আজ বুধবার। ৩১ শে মার্চ। রৌদ্রজ্জ্বল দিনে বেলা ঠিক ১০ টায় রিকশাটা থামলো বিরজাসুন্দরী বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে। আজকেও সামনের রাস্তায় জল ভরার ট্যাঙ্কগুলো এসে দাঁড়িয়েছে, পাশের ফুটপাতে গ্রাম থেকে আসা সবজি-বিক্রেতা মহিলারা গল্পে মশগুল। গরম পড়লেও ঝিরঝিরে বাতাস হিল্লোল তুলছে নিমগাছের পাতায়। রিকশা থেকে নেমে সুরঙ্গমা এগিয়ে গেলেন স্কুল গেটের দিকে। দোতলা স্কুলের বিল্ডিংগুলো হলুদ- মেরুন রঙের, দাঁড়িয়ে রয়েছে চৌকো স্কুল মাঠটাকে ঘিরে। সকালে প্রার্থনা সংগীত শুরু হলে সাদা স্কুলের পোশাকে বিভিন্ন ক্লাসের মেয়েরা যখন দাঁড়ায় মনে হয় ছোট-বড়ো সাদা ফুল ফুটে রয়েছে। এই ফুলগুলিকে ফোটানোর দায়িত্ব এতদিন সযত্নে পালন করে এসেছেন সুরঙ্গমা মৈত্র। এই বালিকা বিদ্যালয়ের ভূগোলের শিক্ষিকা। দীর্ঘ ... ...
কাঁটাতারে আটকে আছে মা, কাঁদছে বাছা কথা কইছে না। উদ্বাস্তু শিবির জুড়ে হাজার কচি ছা, কাঁদছে তারা, কথা কইছে না। ক্যাম্পে মেলে দানা এবং পানি, মাটি তাদের হলো রাহাজানি। ধর্ম বলে এদেশ তোমার না, কাঁদছে বাছা কথা কইছে না। যে মাটিতে চোদ্দ পুরুষ ধরে বসত ছিল বাস্তুভিটা গেড়ে নেতা বলে,এ দেশ থেকে দূর হয়ে তুই যা এ মাটি এ দেশ আজ আর তোর তো না। মায়ের বুকের দুধে পড়লো টান অক্ষর চায় নিজস্ব পহচান। নিজের মাটি নিজের ভাষা খুঁজে ফিরছে ছা। কাঁদছে বাছা কথা কইছে না। দুনিয়া জুড়ে হরেক কাঁটাতার, দুর্বাসাদের অভিশাপে রাগত চিৎকার। কেউ বোঝে না মানবতার বোল, আখর শুধু বাক্য তো নয়, সে যে মায়ের কোল।দেশে দেশে কাঁটাতারে আটকে আছেন মা টি, সবার বাছা চাইছে তাদের নিজের নায্য ... ...
জর্জ অরওয়েলের "১৯৮৪" শুধু একটা উপন্যাস নয়, এটা হলো মানবসভ্যতার জন্য এক সতর্কবার্তা। এই বইয়ে আমরা দেখি, কীভাবে ক্ষমতালোভী সরকার বুলিয়ান যুক্তির নিয়মগুলোকে উল্টোভাবে ব্যবহার করে মানুষকে দাস বানায়। লিলি আর মিমি এখন বুলিয়ান বীজগণিত শিখেছে, তাই তারা এই উপন্যাসকে বুলিয়ান যুক্তির চোখে দেখতে পারবে। চলো দেখি, "১৯৮৪"-এর প্রতিটি স্তর কীভাবে বুলিয়ান যুক্তির নিয়ম ভেঙে ফেলে। ১. ওয়েলকাম টু দ্য ওয়ার্ল্ড অফ ইনভার্টেড লজিক"১৯৮৪"-এ আমরা দেখি, সবকিছুই উল্টো। সরকারের স্লোগানগুলো পড়লে মনে হয় এগুলো বুলিয়ান NOT অপারেটরের অপব্যবহারের এক নিখুঁত উদাহরণ।স্লোগানগুলো দেখো:- WAR IS PEACE (যুদ্ধই শান্তি)- FREEDOM IS SLAVERY (স্বাধীনতাই দাসত্ব)- IGNORANCE IS STRENGTH (অজ্ঞতাই শক্তি)বুলিয়ান লজিকে, A = A' ... ...
