলার রাজনীতিতে ঝুঁকি, লোভ ও নৈতিক পতনের দর্শন অয়ন মুখোপাধ্যায় কিছু সময় রাজনীতির ইতিহাস কে বোঝা যায় সংখ্যায়। যেমন—২৩৫। ২০০৬ সালে এই সংখ্যা টাই ছিল বাংলার রাজনীতির আপাত নিশ্চয়তার প্রতীক। ২৩৫টি আসন নিয়ে বামফ্রন্টের ক্ষমতা তখন প্রায় অচলায়তনের মতো—নড়ানো যাবে না, ভাঙা যাবে না, অন্তত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নয়—এমনটাই ধরে নিয়েছিল সেই সময়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। অথচ ঠিক সেই সময় থেকেই রাজ নীতির মাঠে দেখা যাচ্ছিল এক অদ্ভুত দৃশ্য—যা সংখ্যার অঙ্ক মানছিল না, যুক্তির সাধারণ ব্যাখ্যাও মানছিল না। আমি দেখেছিলাম বহু মানুষকে—যাঁরা কেউ সরকারি চাকরিতে, কেউ প্রতিষ্ঠিত পেশায়, কেউ আবার বাম রাজনীতির ছায়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ছিলেন—হঠাৎ করেই নিজেদের ক্যারিয়ার, সামাজিক ... ...
পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের টাকায় নিজের বিরুদ্ধে একটি অকাট্য প্রমাণপত্র তৈরি করেছে। এমন সততা আজকাল দুর্লভ। "লক্ষ্মী এলো ঘরে" দেখে মনে হলো সরকার হয়তো ভুল করে ডকুমেন্টারি বানিয়েছিল, পরে আইডিয়া এলো - এটাকে ফিচার ফিল্ম বলে চালিয়ে দিই। কাহিনী এমন - গোপাল বাড়ুই মরে গেল (সারদায় টাকা রেখেছিল কিনা জানা যায়নি), বিধবা স্ত্রী লক্ষ্মী এখন শাশুড়ির অত্যাচার আর গ্রাম্য মাতব্বরের হেনস্থায় অবরুদ্ধ। পাশে আছে চিরকালের বন্ধু সুজন, যে হোয়াটসঅ্যাপের চেয়ে দ্রুত হাজির হয়। প্রেম না সেবা, তা নিয়ে দর্শকের মনে হালকা সন্দেহ থাকলেও ছবি সেদিকে যায়নি। ছবিতে দেখানো হলো মাটির ঘর। সেই ঘর ভেঙে পড়লে "বাংলার বাড়ি" প্রকল্পের টাকা মিললো। প্রধানমন্ত্রী আবাস ... ...
১ যে ঘরে ট্রেন ঢোকে নাঅয়ন মুখোপাধ্যায় ঢাকুরিয়া বস্তির মেয়েটি জানে—রেললাইনের গা ঘেঁষে থাকা টালির ঘরেতার মায়ের হাত, আজও রান্না করছে।আর সে,চুল বেঁধে বসে আছে—একা। মাঝরাতে সে চোখ রাখে বইয়ের ভেতর।চুপচাপ সিলেবাসের কবিতাগুলো পড়তে পড়তেমাঝে মাঝে ফিসফিস করে নাম ধরে ডাকে বাবা বাবা যিনি আকাশের ওপারে কোথাও আছেন। দু’ লাইনের ওপর দিয়ে ছুটে যায় ক্যানিং লোকাল।ছোট্ট পায়ের ছাপে স্বপ্নের গতি পায়।কামরার জানলা ভেঙেআলো ঠিকরে পড়েবস্তির ছাদে। এক মুহূর্তে মেয়েটি ভাবে—সে যেন পরী।ঠিক তখনইপরীর কানে ঢুকে পড়েট্রেনের হর্ন। যে শব্দে রাত্রি নামে,সে বুঝে যায়—আলো থাকলেওসব ঘরে আলো জ্বলে না। ২লাইন টপকে বসন্ত অয়ন মুখোপাধ্যায় শীতের শেষে বসন্ত ঢুকে পড়েভাঙা বস্তিতে।বিনোদিনী গার্লসের নতুন শাড়ি-পড়া মেয়েগুলোদল বেঁধে লাইন টপকায়—তাদের পেছনে উড়ে যায়আকাশের ... ...
