মানুষের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধর্মের অছিলায় বিনোদনের এই আসরের ঔচিত্য, কোন ধর্ম, সংস্কৃতি, শিক্ষা দিয়ে প্রতিপাদন করা যায় না। তবুও এই মোচ্ছব আজ ঘরে ঘরে। ... ...
রক্তের সম্পর্ক ঠিক কতটা জোরালো হয় তা আমার জানা নেই, তবে এটুকু জেনেছি যে তোমাদের কাছে পাওয়া স্নেহ ভালবাসা সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। ... ...
কোলকাতার রাস্তায় মোটর চালিত গাড়ি কেবল যে যাত্রী পরিবহণে অন্য মাত্রা যোগ করেছিল তাই নয়, পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও নূতন দিগন্ত উন্মচিত করেছিল। লরি, ট্রাক, স্টেশন ওয়াগন, টেম্পো ইত্যাদি নানা আকৃতি এবং আয়তনের পণ্যবাহী যানের আবির্ভাবের ফলে পালটে গিয়েছিল শহরের পণ্য পরিবহণের সামগ্রিক চেহারা। যানবাহনের বিবর্তনের প্রতিটি স্তরেই এসেছে কিছু পরিবর্তন, যার অনেকটাই গতি কেন্দ্রিক। পেশি শক্তির স্থলে যান্ত্রিক শক্তির আগমন, সেই গতিকেই আরো ত্বরান্বিত করেছিল। যত দিন গেছে শহরে নতুন নতুন গতিশীল যানবাহন এসেছে, তবু যাতায়াতের দুর্গতি মেটেনি। কারণ, যানবাহনের সাথে টেক্কা দিয়ে বেড়েছে শহরে যাতায়াত করা মানুষ। এছাড়া রাস্তার অনুপাতে গাড়ি বেশি হয়ে যাওয়ায় বেড়েছে যানজট। পাতাল রেল এবং সার্কুলার রেল, প্রথম দিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল। আজ সেখানেও রীতিমত যুদ্ধ করে উঠতে হয়। যানবাহনে ব্যাপক পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনের পরেও শহরে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ আজও রয়ে গেছে। আগামী দিনে আরো উন্নত কিছু প্রকল্প এই ক্লেশ থেকে মুক্তি দিতে পারবে কিনা তা ভবিষ্যতই বলবে। ... ...
রমেশ চন্দ্র দত্ত, সখারাম গনেশ দেউস্কর এর মত তখনকার অনেক বিশিষ্ট মানুষেরা নানান কারণে রেলকে স্বাগত জানাননি। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮৪২ সালে বিলেতে গিয়ে রেলে চড়ে মুগ্ধ হয়ে যান। রেলকে তাঁর মনে হয়েছিল—The greatest wonder of England। দেশে ফিরে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে তৈরি করলেন ‘The great western Bengal railway’ (GWBR)। কোলকাতা থেকে রাজমহল পর্যন্ত গঙ্গার ধার দিয়ে রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করলেন। ম্যাকডোনাল্ড স্টিফেনসনের ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি ছিল তাঁর প্রতিযোগী। ব্রিটেনের থেকে কোন সবুজ সংকেত না পাওয়ায় এবং ইউনিয়ান ব্যাঙ্ক(যার অধিকাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন দ্বারকানাথ) ফেল করে যাওয়ায় তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি জীবদ্দশায় নিজের দেশে রেল দেখে যেতে পারেননি কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূল হলে তাঁর সৌজন্যেই শুরু হত দেশের প্রথম রেল পরিষেবা। ... ...
একটা বাচ্চা মেয়ে আর সাথে তার থেকে ছোট একটা ছেলে, মনে হয় ভাইবোন, রাস্তার ওপারে দাঁড়িয়ে ওদের রং খেলা দেখছিল। মজা পেয়ে মাঝে মাঝে হাততালি দিচ্ছিল। ওদের গায়েও একটু আধটু রং ছিটকে এসে লাগছে। তাতেই ওদের কি আনন্দ। এর মধ্যে কখন যেন বাচ্চা দুটো গুটি গুটি রাস্তা পার হয়ে ওদের কাছটায় এসে দাঁড়িয়েছে। হয়ত রঙের ছোঁয়া আর একটু বেশি পাওয়ার লোভে। কিছু পরে মেয়েটা করুণ সুরে বলল—আমাদের একটু রং খেলতে দেবে গো! টুটুন জিজ্ঞেস করল- খেলবি যে তোদের কাছে রং কোথায়? মেয়েটা বলল—আমাদের রং কেনার পয়সা নেই। ... ...
মহম্মদগঞ্জ। পালামৌ জেলার একটা ছোট্ট গ্রাম। গ্রামের নামেই স্টেশনের নাম। রেল লাইনের একদিকে গ্রাম আর অন্য দিকে জঙ্গল আর পাহাড়। স্টেশনের পাশেই রেল কমর্চারীদের কোয়ার্টার। তার পিছনদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল গ্রামের ঘরবাড়ি। অধিকাংশই মাটির। গ্রামের শেষে বয়ে চলেছে কোয়েল নদী। দূরের পাহাড় থেকে নেমে আসা দুটি ঝর্ণা গ্রামের দুপাশ দিয়ে বয়ে কোয়েলে গিয়ে মিশেছে। রেল লাইন পার হয়ে কাছের পাহাড়টার ... ...
জনবহুল ব্যস্ত এই শহরে শান্তিতে কিছুটা সময় কাটাবার জন্য গঙ্গার ঘাটের চেয়ে ভাল আর কোন জায়গা নেই। কবি, সাহিত্যিক, এবং ইতিহাসবিদদের কোলকাতাভিত্তিক রচনায় মাঝে মাঝেই জায়গা করে নিয়েছে মনলোভা এই ঘাটগুলি। তাঁদের নিপুণ লিখন শৈলীতে চিত্রিত হয়ে আছে বিলুপ্ত বা বিলুপ্তির জন্য অপেক্ষারত অনেক ঘাটের অতীতের জৌলুশ। বইগুলির পাতা ওলটালে ঘাট সংলগ্ন পুরনো বাজার, পার্ক, স্নানের জায়গা, মন্দির, শতাব্দ প্রাচীন এমন আরো কত কিছু আমাদের মানস চক্ষে জীবন্ত হয়ে ওঠে। ... ...