ছ প্রজন্মের মোঘল শাহী খানদানের লোকজন প্রকৃত অর্থে গঙ্গা যামুনি তেহজিব - সংস্কৃতির মিশ্র ভারতীয় ঐতিহ্য বহন করত। সেসময় পারিবারিক স্তরে হিন্দুস্থানিতে কথা বলতো তারা। হিন্দিও ভালোই জানতেন ঔরঙ্গজেব, বলতে তো পারতেনই, প্রবাদের ছড়া কাটতেও দেখা গেছে। সে অর্থে সেসময়ের দেবনাগরী লিপিতে সাহিত্যিক ভাষা ব্রজভাষাও ঔরঙ্গজেবের অনায়াত্ত থাকার কথা ... ...
অশোকের সময়কালে অখণ্ড ভারত কেন ভারতবর্ষেরই কোন উল্লেখ নেই। ইরফান হাবিবের সাম্প্রতিক একটি বক্তৃতা ইনটারপ্রেটিং ইন্ডিয়ান হিস্ট্রিতে (Aligarh Society for History &Archeology -YouTube) শুনলাম উনি খারবেলের সময়কাল খৃষ্টপূর্ব প্রথম থেকে দ্বিতীয় শতকের এক শিলালিপিতে ভারতবর্ষ কথাটার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জানালেন। সেটাও নেহাতই সাহিত্যিক উল্লেখ কোন জাতি রাষ্ট্রের ধারণা থেকে নয়। জাতীয়তাবাদের উন্মেষকালে ... ...
আমি ঔরঙ্গজেব আলমগীরকে নিয়ে একটা প্রকাণ্ড বই লিখতে শুরু করেছি অনেকটা আমার মেজজ্যাঠার মতো। উনি প্যারি কোম্পানি থেকে রিটায়ার করে একটা এনসাইক্লোপিডিয়া লিখে গেছেন। কিন্তু ওনার সঙ্গে আমার তফাৎ হল উনি কুস্তি করতেন আর আমি বেতো। ফলে কোমরের ব্যথা হয়ে রোজ ঘটক ডাক্তারের কাছে যেতে হচ্ছে। মাঝে কোথাও যদুনাথ সরকার ঔরঙ্গজেবকে নিয়ে গেছেন। উনি কিছুতেই আলমগীর বলবেন না। এর মধ্য ফ্লেক্সে ঔরঙ্গজেবের ছবি নাচান নিয়ে ফ্যাসাদ ... ...
----- একজন রাজাকে দেখা যাবে, তিনি রায়তের রাজা।----- আর বাদশাহ ?----- তিনি দ্রুতগামী ঘোড়ার সওয়ার। তার ফৌজ লুকিয়েছে, এবার শুরু করবে….. ----- আর বাদশাহ ?----- বাদশাহের ফৌজ অনেক বড়, বাদশাহ পণ্ডিত ব্যক্তি, সারাটা জীবন ধরে আইনের ব্যাখ্যা আর তার পূর্বাপর প্রয়োগ তাঁর অভীষ্ট তবু তিনি রায়তকে দেখতে পান না। কিছুতেই পান না ... ...
ষোলোশো আঠাশের দোসরা ফেবুয়ারি, শহর লাহোরের থেকে কিছু দূরে কেল্লায় এক ঘুপচিতে বেতখত হয়ে যাওয়া বাদশাহ দাওয়ার বক্স দাবা খেলছিলেন ভাই গার্শপের সঙ্গে। সময়? এই তো মুশকিল, সময় নিয়ে কে ভেবেছে সে দিন! গার্শপ কথাটার মানে দানবহন্তা কিন্তু হিন্দুস্থানী প্রথায় দাবাতে রাক্ষস খোক্কস মারার গল্প নেই। দাওয়ার বক্স বাবা শাহাজাদা খুসরুকে প্রায়ান্ধ দেখেছেন বরাব্বর, গার্শপও। তারপর বাবা পেটের ব্যথায় ছটফট করতে করতে মারা যান বুরহানপুরের কেল্লায় ... ...
ষোলোশো আটাশের উনিশে জানুয়ারি লাহোরের দরবার কক্ষে শাজাহানের নামে শুত্রুবারের নামাজের আগে খুতবা পাঠ করলেন আসফ খান। পুতুল বাদশাহ দাওয়ার বক্সকে কয়েদ করা হচ্ছে। দোসরা ফেব্রুয়ারি শাজাহানের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী রাজা বাহাদুর ময়দানে নামে। একে একে খুন করে শাহরিয়ার, দাওয়ার বক্স আর ছোট ভাই গার্শপকে, দানিয়ালের দুই ছেলে তাহমুরাস আর হোশাংকে। খুনের লহরের সাক্ষী থাকে লাহোরের কেল্লা। ঠিক তার পরদিনই তেসরা ফেব্রুয়ারি আগ্রায় সিংহাসন আরোহন করছেন শাজাহান। ---- সবই তো বুঝলাম কিন্তু....---- কিসের কিন্তু ?---- না এত রক্তপাত ....---- সেতো হবেই। জান না -ইয়া তখ্ত ইয়া তাবুত ?---- জানি কিন্তু সেটাও সাধারণ ধর্ম ছিল কি ?---- কীরকম ?---- হুমায়ুন কী করলেন ?---- কী করলেন হুমায়ুন ... ...
