রাত নামা। শহরের নিওন আলো জ্বলা। বিজ্ঞাপনের প্যানেল ঘুরতে থাকা। দেয়ালের উপর চলচ্চিত্রের পোস্টারে মানুষের মুখ কেটে ফেলা। মুখের জায়গায় ফাঁকা। স্লোগান লেখা: "আপনার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়।" কী অধ্যায়? কেন কিনব?বেশ্যালয়ের দিকে যাওয়া। পুরানো বাণিজ্যিক পাড়া। সময়ের সাথে পিছিয়ে পড়া এলাকা। উচ্চভবনের ছায়ায় ঠেসে দাঁড়িয়ে থাকা দুই তলা বাড়ি। সংকীর্ণ গলি। দেয়ালে স্টিকার, পুরনো পোস্টার ঝুলে থাকা। কোনোটাতে ভোটের প্রতীক, কোনোটাতে সস্তা মোবাইলের বিজ্ঞাপন। নর্দমার গন্ধ। গলির মোড়ে চায়ের দোকানে টিভি জ্বলা। খবর পড়ছে: "দেশ উন্নতির পথে... যুবসমাজকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে..."লাল বাতির আলো জানালা থেকে পড়া। কখনো একটানা, কখনো টিমটিম করে। একটি আলোর রেখা কালো দেয়ালের উপর দিয়ে হেঁচড়ে ... ...
একটি ছাদের গল্প কলমে সহেলী বন্দ্যোপাধ্যায় মনের মধ্যে একটা ছাদের পথ মাঝে মাঝেই গুনগুনিয়ে ওঠে.. বাবা বলতেন, মাথার ওপর ছাদ থাকাটা খুব দরকার বুঝলি. তোরা এসব বুঝবি না.. তোদের মাথার উপর ছাদের অভাব কখনো হয় নি মাকে দেখেছি খুব কষ্ট করতে বাবা তখন সামান্য স্টেশন মাস্টার আর বাড়িতে এতগুলো পেট. সঙ্গে মাঝে মাঝেই আত্মীয় স্বজন এক টুকরো মাথার উপর ছাদ রাখতে এক টুকরো রুটি বা এক মুঠো ভাতের বা এক ফালি কাপড়ের খুব দরকার.. ছাদ, ভাত, রুটি বা কাপড় একে অপরের সাথে হাত ধরাধরি করে চলে ছাদের উপর গ্রীষ্মের তাপ, বর্ষার বৃষ্টি, আর শীতের রুক্ষতা প্রবল হত মাঝে মাঝেই ছাদ বাঁচানোর তাগিদে শরৎ, হেমন্ত বা বসন্তের অবকাশ কোথায় বা ছিল? বড় হলাম যখন মাথার ওপর ছাদ হল তিন তলার আর সেই ছাদে ... ...
বাংলার প্রতিটি অবিজেপি দলের কর্মী, সমর্থক, নেতা, এমনকি বিজেপিরও বাঙালি সমর্থকদের প্রতি আবেদন, এবার অন্তত বাংলাকে বাঁচাতে আওয়াজ তুলুন। কারণ, যা হচ্ছে, তার কোনোটাই বিচ্ছিন্ন নয়, বরং ভীষণ সুসংগঠিত। বহুবার লিখেছি, আরও একবার সময়সারণীটা লিখি। দেশজুড়ে বাঙালি ঠ্যাঙানো কখন শুরু হল, মনে করে দেখুন। অপারেশন সিঁদুর চলার পর্যায়েই। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যেতে শুরু করল "বাঙালি অর্থাৎ বাংলাদেশীদের"। এটা এমনি এমনি হয়না। একটা যুদ্ধোন্মাদনা তৈরি হয়েছিল পাকিস্তানকে নিয়ে। গোদি মিডিয়া প্রাণপনে মিথ্যাচার করছিল, আসলে হাওয়া তুলছিল। ওসব মেটার পর পুরো উন্মাদনাটাই সরিয়ে দেওয়া হল বাংলাদেশের দিকে। বাংলাদেশ হল নয়া পাকিস্তান, আর পশ্চিমবঙ্গ হল জিহাদিদের আস্তানা, নয়া কাশ্মীর। দীর্ঘদিন ... ...
