শুনিয়াছি লুচি শব্দটি নাকি চৈনিক। অবগত নই, বেঁটে খাটো চক্ষু পিট পিট করা মানব সম্প্রদায় লুচির মর্ম কি বুঝিয়াছিল ! আমি যাহা বুঝি লুচি হইল আদ্যোপান্ত ভারতীয় খাদ্য বস্তু। হিন্দিতে পুরি। বাঙ্গালাতে লুচি। দেশী গব্য ঘৃত অথবা বনস্পতি কিংবা তৈল সহযোগে ভাজিয়া উষ্ণ পরিবেশিত দ্রব্যের কি যে মহিমা, তাহা সে জানেনা যে না ভক্ষণ করিয়াছে। লুচির সহিত আলুরদম ব্যঞ্জন, আহঃ লিখিতে অপারগ হইয়া পড়িতেছি। জিহ্বা সিক্ত হইয়া ... ...
প্রথম যেদিন এই ফ্ল্যাটে আসি, সেদিন সবকিছু ছেড়ে মন ছুঁয়ে গিয়েছিল এই একফালি বারান্দাটুকু। দক্ষিণখোলা ফ্ল্যাটে এক টুকরো বারান্দা। তখন ফ্ল্যাটে ইন্টেরিয়র কাজ চলছিল। তাছাড়া আমার প্রথমদিন। তোমার ফ্ল্যাটে ঢুকে ভীষণ সলজ্জ ছিলাম। তুমি ঘুরে ঘুরে সব দেখাচ্ছিলে। এটা আমাদের বেডরুম। ওটা কিচেন। এটা অ্যাটাচড আর ওটা কমন বাথরুম। সবই দেখেছিলাম সলজ্জ দৃষ্টির অন্তরালে। তখন কি আর ... ...
একটা গান লিখো আমার জন্যনাহয় আমি তোমার কাছেছিলেম অতি নগণ্য... কিংবাধন্য আমি ধন্য যে, পাগল তোমার জন্য যে...এইরকম মন মাতাল করা গান যদি একবার কানে যায়। তাহলেই বুঝবে সন্ধ্যে পৌনে ছয়টা বেজে গেছে। এটাই হুকুম ছিল, বাড়ি ফেরার। তখন প্রায় সব বাড়িতেই বড় বা মেজো রেডিও থাকত। সেই রেডিওই ছিল পারিবারিক বিনোদনের একমাত্র প্রাণভোমরা। ভোর থেকে মানুষের জীবনে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ... ...
কাঁচা লঙ্কা ধনে পাতা দিয়ে কয়েত বেল মাখা খেয়েছেন? কিংবা কুল গাছ থেকে সদ্য পাড়া কুল? কখনও কুমীর ডাঙ্গা খেলেছেন? কিংবা ধরা চোর? হুসাহুস? পিটটু?যাঁরা আধা শহর আধা গ্রাম কিংবা মফঃস্বলের কোনো প্রান্তে আমার মত শৈশব কাটিয়েছেন। তাঁরাই একমাত্র ওগুলোর স্বাদ পেয়েছেন। কাষ্ঠগদ্যের শহুরে জীবনে কবিতার স্বাদ মেলা ভার।বাড়িতে বাড়িতে তখনও মিউনিসিপ্যালিটির কল আসেনি। প্রতিটি পাড়ায় অবশ্যম্ভাবী ... ...
অসমের গৌহাটি শহর থেকে প্রায় কুড়ি বাইশ কিলোমিটার দূরে পৌঁছে গেছি। আমাদের গাড়িটা যেখানে দাঁড়াল। সেটাই ভদ্র সভ্য পথের শেষ প্রান্ত। সেখান থেকে চরণবাবুর আশ্রয়ে নিজেকে সঁপে চলা শুরু করেছিলাম। গন্তব্য আরো প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এক মহান ব্যক্তির বাড়ি। ঝোপঝাড় দুদিকে রেখে মাঝখান দিয়ে সরু পথ। কদিন ধরেই গোটা অসম জুড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। কখনও মুষল ধারায়। কখনও টিপ টিপ ... ...
আজ রোববার। তাই ভেঙ্কিদা যথারীতি দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছে। সকালের চা আর লেড়ো বিস্কুট খেয়ে বাজারের থলি হাতে বেরিয়ে পড়েছে। প্রথমেই শঙ্করের পান গুমটিতে গিয়ে হানা।- এক প্যাকেট সিগারেট দে।দোকানে কেউ ছিল না বলে শঙ্কর কথা না বাড়িয়ে প্যাকেটটি ধরিয়ে দিয়ে বলল,- এটা নিয়ে তেরো প্যাকেট হল। লিখে রাখব? নাকি কিছু দেবে?- এখন কোথা থেকে দেব! মাস পয়লায় পেয়ে যাবি রে, লিখে রাখ। - ঠিক আছে তাহলে কুড়ি টাকা লিখে রাখলুম।কুড়ি টাকা শুনে ভেঙ্কিদা হঠাৎ চমকে উঠল। ব্যাপার কি পঞ্চাশ টাকার সিগারেটের প্যাকেট কুড়ি টাকা লিখে রাখছে ... ...
