আমাদের বাড়ির পোষা বিড়ালটা ৩ দিন যাবত কেঁদে চলেছে। পোষা বলাটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত, বলতে পারবো না। কেননা ওকে আমরা কেউ পোষ্য নেইনি কোনোদিন। আমার মা কুকুর-বিড়াল দু-চোখে দেখতে পারেন না। আমার বাবার ব্যাপারটা বোঝা মুশকিল। কারণ বাবা দুবেলা নিয়ম করে উচ্ছিষ্ট কিছুটা ভাত আর মাছের কাটা বিড়ালের জন্য নিজের থালার একপাশে জমিয়ে রেখে দেন ঠিকই, কিন্তু বিড়ালকে কখনোই ঘরের ভিতর প্রত্যাশা করেন না। বিড়ালটা ঘরে ঢুকলেই মা-বাবা দুজন মিলে হুসহুস করে তাড়িয়ে দিতে তৎপর হয়ে উঠেন। পোষ্য বলাটা হয়তো বাড়াবাড়িই হবে। অবশ্য বিড়ালটা কিন্তু নিজ উদ্যোগে হয়তো বেঁচে থাকার খায়েশে নিয়ম করে দুপুর এবং রাতে, ঠিক আমরা যখন খেতে বসি ... ...
সমস্যা আর বিপদের নিজেরও একটা সমস্যা আছে। সেটা হচ্ছে, এরা দু’জনে সব মানুষকে ধরা দেয় না। কাছাকাছি আসে। কিন্তু দূরত্ব রেখে দেয়। আমার ক্ষেত্রেও তাই। সমস্যা আর বিপদকে আমি যেমন নিজের জীবনে খুব কাছ থেকে দেখেছি, তেমনই ওরাও দু’জনে আমাকে দেখেছে, দেখে এসেছে খুব কাছ থেকে। এখন আমার মনে হয় যে, সমস্যা আর বিপদ আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে অজান্তেই। আমি তো জীবন খুলেই রেখেছিলাম ঘরের জানলার মতো। জীবনে প্রেম এলো বিচ্ছেদ এলো কাজের সুযোগ এলো নতুন লেখার ভাবনা এলো— যেটুকু নেওয়ার সেটুকুই নিয়েছি। বাকীটায় আর দ্বিতীয় কোনও স্পর্শ করিনি। এই তো সামনের মাসেই আমার জন্মদিন। একুশ বছর পূর্ণ ক’রে বাইশে পড়ব। এই মুহূর্তে একটাই সবচাইতে বড় ... ...
যুদ্ধ ও ধার : ইউরোপের সাম্রাজ্যের পতন আম্রিকার উত্থান এই যুদ্ধ ও ধার সিরিজটাতে এর আগে অনেক কিছু লিখেছি | আজকে আমরা ফিরে যাবো পঁচাত্তর বছরের আগে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবে শেষ হয়েছে | জার্মানী ইতালি ও জাপান প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরের পৃথিবীটাকে তাদের নিজেদের ইচ্ছামত গড়ে তুলতে গিয়ে যুদ্ধে হেরে বিদ্ধস্ত ও আত্মবিলোপের প্রায় দোরগোড়াতে | ব্রিটেন ফ্রান্স যুদ্ধে জিতলেও জার্মান বোমাতে টুকরো টুকরো হয়ে আর পৃথিবীর অধিকারের জায়গাতে নেই | পড়ে আছে শুধু শেষ দুই পরাশক্তি আম্রিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন | নতুন পৃথিবীর বিলি ব্যবস্থা ভাগ বাঁটোয়ারা করতে বৈঠকে বসছে আম্রিকা ও তার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এলায়েন্স পার্টনার, সেসময়ের সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেন ও ফ্রান্স | ঘটনা ... ...