সমাজে বিজ্ঞানকে আমরা মোটামুটি তিন-ভাবে প্রত্যক্ষ করে থাকি।১) বিজ্ঞান শিক্ষা২) প্রযুক্তি৩) বিজ্ঞান সচেতনতা বা চেতনাবিজ্ঞান শিক্ষা প্রযুক্তিতে নিয়োজিত হয়। প্রযুক্তি পণ্যে নিয়োজিত হয়। পণ্য মানুষের জীবনকে আরামপ্রদ করার কাজে নিয়োজিত হয়। অন্যভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, বিজ্ঞানের কাজ হল মানুষের জীবন যাপনকে সুবিধাজনক ও আরামপ্রদ করে তোলা।অনেক সময় মনে হয় যদি পণ্য (দ্রব্য ও সেবা উভয়ই হতে পারে) না থাকত, তাহলে বিজ্ঞানের উপস্থিতিকে ইন্দ্রিয়গোচর করা একটি দুরূহ বিষয় হয়ে দাড়াত। পণ্যই আমাদের জীবনকে বিজ্ঞানময় করে তোলে। আর এই মর্মে বাজার অর্থনীতিরও বিশেষ গুরুত্ব আছে।সমাজে সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, বানিজ্য নিয়ে চর্চা করতে গেলে, সেইসব বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হওয়াটা বাধ্যতামূলক না। যেমন আমি ... ...
আমি এখনো বেঁচে আছি অয়ন মুখোপাধ্যায় এইসব কথা বাদ দাও—নৈতিকতা, ভবিষ্যৎ, ঠিক-ভুলের হিসেব। শহরটা আজও শিশিরের জলে ভিজে আছে,গতকালের ঘামে আর পুলিশের বাঁশিতে। আমি কোনো দেবতা নই,ক্ষমা করার অভ্যাস আমার নেই। আমার শরীরটা এখনোভাত, সিগারেট আর একটুখানি স্পর্শ চায়। প্রেম মানে কবিতা নয়,প্রেম মানে মাঝরাতেনিজের নাম ভুলে যাওয়া। চারপাশে এত মৃত্যু—বন্ধু, আদর্শ, বিশ্বাসসবাই ধীরে ধীরে সরে গেছে। এইসব কথা বাদ দাও—আমি এখনো বেঁচে আছি,তাই ভালোবাসি। ... ...
[ এই লেখাটি মৌলিক নয় আদৌ। এটি মীরা নন্দার ‘Science in Saffron: Skeptical Essays on History of Science’ বইয়ের ৫৬ পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ তথা অধ্যায়ের সারাৎসার।] “The physics and chemistry of living cells is the same as the physics and chemistry of rocks. No spiritual energy is needed to explain life” --- Victor Stenger ১৮৯৩ সালে বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার মধ্যে আধুনিক বিজ্ঞানের কথা এসেছিল এরকম ভাবে – ‘হিন্দুরা যে কথা তার বুকের মধ্যে যুগ যুগ ধরে ধারণ করে এসেছে সেই কথাই আরও জোরালো ভাষায়, বিজ্ঞানের সাম্প্রতিকতম সিদ্ধান্তের আলোয় শেখানো হবে এবার।’ শিকাগোর পর বিবেকানন্দ আমেরিকায় পতঞ্জলির যোগসূত্রর ওপর নিউইয়র্ক এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেই বক্তৃতাগুলি বিবেকানন্দর অনুবাদ সহ ১৮৯৬ সালে ‘ রাজযোগ’ নামে প্রকাশিত হয়। প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয় বইটি। এই বইতে শারীরিক আসন টাসনের ... ...