পঞ্চম শতকের ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্টের সূত্রাবলী বা সপ্তম শতকের ব্রহ্ম গুপ্তের ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত এসবের প্রভাব ইসলামি আরব জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ওপর ভালোই ছিল। আর ছিল গ্ৰীক-রোমান বা হেলেনীয় ও পারসিক প্রভাব। সমস্ত বইই আরবীয় ভাষায় অনুবাদ হয়। এছাড়াও মরুচারী বেদুইনদের পর্যবেক্ষণ আরব্ধ জ্যোতির্জ্ঞানমালাও তাঁরা নথিভুক্ত করেন। ইসলামে নামাজ পাঠের সময় মক্কার দিক নির্ধারণের জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ হতো। চাঁদের গতির সাপেক্ষে রমজানের সময় গোনা তো এখনো সুবিদিত। এসবের জন্য জ্যোতির্নিরীক্ষার যন্ত্রপাতির উন্নতি, নিরীক্ষা পদ্ধতির উন্নতি, ক্যালেন্ডার বানানোর কাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে মহাজাগতিক চাঁদ-তারা-সূর্যের প্রভাব পৃথিবীর জীবজগত আর নানা ঘটনাকে কীভাবে ভড়কাচ্ছে এসব জানা রাজা-বাদশাহ বা প্রজার কাছেও জরুরি হয়ে পড়ছে মধ্যযুগে, চর্চা চলছে জ্যোতিষের। কিছু ... ...
শাহরিয়ার চলে যাবার পর লাহোরের কেল্লায় নিজেও ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন জাহাঙ্গীর। পথে চলমান তাঁবু থামল বাহরামগল্লা বলে এক অপূর্ব জায়গায়। কাছেই এক জলপ্রপাত যার সফেন জল ধোঁয়ার মতো ওড়ে আর সকালে, দিনে, রাতে নানান রূপ বদলায়। রামধনুও দেখা যেতে পারে। সে নানান রঙ আর তার কল্পনা কি চাঙ্গা করছে শাহেনশাহের দিল? না হলে তিনি কেন সুস্থ বোধ করবেন যাবেন ... ...
কল্পনা করুন এক গবেষকের কথা যিনি একটা ম্যাপ নিয়ে বসে আছেন। দেখছেন দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম জনসংখ্যার বিন্যাসের প্যাটার্ন। তাঁর তথ্যভিত্তি হল ১৮৮১ সালের বৃটিশ ভারতের সেন্সাস। এই সেন্সাসটাকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করেন ইতিহাসকাররা। আশ্চর্যজনক ভাবে দেখা যাচ্ছে ইসলামের কেন্দ্র আরব বিশ্ব থেকে বহু দূরে এমনকি দিল্লীকেন্দ্রিক ইন্দোমুসলিম শাসকদের সাম্রাজ্যের প্রত্যন্ত পূর্বসীমায় ইসলামধর্মীয় মানুষের বিরাট সংখ্যাধিক্য রয়েছে। কেন এটা হয়? কী ভাবে সম্ভবপর ? দিল্লী সাম্রাজ্যের উত্তর, উত্তরপশ্চিম সীমান্তে না হয় মধ্য এশিয়া থেকে আসা বাণিজ্যপথ ধরে কখনও বাণিজ্য উদ্দেশ্যে কখনো যুদ্ধবাজ আক্রমণকারী-ভাগ্যান্বেষী গোষ্ঠীর কার্যকলাপে বিরাট মাইগ্রেসন হচ্ছে ইসলামধর্মীয় মানুষের। ইন্দোমুসলিম শাসনকেন্দ্রের নৈকট্য আর সুফি প্রভাবে জনগোষ্ঠীর ইসলামে ধর্মান্তরীকরণ সম্ভব হচ্ছে সেখানে। দক্ষিণ, ... ...
টেকনোসেন্ট্রিক সমাজে হিউম্যানিটিজ পড়লে চাকরি মেলে না। ভারতীয় সমাজের চালিকা শক্তি হল পরিষেবা প্রদান বাবদ আয়ের ক্রমবৃদ্ধি। উৎপাদন ও উৎপাদক এ সমাজে ব্রাত্য। এমনকি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বাস্তব উৎপাদন সম্পৃক্ত কোর ব্রাঞ্চগুলোর ছেলেমেয়েরাও পরিষেবা ক্ষেত্রের সাপ্লাই চেনের অনেক বেশি মাইনের কাজে বেশি উৎসাহী। এই ইন্সুরেন্স-আইটি-এন্টারটেনমেট সেক্টরের যোগে আইস মডেল বা তার আগে রিয়েল এস্টেটকে রেখে রাইস মডেলই নবতর সমৃদ্ধির সমার্থক। এর ফলে যে নলেজ সিস্টেম ... ...