আমরা বুলিয়ান বীজগণিতের ১০টা অধ্যায়ে শিখেছি, কীভাবে সঠিক যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। AND, OR, NOT, XOR — এসব অপারেটর আমাদের শেখায় কখন কোনো বক্তব্য সত্যি হয়, কখন মিথ্যা হয়। কিন্তু রাজনীতির জগতে এই যুক্তিগুলোকে মাঝে মাঝে এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। আজ আমরা দেখব, কীভাবে রাজনীতিবিদরা বুলিয়ান বীজগণিতের নিয়মগুলোকে কাজে লাগিয়ে (বা উল্টোভাবে ব্যবহার করে) মানুষকে বোকা বানায়। ১. OR-এর অপব্যবহার: "হয় এইটা না হয় ওইটা" — মিথ্যা দ্বিধাবুলিয়ান বীজগণিতে OR ( + ) অপারেটর বলে, দুটো শর্তের যেকোনো একটা সত্যি হলেই ফল সত্যি। কিন্তু রাজনীতিতে অনেক সময় OR-কে এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যেন দুটো অপশনের ... ...
বুলিয়ান বীজগণিতের ১০টা অধ্যায় শেষ করে লিলি আর মিমি এখন ওস্তাদ হয়ে গেছে। তারা ঠিক করল, তাদের বন্ধুদের নিয়ে একটা যুক্তির আসর বসাবে। সেখানে তারা বুলিয়ান বীজগণিত ব্যবহার করে কিছু বিখ্যাত ধাঁধা সমাধান করবে।নিচে ১৫টা ধাঁধা দেওয়া হলো। প্রথমে ধাঁধাগুলো পড়ো, নিজে চেষ্টা করো। তারপর উত্তর অংশে সমাধান দেখো। ধাঁধা ১: সত্যবাদী আর মিথ্যাবাদীএক দ্বীপে দুই ধরনের মানুষ থাকে — সত্যবাদী (যারা সবসময় সত্য কথা বলে) আর মিথ্যাবাদী (যারা সবসময় মিথ্যা কথা বলে)। তুমি তিনজন মানুষকে দেখতে পেলে — আলী, বাবর, চম্পা।আলী বলল, "বাবর মিথ্যাবাদী।"বাবর বলল, "চম্পা মিথ্যাবাদী।"চম্পা বলল, "আলী মিথ্যাবাদী।"কে সত্যবাদী আর কে মিথ্যাবাদী? ধাঁধা ২: দুর্গের দরজাতুমি একটা দুর্গের সামনে ... ...
কম্পিউটারের ভেতরে বুলিয়ান জাদুআগের নয়টা অধ্যায়ে আমরা বুলিয়ান বীজগণিতের প্রায় সবকিছু শিখে ফেলেছি। আমরা শিখেছি AND, OR, NOT, NAND, NOR, XOR, XNOR — সব অপারেটর। শিখেছি ট্রুথ টেবিল, বুলিয়ান বীজগণিতের নিয়ম, এক্সপ্রেশন সরলীকরণ, আর লজিক গেট দিয়ে সার্কিট ডিজাইন। লিলি আর মিমি এখন বুলিয়ান বীজগণিতে একদম পাকা হয়ে গেছে। আজকের অধ্যায়ে আমরা সবকিছু একসাথে করে দেখব। এটা হবে আমাদের শেষ অধ্যায় — একটা বড় মহড়া, আর দেখব কীভাবে এই সবকিছু মিলে তৈরি করে আমাদের কম্পিউটারকে।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি আর মিমি তাদের মায়ের কাছে গেল। লিলি বলল, "মা, আমরা তো বুলিয়ান বীজগণিতের ... ...