অরুনাংশুবাবু মুখে রুমাল বেঁধে কষে নাক মুখের ফাঁকফোঁকর ঢেকেঢুকে পোস্টাফিসের ক্যাশ কাউন্টারে লাইন দিলেন এমআইএস-এর সুদ তোলার জন্য। লোকজন বিশেষ নেই। এই জনা পাঁচেক উলোঝুলো বুড়ো পাসবুক আর উইথড্রয়াল স্লিপ বাগিয়ে খাড়িয়ে আছে। লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্বের নির্ঘন্ট চালু আছে। কে বলে লোকে নিয়ম মানছে না ! প্রায় এক একটা ঠেলাগাড়ির সমান দূরত্বে এক একজন দাঁড়িয়ে। পাওয়া গেল ষোলশ টাকা। পরের মাস থেকে এরও কম পাওনা হবে। কি করে সংসার খরচ চলবে অরুনাংশুবাবু এখন ভাবতে চান না। শুধু ওষুধের খরচই মাসে সাত আটশো টাকা। সরকার নাকি কোভিড-১৯ এর মোকাবিলার জন্য খরচ কমাচ্ছে। বাজেট ঘাটতি টেনে নামাতে হবে। পেনশনারদের ঘরে বসিয়ে তোফা আরামে খাওয়ানোর তবিল কোত্থেকে ম্যানেজ ... ...
অচিন ছায়াঅ্যা লবার্ট সিরাজ ব্যানার্জি প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় সে প্রাসাদের সর্বোচ্চ বারান্দায় দাঁড়ায়। লালচে আকাশের নিচে হস্তিনাপুরের অপরূপ রূপ যেন আগুনে ঝলসে উঠে। কিন্তু তার চোখে পড়ে না সৌন্দর্য। চোখে পড়ে শুধু সেই একই দৃশ্য—সবুজ মাঠের ওপারে দূরের কুটির, যেখানে পাঁচ ভাই ও তাদের এক স্ত্রী বাস করে। আরও ক্লিয়ারভাবে দেখে সে—সেই সুন্দরী স্ত্রী, যার হাসিতে একদিন পুরো সভা ভেসে গিয়েছিল। আজ সেই হাসি নেই, আছে শুধু লজ্জা, ক্ষোভ এবং অপেক্ষা।হাতের রেলিংটা শক্ত করে ধরে। নখ গেঁথে যায় কাঠের ভেতর। মনে পড়ে যায় সেই সভার দিন। তার হাত ধরে টেনে আনা হয়েছিল সেই নারীকে। চুলের মুঠি ধরে টানা হয়েছিল। শুনতে হয়েছিল ... ...
ভাষা আমাদের মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। আমাদের আবেগ আর বিবৃতিগুলো ভাষার মাধ্যমেই আমরা সাধারণত প্রকাশ করে থাকি (ছবি, ডায়াগ্রাম, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বাদ দিয়ে)। ভাষা প্রকৃত প্রস্তাবে অর্থবহ শব্দসমষ্টি। সেই হিসেবে খিস্তিও ভাষা কারণ এগুলোও অর্থবহ শব্দসমষ্টি। অথচ, কার্যক্ষেত্রে দেখা যায়, খিস্তি অপাংক্তেয়। মনের আবেগ প্রকাশে যারা খিস্তি ব্যবহার করে, সুশীল সমাজ তাদের এড়িয়ে চলে। তাদের দেখলে নাক কুঁচকায়। তীব্র রাগ বিরক্তি ঘেন্না প্রভৃতি আবেগগুলোর সঠিক প্রকাশ খিস্তির সাহায্য ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই এইসব পরিস্থিতি অনুযায়ী, একমাত্র যথাযথ খিস্তি প্রয়োগ করলেই এই আবেগগুলো প্রশমিত হয়ে মন শান্ত, পরিতৃপ্ত হয়। কিন্তু এর ফলে সমাজের দেওয়া, আমাদের বুকে সাঁটা, ‘শিক্ষিত’ ‘সংস্কৃতিবান’ ইত্যাদি তকমাগুলোতে ... ...