সিপিএময়ের ট্রোল বাহিনী বিকাশ ভট্টাচার্য ডিএ মামলা লড়ে কর্মচারীদের জিতিয়ে দেওয়ায় কী খুশি। আহা কী বিরাট জয় হলো ওদের ! কী আহ্লাদ ! বিকাশবাবু প্রথমে একজন ব্যক্তি কর্মচারী, অধুনা প্রয়াত কমরেড স্বপন দের হয়ে মামলা লড়েছিলেন। পরে তাঁকে সরাসরি ফার্স্ট এ্যাপ্লিকেন্ট কংগ্রেসের কনফেডারেশনের হয়ে ডিএ মামলায় লড়তে দেখা গেছে। উনি ছাড়াও আরো অনেক বড় বড় উকিল লড়েন ইউনিটি ফোরাম সহ বিভিন্ন সংগঠনের হয়ে। সিপিএময়ের ট্রোল বাহিনী বেমালুম চেপে যাচ্ছে যে পুরো মামলা প্রক্রিয়ায় সিপিএময়ের সংগঠন রাজ্য কোঅর্ডিনেশন কমিটির কোন ভূমিকা ছিল না। কারণ বামফ্রন্টের আমলেও দিব্যি ডিএ মারা হতো, বঞ্চনা হতো। অবশ্যই মমতা সেটাকে অসহনীয় জায়গায় নিয়ে গেছেন যার জুড়ি ... ...
যে মানুষগুলো, একদম সকালের ট্রেন ধরে বনগাঁ, গোসাবা, হলদিবাড়ি, ময়নাগুড়ি, থেকে শহরে আসে, তাদের কাছে সিনেমার সংজ্ঞা কি? সিনেমার দর্শন কি? ঋত্বিক ঘটক নাকি ঋত্বিক রোশন। একজন সারাজীবন ধরে বানিয়ে গেলেন সাধারণ মানুষের সিনেমা, আর একজন সাধারণ মানুষের চোখের তারায় জ্বলজ্বলে হয়ে রুপালি জগত কিংবা মোবাইলে, টুকরো রিলে, ফেরত সন্ধ্যের ট্রেন বাসে বিনোদন, পোস্টারে শিল্প। যারা শ্রমজীবীর জন্য শিল্প, সংস্কৃতি বলে লালে লাল সেলাম টেলাম দিয়ে বিপ্লব করে ফিরছেন দিবারাত্র, তাদেরই আত্মজ ঋত্বিক ঘটক কমিউনিস্ট দলের মানুষ হয়েও সেই দল থেকেই বিতাড়িত। অর্থাৎ আজীবন একরোখা, মাটির কাছাকাছি থাকা অথচ প্রচারের ... ...
" আমার কত কি করার ছিল যে আমি কত কি পারি নি হতে সেই কথাটাই আজও মনেরই ভেতরে গুমরে গুমরে গুমরে মরে " ২০১৪ কি ২০১৫ হবে।.... হঠাৎ ইচ্ছে হলো ইয়ুনিভার্সিটির বন্ধুরা মিলে ম্যাগাজিন বের করবো।... অতঃপর শুরু হয়ে গেলো বাবাকে উৎপাত করা।.... কারণ আমার ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো সেইই।.... প্রেস, বিজ্ঞাপন সব বাবাই বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলো।..... আমরা অকালকুষ্মান্ড ধেড়েরা কিছুই করে উঠতে পারি নি।... শুধু খানিক হাবজি-গাবজী লেখা ছাড়া।... আর একটু আধটু "প্রুফ-রিড"। .... ৬টা এডিশন বের করতে পেরেছিলাম।.. শেষটায় বেশ ... ...
আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের তুলনা। আসামের এন আরসির চেয়েও কঠিন পরীক্ষা পশ্চিমবঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গে জমির দলিল নিচ্ছে না, নিজের পাসপোর্ট, মাধ্যমিক পাশের শংসাপত্র দিয়েও হচ্ছে না। বাবা মায়ের জন্মস্থানের প্রমাণ চাইছে। বাবা মায়ের জন্মস্থানের প্রমাণ লিখিতভাবে একমাত্র বার্থ সার্টিফিকেট/ পাসপোর্টে থাকে। কতজনের আছে? বাবা মায়ের সঙ্গে ১৫ বছর বয়সের তফাৎঠাকুর্দা/ ঠাকুমা দিদিমার সঙ্গে ৪০ বছরের তফাৎছয় জনের বেশি সন্তান নিয়ম আসামের এন আরসিতে ছিল না। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বলে শব্দটি ছিল না। তবে নামের বানানে এদিক ওদিক খুব দেখা হয়েছে। এগুলো কি জানেন? নিজেরা এআই দিয়ে বাংলাকে ইংরেজি/ রোমানে করে বানান ভুল করে ভোটার/ বিএলও/ এইআরও দের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। ১. ১৯৫১ সালের এনআরসি (1951 NRC): প্রথম এনআরসি-র প্রতিলিপি [১, ... ...
যে আলোকে ছায়া জড়ায়পৃথিবীর ইতিহাস আজ এক অদ্ভুত 'মোনালিসা'র হাসি হাসছে। সেই হাসির একদিক উজ্জ্বল বিজ্ঞান-প্রযুক্তির আলোয় স্নাত, অন্যদিক গ্রাস করেছে গভীর এক নৈরাশ্যের ছায়া। এই হাসির চিত্রকর—পশ্চিমা সভ্যতা। যে সভ্যতা মানুষের হাতে দিয়েছে পরমাণু শক্তি, দিয়েছে ইন্টারনেটের মহাঝড়, দিয়েছে 'স্বাধীনতা'র মন্ত্র। কিন্তু সেই হাতেই সৃষ্টি করেছে পরমাণু বোমা, তথ্যের কারাগার আর 'স্বাধীনতা' নামের নতুন বোঝা। রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছিলেন, "সভ্যতা মানুষের মনকে যন্ত্র করে তোলে", পশ্চিমা সভ্যতার চূড়ান্ত রূপটি যেন সেই কথারই জীবন্ত প্রমাণ। আমরা আজ দাঁড়িয়ে আছি এক মহা-প্রলয়ের মুখে, যার নকশাকার এই 'উন্নত' সভ্যতাই। রক্তে রাঙানো উন্নয়নের ইতিহাসপশ্চিমা সভ্যতার গল্পটা শুরুই হয়েছিল দখল-লুন্ঠনের মধ্য দিয়ে। মনে পড়ে যায় কাজী ... ...
ক) কিছু লোক এসেছিল, রাস্তা তৈরি ক’রে পারিশ্রমিক নিয়ে আবার কোনও নতুন কাজের খোঁজে অন্যশহরে, অন্যজীবনে পৌঁছে যাবে ব’লে। খ) কয়েকজন মিলে নতুন একটা পত্রিকা করবে ভেবেছিল। ভেবেছিল। কিন্তু আর করা হয়নি। উদ্যোগ, উদ্যম, বয়েস, আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা, স্বপ্ন— জীবনের সময়ে মিলিয়ে গিয়েছে। তবুও জীবন থেমে থাকেনি, এমনকী সময়ও। গ) দাঁতের ফাঁকে ইলিশ মাছের কাঁটা আটকে ছিল অনেকদিন। ইলিশ আবারও উঠল মাছ বাজারে। কিন্তু দাঁতের ফাঁক থেকে হজম হ’য়ে যাওয়া ইলিশের কাঁটা আর বেরিয়ে এলো না।ঘ) এগারো বছরের একটা ছেলে উনিশ বছরের একটা মেয়েকে পুকুরে চান করতে দেখেছিল। এগারো বছরের সেই ছেলে আজ বাইশের খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে রয়েছে। উনিশ বছরের সেই মেয়ের বুক ... ...
