‘ এই... এই যে আসুন ... এই মাঠটা পেরোলেই ওদের বাড়ি '। অগ্নিভ স্টেশন থেকে যে রিক্শাটা ধরেছিল তার চালকই মাঠের ধারে রিক্শাটা দাঁড় করিয়ে তাকে ছোট মাঠটা পেরিয়ে সত্যপ্রসাদ ভট্টাচার্যের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিল। ছোট একতলা বাড়ি। ভেতর থেকে প্রায় চল্লিশ বিয়াল্লিশ বছরের একজন মানুষ খালি গায়ে বেরিয়ে এলেন। রিক্শাওয়ালা বিদায় নিল। অগ্নিভ হাতজোড় করে বলল, ‘নমস্কার, আমি প্রতিলিপি থেকে আসছি। বিপ্লবী সত্যপ্রসাদ ভট্টাচার্যের জন্মের একশো পঁচিশ বছর পূর্তি ... ...
জিহ্বার প্রত্নতত্ত্বজিভে লাগছে। কিন্তু স্বাদ নেওয়া হচ্ছে না, স্বাদ আক্রান্ত হচ্ছে, আক্রমণ করছে স্বাদকোরকগুলোকে, যারা প্রতিটা এক অন্ধ, স্পর্শকাতর সৈন্য, যারা রাসায়নিক সংকেতকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে, কিন্তু এবার সেই সংকেতগুলো উল্টোপথে চলছে, বাইরে থেকে ভিতরে না, ভিতর থেকে বাইরের দিকে, জিভের ডগা থেকে বেরিয়ে আসছে স্বাদ, জিভ স্বাদের উৎস হয়ে উঠছে, জিভ নিজেই স্বাদ। আর সেই স্বাদগুলো শুধু মিষ্টি, নোনতা, টক, তেতো, উমানি নয়, স্বাদগুলো এখন ধারণা, আবেগ, স্মৃতি, ভবিষ্যৎ, অনুতাপ, গর্ব, সন্দেহ, নিশ্চয়তা—সবকিছু। স্বাদের বিপর্যয় ঘটেছে, স্বাদের রাজ্যে অভ্যুত্থান, স্বাদের গৃহযুদ্ধ।প্রথম স্তর: মুখের ভিতরের মৌলিক স্বাদ। শুষ্কতা। জিভ তালুতে লেগে আছে, খসখসে, ধুলোয় ধূসর, সেই ধুলোর স্বাদ মাটি ... ...
২২শে জানুয়ারি, সময় সন্ধ্যে ৭.১৫। স্থান আলিপুর মিউজিয়াম, কলকাতা লিটারেসি মিট ২০২৬।অভিজিতের সাথে এক মঞ্চ থেকে আর এক দিকে যাচ্ছি, হঠাৎ পিছনে জোর আওয়াজ, খুব ভারী কোনো ধাতব জিনিষ বাঁধানো কংক্রিটের রাস্তায় পড়ল মনে হলো। অভিজিতের আঁতকে ওঠার আওয়াজে পিছন ঘুরে দেখলাম একজন বয়স্ক মানুষ, নাম পরের দিন জেনেছি, অরুণাভ সেনগুপ্ত, রাস্তায় পড়ে গেছেন, হোঁচট খেয়ে। ধরে দাঁড় করাতে না করাতেই, মুহূর্তের মধ্যে চেয়ার নিয়ে দৌড়ে এলেন এক তরুণ সংগঠক, পরে নাম জেনেছি সুপ্রিয় ঘোষ। বসানোর পর বোঝা গেলো মাথার সামনের দিক ফেটেছে, ফিনকি দিয়ে রক্তের বন্যা। আনাড়ি চোখে আঘাতের জায়গা দেখে আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হবার জোগাড়। মনে হলো খুলির হাড় ... ...