লিলির ইলেকট্রনিক জাদুআগের অধ্যায়গুলোতে আমরা বুলিয়ান বীজগণিতের সব অপারেটর আর নিয়ম শিখেছি। লিলি আর মিমি এখন এক্সপ্রেশন সরল করতেও ওস্তাদ হয়ে গেছে। আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব, কীভাবে এই বুলিয়ান এক্সপ্রেশনগুলোকে বাস্তব ইলেকট্রনিক সার্কিটে রূপান্তর করা যায়। এখানে আমরা লজিক গেট সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি তার মায়ের কাছে গিয়ে বলল, "মা, আমরা বুলিয়ান বীজগণিতের সবকিছু শিখে ফেলেছি। কিন্তু এগুলো দিয়ে বাস্তবে কী করা যায়?"মা বললেন, "বাস্তবে এগুলো দিয়েই তৈরি হয় কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, টিভি, ফ্রিজ — সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস। আর এই কাজটা করে লজিক গেট।"মিমি বলল, "লজিক গেট? ওগুলো আবার ... ...
যে হাত পেতে রেখেছি তোমার উদ্দেশ্যে,সে হাতের তালু খরায় ফেটে-যাওয়ামাঠের মতো—ফুটিফাটা হয়ে আছেতোমার ছোঁয়ার আশায়। হাতের রেখা বলে চেনে তাকে সবাই,শুধু আমি জানি—সে রেখার গভীরেনিভৃত সরস্বতীর মতো রক্তস্রোত বহে,যখন তোমায় মনে পড়ে। বৃষ্টির আশা জাগিয়ে মেঘ ছেয়েছিলএকদিন—যখন তুমি ছিলে পাশে;সবুজ হয়ে ওঠার কথা ছিল এই মাঠ,তোমার ছোঁয়ার আশায়। সেই সহজ দিন আজ রূপকথা মনে হয়—যে সুর যায়নি শোনা;এখনও কেটে যায় দিন-রাতসেই না-শোনা সুরের সাধনায়। ... ...
লিলির ধাঁধা সমাধানআগের অধ্যায়ে আমরা বুলিয়ান বীজগণিতের সবগুলো নিয়ম শিখেছি। লিলি আর মিমি এখন নিয়মগুলো মুখস্থ করে ফেলেছে। কিন্তু তাদের মনে প্রশ্ন — এই নিয়মগুলো দিয়ে কী করা যায়? মা বললেন, "এই নিয়মগুলো দিয়ে আমরা জটিল বুলিয়ান এক্সপ্রেশনকে সরল করতে পারি। ছোট করা যায়। যত ছোট হবে, সার্কিট বানাতেও তত সহজ হবে, খরচও কমবে।"গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি তার মায়ের কাছে গিয়ে বলল, "মা, আমরা নিয়মগুলো শিখেছি। এখন একটা বড় জটিল এক্সপ্রেশন সরল করে দেখাও না।"মা বললেন, "আচ্ছা। ধরো, তোর কাছে একটা এক্সপ্রেশন আছে: F = A · B + A · ... ...
গণিতের মতো খেলাআগের অধ্যায়গুলোতে আমরা শিখেছি AND, OR, NOT, NAND, NOR, XOR আর XNOR। লিলি আর মিমি এখন বুলিয়ান বীজগণিতের প্রায় সব অপারেটর জেনে গেছে। কিন্তু তাদের মনে একটা প্রশ্ন এসেছে — এই অপারেটরগুলো কি কোনো নিয়ম মেনে চলে? যেমন সাধারণ বীজগণিতে যোগ-বিয়োগের কিছু নিয়ম আছে, তেমনি কি বুলিয়ান বীজগণিতেও নিয়ম আছে? আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব বুলিয়ান বীজগণিতের নিয়মগুলো।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি তার গণিতের খাতা নিয়ে বসেছিল। সে সাধারণ বীজগণিতের কিছু নিয়ম দেখছিল — কমিউটেটিভ, অ্যাসোসিয়েটিভ, ডিস্ট্রিবিউটিভ।সে মিমিকে ডেকে বলল, "মিমি, দেখ, সাধারণ বীজগণিতে কতগুলো নিয়ম আছে। বুলিয়ান বীজগণিতেও কি এরকম ... ...