৬. আমি পালালাম। সারারাত দৌড়ে পালালাম। শেষে এসে পৌঁছালাম এক নদীর ধারে। সেখানে একটি ছোট্ট কুটিরে এক বাবুর্চি রাঁধুনি বাস করত। তার নাম ছিল মঙ্গলা। আমি তাকে বললাম, "দিদি, একটু আশ্রয় দাও। আমি খুব ক্লান্ত।"মঙ্গলা ছিল দয়ালু। সে আমাকে জায়গা দিল। বলল, "তুমি এখানে থাকতে পার, কিন্তু সাহায্য করতে হবে রান্নায়।"আমি রাজি হলাম। মঙ্গলা প্রতিদিন বাজারে গিয়ে মাছ কিনে আনত। আমি সেগুলো পরিষ্কার করতাম। একদিন সে বলল, "তোমার হাত খুব নরম। তুমি কি কখনো মাছ ... ...
সুনন্দা অধ্যাপনা করে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, উত্তরবঙ্গে। বিশাল জায়গা জুড়ে ছড়ানো ক্যাম্পাস। খুব শান্ত আর নিরিবিলি পরিবেশ। সুনন্দার ভাল লাগে খুব। ক্যাম্পাসের মধ্যে একটা কোয়ার্টার্সে থাকে সুনন্দা। বাড়িটি একটু ফাঁকা জায়গাতে, কাছাকাছি আর কোনও বাড়ি নেই। অন্য কোয়ার্টার্সগুলি অনেকটা দূরে। সুনন্দা একাই থাকে এখানে, মেয়ে রুপুকে নিয়ে। তার স্বামী প্রবীর অনেক দূরে থাকেন। মাঝে মাঝে আসেন ছুটিতে। ছিমছাম কোয়ার্টার্সের বাইরে বিরাট বাগান। শুধু কি ফুলের গাছ? আছে বড় বড় আম-জামেরও গাছ। বড় বড় কাঁচের জানলা চারপাশে। সন্ধে থেকে সব নিঝুম হয়ে যায়। এক একদিন রাত্রে রুপু ঘুমিয়ে পড়লে কেমন যেন গা ছমছম করে সুনন্দার এই বাড়িতে। দিন কয়েক আগেই রাত দশটা নাগাদ ... ...
খোঁজ মনোজিৎ বোসকড়কড়ে সাতটা পাঁচশ টাকার নোট,দুটো দুশো,পাঁচটা একশো টাকা,একটা পঞ্চাশ।বাকি দশ আর কিছু খুচরো নিয়ে সব মিলিয়ে সাড়ে চারহাজার মত ছিলো পার্সটাতে।মানিব্যাগটা ঝেড়েপুঁছে দেখে নিয়ে অবহেলায় পাশের ডাস্টবিনে ফেলে দিল কেষ্ট।পল্টু, ছোটন আর সাজিদকে ওদের ভাগের বখরা দিয়েও আজ কেষ্টর পকেটে হাজার তিনেক থাকবে।যদিও এটার বখরা ওদের পাওয়ার কথা নয়,কারণ সকালের বউনিটা আজ কেষ্ট একাই সেরেছে।তবে আজ অব্দি কেষ্ট কোনোদিন ওর তিন শাগরেদ কে বখরা দেয়নি এমন হয়নি।ওরা ওর সাথে না থাকলেও দিয়েছে।প্রায় উড়তে উড়তেই বাচ্চুদার দোকানে এলো কেষ্ট।- একটা লিকার বাচ্চুদা,চিনি বেশি।- কত পেলি?ভালোই মেরেছিস মনে হচ্ছে।হাসি তো ধরছে না।চা বানাতে বানাতেই বললো বাচ্চুদা।- তুমি না শালা বহুত ইয়ে ... ...