বিশ্বে শান্তি আমি আনবোই আনবো।দরকারে, অশান্তি বোমা মেরে ভাঙ্গবো।নোবেলটা দরকারটেঁকাতে এ সরকারপৃথিবী বেহাল হলে ‘MAGA’ বলে মানবো। এই হিংস্রতা আর ভণ্ডামি নতুন কিছু নয়। আসলে, সাম্রাজ্যবাদ কখনও আপিস কামাই করে নি, করে না। শুধুমাত্র, আগের দিন পরা, রক্তের ছিটে লাগা পোশাকটা বদলে নেয়। তাই কখনও তাকে ফ্রক কোট-এ দেখা গেছে, কখনও গলাবন্ধ কোটে, কখনও বা নীল স্যুট আর লাল টাইয়ে। ছোট পরিসরে যখন সে কাজ করে তখন নানারকমের পোশাক পরে। একেকদিন একেকরকম। যখন যে অঞ্চল দখল করতে যে পোশাক খাপ খায়, সেটাই। সব পোশাকের আড়ালে সেই একই খুনে leper পৃথিবীর সব জায়গায় তার আপিস খুলে বসে আছে। সেই মানবসভ্যতার আদিকাল থেকে… এরাও ... ...
পর্ব-৩ একটা শিষ্যকুল না থাকলে নামের শেষে আনন্দ বসিয়ে স্বঘোষিত স্বামীজী হওয়া যায় না। আমারও একটা পার্মানেন্ট শিষ্যকুল আছে, তবে তার সাইজ মেরেকেটে দুই – একজন শিষ্য, আরেকজন শিষ্যা, শিষ্যের নাম হিজিবিজি - দেখতে প্যাংলা মতন। প্যাংলা শব্দটা বাংলা অভিধানে আছে কিনা আমি কখনও চেক করিনি। আমাদের স্কুলে দেবু আমাকে বলেছিল প্যাংলা হল তারা, যাদের দেখবি কোন মেয়ে পছন্দ করে না। যদিবা কখনও করে, সে অন্য কোন সুবিধা নেওয়ার জন্য। যেমন দেখবি যারা প্যাংলা, কিন্তু পড়াশোনায় খুব মনযোগী, তাদের সঙ্গে মেয়েরা মিশতে চায়। কিন্তু ওই স্কুল জীবনেই। তারপরে যেই একটা সত্যিকারের ভাল ছেলে পেয়ে গেল অমনি প্যাংলা কে ল্যাং মেরে নতুনটার ... ...
তখন নিতান্তই হাতেখড়ি র বয়স। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যা দেবীর পূজায় নামাবলীতে মোড়া একটা শক্ত হাত, আমার খড়ির পেন্সিলে ধরা হাতটা আর ও শক্ত করে ধরে কালো স্লেটের ওপরে লিখিয়ে নিলো - অ,আ, ই, ঈ... আমি প্রচন্ড কাঁদছিলাম !সঠিক কারণ আজ আর মনে নেই! তা প্রায় সেই থেকে, কোনো দিনই তাকে দেবী বলে মনে হয়নি আমার!আমার শৈশব কৈশোর নমঃ নমঃ করে, পার হলোযৌবনে হলো মতিভ্রম, আমি হলাম নষ্ট নর!তোমরা যারা পায়ের কাছে বই খাতা কি বাদ্যযন্ত্র রাখতে-আমার কিন্তু তেমনটা নয়! পুষ্পাঞ্জলি নয় - অনায়াসে খেয়েই চলেছি - শাঁখালু, নারকোলি আর টোপা কুল! এছাড়াও ছিল দুই চুরির গুঞ্জন। দিনে ক্ষিচুরি, রাতে কচু্রি!তবু ... ...
আজ সেই পুণ্যদিবস - ২৩ই জানুয়ারী। এবং এই সাল অর্থাৎ ২০২৬ হলো বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনী সাল। বিধানসভা নির্বাচন এবং সুভাষের রাজনীতিকে কেন একযোগে আনলাম তার কারণ আবারো চারিদিকে শুরু হয়েছে (ঠিক ২০২১ এর মতন) অর্ধ সত্য তুলে ধরার কুরাজনীতি। বাঙালি আইকনদের কেন্দ্র করে অর্ধ সত্য তুলে ধরার ন্যারাটিভ কে কাউন্টার করা খুব জরুরি। কাউন্টার করার পথ হলো সম্পূর্ণ uncluttered সত্যকে তুলে ধরা। সুভাষ বোস এবং তার রাজনৈতিক জীবনকে নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা অনেক সময়ে কিছু বেঠিক অতিসরলিকরণ করে ফেলি। কিছু রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা জরুরি সেই বিষয়ে। প্রথমেই সরলিকরণের একদম সঠিক জায়গা গুলো দেখে নেওয়া যেতে পারে। কংগ্রেসের অন্দরের দক্ষিণপন্থী, গান্ধীবাদী এক ... ...