বাছাই করার গাণিতিক জাদুআগের অধ্যায়গুলোতে আমরা শিখেছি AND, OR, NOT, NAND আর NOR। লিলি আর মিমি এখন বুলিয়ান বীজগণিতের প্রায় সব অপারেটর জেনে গেছে। কিন্তু তাদের মনে একটা প্রশ্ন এসেছে — এমন কোনো অপারেটর আছে কি যে বলে, "হয় এইটা না হয় ওইটা, কিন্তু দুটো একসাথে না"? আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব ঠিক সেটাই — XOR আর XNOR।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি আর মিমি নাস্তা করছিল। তাদের সামনে দুটো জিনিস ছিল — একটা আপেল আর একটা কলা।লিলি বলল, "মিমি, তুই কি আপেল খাবি নাকি কলা খাবি?"মিমি বলল, "আমি একটা খাব। কিন্তু দুটো একসাথে ... ...
NOT-এর সঙ্গে AND আর OR-এর বন্ধুত্বআগের অধ্যায়গুলোতে আমরা শিখেছি AND, OR আর NOT। লিলি আর মিমি এখন এই তিন অপারেটর নিয়ে খুব মজা করছে। কিন্তু তাদের মনে একটা প্রশ্ন এসেছে — যদি NOT আর AND একসাথে করা যায়? আর NOT আর OR একসাথে করলে কী হয়? আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব ঠিক সেটাই — NAND আর NOR।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি আর মিমি তাদের মায়ের কাছে গেল। লিলি বলল, "মা, আমরা AND, OR আর NOT শিখেছি। কিন্তু আমরা ভাবছি, এগুলোকে একসাথে মেশালে কী হয়?"মিমি বলল, "যেমন AND-এর সঙ্গে NOT মেশালে?"মা হাসলেন। তিনি বললেন, ... ...
লিলির উল্টো জগৎআগের অধ্যায়গুলোতে আমরা শিখেছিলাম AND আর OR অপারেটর। লিলি আর মিমি এখন ভালোই বুঝতে শুরু করেছে। আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব NOT অপারেটর। এটা অন্য অপারেটরগুলোর চেয়ে একটু আলাদা। এটা শুধু একটা ইনপুট নিয়ে কাজ করে, আর তার উল্টো মান দেয়।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি ঘুম থেকে উঠে দেখে, বাইরে মেঘলা আকাশ। সে ভাবল, আজ বৃষ্টি হতে পারে। সে তার মাকে জিজ্ঞেস করল, "মা, আজ কি বৃষ্টি হবে?"মা বললেন, "আবহাওয়ার খবরে বলেছে, আজ বৃষ্টি হবে না।"লিলি বলল, "তাহলে আজ বৃষ্টি হবে না মানে কি বৃষ্টি হবে?"মিমি বলল, "এটা তো ঘুরিয়ে বলা। ... ...
মিমির মিষ্টি পাওয়ার সহজ শর্তআগের অধ্যায়ে আমরা শিখেছিলাম AND অপারেটর। লিলি আর মিমি বুঝতে পেরেছে, AND মানে সবগুলো শর্ত একসাথে পূরণ করতে হয়। আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব OR অপারেটর। এটা AND-এর চেয়ে অনেক সহজ। এখানে যেকোনো একটা শর্ত পূরণ হলেই হবে।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে মিমি তার মায়ের কাছে গিয়ে বলল, "মা, আমি কি আজ মিষ্টি খেতে পারি?"মা বললেন, "খেতে পারিস, যদি তুই আজ সকালে নাস্তা করিস অথবা দুপুরে খাবার খাস। একটা হলেই হবে।"মিমি ভাবল, সে সকালে নাস্তা করেনি, কিন্তু দুপুরে খাবে। তাহলে সে মিষ্টি পাবে।লিলি শুনছিল। সে বলল, "মা, এটা তো AND-এর ... ...