জবানবন্দী: নিষিদ্ধ বলছিশরীরের তাগিদে একদিন নটীবাড়ি গিয়েছিলাম।গিয়ে দেখি ছটফট করছে রঙমাখা সব মাদী কুকুরের দল।কে যেন কাকে চিৎকার করে বলছে, 'এইদিকে আইসো নাগরটেকা নিমু কম, সুখ দিমু এক্কেরে সানি লিওন।' ওদিকে আরোকে-একজন যেন ক্যানভেসারের মতন হাঁক দিচ্ছে,'৫০-৫০ খালি ৫০'। আমি তখন স্বর্গের পথ ধরে মাথা নিচু হোঁচটের ভয়ে। মনে হচ্ছিল কেউযদি দেখে ফেলে কেউ যদি জেনে যায় আমিও স্বর্গের পথ ধরে? ব্যবচ্ছিন্ন জীবনের তাগিদে একে একে ওরা কপাট বন্ধ করছিলশুয়োরের ধোন চুষে চুষে নেতিয়ে পড়ছিল আর ওদের তেজী পেটথেকে চিৎকার আসছিল, "ভাত দে হারামজাদা "। বিকেলের রোদেএ-মাথা হতে ও-মাথা বার দুয়েক চক্কর মেরে আমি ফিরে এসেছিলাম।আর কোনোদিন যাওয়া হয়নি সেই স্বর্গের পথে ... ...
গোধূলি গগনের মেঘ যখন তারাদের ঢাকিয়াছিল, তখন সেই একরঙা, নিবিড় মেঘখন্ডখানির নিচে তিনি বোটখানি তীরে বাঁধিয়া,আলো নিভাইয়া দিয়া সম্মুখে জনপদখানির চলমান রূপটি উপভোগ করিতে থাকিলেন। পথে কর্মময় নারী পুরুষ, মন্দিরের আরতিধ্বনি, একে একে দীপ জ্বলিয়া উঠিতেছে বাড়িগুলিতে --- আহা, সাধারণের,চলমানের কি অসাধারণ চিরায়ত রূপখানি!এই পুলক বুঝি অনন্তের সাথে হঠাৎ ই দেখা হওয়ার। তিনি তাঁর পত্রে লিখিলেন:কত লোক, কত ইচ্ছা, কত কাজ, কত শত গৃহ,গৃহের মধ্যে সেই জীবন রহস্য,সংঘাত --- জীবনের এই বৃহৎ প্রবাহ কোথাকার কোন পথ দিয়ে যে হৃদয়ের মধ্যে পথ পায় --- শুধু যেন ধ্বনি আমরা শুনিতে ... ...
(প্রথম পর্ব: ন্যাংটা ভূতের আক্ষেপ)১.আরে বাবা! এ কী কাণ্ড! আমি যেন জ্যান্ত আছি, না মরেছি তা-ও বুঝি না! কতকাল ধরে এ ভাবনাই ভুগছি। ১৬০০ সাল নাগাদ মরেছি বৈকি! কিন্তু মরণটা যে কেমন! এক বাবুর্চি রাঁধুনির সাথে ন্যাংটা পোজ দিতে গিয়ে, সেই রাঁধুনি হাঁড়ি থেকে এক কষ্কে তেল আমার গায়ে ঢেলে দিল! বলল, "উহু! মাছের কাটা ফুটেছে নাকি গায়ে? তেল মালিশ করলে সেরে যাবে!" আমি তো তেলে ভিজে পা পিছলিয়ে, মাথা খুঁড়ে মরলাম! লজ্জায় আটখানা! মরার সময়েও ন্যাংটা অবস্থায় ... ...
রাত দেড়টা বাজল। নপরাজিত আর মনসিজের সঙ্গে শিমিকা আর আলিয়া এখনও সিজলার বার থেকে বেরোয়নি। শিমিকা মনসিজের পিঠে একটা চাপড় মেরে বলল, ' চল ইয়ার .... থাইল্যান্ড থেকে ঘুরে আসি .... ' সঙ্গে সঙ্গে আলিয়া নেচে উঠল, ' ইয়েস ... ইয়েস ... ফ্যান্টাস্টিক ... নো পয়েন্ট অফ ওয়েস্টিং টাইম .... ওখানে আমাদের একটা রিসর্ট আছে .... সো লেটস ফিক্স ...নেক্সট স্যাটারডে ... ' সকলেরই কয়েক রাউন্ড করে চড়ানো হয়ে ... ...
