যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোতে আসা অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীই মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে আসে। এটা স্পষ্ট যে, তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে একটি উন্নত জীবন নিশ্চিত করা, যাকে আমরা প্রায়ই 'আমেরিকান ড্রিম' (American Dream) বলে থাকি। তাদের মেধা বা যোগ্যতা নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। নিঃসন্দেহে তারা নিজ নিজ দেশের সবচেয়ে মেধাবী মানুষদের কাতারে পড়েন।কিন্তু বিষয়টি একটু ভিন্ন দিক থেকে ভাবুন। আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এত বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে এত আগ্রহী কেন? কেন তারা গবেষণা ও পড়াশোনার এই সুযোগগুলো কেবল নিজেদের নাগরিকদের জন্যই সীমাবদ্ধ রাখে না?প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিপুল সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী ভর্তি করে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই দেখা যায়, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা খোদ ... ...
**ব্যাটল অফ বী** (Battle of the Bees) বা **তাঙ্গা’র যুদ্ধ** প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একটি অত্যন্ত নাটকীয় এবং কিছুটা অদ্ভুত যুদ্ধ। এটি ১৯১৪ সালের ২ থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে তৎকালীন জার্মান পূর্ব আফ্রিকায় (বর্তমান **তানজানিয়া**) ব্রিটিশ ও জার্মান বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।ব্রিটিশদের লক্ষ্য ছিল ভারত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত 'তাঙ্গা' বন্দরটি দখল করা। এটি করতে পারলে জার্মান পূর্ব আফ্রিকার একটি প্রধান রসদ পথ বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হতো। ব্রিটিশ জেনারেল আর্থার এইটকেন প্রায় ৮,০০০ ভারতীয় ও ব্রিটিশ সৈন্য নিয়ে এই আক্রমণ চালান।জার্মান বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন বিখ্যাত জেনারেল **পল ফন লেটো-ভরবেক**। ব্রিটিশদের তুলনায় জার্মান বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল অনেক কম (মাত্র ১,০০০ থেকে ১,১০০ ... ...
১৯৯৩ সালে সোমালিয়ার বিদ্রোহী নেতা ফারাও আইদিদকে ধরতে মার্কিন মেরিন সেনারা হেলিকপ্টার নিয়ে মোগাদিশুতে নামে। সোমালিয়ান বিদ্রোহীরা আরপিজি রকেটের সাহায্যে দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে। উভয় পক্ষের ভেতর তুমুল যুদ্ধ বেঁধে গেলে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়। পরে সোমালিয়ার পূর্বেই মোতায়েনকৃত পাকিস্তানি ও মালয়েশিয়ার শান্তি রক্ষা বাহিনী এসে মেরিন সেনাদের উদ্ধার করে। মেরিন সেনাদের বেইজ্জতি থেকে মুখ বাঁচাতে মার্কিনিরা হলিউডে ব্ল্যাক হক ডাউন নামে নিজেদের বীরত্বের এক বিরাট গল্প ফাদে। ১৯৯৫ সালে মার্কিন এয়ারফোর্সের গর্ব F-16 ফাইটিং ফ্যালকন বসনিয়ার উপরে টহল দেওয়ার সময় সার্বিয়ান আর্মির অনেক পুরনো মডেলের রাশিয়ান স্যাম এয়ার ডিফেন্স দ্বারা ভূপাতিত হয়। পাইলট প্যারাসুট নিয়ে জঙ্গলে অবতরণ ... ...