৯৪ বছর বয়সে হয়ত একরাশ আক্ষেপ নিয়ে ১১ই জুলাই পৃথিবী ছাড়লেন মিলান কুন্দেরা। ১লা এপ্রিল ১৯২৯ সালে চেকোস্লোভাকিয়ায় জন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল সময়ে বড় হয়েছিলেন। সেই কারণে শাসক বিরোধী আবহাওয়া ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। তাই মাত্র উনিশ বছর বয়সে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হয়েছিলেন। সেই পার্টিই আবার তাঁর সদস্য পদ কেড়েও নিয়েছিল। কারণ তিনি নাকি বিভিন্ন সভা সমিতিতে পার্টি বিরোধী মত প্রকাশ করছিলেন। ততদিনে তাঁর কলম আগুন ছড়াতে শুরু করেছে। স্বয়ং সলমন রুশদির প্রিয় সাহিত্যিক ছিলেন মিলান কুন্দেরা। ৪০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর বইগুলি।প্রথম উপন্যাসেই মুখ্য চরিত্রে ফুটিয়ে তুলে ছিলেন নিজেরই প্রতিচ্ছবি। পাঠকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছিল তাঁর লেখাগুলো। পার্টি বিরোধী ... ...
বেশ কয়েকদিন ধরে আমাদের পাড়ার সরুদাকে খুঁজছিলুম। সরুদা মানে সরগম সরখেল। ছোটবেলায় সরুদা নাকি এমন কাঁদত তার শব্দ ঠিক রাগরাগিণীর সরগমের মতই শোনাতো। সেই কান্নার শব্দ শুনেই সরুদার দাদু হরদম সরখেল এই নাম রাখেন। সরুদার দাদুর নাম শুনে হাসছেন ? ... ...
রাজার ব্যাটা কেরোসিন তেলওয়ালা। এটা দেখতে আমরা একেবারেই অভ্যস্ত নই। কারণ বাবর পুত্র হুমায়ূন মসনদে বসেছিলেন। তারপর তাঁর পুত্র আকবর। তারপর পুত্র জাহাঙ্গীর। তাঁর পুত্র শাহজাহান। তারপরে তাঁর পুত্র ঔরঙ্গজেব। এই জাতীয় পিতাপুত্রের পরম্পরার কাহিনী ইতিহাস ছেয়ে রয়েছে। সেটা ছিল রাজরাজড়াদের একনায়কতন্ত্রের যুগ। গণতন্ত্রের বালাই ছিল না। দেশ স্বাধীন হবার পর গণতন্ত্রের জোয়ার এল। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হল। জনতাই হল জনার্দন। এই আপ্তবাক্য ঢাক ঢোল পিটিয়ে প্রচারিত হল। জনতার ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিরা দেশ বা রাজ্য শাসন করবেন। সংবিধানের ছত্রে ছত্রে এমনটাই বর্ণিত। যোগ্যতার নিরিখেই জনপ্রতিনিধিগণ দেশ শাসনের অধিকার পাবে। গণতন্ত্রের কষ্টিপাথরে যাচাই করার পরেই মিলবে দেশ চালানোর চাবিকাঠি। জনসাধারণের ... ...
'জীবনপণ' সুপার স্পেশালিটি বেসরকারি হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট চেম্বারে মিটিং চলছে খুব গোপনে। সুপারের টেবিলের সামনে মোট তিনজন বসে। তিনজনেই সিনিয়র ডাক্তার। এই হাসপাতাল শুধু নয় তাঁরা প্রত্যেকেই শহরের আরো বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে যুক্ত। "আজকের ভর্তি নিয়ে টোটাল ক'টা পেশেন্ট ?" খুব চাপাস্বরে সুপার জিজ্ঞেস করলেন। "শুধু কি কভিড পেশেন্ট বলব ?" ডা: সুবীর সরকার বললেন। "তা নয়ত কি, অন্য পেশেন্ট নিয়ে কথা বলতে বসেছি ?" সুপারের গলায় ঈষৎ ঝাঁজ। "আজকের নিয়ে টোটাল ছত্রিশ।" "ফিফটি আপ কজন ? আর কদিনের পুরনো ?" "স্যার, প্রায় কুড়ি জন ফিফটি আপ। আঠাশ জন কো-মর্বিডিটি প্লাস। তারমধ্যে বাইশ জন পুরোনো। আইসিইউতে রয়েছে আঠেরো। তার মধ্যে চারজন বিলো ফর্টি।" "ওই বাইশ জনের মধ্যে ... ...