ডিলিট
অনুগল্প: আলোর কর্মচারীঅয়ন মুখোপাধ্যায় কুমির মোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান সনৎ ঘোষ। লাইব্রেরিতে বইয়ের অভাব ছিল না—অভাব ছিল পাঠকের। ছাত্রছাত্রীদের কাছে লাইব্রেরি মানে ছিল বন্ধ দরজার একটি ঘর, যেখানে ধুলো জমা বই গুলো নীরবে পড়ে থাকে। কখন ও আবার সেই ঘরটাই হয়ে উঠত রিহার্সাল রুম। কিন্তু সনৎ ঘোষ বিশ্বাস করতেন—লাইব্রেরি যদি আলো না ছড়ায়, তবে তার অস্তিত্বের মানেই বা কী?প্রতি দিন তিনি বইগুলো ধুলো ঝেড়ে যত্ন করে সাজিয়ে রাখতেন। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন একটি করে বই হাতে নিয়ে দাঁড়াতেন লাইব্রেরির দরজার সামনে। যে ছাত্রছাত্রীকে দেখতেন, তাকেই বলতেন—“আজ এই গল্পটা পড়ে দেখবে? ভালো লাগবেই।”শুরু তে কেউ পাত্তা দিত না। কিন্তু সনৎ ঘোষ হাল ছাড়েননি। একদিন ... ...
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও যান্ত্রিক যুক্তির বিভ্রম বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কে একটি পরম সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, AI কোনো জৈবিক চেতনা নয়; এটি স্রেফ কিছু সাজানো সংকেত এবং যান্ত্রিক নির্দেশের সমষ্টি। মানুষের বুদ্ধি যেখানে প্রেক্ষাপট, ইতিহাস এবং মানবিক সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দেয়, AI সেখানে কেবল সংখ্যা এবং অক্ষরের মিল খোঁজে। ... ...
জননায়ক না উত্তরাধিকার—পপুলিজমের নামে ক্ষমতার পুনরুৎপাদন। অয়ন মুখোপাধ্যায় বাংলার রাজনীতিতে আজ কিছু শব্দ অস্বাভাবিক ভাবে বেশি শোনা যায়—‘জনগণ’, অসমিতা’, ‘বাংলার লড়াই’। এই শব্দগুলো শুনলে মনে হয় রাজনীতি বুঝি মানুষের হাতেই ফিরে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে এই শব্দগুলোর বেশিরভাগই আর মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসে না। এগুলো এখন ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে ছুড়ে দেওয়া রাজনৈতিক স্লোগান মাত্র। যে রাজনীতির নাম পপুলিজম, তা এখানে আর নিচ থেকে উঠে আসা কোনও প্রতিরোধ নয়; বরং উপর থেকে আরোপিত এক সুচারু আবেগ ব্যবস্থাপনা। দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই—এই কথাটা শুনতে বেশ ভালো লাগে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দিল্লির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নামে কলকাতায় কি নতুন কোনও দিল্লি তৈরি হয়নি? ক্ষমতার কেন্দ্র কি ... ...
ক্ষমতার আগাম বিনিয়োগ: ২০০৬-এর পর বাংলার রাজনীতিতে ঝুঁকি, লোভ ও নৈতিক পতনের দর্শন অয়ন মুখোপাধ্যায় কিছু সময় রাজনীতির ইতিহাস কে বোঝা যায় সংখ্যায়। যেমন—২৩৫। ২০০৬ সালে এই সংখ্যা টাই ছিল বাংলার রাজনীতির আপাত নিশ্চয়তার প্রতীক। ২৩৫টি আসন নিয়ে বামফ্রন্টের ক্ষমতা তখন প্রায় অচলায়তনের মতো—নড়ানো যাবে না, ভাঙা যাবে না, অন্তত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নয়—এমনটাই ধরে নিয়েছিল সেই সময়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। অথচ ঠিক সেই সময় থেকেই রাজ নীতির মাঠে দেখা যাচ্ছিল এক অদ্ভুত দৃশ্য—যা সংখ্যার অঙ্ক মানছিল না, যুক্তির সাধারণ ব্যাখ্যাও মানছিল না। আমি দেখেছিলাম বহু মানুষকে—যাঁরা কেউ সরকারি চাকরিতে, কেউ প্রতিষ্ঠিত পেশায়, কেউ আবার বাম রাজনীতির ছায়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ছিলেন—হঠাৎ করেই নিজেদের ক্যারিয়ার, সামাজিক ... ...
পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের টাকায় নিজের বিরুদ্ধে একটি অকাট্য প্রমাণপত্র তৈরি করেছে। এমন সততা আজকাল দুর্লভ। "লক্ষ্মী এলো ঘরে" দেখে মনে হলো সরকার হয়তো ভুল করে ডকুমেন্টারি বানিয়েছিল, পরে আইডিয়া এলো - এটাকে ফিচার ফিল্ম বলে চালিয়ে দিই। কাহিনী এমন - গোপাল বাড়ুই মরে গেল (সারদায় টাকা রেখেছিল কিনা জানা যায়নি), বিধবা স্ত্রী লক্ষ্মী এখন শাশুড়ির অত্যাচার আর গ্রাম্য মাতব্বরের হেনস্থায় অবরুদ্ধ। পাশে আছে চিরকালের বন্ধু সুজন, যে হোয়াটসঅ্যাপের চেয়ে দ্রুত হাজির হয়। প্রেম না সেবা, তা নিয়ে দর্শকের মনে হালকা সন্দেহ থাকলেও ছবি সেদিকে যায়নি। ছবিতে দেখানো হলো মাটির ঘর। সেই ঘর ভেঙে পড়লে "বাংলার বাড়ি" প্রকল্পের টাকা মিললো। প্রধানমন্ত্রী আবাস ... ...
১ যে ঘরে ট্রেন ঢোকে নাঅয়ন মুখোপাধ্যায় ঢাকুরিয়া বস্তির মেয়েটি জানে—রেললাইনের গা ঘেঁষে থাকা টালির ঘরেতার মায়ের হাত, আজও রান্না করছে।আর সে,চুল বেঁধে বসে আছে—একা। মাঝরাতে সে চোখ রাখে বইয়ের ভেতর।চুপচাপ সিলেবাসের কবিতাগুলো পড়তে পড়তেমাঝে মাঝে ফিসফিস করে নাম ধরে ডাকে বাবা বাবা যিনি আকাশের ওপারে কোথাও আছেন। দু’ লাইনের ওপর দিয়ে ছুটে যায় ক্যানিং লোকাল।ছোট্ট পায়ের ছাপে স্বপ্নের গতি পায়।কামরার জানলা ভেঙেআলো ঠিকরে পড়েবস্তির ছাদে। এক মুহূর্তে মেয়েটি ভাবে—সে যেন পরী।ঠিক তখনইপরীর কানে ঢুকে পড়েট্রেনের হর্ন। যে শব্দে রাত্রি নামে,সে বুঝে যায়—আলো থাকলেওসব ঘরে আলো জ্বলে না। ২লাইন টপকে বসন্ত অয়ন মুখোপাধ্যায় শীতের শেষে বসন্ত ঢুকে পড়েভাঙা বস্তিতে।বিনোদিনী গার্লসের নতুন শাড়ি-পড়া মেয়েগুলোদল বেঁধে লাইন টপকায়—তাদের পেছনে উড়ে যায়আকাশের ... ...
সেই যে মা হাতে ধ’রে শিখিয়ে দিয়েছিল, “যেখানেই দু’শালিখ দেখবে, মনের চোখ দিয়ে তক্ষুণি প্রণাম ক’রে ফেলবে! দেখবে, তোমার প্রেম কখনও হারিয়ে যাবে না।” আজও তাই দু’শালিখ যেখানেই দেখি, সেখানেই মনের চোখ দিয়ে তক্ষুণি প্রণাম ক’রে নিই। প্রেম হারানোর ভয়ে? নাহ্! অভ্যেস। বদলাতে পারিনি আর কোনওদিন। বাবা শিখিয়েছিল, “খারাপ স্বপ্ন দেখলে, যদি সঙ্গে তেমন টাকা থাকে, কিছু ভাল মানের সন্দেশ কিনে কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে আসবে। তোমার আর স্বপ্ন নিয়ে দুঃস্বপ্ন থাকবে না।” মন্দিরে যাওয়া ছেড়ে দিয়ে এখন কেবল উৎসবে পা মেলাই। উৎসবেই আনন্দ খুঁজে নিই। কখনও কখনও সন্দেশের বদলে শিঙাড়া কিনে খাই। ছোটকা সবসময় বলত, এখনও বলে, “সময়ের কাজ সময়ে করো। ... ...
