মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডাক্তারদের আলোচনা হয়নি। এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী একটি লম্বা সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। ডাক্তারাও গতকাল তাঁদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে একটি ভিডিও নিজেদের পাতায় প্রকাশ করেছেন। তাতে পাঁচটি দাবীর কথা বলা হয়েছে। সেগুলি সংক্ষেপে এরকমঃ (বিশদে জানার জন্য ভিডিওটি দেখে নিন) ১। ন্যায়বিচার এবং দ্রুত তদন্ত। ২। সন্দীপ ঘোষ সহ স্বাস্থ্য অধিকর্তারা, যাঁরা দুর্নীতিতে জড়িত তাঁদের শাস্তি। ৩। বিনীত গোয়েলের অপসারণ এবং ডিসিপি নর্থ, সেন্ট্রাল ইত্যাদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা( তদন্তকে ভুল পথে চালনা করা, টাকা দিতে চাওয় ইত্যাদি কারণে)। ৪। হাসপাতালে নিরাপত্তা সুরক্ষা, বাথরুম, সিসিটিভি ইত্যাদি ৫। স্বাস্থ্যবববস্থার উন্নতির একগুচ্ছ প্রস্তাব। নির্বাচন। এগুলো আগের পাঁচ-দফা + কর্তাব্যক্তিদের পদত্যাগ থেকে কিছুটা আলাদা। এই বদলে যাওয়া, সংযোজন, ইত্যাদি এর আগেও হয়েছে। লিখিত আকারে দাবীগুলো কোথাও রেখে দিলে ওঁরা ভালো করতেন। হয়তো আছে, কিন্তু পাইনি। কেউ পেলে জানাবেন। এছাড়াও এই দাবীর এক থেকে তিন মূলত কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে হবার কথা। ওঁরা তাদের জানাবেনও বলেছেন। কিন্তু সেটা এখনও হয়নি, কবে কীভাবে হবে, বলেননি। ... ...
সবাই জানেন, তবু টুকতে গেলে টুকে রাখতেই হবে, যে, ডাক্তার-সরকার দড়ি-টানাটানি গত দুদিনে প্রচুর মিডিয়া টিআরপি তৈরি করলেও নিট ফল শূন্য। মঙ্গলবার নবান্নের তরফে মেল করে জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। তার বয়ানও বেরিয়েছে। আন্দোলনকারীদের তরফে বলা হয়েছিল, মেলের বয়ান অপমানজনক। তাঁরা উত্তর দেবেননা। কিন্তু উত্তর দেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সাংবাদিক সম্মেলনে রাত ৩ঃ৪৫ এ আসা মেল নিয়ে কটাক্ষ করেন। বুধবার নবান্ন আবার মেল করে। আন্দোলনকারীদের তরফে উত্তরও দেওয়া হয়। বলা হয়, তাঁদের চারটি শর্ত মানতে হবে, যাঁর মধ্যে অন্যতম হল, মুখ্যমন্ত্রীকে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে। এর পর বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ আবার মেল পাঠান আন্দোলনকারীদের। জানিয়ে দেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রীও। তবে বৈঠকের সরাসরি সম্প্রচার চেয়ে জুনিয়র ডাক্তারেরা যে শর্ত দিয়েছিলেন, তা মানা হবে না। ১৫ জনকে আসতে বলা হয়। এরপর আন্দোলনকারীদের ৩০ বা ৩৫ (দুটো বয়ানই পড়েছি) জনের প্রতিনিধিদল নবান্নে উপস্থিত হয়। কিন্তু সরাসরি সম্প্রচার না হলে আলোচনায় যোগ দেবেন না, বলা হয়। সরকারের তরফে ভিডিও রেকর্ড করার কথা বলা হয়, যা সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া হবে। কিন্তু আলোচনায় রাজি হননি আন্দোলনকারীরা। ফলে আলোচনা হয়নি। ... ...