ইবনে খলদুন (১৩৩২–১৪০৬) ছিলেন মধ্যযুগের একজন মুসলিম মনীষী, যাকে আধুনিক সমাজবিজ্ঞান (Sociology), ইতিহাসতত্ত্ব (Historiography) এবং অর্থনীতির (Economics) অন্যতম জনক মনে করা হয়।তিনি কেবল একজন তাত্ত্বিক ছিলেন না, বরং বাস্তব জীবনেও ছিলেন একজন ঝানু কূটনীতিবিদ, বিচারক এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ইবনে খলদুন মোঙ্গল সাম্রাজ্যের পতন ঘটার বহু শতাব্দী আগেই তার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।তার জন্ম তিউনিসিয়ায় হলেও তার পূর্বপুরুষরা ছিলেন ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত আন্দালুসিয়ান (স্পেন)। তিনি তার জীবনে উত্তর আফ্রিকা (তিউনিসিয়া, মরক্কো, আলজেরিয়া), স্পেন এবং মিশরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করেছেন। মিশরে তিনি প্রধান বিচারক (কাজী) হিসেবেও নিযুক্ত ছিলেন।অ্যাডাম স্মিথের শত শত বছর আগেই ইবনে খলদুন শ্রমের বিভাজন, মূল্যতত্ত্ব এবং কর ... ...
খ্রিস্টপূর্ব ৪৮০ অব্দে পারস্য সম্রাট জারক্সিস (Xerxes I) এবং গ্রিক নগর রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত ব্যাটল অফ থার্মোপাইল বা থার্মোপাইলের যুদ্ধ ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর এবং আলোচিত সমর কাহিনী। বিশেষ করে স্পার্টান যোদ্ধাদের বীরত্বের জন্য এই যুদ্ধ অমর হয়ে আছে।পারস্য সাম্রাজ্য যখন বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে গ্রিস দখলের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়, তখন গ্রিকরা তাদের আটকানোর জন্য থার্মোপাইল নামক একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ গিরিপথ বেছে নেয়। একপাশে খাড়া পাহাড় আর অন্যপাশে সমুদ্র থাকায় এই পথটি ছিল প্রাকৃতিকভাবেই দুর্ভেদ্য। এটি ছিল গ্রিসের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের একমাত্র সহজ পথ।স্পার্টার রাজা লিওনাইডাস (Leonidas) ছিলেন এই বাহিনীর নেতৃত্বে। যদিও বলা হয় মাত্র ৩০০ জন স্পার্টান যুদ্ধ করেছিলেন, ... ...
বর্তমানের প্রবল পরাক্রম ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকার জন্ম হয়েছিল রেড ইন্ডিয়ানদের মেরে কেটে সাফ করে তাদের জমি ও সম্পত্তি দখল করার মাধ্যমে। এই দখল প্রক্রিয়ায় তারা ইহুদীদের গাঁজায় অনুসৃত নীতির থেকেও কঠোর সাম্রাজ্যবাদী নীতি প্রয়োগ করেছিল। এক পর্যায়ে রেড ইন্ডিয়ান আদিবাসীরা বিদ্রোহ করে অস্ত্র হাতে তুলে নিলে উভয়পক্ষের মাঝে অনেক সংঘর্ষ হয়। সেই সব সংঘর্ষের বেশ কিছু ঘটনা নিজেদের বিপক্ষে যাওয়ায় আমেরিকানরা তথাকথিত শান্তি চুক্তির ডিপ্লোম্যাসী অবলম্বন করে। সাদাদের তথাকথিত শান্তি চুক্তি ও ডিপ্লোম্যাসী সম্পর্কে ধারণা না থাকায় রেড ইন্ডিয়ানরা অস্ত্র পরিত্যাগ করে সম্পূর্ণ ধরা খায়। ১৭৭৮ থেকে ১৮৭১ সালের মধ্যে মার্কিন সরকার আদিবাসী আমেরিকান জাতিগুলোর সাথে ৫০০টিরও বেশি চুক্তি সম্পাদন করে, ... ...