লিলির দুটো শর্তআগের অধ্যায়ে আমরা শিখেছিলাম, বুলিয়ান বীজগণিত হলো যুক্তির গণিত, যেখানে সব কিছুর মান হয় ১ অথবা ০। লিলি আর মিমি এখন বুঝতে পেরেছে, তাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক প্রশ্নের উত্তর ১ বা ০-এ দেওয়া যায়। আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব AND অপারেটর। এটা বুলিয়ান বীজগণিতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপারেটরগুলোর একটা।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি ঘুম থেকে উঠে দেখে, তার ঘরটা একটু এলোমেলো। সে ভাবল, আজকে খেলতে যাওয়ার আগে ঘরটা গুছিয়ে নেবে। কিন্তু তার আগে তাকে সকালের নাস্তা সেরে নিতে হবে।লিলি তার মায়ের কাছে গিয়ে বলল, "মা, আমি কি আজ খেলতে যেতে পারি?"মা ... ...
লিলির লাইট জ্বালানোআগের বার রাজা লিলি আর মিমির কাছ থেকে সেট থিওরি শিখে খুব খুশি হয়েছিলেন। তিনি দেখেছিলেন, গল্প বলে সহজভাবে শেখালে ১২ বছরের বাচ্চারাও কঠিন বিষয় বুঝতে পারে। এবার তিনি আরেকটি বই লিখতে চান। বইটির নাম হবে বুলিয়ান বীজগণিত।রাজা আবার শিক্ষামন্ত্রীকে ডেকে বললেন, "মন্ত্রী মহোদয়, এবার আপনি বুলিয়ান বীজগণিতের ওপর একটা বই বানান। ১০টা অধ্যায় হবে, গল্পের মতো সহজ হবে, আর লিলি আর মিমি যেন সেটা পড়ে বুঝতে পারে। প্রথম অধ্যায়টা যেন খুব মজা হয়।"শিক্ষামন্ত্রী আবার সেই সেরা শিক্ষক আর গণিতবিদদের ডাকলেন। তারা মিলে বানালেন এই বইয়ের প্রথম অধ্যায়। চলুন দেখি, তাঁরা কী বানালেন। সন্ধেবেলার ঘটনাসেদিন সন্ধেবেলা লিলি তার ... ...
পঞ্চম পর্ব রতনের কাঁধে ঠাকুর তোলার সেই দৃশ্য গ্রামের মানুষ ভুলতে পারল না। কারও চোখে বিস্ময়, কারও চোখে ভক্তি—কিন্তু সবার চোখে একই প্রশ্ন। এত ছোট ছেলে? নিশ্চই দেবংশী। পরেশের ওপর কারও সরাসরি আপত্তি ছিল না, কিন্তু ফিসফাস শুরু হল। চণ্ডী মণ্ডলের দোকানে আড্ডা জমল।“ওসব ঠিক হইতেসে না রে।” “ঠাকুর কাঁধে নেওয়া কি ছেলের খেলা?” “পরেশ বুড়া হচ্ছে, তাই ছেলেটাকে টানতেসে।” “নাকি কিছু অলৌকিক?”এই কথাগুলো ধীরে ধীরে সুবলের কানে পৌঁছাল। সুবল ভিতরে ভিতরে দুশ্চিন্তায় পড়ল। সে ভক্ত মানুষ, কিন্তু সে বাবা-ও। সে রাতে উমাকে বলল, “আমরা কি ভুল করতিসি?”উমা শান্ত গলায় বলল, “যা হচ্ছে, তা আমরা করতিসি না গো। নিজে নিজেই হইতেসে।”এরই মধ্যে অদ্ভুত ... ...