সীতারাম ইয়েচুরিকে প্রথম দেখি, খুব নিশ্চিত নই যদিও, ১৯৮২ সাল নাগাদ। দিল্লিতে বেড়াতে গিয়ে ছিলাম এক মাস, তখন আমাকে প্রায় তীর্থ দর্শনের মতো সিপিএমের সেন্ট্রাল কমিটির আপিস দেখানো হয়েছিল। সেই অফিসটা ছিল রাজেন্দ্রপ্রসাদ রোডের ধারেকাছে, দেখতে যাবার সময় আমার হাতে ছিল একটা ক্রিকেট ব্যাট, খেলতে খেলতেই চলে গিয়েছিলাম, কারণ যেখানে থাকতাম, তার থেকে হেঁটে মিনিট দুই। ব্যাট দেখে গোটা কেন্দ্রীয় কমিটির অফিস খুব উৎসাহিত হয়ে পড়ে, তার পর থেকে মাঝে-মধ্যেই হানা দিতাম। কোনো কোনো দিন অনেক প্লেয়ার জুটতো, কোনো কোনোদিন জুটতনা। নিরাপত্তার দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তিনিই সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের ডাকাডাকি করতেন। এরকম একজন খেলোয়াড়ের কথা মনে করতে পারি, যার ঝাঁকড়া চুল, সবই কালো। ইয়েচুরিই কিনা বলা শক্ত, নামের ব্যাপারটা জানতামই না, উনি কেন্দ্রীয় কমিটির অফিসে অতদিন আগে কী করছিলেন তাও জানিনা, তবে যদি উনিই তিনি হন, তো খুব খারাপ বল করতেন। কেমন ব্যাট করতেন জানিনা, কারণ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির কাউকে ব্যাট করতে দিইনি, আমিই করতাম। ... ...
মৃত্যুর পর ইঞ্জেকশন দিয়ে ‘অভয়া’র যোনিতে ঢোকানো হয়েছিল নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির বীর্য? এই নিয়ে ব্রেকিং 'খবর' রিপাবলিক বাংলার। তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলে ওঁরা জানাচ্ছেন, সম্ভবত মৃত্যুর পরে নির্যাতিতার শরীরে খুলের পর ইনজেক্ট করে দেওয়া হয় কারো বীর্য। ওঁরা বলেননি, কীকরে কারো বীর্য পাওয়া গেল, স্পার্ম-ব্যাংক থেকে কিনা। সেই লোকটিকে ঠিক সময়ে অকুস্থলে পাঠানোই বা হল কীকরে। যদি গণধর্ষণ হয়েই থাকে তো বাকিদের বীর্য কোথায় গেল। সেটাও কি ইনজেকশনে করে তুলে নেওয়া হয়েছিল? আই এমএর যুগ্ম সম্পাদক রঞ্জন ভট্টাচার্য শোয় ছিলেন। বললেন, ১৫০ মিলি বীর্য যোনিদ্বারে পাওয়া গেছে। এত বীর্য কিভাবে পাওয়া গেছে, এবং কীভাবে ঢোকানো হয়েছে, সেটার তদন্ত প্রয়োজন। ... ...
কর্মবিরতিতে রোগীমৃত্যু নিয়ে নানারকম দাবী শোনা যাচ্ছিল। আগের পর্বে আছে। ডাক্তারদের সংগঠন অফিশিয়ালি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি প্রকাশ করেছেন। তাতে বলা আছে, অভিষেক (এবং রোগীর পরিবারের) দাবী ঠিক নয়। কোন্নগরের ছেলেটি উপযুক্ত পরিমানে চিকিৎসা পেয়েছিল। মিথ্যা এবং বিপজ্জনক খবর ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। এরপর পাল্টা দাবীতে শ্রীরামপুরের মৃত ছেলেটির মায়ের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। মিডিয়ায় এসেছে এবং মিডিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও দিয়েছেন। সেখানে মা ডাক্তারদের সংগঠনের নেতা পুণ্যব্রত গুণকে ফোন করে অসত্যভাষণের অভিযোগ করছেন। ... ...
গত কালের প্রায় পূর্ণাঙ্গ আদালতের বিবরণী। এআই এর অনুবাদ নয়। কানে ইংরিজি শুনতে শুনতে তাৎক্ষণিক অনুবাদ। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাবানুবাদ। কিছু অংশ ছোটো করা হয়েছে। মোটামুটি কী হয়েছে বুঝতে পারবেন। তাতেও মিডিয়ার বিবরণের থেকে ভালো। কারণ, তারা শুধু পছন্দমতো টুকরো তোলে। আর আরেকটা কথা। ছাত্রদের আইনজীবী আসলে ছিলেন দুজন। তাঁরা ছাত্র এবং ডাক্তারদের প্রতিনিধি। লেখা হয়েছে ছাত্রদের আইনজীবী বলে। ... ...