বাবার ফোন কল। ভোরে ভোরে। রিংটোনটা সেই পুরানো লোকগান—"আমার ঘর খাঁড়া করবে কে"। বাবা অপেশাদার গায়ক, এইটাই সেট করছে। ভাইব্রেশন। হাতে নিয়া দেখি—বাবার ছবি। হ্যাঁ, এটাও সে ফোরস করে দিছে। "আনসার"।ঠোঁট শুকাইয়া যাওয়া। কল রিসিভ করা। বাবার গলা ভাঙা ভাঙা, পটেশিয়ামের ঘাটতি। "বাবা?""উই... টিউশন ফি। সেমিস্টার ফাইনালের। কাল ডেডলাইন। কলেজ হইতে এসএমএস আসছে না? তুমি পড় না?"আমি পড়ি। কিন্তু দেখি না। অথবা দেখার ভান করি না। ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাপ খুলি। বালান্স দেখি—যেমন তেমন। মায়ের সংসার খরচের টাকা। বাবার ওষুধের টাকা। আমার "হলুদ নীলের" ক্যাম্পাসের ফি।বাবার ক্যালকুলেশন শুরু হয়। "দেখ, সেমিস্টার ফি এক লক্ষ বিশ হাজার। ডেভেলপমেন্ট চার্জ আট ... ...
এই দেশে এক জিনিস যেটা দেখলাম সেটা হল হ্যালোইন। এখানে এই জিনিসটা আরও বেশি আনন্দদায়ক এবং ছোট থেকে বড় সবার সহযোগিতা বা উৎসাহ দেখে বেশ লাগে। আমি যেই শহরে থাকি সেটি হল টেক্সাসের “হ্যালোইন ক্যাপিটাল”। গত দুই বছরেই দেখেছি, এই গোটা অক্টোবর মাস জুড়ে নানা ধরনের আমোদযুক্ত খেলা বা উৎসবরূপী সাজগোজে শহর গমগম করতে থাকে। প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু লেগেই থাকে। অনেক কিছুর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নিছক আনন্দ। সব বয়সি লোকজন বা সব ধরনের পেশাগত মানুষ এই উৎসবে নিজের উপস্থিতি রাখেন এবং দিব্যি ভালভাবেই ... ...
চোখের পদবি চৌধুরী আর কথার পদবি মুখোপাধ্যায়। ভাবনার পদবি সেনগুপ্ত আর চিন্তার পদবি চট্টোপাধ্যায়। অনুভবের পদবি দত্ত আর জীবনের পদবি শর্তপাধ্যায়। এ কি কথার মতো কথা? নির্ভেজাল গন্ধেরা যখন অদৃশ্য সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে হঠাৎ ক’রেই বাতাসে ঝাঁপ দেয়; সেই মুহূর্তেই রক্তের স্বাদ মায়ের হাতের গরম রুটিতে দুপুরবেলার বিছানা গোছানোয় মন দেয়। এসব বললেও কমই বলা হ’য়ে থাকে। দূরপাড়ায় যে গান বাজতে শোনা যায়, সেখানে আদর্শ বলতে সাময়িক আনন্দ। এও তো তেমনবেশি হল না, সেকারণে পুরনো বালিশেই কাঁচ ভাঙার শব্দ আর রোদ্দুর নিভিয়ে দিয়ে অন্ধকার টাঙিয়ে দেওয়া।পরীক্ষার সঙ্গে আয়নার ঠোঁটের দারুণমিল! সময়কে অনেকে শয়তান বলেছে, যদিও সরাসরি আঙুল তোলার ঝুঁকি ... ...
প্রাচীনকালের সম্রাটরা অনেক সময় রাজ্য বিস্তার বা সীমান্ত সুরক্ষার প্রয়োজনে ঝামেলা পূর্ণ যুদ্ধ এড়িয়ে বৈবাহিক কূটনীতির আশ্রয় নিতেন। রাজার কোন বিবাহযোগ্য পুত্র বা কন্যার সাথে সীমান্তবর্তী ছোট রাজ্যের রাজপুত্র বা রাজকন্যার বিয়ে দেওয়া হতো। এই প্রক্রিয়ায় রাজ্যের সীমানা বেড়ে যেত বা ওই দিকের সীমান্ত সুরক্ষিত থাকতো। চেঙ্গিস খান তার বিশাল সাম্রাজ্য গড়তে যুদ্ধ ছাড়াও বৈবাহিক কূটনীতি খুব ভালোভাবেই ব্যবহার করেছিলেন। ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানে শক্ত শিক্ষা পাওয়ার পরে আমেরিকা সেই পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যেতে চাইছে। সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের উপর ট্রাম্পের দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় খুব শোরগোল চলছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আমেরিকার জন্য বর্তমানে খুবই লোভনীয়। গ্রিনল্যান্ড দখল করতে ডেনমার্কের সাথে যুদ্ধ করা খুবই ... ...