সেই যে মা হাতে ধ’রে শিখিয়ে দিয়েছিল, “যেখানেই দু’শালিখ দেখবে, মনের চোখ দিয়ে তক্ষুণি প্রণাম ক’রে ফেলবে! দেখবে, তোমার প্রেম কখনও হারিয়ে যাবে না।” আজও তাই দু’শালিখ যেখানেই দেখি, সেখানেই মনের চোখ দিয়ে তক্ষুণি প্রণাম ক’রে নিই। প্রেম হারানোর ভয়ে? নাহ্! অভ্যেস। বদলাতে পারিনি আর কোনওদিন। বাবা শিখিয়েছিল, “খারাপ স্বপ্ন দেখলে, যদি সঙ্গে তেমন টাকা থাকে, কিছু ভাল মানের সন্দেশ কিনে কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে আসবে। তোমার আর স্বপ্ন নিয়ে দুঃস্বপ্ন থাকবে না।” মন্দিরে যাওয়া ছেড়ে দিয়ে এখন কেবল উৎসবে পা মেলাই। উৎসবেই আনন্দ খুঁজে নিই। কখনও কখনও সন্দেশের বদলে শিঙাড়া কিনে খাই। ছোটকা সবসময় বলত, এখনও বলে, “সময়ের কাজ সময়ে করো। ... ...
( ১ )সংশোধনের তালিকা তৈরি শুরু!ভেতর থেকে সার্কাসটা চালায় ভন্ড গুরু! অনুগত গোবর গনেশ চাইছে কাগজ, আতঙ্কে দেশ! বকলমে লিখছে ভাগ্য;জনগন কি গরু! ( ২ )হরেক রকম ভেক ধরে সেফিকির খোঁজে ফকির বেশে ; স্বাস্থ্য কোমায় আই সি ইউ তে !শিক্ষা মনুসংহিতা তে! মাইক্রোস্কোপের তলায় শুয়ে শিল্প মুচকি হাসে! ( ৩ )হতাশায় মরে পোলাপান; -শুধু দুঃস্থ বাবার পেনসান ! চলছে না আর চলছে না!! সূর্য শিকার হচ্ছে না! দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়ে সওয়ার চন্দ্রযান! ... ...
প্রথমেই আমি ক্ষমা চাইছি বাংলার, গ্রামীণ বাংলার কবি দের কাছে। আমি জানি এটা লোটো গানের এক অক্ষম হনুকরন। কিন্তু Canadian Prime Minister Mark Carney কে জবাব দিতেই হতো। তাই এই অবতারনা। এ আমার নিজের লজ্জা, যে আমি এই ভাবে ভাব প্রকাশ করতে পারদর্শি নই। (গায়ক):ওরে বাবা! কী দেখি শুনি! উল্টেপাল্টে যেন! বড় হাতির গুঁতোয় এখন ছোট দেশের ত্যানা! কানুনের লেবু চুষছে যারা, তাদের মুখ খিঁচু! আমার মতন সরু খটার জোটাতে হবে পিঁচু! (দল):আগে কেন্যে বুললি নারে? (হয় না! হায় রে!) আগে কেন্যে বুললি নারে? (ঠিক কথা দাদা!) (গায়ক):সবজিওয়ালার কথা কলাম, তার বউও জানে চালাকি ... ...
নাচের হলের দিকে হাঁটা। পা নিজে নিজে চলা। পুরোনো পথ। চেনা。কিন্তু আজকে পায়ে একটা টান। মনে হচ্ছে, যাওয়া নয়, টানা। ফেসলেস_জিরোর কথাগুলো মাথায় ঘুরপাক খাওয়া: "যেটা টানে, তার গভীরে যাও।" টানে কী? ওই ঝলমলে আলো? ওই গাঢ় গন্ধ? না... ওই ফাঁকা চোখগুলো। যেন এক একটা জানালা, খোলা, কিন্তু ভেতরে অন্ধকার।দরজা দিয়ে ঢোকা। একই গরম হাওয়া। একই বেসের ধাক্কা, বুকের পাঁজর কাঁপানো। দরজার পাশের গার্ড চেনা মুখ। ওই জানেন, আমি নিয়মিত। শুধু দেখতে আসা। কোনো ঝামেলা না করা। বিনা বাধায় ঢোকা।মঞ্চের দিকে তাকানো। আজকে নতুন মেয়ে। লম্বা, কালো চুল, সাদা জিভের মত দেহ। কিন্তু চোখ... চোখ তো সেই একই জিনিস। দূর ... ...