এক সময় পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতি দিয়ে পুরা বিশ্ব প্রভাবিত হয়েছিল। বিভিন্ন দেশের ইয়াং জেনারেশন স্বেচ্ছায় পশ্চিমা লাইফ স্টাইল বেছে নিত। এখনো এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে খোদ আমেরিকাতেই এখন আরেকটি ভিন্ন ধারা ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (টিকটিক ও রেডনোট) তরুন আমেরিকানদের ভেতরে চায়না ম্যাক্সিং নামে একটি ট্রেন্ড ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।চায়না ম্যাক্সিং (Chinamaxxing) হলো ২০২৬ সালের শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে TikTok-এ ভাইরাল হওয়া একটি নতুন ট্রেন্ড, যেখানে মূলত পশ্চিমা তরুণ তরুণীরা চীনের সংস্কৃতি, জীবনধারা এবং পণ্যসমূহকে খুব আগ্রহের সাথে গ্রহণ করছে। এতে গরম পানি খাওয়া, এশিয়ান স্কোয়াট, সি-ড্রামা, চা পান এবং স্থানীয় অভ্যাসগুলোর মতো চীনা ... ...
প্রাচীনকালের সম্রাটরা অনেক সময় রাজ্য বিস্তার বা সীমান্ত সুরক্ষার প্রয়োজনে ঝামেলা পূর্ণ যুদ্ধ এড়িয়ে বৈবাহিক কূটনীতির আশ্রয় নিতেন। রাজার কোন বিবাহযোগ্য পুত্র বা কন্যার সাথে সীমান্তবর্তী ছোট রাজ্যের রাজপুত্র বা রাজকন্যার বিয়ে দেওয়া হতো। এই প্রক্রিয়ায় রাজ্যের সীমানা বেড়ে যেত বা ওই দিকের সীমান্ত সুরক্ষিত থাকতো। চেঙ্গিস খান তার বিশাল সাম্রাজ্য গড়তে যুদ্ধ ছাড়াও বৈবাহিক কূটনীতি খুব ভালোভাবেই ব্যবহার করেছিলেন। ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানে শক্ত শিক্ষা পাওয়ার পরে আমেরিকা সেই পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যেতে চাইছে। সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের উপর ট্রাম্পের দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় খুব শোরগোল চলছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আমেরিকার জন্য বর্তমানে খুবই লোভনীয়। গ্রিনল্যান্ড দখল করতে ডেনমার্কের সাথে যুদ্ধ করা খুবই ... ...
ভাইকিং সভ্যতা ইউরোপীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রায় ৮ম থেকে ১১শ শতাব্দী পর্যন্ত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান নর্স জাতিগোষ্ঠী দ্বারা গঠিত হয়েছিল। ... ...
প্রথম অভিযান (১২৭৪ খ্রিস্টাব্দে) :কোরিয়ার গোরিও রাজ্যকে নিজেদের বশ্যতা স্বীকার করাতে সফল হওয়ার পর কুবলাই খান ১২৬৮ সাল থেকে জাপানে দূত পাঠিয়ে বশ্যতা স্বীকারের দাবি জানান। জাপান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে, ১২৭৪ খ্রিস্টাব্দে এক বিশাল নৌবহর নিয়ে মোঙ্গলরা জাপানে প্রথম অভিযান শুরু করে। এই বহরে প্রায় ৩০,০০০ সৈন্য ছিল, যাদের মধ্যে মোঙ্গল, কোরীয় এবং চীনা সৈন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। মোঙ্গল বাহিনী প্রথমে সুশিমা ও ইকি দ্বীপপুঞ্জ দখল করে গণহত্যা চালায়। এরপর তারা হাকাতা উপসাগরে পৌঁছায় এবং জাপানি সামুরাইদের মুখোমুখি হয়। যদিও প্রাথমিক যুদ্ধে সামুরাইরা মোঙ্গলদের নতুন রণকৌশল, বিশেষ করে সম্মিলিত আক্রমণ এবং বিস্ফোরক অস্ত্রের কাছে কিছুটা পিছিয়ে ছিল, তবুও জাপানিরা প্রতিরোধ ... ...