স্বামী বিবেকানন্দকে আমি কেন এখনও প্রাসঙ্গিক মনে করি: এক মার্কসবাদী পাঠঅয়ন মুখোপাধ্যায়আমি নিজেকে মার্কসবাদী বলেই স্বামী বিবেকানন্দকে প্রথমে কিছুটা দূর থেকেই দেখেছিলাম। আধ্যাত্মিক ভাষা, ধর্মের উল্লেখ, বেদান্তের পরিভাষা—এই সবই আমার অভ্যস্ত প্রশ্নবোধকে স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক করে তুলত। ভাববাদ বনাম বস্তুগত দর্শনের সেই চিরচেনা দ্বন্দ্ব, যেন সাপে-নেউলের সম্পর্ক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছি—কোনও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে কেবল তাঁর ব্যবহৃত শব্দের খোলসে বন্দি করলে তাঁর প্রকৃত ভূমিকা ধরা পড়ে না। আজ আমি স্বামী বিবেকানন্দকে পড়ি একজন সামাজিক চিন্তক হিসেবে—যিনি ঔপনিবেশিক ভারতের ভাঙা ... ...
মার্গারেটকে নিয়ে আসবে কে? চারিদিকে তো ধর্মের ষাঁড়, বাঘের গর্জন শুনি না! তুমিই না হয় আরো একবার এলে... উন-চল্লিশ তো তিরানব্বই হতেই পারতো কেন গেলে এত তাড়াতাড়ি !! আইরিশ শিষ্যা তোমার। সাগর ছেঁচে এনেছিলে মুক্তা-রক্তেই তার বিদ্রোহের বীজ। তুমি তাকে সেবার দীক্ষা দিলে। সে হয়ে উঠলো অগ্নিকন্যা! কিন্তু বিধি বাম; বিদ্রোহ করলো তার স্বাস্থ্য; অচিরেই সেও করলো তোমার পথেই গমন! ভারতবর্ষের উৎসন্নে যাওয়া হলো শুরু। তোমার তৈরি মিশন দেয়নি তাকে ঠাঁই! ভারতবর্ষের মুক্তিকামী মানুষের সঙ্গে অগ্নিকন্যার যোগাযোগ সহ্য হলনা, মিশন-কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিষিদ্ধ ... ...
পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান অস্ত্র কী? ১৯৯৯ এ একটা বই প্রকাশ করেছিলাম। বইয়ের পরিকল্পনা, লেখা জোগাড়, প্রচ্ছদ --প্রায় সব। সংস্থার অলিখিত নিয়মে নাম ছিল না কোথাও। প্রচ্ছদে ছিল। একটা লেখাও ছিল। সবচেয়ে মূল্যবান অস্ত্র কী? প্র চার! বইটির নাম ছিল তথ্য সাম্রাজ্যবাদ। সম্পাদককে জিজ্ঞাসা করে দেখবো, বইটা আবার বের করা যায় কি না?. বইটিতে আজকে বিখ্যাত শুভময় মৈত্র, স্টেটসম্যান-এর প্রাক্তন মুখ্য সাংবাদিক অচিন্ত্য চক্রবর্তী, তাঁর ছেলে অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী (এখন 'নন্দন' সম্পাদক, পরবর্তীকালে গণশক্তি সম্পাদক অভীক দত্ত, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের বর্তমান প্রধান অঞ্জন বেরার লেখা ছিল। অনেকেরই সেই লেখা কোনও বইয়ে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সেই বইয়ে লেখকরা দেখিয়েছিলেন তথ্য সাম্রাজ্যবাদ কত ভয়ঙ্কর। কত কত মিথ্যা কাহিনি রচিত হয় ... ...