আলো। আলোই প্রথম। আলো যা চোখ বন্ধ করেও দেখা যায়, যা চোখ খুললে অন্ধত্ব। উত্তাপের একটি স্তর, ত্বকের নিচে প্রবেশ করে, শিরায় শিরায় পৌঁছে যায়, এক ধরনের আগুন যা রক্ত সিদ্ধ করে না, শুধু নিষ্ক্রিয় করে, একটি স্বর্ণিম স্তব্ধতা। এই আলো আসে কোথা থেকে? উপরে? না, চারিপাশ থেকে। এটি জলের আলো, এটি দর্পণের আলো, এটি শূন্যতার আলো। আমি সেখানে আছি, কিন্তু আমি কি? একটি সংবেদন: সীমাবদ্ধতা। আরেকটি সংবেদন: ভেসে যাওয়া। তৃতীয় সংবেদন: ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একটি শব্দ: কর্দমের শব্দ, পানি ভেদ করার শব্দ, এবং একটি আর্তনাদ যা বাইরে থেকে আসে না, ভিতর থেকে আসে, ফুসফুসের প্রথম প্রসারণ থেকে, একটি বেলুনের ... ...
অচেনা নম্বর থেকে কেউ ফোন করলে, আমি সেই ফোন ধরি না। ধরিই না। অনেক আগে কৌতূহলের কারণে ধ’রে ফেলতাম। কিন্তু এখন সেদিন আর নেই। তেমনই চেনা নম্বর থেকে কেউ ফোন করলে, যদি সে খুব কাছের মানুষও হ’য়ে থাকে আমার— তবুও প্রায়ই ধরি না বললেই চলে। কখনও বাইরে থাকলে মা যখন ফোন করে, বেশিরভাগ সময়ই আমাকে ফোনে পায় না। বাড়ি ফিরলে মা যথেষ্ট আমাকে বকাঝকা ক’রে থাকে। আমি শুনতে থাকি মায়ের কথা৷ কোনও উত্তর করি না। এই প্রসঙ্গে কথা এই কারণেই বলছি, এই যে আমি ফোন ধরি না চেনা অথবা অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলেও প্রায়ই, এটা বিশেষ কোনও গর্বের কথা ... ...
Faceless_07 এর সাথে কথা চলতে থাকা। প্রথমে ফোরামের ইনবক্সে। আঙুলে আঙুলে লিখতে থাকা। শব্দ গুলো টাইপ হতে হতে যেন মাটির নিচ থেকে গজানো ঘাসের মতো। ওর প্রথম মেসেজের পর উত্তর দেওয়া: "ক্লিক করে। পুরনো। ধুলো জমে।" সাড়া আসতে তো সময়ই লাগে না। যেন ওপার থেকে কেউ বসে আছে। সারাক্ষণ। আমাদের মতোই।ও বলে, "ধুলো জমে মাস্কে। আমরা সবাই শ্বাস নিই ধুলো।" একটা থ্যাঁতলানো সিগারেটের মতো বাক্য। ধোঁয়া উঠছে স্ক্রিন থেকে। আমি জিজ্ঞেস করি, "তুমি কোথায়?" প্রশ্নটা নির্বোধের মতো। এই ডিজিটাল জগতে 'কোথায়' বলতে কিছু নেই। আইপি অ্যাড্রেস আছে। লোকেশন ট্যাগ আছে। কিন্তু 'কোথায়' নেই। উত্তর আসে: "যেখানে ধুলো জমে সেখানে। গ্রামে। শহরে। মনের ... ...
বজবজে বোনের শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিল বিভাস ঘোষদস্তিদার। সে নিজে অবিবাহিত। বাড়ি শ্যামবাজারে রামকান্ত বোস স্ট্রীটে। বর্ষাকাল। আজ সারাদিন মেঘলা। বিভাস যখন নামল শিয়ালদা সাউথের প্ল্যাটফর্মে বাইরে তখন ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছে। গাদা গাদা লোক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে গেছে।ব্যস্তবাগীশ লোকেরা ছাতা খুলে বা ছাতা ছাড়াই ঝটপট বেরিয়ে যাচ্ছে বৃষ্টি ভেজা রাস্তায়।বিভাসের কাছে ছাতা ছিল। সে ছাতা খুলে লোকজন ঠেলেঠুলে স্টেশনের বাইরে এল, শিয়ালদা ফ্লাইওভারের দিকে।সারাদিন ধরেই থেকে থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। চারদিকে জলকাদায় লেবড়ি চেবড়ি অবস্থা। সন্ধে নেমে গেছে। বাতি জ্বলে উঠেছে দোকানবাজারে। মেন গেটের দিক দিয়ে বেরিয়ে ... ...