চতুর্থ পর্ব গাজনের সপ্তম দিন। সকাল থেকেই আকাশ অদ্ভুত পরিষ্কার। রোদ চড়া, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের স্বচ্ছতা। যেন প্রকৃতি নিজেই কিছু দেখার অপেক্ষায়। পরেশ আজ অস্বাভাবিক চুপচাপ। রতন তার পাশে বসে ঢাকের চামড়া টানটান করছে। তার মুখে ভয় নেই, উত্তেজনাও নেই—আছে গভীর মনোযোগ। আজ পরেশ ঠিক করেছে—রতনকে প্রথমবার ঠাকুরের ভার অনুভব করাবে। পরেশের দল আত্রাই নদীতে নামল স্নানের জন্য। সবাই স্নান সেরে উঠল। শেষবারের মতো পরেশ ঠাকুর কাঁধে নিয়ে জলে নামল। নিয়মমতো স্নান করাল। তারপর সে রতনকে ডাকল।“আয়।”সবাই অবাক হয়ে তাকাল। পরেশ ধীরে ধীরে পাটঠাকুর নিজের কাঁধ থেকে নামাল। দুই হাতে ধরে রতনের সামনে দাঁড়াল।“দুই হাত বাড়া।”রতন হাত বাড়াল।পরেশ ঠাকুরের এক পাশ তার হাতে দিল—পুরো ... ...
“আমাদের সমাজের যে বিশ্ববীক্ষা,তা আগামীর বুনিয়াদ বই আর কিছুই নয়”।.....ভিল কবি জিতেন্দ্র বাসবমাটির টান ও সুর যখন প্রাচীন আদিবাসী গোষ্ঠীর তুলির টানে ধরা পড়ে,তখন তা হয়ে ওঠে আদিবাসী শিল্পকলা।এই শিল্পসামগ্রী হলো এমনকিছু যা কোনো আদিম জনগোষ্ঠীর ইতিহাস,সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বস্তুগত চেতনাকে বহন করে।উন্নয়নশীল বিশ্ব, বিশেষতঃ এশিয়া -আফ্রিকায় বহুল পরিমাণে প্রাচীন জনগোষ্ঠীর পরিচয় পাওয়া যায়। যাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিল্পকলা রয়েছে। ‘আদিম শিল্পসামগ্রী’ বলাটা বোধহয় ঔপনিবেশিক মানসিকতার পরিচয়। যা একটি বৃহৎ মানবসমাজকে ছোট করতে শেখায় ও ইউরোপ-কেন্দ্রিক ধ্যানধারণাকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে তুলে ধরে।প্রমাণ হয়, ‘আদিম শিল্পকলা’ বলতে কতিপয় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাজকে পাদপ্রদীপের আলোয় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেগুলি হয়তো মূলধারার শিল্পের ... ...
গ্রুপঃ সৃষ্টা আর অনিশমার্চ ১, রাত ১২টা ৩ মিনিটসৃষ্টাঃঘরের বাইরে নিয়ন সাইনটা জ্বলছে 'লাইফ ইন্সুরেন্স', কিন্তু অর্ধেক অক্ষর নিভোঁ, তাই লেখাটা দাঁড়িয়েছে 'লাই ফে'। 'লাই ফে'। অনিশ, এটা একটা সিগন্যাল। আমি একটা 'ফে'ভার। 'ফে'টিশ। একটা নোংরামি 'ফে'রাল মিথ্যে। ফোনের স্ক্রিনের পিক্সেলগুলো আমার রেটিনায় পোড়া দাগ কাটছে। ওরাই আমার একমাত্র তারারা। শহর মরে গেছে। আমি মরে গেছি। কিন্তু আমার আঙুলগুলো, ওরা নাচছে। পারফর্ম করছে। অন্যের না-দেখা চোখের জন্যে ডিগ্রেডেশনের সিম্ফনি বাজাচ্ছে। কে দেখছে? মেশিনের ভূতগুলো। উষ্ণতার জন্যে লালায়িত প্রেতরা, আমি যেটা ডিজিটাল কয়েনের বিনিময়ে বেচেছি। আমি আমার নিজের হতাশার কারখানা। ভান করা এক্সট্যাসির অ্যাসেম্বলি লাইন। আর আমার দেহটা সেই প্রডাক্ট যার ... ...