ব্যাপারটা হল, আমি কবিতা খারাপ লিখিনা। কিন্তু জাস্ট সাহসের অভাব আছে বলে প্রকাশ করিনা (অনেকেই ভাবেন আমি খুব সাহসী, কিন্তু সেটা গুল)। সাহসের অভাব কেন বুঝিয়ে বলি। কদিন আগেই 'এখনও যে দর্শক, সে ব্যাটাই ধর্ষক' শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে একটা বিখ্যাত রবীন্দ্রকাব্য লিখেছিলামঃ অন্যায় যে কহে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা তারে যেন 'তৃণ'সম দহে। ... ...
কর্মবিরতির জেরে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রবল সংকট সংক্রান্ত কিছু খবর এবং ভিডিও সামনে এসেছে। এর আগেই খবর ছিল বিচা চিকিৎসায় সাতজন রোগির মৃত্যুর (টেলিগ্রাফ)। আজক একটি খবর এসএসকেএম এর। সেখানে বলা হয়েছে, কার্ডিওলজিতে মাত্র একজন ডাক্তার উপস্থিত (বর্তমান)। আরজিকরেও রোগী ভর্তি হচ্ছেনা বলে অভিযোগ (বর্তমান)। একটি ভিডিওও সামনে এসেছে। দুর্ঘটনায় আহত হন এক যুবক। তাঁকে আরজিকরে পাঠানো হলে ভর্তি করা যায়নি। কোনো ডাক্তার ছিলেননা। বিনা চিকিৎসায় মারা যান যুবক। অভিযোগ জানিয়ে মা বলেছেন, সুবিচার চাই। আন্দোলনরত ডাক্তাররা একে অস্বীকার করে কোনো বিবৃতি এখনও দেননি। দিলে আপডেট করে দেওয়া হবে। ... ...
দুর্নীতি নিয়ে অনেক অভিযোগ আসছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পক্ষের নাম-ধাম করে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাইনি (এর আগে কিছু থাকলে দেখিয়ে দেবেন, জুড়ে দেব)। আজ ডাক্তার নেতা বিষাণ বসুর লেখা পেলাম। পুরোটা প্রাসঙ্গিক নয়, বড়ও, তাই নিজের মতো করে ছোটো করে লিখলাম। মূল পোস্টের লিংকও থাকবে নিচে, পুরোটা পড়ে নিতে পারেন। বিষাণ লিখেছেন, গত কয়েকবছর ধরেই ডাক্তারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মেডিকেল কলেজগুলোয় বিক্রি হয়। পরীক্ষার কত ঘণ্টা আগে কে প্রশ্ন পাবে, তার উপর দাম নির্ভর করে। অর্থাৎ পরীক্ষার আধঘন্টা আগে পেলে একরকম দাম, দুই ঘণ্টা আগে পেলে আরেকরকম (বেশি দাম)।কেনাবেচা কিন্তু সবার জন্য নয়। প্রশ্নপত্র বিক্রির সার্কিটের মূল কেন্দ্র - রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়। সুহৃতা পাল যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, তখন থেকেই এই ব্যবস্থার শুরু। সঙ্গে চক্রের পরিচালক হিসেবে মূল - অভীক দে এবং বিরূপাক্ষ বিশ্বাস। সুহৃতা উপাচার্য থাকাকালীন নিজের ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মেন্টর’ হিসেবে নিয়োগ করেন - ছেলে নিয়মিত মাসোহারাও পেত - নিয়োগ ঘটে পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ ছাড়াই। এছাড়াও ছেলের নবগঠিত কোম্পানিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের কন্ট্র্যাক্ট পাইয়ে দেন। সন্দীপ ঘোষ, সুশান্ত রায়, অভীক দে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাস প্রমুখ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ... ...
১। শতরূপ ঘোষ সন্দীপ ঘোষের ভাইপো। অসত্য ২। পুলিশের দাবী, ঘটনাস্থলে বাইরের লোক ছিলেন না। ( আগের সেকশনের পয়েন্ট ২০) আংশিকভাবে অসত্য। খুব সম্ভবত দুজন ডাক্তার ছিলেন, অভীক দে এবং বিরূপাক্ষ বিশ্বাস। ( ১০০% নিশ্চিত না। কিছু বদল হলে বদলে দেওয়া হবে) ... ...