বিনিদির পাগুলো মাটির ওপরে দুলছিলো। নাইটির নিচে যতটা দেখা যাচ্ছিলো সেখানে অল্প বিস্তর ছোট ছোট লোমের আভাস। বড় বড় চোখে আকাশ নেই, বাতাস নেই, নদী নেই, মন্ডলদের বিল নেই। কালো পানকৌড়ি টুপ্ করে ডুব দিয়ে মাছ খুঁজে মরছে। ছিল, গতকাল বিকেলে যখন দেখা হয়েছিল তখন ছিল। নিড়ানো ধান, ধূসর বক, রবিদার স্প্লেন্ডার, ছিল। এখন নেই। এখানে বিনিদির নেমে আসা থুতনিতে-চুলে ঢাকা গেছে গলায় জড়ানো শাড়িটা, বাকিটা ওপরের দিকে উঠে, অনেক দূরে উঠে হারিয়ে ... ...
উবু দশ কুড়ি তিরিশ চল্লিশ পঞ্চাশ ষাট সত্তর আশি নব্বই শকাশ্মীর - আদানি উবু দশ কুড়ি তিরিশ চল্লিশ পঞ্চাশ ষাট সত্তর আশি নব্বই শহিমাচল - আম্বানি উবু দশ কুড়ি তিরিশ চল্লিশ পঞ্চাশ ষাট সত্তর আশি নব্বই শরাজস্থান - আদানি উবু দশ কুড়ি তিরিশ চল্লিশ পঞ্চাশ ষাট সত্তর আশি নব্বই শ হরিয়াণা - আম্বানি উবু দশ কুড়ি তিরিশ চল্লিশ পঞ্চাশ ষাট সত্তর আশি নব্বই শ পাঞ্জাব - আদানি উবু দশ কুড়ি তিরিশ চল্লিশ পঞ্চাশ ষাট সত্তর আশি নব্বই শউত্তরাঞ্চল - আম্বানি উবু দশ কুড়ি তিরিশ চল্লিশ পঞ্চাশ ষাট সত্তর আশি নব্বই শ উত্তরাখণ্ড - আদানি উবু দশ কুড়ি তিরিশ চল্লিশ পঞ্চাশ ষাট সত্তর আশি নব্বই শ উত্তর প্রদেশ - আম্বানি উবু দশ কুড়ি ... ...
রিজিম চেঞ্জ দিকে দিকে : ভেনেজুয়েলা থেকে ইরানগত সপ্তাহেই ভেনেজুয়েলার পরে ইরানে রেজিম চেঞ্জ নিয়ে আমরা অনেক কিছু শুনেছি। এনিয়ে অনেক জিয়ো পলিটিক্স এক্সপার্টরাই এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে তুফান তুলছেন। অনেক রকম ব্যাখ্যা উঠে আসছে এ ব্যাপারে। আম্রিকা আর চীনের মধ্যে ডলার নিয়ে ১৯৭১ সালে যে চিমেরিকা চুক্তি হয়েছিলো, গতবছরে যার উল্লেখ করেছি, আমি এই ব্যাপারটা এখানে দেখছি। এই বোঝাপড়াটা মোটামুটি এরকম ছিল যে আম্রিকা হবে কনজিউমার এবং চীন হবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডিউসার এবং যে সারপ্লাস চীন কমাবে আম্রিকাকে এক্সপোর্ট করে সেটা দিয়ে চীন আম্রিকি অ্যাসেট কিনবে, আম্রিকি ট্রেজারী বন্ডের মাধ্যমে। এই সিস্টেমটাকেই অনেক ঐতিহাসিক বলেছেন চিমেরিকা। আম্রিকা আর চীন উভয়েরই স্বার্থ ... ...
শান্তিনিকেতনের লাল মাটি—না, মাটি বলা ভুল—সেই রক্তরাগা ধুলো, যেন কোনো প্রাচীন দেবতার চূর্ণ হয়ে যাওয়া হৃদয়ের গুঁড়ো, সেই ধুলোর প্রতিটি কণায় মিশে ছিল এক বিদ্রোহী নেশা। অবাধ্যতা? না, অবাধ্যতা শব্দটা অতি সভ্য, অতি নাগরিক। এ ছিল নিরুদ্দেশের টান, ছিল সব বাঁধন ছিঁড়ে ফেলার এক উন্মত্ত আকাঙ্ক্ষা। সেই লাল ধুলোয় পা রেখেই মনটা হুস করে উড়ে যেত—কোথায়? কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, উড়ে যেত শুধু দূরে, অনেক দূরে, যেখানে কোনো নাম নেই, ঠিকানা নেই, শুধু আছে এক অসীম শূন্যতা। বোলপুরের সোনাঝুরি। নামটাই যেন এক স্বপ্নের টুকরো। সেখানকার বাউলের আখড়া—আখড়া বললে ভুল হবে, ওটা ছিল এক জাদুঘর, এক পাগলখানা, এক মন্দির, এক শ্মশান, সবকিছু ... ...