( ১ )সংশোধনের তালিকা তৈরি শুরু!ভেতর থেকে সার্কাসটা চালায় ভন্ড গুরু! অনুগত গোবর গনেশ চাইছে কাগজ, আতঙ্কে দেশ! বকলমে লিখছে ভাগ্য;জনগন কি গরু! ( ২ )হরেক রকম ভেক ধরে সেফিকির খোঁজে ফকির বেশে ; স্বাস্থ্য কোমায় আই সি ইউ তে !শিক্ষা মনুসংহিতা তে! মাইক্রোস্কোপের তলায় শুয়ে শিল্প মুচকি হাসে! ( ৩ )হতাশায় মরে পোলাপান; -শুধু দুঃস্থ বাবার পেনসান ! চলছে না আর চলছে না!! সূর্য শিকার হচ্ছে না! দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়ে সওয়ার চন্দ্রযান! ... ...
প্রথমেই আমি ক্ষমা চাইছি বাংলার, গ্রামীণ বাংলার কবি দের কাছে। আমি জানি এটা লোটো গানের এক অক্ষম হনুকরন। কিন্তু Canadian Prime Minister Mark Carney কে জবাব দিতেই হতো। তাই এই অবতারনা। এ আমার নিজের লজ্জা, যে আমি এই ভাবে ভাব প্রকাশ করতে পারদর্শি নই। (গায়ক):ওরে বাবা! কী দেখি শুনি! উল্টেপাল্টে যেন! বড় হাতির গুঁতোয় এখন ছোট দেশের ত্যানা! কানুনের লেবু চুষছে যারা, তাদের মুখ খিঁচু! আমার মতন সরু খটার জোটাতে হবে পিঁচু! (দল):আগে কেন্যে বুললি নারে? (হয় না! হায় রে!) আগে কেন্যে বুললি নারে? (ঠিক কথা দাদা!) (গায়ক):সবজিওয়ালার কথা কলাম, তার বউও জানে চালাকি ... ...
নাচের হলের দিকে হাঁটা। পা নিজে নিজে চলা। পুরোনো পথ। চেনা。কিন্তু আজকে পায়ে একটা টান। মনে হচ্ছে, যাওয়া নয়, টানা। ফেসলেস_জিরোর কথাগুলো মাথায় ঘুরপাক খাওয়া: "যেটা টানে, তার গভীরে যাও।" টানে কী? ওই ঝলমলে আলো? ওই গাঢ় গন্ধ? না... ওই ফাঁকা চোখগুলো। যেন এক একটা জানালা, খোলা, কিন্তু ভেতরে অন্ধকার।দরজা দিয়ে ঢোকা। একই গরম হাওয়া। একই বেসের ধাক্কা, বুকের পাঁজর কাঁপানো। দরজার পাশের গার্ড চেনা মুখ। ওই জানেন, আমি নিয়মিত। শুধু দেখতে আসা। কোনো ঝামেলা না করা। বিনা বাধায় ঢোকা।মঞ্চের দিকে তাকানো। আজকে নতুন মেয়ে। লম্বা, কালো চুল, সাদা জিভের মত দেহ। কিন্তু চোখ... চোখ তো সেই একই জিনিস। দূর ... ...
আলো। আলোই প্রথম। আলো যা চোখ বন্ধ করেও দেখা যায়, যা চোখ খুললে অন্ধত্ব। উত্তাপের একটি স্তর, ত্বকের নিচে প্রবেশ করে, শিরায় শিরায় পৌঁছে যায়, এক ধরনের আগুন যা রক্ত সিদ্ধ করে না, শুধু নিষ্ক্রিয় করে, একটি স্বর্ণিম স্তব্ধতা। এই আলো আসে কোথা থেকে? উপরে? না, চারিপাশ থেকে। এটি জলের আলো, এটি দর্পণের আলো, এটি শূন্যতার আলো। আমি সেখানে আছি, কিন্তু আমি কি? একটি সংবেদন: সীমাবদ্ধতা। আরেকটি সংবেদন: ভেসে যাওয়া। তৃতীয় সংবেদন: ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একটি শব্দ: কর্দমের শব্দ, পানি ভেদ করার শব্দ, এবং একটি আর্তনাদ যা বাইরে থেকে আসে না, ভিতর থেকে আসে, ফুসফুসের প্রথম প্রসারণ থেকে, একটি বেলুনের ... ...