বাবুদের সেকাল-একাল "যিনি উৎসবার্থ দুর্গাপূজা করিবেন, গৃহিনীর অনুরোধে লক্ষ্মীপূজা করিবেন, উপগৃহিনীর কথায় সরস্বতী পূজা করিবেন এবং পাটার লোভে গঙ্গাপূজা করিবেন, তিনিই বাবু। " বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (রম্যরচনা - বাবু) ঠিক তেমনি নিখিল সুর মশায় তাঁর "সেকালের বাঙালির সাতকাহন" বইতে লিখেছেন... "মানিয়া বুলবুল আখড়াই গান খোষ পোষাকী যশমী দান আড়ি ঘুড়ি কানন ভোজন এই নবধা বাবুর লক্ষণ।" যদিও এই ছড়া তাঁর নিজের রচিত না কি সেকালে কোলকাতার সামাজিক বাতাসে ভেসে বেড়ানো এরকম বহু ছড়ার মধ্যে একটা সেটা আমার ঠিক ... ...
BOOK PRELOOTHeads-up for the brave reader stepping into this haze.This book is not a neat story. It is not a smooth tale. It is a shattered mirror. Its pieces are scattered from the concrete jungles of the city to the muddy village roads. All characters here—they are not "heroes." They are prey. Prey to digital surveillance, consumerist culture, vanishing identity, and a brutal silence buried deep within themselves."Shadows & Visages" is more than a novel. It is an archive. There is no plot here, only voices—an archive of voices. Fragmented, trapped in continuous present tense, raw with the heat of ... ...
...স্পর্শ করা হচ্ছে, কিন্তু স্পর্শকর্তা অনুপস্থিত। হাতের তালু রগড়ে যাচ্ছে ধনুকের কাঠের গায়ে উৎকীর্ণ অদৃশ্য লিপি, যা পড়া যায় না, শুধু অনুভব করা যায় আঙুলের ডগায় সূক্ষ্ম কম্পন হিসেবে। কাঠ গরম, জীবন্ত, প্রাণ আছে তার ভিতরে, প্রাণ যে পালিয়ে যাচ্ছে প্রতিটি স্পর্শে, রেখে যাচ্ছে কাঠফলকের শূন্যতা। স্পর্শ করা হচ্ছিল, স্পর্শ করা হচ্ছে, স্পর্শ করা হবে—এই ত্রিকাল বিন্দুতে মিশে আছে এক অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা, কিছু ধরার, কিছু বোঝার, কিছু আটকানোর।...মাটি স্পর্শ করে পা, কিন্তু পা বলে কিছু নেই, আছে স্পর্শের একটি বিন্দু যা স্থান-কালের গায়ে একটি দাগ কাটে, একটি ক্ষত সৃষ্টি করে, যে ক্ষত থেকে জন্মায় গাছ, জন্মায় নদী, জন্মায় নতুন পথ। ... ...
বইয়ের কপি হাতে পাওয়ার পর প্রথম কয়েক দিন। কোনো সাড়া না পাওয়া। নিঃশব্দতা। মনে হচ্ছিল, সব আওয়াজ তলিয়ে গেছে ডিজিটাল সাগরের অতলে। রাইসের ফোনে কেবল একবার রিং আসে। অচেনা নম্বর। তিনি কথা বলেননি। শুনেছেন। নিঃশব্দে রেখে দিয়েছেন।তারপর, হঠাৎ এক সন্ধ্যায়, মিলার বান্ধবীর ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়া। হৃদয় দ্রুত স্পন্দন। জানালা দিয়ে উঁকি দেওয়া। নিচে রাস্তায় একটি মোটরসাইকেল। দুজন যুবক। হেলমেট পরে। মুখ দেখা যায় না। তারা দরজার সামনে কোনো লিফলেট বা বিজ্ঞাপন রেখে যায় না। শুধু দাঁড়িয়ে থাকে। পাঁচ মিনিট। দশ মিনিট। তারপর চলে যায়।মিলার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া। সে বলে, "ওরা শুধু জানাতে এসেছে... যে ওরা জানে আমরা এখানে ... ...