চতুর্থ দৃশ্যনিভাননীর বাড়ি[ নেপথ্যে খুট খাট শব্দ হচ্ছে। কাঠমিস্ত্রি কাজ করছে। দু একটা কথা কানে আসছে। ঠিক করে কাঠটা ধর, ওরে ফেভিকলের টিনটা কোথায় রাখলি, একটা কাজও যদি ঠিক ঠাক হয়, আরে বাবা সানমাইকটা ঠিক মতো লাগা। কাশীনাথ ও নিভাননীও মাঝে মাঝে নির্দেশ দিচ্ছে। এটা কর ওটা কর, এ দিকটা ঠিক হচ্ছে না, ক্যাস বাক্সটা এখানে থাকবে, এখানে কম্পুটার বসবে, আরে দোকানের নামের ব্যানারটা ঠিক ভাবে লাগা ইত্যাদি। পর্দা উঠলে দেখা যায় নিভাননী রেস্টুরেন্ট এর ব্যানার ঝুলছে। ]( হাসতে হাসতে নিভাননী ও কাশীনাথের প্রবেশ )কাশী : (ব্যানারটা দেখিয়ে) দেখ, দেখ ব্যানারটা কি সুন্দর হয়েছে। আর লেখগুলোও কি সুন্দর জ্বলজ্বল করছে। ... ...
তৃতীয় দৃশ্য কাশীনাথের বাড়ি পার্বতীর প্রবেশ পার্বতী : পার্টি তো বেশ বড়লোক মনে হোল। মেন রোডের উপরে দু তলা বাড়ি, বাগান, সামনে গ্যারেজ। কোটি টাকার সম্পত্তি। নিজের চোখে না দেখলে ওর কথায় বিশ্বাস হত না। ওর চয়েস আছে মানতে হবে। কাশীনাথের প্রবেশ কাশী : কেমন দেখলে গিন্নী। এতদিন পরে কেমন মাছ বঁড়শি দিয়ে গেঁথেছি বলো?পার্বতী তোমার এলেম আছে। বলতেই হবে। কাশী : হু হু বাবা। এর নাম কাশীনাথ। এ মক্কেল যে সে এঁদো পকুরে ছিপ ফেলে না। ছিপ ফেললে বড় দিঘিতেই ফেলে। পার্বতী : তা যা ... ...
দ্বিতীয় দৃশ্যনিভাননীর বাড়ি। [ নিভাননী গান গাইছে। ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে…। চুপি চুপি কাশীনাথের প্রবেশ। দরজায় নক করতে যাবে, এমন সময় পিছু থেকে পার্বতী পাঞ্জাবি ধরে টানে। কাশীনাথ ইশারাই তাকে চুপ করে আড়ালে দাঁড়াতে বলে। পার্বতী উপরে আসতে চায়। কাশীনাথ হাত তুলে তাকে থামায়। পার্বতী রাগে গজগজ করতে করতে নীচে নেমে যায়। কাশীনাথ মন দিয়ে গান শোনে তারপর দরজায় নক করে।] কাশী : নিভাদেবী, ও নিভাদেবী। নিভাননীদেবী বাড়ি আছেন ... ...
কৌন বনেগা ক্রোড়পতি একাঙ্ক নাটক রচনা – সাগরময় মণ্ডল [ লেখকের কথাঃসে দিন হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে রাস্তার মোড়ের কাছে একটা চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। একটা কথা কানে এলো। একজন লোক অন্য একজনকে দেখিয়ে তার বন্ধুকে বলছে যে লোকটাকে দেখ। ও আর ওর বৌ মিলে একটা চায়ের দোকান চালায়। টাকা পয়সা বেশ ভালোই কামায়। তবে ওর প্লাস পয়েন্ট হোল ওর এক প্রেমিকা আছে। সে কোটি টাকার মালিক। টাকার কথা এবং প্রেমের কথা দুটোই ওর বৌ জানে। তাই ওকে মানা করে না। অন্য মহিলার সঙ্গে প্রেম ... ...